মৌসুমী বিলকিসের গল্প: রাত দখলের সেই মেয়ে



জস্র পা স্থির দাঁড়িয়ে আর তারই প্রেক্ষাপটে ফাঁক ফোঁকর খুঁজে নিয়ে খুব ধীরে এগিয়ে চলেছে আরেক জোড়া পা; এক পায়ে বাহারি অ্যাঙ্কলেট, পায়ের নখ একটু বড় এবং বেশ যত্ন করে কাটা হলেও নেল পালিশের ওয়াইন-লাল রঙ চটে গেছে, হিরের মতো ছোট ছোট পাথর শোভিত সরু ফিতেওয়ালা চপ্পলের সোল ক্ষয়ে গেছে বহু ব্যবহারে।

পা জোড়া প্রথমে পুলিশ-উর্দিধারী মহিলা ও পুরুষের অজস্র পা অতিক্রম ক’রে, ঠাঁসাঠাসি জনতার পা পিছনে ফেলে কোনও রকমে লোকজনকে ঠেলেঠুলে জায়গা করে নিয়ে স্থির হয় আর পায়ের সামনের দিকে ভর দিয়ে নিজের উচ্চতা একটু বাড়িয়েও মানুষের জটলার শেষ প্রান্ত দেখতে পায় না রাঙ্কা।

নিজের বন্ধুদের খোঁজার চেষ্টা করে। যথারীতি, কোনও হদিশ পায় না। প্রতিবাদী শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত এই জায়গায় ফোন করে কারও কথা শুনতে পাওয়াও অসম্ভব। তবু হ্যান্ডসেট বের করে কল করার চেষ্টা করে। না, কল যাচ্ছে না। হোয়াটস অ্যাপে টেক্সট করার চেষ্টা করে। নেটওয়ার্ক কাজ করছে না। এরকমই একটা সম্ভাবনার কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছিল- প্রতিবাদের জায়গায় প্রসাশনের তরফ থেকে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হবে।

কিছুটা বিচলিত হয়ে পড়ে সে, হাতে ধরা গ্রাফিত্তি আঁকার সরঞ্জামগুলো সাহস দিতে থাকে। সরঞ্জামের ব্যাগ আঁকড়ে ধরে আবার ফাঁক ফোঁকর খুঁজে এগিয়ে চলে। এগিয়ে যেতে যেতে আশেপাশের প্রত্যেকটা মুখ দেখতে থাকে। ছোট থেকে বড়, কত বয়সের মানুষ যে আজ নেমে এসেছে রাস্তায়! প্রত্যেকে স্লোগান দিচ্ছে। ওহ! সে নিজে কোনও স্লোগান দিচ্ছে না কেন?

এই প্রথম কোনও প্রতিবাদী জমায়েতে সে অংশ নিয়েছে। সংকোচে আড়ষ্ট কন্ঠ। স্লোগানের সাথে সাথে ডান হাত ওপরে তুলবে কিনা বুঝতে পারে না। আড়ষ্টতা নিয়েই সে বন্ধুদের খুঁজতে আরও এগিয়ে যায়। এগিয়ে যেতে যেতে নিজেই শুনতে পাবে না এরকম ভাবে শুধুই ঠোঁট নাড়িয়ে স্লোগানে অংশ নেয়, ডান হাত ঈষৎ ওপরে তোলে।

সংকোচের পুনরাবৃত্তি করে। কয়েক বারের চেষ্টায় দৃঢ় প্রত্যয়ে মুষ্টিবদ্ধ হাত ওপরে তোলে, জনতার সঙ্গে গলা মিলিয়ে স্লোগান দেয়। এতক্ষণে ভেতরে ভেতরে অনুভব করে এক ধরণের উত্তেজনা। যেন বা তার আত্মা মুক্তি পায় তার হাত আর কন্ঠের ভেতর।

ভিড় ঠেলে এগিয়ে চলে সে। এত ভিড়ের মধ্যেও জনতা গোল হয়ে জায়গা করে দিয়েছে আর সেখানেই তার বন্ধুরা স্লোগান দিতে দিতে গ্রাফিত্তি আঁকছে। স্বস্তির শ্বাস ফেলে বন্ধুদের সঙ্গে অংশ নেয় রাঙ্কা।

বন্ধুরা আঁকতে আঁকতে, শ্লোগান দিতে দিতে তাকে দেখে হাসে। কেউ কেউ আবার কব্জি উল্টে ঘড়ি দেখার ভান করে, কেউই ঘড়ি পরে না যদিও। দেরির জন্য রাঙ্কা সলজ্জ হাসে। এক বন্ধু হাসতে হাসতে চেঁচিয়ে বলে, ‘রাঙা রাঙ্কা এসে গেছে!’ সে এত লাজুক যে বন্ধুরা এই নাম দিয়েছে। এক বান্ধবী রসিকতা করা বন্ধুর দিকে চোখ পাকায়, ‘সব জায়গায় সব রসিকতা করতে নেই। কোথায় এসেছিস খেয়াল আছে?’

এতক্ষণে এই ভিড়ের জনতার সঙ্গে একটা আত্মীয়তা অনুভব করে রাঙ্কা। বন্ধুদের সঙ্গে গলা মিলিয়ে আরও জোরে শ্লোগান দেয় আর অচেনা প্রত্যেকটা মুখ অতীব কাছের হয়ে ওঠে। নিজেকে এতদিন ভেবেছে অতি দুর্বল, কিন্তু এই মুহূর্তে ভেতর থেকে অনুভব করে একটা শক্তি।

এখন সে যা খুশি করে ফেলতে পারে- ঝাণ্ডা নিয়ে উঠে যেতে পারে পুলিশের গাড়ির মাথায় যেন বা ‘লিবার্টি লিডিং দ্য পিপল’-এর দেবী, ভেঙে দিতে পারে যে কোনও ব্যারিকেড, এমনকি পুলিশ যদি লাঠি বা গুলি চালায় সবার আগে সে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে যেতে পারে সহযোদ্ধাদের বাঁচাতে।

পরম উৎসাহে রাস্তার ক্যানভাসে লেগে পড়ে গ্রাফিত্তি নির্মাণে। বন্ধুদের সঙ্গে আগেই পরিকল্পনা হয়ে আছে কী আঁকা হবে। আউটলাইন করে ফেলেছে বন্ধুরা, এবার ভরাট করে সম্পূর্ণ রূপ দেওয়ার পালা।

হয়তো আগামি কাল জনতার পায়ে পায়ে, গাড়ির চাকায় চাকায় মুছে যাবে এই নির্মাণ, হয়তো প্রশাসনের তরফ থেকেই মুছে দেওয়া হবে এই গ্রাফিত্তি। তবু এটাই তাদের প্রতিবাদের অস্ত্র। সেই অস্ত্র শানিয়ে নিতেই হবে, এই অস্ত্র দিয়েই তারা রুখে দেবে লাঠি আর গুলি। জানে সে, তাদের অস্ত্রকে ভয় পায় বন্দুকের নল, ভয় পেয়ে দমন পীড়ন চালায়। কোনও এক কবি লিখেছিলেন, ‘ভয় পাও বলে তুমি পুষেছ বন্দুক’। চরণটা মনে পড়ে গেল রাঙ্কার, কিন্তু কবির নাম কিছুতেই মনে এল না। লজ্জা, লজ্জা!

বীভৎস দৃশ্যটা আরও অনেকের মতোই কিছুতেই মন থেকে সরছে না- ধর্ষকদের অত্যাচারে অত্যাচারে জীর্ণ, রক্তাক্ত তরুণীর প্রাণহীন দেহ অসহায় পড়ে আছে নিজেরই কাজের জায়গায়, যে জায়গায় সুরক্ষিত থাকার কথা ছিল তার।

বহুবচনই; যে কোনও ধর্ষণ, খুন, অত্যাচার কোনও একক ব্যক্তির কাজ নয়। এই সমাজ লালন করে এইসব; অন্যভাবে, অন্য রূপে। আর তার পরিণতি হয় এরকম। ভাবে রাঙ্কা।

এই কয়েক দিন সে ভাল করে খেতে পারেনি, চোখের পাতা এক করতে পারেনি। একটা প্রবল বিষাদ ঘিরে রেখেছে সারাক্ষণ। নিজের জন্য, সবার জন্য একটা ভয় দানা বেঁধেছে। নিজেকে অত্যন্ত অসহায় মনে হয়েছে। মনে মনে রাতদিন প্রার্থনা করেছে পৃথিবীর কারও সঙ্গে যেন এরকম না হয়, ছেলে বা মেয়ে কারও সঙ্গেই না। এক তীব্র যন্ত্রণায় সারাক্ষণ ছটপট করেছে, কিছু করতে না পারার যন্ত্রণা, আর মনের মধ্যে দানা বেঁধেছে ক্ষোভ, আক্রোশ।

ফলে আজ রাত দখলে বাঁকা চাঁদের কাস্তে হাতে রাস্তায় নেমে এসেছে মেয়ে, মিশে গেছে সম-অনুভবে বিদীর্ণ ফুঁসে ওঠা জনতার স্রোতে।

কালো পিচের রাস্তায় এখন রং মেলাচ্ছে রাঙ্কা। গ্রাফিত্তি রঙ পাচ্ছে সাদায়, শুধু রক্তের ফোঁটাগুলো লাল। বাংলা ও ইংরেজি অক্ষরে লেখা ফুটে উঠছে- কবিতার লাইন, শ্লোগানের চরণ। লেখা ছাড়া বাকি যে প্রতিবাদের নকশা তাতে লাল-সাদা ছাড়াও কোথাও কোথাও হলুদ ব্যবহার করেছে ওরা, কোথাও বা সাদা আউটলাইনের মাঝখানে ব্যবহার করেছে কালো। প্রত্যেকটি রঙই তাদের প্রচলিত অভিজ্ঞতা থেকে বেরিয়ে যেন গলা মেলাচ্ছে তাদের সঙ্গে, সবার সঙ্গে। সবার মুখে মুখে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস।’

একটা লোক সবাইকে ঠেলেঠুলে রাঙ্কাদের গ্রাফিত্তি আঁকার বৃত্তটার একেবারে ভেতরে এসে দাঁড়ায়। শ্লোগান দেয় লোকটা। রাঙ্কার চোখ যায় লোকটার দিকে। শ্লোগান দিতে দিতে অনেকেই দেখছে লোকটাকে। রাঙ্কার মনে হয় রোগা টিংটিঙে লোকটা এই জমায়েতে ভীষণভাবে বিসদৃশ।

‘ছি! ছি! কি ভাবছি! আজ সব ভুলে একত্রিত হওয়ার দিন যে!’

খানিক অনুশোচনা হয় তার। লোকটার পোশাক এবং ব্যবহারও বাকিদের থেকে আলাদা বলেই কি এরকম মনে হল তার? কি জানি! হবে হয়তো। চারপাশে, ট্রামে-বাসে-মেট্রোয় রোজ রোজ যেসব নেতিবাচক অভিজ্ঞতা হয় সন্দেহ করাটা বাতিক হয়ে গেছে।

হঠাৎ সজাগ হয়ে ওঠে রাঙ্কার ইন্দ্রিয়। ইচ্ছে করেই যেন পায়ের কাছে পড়ে থাকা গ্রাফিত্তির একটা অংশ হাওয়াই চপ্পলে মাড়িয়ে দেয় লোকটা। খুব রাগ হয় রাঙ্কার, কিন্তু নিজেকে সংযত করে। গ্রাফিত্তি আঁকতে আঁকতে অনেকেই লোকটাকে ঘাড় ফিরিয়ে দেখে। কয়েকজন মেয়ে লোকটার আশেপাশেই দাঁড়িয়ে। তারাও ভ্রূ কুঁচকায়। একটা কু-গন্ধ যেন বাতাসে ভেসে বেড়ায়।

সবাই খেয়াল করে লোকটা অপ্রকৃতিস্থ। লোকটা তার আশেপাশের কয়েকজন মেয়েকে বিশ্রীভাবে স্পর্শ করতে থাকে। উপস্থিত ছেলেমেয়েরা ফুঁসে উঠে লোকটার কলার চেপে ধরে। কিছুক্ষণের জন্য শ্লোগান থেমে যায় এই গোল জটলাটায়।


‘পুলিশ ডাক।’

‘পুলিশ কী করবে? আচ্ছা করে ধোলাই দরকার। ও আমরাই…’

‘আরে, তোরা একটু চুপ কর। লোকটার কথা আগে শোন।’

‘এই, তোকে কে পাঠিয়েছে?’

‘কে তা তো জানি না, দাদা। আমাকে এখানে আসতে বলেছিল। এরকম দরকারে আমাদের ডাকে।’

‘তাহলে কে ডেকেছে চিনিস তো।’

‘ও বলা যাবে না’, হাত তুলে লোকটা আপত্তি জানায়।

‘সব জানে। পেটে গুঁতো পড়লেই সব…’

‘আবে, চুপ! ওর কথা শুনতে দে।’

‘তা, বললো আর এখানে চলে এলি?’

‘কী কী করতে বলেছিল?’

‘মেয়েদেরকে ডিস্‌টাব করতে…’

‘আর?’

‘তোমাদের জিনিসপত্র নষ্ট করতে।’

‘তোরা কজন এখানে এসেছিস?’

‘মোট কজন জানি না। অনেক আছে বোধহয়, বন্ধু বলছিল। আমার তিনজন বন্ধু এখানে আছে।’

‘দেখেছিস? তোরা দেখ, কী ভাবে আমাদের প্রতিবাদ রুখে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।’

‘যে রেপ কালচারের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদ, সেটাই করার জন্য ওকে কেউ পাঠিয়েছে।’

‘একবার ভেবে দেখ, কোন শহরে, কোন দেশে আমরা বাস করি।’

‘আরে একে নিয়ে এখন কী করা যায়?’

‘ডিস্টার্ব শব্দটাও ঠিক করে……’

‘এটা নিয়ে বলিস না। আমাদের দেশের অনেক মানুষ শিক্ষার সুযোগ পায় না বলেই এদের কাজে লাগায় ক্ষমতাধারীরা।’

‘শিক্ষিত লোকদের কাজে লাগায় না? কি বলিস! সবথেকে বেশি কাজে লাগায় শিক্ষিত, বড় বড় পোস্টে থাকা লোকেদের।’

‘তা ঠিক।’

‘এই, তোরা এখন এইসব আলোচনা ছাড়। এই লোকটাকে নিয়ে কী করা যায় বল।’

‘ওই যে বললাম ধোলাই।’

‘ক্ষেপেছিস! আমরা একটা শোষণ-থ্রেট কালচার-রেপ কালচার-দূষণ-দুর্নীতি ইত্যাদি মুক্ত সমাজ চাই।’

‘গণধোলাই-এর ধারণা তার সঙ্গে যায় না।’

‘ঠিক।’

‘তাহলে পুলিশের হাতেই তুলে দে।’

‘সেটাই ভাল হবে দাদা, আমাকে পুলিশের হাতেই দিন। বিশ্বাস করুন আমাকে মাত্র একশ টাকা দিয়েছে। ওতে আজকাল কি হয় বলুন? একটা বোতল দিয়েছে অবশ্য।’

‘চোপ, বোকাচোদা! মাদারফা…’

‘কী বললি? তোরা ছেলেরা না শোধরাবি না। রেপ কালচারের প্রতিবাদে এখানে এসেছিস সেটাও ভুলে গেলি!’

‘সমস্যা হল কি জানিস, তোরা এবং আমরাও সুযোগ পেলেই এইরকম সংস্কৃতি প্রমোট করি।’

‘ছেলেমেয়ে সবাই প্রমোট করে। কার সঙ্গে বন্ধুত্ব হল, কী পোশাক পরলো, কার সঙ্গে রাত কাটালো, কখন ব্রেক আপ হল, কত রাত করে বাড়ি ফিরলো, রাতে কেন বাইরে বেরিয়েছে… উফ! লম্বা লিস্ট!’

‘মেয়েদেরই এগুলো শুনতে হয় বেশি।’

‘ঠিক।’

‘আরে, নিজেদের মধ্যে এত ঝামেলা করলে যারা প্রতিবাদ দমাতে চাইছে তারা সুযোগ পেয়ে যাবে।’

‘এখানে শ্লোগান থেমে গেছে।’

‘শুরু হোক।’

‘দাঁড়া, দাঁড়া। তোরা কয়েকজন লোকটাকে নিয়ে থানায় কমপ্লেন লেখাতে যা।’

‘আমরা চারজন গেলেই যথেষ্ট। চল।’

‘আরে! তোরা শুধু ছেলেরাই যাবি, মেয়েরা যাবে না- একি কথা!’

‘ও হ্যাঁ, তাইতো! তাহলে একজন মেয়ে চল।’

‘একজন নয়, দুজন। দুজন ছেলে এবং দুজন মেয়ে।’

‘যাদের সঙ্গে লোকটা এরকম ব্যবহার করলো তারাও যাবে। বয়ান দেবে।’

‘দেখেছিস তো, নিজেদের অজান্তেই চিরাচরিত অভ্যাস ফলো করিস।’

‘তোদের প্রবণতাই হল তোরাই সবকিছু লিড করবি। আর মেয়েরা জাস্ট তোদের ‘সহযোদ্ধা’ হবে।’

‘সরি রে। হ্যাঁ, অনেককিছু পাল্টানো দরকার।’

‘সব আগে মনের ভেতরটা পাল্টা।’

‘এই লোকটার কলার ধরার জন্য একজন মেয়েকে লাগবে। এটা কেন ছেলেদেরই কাজ হবে?’

‘এই যে, আমাকে দে।’

‘উউউউ…… জিও, দ্রোপদী!’, চেঁচিয়ে ওঠে ছেলেমেয়েরা। কেউ জোরে সিটি বাজায়।

‘তবে এটাও ভুলে যাস না, পরিবারে এবং বাইরে ছোট থেকে ছেলেরা যত অ্যাটেনশন পায় তার সিকিভাগ মেয়েদের জুটলে তোদের থেকেও ফিজিক্যালি অনেক স্ট্রং হয়ে যাবে। দেখে নিস।’

‘এই, এবারে নিজেদের ঝগড়া থামা। আমরা চললাম। কে কে যাবি চল।’

‘তোরা শ্লোগান কন্টিনিউ কর।’, এত কথার পরও এক ছেলে লিড করার চেষ্টা করে।

ওরা বেরিয়ে যায়। এতক্ষণ রাঙ্কা একটাও কথা বলেনি। এই ক্যাওসের মধ্যে চুপচাপ দাঁড়িয়ে অবাক হয়ে বোঝার চেষ্টা করছিল একটা প্রতিবাদী জমায়েতে কী কী হতে পারে। জমায়েতের কোন অংশে কী ঘটছে জানে না সে। হঠাৎ দেখে কিছু পুলিশ লাঠি নিয়ে তেড়ে আসছে। জনতা ছত্রভঙ্গ।

প্রথমে একটা আতঙ্ক দানা বাঁধে। কিন্তু নিজেকে সামলে নেয় রাঙ্কা। একটু আগেই ভেবেছিল পুলিশের সামনে বুক পেতে দাঁড়াবে। সেই শক্তিটা ফিরে আসে। চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে। কাঁদানে গ্যাসের সেল ছুঁড়েছে পুলিশ। ওদিকটা ধোঁয়ায় ভরে গেছে। চোখ মুছতে মুছতে দিকবিদিক জ্ঞানশূন্য ছত্রভঙ্গ জনতা রাঙ্কাকে ধাক্কা দিতে দিতে ছুটছে। লোকের পায়ে পায়ে, চিৎকারে, শ্লোগানে মাড়িয়ে যাচ্ছে গ্রাফিত্তি।

রাঙ্কা বুঝতে পারে এক মহিলা পুলিশ তার হাত ধরে টেনে ছিঁচড়ে নিয়ে চলেছে। তার হাত থেকে গ্রাফিত্তি আঁকার মোটা তুলি ছিটকে পড়ে, পায়ে লেগে ঘন রংগুলো খুব ধীরে ধীরে গড়িয়ে যায় কালো পিচের রাস্তায়, গ্রাফিত্তির ওপর। সে প্রাণপণে নিজেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।

আরেকজন মহিলা পুলিশ ধোঁয়া ফুঁড়ে চোখ মুছতে মুছতে এগিয়ে আসে। দুই পুলিশ দু’হাত ধরে তাকে মাটি থেকে শুন্যে তুলে দোলাতে দোলাতে নিয়ে চলে। সে পা দিয়ে রাস্তায় আঁটকে থাকার চেষ্টা করে। আরও জোরে শ্লোগান দেয়, এত জোরে যে তার গলার ভেতরের শিরাগুলোয় ব্যথা হতে থাকে।

হঠাৎ তার চোখ ঝলসে যায়। চিত্র সাংবাদিক এবং অডিও-ভিজুয়াল মিডিয়ার লোকেরা তার ছবি ও ভিডিও তুলছে। এছাড়াও সম্ভবত কিছু ইউটিউবার এবং সাধারণ জনতাও মোবাইলে ভিডিও করছে। কেউ কেউ তাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু চারপাশে আরও অনেক পুলিশ প্রতিবাদীদের শক্তি প্রয়োগ করে হটিয়ে দেয়। ভেতরে ভেতরে রাঙ্কা অস্বস্তি বোধ করে। হাতেও ব্যথা অনুভব করে।

কিন্তু শ্লোগান দেওয়া থামায় না। সমস্ত জড়তা কেটে গেছে। মনেই হচ্ছে না জীবনে প্রথম বার কোনও প্রতিবাদী জমায়েতে এসেছে। একটা সাধারণ আর্ট কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী, এর মধ্যেই বেশ কিছু পৃথিবী বিখ্যাত পেন্টিং দেখার এবং তাদের সম্পর্কে জানার সুযোগ হয়েছে। নেট শাসিত সময়ে দাঁড়িয়ে সিলেবাসের বাইরের অনেককিছু নিজেই খুঁজে বের করেছে, বন্ধুদের সঙ্গেও আলোচনায় অংশ নিয়েছে, চমকিত হয়েছে একেকজন আর্টিস্ট-এর জীবনী পড়ে।

তার গ্রাফিত্তি আঁকার অনুপ্রেরণা ব্যাঙ্কসি। লন্ডনের মানুষ ব্যাঙ্কসি-র বিষয়ে কিছুতেই কাটে না তার বিস্ময়। আজকের যুগেও একজন অ্যাক্টিভিস্ট নিজের পরিচয় গোপন রাখতে সক্ষম হয়েছেন। এখনও পর্যন্ত তাঁর আসল পরিচয় জানে না কেউ। ফিল্ম ফেস্টিভ্যালেও তাঁর ফিল্ম দেখানো হয়েছে, অবশ্যই তাঁর অনুপস্থিতিতে। আশ্চর্য এক শিল্পী, তাঁরই সমসময়ে পৃথিবী গড়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছে সামান্য শিল্পী রাঙ্কাও। ব্যাঙ্কসি-র কথা মনে হতেই গায়ে কাঁটা দেয় তার।

একটা আধা অন্ধকার সেলের মধ্যে রাখা হয়েছে রাঙ্কাকে। সঙ্গে আরও অনেক তারই বয়সী ছেলেমেয়ে। সেলের মাঝখানে একটা রেলিং; ওপাশে ছেলেরা, এপাশে মেয়েরা। পরস্পরের সঙ্গে ইচ্ছে করলে তারা কথা বলতে পারে।

রাঙ্কা কাউকে চেনে না। জমায়েতের বিভিন্ন অংশ থেকে এদের আটক করা হয়েছে সম্ভবত। রাঙ্কার নাকে ক্রমাগত ধাক্কা দিচ্ছে তীব্র অ্যামোনিয়ার গন্ধ। শ্বাস নিতেও সমস্যা হচ্ছে। প্রত্যেকের একই অবস্থা। প্রাণপণে গন্ধটা থেকে নিজেকে বিযুক্ত করার চেষ্টা করে রাঙ্কা। এক মেয়ে নাকের ওপর হাত চেপে রেখেছে। একজন ওয়াক তোলে। অন্যরা মেয়েটির পিঠে হাত বুলিয়ে দেয়। মুহূর্তের মধ্যে তারা পরস্পরের অতি পরিচিত ও বন্ধু হয়ে ওঠে।

বাইরে একটা চ্যাঁচামেচি চলছে। স্পষ্ট বোঝা যায় পুলিশের সঙ্গে জনতার বচসা, ছেলেমেয়েগুলোকে আটক করা নিয়ে। পুলিশ ওদের ছেড়ে দিতে রাজি নয়, কিন্তু জনতা ছাড়বে না। জোর করে তাদের থানার বাইরে বের করে দেয় পুলিশ।

থানার বাইরে গিয়েই জটলাটা জোরে জোরে শ্লোগান দিতে থাকে। সেলের ভেতরে বন্দী ছেলেমেয়েরা সেই শ্লোগানে গলা মেলায়। একজন কনস্টেবল তাদের ধমক দেয়, চুপ করতে বলে। সেকথা শুনে ছেলেমেয়েরা আরও জোরে শ্লোগান দিতে থাকে। রাঙ্কাও অংশ নেয় তাতে।

একজন কনস্টেবল মৃদু কন্ঠে তাঁর সহকর্মীকে বলে, ‘আজ রাতের শান্তি গেল!’ দুজনেই হেসে ওঠে।

‘কিন্তু জানো এদের পারবা না, যতই মারবা আবার ঠিক জেগে উঠবে। মেরে ফেললেও জন্ম নিবে আবার। আমার বাবা যখন কনস্টেবল ছিল তখন থেকেই এদের কথা শুনছি। সত্তর সালে কম মার খেয়েছে, মরেও গেছে কত। তবু দেখ আবার জেগে উঠেছে। বার বার জেগে ওঠে ওরা।’, একজন মধ্য বয়সী পুলিশ বলে।

‘স্যার, ওদের একটু চা-বিস্কুট দিই? কখন থেকে ছেলেমেয়েগুলো শুকনো মুখে লড়ে যাচ্ছে।’, এক অল্প বয়সী মহিলা পুলিশ বলে।

আগের দুজন হাসে। ‘আচ্ছা দাও। হাজার হোক, আমাদেরই ছেলেমেয়ে!’

‘তা ঠিক। আমাদের এই পোশাকটা না থাকলে আমরাও রাস্তায় নামতাম।’

‘মাইন্ড ইয়োর বিজনেস। এসব কথা আমার সামনে আর কখনও বলবা না, নীলিমা।’

‘সরি স্যার। আই নো মাই ডিউটি।’, এতক্ষণ ‘স্যার’-এর সঙ্গে হাসিঠাট্টায় যোগ দেওয়া নীলিমা চেয়ার ছেড়ে দাঁড়িয়ে স্যারকে স্যালুট করে।

অল্প বয়সী মহিলা পুলিশ বন্দী ছেলেমেয়েদের চা-বিস্কুট ও জল দেয়। কেউ খায়, কেউ খেতে পারে না।

ভোরের আলো ফুটে গেছে। বাইরেটা নিশ্চুপ। আটক ছেলেমেয়েরা কেউ কেউ মেঝেতেই ঘুমিয়ে পড়েছে। কোথা থেকে এক ফালি আলো এসে পড়েছে সেলের ভেতর।

রাঙ্কা হঠাৎ খেয়াল করে তার নিজের হাত-পা-মাথা ঠিকঠাক জায়গায় নেই। তবে চোখজোড়া দিয়ে সে ঠিকই দেখতে পাচ্ছে। দেখতে পাচ্ছে তারই মতো অবস্থা সবার। সেলের বাইরেটা তার চোখ থেকে হারিয়ে গেছে। তাদের সম্মিলিত খণ্ডিত হাত-পা-মাথা-শরীর পরস্পরকে পরম মমতায় আঁকড়ে ধরেছে।

সে দেখছে পুরো সেল জুড়ে ‘গেরনিকা’। স্পেনের একটা ছোট্ট শহর ঢুকে পড়েছে সেলের ভেতর। পাবলো পিকাসো এই জীবন্ত গেরনিকা-র ভেতর তুলি হাতে দাঁড়িয়ে, সেই তুলিটা যা ধরপাকড়ের সময় তার হাত থেকে পড়ে গিয়েছিল রাস্তায়। তিনি ছিন্ন হাত-পা-মাথা-শরীর এদিক ওদিক সরিয়ে মানুষের গভীর বেদনা আরও নিহিত-পাতাল করে তুলছেন, কখনও তুলিটা বুলিয়ে আলো-ছায়াগুলো করে তুলছেন মর্ম বিদারী আর তারই ফাঁকে মৃদু হাসি নিয়ে তাকিয়ে আছেন রাঙ্কার দিকে। অথচ রাঙ্কার শরীর এই মুহূর্তে এই পেন্টিং-এর একটা অংশ মাত্র, সমস্ত শরীর জুড়ে তা সে অনুভব করে।

আবার সে দর্শক হয়ে ওঠে- এই চিত্রকলার অংশ তার শরীর ও মন, এই চিত্রকলার দর্শকও তার অন্দর ও বাহির। গেরনিকা-র ভেতর যন্ত্রণায় চিৎকার করে ওঠা মেয়ের অবয়বে রাঙ্কা দেখে ধর্ষিত-নিহত-অত্যাচারিত তারই কলকাতার দিদিকে, তারই দেশের অজস্র দিদি ও বোনকে এবং নিজেকেও।

মৃদু হাসি নিয়ে তার দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন পিকাসো, তার পড়ে যাওয়া তুলিটা নিজে হাতে ফিরিয়ে দিতে চায়ছেন। খুব খুশি হয়ে রাঙ্কা তুলিটা ফেরত নিতে যায়। আর ঠিক তখনই অল্প বয়সী পুলিশ মেয়ে ডাকে, যে তাদের চা-বিস্কুট দিয়েছিল-

‘তোমরা রেডি হয়ে নাও। তোমাদের হয়ে একজন উকিল এসেছেন। কোর্টে যেতে হবে।’

‘এর মধ্যেই কোর্ট কেন? চব্বিশ ঘণ্টা এখনও হয়নি। কাল পাঠালেও চলবে। তুমি এত দিদিগিরি কোরনা। সই করেছি মানেই কি আজই কোর্টে পাঠাতে হবে?’, নীলিমাকে বকে দেওয়া ‘স্যার’ বলে।

‘সরি, স্যার। আমি ভাবছিলাম আজকেই…’

‘এত মাথা লাগিও না, যা বলি সেটাই ফলো করবে।’, অসন্তুষ্ট স্যার বলে।

‘আপনি ঠিকই ভেবেছেন। আজকেই কোর্টে ওদের পেশ করতে হবে। সব কাগজপত্র তৈরি।’, মেয়ে পুলিশের উদ্দেশে উকিল বলেন। উকিলের সঙ্গে থাকা আরও একজন চুপ করে শোনে।

অ্যামোনিয়ার তীব্র গন্ধটা ফিরে আসে আবার। এক মেয়ে সেলের ভেতরেই বমি করে ফেলে। অন্যরা তার শুশ্রূষায় লেগে পড়ে। ওপাশের সেল থেকে সব ছেলেরা মাঝখানের রেলিং-এর পাশ ঘেঁষে বসে। সমবেদনা জানায় সাথীদের।

পুলিশ মেয়ে গ্যাসের ট্যাবলেট দিতে চায়। বমি করা মেয়ে প্রত্যাখ্যান করে। কারণ যে কোনও ওষুধ খেলেই হবে না। ডাক্তারের লিখে দেওয়া ওষুধ বাড়িতে। পুলিশ মেয়ে নিজের মোবাইল দিতে চায়। ওরা প্রত্যাখ্যান করে। ওদের মোবাইল বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।

পুলিশ মেয়ে বমি করা মেয়ের নাম জেনে থানার বাইরে চলে যায়। আটক ছেলেমেয়েদের বাড়ির সদস্যরা এবং সহযাত্রী প্রতিবাদীরা থানার বাইরে আবার জড় হয়েছে। শ্লোগান দিচ্ছে। আটক হওয়া সাথীদের মুক্ত করার আবেদন জানাচ্ছে।

খুঁজে খুঁজে মা-বাবাকে বের করে মেয়ে পুলিশ ওষুধ সংগ্রহ ক’রে বমি করা মেয়েকে দেয়। এই ছেলেমেয়েগুলোকে কিছুতেই চোখের আড়াল করতে চায় না পুলিশ মেয়ে, কোনভাবেই কেউ যেন খুবই অসুস্থ হয়ে না পড়ে। অন্তত যতক্ষণ তার ডিউটি আছে এখানে ততক্ষণ সে চেষ্টা করবে। ওদের প্রত্যাখ্যান সে বোঝে। খারাপ লাগলেও প্রকাশ করে না।

সেলের ভেতরটা হিসুর অ্যামোনিয়া ছাড়াও বমির পচা গন্ধে ভরে উঠেছে। নাক কুঁচকে আছে সবাই। অনেকের মতোই রাঙ্কাও খুবই দুর্বল এবং অসুস্থ বোধ করে। ওদের একে একে সেল থেকে বের করা হয়। একজন ডাক্তার সবাইকে পরীক্ষা করেন। প্রয়োজনীয় ওষুধ, ওআরএস প্রেসক্রাইব করেন এবং সেগুলোর ব্যবস্থাও করেন। বিশেষ অনুমতি নিয়ে এই ডাক্তার এসেছেন, তিনিও জমায়েতেই ছিলেন। থানা থেকে তাদের খাবারের ব্যবস্থা থাকলেও কেউ খেতে পারেনি। মুখে তুলতেই ইচ্ছে করেনি খাবার।

আটক ছেলেমেয়েদের একে একে পুলিশের ভ্যানে তোলা হচ্ছে। রাঙ্কাও ওঠে আর উঠতে উঠতে দেখে মা-বাবাকে। পুলিশ তাদের কাছে আসতে দিচ্ছে না। হাত নাড়ে সে। মায়ের চোখের কোণ কি একটু চিকচিক করে উঠলো? কিন্তু সে ভুল দেখেছে। মা ডান হাত ওপরে তুলে হাসি মুখে সমর্থন জানায় তাকে। রাঙ্কাও জানলা দিয়ে হাত বাড়িয়ে মাকে উদ্দেশ করে মুষ্টিবদ্ধ হাত ওপরে তোলে।

ভ্যান পৌঁছে গেছে কোর্ট চত্বরে। চারপাশে কত ভীড়! সাংবাদিকরা ক্যামেরা তাক করে আছে তাদের দিকেই। বুম এগিয়ে প্রশ্ন করছে। একদল পুলিশ ভীড় সরিয়ে ভ্যান যাওয়ার রাস্তা করে দেয়।

সেলের বিশ্রি গন্ধ আবার ফিরে আসে। রাঙ্কা কিছুতেই গন্ধটা এড়াতে পারে না। সারা শরীর থেকে গন্ধটা সে পাচ্ছে, যেন থানার পুরো সেলটা-ই তার সঙ্গে ঘুরছে।

ভ্যান থেকে নামানো হয় তাদের। সার দিয়ে হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় কোর্টের দিকে। তাদের দুপাশে অজস্র মানুষ, যেন বা আগের রাতের পুরো জমায়েত এখানে চলে এসেছে। সবাই শ্লোগান দিচ্ছে, কত রকম শ্লোগান। কোর্টের একজন সিকিওরিটি বলে কোর্টের বাইরে এরকম শ্লোগান দেওয়া যাবে না। কে শোনে কার কথা। শ্লোগানের ভেতর হারিয়ে যায় সিকিওরিটির নিষেধ।

বমি করে দুর্বল বোধ করা মেয়ের কোমর জড়িয়ে হাঁটছে রাঙ্কা। পুলিশ কিছু বলছে না। এত জনতা, এত সংবাদ মাধ্যম, এত ইউটিউবার, এত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী সবার চোখ ও ক্যামেরা তাদের দিকে। ভেতরে ভেতরে একটা পুলক বোধ করে সে, একটা সম্পূর্ণ নতুন অনুভূতি তাকে ছেয়ে ফেলে।

সেই নতুন অনুভূতি নিয়ে আদালত অভিমুখে হাঁটে রাঙ্কা, হাঁটে আটক হওয়া তার সহযোদ্ধারা। নতুন পাওয়া এই অভিজ্ঞতা তাকে একেবারে অভিভূত করে ফেলে। এই আটক হওয়া, মার খাওয়া, কাঁদানে গ্যাস সবের মধ্যেই এত সুখ লুকিয়ে আছে আগে জানা ছিল না।

পাবলো পিকাসো তার সামনে দাঁড়িয়ে হাসেন।

তীব্র বিশ্রি সেলের গন্ধটা একেবারে উধাও হয়ে গেছে, দৃপ্ত পায়ে আদালতের দিকে হাঁটতে হাঁটতে টের পায় রাঙ্কা। আর কেউ ‘রাঙা রাঙ্কা’ বলবে না তাকে। সব দুর্বলতা কেটে গেছে, লজ্জা ভেঙে গেছে। পা জোড়ায় সেই বোধ ফুটে উঠছে, পা জোড়া যেন আজই প্রথম হাঁটতে শিখেছে।
-------------

লেখক পরিচিতি: মৌসুমী বিলকিস কবি, গল্পকার ও চলচ্চিত্র পরিচালক। জন্ম ৭ আগস্ট, ১৯৭৭, কলকাতা থেকে প্রায় দুশ কিমি দূরে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে।

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর। ইন্দো-ইতালীয় ফিল্ম স্কুল রূপকলা কেন্দ্র থেকে চলচ্চিত্র পরিচালনা বিষয়ে পোস্ট-গ্রাজুয়েট।

প্রকাশিত বই: এবং আমার চুলগুলি ফণা তুলছে (কবিতা, ২০১৮), একাকী কয়েকটি জীবন ও অন্যান্য (গল্পগ্রন্থ, ২০১৭), হলদে শাড়িটি ও অন্যান্য অণুগল্প (২০১৮)
উপন্যাস: একা এবং এক রাত্রি (সাহিত্য ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এবং অগ্রন্থিত)

পরিচালিত চলচ্চিত্র: কবি (তথ্যচিত্র, ২০০৪), শবনম (শর্ট ফিকশন, ২০০৪), আবাদ (ডকু-ফিকশন, ২০০৭), Voix de Femmes Indiennes (যুগ্ম পরিচালনা, ডকু-ফিকশন, ২০১৮) ইত্যাদি।
নির্মীয়মাণ চলচ্চিত্র: Walking Through The Fire (তথ্যচিত্র), Bach in the Afternoon (শর্ট ফিকশন), Sound Of Cosmic Self (তথ্যচিত্র) ইত্যাদি।

সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন ঋতুপর্ণ ঘোষ-সহ অনেক প্রথিতযশা পরিচালকের সঙ্গে। চলচ্চিত্র, সাহিত্য ও অন্যান্য বিষয়ে প্রায়শই তার লেখা প্রকাশিত হয় কলকাতার বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকা, লিটিল ও ডিজিটাল ম্যাগাজিনে।









একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ