সরাইখানায় মাত্র তিনজন : মদ্যপানের জায়গায় এক পুরুষ, মদ- পরিবেশনকারিণী আর আমি। লোকটা মেয়েটির সঙ্গে আলগোছে গল্পগুজব চালাচ্ছিল আর সে মদপানের গ্লাস মেজে ঘষে চকচকে করছিল। আমি সেখানে রাতের খাবারের অপেক্ষায় ছিলাম যা আধঘন্টা আগে অর্ডার করেছিলাম। আমি একটি ডাবল ( তিন আউন্স) হুইস্কি নিয়ে বসেছিলাম যা নিজেকেই নিজের উপহার।
তুষারে ঢাকা ওদের কি দেখেছ? লোকটা মেয়েটিকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিল। ওদের শাদা কোটিং দেওয়া ছাদের মতো লাগছে না? তারা শীতকালের মতো লাগছে না, ঠিক যেমনটি শৈশবে তুমি সব সময় দেখতে?
মদ পরিবেশন করা মেয়েটি কোনও উত্তর করল না। সে হাতের গ্লাসটা ঠিক পরিষ্কার হয়েছে কি না দেখার জন্য আলোর সামনে তুলে ধরল। তারপর আরও কিছুক্ষণ ঘষল। আবার তুলে ধরল।
লোকটা উঠে পানশালার সামনের জানলার দিকে গেল।
গিয়ে তাকিয়ে দেখো। জাস্ট একবার দেখোই না। ছাদের দিকে তাকিয়ে দেখো, লোকটা বলল। তোমার ছোটোবেলায় দেখা ঠিক শীতকালের মতো লাগছে না? জাদুবলে শাদা রং যেন প্রতিটি বস্তুর ওপর ছড়িয়ে গেছে, মনে হচ্ছে না,কোনও বিরাট জাদুকর তার হাত নাড়াচ্ছে আর এক শাদা তুষারের দলা সবকিছুর ওপর নেমে আসছে।
রাবিশ, বাজে বকছ ; তোমার কথায় সহমত নই, পানশালার পিছন থেকে মেয়েটি বলল।
তার এই কথায় হঠাৎই এত হাসি পেল যে আমার গলায় মদ আটকে যাবার জোগাড়। তারা দুজনেই ঘুরে আমার দিকে তাকাল। আমি কেশে আগুনের দিকে খানিক ঘুরে গেলাম ও হাতের কাগজে চোখ বসালাম যেন তা পড়ছিলাম।
শুনতে পেলাম, তারা আবার তাদের মনোযোগ একে অপরের দিকে থিতু করেছে।
তুমি পউলা, তাই না?, লোকটা বলল।
মেয়েটি উত্তর দিল না।
নিশ্চিত তুমি পউলা, সে আবার বলল। আমার মনে আছে। তোমাকে আগেও জিজ্ঞেস করেছিলাম। মনে পড়ে? আমি এখানে ছিলাম, এই একই পানশালায় প্রায় ছয় সপ্তাহ আগে এসেছিলাম। মনে পড়ে?
সে আর একটি গ্লাস হাতে নিয়ে দেখতে থাকে।
যাই হোক, আমার তোমাকে মনে আছে, লোকটা বলল।
মেয়েটি এবার হাতের গ্লাসটি রেখে আর একটি তুলে নেয়। আলো আর তার মাঝে গ্লাসটা তুলে ধরে।
সুতরাং তুমি যদি ক্রিসমাস ও অন্যান্য বিষয় পছন্দ না করো, পউলা, লোকটা বলল। যদি মনে না করো আমাদের শিশুকাল থেকে এটা একটা জাদু-সময় এবং আরও কিছু। তাহলে, এই পানশালা সাজানোর ঝামেলায় যাবে কেন? কেনই বা দরজা- জানলার ওপর এই তুষার শুভ্র বস্তু ছেটানোর ঝকমারিতে যাচ্ছ? আর কেনই বা এই জায়গাটাকে তুষার - রঙা ক্রিসমাস কার্ডের মতো গড়ে তুলছ? এখন তো সবে নভেম্বর। ডিসেম্বর তো পড়েইনি।
এ পানশালা আমার নয়, মেয়েটি বলল। কখন ক্রিসমাস শুরু আর শেষ হবে তা পছন্দের ভার আমার ওপরে নেই।
যে হুইস্কি আমার গলায় আটকে গিয়েছিল তা ভুল রাস্তায় নেমে শ্বাসনালির ভিতরে এক জ্বালাময় পথনালি তৈরি করেছে। আমি অবশ্য তা উপেক্ষাই করলাম। হাতের কাগজটা পড়তে থাকলাম। সেখানে খবর, কীভাবে উপসাগরীয় প্রবাহ দুর্ধর্ষ গতিতে ক্ষয়ে যেতে লেগেছে। খুব শিগগিরই এখানে শীতকাল কানাডার মতো শীতল হয়ে যাবে। খুব তাড়াতাড়ি প্রতি শীতে তুষার জমে ছ ফুট উঁচু হবে আর তখন শীতকাল অক্টোবরে শুরু হয়ে এপ্রিল অবধি গড়িয়ে যাবে।
জাদুময় ছাদ, মেয়েটি বলল। ক্রাইস্ট। ওই বাড়িটা দেখতে পাচ্ছ যার বাইরে আলফা রোমিয়ো গাড়িটা রাখা আছে?
লোকটা দরজার দিকে এগিয়ে তা খুলে ফেলল।
এখান থেকে কোনও আলফা রোমিয়ো দেখতে পাচ্ছি না, সে বলল। বাঁদিক থেকে তিন নং গাড়িটা, গলা না তুলে মেয়েটি আস্তে করে বলল। কিছু গাড়ি দেখতে পাচ্ছি বটে, ঠিক আছে, তোমার কথামতো ধরেই নিলাম ওগুলোর মধ্যে একটা আলফা আছে, লোকটা ভিতরে ফিরে এসে বলল।
গ্রামের লোকে ওকে জার্মান বলে ডাকে, মেয়েটি বলল। লোকটার নামের উচ্চারণ জার্মানদের মতো। সে কখনও এখানে আসে না। দু বছর আগে জার্মানির রাস্তায় বৃত্তাকার রেঞ্জার বাঁকে দুই ছেলেকে নিয়ে গাড়ি চালানোর সময় লোকটা মরীচিকারূপ কালো বরফে ধাক্কা মারে আর যে ছেলেটা সামনের সিটে বসেছিল সে মারা যায়। গ্যারাজ থেকে নতুন পার্শ্বাসন লাগিয়ে আনার পর থেকে গাড়িটা আর ওই জায়গা থেকে নড়াচড়া করেনি। সে হেঁটে কাজে যায়, বাড়ির গেট থেকে বেরিয়ে রোজ গাড়িটাকে পেরিয়ে যায়। আমরা সকলেই রোজ গাড়িটার পাশ দিয়ে যাই। খুব নোংরা হয়ে আছে, একই জায়গায় পড়ে থেকে ধুলোবালি গায়ে লাগিয়ে... - ভালোভাবে পরিষ্কার করা দরকার। ওর নামের উচ্চারণও জার্মানদের মতো, ওই ছেলেটির কথা বলছি। ওর বয়স ছিল এগারো কি বারো। সে আগে কখনও এখানে আসেনি, আমি ওর জার্মান বাবার কথা বলছি, আর এখন তো আসেই না। আর ওই পাশের বাড়িটা। ওই বাড়িতেই মেয়েটা থাকে যে কিনা পিরামিডের কারণে ঋণগ্রস্ত।
মিশর?, লোকটা অবাক হয়ে জানতে চাইল।
প্রতারণামূলক পিরামিড স্কিমের শিকার হয়েছিল, মেয়েটি বলল। গল্প বলা নয় বা কিছুই না কিন্তু আমি আসডা ( ব্রিটিশ সুপার মার্কেট চেইন) স্টোরে ছিলাম যখন ওই মেয়েটা মোবাইলে কাউকে বলছিল যে তার একটি স্বপ্ন ছিল।
লোকটা এবার পানশালায় হেলান দিয়ে দাঁড়াল।
পউলা, তুমি একটি স্বপ্ন, সে বলল।
এটা ওই মেয়েটার স্বপ্ন, পানশালার মেয়েটি বলল। তুমি কি তা বিশ্বাস করবে? সে তার ক্রেডিট কার্ডে একটা অ্যাংগোরা জাম্পার কিনেছিল, শোনো, হতাশ হয়ে তা বাড়ি ছেড়ে চলে গেল কেননা মেয়েটার সঙ্গে থাকতে অসুখী বোধ করছিল। তারপর সেই জাম্পার এয়ারপোর্ট থেকে মেয়েটাকে ফোন করল কিন্তু যেহেতু তা কথা বলতে পারছিল না, কেননা জাম্পার তো কথা বলতে পারে না, পারে কি? তাই মেয়েটা বুঝতে পারছিল না জাম্পার কী বলতে চাইছে।
রাগি জাম্পার?, লোকটা বলে উঠল।
না, একটা অ্যাংগোরা জাম্পার, মেয়েটি বলল। এটা এক ধরনের উল, বেশ গরম কিন্তু দামি। আর ওই পরের বাড়িটা। লোকটার মেয়ে একটা মাদকাসক্ত। সে যখন গ্রামে ফিরে আসে লোকটা তাকে সদর দরজায় দাঁড়াতে দেয় না। কেননা প্রথমেই সে আগের বাড়ির বৈঠকখানার জানলায় পাথর ছুড়ে মারে। তখনই বুড়োটা পুলিশ ডাকে। তার পরের বাড়িটা। বিবাহ - বিচ্ছিন্ন। লোকটার সঙ্গে প্রণয়- সম্পর্ক ছিল। মেয়েটার জেল হেফাজত হল। লোকটা বেশ ভদ্র, মার্জিত। শহরে কাজ করে। মেয়েটা মাস্টারি করে। তার একটি সিনকিউসেনটো গাড়ি আছে।
মেয়েটি ফের একটা গ্লাস তুলে নিয়ে আলোর সামনে পরীক্ষা করল।
ওদের পরের বাড়িটা, সে বলল।
হুম...?, লোকটা উচ্চারণ করল।
ওইটি আমার বাড়ি, মেয়েটি বলল।
তুমি তো বিয়ে করোনি, করেছ কি, পউলা?, লোকটা জানতে চাইল।
তুমি কি...,মেয়েটি বলল, আমি সহজেই বুঝতে পারি।
আমিও করিনি, লোকটা বলল। দিন যেমন দীর্ঘ, আমিও সেরকমই একাকী।
বছরের এই সময়ে তুমি আরও কম একা বোধ করবে,তখন, মেয়েটি বলল।
' তুমি ' কী?, লোকটা বলল।
দিনগুলো ছোটো হয়ে আসছে আর এইসব, মেয়েটি বলল।
কী ভেবে হাসছ? লোকটা জানতে চাইল, কী দেখছ?
সে আমার সঙ্গে কথা বলছিল। আমি এমন ভাব দেখালাম যে শুনিনি বা বুঝতে পারিনি।
মেয়েটা কীসের দিকে তাকিয়েছিল বলে সে মনে করে? লোকটা বলল।
দেরি হবে না, মেয়েটি আমাকে ডাকল। আপনাকে বসিয়ে রেখেছি বলে দুঃখিত।
না, না, চিন্তার কিছু নেই, আমি বললাম, ঠিক আছে।
মেয়েটি দরজা পেরিয়ে পিছনের দিকে গেল।
বড়ো চিংড়ি গরম করা হয়েছে? যাবার সময় সে চেঁচিয়ে জানতে চাইল।
লোকটা আমার দিকে একভাবে তাকিয়ে। তার দৃষ্টিতে একটা শত্রুতার ভাব। পিছনে ঠিকভাবে না তাকিয়েও বুঝতে পারছিলাম। মেয়েটি যখন রান্নাঘর থেকে এসে আমার সামনে খাবার রাখল, দৃঢ় প্রতিজ্ঞার ঢঙে, যে আমাকে অবশ্যই খাবার সুস্বাদু করার চাটনি খাওয়াবে,আর রাখল একটা ছুরি আর কাঁটাচামচ, দুটিই সুন্দর করে ন্যাপকিনে মুড়ে, তখন লোকটা পানশালায় তার জায়গা থেকে আমার উদ্দেশে চেঁচিয়ে উঠল।
তুমি আমার সঙ্গে সহমত। তাইতো? তুমি ভাবছ এটা ম্যাজিকের মতো, লোকটা বলল। টিভির অনুষ্ঠান থেকে বের হয়ে এসে এক জাদুকর, জানো, আমরা যখন শিশু ছিলাম, আকাশপানে হাত নাড়ল, আমাদের শহরের ওপরে আর তারপর চারদিকে শুভ্রতা নেমে এল।
লোকটা এগিয়ে আসতে লাগল; তাকে দেখে এমন মনে হচ্ছিল যে আমি যদি তার কথায় সহমত না হই, সে আমাকে প্রকৃতই ঘুষি মেরে বসবে। কিন্তু সে যখন টেবিলের কাছে পৌঁছুল, বুঝতে পারলাম তাকে যতটা মাতাল মনে হয়েছিল তার চেয়ে কম ছিল। দেখে যেন মনে হচ্ছিল, যতটা না মাতাল হয়েছে তার চেয়ে বেশি দেখানোর ভান করছে সে। আমার সামনে টেবিলটার আড়াআড়ি সে টুলটার ওপর বসল। সে আমার চেয়ে বয়সে খুব একটা বড়ো ছিল না। তার মুখের চামড়া কুঁচকে গেছে, একটা পুর দেওয়া স্যান্ডউইচের টুকরো কেউ হাতের মুঠোয় নিয়ে চেপে যতটা সম্ভব একটা ছোট্ট বল বানানোর চেষ্টা করলে যেমনটা হয় সেইরকম মনে হচ্ছে।
আমি চোখ নামিয়ে ন্যাপকিনে মোড়া ছুরি- কাঁটাচামচের দিকে তাকালাম। ন্যাপিকন জুড়ে কাঁটাওয়ালা হলি গাছের ডালের ছোটো ছোটো নকশা আঁকা। আমার সামনে সাজানো লবণ, গোলমরিচ, সরষে, ভিনিগারের স্যাশেই আর সসের বোতলের মাঝ থেকে লোকটা এক বোতল এইচ পি সস তুলে নিল।
তুমি কি জানো, এইচ পি লেখা বোতলের গায়ের এইচ আর পি কীসের সংক্ষিপ্ত রূপ?, সে জানতে চাইল।
হাউজেস অফ পার্লামেন্ট, আমি বললাম।
সে চুপসে গেল। আমি যে জানতাম, তা ভেবে ওকে প্রকৃতই বিমর্ষ লাগল। আমি বোতলের গায়ে সাঁটা ছবিটার দিকে ইশারা করলাম। কাঁধ ঝাঁকালাম।
তুমি তো এখানকার নও, সে বলল। আমার মনে হয় না, সে যোগ করল। তোমার মুখের গড়নটা অন্যরকম। আমার কথা খারাপ ভাবে নিয়ো না, সে বলল। মুখটি বেশ সুন্দর। আমার বাড়ি এখান থেকে পঞ্চাশ মাইল দূরে, সে বলল। আমি বলতে চাইছি, আমার মাতৃভূমির কথা। তুমি তখন কী পান করছিলে?, সে জানতে চাইল।
সে এমন উঁচু গলায় বলছিল যে সে যেন আসলে আমাকে বলছিল না, পানশালার পিছনে থাকা মেয়েটির উদ্দেশে বলছিল।
হ্যাঁ, যা বলতে চাইছিলাম, আমার কাছের টুলটার ওপর পা তুলে সে বলতে লাগল, ক্রিসমাস আমার জন্য কী অর্থ বয়ে আনে? তোমাদের মতো দুটি মেয়েকে কি বলব, প্রকৃতই হ্যাপি ক্রিসমাস কী?
টুলে পাতা রেশমি কাপড়ের ওপর তার ক্ষয়ে যাওয়া জুতো পায়ে পাটা লক্ষ করলাম। মোজার রং দেখতে পাচ্ছিলাম। হালকা বাদামি। হয়তো কেউ তাকে কিনে উপহার দিয়েছে, কিংবা হয়তো কেউ সেগুলো কিনেছিল কারণ সে যথেষ্ট ভাগ্যবান যে কেউ তার মোজা জোড়ার নিয়মিত যত্ন নেয়। বা তা যদি নাও হয়, সে হয়তো নিজেই দোকানে গিয়ে এই মোজা কিনেছিল। কিন্তু এটাই ছিল শেষ বস্তু যার দিকে নজর দিয়েছিলাম, কারও মোজা কোত্থেকে এসেছিল তা বিস্তারিত জানতে। ভোর সাড়ে চারটে থেকে একটানা গাড়ি চালিয়েছি। আজ রাতে এই পানশালার কার পার্কিং-এ এসে গাড়ি ভিড়িয়েছি ঠিক এই ভেবে যে আমি বিশ্বাস করেছিলাম, এখানে আর কেউ থাকবে না যে আমাকে বিরক্ত করতে পারে, আমার ব্যাপারে কোনও প্রশ্ন করতে পারে, কেউ আমার সঙ্গে যে কোনও বিষয়ে কথা বলতে পারে, আদৌ যে কোনও ব্যাপারে।
আমি আবার লোকটার পায়ের পাতার দিকে তাকালাম, মোজার উপরিভাগ আর যেখানে তার ট্রাউজারের পা শুরু হয়েছে তার মাঝখানে। তারপর উঠে দাঁড়ালাম। পকেট থেকে গাড়ির চাবি বের করলাম।
কোথাও যাচ্ছ? লোকটা জানতে চাইল।
মদ পরিবেশনকারী মেয়েটি দেরাজের মাথায় থাকা ছোটো ছোটো আংটা থেকে চীনেবাদামের প্যাকেট সব পাড়ছিল, সেগুলো ঝেড়েঝুড়ে আবার জায়গামতো রাখল। আমি পেরিয়ে যেতেই সে ঘুরে তাকাল।
খুব একটা দেরি হবে না, বড়ো জোর পাঁচ মিনিট, সে আমাকে জোরে শুনিয়ে বলল।
কান না করে আমি দরজা ঠেলে পানশালার বাইরে গেলাম।
কিন্তু আমি তো আরও দু পেগ হুইস্কি মেরেছি। ড্রাইভারের সিটে হড়কে যাবার সময় তা মালুম হল। আমি তো কোথাও চালিয়ে যেতে পারব না, দীর্ঘক্ষণের জন্য তো নয়ই। আলোকিত কার পার্কিং-এ গাড়িতে বসে লক্ষ করলাম, উইন্ডস্ক্রিনের ওপারে পানশালাটি যেন নিশ্চল ঝুলে আছে যা তৎক্ষণাৎ আমার ভিতর থেকে বেরিয়ে আসা উষ্ণতার সঙ্গে বাষ্পীভূত হয়ে গেল। রাতে কোনও বাতাস বইছিল না। সে কারণেই তুষার - ধোঁয়ায় ঢাকা মনে হচ্ছিল। বাইরে বেশ ঠান্ডা, কামড়াচ্ছে যেন। খুব তাড়াতাড়ি শীতকালের মাঝামাঝি জমিয়ে ঠান্ডা পড়বে।
ইগনিশনে চাবি ঢুকিয়ে বোতাম ঠেললাম, সিট- হিটার চালু হয়ে গেল। গাড়িগুলি বড়ো। জিনিসপত্রে ভর্তি যা সহজে, যান্ত্রিকভাবে যাত্রীদের প্রয়োজন মেটাতে পারে। ভিতরে সিট-হিটার আছে। নিয়ন্ত্রণযোগ্য সিট লিভার আছে। উইন্ডস্ক্রিন ঢাকনায় জাঁক- আয়না লাগানো। চাইলে গাড়ির ছাউনি পিছিয়ে দেওয়া যেতে পারে।
আমি অনুমান করতে চেষ্টা করছিলাম, পানশালায় দুই প্রকৃত অপরিচিতের কাছে কীসে ভালোভাবে ক্রিসমাস পালন করা যায়, তা প্রমাণ করতে লোকটা কোন গল্প ফাঁদতে চাইছিল। শ্রেষ্ঠ ক্রিসমাস লাঞ্চ যা সে কখনও খেয়েছে। শ্রেষ্ঠ উপহার যা কেউ কখনও তাকে দিয়েছে। তা হয়তো তার ছোটোবেলার সম্পর্কে কেননা পানশালায় সে বিষয়েই সে বলতে চাইছিল, শৈশব এবং হারিয়ে যাওয়া জাদু, আবার শীতলতম সময়ে সেই জাদুর ফিরে আসা, এক দূরবর্তী স্থানে, সাধারণ তুষারের রূপে যা অন্ধকারে আলোকে পাকড়াও করে।
একবার ভাবো তো, আমরা যদি ওই পানশালায় সবাই বন্ধু হতাম, সেইসব মানুষ যাদের বাস্তবিকই কিছু বলার থাকত, বা একে অপরের সঙ্গে কথা বলতে চাইত।
এ
খন তুমি...আমি কল্পনা করলাম ওই মদ- পরিবেশনকারিণী আমাকেই বলছে, আমার ও লোকটার মাঝে আমাদের ছাড়িয়ে ওই উঁচু টুলের একটায় সেঁটে আছে , যাতে করে নিচে ঝুঁকে কাঁটাচামচ দিয়ে আমার একটি চিংড়ির টুকরো নিজের জন্য তুলে নিতে পারে , সামান্য বিপদের মধ্যে আছে, কিন্তু সে নিখুঁতভাবে দোনোমনা করছে সঠিক ভারসাম্য বজায় রেখে গোটা টুকরোটি মুখে পুরে দিল আর আমরা সবাই, সে শুদ্ধ, তার এই বিশেষ দক্ষতার জন্য একসঙ্গে জোর হেসে উঠলাম।
... এবার তোমার পালা, মেয়েটি বলল। বাস্তবিকই সুখী মানুষ, এস।
ঠিকাছে, ওকে, যদিও সুখী সেই শব্দ নয় যা আমি সেই সময়ে ব্যবহার করতাম, আমি বললাম। আমার প্রায় বারো হল।
আমি কড়াভাবে কিছু বলতে চাইনি কিন্তু তোমার বয়স বারো বছরের খানিক বেশি মনে হচ্ছে, লোকটা বলল।
এখনই নয়। আপাতভাবে। সেই গল্পে, আমি বললাম।
ঠিকাছে, লোকটা বলল।
ঠিকাছে, মেয়েটি বলল।
আর আমাদের প্রতিবেশে এই নতুন দম্পতি থাকে যারা দুটি রাস্তা নিচে চলে গেছে, আর প্রত্যেকেই তাদের চেনে, সবাই জানে তারা কে, আমি বলতে চাইছি, কেননা তারা স্বামী -স্ত্রী দুজনেই শিক্ষাদানের কাজ করে, উভয়েই স্থানীয় বাচ্চাদের স্কুলে আধুনিক ভাষাগুলি শেখায়, আর সে স্কুলে আমিও পড়ি।
এখনও পর্যন্ত খুব একটা বড়োদিন বড়োদিন লাগছে না, পউলা বলল।
ওকে একটা সুযোগ দাও, লোকটা বলল। সে এটা শুরু করবে। অদূর ভবিষ্যতে কখনও।
ক্রিসমাস অতীত, ক্রিসমাস বর্তমান, ক্রিসমাস অদূর ভবিষ্যৎ, পউলা বলল।
যাই হোক, ফেনিমোর দম্পতির কথা কী হচ্ছিল?,আমি বললাম। মি. ফেনিমোর প্রকৃতই উদ্যোগী মানুষ। ছোটোখাটো, পাতলা -পুতলা কিন্তু সব সময় এমন ভাব দেখান যেন কোনও অ্যাডভেঞ্চারে বেরুচ্ছেন, কাল্পনিক হাইকিং স্টিক হাতে।
আমি তার টাইপ জানি, পউলা বলল।
স্কুল ছুটির পর দাবা ও জুডো ক্লাবের দায়িত্ব তিনি নেন, আমি বললাম। আবার স্কুলের পর রান্নার ক্লাসও শুরু করেছেন আর পুরুষ হয়ে রান্নার ক্লাস নেবার কারণে প্রচুর সমালোচনাও শুনতে হয় তাকে। মিসেস ফেনিমোর এ কাজে তাকে সাহায্য করেন। তিনি সব সময়ই সাহায্য করেন, এক লাজুক মহিলা, খুব হাসতে পারেন, যেখানে তার স্বামীপ্রবরটি, যাকে তিনি পরিপূর্ণ বিষণ্ণ, আশাপ্রদ ভালোবাসার দৃষ্টিতে দেখেন, স্কুলের ক্লাবগুলো চালান, এবং শুধু তা-ই নয়, তিনি একটি পড়শিদের মদ্যপানের ক্লাব গড়ে তুলেছেন যেখানে আমাদের মা - বাবারা আর অন্যান্য পড়শিরা যারা নিঃসন্তান তারাও ফেনিমোরদের বাড়ি যায়, মদ চাখতে, আর সেজন্য মিসেস ফেনিমোর প্রত্যেকের দরজায় গিয়ে নিমন্ত্রণ করে আসেন, হাসিমুখে; বাড়ির জানলা দিয়ে দেখলে এভাবেই তাকে ঘুরতে দেখা যাবে। তিনি গোটা গোটা শব্দ উচ্চারণ করে বলেন : জ্যাক ও শার্লি ফেনিমোর এক বিশেষ মদ্য - স্বাদ নেবার জন্য আপনাদের সাদর নিমন্ত্রণ জানাচ্ছে। গাদাগুচ্ছের লোক সেখানে হাজির হয়, পড়শিরা সব্বাই, আমার মা- বাবাও, আর তারা কখনোই সাধারণত যেখানে - সেখানে যায় না। তারা আগে এমনটা কখনোই করেনি। তারা সবাই বলাবলি করে, ফেনিমোর দম্পতি কী ভালো, সবাই ফেনিমোর দম্পতির প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয় - তাদের বাড়ি, গাড়ি, বাগান, ছুরি- কাঁটাচামচ ইত্যাদি, প্লেটের নকশা সব ব্যাপারে। এরপর ফেনিমোর দম্পতি একটি থিয়েটার দেখানোর আয়োজন করে যেখানে ঘোষণা দেয় : জ্যাক ও শার্লি ফেনিমোর আপনাদের এম্পায়ার থিয়েটারে ' এডুকেটিং রীতা ' ( ১৯৮৩ সালের এক ব্রিটিশ কমেডি- ড্রামা ফিল্ম ১৯৮০তে যার মঞ্চায়ন হয়েছিল) দেখার আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। সকলেই তা দেখতে যায়। ' জ্যাক ও শার্লি ফেনিমোর চিনি ও মশলা- মেশানো এক মদ্যপানের উচ্ছল বিনোদন অনুষ্ঠানে আপনাদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছে '। আবার, ' জ্যাক ও শার্লি ফেনিমোর আপনাদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছে, স্কটল্যান্ডের বেন ওয়াইভিসের গায়ে সূর্যের অয়নান্তিক আঘাতের দৃশ্য দেখার জন্য। '
কোন বেনের ওপর আক্রমণ? লোকটা ( আমি তাকে টম বলে ডাকব) বলল।
না, আমি বললাম। বেন ওয়াইভিস একটি পাহাড়ের নাম। স্কটিশ ভাষায় ' বেন ' মানে পাহাড়।
হ্যাঁ, হ্যাঁ, আমি জানি। আমি তা জানি, টম বলল।
তুমি কিছুই জানো না, পউলা বলল। খানিক আগে অ্যাংগোরা কী তাও জানতে না।
যাই হোক, আমি বলছি। আমাদের কুড়িজনের মতো যারা সবাই প্রায় সারাজীবন বেন ওয়াইভিসের তলায় বাস করেছি অথচ কখনও তার ওপরে চড়িনি, তাদের সাত - আটজন বয়স্ক আর বাকিরা আমার মতো বাচ্চা, কেউ খানিক ছোটো, আর এক বয়স্ক দম্পতি মিলে ফেনিমোর দম্পতির ভাড়া করা মিনিবাসে চড়লাম, কেননা ফেনিমোর দম্পতি সবেমাত্র মিনিবাস চালানোর লাইসেন্স পেয়েছে, আর বেন ওয়াইভিসের পাদদেশে গাড়ি চালিয়ে নিয়ে গেল, এটা দেখার জন্য, ২১শে ডিসেম্বর ক্রিসমাসের আগের রোববার সেই পাহাড়ের কতটা উঁচুতে চড়তে পারি, সেই গৌরবময় সূর্যস্নাত রোববারে, যখন আকাশ পরিষ্কার, ঘন নীল আর নির্মল তথা প্রাণ - জুড়ানো।
তারপর কী ঘটল?
ওহ্, ওক্কে, বুঝতে পেরেছি, এটা একটা খেলা, টম বলল। ওক্কে। তুমি পাহাড়ের চূড়ায় চড়লে, দারুণ চমৎকার পার্টি পেয়েছিলে, আর তুমি বছরের সেই সবচেয়ে ছোট্ট দিনটিতে সেই রোম্যান্টিক পাহাড়ের ওপর প্রথম সঙ্গীকে চুম্বন করেছিলে।
মিনিবাসটা বিকল হয়ে গেল, পউলা বলল। তুমি কখনোই প্রতিবেশকে ছেড়ে যেতে পারবে না।
পাহাড়ের ঠিক মাঝপথ অবধি যাবার পর, আমি বললাম, আকাশের রং বদলে নীল থেকে কালো হল আর আধঘন্টা পর বরফে ভরে যেতে লাগল। এত ভারী তুষারপাত হতে লাগল যে সাত বয়স্ক ও বারো কি তেরোজন বাচ্চা বেন ওয়াইভিস পাহাড় - চূড়ার নিচের এক ফাঁকা জায়গায় বসে তুষারে ঢেকে যেতে লাগল। এটা ছিল মোবাইল ফোন আসার আগের সময়ের কথা।। আমরা কোথায় আছি তা কাউকে জানানোর সুযোগ নেই। সবকিছু জমে যাচ্ছিল। আমরা গাদাগাদি করে রইলাম, এরপর বয়স্করা তাদের দেহের ভিতর গোল করে বাচ্চাদের চেপে ধরে রইল। তখন বিকেল। অন্ধকার হয়ে আসছে। কিন্তু তুষারপাত থামছে না। সবাই সেখানে সেই অন্ধকারে বরফাচ্ছন্ন রইলাম, তারপর পিছনপানে আরও বরফ, আরও অন্ধকার, খোলা আকাশের নিচে মাইলের পর মাইল তুষারের ঢেউ, আমার বাবা ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করে যাচ্ছিল, বাবা এখন বেঁচে নেই, আর পাড়ার রাস্তার আড়াআড়ি বাস করা সেই মানুষটিও, তিনিও মারা গেছেন, আমার মনে হয়, তিনি মি. ফেনিমোরকে খুন করার হুমকি দিচ্ছিলেন, আর আমার মা যে পাহাড়ে চড়ার উপযোগী হিলওয়ালা জুতো পরেছিল, আমার সেই মা, যে আগে কখনও পাহাড় অভিযান করেনি, পাহাড়ের কাছাকাছি থাকাতেও কিছু মনে করত না, নিজেকে দূষতে লাগল আর খানিক তর্কাতর্কি করতে লাগল, সাহায্যের জন্য কার যাওয়া উচিত তাই নিয়ে, ওদিকে মিসেস ফেনিমোর কেঁদে আকুল, আর মি. ফেনিমোর প্রতি পাঁচ মিনিট অন্তর মাথা গুণছেন, শ্বেত অন্ধকারে সাহায্যের জন্য যাত্রা শুরু করার আগে।
হা ভগবান, টম আক্ষেপ করে উঠল। সে কি মারা গেল?
সানন্দেই তা শেষ হল, পউলা বলল। তাই নয় কি?
প
রের দিন অবধি মি. ফেনিমোরকে আর পাওয়া গেল না। পরে উদ্ধারকারী দল তাকে তুলে আনল, আমি বললাম। তিনি সপ্তাহখানেক হাসপাতালে ছিলেন। আমরা সব্বাই তো তখন বাড়িতে। ঘন্টাখানেক পর একটি হেলিকপ্টারে তিনজন এসে আমাদের সকলকে উদ্ধার করে। জেনি ম্যাকেঞ্জি নামের একটি মেয়ের বাবা, স্কুলে আমার এক বছর আগে পড়ত, রেডিয়োতে খারাপ আবহাওয়া বার্তা শুনে, উদ্ধারকারী সহায়তা কেন্দ্রে ফোন করে বলেন, আমরা কোথায় গিয়েছি। তারা আমাদের চারজনকে এক রাতের জন্য হাসপাতালে রেখেছিল, আমিও ছিলাম। সে এক আনন্দঘন অবস্থা। আমরা সকলেই বেশ সুস্থ। কিন্তু বিষয়টা হল, আমরা শহরে ফিরলাম, ঘরে ফিরলাম আর - তারপরই কোথাও আর তুষার দেখা গেল না। কোত্থাও না। সব স্বাভাবিক, ধূসর ফুটপাত, নুড়ি - বাঁধানো চত্বর, বাড়ির ছাদ, যেন এসবের কিছুই ঘটেনি।
তারপর কী, টম জানতে চাইল।
ফেনিমোরদের কী হল? পউলার জিজ্ঞাসা।
তাহলে সেই ক্রিসমাস হ্যাপি হল কী করে? টমের প্রশ্ন।
ফেনিমোর দম্পতির কী হল, সে ব্যাপারে আমার কোনও ধারণা ছিল না, বাড়ি থেকে বেশ কিছু মাইল দূরে একটা প্রায় শূন্য কার পার্কিং-এ আমার গাড়ির গরম সিটে একাকী বসে আমার বোধগম্য হল। আমি মহিলার মুখটা মনে করতে পারি। মি. ফেনিমোরের অকৃত্রিম ভুরু, স্কুলের করিডর দিয়ে যখন হেঁটে যেতেন কিংবা বেনের পাদদেশ থেকে ওপরের রাস্তায় হাঁটার সময় তার খানিকটা ঝুঁকে চলা মনে পড়ে। তারা ওই বছরটাই সেখানে ছিল, হয়তো। তারা চলে গিয়েছিল, অন্যত্র। জুডো ক্লাব বন্ধ হয়ে গেল। একজন গার্হস্থ অর্থনীতির শিক্ষক রান্না শেখানো ক্লাবের দায়িত্ব নিলেন। খুব তাড়াতাড়ি মানুষ তাদের নিয়ে আলোচনা থামিয়ে দিল, ক্ষণস্থায়ী স্থানিক ঠাট্টা-তামাশার মতো। সেইসব মানুষেরা কোথায় ছিল, সেই আশাবাদী মানুষ আর তার বিষণ্ণ সাহায্যকারী ভালোবাসা; প্রায় তিরিশ বছর পর আজকের রাতে ফেনিমোর দম্পতি কোথায়? তারা কি ঘরের উষ্ণ আরামে আছে, তাদের মাঝ বয়সে? তারা কি সেই ফেনিমোরই আছে?
আমার গাড়ির ভিতর থেকে নিচে গ্রামের টেরেসে তুষারাবৃত বাড়ির ছাদগুলি দেখতে পাচ্ছি, ঢালের একদম তলদেশে। অন্যদিকে তাকিয়ে পানশালার পাশের জানলার মাঝ দিয়ে সেই লোকটা আর মদ
পরিবেশনকারিণীকে দেখতে পেলাম।
লোকটা পানশালার দিকে পিছন করে বসে। হাতে তার প্রায় শেষ হওয়া একটা গ্লাস, সামনের ফাঁকা জায়গায় একভাবে তাকিয়ে। মেয়েটি কনুইয়ে ভর দিয়ে। সে উলটো দিকে তাকিয়ে। তারা সেভাবেই থেকে গেল, নিশ্চল, যেন পটে আঁকা ছবি, সারাটা সময় আমি লক্ষ করে গেলাম।
মদ পরিবেশনকারিণীকে পউলা নামে ডাকা হচ্ছিল। লোকটার নাম কী ছিল, আমার জানা নেই। তা একদিক থেকে ভালো, কেননা আমি জানতেও চাইনি। আমি সেখানে নেহাতই এক অপরিচিত যে রাতের খাবারের অর্ডার দিয়েছে কিন্তু খায়নি। আমি অনেক আগে চলে গেছিলাম, যতদূর তারা চিনত, সেখান থেকে অন্ধকার পথে।
ইগনিশন চাবিতে হাত রাখলাম, হুইস্কি খেয়ে বা না খেয়ে।
কিন্তু যদি ওই পানশালায় ফিরে যেতাম, আমি খেতে পারতাম। তার ভিতরে গিয়ে এমনিতেই যদি সেখানে থাকতাম, ওই দুজন ফের নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা শুরু করত, তারা করতে সক্ষম হত, এমনকি যদি ওখানে বসে থেকে কাগজটা পড়তাম, বা তাদের উপেক্ষা করে রাতের খাবার খেতাম।
নিচে ভয়ংকর তুষারে ঢাকা বাড়িগুলির চকচকে ছাদের দিকে তাকালাম, ঠিক যেন দূরবর্তী বাড়ির সারি, সেই ধরনের গল্পে পাওয়া যা আমরা নিজেদের শোনাই, শীতকাল আর তার অনিশ্চিত উপহার সম্পর্কে।
গাড়ির দরজা খুলে বাইরে এলাম। দরজায় চাবি লাগালাম যদিও হয়তো দরকার ছিল না, আর তারপর পানশালায় ফিরে গেলাম।
*****
অনুবাদক পরিচিতি: বিপ্লব বিশ্বাস ( জন্ম: ১৭.০১.১৯৫৪) মৌলিক তথা ভাষান্তরিত গল্প আঙিনায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতাপুষ্ট। ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র ও অবসৃত প্রধানশিক্ষক। নির্জন সৃজনে আস্থাশীল গল্পকারের ১৯৭৬-এ প্রথম লিখিত গল্পই ' সমতট ' আয়োজিত সারা বাংলা গল্প প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছিল। তিনি কেন্দ্রীয় সাহিত্য অকাদেমির নথিভুক্ত অনুবাদক। এ রাজ্য,ভিনরাজ্য তথা ভিনদেশের ছোটো, বড় সাময়িক ও দৈনিক পত্র পত্রিকাতে তার গল্প প্রবন্ধ সসম্মানে প্রকাশিত। নানাবিধ টানাপড়েনে তার কলমচারিতা নিয়মিত হতে পারেনি। তার তিনটি মৌলিক, দুটি অনূদিত গল্পগ্রন্থ ও একটি অনূদিত উপন্যাস প্রকাশিত।
প্রকাশিত বইগুলি :১)এবং গণ্ডারের শোক ( গল্পগ্রন্থ/ পাণ্ডুলিপি) ২) ক্ষোভ বিক্ষোভের গল্প( গল্পগ্রন্থ / খোলা বারান্দা)৩) বাছাই ছাব্বিশ ( নির্বাচিত গল্পগ্রন্থ / দি সি বুক এজেন্সি) ৪) ইচ্ছেখাম ( গল্পগ্রন্থ / দোসর) ৫) দক্ষিণ ভারতীয় ছোটগল্প(অনুবাদ, ভাষাবন্ধন)৬) পড়শি ভাষার গল্প( অনুবাদ, দি সি বুক এজেন্সি) ৭)সামরিক সারমেয় কথা ( অনূদিত উপন্যাস / সন্দেশ, ঢাকা) ৮) আহারের আড়কথায় শ্রীরামকৃষ্ণ ( প্রবন্ধগ্রন্থ / দি সি বুক এজেন্সি) ( আরও তিনটি যন্ত্রস্থ)।


0 মন্তব্যসমূহ