পরিচিতি : হেনরি জেমস (Henry James, 1843–1916) ছিলেন আমেরিকান বংশোদ্ভূত এক বিশিষ্ট ঔপন্যাসিক, সাহিত্য সমালোচক ও আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাসের অন্যতম প্রবর্তক। তিনি জন্মেছিলেন নিউ ইয়র্কে, কিন্তু জীবনের অধিকাংশ সময় কাটিয়েছেন ইউরোপে, বিশেষ করে ইংল্যান্ডে, এবং পরে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন।
জয়েস, ভার্জিনিয়া উলফ, মার্সেল প্রুস্ত, এমনকি কাজুও ইশিগুরো—হেনরি জেমসের প্রভাব অনুভব করেছেন। 'কথাসাহিত্যের শিল্প' প্রবন্ধটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৮৪ সালে Longman’s Magazine-এ। এর প্রতিক্রিয়ায় তখনকার সাহিত্যজগতে প্রচুর বিতর্ক ওঠে, কারণ জেমস এতে সাহিত্যের “নৈতিক শিক্ষা” ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে উপন্যাসকে শিল্পের মর্যাদা দিতে চেয়েছিলেন। তিনি বলেন--উপন্যাস কোনো নীতিকথা নয়, বরং এটি জীবনের প্রতিরূপ, এবং লেখক সেই জীবনকে যেমনভাবে উপলব্ধি করেন, তেমনভাবেই তা উপস্থাপন করতে পারেন।কোনো শিল্পেই নিয়ম খাটে না — শুধু মান ও সততা গুরুত্বপূর্ণ। উপন্যাস কীভাবে লেখা উচিত তার কোনো নির্দিষ্ট রীতি নেই; লেখক তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে স্বাধীনভাবে কাজ করবেন।
কথাসাহিত্যের শিল্প
উপন্যাসকে আগে থেকে একমাত্র যে শর্তে বাঁধা যায়—যাতে সেটি চাপিয়ে দেওয়া মনে না হয়—তা হলো : উপন্যাস যেন আকর্ষণীয় হয়। এই দায়িত্ব উপন্যাসের ওপর থাকে, তবে এটিই একমাত্র।
উপন্যাস কীভাবে আমাদের আকর্ষিত করবে, তার পথ অগণিত। এগুলোকে নির্দিষ্ট নিয়মে বাঁধলে বরং ক্ষতি হয়। মানুষের স্বভাব যেমন বহুবিধ, কথাসাহিত্যের পথও তেমনই বহুবিধ। সেগুলো সফল হয় তখনই, যখন বিশেষ কোনো মানসিকতার ছাপ প্রকাশ পায়, যা অন্যদের থেকে আলাদা।
একটি উপন্যাস আসলে জীবনের প্রত্যক্ষ ও ব্যক্তিগত ছাপ। এটাই তার আসল মূল্য। সেই মূল্য নির্ভর করে লেখকের অনুভূতির গভীরতার ওপর। কিন্তু যদি কোনো গভীরতা না থাকে, তবে কোনো মূল্যও থাকবে না। আর সেই গভীরতা আসবে তখনই, যখন লেখকের স্বাধীনতা থাকবে অনুভব করার ও বলার।
রূপ বা কাঠামো আসলে বিচার করতে হয় কাজ শেষ হওয়ার পর। তখন বোঝা যায় লেখক কী বেছে নিয়েছেন। তখনই আমরা দিকনির্দেশ খুঁজে পাই, তুলনা করতে পারি। তখন মান বিচার করার আনন্দ পাই।
সৃষ্টি একান্তই লেখকের নিজের। সেটাই তার সবচেয়ে ব্যক্তিগত ব্যাপার। আমরা তাকেই মেপে দেখি। লেখকের সুবিধা যেমন আছে, দায়ও আছে। তিনি সীমাহীন চেষ্টা করতে পারেন, পরীক্ষা করতে পারেন, আবিষ্কার করতে পারেন।
চিত্রশিল্পী তাঁর কলার মৌলিক পাঠ শেখাতে পারেন। ভালো কাজ দেখে অনুশীলন করলে যে কেউ শিখতে পারে—যদি উপযুক্ত যোগ্যতা থাকে। কিন্তু সাহিত্যশিল্পীর অবস্থা ভিন্ন। তিনি শিষ্যকে বলতে বাধ্য হন: “তুমি যেমন পারো, তেমন করো।”
শিল্পের সূক্ষ্মতায় পার্থক্য আছে। চিত্রকলার নিয়ম অনেক বেশি নির্দিষ্ট। তাই সেখান থেকে শেখা তুলনামূলক সহজ।
তবুও, মি. বেসান্ট যখন বলেন, “কথাসাহিত্যের নিয়ম শিখিয়ে দেওয়া যায় সংগীতের সুর, অঙ্কনের দৃষ্টিকোণ বা অনুপাতের নিয়মের মতো নির্দিষ্টভাবে”—তখন তিনি একে কিছুটা নরম করে দেন। তিনি বলেন, এগুলো আসলে সাধারণ নিয়ম।
যেমন—
লেখককে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে লিখতে হবে। চরিত্রগুলোকে বাস্তব হতে হবে, যেন জীবনে সত্যি এমন মানুষের দেখা পাওয়া যায়।
গ্রামের এক মেয়ে সেনানিবাসের জীবন বর্ণনা না করে।
মধ্যবিত্ত অভিজ্ঞতার লেখক যেন সমাজের উচ্চস্তরের চরিত্র না লেখেন।
লেখকের উচিত নিজের নোট লেখা।
চরিত্রকে স্পষ্ট করে ফুটিয়ে তুলতে হবে।
অঙ্গভঙ্গি বা কথার ভঙ্গি দিয়ে চরিত্রকে জোর করে স্পষ্ট করার চেষ্টা খারাপ কৌশল।
দীর্ঘ বর্ণনা দিয়ে চরিত্র আঁকা আরও খারাপ কৌশল।
ইংরেজি কথাসাহিত্যের নাকি নৈতিক উদ্দেশ্য থাকা উচিত।
লেখায় যত্ন ও নিখুঁততা—অর্থাৎ শৈলী—অমূল্য।
আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো গল্প। গল্পই সবকিছু।
এসব নিয়মের মধ্যে অধিকাংশের সঙ্গেই দ্বিমত করা কঠিন। তবে সেগুলোকে আমি একেবারে নির্দিষ্ট বিধি বলতে পারি না। এগুলো অনুপ্রেরণাদায়ক, পরামর্শমূলক—কিন্তু সুনির্দিষ্ট নয়।
কারণ, আসল মূল্য তো নির্ভর করে লেখক ও পাঠকের ব্যাখ্যার ওপর। কোন চরিত্র বা পরিস্থিতি বাস্তব মনে হবে—তা একেকজনের জন্য একেক রকম। বাস্তবতার মাপজোক নির্দিষ্ট করা প্রায় অসম্ভব।
অভিজ্ঞতা কখনো সীমাবদ্ধ নয়, কখনো সম্পূর্ণও নয়। অভিজ্ঞতা আসলে এক বিশাল সংবেদনশীলতা। যেন চেতনার কক্ষে ঝুলে থাকা বিশাল এক মাকড়সার জাল—অসংখ্য সূক্ষ্ম সুতো দিয়ে তৈরি। বাতাসের সামান্যতম কণা পর্যন্ত সেই জালে আটকে যায়। এটাই মনের আবহাওয়া।
যখন সেই মন কল্পনাশক্তিসম্পন্ন হয়—আরও বেশি, যখন তা কোনো প্রতিভাবান মানুষের হয়—তখন সে সামান্যতম আভাসকেও জীবনের প্রকাশে রূপান্তর করতে পারে। বাতাসের ক্ষুদ্র স্পন্দনও তার কাছে হয়ে ওঠে প্রকাশ।
এক গ্রামের মেয়ে, যদি সে এমন হয় যে কিছুই তার চোখ এড়িয়ে যায় না—তাহলে তার পক্ষে সামরিক জীবনের বর্ণনা করাও অসম্ভব নয়। কল্পনা তাকে সাহায্য করবে। এর চেয়েও আশ্চর্য ঘটনা ঘটেছে।
আমি এক ইংরেজ লেখিকাকে (একজন প্রতিভাবান নারী) মনে করতে পারি। তিনি একবার গল্প লিখেছিলেন ফরাসি প্রোটেস্টান্ট যুবকদের জীবন নিয়ে। তাঁকে অনেকেই প্রশংসা করেছিলেন, জিজ্ঞেস করেছিলেন—এত কিছু জানলেন কোথা থেকে? তাঁর অভিজ্ঞতা ছিল কেবল এক ঝলক দেখা। প্যারিসে একদিন সিঁড়ি ভাঙতে ভাঙতে তিনি দেখেছিলেন এক পাদ্রির বাড়ির ভেতর কিছু তরুণ খাওয়া শেষ করে টেবিলে বসে আছে। মুহূর্তের সেই দৃশ্যই হয়ে উঠেছিল তাঁর অভিজ্ঞতা।
তিনি জানতেন যৌবন কাকে বলে, প্রোটেস্টান্ট ধর্ম কী, ফরাসি হওয়া কেমন। এইসব ধারণাকে মিলিয়ে তিনি বাস্তব এক চিত্র তৈরি করলেন। আর সবচেয়ে বড়ো কথা, তাঁর সেই শিল্পী-প্রবণতা ছিল—যেটা সামান্য থেকে অনেক কিছু অনুমান করতে পারে, অল্প দেখে বিস্তৃত আঁকতে পারে। এটাই আসল অভিজ্ঞতার রূপ।
অভিজ্ঞতা আসলে হলো ছাপ বা ইমপ্রেশন। প্রতিটি ছাপই একধরনের অভিজ্ঞতা, যেমন আমরা যে বাতাসে শ্বাস নিই সেটাও অভিজ্ঞতা। তাই যদি আমি একজন নবীন লেখককে বলি—“অভিজ্ঞতা থেকে লিখো”—তাহলে সঙ্গেই যোগ করতে হবে: “এমন মানুষ হওয়ার চেষ্টা করো, যার কাছে কিছুই অগোচর থাকে না।”
আমি কিন্তু এতে বিশদ বর্ণনার গুরুত্ব কমাচ্ছি না। বরং বলছি, সূক্ষ্ম সত্যতা—অর্থাৎ বাস্তবতার আবহ—উপন্যাসের সর্বোচ্চ গুণ। লেখকের অন্য সব গুণ তার ওপর নির্ভরশীল। যদি বাস্তবতার আবহ না থাকে, তবে সবই অর্থহীন। আর যদি সেটা থাকে, তবে অন্য সব গুণ তার শক্তি পায়।
এই সাফল্য অর্জন করাই লেখকের লক্ষ্য। চরিত্রকে স্পষ্ট করে তুলতে হবে—কিন্তু কীভাবে সেটা করা হবে, তা লেখকের নিজস্ব কৌশল। অনেক বর্ণনা দিয়ে চরিত্র স্পষ্ট হবে, নাকি সংলাপের মাধ্যমে হবে, নাকি ঘটনার ভেতর দিয়েই হবে—এটা লেখক ও তার ভঙ্গির ব্যাপার।
আসলে বর্ণনা, সংলাপ, ঘটনা—এগুলো আলাদা আলাদা খণ্ড নয়। এগুলো একে অপরের সঙ্গে মিশে যায়, সবই একই প্রকাশপ্রয়াসের অংশ। কোনো ভালো উপন্যাসে বর্ণনা আসলে বর্ণনাই নয়, সেটি গল্পকথনও। সংলাপও বর্ণনা হয়ে ওঠে। কোনো ঘটনার সত্য উচ্চারণ মানেই একধরনের চরিত্রচিত্রণ। সব মিলিয়ে উপন্যাস আসলে এক জীবন্ত সত্তা, অবিচ্ছিন্ন এক অঙ্গসংগঠনের মতো।
তবু সমালোচকেরা উপন্যাসকে আলাদা আলাদা খণ্ডে ভাগ করতে চান। বলেন, “এটা চরিত্রের উপন্যাস,” বা “এটা ঘটনার উপন্যাস।” কিন্তু এগুলো লেখকের কাছে অর্থহীন। চরিত্র আর ঘটনা আসলে একই জিনিসের দুই দিক। চরিত্রই ঘটনার জন্ম দেয়, আর ঘটনা চরিত্রকে ফুটিয়ে তোলে।
একজন মানুষ হঠাৎ সিদ্ধান্ত নেয়—সে আর ধর্মযাজক হবে না। এটাই তো এক ঘটনা। আবার এটা তার চরিত্রের প্রকাশও। তাই চরিত্র ও ঘটনাকে আলাদা করার চেষ্টা ভুল।
আমার কাছে একমাত্র অর্থবহ বিভাজন হলো—ভালো উপন্যাস ও খারাপ উপন্যাস। যেমন ভালো ছবি আছে, খারাপ ছবি আছে। অন্য কোনো বিভাজনের মানে নেই।
“চরিত্রের উপন্যাস” আর “ঘটনার উপন্যাস” বা “উপন্যাস” আর “রোমান্স”—এই বিভাজনগুলো সমালোচক ও পাঠকের সুবিধার জন্য তৈরি। কিন্তু লেখকের কাছে এদের তেমন গুরুত্ব নেই। যদি আমরা সত্যিই শিল্পীকে সম্মান করতে চাই, তবে তাকে স্বাধীনতা দিতে হবে—সে যেন নিজের মতো বেছে নিতে পারে। যদিও অনেকে আগে থেকেই ধরে নেন, তার বাছাই থেকে ভালো কিছু বেরোবে না।
কিন্তু শিল্প তো প্রায়শই এই ধরনের পূর্বধারণাকে অস্বীকার করেই নতুন কিছু তৈরি করে। অনেক সময় সাধারণ জিনিসের ভেতরেই সবচেয়ে আকর্ষণীয় পরীক্ষা লুকিয়ে থাকে।
ফ্লবেয়ার একবার এক চাকরানির তোতাপাখির প্রতি ভক্তি নিয়ে গল্প লিখেছিলেন। লেখাটি অত্যন্ত যত্নে তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত খুব একটা সফল হয়নি। আমরা স্বাধীনভাবে বলতে পারি—গল্পটা নিরস। তবু আমি খুশি তিনি সেটা লিখেছিলেন, কারণ এতে বোঝা যায় কী করা সম্ভব বা কী করা সম্ভব নয়।
অন্যদিকে তুর্গেনেভ একবার এক বধির ও বোবা কৃষদাস আর একটি ছোট কুকুরকে নিয়ে গল্প লিখেছিলেন। সেটি ছিল গভীর, স্নেহময়, অসাধারণ এক সৃষ্টি। তিনি জীবনের সেই সুরটি ধরতে পেরেছিলেন, যেখানে ফ্লবেয়ার ব্যর্থ হয়েছিলেন।
শেষ পর্যন্ত ব্যাপারটা এসে দাঁড়ায় পছন্দের জায়গায়। জোলা যেমন বলেন, কিছু কিছু জিনিস মানুষকে পছন্দ করতেই হবে, আর তাদের সেটা শেখানো সম্ভব। কিন্তু আমার মতে, পাঠকের পছন্দ-অপছন্দ নিজের মতো করেই গড়ে ওঠে। কারণ তার পেছনে থাকে অভিজ্ঞতা। মানুষ যেমন জীবন অনুভব করে, তেমনই সে শিল্প অনুভব করে।
অনেকে বলেন, কথাসাহিত্য হলো এক কৃত্রিম রূপ, যেখানে বাস্তবকে কেটে-ছেঁটে সাজানো হয়। কিন্তু এটা শিল্পকে সংকীর্ণ করে ফেলে। কথাসাহিত্যের আসল শক্তি হলো—জীবনের অদ্ভুত ছন্দ, অনিয়ম, বৈচিত্র ধরে রাখা। যত কম কৃত্রিম সাজসজ্জা থাকবে, ততই তা সত্যের কাছাকাছি হবে। আর যত বেশি সাজসজ্জা থাকবে, ততই সেটা হবে কৃত্রিম বিকল্প, আসল জীবনের বদলি।
মি. বেসান্ট “গল্প” বিষয়ে কিছু বলেছেন, যেগুলোতে আমার মনে হয় বেশ অস্পষ্টতা আছে। তিনি যেন গল্পকে উপন্যাসের ভেতর আলাদা এক অংশ হিসেবে দেখেন—যেন উপন্যাসের কিছু অংশ গল্প, আর কিছু অংশ গল্প নয়। অথচ বাস্তবে তা নয়।
“গল্প” বলতে আসলে বোঝানো যায় উপন্যাসের মূল ভাবনা বা বিষয়। প্রতিটি উপন্যাসেরই একটা ভাবনা থাকে—এটাই তার কেন্দ্র। কোনো “বিদ্যালয়” নেই যারা বলে যে উপন্যাসে বিষয় থাকবে না, শুধু শৈলী থাকবে। বিষয় তো থাকতেই হবে, নইলে লেখার কিছুই থাকবে না।
তবে উপন্যাস যত সফল হয়, ততই সেই বিষয় তার ভেতর ছড়িয়ে যায়। প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি যতিচিহ্নও তখন সেই ভাবনাকে প্রকাশ করতে সাহায্য করে। তখন গল্পকে আলাদা করে ধরা যায় না। গল্প আর উপন্যাস, ভাবনা আর রূপ—এরা সূচ-সুতো। সূচ ছাড়া সুতো চলে না, সুতো ছাড়া সূচও চলে না।
আরেকটি জায়গায় নৈতিকতা ও শিল্প প্রায় মিলে যায়। শিল্পকর্মের গভীরতম গুণ সবসময় নির্ভর করে শিল্পীর মননের ওপর। মন যত সূক্ষ্ম ও উচ্চমানের হবে, উপন্যাস, ছবি বা ভাস্কর্য ততই হবে সুন্দর ও সত্যনিষ্ঠ। কোনো ভালো উপন্যাসই তুচ্ছ বা অগভীর মনের কাছ থেকে আসতে পারে না। এটাই এক প্রকার নীতি, যা নবীন লেখক মনে রাখলে অনেক “উদ্দেশ্য”-সংক্রান্ত জটিলতা দূর হবে।
উপন্যাস লেখককে আরও কিছু উপদেশ দেওয়া যায়, তবে আমি এখন শেষের দিকে এসেছি। শুধু বলি—কথাসাহিত্যের ধরন বিশাল, এতে কোনো কড়াকড়ি বাঁধন নেই, অসংখ্য সম্ভাবনা আছে। অন্য শিল্পের তুলনায় কথাসাহিত্য অনেক বেশি মুক্ত। তাই আমার চোখে উপন্যাসের একমাত্র শর্ত হলো—এটি আন্তরিক হতে হবে।
এই স্বাধীনতা লেখকের জন্য এক অসাধারণ সুযোগ। আর নবীন লেখকের প্রথম শিক্ষা হলো—এই স্বাধীনতার মর্যাদা দিতে শেখা।
অনুবাদ : পিউ
অনুবাদ : পিউ


0 মন্তব্যসমূহ