লাসলো ক্রাসনাহোরকাই'র নোবেল ভাষণ


বাংলা অনুবাদ : শুভশ্রী বিন্তু


শ্রীমতী ও মহাশয়বৃন্দ!
২০২৫ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর আমি মূলত আপনাদের সঙ্গে ‘আশা’ নিয়ে আমার ভাবনা ভাগ করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আমার আশা নামক যে ভাণ্ডারটি ছিল তা যেহেতু একেবারে শেষ হয়ে গেছে, তাই এখন আমি ‘স্বর্গদূত’ নিয়ে বলব।

এক.
আমি এদিক-ওদিক হাঁটি আর স্বর্গদূতদের কথা ভাবি—এখনো আমি হাঁটছি, ওপরে-নিচে, ঘুরে-ফিরে। তোমরা তোমাদের চোখকে বিশ্বাস কোরো না—তোমাদের মনে হচ্ছে আমি এখানে দাঁড়িয়ে মাইক্রোফোনে কথা বলছি, কিন্তু আমি তা নই—আমি আসলে ঘুরে-ফিরে হাঁটছি এক কোণ থেকে আরেক কোণে, আবার প্রথম কোণে ফিরে যাচ্ছি, আবার সেখান থেকে... এভাবে ঘুরছি আর ঘুরছি… আর হ্যাঁ, আমি স্বর্গদূতদের কথা ভাবছি।

স্বর্গদূত—আর আমি এখনই বলে দিতে পারি, এরা এক নতুন রকমের স্বর্গদূত, এদের কোনো ডানা নেই। তাই, উদাহরণস্বরূপ, আর ভাবতে হচ্ছে না—যদি দুটি ডানা ওদের পিঠ থেকে বাইরে বেরিয়ে থাকে, যদি সেই বিরাট দুটি ডানা ওদের আলখাল্লার বাইরেও ভারী হয়ে ছড়িয়ে থাকে, তাহলে সেই স্বর্গীয় দর্জি আসলে কী কাজ করে? তার কর্মশালায় কোন অজানা জ্ঞান এসে ঢোকে যখন সে ওদের পোশাক বানায়? ডানাগুলো শরীরের বাইরে—দেহ যা বস্তুহীন, দেহহীন শরীরের বাইরে—তাহলে সেই দেহহীন দেহের বাইরে ঘিরে থাকা সেই মধুর আলখাল্লার ভিতরে সেই ডানা দুটো কোথায় জায়গা পায়, যা আবার ডানাগুলোও ঢেকে রাখে?

আর উল্টোভাবে, যদি ডানাগুলো বাইরে না থাকে—তাহলে কীভাবে সেই স্বর্গীয় আলখাল্লা একইসঙ্গে দেহ আর ডানা দুটোকেই ঢেকে রাখে?

হায়! বত্তিচেল্লি, লিওনার্দো, মাইকেলেঞ্জেলো, এমনকি জিওতো আর ফ্রা অ্যাঞ্জেলিকো—এদের কথা মনে পড়ে! কিন্তু এখন আর কিছু যায় আসে না—এ সমস্যাটাও পুরনো স্বর্গদূতদের সঙ্গেই উবে গেছে।

আমি যাদের নিয়ে বলছি—তারা নতুন স্বর্গদূত। এটা একেবারে পরিষ্কার—আমি যখন আমার ঘরে হাঁটতে শুরু করি—যদিও তোমরা এখন দেখছ আমি মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়িয়ে নোবেলজয়ী হিসেবে ঘোষণা দিচ্ছি যে আমি মূলত আশা নিয়ে কথা বলতে চেয়েছিলাম, কিন্তু এখন সেটা আর বলব না—বরং স্বর্গদূত নিয়ে বলব। আমি সেখান থেকেই শুরু করছি।

আর আমি যখন আমার কাজের ঘরে, ধ্যানমগ্ন ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে ভাবতে শুরু করি—তখন আমার মস্তিষ্কে ইতিমধ্যেই তাদের নিয়ে অস্পষ্ট রেখাচিত্র ফুটতে থাকে। আমার এই কাজের ঘর খুব বড় নয়— মোটামুটি চার বাই চার মিটার। কারণ সিঁড়ির জায়গাটুকুও ধরতে হবে, যেখান দিয়ে ওপরে-নিচে যাওয়া হয়। অবশ্যই তোমরা যেন কোনো রোম্যান্টিক হাতির দাঁতের টাওয়ার ভাবো না।

এটা একতলা কাঠের বাড়ির ডান দিকের কোণে বানানো একটি টাওয়ারঘর, সবচেয়ে সস্তা নরওয়ের স্প্রুস কাঠ দিয়ে তৈরি—আর এটা টাওয়ার দেখায় কারণ পুরো জমিটাই ঢালু—সবকিছু পাহাড়ের চূড়ায়— আর সেই ঢাল নেমে গেছে গভীর এক উপত্যকার দিকে।

আমি নিচতলার ঘরগুলোতে যখন বই জায়গা দখল করতে শুরু করল, আর আর জায়গা না থাকায় নতুন একটি ঘর বানানো অবশ্যক হয়ে পড়ল, তখন সেই ঢালের কারণেই এই নতুন ঘরটা নিচতলার ওপর উঠে টাওয়ারের মতো দাঁড়িয়ে গেল। নিচতলাকে চেপে ধরে দাঁড়ানো একটা টাওয়ার।
ঠিক আছে—আমি শুধু স্বর্গদূতদের নিয়েই এখন কথা বলব—

আর আশা নিয়ে নয়—
আর পুরনো স্বর্গদূত নিয়েও নয়।

পুরনো স্বর্গদূত—ডানা-ওয়ালা— যাদের আমরা দেখি সেই অসংখ্য Annunciation ছবিতে—মধ্যযুগ আর রেনেসাঁ-জুড়ে যত ছবি আঁকা হয়েছে—তারা বার্তা নিয়ে আসত। বার্তা—যে-আসবে আসবে। এরা ছিল পুরনো স্বর্গদূত—আকাশের বার্তাবাহক। তারা এসে বার্তা দিত—মুখে শুনিয়ে, অথবা নবম-দশম শতকের ছবিতে যেমন দেখা যায়—হাতে ধরা থাকে বাঁকানো এক টুকরো বাক্য-ফিতা, যেখানে শব্দটাই হয়ে ওঠে কেন্দ্রবিন্দু।

তবে পুরনো স্বর্গদূতরা যাই করুক—মূলত তারা উপরওয়ালার বার্তা পৌঁছে দিত—আলোয় ঢাকা শব্দ, অথবা কানে ফিসফিসিয়ে বলা শব্দ। অর্থাৎ তাদের বার্তার থেকে তাদের আলাদা করে দেখা যেত না—সত্যি বলতে তাদের আর তাদের বার্তার মধ্যে কোনো পার্থক্যই ছিল না। তারা নিজেরাই ছিল একটা বার্তা—আমাদের কাছে প্রেরিত—তিনি পাঠাতেন—আমাদের কাছে—যারা ধুলোর মধ্যে সংগ্রাম করি—যারা অনির্দেশ্য পরিণতির পথে ঘুরি… /ওহ, সে কী সুন্দর সময়!/

তাই প্রতিটি পুরনো স্বর্গদূত ছিল কারো কাছ থেকে কারো কাছে পাঠানো বার্তা—আদেশভরা, খবরভরা বার্তা।

কিন্তু আমি এখন—দাঁড়িয়ে থেকে—বা বলা ভালো হাঁটতে হাঁটতে—এগুলো নিয়ে আর কথা বলব না—এই ঠান্ডা টাওয়ারঘরে—যা সস্তা কাঠ দিয়ে বানানো, আর গরম করাও প্রায় অসম্ভব—আর যা আসলে টাওয়ার হয়েছে শুধুমাত্র জমির খাড়া ঢালের জন্য।

আমি পুরনো স্বর্গদূত নিয়ে বলব না—যদিও তারা এখনো আমাদের মনে থাকে—মধ্যযুগ আর নবজাগরণের প্রতিভাদের কল্যাণে। তারা আজও আমাদের হৃদয় ছুঁয়ে যেতে পারে—এমনকি আমাদের অবিশ্বাসী হৃদয়েও।

কারণ তারাই হাজার বছর ধরে আমাদের বুঝতে সাহায্য করেছে—‘উপরে’ আছে আর ‘নিচে’ আছে— এবং এর মাধ্যমে আমরা দিক বুঝেছি—দিক মানে স্থান—আর দিক মানে দুটো বিন্দুর মধ্যে সময়ও জন্মায়। এভাবেই হাজার বছর ধরে এক সৃষ্টি-অনুধাবিত বিশ্ব গড়ে উঠেছে—যেখানে সেই পুরনো স্বর্গদূতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ আমাদের সিদ্ধান্তে সাহায্য করেছে—সত্যিই উপর আর নিচ আছে।

কিন্তু না—আমি পুরনো স্বর্গদূত নিয়ে বলছি না।
কারণ তারা এখন আর নেই।
এখন শুধু নতুনরা আছে।

আর আমি নিজে—এখানে দাঁড়িয়ে—তোমাদের দৃষ্টির সামনে—তাদের নিয়ে ভাবতে ভাবতে আর একই কোণ থেকে আবার একই কোণে ফিরতে ফিরতে হাঁটা শুরু করি না—যেমনটি হয়তো আমি আগেই বলেছি—আমাদের স্বর্গদূতরা হলো এই নতুনরা। ডানা হারিয়ে তারা আর সেই মধুর আলখাল্লাও পরে না। তারা একেবারে সাধারণ রাস্তার পোশাক পরে আমাদের ভিড়েই হাঁটে। আমরা জানি না এদের সংখ্যা কত, তবে কোনো রহস্যময় ইঙ্গিত বলছে—সংখ্যা বদলায়নি। পুরনো দিনের স্বর্গদূতরা যেমন হঠাৎ এসে কোথাও হাজির হতো, এই নতুনরাও ঠিক সেই রহস্যময় ভঙ্গিতেই আমাদের জীবনের এদিক-ওদিক এসে দাঁড়ায়। আসলে যদি তারা নিজেদের চিনিয়ে দিতে চায়, আর নিজেদের ভিতরের সত্য লুকিয়ে না রাখে—তাহলে আমরা খুব সহজেই ওদের চিনি। কারণ, তারা যেন আমাদের জীবনে ভিন্ন তালের, ভিন্ন ছন্দের, ভিন্ন সুরের পায়ে আসে—আর আমরা নিচের এই ধুলোয় আর কাদা-মাটিতে একদম অন্য তালে পথ চলি।

এমনকি আমরা নিশ্চিতও হতে পারি না যে এই নতুন স্বর্গদূতরা ওপর থেকে আসে কিনা। কারণ এখন তো মনে হয় আর কোনো ‘উপরে’ নেই—সেটাও পুরনো স্বর্গদূতদের সঙ্গে উধাও। এখন শুধু আছে সেই এক চিরন্তন ‘কোথাও’—যেখানে শুধু পৃথিবীর ইলন মাস্কদের পাগলাটে স্থাপত্য স্থান আর সময়ের আকার গড়ে নেয়। আর এইসব ভেবে যখন তোমরা আমাকে এখন দেখছ—তোমাদের সামনে কথা বলা এক বৃদ্ধ—এক অচেনা ভাষায় নোবেল উপলক্ষে বক্তব্য দিচ্ছি—তখনও বাস্তবে আমি সেই একই টাওয়ারঘরে হাঁটছি, সস্তা নরওয়ের স্প্রুস কাঠের তক্তার মাঝে, গরমহীন সেই ঘরে, বারবার এক কোণ থেকে আরেক কোণে ঘুরে বেড়াচ্ছি। আর সেই বৃদ্ধ—অর্থাৎ আমিই—এখন হাঁটার গতি আরো দ্রুত করি, কারণ নতুন স্বর্গদূতদের নিয়ে ভাবার জন্য আমার পায়ের তালেরও বদল প্রয়োজন।

আর ঠিক সেই মুহূর্তেই হঠাৎ আমি উপলব্ধি করি—এই নতুন স্বর্গদূতদের শুধু ডানা নেই নয়; তাদের কোনো বার্তাও নেই। একটুও না। তারা কেবল এখানে—আমাদের মাঝে—একেবারে সাধারণ পোশাকে হাঁটে, চাইলে অদৃশ্য থেকে যায়। কিন্তু যদি তারা চায় চিনতে—তারা একজন মানুষকে বেছে নেয়, তার সামনে এসে দাঁড়ায়—আর এক মুহূর্তে—আমাদের চোখের ছানি ঝরে পড়ে, হৃদয়ের জমাট ময়লা ভেঙে যায়। অর্থাৎ একটি সাক্ষাৎ ঘটে। আমরা স্তম্ভিত হই—হায় ঈশ্বর! একজন স্বর্গদূত! সে আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে! কিন্তু—তারা কিছুই দেয় না। কোনো বাক্যফিতা নেই, কোনো আলো নেই যা কানে ফিসফিসিয়ে বার্তা পৌঁছে দেবে। তারা একটুও কথা বলে না—যেন তাদের সব ভাষা হারিয়ে গেছে। তারা শুধু আমাদের দিকে তাকায়—আমাদের দৃষ্টি খোঁজে—আবেদন করে, ‘আমার চোখে তাকাও’—যেন আমাদের দিক থেকেই কোনো বার্তা তাদের কাছে পৌঁছাক।

কিন্তু দুর্ভাগ্য—আমাদের কাছে কোনো বার্তাই নেই। আমরা কিছু বলতে পারি না। কারণ আর কোনো প্রশ্ন নেই—আর কোনো উত্তরও নেই। তাহলে এ কেমন সাক্ষাৎ? এ কেমন স্বর্গ-ও-পৃথিবীর দৃশ্য? তারা দাঁড়িয়ে থাকে, আমরা দাঁড়িয়ে থাকি—একমাত্র নীরবতা জমে থাকে চারদিকে। বোবা-বধিরের সামনে বধির-বোবার সামনে—কী কথা হবে? কী বোঝাপড়া হবে? দেবত্বের উপস্থিতির তো প্রশ্নই আসে না। আর তখন প্রতিটি নিঃসঙ্গ, ক্লান্ত, দুঃখী, সংবেদনশীল মানুষের মনে হঠাৎ এক উপলব্ধি ওঠে—যেমন এখন আমারও উঠছে—আমি এখানে দাঁড়িয়ে আছি বটে, কিন্তু আসলে সেই টাওয়ারঘরেই হাঁটছি, সস্তা কাঠ আর বাজে ইনসুলেশনের মাঝে ঘুরে বেড়াচ্ছি—আর তখন আমি বুঝি—এই নতুন স্বর্গদূতরা—তাদের অসীম নীরবতায়—হয়তো আর স্বর্গদূতও নয়—বরং বলিদান—একেবারে প্রথমিক, পবিত্র অর্থে।

আমি দ্রুত আমার স্টেথোস্কোপ বের করি—সবসময়ই এটি সাথে রাখি—এখনও আছে। হাঁটতে হাঁটতে আমি তা খুব আলতো করে তোমাদের প্রতিটি বুকের ওপর রাখি। আর সাথে সাথেই আমি ভাগ্যের শব্দ শুনতে পাই—আমি তোমাদের সকলের ভাগ্য শুনি। সেই ভাগ্যে পা রাখতেই মুহূর্ত বদলে যায়। যে মুহূর্তটি মনে হয়েছিল সামনে আসছে—সেটি আর আসে না—বরং আসে হঠাৎ পতনের মুহূর্ত—আঘাতের মুহূর্ত—আমাকে পুরোপুরি বিধ্বস্ত করে দেয়। কারণ আমার স্টেথোস্কোপ শুনে ফেলে এই নতুন স্বর্গদূতদের ভয়াবহ গল্প—যে তারা বলিদান—কিন্তু আমাদের জন্য নয়—আমাদের কারণেই—আমাদের প্রত্যেকজনের কারণেই—স্বর্গদূত—ডানা ছাড়া—বার্তা ছাড়া—সব জেনেও—যে পৃথিবীতে যুদ্ধ আছে—যুদ্ধ আর শুধু যুদ্ধ।

প্রকৃতিতে যুদ্ধ, সমাজে যুদ্ধ—আর এই যুদ্ধ কেবল অস্ত্র দিয়ে নয়, কেবল নির্যাতন দিয়ে নয়, কেবল ধ্বংস দিয়ে নয়—হ্যাঁ, ওটা এক দিক। কিন্তু যুদ্ধ চলছে আরেক দিকেও—কারণ মাত্র একটি খারাপ শব্দই যথেষ্ট—একটি অন্যায়, বেপরোয়া, অসম্মানজনক আচরণ—একবারের আঘাত—শরীরে বা আত্মায়। কারণ জন্মের সময় তারা এসবের জন্য তৈরি ছিল না—তারা অসহায়—চূর্ণবিচূর্ণ হওয়ার সামনে, নৃশংসতার সামনে, তাদের নিষ্কলুষতা ও সরলতার সামনে। একটি কাজই যথেষ্ট—এমনকি একটি মাত্র খারাপ শব্দই যথেষ্ট—আর তারা চিরকালের জন্য আহত হয়ে যায়। আর আমি দশ হাজার শব্দ বললেও সেই ক্ষত সারাতে পারব না—কারণ সেটি সকল চিকিৎসার বাইরে—সকল ভাষার বাইরের ব্যথা।

দুই.
আহ, যথেষ্ট হলো স্বর্গদূতদের কথা!
এবার বরং মানুষের মর্যাদা নিয়ে কথা বলি।

মানুষ—বিস্ময়কর প্রাণী—তুমি কে?
তুমি চাকা আবিষ্কার করেছ, আগুন আবিষ্কার করেছ। তুমি বুঝেছিলে—বাঁচতে গেলে একসঙ্গে থাকা, সহযোগিতা করাই একমাত্র পথ। তুমি নেক্রোফ্যাজি আবিষ্কার করেছিলে—অর্থাৎ মৃত প্রাণী খেয়ে তুমি নিজেকে পৃথিবীর শাসকে পরিণত করেছ। তুমি ভীষণভাবে বড় এক মস্তিষ্ক অর্জন করেছ—এত ভাঁজ, এত জটিলতা—যে সেই মস্তিষ্কের সাহায্যে তুমি পৃথিবীর ওপর বেশ খানিকটা ক্ষমতা অর্জন করেছ—যদিও সীমিত। এই পৃথিবীর নামও তুমি রেখেছ। তুমি নানা রকম সত্য আবিষ্কার করেছ—যেগুলো পরে ভুল বলে প্রমাণিত হলেও—সেগুলো তোমার বিবর্তনের যাত্রাকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করেছে।

তোমার উন্নতি—লাফিয়ে-লাফিয়ে—তোমার জাতিকে পৃথিবীতে স্থিত করেছে, বিস্তৃত করেছে। তুমি দলবদ্ধ হয়েছ, সমাজ গড়েছ, সভ্যতা সৃষ্টি করেছ। তুমি এমন এক আশ্চর্য ক্ষমতার অধিকারী হয়েছ যে—প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থেকেও তুমি বেঁচে গিয়েছ। তুমি নিজের দুই পায়ে দাঁড়িয়েছ। হোমো হাবিলিস হিসেবে তুমি পাথর দিয়ে যন্ত্র বানালে, আর সেগুলো ব্যবহার করতে জানলে। হোমো ইরেকটাস হিসেবে তুমি আগুন আবিষ্কার করলে।

এরপর এক ছোট্ট জৈবিক ভিন্নতার কারণে—শিম্পাঞ্জির বিপরীতে—তোমার স্বরযন্ত্র আর নরম তালু একে অপরকে স্পর্শ করে না—ফলে ভাষা সৃষ্টি সম্ভব হলো—মস্তিষ্কের ভাষাকেন্দ্রের বিকাশের সঙ্গে-সঙ্গে। তুমি আকাশের প্রভুর সঙ্গে বসেছিলে—পুরোনো নিয়মানুযায়ী নীরব করা অংশগুলো যদি বিশ্বাস করি—তুমি উঠে বসেছিলে তাঁর পাশে, আর তিনি তোমাকে যে সকল সৃষ্টি দেখিয়েছিলেন—তুমি সেগুলোর নাম দিয়েছ।

তারপর তুমি লেখা আবিষ্কার করেছ। তখন তুমি ইতিমধ্যে দর্শনচিন্তা করতে সক্ষম—প্রথমে তুমি ঘটনাগুলো জুড়েছ, তারপর ধর্মবিশ্বাস থেকে আলাদা করে তাদের ব্যাখ্যা করেছ। নিজের অভিজ্ঞতায় ভর করে তুমি সময় আবিষ্কার করেছ। তুমি যানবাহন বানিয়েছ, নৌকা বানিয়ে পৃথিবীর অজানায় ঘুরেছ—যা পাওয়ার সব লুট করেছ। তুমি বুঝেছ—শক্তি আর ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন কী জিনিস।

তুমি অদম্য গ্রহগুলো মানচিত্রে ধরেছ। সূর্যকে দেবতা মনে করা বন্ধ করেছ, নক্ষত্রকে আর ভাগ্যের নিয়ন্তা ভাবোনি। তুমি যৌনতা আবিষ্কার করেছ—বরং বদলে দিয়েছ—পুরুষ-নারীর ভূমিকা বদলে দিয়েছ—আর অনেক দেরিতে হলেও (দেরিতে হলেও দেরি নয়) ভালোবাসা আবিষ্কার করেছ। আবেগ, সহানুভূতি, জ্ঞান অর্জনের স্তরভেদ তুমি নিজেই সৃষ্টি করেছ।

শেষে তুমি আকাশ জয় করেছ—পাখিদের ছেড়ে—তুমি নিজেই উড়েছ। তুমি চাঁদে হেঁটে বেড়িয়েছ। তুমি এমন অস্ত্র বানিয়েছ যা পুরো পৃথিবীকে বহুবার ধ্বংস করতে পারে। তুমি এমন বিজ্ঞান আবিষ্কার করেছ যা কাল আজকে অস্বীকার করে—কল্পনার মৃত্যুও ডেকে আনে—কারণ এখন তুমি শুধু স্বল্পমেয়াদি স্মৃতির মধ্যে বাঁচো। তুমি জ্ঞান, সৌন্দর্য, নৈতিক মহত্ত্ব—যা ছিল সবার, ঐশ্বরিক ঐতিহ্য—সবকিছু ছেড়ে দিয়েছ।

এখন তুমি প্রস্তুত একেবারে সমতলে নামার জন্য—যেখানে তোমার পা কাদায় ডুবে যাবে।
থামো—তুমি কি মঙ্গলে যাচ্ছ?
না—একটুও নড়ো না—এই কাদা তোমাকে টেনে নিয়ে যাবে—গিলে ফেলবে।

কিন্তু তোমার বিবর্তনের পথ—নিঃশ্বাস বন্ধ করে দেওয়ার মতো সুন্দর ছিল।
দুর্ভাগ্য—এ পথ আর কোনোদিন পুনরাবৃত্তি হবে না।

তিন.
আহ, যথেষ্ট হলো মানুষের মর্যাদার গল্প।
বরং এবার বিদ্রোহ নিয়ে কথা বলি।

আমি আমার বই The World Goes On-এ কথাটার একটু ছোঁয়া দিতে চেয়েছিলাম—কিন্তু যা লিখেছি তাতে আমি সন্তুষ্ট নই। তাই আবার চেষ্টা করব।

নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে—এক ভ্যাপসা, আর্দ্র বিকেলে—আমি বার্লিনে ছিলাম—একটা ইউ-বান স্টেশনের নিচতলায় ট্রেনের অপেক্ষায়। ইউ-বানের প্ল্যাটফর্মগুলো এমনভাবে সাজানো যে—যেদিকে ট্রেন যাবে, ট্রেন যখন পৌঁছে যাত্রী ওঠানামার সময় দাঁড়ায়—সেই বিন্দুর কাছে, সুড়ঙ্গমুখ থেকে কয়েক মিটার দূরে—একটা বড় আয়না ঝোলানো থাকে, সিগন্যাল-লাইটসহ।

আয়নার কাজ—চালক যেন পুরো ট্রেনের লম্বা দেখতে পারেন। আর লাল সিগন্যাল-লাইট ঠিক সেই জায়গাটা দেখায়—যেখানে চাকা থামতে হবে—একেবারে সেন্টিমিটার হিসেব করে—যাতে মানুষ নিরাপদে ওঠা-নামা করতে পারে। ওঠানামা শেষ হলে—লাইট সবুজ হয়—আর ট্রেন সুড়ঙ্গ ধরে এগিয়ে যায়—আমার ক্ষেত্রে রূহলেবেন-এর দিকে।

অন্য সব স্টেশনের মতোই এখানে একটা দৃশ্যমান মোটা হলুদ লাইন ছিল—একটা সতর্কতাসূচক বোর্ডের পাশাপাশি। সেই লাইন বোঝায়—সামনের কয়েক মিটার প্ল্যাটফর্ম থাকলেও—কোনো অবস্থায় সেই লাইন পেরোনো যাবে না। এই হলুদ লাইন আর সুড়ঙ্গমুখের মাঝখানে—একটা কঠোর নিষিদ্ধ এলাকা।

আমি ক্রয়ৎসবার্গ দিক থেকে আসা ট্রেনের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিলাম—হঠাৎ দেখি সেখানে একজন দাঁড়িয়ে আছে!
এই নিষিদ্ধ এলাকায়!

একজন ক্লোশার—পিঠদুখে বাঁকানো—ব্যথায় তার মুখটা আমাদের দিকেই, যেন সহানুভূতি প্রত্যাশী—সে ট্র্যাকের উপরের কংক্রিট ফ্লোরে মূত্রত্যাগের চেষ্টা করছিল। আর স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল—এ কাজটা তার খুব কষ্ট হচ্ছে—ফোঁটা-ফোঁটা করে প্রস্রাব বের হচ্ছে।

আমি বুঝতে না বুঝতেই চারপাশের সবাই ঘটনাটা দেখে ফেলল—
সাথে সাথে এক সম্মিলিত ক্ষোভ জমে উঠল—
এ এক কেলেঙ্কারি! এটা থামাতে হবে এখনই!
ওই লোকটাকে সরাতে হবে—
হলুদ লাইনের নিয়ম ফিরিয়ে আনতে হবে।

যদি সে কাজটা শেষ করে আমাদের কাছে ফিরে এসে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠত—কোনো সমস্যা থাকত না। কিন্তু সে শেষ করতে পারল না—সম্ভবত শরীরের যন্ত্রণায় পারল না। আর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে উঠল—কারণ বিপরীত প্ল্যাটফর্মে হঠাৎ এক পুলিশ দেখা দিল। সে সোজা চোখাচোখি করে চিৎকার করে আদেশ দিল—
‘এখনই থামো!’

ইউ-বান স্টেশনগুলো এমন—যেখানে দুই দিকের ট্রেনের ট্র্যাকের মধ্যে প্রায় দশ মিটার চওড়া আর প্রায় এক মিটার গভীর একটা খাত থাকে। ফলে কেউ যদি হঠাৎ দিক পাল্টাতে চায়—তবে তাকে প্ল্যাটফর্মের শেষের সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠতে হবে, ওপরে করিডর পেরিয়ে অন্য দিকের সিঁড়ি দিয়ে নেমে যেতে হবে। এই দশ মিটার সরাসরি লাফিয়ে ট্র্যাক পেরোনো—
না—আরো বেশি নিষিদ্ধ, আর প্রাণঘাতী।

আমি এত বিস্তারিত বলছি কারণ—ওই রাগে-ফেটে-পড়া পুলিশ—তার কর্তব্য আর সৌজন্য বজায় রেখে—অবশ্যই সেই দীর্ঘ পথটাই নেবে—উপরে উঠবে, করিডর পার হবে, নিচে নামবে—এভাবেই সে এই পাশে এসে পৌঁছতে পারবে।

আমি সেই পরিস্থিতি খুব স্পষ্টভাবে দেখি—এবং বুঝি—এখন নিয়মই বলে, পুলিশকে সেই নিয়ম মেনে এগোতে হবে। যখন থেকে সে ওই ক্লোশারকে দেখেছে, তখন থেকে সে কয়েকবার তার নিজের ফাঁপা, উঁচু কণ্ঠে চিৎকার করেছে, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। ক্লোশার যেন তার কথা শুনছে না, মাথা এখনও আমাদের দিকেই ফিরানো, চোখে সেই একই যন্ত্রণার প্রতিফলন—আর মূত্রের ফোঁটা এখনও রেলের লোহার ওপর পড়ে যাচ্ছে। সত্যিই—এ এক ভয়াবহ অপমান, নিয়মের প্রতি, শৃঙ্খলার প্রতি, আইনের প্রতি, এবং সাধারণ বুদ্ধির প্রতি—অর্থাৎ পুলিশকে পুরোপুরি অগ্রাহ্য করা—যেন সে বধির, যেন পুলিশ বলে কিছুর অস্তিত্বই নেই—এবং এটা পুলিশকে ভীষণভাবে ব্যথিত করছিল। কিন্তু অবশ্যই ক্লোশার তার নিজের কষ্টের ভাঁজে পুলিশকেও হিসেব করেছিল—সে জানত, পুলিশ তার চেয়ে দ্রুত পৌঁছাতে পারবে, এবং সে কোনোভাবেই—না নিজের ইচ্ছায়, না প্রকৃতির ইচ্ছায়—এই নিষিদ্ধ কাজ সময়মতো শেষ করতে পারবে না। তাই যখন সে দেখল পুলিশ দৌড় শুরু করেছে—অন্য প্ল্যাটফর্মে, সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠবে, করিডর পার হবে, আবার সিঁড়ি দিয়ে নেমে আসবে—এভাবে ছুটে এসে তার কানের গোড়ায় ধরে ফেলবে—তখন সে যন্ত্রণার গোঙ্গানিতে কাজ থামাল এবং পালাতে শুরু করল—আমাদের দিকে—যাতে যত দ্রুত সম্ভব সিঁড়ি ধরে উপরে উঠে কোথাও মিলিয়ে যেতে পারে।

এ ছিল ভয়াবহ এক প্রতিযোগিতা। আমাদের প্ল্যাটফর্মের সবাই হঠাৎ চুপ হয়ে গেল, কারণ প্রথমেই দেখা গেল এই পালানো কোনো ফল দেবে না। বৃদ্ধ ক্লোশার পুরো শরীরে কাঁপতে লাগল; তার পা আর মস্তিষ্ক—যা সেই পাকে নিয়ন্ত্রণ করার কথা—দুটো যেন আর কাজ করছে না। ওদিকে পুলিশ মিটার ধরে এগোচ্ছে—আর এই পাশে ক্লোশার সেন্টিমিটার ধরে, প্রচণ্ড যন্ত্রণায়, হাত-পা ছুঁড়ে—একটু-একটু করে এগোচ্ছে। পুলিশও তাকিয়ে আছে সেই দশ মিটার-এর দিকে—যা তাকে অনর্থক শাস্তি দিচ্ছে—এক ভয়ংকর বাধা। কিন্তু আমাদের দিকে সেই একই দশ মিটার—এক বিলম্ব—এক সম্পূর্ণ অর্থহীন, কিন্তু দৃষ্টিগোচর উৎসাহ—যেন মনে হয়, আরও এক মুহূর্তেও ক্লোশার সমস্ত অভিযোগ থেকে পালাতে পারে। পুলিশের দৃষ্টিতে—সে হলো আইন নিজে, সকলের দ্বারা অনুমোদিত এবং বাধ্যতামূলক ভালোর প্রতিনিধি—আর ক্লোশার হলো বুদ্ধির অস্বীকারকারী মন্দ। কিন্তু এই মুহূর্তে পুলিশ পুরোপুরি অসহায়। আমি এই লজ্জাজনক, অমানবিক প্রতিযোগিতা দেখছিলাম—আর আমার মনোযোগ হঠাৎ ক্ষুরধার হয়ে উঠল—আর এই ক্ষুরধার মনোযোগ সেই মুহূর্তটিকেই থামিয়ে দিল। নির্ভুলভাবে থামল সেখানে—যখন তারা একে অপরকে দেখল: ভালো পুলিশ দেখল খারাপ ক্লোশার নিষিদ্ধ স্থানে প্রস্রাব করছে, আর খারাপ ক্লোশার দেখল—তার দুর্ভাগ্য—ভালো পুলিশ তার কুকর্ম দেখতে পেয়ে গেছে।

মোট দশ মিটার দূরত্ব। পুলিশ লাঠি হাতে নিল—দৌড় শুরুর আগেই জমে গেল—তার পেশীতে এক থেমে যাওয়া অসীম শক্তি—এক মুহূর্তের বিদ্যুতচিন্তা: “যদি সে দশ মিটারটা এক লাফে পেরোয়?” আর ওই পাশে, সেই দশ মিটার দূরত্বের সুরক্ষায়—ক্লোশার কাঁপছে, দ্বিগুণ অসহায়তায়। আমার মনোযোগ ঠিক এখানে থেমে গেছে—আজও আমি সেই দৃশ্য দেখি: উত্তেজিত পুলিশ দৌড়াচ্ছে—অবশ্যমান্য ভালো দৌড়াচ্ছে—পাপের দিকে—নিজের দায়িত্বের সচেতনতায়—এ যেন খারাপ নয়, অশুভ নিজেকে আবার ক্লোশারের রূপে প্রকাশ করছে—আর ভালো অবিরাম ছুটছে তার পিছু। আর আজও আমার চোখে সেই দৃশ্য—একজন মিটার ধরে দ্রুত এগোচ্ছে—ওদিকে আরেকজন—ব্যথায় নিষ্পেশিত—প্রায় পক্ষাঘাতগ্রস্ত—সেন্টিমিটার ধরে এগোচ্ছে—শরীর শুধু কাঁপছে—আর কত ফোঁটা মূত্র তার ভেতরে রয়ে গেছে—কে জানে। এবং আমি স্পষ্ট দেখি—এই প্রতিযোগিতায় ভালো কখনও মন্দকে ধরতে পারবে না—স্রেফ সেই দশ মিটার-এর কারণে।

এই দশ মিটার চিরন্তন—অজেয়।
পুলিশ হয়তো পরের স্টেশনে ঢোকার আগেই ধরে ফেলবে—
তবুও আমার চোখে—এই দশ মিটার অনন্ত দূরত্বই—
যেখানে ভালো কোনোদিন মন্দকে ধরতে পারে না।
কারণ এই দুইয়ের মাঝে—আশা বলে কিছু নেই।

ট্রেন আমাকে রূহলেবেনের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু সেই কাঁপতে থাকা ক্লোশারের শরীর—সেই দুলে ওঠা হাত—কিছুতেই মন থেকে ঝেড়ে ফেলতে পারছিলাম না। হঠাৎ বজ্রের মতো প্রশ্ন এল: এই ক্লোশার—এবং পৃথিবীর সব পরিত্যক্ত মানুষ—কবে বিদ্রোহ করবে? আর সেই বিদ্রোহ কেমন হবে? হয়তো হবে রক্তাক্ত, নির্মম, ভীষণ—যেমন এক মানুষ আরেক মানুষকে হত্যা করে। তারপর আমি নিজের মনে ভাবনাটা সরিয়ে দিই—কারণ আমি জানলাম—আমি যে বিদ্রোহের কথা ভাবছি—সেটা হবে ভিন্ন, কারণ সেই বিদ্রোহ হবে সামগ্রিকতার বিরুদ্ধে—ব্যবস্থার বিরুদ্ধে।

ভদ্রমহিলা ও মহাশয়গণ—
প্রতিটি বিদ্রোহই সামগ্রিকতার বিরুদ্ধে।
আর এখন যখন আমি আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে—আর দূরের টাওয়ারঘরে আমার হাঁটার পদক্ষেপ ধীরে ধীরে স্তিমিত হয়ে আসছে—ঠিক তখনই সেই একবারের বার্লিন সফরের স্মৃতি—ইউ-বান স্টেশনের সুড়ঙ্গে—আবার আলো জ্বেলে ওঠে মনে। একের পর এক আলোকিত স্টেশন পিছিয়ে যায়—আর আমি কোথাও নামি না। যেন সেই দিন থেকে আজও আমি সেই ট্রেনে আছি—এমন এক সুড়ঙ্গে—যেখানে কোনো স্টেশনেই নামা যায় না। আমি শুধু তাকিয়ে থাকি—স্টেশনগুলো একটার পর একটা পিছনে সরে যাচ্ছে। আর আমার মনে হয়—আমি বিদ্রোহ নিয়ে, মানুষের মর্যাদা নিয়ে, স্বর্গদূতদের নিয়ে—এমনকি হয়তো আশা নিয়েও—আমার সব কথা বলে ফেলেছি। ·





লেখক পরিচিতি : ২০২৫ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার জেতেন হাঙ্গেরিয়ান লেখক লাসলো ক্রাসনাহোরকাই। তাঁকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে 'তাঁর সুনিশ্চিত ও দিব‍্যদৃষ্টিপূর্ণ সাহিত্য সম্ভারের কারণে, যা এই মহাবিপর্যয়ময় আতঙ্কের কালে শিল্পের শক্তির কথা শোনায়।' লাসলো ক্রাসনাহোরকাই ১৯৫৪ সালে রোমানিয়ার সীমান্তের কাছে দক্ষিণ-পূর্ব হাঙ্গেরির ছোট শহর জিউলাতে জন্মগ্রহণ করেন। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ