পারভেজ হোসেনের সাক্ষাৎকার : লেখক হতে হলে সৃষ্টিশীলতাকে আত্মায় ধারণ করতে হয়


কথাসাহিত্যিক পারভেজ হােসেনের জন্ম ১৯৬০ সালে, ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর গ্রামে। বাংলা অনার্সসহ এমএ করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে। আশির দশকে সম্পাদনা করতেন ছােটোকাগজ ‘সংবেদ’। বর্তমানে মুদ্রণ ও প্রকাশনা ব্যবসায় জড়িত। ‘যে জীবন ফড়িংয়ের দোয়েলের’ গল্পগ্রন্থের জন্য ভূষিত হয়েছেন জেমকন সাহিত্য পুরস্কারে। ‘ডুবােচর’ গল্পগ্রন্থের জন্য অর্জন করেছেন ‘প্রথম আলাে বর্ষসেরা বই ১৪১৯’ পুরস্কার। কথাসাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের জন্য ভূষিত হয়েছেন বাংলা একাডেমি পুরষ্কারে। 

পারভেজ হোসেন আশির দশকের একজন গুরুত্বপূর্ণ গল্পকার। তাঁকে এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ তিনি রাখেননি। গল্পকার হিসেবে যতটা পরিচিত হওয়ার কথা ছিল, তিনি ততটা হননি। অন্তরালে থেকেছেন, থাকছেন। কিন্তু ভালো লেখা কখনো আড়ালে পড়ে থাকে না। জঞ্জালের স্তূপ ভেদ করে একদিন ঠিকই মাথা তুলে দাঁড়িয়ে যায়। পারভেজ হোসেনের গল্প যে ভবিষ্যতে পঠিত হতে থাকবে, তাতে সন্দেহ নেই। এখনো লিখে চলেছেন তিনি। পরিমিতিবোধ তাঁর গল্পকে করেছে সুসংহত। তাঁর গল্পগ্রন্থের সংখ্যা আটটি। লিখেছেন ‘সুবর্ণপুরাণ’ নামের একটি উপন্যাস। প্রকাশিত গল্পগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে : বৃশ্চিকের জাল ও অন্যান্য গল্প, যে জীবন ফড়িংয়ের দোয়েলের, ক্ষয়িত রক্তপুতুল, হরণ, বিষকাঁটা, একরাতে হঠাৎ, ডুবোচর এবং নির্বাচিত গল্প।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে গল্পপাঠের পক্ষ থেকে তাঁকে লিখিতভাবে এই সাক্ষাৎকারের প্রশ্নগুলো পাঠানো হয়। তিনি উত্তর লিখে পাঠান। প্রিয় পাঠক, পড়ুন কথাসাহিত্যিক পারভেজ হোসেনের দীর্ঘ সাক্ষাৎকার।

গল্পপাঠ :
‘ক্ষয়িত রক্তপুতুল’ ছিল আপনার প্রথম গল্পের বই, তাই না? প্রথম বই প্রকাশের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি কেমন ছিল?

পারভেজ হোসেন :
আশির দশকের প্রারম্ভে আমরা একদল নতুন লিখিয়ে প্রায় প্রতিদিন বাংলা মোটরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের আমতলায় ছোলা-মুড়ি, চা খেতে খেতে শিল্প-সাহিত্য-গান-চলচ্চিত্র নিয়ে তুমুল আড্ডায় মেতে থাকি। সপ্তাহে একদিন নিজেদের নতুন লেখা পাঠ করি। সেই লেখা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে আমাদের মধ্যে।

১৯৮৪ সনের কথা, হঠাৎ করেই একদিন সিদ্ধান্ত নেই ছোট কাগজ করব। আমাদের এক বড় ভাই ‘নিরন্তর’ পত্রিকার সম্পাদক নাঈম হাসান কাগজের নাম ঠিক করে দেন―‘সংবেদ’। সম্পাদক আমি ও আমার সহপাঠি গল্পকার শহিদুল আলম।

দুই বন্ধুর যৌথ সম্পাদনায় সংবেদের সাতটি সংখ্যা বেরিয়ে গেছে। ইতোমধ্যে হাতে জমা হয়েছে মাত্র নটি গল্প। বেশ কয়েকবার কাটাকুটি করেও পান্ডুলিপি মনমতো হয়ে উঠল না। আমি খুব খুঁতখুঁতে এবং কম লেখার মানুষ তবুও এই নটি গল্প দিয়েই ৬৪ পৃষ্ঠার একটা বই প্রকাশের তাগিদ তীব্র অনুভব করলাম। শহিদুল আলমও তার প্রথম পান্ডুলিপি গুছিয়ে ফেলেছে। নিজেদের টাকায় নিজেদের সংগঠন ‘সংবর্ত’ থেকে ১৯৯০-এর ফেব্রুয়ারির বইমেলায় একত্রে বের হবে দুটি গল্পগ্রন্থ―আমার ‘ক্ষয়িত রক্তপুতুল’ এবং শহিদুল আলমের ‘ঘুণপোকার সিংহাসন’। ‘অনিন্দ্য’ পত্রিকার সম্পাদক বন্ধু হাবিব ওয়াহিদের অনুরোধে খুব যত্ন করে প্রচ্ছদ এঁকে দিলেন প্রচ্ছদশিল্পী ইউসুফ হাসান। প্রাবন্ধিক বন্ধু আহমাদ মাযহার ছবি তুলে ফ্ল্যাপ লিখে সবকিছু গুছিয়ে দিলো। আমাদের প্রথম বই প্রকাশকে কেন্দ্র করে বন্ধুদের আনন্দ-উচ্ছ্বাস ছিল অপরিমেয়। সেসব দিনের কথা মনে হলে এখনও প্রাণের মধ্যে আবেগ উছলে ওঠে।

গল্পপাঠ :
গল্প লেখার বীজ আপনার ভেতরে কীভাবে বপিত হয়েছিল? অর্থাৎ কীভাবে গল্প রচনায় অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন?

পারভেজ হোসেন :
লক্ষ্মীবাজারের মুসলিম হাইস্কুল থেকে মেট্রিক পাশ করে কয়েকগজ দূরের জগন্নাথ কলেজে ইন্টারমিডিয়েটে ভর্তি হয়েছি কেবল। সহপাঠি শহিদুল আলম ছিল স্কুলের সেকেন্ডে বয়। গলায় গলায় ভাব আমাদের। ও থাকত স্কুলের পেছনে ৭০ পাতলা খান লেন এ। তখন থেকেই কবিতা লিখত। প্রচুর বই আর সাহিত্যের কাগজ ছিল ওর বাড়িতে। ওসব বইপুস্তক কিন্তু ওর দুই খালাত ভাইয়ের। ৭০ পাতলা খানে থেকেই লেখাপড়া করেছেন তাঁরা। তাঁদের একজন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের স্বনামধন্য মানুষ আব্দুল্লাহ আল ফারুক। ৭৫-এর পর দেশ ছেড়ে চলে যান বিলেতের বিবিসিতে। এর পর জার্মানির ডয়েচে ভেলের বাংলাবিভাগের প্রধান হন। ওই দুই ভাইয়ের ব্যাপক প্রভাব পড়েছিল শহিদুলের উপড়। বন্ধুর কল্যাণে তার কিছুটা আমার দিকেও প্রবাহিত হয়। শহিদুল ভর্তি হয়েছিল নটরডেম কলেজে কিন্তু কিছুদিনের মধ্যে ওই কলেজ ছেড়ে আমাদের জগন্নাথে চলে আসে। সেটা একটা ট্রাজিক ঘটনা হলেও ওকে পেয়ে আমার আনন্দ আর ধরে না! সেই আনন্দে দুই বন্ধু লেখাপড়া শিকায় তুলে সাহিত্যে মগ্ন হয়ে পড়ি। লেখক হওয়ার স্বপ্ন জীবনের আর সকল কিছুর চেয়ে বড় হয়ে ওঠে।

ইন্টারমিডিয়েটে আমাদের বাংলার শিক্ষক ছিলেন কথাশিল্পী শওকত আলী। তাঁর পরামর্শে আমি এবং শহিদুল আমাদের এবং আরও অনেকের লেখা নিয়ে ‘মনের মুকুর’ নামে হাতে লেখা একটা দেয়াল পত্রিকা বের করি। সেই যে শুরু যা আজও বহমান। এরই মধ্যে একদিন হাতে আসে একটা বুকলেট। সেই বুকলেটে যাবতীয় তথ্য পেয়ে যাই ইন্দিরা রোডে অবস্থিত বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের কার্যক্রম তখন ঢাকা কলেজ থেকে ইন্দিরা রোডে স্থানান্তরিত হয়েছে। এর কিছুদিন পর স্থায়ীভাবে চলে আসে বাংলা মোটরে।

আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ রচিত সে আর এক পৃথিবী―নতুন বইয়ে ঠাসা চোখ ধাধানো লাইব্রেরি, সাপ্তাহিক পাঠচক্রে পঠিত বই নিয়ে তুমুল আলোচনা আর প্রতিদিনের নিরন্তর আড্ডার অফুরান প্রাণপ্রবাহে যেন জীবন বদলে দেয়া আর একটা জীবনের মধ্যে এসে পড়ি আমরা।

গল্পাঠ :
কোন লেখক আপনাকে প্রভাবিত করেছেন এবং কীভাবে প্রভাবিত করেছেন?

পারভেজ হোসেন
নির্দিষ্ট করে কারো নাম তো মনে করতে পারছি না তবে স্কুল জীবনে সেন্ট গ্রেগরীজ স্কুলের ছাত্রদের অভিনীত একটা নাটক দেখেছিলাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ডাকঘর’। মনের মধ্যে চিরকালের মতো গেঁথে গিয়েছিল। তখনই খুঁজে পেয়েছিলাম ‘আমার ছেলেবেলা।’ এ ছাড়া মায়ের সামান্য কালেকশন থেকে পড়েছিলাম নজরুলের ‘ব্যাথার দান’, ‘রিক্তের বেদন’, শরৎচন্দ্রের ‘দেবদাস’। তবে লেখালিখির শুরুর দিকে প্রভাবিত বলতে মাণিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা সবার আগে বলব। আমার প্রথম গল্প ‘কুড়’ নিশ্চিত মাণিকের প্রভাবেই লেখা। তার পরপরই হাসান আজিজুল হক, আল মাহমুদ, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস। বিদেশি লেখকদের মধ্যে কাফকা, ক্যামুর নিরব উপস্থিতি আমার কোনো কোনো লেখায় অবশ্যই আছে। আর কবিদের মধ্যে এক ও অনন্য জীবনানন্দ দাশ। কিন্তু কে কীভাবে আমাকে প্রভাবিত করেছেন তার চুলচেড়া বিশ্লেষণ আমি দিতে পারব না। হয়ত সম্ভবই না। তবে শুধু এরাই নন আরও অনেকের মধ্য দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে ক্রমাগত নিজের একটা পথ খোঁজার চেষ্টা করেছি আমি।

গল্পপাঠ :
এখন কোন বইগুলো পড়ছেন, খাটের পাশের টেবিলে কোন বইগুলো এনে রেখেছেন পড়বার জন্য? সর্বশেষ কোন শ্রেষ্ঠ বইটি আপনি পড়েছেন?

পারভেজ হোসেন :
অবশ্যই পড়ে ফেলব বলে যে বইগুলো আমার হাতের কাছে আছে―যেমন, সুনীতিভূষণ কানুনগোর ‘বাংলায় বৈষ্ণব আন্দোলন’, আকবর আলী খানের ‘বাংলায় ইসলাম প্রচারে সাফল্য’, রেহমান সোবহানের ‘বাংলাদেশের অভ্যূদয়’, ইসমাইল কাদারের ‘আগামেমননের কন্যা’, স্বকৃত নোমানের ‘বেগানা’ ইত্যাদি ইত্যাদি। কদিন আগে বই নিয়ে আলোচনার জন্য খুব মনোযোগ দিয়ে দ্বিতীয়বার পড়তে হলো আকিমুন রহমানের উপন্যাস ‘রক্তপুঁজে গেঁথে যাওয়া মাছি’ এবং পড়লাম মোজাফ্ফর হোসেনের নতুন উপন্যাস ‘কল মি লাইকা’। দক্ষিণ কোরিয়ান নোবেল বিজয়ী লেখক হাং কাং-এর ‘দ্যা ভেজিটেরিয়ান’ আমার সম্প্রতি পাঠ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বই।

গল্পপাঠ
আপনার প্রতিদিনকার পাঠের অভিজ্ঞতার কথা বলুন, কখন কোথায়, কী এবং কীভাবে পড়েন?

পারভেজ হোসেন :
দৈনিক পত্রিকা ছাড়াও পাঁচ পৃষ্ঠা হলেও কিছু না কিছু পড়া হয় আমার। শুয়ে শুয়ে ঘুমিয়ে পড়ার আগে, কোথাও গেলে হাতের কাছে যা মেলে কিংবা আমার ব্যাগে বই বা পত্রিকা থাকেই, যেটুকু পারি পড়ে নেই। যেমন পাঠই হোক পড়তে পারা মানেই তো এগোতে থাকা, সচল হওয়া, ঋদ্ধ হওয়া, অন্তরকে বিকশিত হতে দেওয়া। জরুরি পাঠ প্রস্তুতি গ্রহণ ছাড়া হয় না।

গল্পপাঠ :
লেখকের জন্য পাঠ কতটা জরুরি। পাঠ ছাড়া কি লেখা সম্ভব?

পারভেজ হোসেন :
শুধু পঠন-পাঠন নয়, লেখকের জন্য দরকার সামগ্রিক পাঠের মধ্য দিয়ে কল্পনাশক্তির বিকাশ ঘটানো। কেবল বইয়ের পাতা ওল্টানো নয়, জগতের পাতা উল্টিয়ে পরতের পর পরত খুলে সমূহ-পাঠ না হলে, সৃষ্টিশীলতাকে আত্মায় ধারণ করতে না পারলে পণ্ডিত হয়তো হওয়া যায়, লেখক হওয়া অসম্ভব।

গল্পাঠ :
লেখক হিসেবে তৈরি হতে কোন বইটি আপনার মনকে শৈল্পিক করে তুলেছে এবং কীভাবে?

পারভেজ হোসেন :
সাহিত্যের বিবেচনাবোধ তৈরি হওয়ার উন্মেষকালে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের আড্ডায়, পাঠচক্রে লেখালেখি নিয়ে যখন আমরা অতিশয় উদ্বেলিত, আবেগতাড়িত, সৃজনশীল তখন আরও অনেকের মধ্যে বুদ্ধদেব বসু আমার প্রিয় শিক্ষক হয়ে উঠলেন। বিশেষ করে মনে পড়ছে তাঁর ‘কালের পুতুল’ বইটির কথা। মনে পড়ছে তাঁর অনুদিত কালিদাসের ‘মেঘদুত’-এর ভূমিকা এবং ‘আমার শৈশব’, ‘আমার যৌবন’-এর কথাও। সঙ্গে ছায়ার মতো ছিলেন আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। এছাড়াও আছে অন্নদাশঙ্কর রায়ের ‘আর্টের কথা’, লিও তলস্তয়ের ‘শিল্পের স্বরূপ’, শিবনারায়ণ রায়ের কিছু প্রবন্ধ। তাঁদের সাহিত্য চিন্তা, তাঁদের বিশ্ববিক্ষা, তাঁদের গদ্যের দ্যুতি আমার লেখালেখির অপূর্ব প্রেরণার উৎস্যই নয়, আমার তরুণ মনকে শৈল্পিকতার তালিম দিয়েছেন ওনারাই।

গল্পপাঠ :
কোন বিশেষ ভাব কিংবা পরিবেশ কিংবা পরিস্থিতি আপনাকে লিখতে বাধ্য করে?

পারভেজ হোসেন :
আমার মন যখন লেখার জন্যে ছটফট করে কিংবা আমি যখন কোনো একটা বিষয় পাই তখন লিখতে বসার সুযোগ খুঁজি। এই সুযোগ খোঁজার মানে হলো নিজেকে প্রস্তুত করা, নিজের সঙ্গে নিজের বোঝাপড়াটা সেড়ে নেওয়া। যদি সেটা হয়ে যায় তখন লিখে ফেলতে পারি যে কোনো পরিস্থিতিতে, যে কোনো পরিবেশে। কারো তরফ থেকে লেখার জন্য চাপ এলেও লেখা হয় না যদি না আমার ভেতর থেকে চাপ আসে। হয়ত এটা একটা বড় কারণ এত কম লেখার। লেখালিখির মানুষের জন্য যা মোটেও ভালো কথা নয়। অনবড়ত লিখতে না পাড়ার জন্য নিজেই বোধ হয় নিজের একটা বাঁধা হয়ে রয়েছি!

গল্পপাঠ
শব্দকে আপনি কীভাবে অনুভব করেন? আপনি কি কখনও শব্দের গন্ধ পেয়েছেন?

পারভেজ হোসেন :
একটা কথা আছে না―শব্দই ব্রহ্ম। পরমের অনুভব প্রকাশ পায় শব্দে। আকার পায়। আমার অনুভবের রূপ রস সুন্দরকে আপনার কাছে তুলে ধরার আধার এই শব্দ। শব্দ দিয়েই আমরা সম্পর্ক গড়ি, একে অপরের কাছে পৌঁছাই, চিন্তার প্রকাশ ঘটাই। আবার নীরবতাও এক ধরনের শব্দ―কিছু না বলেও অনেক কিছু বলার ভাষা হয়ে ওঠে। শব্দ হচ্ছে মনের দরজা, আত্মার আয়না। শব্দের মধ্যে আমি আমাকে পাই।

গল্পপাঠ :
আপনি যখন একটি বইয়ের কাজ করছেন, লিখছেন, সম্পাদনা করছেন, কাটাকাটি করছেন, সেই সময়টায় আপনি কোন ধরনের লেখাপত্র পড়েন? আবার ঠিক এরকম পরিস্থিতিতে কী ধরনের লেখা আপনি এড়িয়ে চলেন?

পারভেজ হোসেন :
ওরকম সময়ে কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত পাঠ খুব জরুরি হয়ে ওঠে, আবার তা গভীর বিড়ম্বনায়ও ফেলে―মনে হয় আহা কতো কি-ই তো রয়ে গেছে লেখার। একটা তুল্যমূল্য বিচার শুরু হলে নিজেকে, নিজের কাজকে খুব দুর্বল মনে হতে থাকে তখন। আমার গুরুতর কাজের সময় এলোমেলো পাঠ একদম এড়িয়ে চলি। ভালোলাগে না তখন।

গল্পপাঠ :
সম্প্রতি বা আগে পঠিত বইগুলো থেকে এমন কোনও বিস্ময়কর ব্যাপার কি জেনেছেন যা আপনার লেখক-জীবনকে ঋদ্ধ করেছে?

পারভেজ হোসেন :
সুযোগ পেলেই আমি প্রাচীন সাহিত্যের কাছে ফিরে যাই। মহাকাব্যের পৃষ্ঠা ওল্টাই। জীবনকে ঋদ্ধ করার অমোঘ আধার রামায়ন, মহাভারত, ইলিয়ড, অডিসি, ইনিড, শাহনামা। জীবনের কি নাই এতে! আর কি যে তার ইলাস্টিসিটি―শতশত গল্পের সমাহারে কতশত চরিত্র। স্বর্গ-মর্ত-পাতাল ব্যপী কত বিচিত্র আলাপন―এতকাল পরেও কালের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তা চিরকালের, চির নতুন। সময়ের দিক থেকে আরও কাছে যদি আসি তবে আমাদের লোকসাহিত্যের কথা বলব। লেখক হিসেবে বারবার ফিরে যেতে হয় লোকগল্পে―ময়মনসিংহ গীতিকার গল্পে। মনসামঙ্গল, চণ্ডিমঙ্গল, ঠাকুমার ঝুলি, গোপাল ভাঁড়ে।

গল্পপাঠ :
আপনি কোন ধরনের লেখা পড়তে আগ্রহ বোধ করেন, আর কোন ধরনটি এড়িয়ে চলেন?

পারভেজ হোসেন :
যে লেখা আমাকে আচ্ছন্ন করে, ভাবিয়ে তোলে, যে লেখার রূপে-রসে মুগ্ধ হতে পারি তা যদি দুরূহও হয় তাতেই আমার আগ্রহ। আর এড়িয়ে চলি নেতানো লেখা। কল্পনা শক্তিকে জাগিয়ে তুলতে পারে না, চেতনায় অনুরণিত হয় না এমন যা কিছু চেষ্টা করি তা থেকে নিজেকে দূরে রাখতে।

গল্পপাঠ
লেখালেখির নিরন্তর প্রক্রিয়ার সঙ্গে কীভাবে একাত্ম থাকেন?

পারভেজ হোসেন :
লিখি বা না-ই লিখি এই প্রকৃয়ার মধ্যে বহমান থাকি আমি। বসবাস করি। আর যখন তা হয় না, জীবন ধারণের জন্য যখন অন্য কিছুতে ব্যস্ত হয়ে পড়ি তখন নিজেকে বড় শূন্য মনে হয়, অকারণ মনে হয়, অযথা মনে হয়। জীবনধারণ আর লেখালিখি এক হয়ে উঠল না! আমার ধ্যান-জ্ঞান, আমার বাসনা, আমার জগৎ-সংসার সবটুকুই লেখালিখি হলো না। খুব কম লোকেরই বোধহয় তা হয়।

গল্পপাঠ :
কে সেই লেখক যাকে আপনি পাঠ করেন গভীর আনন্দের সঙ্গে, যিনি আপনার ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেন?

পারভেজ হোসেন :
আমি তো সবসময় রবীন্দ্রনাথ রবীন্দ্রনাথ করি। আমার লেখালিখিতে সরাসরি তাঁর কোনো প্রভাব আছে কি-না জানি না তবে চেতনাপ্রবাহের অন্তরালে অবশ্যই আছেন তিনি। প্রত্যক্ষে কিংবা পরোক্ষে আমাদের গানে-গল্পে-কবিতায়ই শুধু নয় শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির গোটা অঙ্গণটাকে চারদিক থেকে আচ্ছন্ন করে রেখেছেন যিনি, সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত যাঁর নাম তিনি রবীন্দ্রনাথ। এতো কিছুর মধ্যেও সত্যি বলতে কি আমার কোথায় যেন বড় বেশি একটা প্রভাব রয়ে গেছে জীবনানন্দের, মানিকের, হাসান আজিজুল হকের।

গল্পপাঠ :
গল্পকার হিসেবে একজন রিপোর্টারের মতোই কি আপনি চারপাশটাকে অবিরাম পর্যবেক্ষণে রাখেন? আপনি কি নোট নেন?

পারভেজ হোসেন :
গুরুতর প্রয়োজন না হলে কাগজে-কলমে টুকে রাখি না কিছুই। তবে পর্যবেক্ষণ চলে অবিরাম। সব তো আর ধরে রাখা যায় না। যখন যা প্রয়োজন স্ক্যান হয়ে যায়, এমন কি গন্ধও।

গল্পপাঠ
আপনি কি গল্প অভিজ্ঞতা থেকে লেখেন? লেখায় আসলে কোনটা কাজে লাগে, অভিজ্ঞতা, না অভিজ্ঞান?

পারভেজ হোসেন :
অভিজ্ঞতা ছাড়া অভিজ্ঞান জন্মায় না। প্রাসাদের বাইরে যাওয়ার পরই না জরা, ব্যধি, মৃত্যু এবং মুক্তির অভিজ্ঞতা থেকে অভিজ্ঞানী সিদ্ধার্থ বুদ্ধ হয়েছেন। দেখা-ভাবা-বিশ্লেষণ করার মধ্য দিয়েই তো এগোতে হয় লেখককে। ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুললেই কি ফটোগ্রাফ হয়? ফটো শব্দের অর্থ আলো। গ্রাফ শব্দের অর্থ আঁকা। আলো দিয়ে আঁকলেই না হবে ফটোগ্রাফ। আর তা কেবল অভিজ্ঞানী ফটোগ্রাফারই পারেন। ওভাবেই অভিজ্ঞতা থেকে অভিজ্ঞানের দিকে হাঁটেন শিল্পী। সেটাই সৃষ্টির পথ।

গল্পপাঠ
লেখালেখির সবচেয়ে কঠিন দিক হিসেবে কোনটিকে চিহ্নিত করবেন?

পারভেজ হোসেন :
অধ্যবসায়। অবিরাম সাধনা। নিরালস্য হওয়া। লেগে না থাকলে লেখক হওয়া যায় না। লেগে থাকার সাধনায় লেখা এসে ধরা দেয়। ছিপ ফেলে বরশি বাওয়ার মতো কিংবা পানির মধ্যে পা ডুবিয়ে বক যেমন থির হয়ে থাকে মাছের আশায়, তেমন।

গল্পপাঠ :
আপনি যখন লেখেন, তখন কি একবারেই লেখেন, নাকি লেখার পর বারবার এডিট করেন?

পারিভেজ হোসেন :
একেক লেখকের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য একেক রকম। কেউ কেউ অনবরত কাটাকুটির মধ্যে তাঁর লেখাটিকে দাঁড় করিয়ে নেন আবার কেউ আছেন কাটাকুটি বা এডিটিংয়ের দিকে গেলে থই হারান। ফলে একটা ঘোরের মধ্যে এক টানে লেখেন। কেউ কেউ সামান্য ঘসামাজা দিয়েই সেরে ফেলেন। আমাকে বারবার এডিট করতে হয়। এই এডিটিং-এর জার্নিতে অনেককিছুই বদলে যায় আমার।

গল্পপাঠ :
আপনি মূলত গল্পকার। উপন্যাসও লিখেছেন ‘সুবর্ণপুরাণ’ নামে। একটা উপন্যাসিকা আছে ‘হরণ’। কী লিখতে স্বচ্ছন্দ বোধ করেন, গল্প না উপন্যাস?

পারভেজ হোসেন :
উপন্যাস লেখার অভিজ্ঞতা আমার সামান্যই। ভয় পেতাম। ‘সুবর্ণপুরাণ’ লিখতে গিয়ে বুঝলাম ভাষাজ্ঞান যদি আয়ত্বে থাকে কলাকৌশল জেনে নিবিষ্ট হলে লেখা যায়। তবে এ বড় শ্রমসাধ্য কাজ। গভীর মনোনিবেশ, অসীম ধৈর্য্য, অফুরাণ প্রাণশক্তি এবং লাগামধরা কল্পনার প্রবাহে নিমজ্জিত না হলে ভালো উপন্যাস লেখা অসম্ভব।

গল্পপাঠ :
‘সুবর্ণপুরাণ’ লিখতে আপনার কতদিন লেগেছিল? একটানা লিখে গেছেন, নাকি ধীরে ধীরে লিখেছেন?

পারভেজ হোসেন :
প্রথমে একটা গল্প লিখেছিলাম। লেখক বন্ধুদের কাছ থেকে তাগিদ এলো গল্পটাকে উপন্যাসে রূপ দেওয়ার। গল্পের প্লটটাই নাকি এমন অনায়াসে এটিকে উপন্যাস করে তোলা যায়। ‘হরণ’ নিয়েও এরকম কথা আমাকে বলেছিলেন শ্রদ্ধেয় উপন্যাসিক দেবেশ রায়। খুবই প্রশংসা করেছিলেন তিনি এবং সৈয়দ শামসুল হক। কিন্তু ‘হরণ’ ছাপ্পান্ন পৃষ্ঠার বেশি এগোয়নি। ততদিনে আমার সাহস বেড়ে গেছে। ‘সুবর্ণপুরাণ’ নিয়ে আমি দশ বছর খেটেছি। ফেলে রেখেছি, আবার লিখেছি। আবার ফেলে রেখেছি। যেরকমটা চাচ্ছিলাম কিছুতেই হয়ে উঠছিল না।

টানা একটা গল্প বলে তো কিছু নেই সুবর্ণপুরানের আখ্যানে। ফলে মাঝে মাঝে ফেলে রেখে দেওয়াতে কোনো ক্ষতি হয়নি বরং এই ফাঁকে তথ্য-উপাত্তের ত্তত্ত্বতালাশ যা লাগছিল করে উঠতে পারছিলাম। এর পরে এলো করোনাকাল। হাতে অফুরন্ত সময়। আমি এতোই মগ্ন হয়ে পড়েছিলাম যে লেখাটা শেষ পর্যন্ত হয়েই গেল। বই বের হবার পরও সংযোজন-বিয়োজনের ধারাবাহিকতায় দুই বছরের মধ্যে তৃতীয় সংস্করণ হলো। এর পর ক্ষান্ত দিয়েছি, ও নিয়ে আর ভাববো না।

গল্পপাঠ :
সুবর্ণপুরাণের বিষয়বস্তু কয়েক শ বছর আগের। এত আগের বিষয়কে বিষয় হিসেবে বেছে নেওয়ার কারণ কী? এটা কি বর্তমানকে উপেক্ষা নয়?

পারভেজ হোসেন :
‘সুবর্ণপুরাণ’-এর বিষয় তো বঙ্গাল এবং বাঙ্গালা। আমার জল-হাওয়ায় আমার সবুজ প্রকৃতি। সুবর্ণপুরাণ তো এক অর্থে আমার আত্মানুসন্ধান। আমার ইতিহাস, আমার ঐতিহ্য, আমার বেদনা, আমার আনন্দ, আমার গৌরব। এর আবার নতুন-পুরাতন, অতীত-বর্তমান কি! এর মধ্যেই তো আমি আমাকে প্রত্যক্ষ করি। আমার অতীতের মধ্যে আমার বর্তমানকে প্রতিফলিত হতে দেখি। আমার সামগ্রিক আমাকে অনুভূত হওয়ার জমিন কি নয় ‘সুবর্ণপুরাণ’? বলছি বটে, জানি না কদ্দুর কি হয়েছে। বাকিটা পাঠক বলবে।

গল্পপাঠ :
সমকালকে নিয়ে উপন্যাস লেখাটা কি এক ধরনের চ্যালেঞ্চ মনে করেন?

পারভেজ হোসেন :
কিছুটা চ্যালেঞ্জ তো বটেই। আপনার হাতের তালু চোখের যত কাছে থাকবে তা ততোই অস্পষ্ট হবে। একটা নির্দিষ্ট দূরত্ব না পেলে হৃদয়ে মনে মননে কোনো কিছুই সুষ্পষ্ট ধরা পরে না। আবার অতি দূরকেও কল্পনাশক্তি দিয়ে বর্তমানের কাছাকাছি নিয়ে আসতে হয়। দুটোতেই চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সৃষ্টিশীল কাজে কোনো সহজ পথ খোঁজার উপায় নেই। শর্টকাট বলে কিছু নেই। কাজ নিয়ে গভীরভাবে নিমগ্ন হওয়াটাই আসল।

গল্পপাঠ :
সাহিত্যের মাধ্যমে কি সমাজ পরিবর্তন হয়? আসলে সাহিত্যিকের কাজ কি শুধুই সাহিত্য রচনা, নাকি সমাজের দিকটাও মাথায় রাখা? আপনার কী মনে হয়?

পারভেজ হোসেন :
আমরা কেউই সমাজের বাইরের কিছু নই। দায়িত্বহীন নই। রাজনীতিহীন নই। নিছক একটি প্রেমের গল্পও শুধু দুটি মানুষের হৃদয়ের আর্তির গালগল্প নয়। সত্যিকার একটি সৃষ্টিশীল কাজের পরতে পরতে কোনো না কোনোভাবে সমাজ-রাজনীতি-অর্থনীতির প্রভাব থাকবেই। উপরিতলে তা কখনো চোখে পড়ে কখনো পড়ে না। অনুসন্ধিৎসু চোখ তা খুঁজে পায়। আর্ট শুধু আর্টের জন্যই একথা এখন অর্থহীন। যার মাথায় সমাজ নেই সে কি করে শিল্পী হয়?

গল্পপাঠ :
বাংলাদেশের কথাসাহিত্য সম্পর্কে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি কী? কেমন হচ্ছে এদেশের কথাসাহিত্য? গল্প-উপন্যাস তরুণরা কেমন লিখছেন?

পারভেজ হোসেন :
বাংলা কথাসাহিত্যই শুধু নয়, বাংলাদেশের কথাসাহিত্যেরও একটা দীর্ঘ ইতিহাস আছে। গুরুত্বপূর্ণ লেখক এবং জরুরী কাজও কিছু কম নেই। কিন্তু যাঁরা এর ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করবেন, ভালো-মন্দের অবয়বটা পাঠকের সামনে তুলে ধরবেন সেই মানুষের অভাবে শুধু কথাসাহিত্যই নয় শিল্প-সাহিত্যে আমাদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। আমাদের কাজের প্রকৃত মূল্যায়ন তো হয়ইনি, যুগোপযুগী অনুবাদের মাধ্যমে ভিন্ন ভাষাভাষীদের কাছে তুলে ধরাও সম্ভব হয়নি। কোথায় আমাদের বেলিনস্কি, টি এস এলিয়ট, রোলা বার্থ? এমনকি একজন বুদ্ধদেব বসু?

তরুণরা সর্বদাই সম্ভাবনাময়। অবারিত জগৎ তাদের সামনে পড়ে আছে। আমি যদ্দুর পড়েছি তাদের লেখালিখিতে অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষাও চলছে। আমাদের সাহিত্যের বহমান ধারায়, পরম্পরায় আমার অগাধ আস্থা।

গল্পপাঠ :
আপনি সাধারণত দিনের কোন সময়টায় লেখেন?

পারভেজ হোসেন :
আমার লেখালিখির নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই। লেখাটা জরুরী হয়ে উঠলে যত্রতত্রও বসে যেতে পারি। এমনটা অনেক ঘটেছে। তবে সাচ্ছন্দবোধ করি গভীর রাতে না হয় খুব সকালে।

গল্পপাঠ :
বয়সের তুলনায় আপনার লেখার সংখ্যা কম। আরও বেশিও তো হতে পারত। আরও কয়েকটি উপন্যাসও তো লিখতে পারতেন? কম লেখার কারণ কী? বেশি বা কম লেখার মধ্যে পার্থক্য আসলে কী?

পারভেজ হোসেন :
আগেই বলেছি লেখাপড়ার মধ্যেই বসবাস করি আমি। কিন্তু লিখনে খুব অনিহা। লেখা আমি বয়ে বেড়াই দিনের পর দিন, বছরের পর বছর। কাগজে-কলমে হয়ে উঠতে চায় না। হয়ত এ আমার আলস্য, আমার অপারগতাও। প্রতিদিন সময় করে বসলে হাজার হাজার পৃষ্ঠা হয়ত লেখা হয়ে যেত কিন্তু লিখিনি। কম লেখায় যে খুব কৃতিত্ব তাও নয় আবার বেশি লেখার মধ্যেও আহামরি মাহাত্ম্য আমি খুঁজে পাই না।

গল্পপাঠ :
এখন কী লিখছেন? ভবিষ্যতে কী লেখার ইচ্ছে?

পারভেজ হোসেন :
‘এইসব অন্ধকার’ নামে আটটি গল্পের একটি পান্ডুলিপি তৈরি করেছি। একটা উপন্যাস লেখা আছে। ‘প্রথম আলো’র ঈদ সংখ্যায় ছাপা হয়েছিল। ওটাকে গোছাতে হবে। এছাড়া সুবর্ণপুরাণের দ্বিতীয় খণ্ডের পরিকল্পনায় আছি, মনে মনে আঠঘাট বাঁধছি, বইপত্র সংগ্রহ করেছি নেমে পড়ার জন্য। বাঙ্গালার রাজধানী জাহাঙ্গীরনগর (ঢাকা) প্রতিষ্ঠার প্রায় চুরানব্বই বছর পর মোগলরা রাজধানী সরিয়ে নিচ্ছে মুর্শিদাবাদ। আমার কল্পনার জগৎ এখন ওই সময়ের অলিগলিতে পাকখাচ্ছে।

গল্পপাঠ :
বাংলা ভাষার ভবিষ্যৎ কী? বাংলা সাহিত্যের ভবিষ্যৎ কী? বাংলাদেশের পাঠক তো ক্রমশই কমছে। নাকি বাড়ছে? আপনার পযর্বেক্ষণ কী বলে?

পারভেজ হোসেন :
প্রায় ২৩ কোটি লোকের মাতৃভাষা বাংলা। সেই হিসেবে পৃথিবীতে এর অবস্থান ৭ম। এই ভাষার ভবিষ্যত নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। কিন্তু এই ভাষায় রচিত তাবৎ সাহিত্যকর্মের দিকে অন্যভাষাভাষীদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য প্রচুর কাজ করতে হবে আমাদের। মনে রাখতে হবে বাংলা ভাষা এবং এই ভাষায় রচিত সাহিত্যের একটা শক্ত ইতিহাস আছে। এই ভাষার শক্তি অন্য কোনো ভাষার চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। বাংলা ভাষার সাহিত্যের পাঠক যদি কমে গিয়েও থাকে তার কারণ ভিন্ন। দুনিয়াতে মানুষের অবসর বলে আর কিছু নেই এখন, রুদ্ধশ্বাসে ছুটছে মানুষ। এতদিকে এতো বিষয়ের হাতছানিতে সবকিছুই কেমন অস্থির আর চঞ্ছল হয়ে উঠেছে। ডিজিটাল বিনোদনের বিস্তার মনোযোগের স্থায়িত্বকে কেড়ে নিয়েছে। সাহিত্য পাঠের জন্য মনের যেটুকু সুস্থিরতা দরকার তা বোধ হয় হারিয়ে ফেলছি আমরা। যেটা অতি উদ্বেগের। ·

সাক্ষাৎকার গ্রহণের কাল : জানুয়ারি, ২০২৬

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

1 মন্তব্যসমূহ