আপনিও আড্ডায় যোগ দিন। গুরুগম্ভীর মেঘলা দুপুর মুখ করে নয়। রোদ বৃষ্টি ঝড়ও থাকুক। মন্তব্যের শেষে নাম লিখে দিন।
২. অমর মিত্রের আড্ডাঘরে
তারিখ : ১ জুন ২০১৩
---------------------------------------------------------------------------------------------
আড্ডাঘর/১

১৮ মে, ২০১৩, শনিবার
হুমায়ুন আহমেদ ছবি আঁকতেন। গেলবার নিউ ইয়র্কে বইমেলায় তাঁর আঁকা ছবি দেখেছি। জলরঙ্গে আঁকা। পাকা হাতের কাজ। কখনো মনে হয়নি তিনি ছবি আঁকা জানতেন না। এ বিষয়েও তিনি প্রতিভাবান।
ওই ছবিগুলি তিনি অসুস্থ অবস্থায় এঁকেছিলেন। এঁকেছিলেন এই ছবিগুলো তাঁর দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী ও ছেলেদ্বয়ের সামনে।
ছবিগুলো তাঁর স্ত্রী শাওন ফিরে পাননি। তাঁকে বইমেলার আয়োজক মেলা শেষে ফিরিয়ে দেননি বলেও পত্রিকায় অভিযোগ করেছিলেন।
কদিন আগে পত্রিকায় দেখলাম বইমেলার আয়োজক ছবিগুলি ফিরিয়ে দিচ্ছেন। ঢাকাতে। হুমায়ুন আহমদের মায়ের হাতে। তার বৈধ স্ত্রী ও কনিষ্ঠ ছেলেদের কাছে নয়।
হুমায়ুন আহমদের মা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। কিন্তু আইনগতভাবে স্ত্রীর অধিকার মায়ের চেয়ে বেশি। আইনের কাছে আবেগের প্রশ্ন থাকে না। কিন্তু আবেগের কথা বললেও এই ছবিগুলো স্ত্রী ও দুই কনিষ্ঠ ছেলেদের সঙ্গেই বেশী জড়িত।
২. অমর মিত্রের আড্ডাঘরে
তারিখ : ১ জুন ২০১৩
আমি একট উপন্যাস দীর্ঘদিন ধরে লিখেছি। নাম দশমী দিবসে। এই উপন্যাসের কাল দেশভাগের বছর দশের পর থেকে এই সন্ত্রাস কবলিত সময়। কিন্তু এর ভিতরে অনেকটা অংশ জুড়ে আছেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত, রেবেকা, হেনরিয়েটা, মা জাহ্নবী, রাজনারায়ণ দত্ত আর সাগরদাঁড়ি ও কপোতাক্ষ নদ। সময় থেকে সময়ান্তরে যাত্রা করেছে মানুষ। মেঘনাদের মৃত্যু ও রাবনরাজার হাহাকার, মধুসূদনেরই ব্যক্তি জীবনের ছায়ায় ঢাকা যেন। আমি বিশ্বাস করি কল্পনাই উপন্যাসকে দিতে পারে মহাব্রহ্মান্ডের বিস্তার।
সময় থেকে সময়ান্তরে যাত্রা, নানাযুগ এক যুগে এসে মেশা, এ যেন আমি দেখতে পাই। আমি নিজে যেন দেখেছিলাম সাগরদাঁড়ির কপোতাক্ষ তীরে মধু তাঁবু ফেলে বসে আছে মা জাহ্নবীর সঙ্গে দেখা করবে , সে খ্রিস্টান, ত্যজ্য পুত্র। সে যাবে কালাপানির ওপারে। যে ঘাটে অপেক্ষা করেছিল মধু, যে ঘাট দিয়ে চলে গিয়েছিল অনন্ত জীবন সমুদ্রে, সেই ঘাট বিদায় ঘাট। আর আসেনি মধু। দেশভাগের পর সমগ্র দেশটি হয়ে যায় বিদায় ঘাট। আর দেশের সমস্তদিন যেন হয়ে ওঠে দশমী দিবস। উপন্যাস প্রকাশের পথে।
মন্তব্য-----------------------------------------------------------------------------
সময় থেকে সময়ান্তরে যাত্রা, নানাযুগ এক যুগে এসে মেশা, এ যেন আমি দেখতে পাই। আমি নিজে যেন দেখেছিলাম সাগরদাঁড়ির কপোতাক্ষ তীরে মধু তাঁবু ফেলে বসে আছে মা জাহ্নবীর সঙ্গে দেখা করবে , সে খ্রিস্টান, ত্যজ্য পুত্র। সে যাবে কালাপানির ওপারে। যে ঘাটে অপেক্ষা করেছিল মধু, যে ঘাট দিয়ে চলে গিয়েছিল অনন্ত জীবন সমুদ্রে, সেই ঘাট বিদায় ঘাট। আর আসেনি মধু। দেশভাগের পর সমগ্র দেশটি হয়ে যায় বিদায় ঘাট। আর দেশের সমস্তদিন যেন হয়ে ওঠে দশমী দিবস। উপন্যাস প্রকাশের পথে।
মন্তব্য-----------------------------------------------------------------------------
- Tanmay Dey kopotaksho duhito ek uttor projonmer(apni) torpon kopotakshor
purbo projonmer(madhusudan) proti.
- Omker Bandyopadhyay অসাধারণ ভাবনা, ছিন্নমূল মানুষের যন্ত্র্নার সাথে মধুসূদনের
যন্ত্রনার মেলবন্ধন......।
পড়বার প্রবল আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় রইলাম ।
- Kuloda Roy গ্রেট দাদা। লেখকই পারেন সময়ের নবজন্ম ঘটাতে।
কিন্তু দাদা মধুর উপরে আমার ক্ষোভ আছে। তিনি কেন তাঁর ছেলেপেলেদের অবহেলা করে ছেড়ে
গেলেন। তারা দারিদ্রে অপুষ্টিতে রোগে ভুগে ভুগে মারা গেল। তিনি কোনো দ্বায়িত্ব বোধ করলেন না।
- Amar Mitra modhu to rebekar uporo abichar korechhilo, santander upor, niyoti
tarito protiva Kuloda Roy
---------------------------------------------------------------------------------------------
আড্ডাঘর/১
| হুমায়ুন আহমদের ছবি |

১৮ মে, ২০১৩, শনিবার
ওই ছবিগুলি তিনি অসুস্থ অবস্থায় এঁকেছিলেন। এঁকেছিলেন এই ছবিগুলো তাঁর দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী ও ছেলেদ্বয়ের সামনে।
ছবিগুলো তাঁর স্ত্রী শাওন ফিরে পাননি। তাঁকে বইমেলার আয়োজক মেলা শেষে ফিরিয়ে দেননি বলেও পত্রিকায় অভিযোগ করেছিলেন।
কদিন আগে পত্রিকায় দেখলাম বইমেলার আয়োজক ছবিগুলি ফিরিয়ে দিচ্ছেন। ঢাকাতে। হুমায়ুন আহমদের মায়ের হাতে। তার বৈধ স্ত্রী ও কনিষ্ঠ ছেলেদের কাছে নয়।
হুমায়ুন আহমদের মা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। কিন্তু আইনগতভাবে স্ত্রীর অধিকার মায়ের চেয়ে বেশি। আইনের কাছে আবেগের প্রশ্ন থাকে না। কিন্তু আবেগের কথা বললেও এই ছবিগুলো স্ত্রী ও দুই কনিষ্ঠ ছেলেদের সঙ্গেই বেশী জড়িত।
আপনি যে আবেগের কথা বলেছেন তা সমাজে প্রচলিত আইনের কারনেই সৃষ্টি। গভীর ভাবে ভেবেদেখুন, কার সাথে আবেগটা বেশী জড়িত?- আমি কাকে ভালবাসব, তা সমাজই বলে দিতে চায়। বলে দিতে চায়, কাকে সামাজিক ভাবে ভালবাসাউচিত।
- আইন আবেগ মানে না। ছবিগুলো যদি সম্পদ হয়, অর্থনৈতিক মূল্য থাকে, তবে দেশের প্রচলিতআইনে তা ছেলে, মেয়ে ও স্ত্রীদের মাঝে ভাগ করে দেয়া হবে।
- Considering preservation and protection in future the pictures should go to wifeand children.
- "আমি কাকে ভালবাসব, তা সমাজই বলে দিতে চায়। বলে দিতে চায়, কাকে সামাজিক ভাবে ভালবাসাউচিত।" এইটা বলে দিতে চায় বলেই এইটারে প্রবলেম মনে হয়।
- বিবেক যে কেন ভুলায় সময়কে??লেখক যাদের উদ্দ্যেশে দিয়ে গেছেন তাকেই দেয়া হোক..মা ও স্ত্রীসেটা বড় নয়..সমজোতা থাকলেই হয় ওনাদের মাঝে..
- শাওন সম্প্রতি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে অভিযোগ করেছেন যে ছবি ছিল ২৫টি দেয়া হয়েছে ২০টি।
- মা তিনি মা বটে। আইন যাই বলুক। মা এর মুল্য কোনো মানুষই দিতে পারবে না। এই ছবিগুলোভাগাভাগি করে মা এবং স্ত্রী পেতে পারতেন।এটা একান্ত আমার মত।
কুলদা রায়--
বিবাহিত না হলে তাঁর মা-ই প্রাপ্য হতেন। কিন্তু তাঁর স্ত্রীর স্ত্রীর উপস্থিতিতে ছবিগুলো নেওয়া
হয়েছিল। সেগুলো তো স্ত্রীর কাছেই ফিরিয়ে দেওয়ার কথা। তারপর স্ত্রী যদি মনে করেন তাঁর
শ্বাশুড়ির কাছে দিতে পারেন। কিন্তু গ্রহীতা কেনো নিজেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন নিলেন--কার কাছে দিতে
হবে। এটা তো তার করার কথা নয়।







































4 মন্তব্যসমূহ
humayu ahmeder mato ar onno keu noy....ete shaon mon kharap korle ta shaoner humuyun ma biddeshi vab prokash pabe
উত্তরমুছুনশাওন বা তাঁর মায়ের প্রশ্ন নয়। এখানে প্রশ্ন হল--ছবিগুলি নিয়েছিলেন হুমায়ুন আহমদ ও তার স্ত্রীর কাছ থেকে। হুমায়ুন আহমদ নেই। এটা ফিরিয়ে দেওয়ার কথা তার স্ত্রীর কাছে। দেওয়ার সময় তো আর হুমায়ুনের মা ছিলেন না।
উত্তরমুছুন--কুলদা রায়
শাওন বা হুমায়ুন আহমেদের মা এখানে বিষয় নয়। বিষয়টা হল অধিকার। হুমায়ুন আহমেদ বিবাহিত না হলে তাঁর মা-ই প্রাপ্য হতেন। কিন্তু তাঁর স্ত্রীর স্ত্রীর উপস্থিতিতে ছবিগুলো নেওয়া হয়েছিল। সেগুলো তো স্ত্রীর কাছেই ফিরিয়ে দেওয়ার কথা। তারপর স্ত্রী যদি মনে করেন তাঁর শ্বাশুড়ির কাছে দিতে পারেন। কিন্তু গ্রহীতা কেনো নিজেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন নিলেন--কার কাছে দিতে হবে। এটা তো তার করার কথা নয়।
উত্তরমুছুন--কুলদা রায়
দাদা, অপেক্ষায় রইলাম।
উত্তরমুছুন