সোমবার, ১০ নভেম্বর, ২০১৪

জয়শ্রী সরকারের গল্প : রণ’দা

প্রথমদিকে হেমলতার অসুস্থতায় বাড়ির সবাই ভেঙ্গে পড়েছিল। ছোট ছোট ছেলে দুটো খেলা স্কুল ফেলে মায়ের আশেপাশে ঘুরঘুর করেছে। সময় গড়ালে আবেগ ক্ষীণ হয়। বোধকরি সে জন্যেই ওরা এখন আর হেমলতার কাছে খুব একটা আসে না। হেমলতাকে সর্বক্ষণ যে চোখে চোখে রাখে সে হলো শ্বাশুড়ি রমা রানী আর একমাত্র মেয়ে মিতালি। মিতালী এবার কলেজে উঠেছে। দেখতে মায়ের মতোই মিষ্টি ও মায়াবতী। লেখাপড়ায়ও ভালো। মায়ের অসুস্থতার মধ্যেও সে সুযোগ করে কলেজ যায়। যতক্ষণ সে কলেজে থাকে ততক্ষণ শ্বাশুড়ি রমারানী পুত্র বউয়ের পাশে থাকে। মিতালী কলেজ থেকে ফিরলে সে রান্না বান্নার কাজে যায়। এই বয়সেও ঠিক হাল ধরে রেখেছে পুরো সংসারের। বিধবা বউ, নাতি, নাতিনী সবাইকে আগলে রেখেছে যক্ষের ধনের মত। কোথাও বিন্দুমাত্র ঘাটতি নেই। চোখের সামনে ছেলে মরলো, ছেলে বউ বিছানায় তবু ভেঙ্গে পড়েনি। ভেঙ্গে পড়তে দেয়নি সংসার।


হেমলতার শরীর বেশি খারাপ থাকায় আজ দু’দিন ধরে মিতালী কলেজ যাচ্ছে না।

সাগু ছাড়া কিছুই মুখে নিচ্ছে না হেমলতা। অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে বিছানায়। শুধু শ্বাসের সাথে বুকটা একটু দোলে দোলে ওঠছে। এই দোলা দেখে অনুমান করা যায় তার হৃদযন্ত্র এখনও অচল হয়ে যায়নি। অবশ্য হেমলতাকে এভাবে দেখে অভ্যস্ত হয়ে গেছে সবাই। গত কয়েক মাসে সে দানা ছেড়েছে কয়েকবার। সাড়া না দিয়েও থেকেছে মাঝে মাঝে। কিন্ত দুই তিনদিন পর আবার ওঠে একটু একটু বসেছে. খেয়েছে, সাড়াও দিয়েছে। চিকিৎসার কোন ত্রুটি করেনি রমা রানী। শহরে নিয়ে গিয়ে বড় ডাক্তারও দেখিয়েছেন। কিন্তু ডাক্তার বলেছে মস্তিস্কে রক্তক্ষরণ। এভাবে বিছানায় শুইয়ে বসেই থাকতে হবে। চিকিৎসায় আর কাজ হবে না। বরং বাড়িতে সেবা শুশ্রুষায় যতক্ষণ ধরে রাখা যায়।

মিতালি মায়ের ঘরে ঘুরে ফিরে এটা ওটা নিয়ে ব্যস্ত থাকে। আলনার কাপড় ভাঁজ করে, ট্রাঙ্ক থেকে মায়ের শাড়িগুলো নামিয়ে উল্টেপাল্টে দেখে ভাঁজ করে গুছিয়ে রাখে। তার সময় কাটতে চায় না। একবার ভাবে কলেজ থেকে একবার ঘুরে আসবে। কিন্তু হেমলতা যদি চোখ খুলে কিছু খেতে চায়; কাউকে কাছে না পেয়ে সে-কথা বলতে না পারে বা অন্যকিছু। মিতালী মায়ের মুখের দিকে তাকায়। কি নিশ্চিন্তে সে ঘুমিয়ে আছে। যেনো শরীরে কোন কষ্টই নেই হেমলতার। অথচ সুস্থাবস্থায় হেমলতা সূর্যাস্তের সাথে সাথে বিছানা ছেড়েছে। দিন রাতের কাজ সেরে সবার শেষে বিছানা নিয়েছে। সেই হেমলতা মাসের পর মাস বিছানায় শুয়ে থাকে। মাকে দেখতে দেখতে মিতালির চোখ ভিজে ওঠে।

বইয়ের ভাঁজে ধূলো জমেছে। অনেকদিন কারো হাত পড়েনি শেলফে। হেমলতার বই এগুলো। শত কাজের ভিড়েও সে নিয়মিত বই পড়তো। দিনের কোন এক অবসরে উল্টে পাল্টে দেখে সযতনে গুছিয়ে রাখতো। সেই বইয়ে আর হাত পড়ে না হেমলতার। মিতালি শেলফের দিকে এগিয়ে যায়। বইগুলো নামিয়ে রাখে টেবিলের উপর। শুকনা একটি কাপড় দিয়ে ধুলো সরায়। খুঁটে খুঁটে বইগুলোর নাম দেখে। কখনো এক দুই পাতা উল্টায় আবার সাজিয়ে রেখে দেয়।

দেনাপাওনা শরৎচন্দ্রের লেখা একটি বই। মিতালি বইটি হাতে নিয়ে মায়ের পাশে গিয়ে বসে। বইয়ের পাতা উল্টায়।

বইয়ের ভাঁজ থেকে কাগজ ছড়িয়ে পড়ে মেঝেতে। দুটো ভাঁজ করা কাগজ। মিতালি কাগজ তুলে নেয়। একটি কাগজের ভাঁজ খুলে দেখে দেখে গোটাগোটা অক্ষরে লেখা;


রণ’দা

মগড়ার তখন কি ত্যাজ। কুলকুল শব্দে বয়ে যায় আমাদের উঠোন ঘেষে। পূর্নিমার চাঁদ ওঠে, আম গাছে ফোঁটে ফুল। কালবৈশাখীর তোপে উড়ে আসা পাতা আমার আঙ্গিনা জুড়ে খেলা করে। আমার হঠাৎই সব ভালো লাগতে শুরু করে।। বরুন ফুল ভালো লাগে, বাতাস ভালো লাগে, বাঁকা চাঁদের সাদা ফালিটা ভালো লাগে, হলুদ পাখিটার এদিক ওদিক ছুটে চলা ভালো লাগে। আমি বুঝতে পারি কিছু একটা ঘটছে আমার প্রাণে মনে। সেখানে কেউ একজন গুনগুন করছে সময় অসময়।

আমার জানালার ওপারে তোমার বারান্দা। তোমাদের শেষ সীমানায় আমাদের তুলসিতলা। সন্ধ্যাবাতি দিয়ে গিয়ে যদিও দেখা হয় একটু আধটু, কথা হয় না। তবু আমার ভালো লাগে। জানালা ভালো লাগে, তোমাদের বারান্দা ভালো লাগে, তুলসিতলা ভালো লাগে। আমি বুঝতে পারছিলাম রণ’দা, কিছু একটা ঘটছে। আমি বড় হচ্ছি। সেখানে কেউ একজন কড়া নাড়ছে দিন রাত।

এক্ষুণি সন্ধ্যার আযান পড়বে। মা ডেকে বলবে “মা রে সন্ধ্যা বাতিটা দে, আমার হাতে অনেক কাজ।” আমি ছুটে যাবো বাতি জ্বালাতে। এক ঝলক দেখা হবে, হয়তো একটা কথাও হবে না, তবু আমি যাবো, বারবার যাবো। আমি তুলসি তলায় বারবার যেতে চাই।


সেদিন বোশেখী মেলা। তোমার একটা চিঠি বইয়ের ভাঁজে রেখে পড়ছি। গত সন্ধ্যায় লেখা চিঠি । গোটা গোটা অক্ষরে লিখেছ “ আমার প্রাণের পরে চলে গেল কে, বসন্ত বাতাস টুকুর মতন”- ব্যাস এরপর মোম রঙে আঁকা সাতরঙের নৌকো। সে নৌকোই আমি চড়ে বসি, ভেসে যাই মগড়া থেকে কংস, কংস থেকে সুমেশ্বরী, সুমেশ্বরী থেকে তুলসীতলায়।

হঠাৎ মা ডাকলো । খুব হৈচৈ কান্নাকাটি। তোমাদের ঘরে দৌড়ে গেলাম সবাই। ছোট কাকা যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। তার শার্ট ক্রমশ ভিজে যাচ্ছে। সাদা শার্টখানায় ছোপ ছোপ লাল। নিস্তেজ হয়ে আসছে ছোট কাকার চোখ। এইতো কিছুক্ষণ আগেই জানালা দিয়ে তুমি বলে গেলে তুমি বাবার সাথে মেলায় যাচ্ছ! আমি তোমার চিঠিটা বইয়ের ভাঁজে লুকিয়ে পড়তে বসেছি মাত্র। এমন সময় হঠাৎ!

কিছু বুঝবার আগেই বাবা একটা রিকশা ডেকে আনলো। ছোট কাকাকে নেয়া হল সদর হাসপাতালে। সেদিন আর তুলসিতলায় যাওয়া হলো না। কারো চুলায় চাপলো না ভাত। ভোরের দিকে ছোটকাকা এল।

বোল হরি হরি বোল এই ছন্দে চলেও গেল।


শুনলাম বারুণী মেলা নিয়ে মোড়ের দোকানে তর্ক বেঁধেছিল। একসময় পাশের রডের দোকান থেকে রড নিয়ে মান্নান খুব মেরেছিল তোমার বাবাকে! চোখের সামনে বাবাকে মারছে ! রক্ত ঝরে পরছে শরীর চিরে। দেখতে নিশ্চয়ই তোমার খুব কষ্ট হয়েছিল!

তেরদিনের মাথায় কাকার শ্রাদ্ধ হল। কোন কেস হলো না।

মা বাবা বলাবলি করতে লাগলো তোমরা চলে যাচ্ছো সব ফেলে। তোমাদের ঘরের টুকিটাকি আসবাব চলে যাচ্ছে এ ঘরে ওর ঘরে। কাকীমা আসছে বারবার, চোখ মুছছে, তুমি আসছো না। আমি জানালায় ঠাঁয় বসে আছি তবু আসছো না। আমি তুলসিতলায় বসে আছি তাও আসছো না।

যাবার দিনও একবার আসলে না। সন্ধ্যা বাতির আগে শুনলাম তোমরা যাচ্ছ। তোমরা গেলে।

সাতরঙা নৌকো বইয়ের ভাঁজ ছেড়ে চলে যাচ্ছে মগড়ায়। মগড়ায় বুক শুকিয়ে কাঠ । স্রোত নেই আগের মত। সীমানা পেরিয়ে এ নৌকো পৌঁছবে না মগড়া থেকে গঙ্গায়। কিন্তু বাতাস, সে তো মানে না কোন সীমানা। রণদা আমার ভেতর কিছু একটা হচ্ছে। কিন্তু সেখানে কেউ গুনগুন করছে না। আমি বারবার যেতে চাই তুলসি তলায়। তুমি কি আসবে?


ইতি
আমি


মিতালি এক নিশ্বাসে চিঠিটা পড়ে হেমলতার দিকে তাকায়। এ কি তার মায়ের লেখা! কিন্তু মা কাকে লিখবে? মিতালি কৌতুহলবশত অন্য কাগজটির ভাঁজ খোলে।


রণ’ দা

পাতা ঝরার দিন এসেছে। সময় অসময়ে কোকিল ডাকছে। থোকা থোকা শিমূল ফুলে লাল হয়ে আছে পথ। চাঁদ ওঠছে, নামছে, বাতাস বইছে থামছে কেবল আমার মনে বাতাস বয় না। মগড়া বয় না । বয় না মন আর আগের মত।

তোমরা দেশ ছাড়লে। বাড়িতে নতুন মানুষ এলো। উঠোনে ইটের গাঁথুনি পড়লো। আমাদের তুলসীতলার জায়গা বদল হলো। জবা ফুল ফোটে ঝরেও গেল। তবু আমি অপেক্ষায় থেকেছি। মা বলবার আগেই ছুটে গেছি বাতি জ্বালাতে, জোড় প্রনামে দাঁড়িয়ে থেকেছি ভর সন্ধায়। ভেবেছি প্রণাম শেষে যদি দেখি তুমি দাঁড়িয়ে। কতবার গুনগুন করেছে মন রবি ঠাকুরের চরণ “অকার্ণ পুলকে ভাসি আঁখিজলে, সে আসিবে আমার মন বলে”.........

কিন্তু হায়! একবারের জন্যেও সেই সুর সীমানা পে্রিয়ে যায়নি তোমার জানালায়। বোশেখী ঝড়, বরুণ ফুল, হলুদ পাখী সবাই যার যার সময়ে এসেছে। চলেও গেছে। কেবল তুমি আসোনি। আমারও দিন কেটেছে। দিনের নিয়মেই কেটেছে।

এই তো গেল বর্ষায় আমি তোমার মোমরঙের সাতরঙা নৌকায় চড়ে মগড়া থেকে সুমেশ্বরীতে এসেছি। মগড়া থেকে সুমেশ্বরীতে স্রোত কিছু বেশি। অনেকদিন পর কুলকুল শব্দ মনে প্লাবন ছাপিয়ে উন্মাতাল অবস্থা। থেকে থেকে বাতাস কাঁপিয়ে দিচ্ছে হলদে পাখীটাকে। নদীর জলে গোটা গোটা অক্ষরে ভাসছে -“প্রাণের পরে চলে গেল কে।”

রণ’দা টেবিলে রাখা বইয়ের ভাঁজ থেকে ভেসে আসছে পুরনো চিঠির গন্ধ। আমি টের পাচ্ছি বসন্ত। বর্ষায় বসন্ত।

উল্টেপাল্টে খামছে তারা ছড়িয়ে যাচ্ছে সেই বরুন ফুলের রং। যে রং লুকিয়ে থাকে, হারিয়ে যায় না।

সুমেশ্বরীর এ দিকটায় তুলসীতলা নেই, যেখানে আমি অপেক্ষা করবো তোমাকে দেখার। নেই কোন উঠান যেখানে দাঁড়িয়ে আমি আমার দীর্ঘশ্বাস পাঠিয়ে দেবো তোমার উদ্দেশ্যে। ভাবছিলাম ভালোই হলো এই সুযোগে ভুলে যাওয়া তো যাবে। বিশ্বাস কর প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম। কিন্তু কাল ঠিক মধ্যরাতে কয়টা বেজেছে? হবে হয়তো দুটো তিনটে বা তারো বেশি বা কম।

কি এক চিৎকার চেঁচামেচি। সবাই দৌড়ে বারান্দায় গেলাম। দেখলাম অমাবস্যার রাতও কেমন জ্বলজ্বল করছে। ও পাড়ের কালি মণ্ডপে কে বা কারা যেন আগুন দিয়েছে। মণ্ডপের পাশেই ছিল কুমারপল্লী। ঘুমের ঘোরে মণ্ডপের আগুনে ওরাও পুড়েছে।

পোঁড়া মণ্ডপের সামনে রাখা হয়েছে পোঁড়া ক’টি মানুষ। কান্নাকাটির শব্দ আমার জানালা ভেদ করে ভেতরে আসছে। আমার কেবলই মনে হচ্ছে ভালোই বোধহয় করেছিলে চলে গিয়ে। আমি কেনো এখনি এখানে পড়ে আছি!

কান্নার শব্দ ক্রমশ গাঢ়ো হচ্ছে রণ’দা। আমি এখন এই মূহূর্তে কান চেপে ধরেছি, ধরেছি মন চেপে ওসব আমি শুনতে চাই না, পোঁড়া গন্ধ আমি শুকতে চাই না। যত যাই হোক, যাই পুড়ুক আমি আর কিছু হারাতে চাই না।

রণ’দা তোমাকে হারিয়ে তবু তো বেঁচে আছি। কিন্তু মাটি ছেড়ে, মা কে ছেড়ে? অসম্ভব সব পোঁড়ে যাক, মরে যাক আমি কোথাও যাবো না। আর শোন, আমি ঠিক বলিনি। চলে গিয়ে তোমরা মোটেও ভালো করোনি। কি জানি হয়তো হারিয়ে গেলে চলেই যেতে হয়। আমিও তো একবার যেতে চেয়েছিলাম। পারিনি। কিন্তু চেয়েছিলাম।

রণ’দা বসন্তের বাতাস বইছে। রাতের আড়ালে লাল হয়ে ফুটছে শিমূল। কুলকুল শব্দে বয়ে চলছে সুমেশ্বরী। আমি জানি, আমি জানি এ পোঁড়া গন্ধ কোন সীমানা মানবে না । টের পাচ্ছ, বসন্তের বাতাসে পোঁড়া মানুষের গন্ধ উড়ে, শিমূল ফুলে জমে রক্ত।
সে শিমূল দেখে তোমার কি আমার কথা একবারও মনে পড়ে না?

কান্নার শব্দ বাড়ছে। বাড়ছে পোঁড়া গন্ধ।

ভালো থেকো রণ’দা


ইতি ৯ ফাল্গুন ১৪১৯ বঙ্গাব্দ।
আমি


রমারানী রান্নাঘর থেকে কয়েকবার ডাকে মিতালিকে। ঠাকুমার ডাক শুনে সে তাড়াহুড়ো করে কাগজ গুলো বইয়ে ভাঁজে রেখে তোষকের নিজে গুঁজে রাখে। ততক্ষণে রমা রানী দরজায় এসে দাঁড়িয়েছে।

--কিরে বইন? খাওয়ন লাগদো না? বেলা তো অনেক অইলো। যা ছান কইরা আয়।

--হু ঠাম্মা।

--তোর মা কোন রাও শব্দ করলো?

--উ হু।

--আইচ্ছা তাইলে আমি ঘরটা মুইচ্ছা আইতাছি। পরে আমি তোর মার কাছে থাকবাম তুই গিয়া ছান কইরা খাইস।

মিতালি হু হা করে। রমা রানী চলে যায়।

মিতালির মাথা কাজ করছে না। সে চুপ করে বসে আছে। মাথায় একসঙ্গে ডজনখানেক প্রশ্ন। কার চিঠি? মার হাতের লেখাই তো সে দেখলো, যে নদী, যে বাড়ি, যে উঠোন সে ছবি তার চেনা। কিন্তু রণ’দা ? এই রণ’দা কে? তবে কি? বাবা কি জানতেন? মা কি তবে সব সময় রণ’দার জন্যেই কষ্ট পেতো? রণ’দার জন্যেই তাকিয়ে থাকতো সুমেশ্বরীর জলে? রণ’দার জন্যেই বারবার মগড়া পাড়ে বেড়াতে যেতো ? রণ’দার জন্যেই কোথাও মেলা হলে এমন ছটফট করতো? এই বই এ যে প্রতিদিন মায়ের চোখ ঘোরাফেরা করতো সবই কি তাহলে রণ’দার জন্যে ? রণ’দাই তাহলে ছিল মায়ের সাথে এতকাল?

এমন কষ্ট কেনো হচ্ছে মিতালির? সে কি মাকে একবার জিজ্ঞাসা করবে রণ’দা টা কে?

মিতালি মায়ের হাত টি তার হাতে টেনে নেয়। মা টের ও পায় না। হাত ছেড়ে বারবার চোখ মুছে, মা টের পায় না, অনেকবার সে জিজ্ঞাসা করে মা রণ’দা কে? মা ও মা শুনছো....

তবু মা টের পায় না।




লেখক পরিচিতি
জয়শ্রী সরকার
বাড়ি নেত্রকোনায়।

সংস্কৃতি কর্মী।
বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর সদস্য।
পেশাগতভাবে উন্নয়ন কর্মী।
গবেষক। গল্পকার। 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন