বৃহস্পতিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

রাজেশ পালের গল্প : বল্লম

মাথার পেছনে খচখচ শব্দ হতেই চমকে ওঠে শফর আলী। একটানা বসে থাকতে থাকতে কেমন জানি তন্দ্রার মতো এসে গিয়েছিল। পেছনে ফেরে দেখে মাচানের নীচ একটা নেড়ি কুকুর কুণ্ডলী পাকিয়ে বসে আছে। শব্দটা সেখান থেকেই আসা। আসলে পরপর তিন রাত ধরে চড়ে পড়ে আছে তারা। হাবীব বেপারীর দলবলের আর দেখা নেই।

সামনে বিস্তৃত হামিদার চর। দুপুরের রোদে বালি ঝিকমিক করছে। যেন অসংখ্য হীরক খণ্ড ছড়িয়ে আছে সবখানে। হীরা না হলেও এ চরের মাটি কাঁচা সোনা। অতি উর্বরা এই পলল মাটিতে ফলে সোনার ফসল। সারা বছর ধরে আমজাদ গাজীর বর্গা চাষিদের কর্মব্যস্ততায় মুখরিত হয়ে থাকে চরটা।

এখন ফসল কাটার সময়। তাই ডাক পড়েছে শফর আলীদের। তিন পুরুষের লাঠিয়াল তারা।আমজাদ গাজীর দাদুর আমল থেকে রক্ষা করে চলেছে তাদের সম্মান আর প্রতিপত্তি। শফরের বাপ কালু লাঠিয়াল এই চরের মাটিতেই লড়তে লড়তে জীবন দিয়েছে। কালু ছিল একাই দশ জনের সমান। ১০০ লড়ার দাগ ছিল তার গৌরবের প্রতীক। হাবীব বেপারীর বাপ মনসুর বেপারীর ও লোভ ছিল এই চরের মাটির প্রতি। 

সেবার তিন চরের লাঠিয়াল ভাড়া করে ঝাঁপিয়ে পরে সে। কিন্তু ঠেকিয়ে দেয় কালু লাঠিয়াল। লাশ পরে বেশ কয়েকটা। লাশগুলো চরে ফেলেই পালাতে থাকে ওরা। পেছনে বল্লম উঁচিয়ে তাদের তাড়া করে কালুর দল। হঠাৎ ভেসে আসে বন্দুকের গর্জন। বেপারীর নৌকা থেকে কে জানি গুলি চালায়। কালু ছিল সবার সামনে। বুক চেপে ধরে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে সে। রক্তে ভেসে যায় চরের বালি। কালুকে পড়ে যেতে দেখে ভড়কে যায় অন্যরা। পিছু হটে পালাতে থাকে চর ছেড়ে। আর বেদখল হয়ে যায় হামিদার চর। লাশগুলো বস্তায় ভরে নদীতে ডুবিয়ে দেয় বেপারীর লোকজন। কোন হদিসই আর পাওয়া যায়নি। 

শফর তখন দশ বছরের বালক মাত্র। আমজাদ গাজীর বাপ রুস্তম গাজী কিন্তু ভার নেয় তাদের। ফলে অনাহারে মরতে হয়নি। মাঝেমাঝে অনেক রাতে রুস্তম গাজী আসতো তাদের কুটিরে। শফরকে তখন গাজীর নৌকায় চলে যেতে বাধ্য করতো শফরের মা। বলতো , বড়দের কথার মাঝে ছোটদের থাকতে নেই। রুস্তম না আসা পর্যন্ত শফর অপেক্ষা করতো নৌকায়। নৌকার মাঝি আর গাজী সাবের বরকন্দাজ থাকতো নৌকায়। নানারকম ইঙ্গিতে কথা বলতো তারা। আর নানারকম প্রশ্ন করতো তার মাকে নিয়ে। কিছুই বুঝতো না শফর। ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকতো শুধু।

একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে মাকে আর দেখতে পেল না শফর। অনেক খোঁজাখুঁজি করলো। কিন্তু কোথাও সন্ধান পেল না। পাশের বাড়ির শামসু চাচার বৌ বলেছিল, “পেটে পাপ বাঁইধা আর মুখ দেহাইব কেমনে? তাই দূর অইয়া গেছে মাগীটা” কিছুই বোঝেনি শফর। আজো বোঝে না। তার কাছে রহস্যই হয়ে রইলো মায়ের এই অন্তর্ধান। মা চলে যাওয়ার পরে শামসু চাচার বাসাতেই বড় হয় শফর। অবশ্য রীতিমতো খরচ পাঠাতো রুস্তম গাজী। শামসু চাচাও কালুর দলের লাঠিয়াল ছিল। তার কাছেই বল্লম ধরা শেখে শফর। সবাই বলতো বাপের মেজাজ পেয়েছে শফর। 

বছর পাঁচেকের মধ্যেই আশেপাশের সব গাঁয়ে রটে গেল শফরের মতো লাঠিয়াল নাকি আর ১০ ক্রোশের মধ্যে কেউ নেই। একদিন বাড়িতে ডেকে তার হাতে কালুর বল্লমটা তুলে দেয় রুস্তম গাজী। সেই থেকে গাজী পরিবারের ছায়া হয়ে আছে সে। প্রথমে রুস্তম গাজীর আর এখন তার ছেলে আমজাদ গাজীর। শুধু দিনে একবার রাতের খাবার খেতে শামসু চাচার বাড়ীতে যায় শফর। 

চাচা মারা গেছেন ক'বছর হলো। বাড়ীতে শুধু চাচী আর মরিয়ম। মরিয়ম চাচার মেয়ে। রোজ বাড়ী ফিরলেই মরিয়ম গামছা এগিয়ে দেয় শফরকে হাতমুখ ধোয়ার জন্য। বোঝা যায় তার পথ চেয়েই বসে থাকে মেয়েটা। শফরেরও জানি বুকের মাঝে কেমন মুচড়ে ওঠে মরিয়মকে দেখলে। ভাত বেড়ে দেয়ার সময়ে বোকার মতো চেয়ে থাকে মরিয়মের ফর্সা মুখটার দিকে। কেমন যেন আকুলি বিকুলি করে ওঠে মনটা। মরিয়ম বোধহয় সবই বুঝতে পারে। চোখাচোখি হলেই মুচকি হাসি হেসে মাথা নামিয়ে নেয় প্রতিদিন। কোন কথা না বলেও যেন অনেক কথাই বিনিময় হয়ে যায় দুজনের মাঝে। কিসের যেন আকর্ষণ আর দুর্নিবার আকাঙ্ক্ষা। সৃষ্টিকর্তা মানুষের শরীরে ভালোবাসা নামের এক অদ্ভুত অনুভূতির বীজ বপন করে রেখেছেন ,যার সঠিক ব্যাখ্যা আজ পর্যন্ত কেউ দিতে পারেনি, হয়তো পারবেও না কোনোদিন।এভাবেই দিন, মাস, এভাবে দিন কাটাতে। জীবন নিয়ে শফরের কোন উচ্চাশা নেই, তাই নেই কোন অভিযোগও। অল্পেই সে সন্তুষ্ট চিরকাল।

হঠাৎ প্রচণ্ড একটা যান্ত্রিক শব্দে চৈতন্য ফেরে শফরের। চরের নিস্তব্ধতাকে খান খান করে ক্রমশ: এগিয়ে আসছে শব্দটা। হাতের বল্লমে চাপ বাড়ে শফরের। প্রথমে ঠাওর করতে পারেনা কিছুই। একটু পরেই বুঝতে পারে শব্দের উৎসস্থল। গাঙের জল তোলপাড় করে ছুটে আসছে একটা গানবোট। চরের কাছে নোঙর করলো, এরপর নেমে এলো একটা পাটাতন। আর সেই পাটাতন বেয়ে একে একে নেমে এলো জনা বিশেক খাকি পোশাকধারী। সবার হাতেই উদ্যত রাইফেল। মিলিটারি আগেও অনেক দেখেছে শফর। আমজাদ গাজী শহরে গেলেই ছুটে যেতো ক্যান্টনমেন্টে।সাথে থাকতো শফর। তার মালিকের সাথে বেশ দহরম মহরমই দেখেছে সে। 

আমজাদ গাজী একবার বলেছিল, “বুঝলি শফর, পাকিস্তানের আসল হিম্মত হলো এই মিলিটারি। এরাই রক্ষা করছে পাকিস্তানের “পাক সার জমিন সাদ বাদ” নাহলে বহু আগেই দেশটা ইণ্ডিয়ার দখলে চলে যেতো। আর মুসলমানদের থাকতে হতো মালাউনদের গোলাম হয়ে”।নিতান্ত অশিক্ষিত, গোবেচারা মানুষ শফর। এসব ভারী ভারী কথার বিন্দু বিসর্গও বুঝত না সে। কিন্তু এটা বুঝত মিলিটারি জিনিসটা আসলে পাহারাদার কুত্তার মতোই উপকারী। পার্থক্য হলো কুত্তা দেয় ঘর পাহারা, আর এই দেয় দেশ পাহারা। কিন্তু সেতো গ্রামের ছানা চৌকিদারও দেয়। কই তাকে তো কোনোদিন এভাবে খাতির করতে দেখেনি গাজীর পোকে। সবকিছু কেমন যেন গুলিয়ে যায় শফরের।

মিলিটারির দলটা কাছাকাছি আসতেই দলের সাথে আমজাদ গাজীকেও দেখতে পেল শফর। পরনে কালো শেরওয়ানী, মাথায় কিস্তি টুপি। কালো চশমা পড়া একজনের সাথে কথা বলতে বলতে এগিয়ে আসছে সে।উদ্যত আমজাদ গাজীকে দেখে মনে হচ্ছে নিতান্ত প্রভুভক্ত ভৃত্যের মতোই।বিনয়ে গলে যাচ্ছে যেন। মাচানের কাছাকাছি এসে ডাক দেয় আমজাদ গাজী। ডাক শুনে নীচে নেমে আসে শফর। বললামটা তখনো হাতে ধরা।ভ্রু কুঁচকে একবার বল্লমটার দিকে, আরেকবার শফরের পেশীবহুল উদোম শরীরটার দিকে তাকাল পাশের কালো চশমা পরা লোকটি।

……… শোন, ইনি ক্যাপ্টেন সাহেব, উনি আর উনার লোকজন কয়েকদিন থাকবেন এই চরে ক্যাম্প করে।উনাদের যেন কোন সমস্যা না হয় , সেদিকে সবসময় খেয়াল রাখবি। আমি রোজ দুবেলা এসে খবরাখবর নিয়ে যাবো।

সেদিনটা কেটে গেল কোন ঝামেলা ছাড়াই , তাঁবু টাঙানো, বালির বস্তা বসানো, এসব নিয়েই ব্যস্ত ছিল লোকগুলো। পরদিন থেকে যেন নেমে এলো কেয়ামত। গ্রামে হিন্দু পাড়া ছিল দুটো। তাতীপাড়া আর জেলেপাড়া। যদিও কিছুদিন আগে ঢাকায় নাকি কিসব গণ্ডগোল হয়েছে শুনতে পেয়েই এই দুই পাড়ার বেশীরভাগ লোকই গাট্টি বোঁচকা বেঁধে বৌ ছেলের হাত ধরে কোথায় জানি চলে গেছে। আর গেছে এই চরের উপর দিয়েই। মানুষগুলোর উপরে মনে মনে বিরক্তই হয়েছিল শফর আলী। কোথায় ঢাকা, আর কোথায় এই অজ পাড়াগাঁ। আসতে যেতেই তো দুদিন লাগে। আর সেখানে গণ্ডগোল হয়েছে জেনে এখান থেকে চলে যাবে এ কেমনতর কথা? যতোসব ভীরুর দল। 

পাড়া দুটোতে রয়ে গিয়েছিল কিছু বুড়োবুড়ি, আর কয়েকজন বেকার মানুষ। প্রথম দিনেই ঝড়টা আসে তাদেরই ওপরে।আমজাদ গাজী মিলিটারির দলটাকে নিয়ে গেল সেখানেই। আর সাথে সাথে শুরু হলো এমন এক তাণ্ডব যা কখনোই কল্পনা করেনি শফর। যাকে সামনে পেল, তাকেই গুলি করে মারল ওরা। পেট্রোল ঢেলে লাগিয়ে দেয়া হলো আগুন। আগুনের লেলিহান শিখা আকাশ ছুঁয়ে গেলো। পুড়ে ছাই হয়ে গেলো পাড়াদুটো। সেইসাথে চলল আমজাদ গাজীর চামচাদের গণ লুটতরাজ। শফরের ল্যাংটা কালের বন্ধু রতন তাঁতি আর তার বিধবা মায়ের ঝাঁঝরা শরীর দুটো তাদের বাড়ির সামনেই পরে থাকতে দেখল শফর।রতন বিয়ে করেনি। মা ছেলের ছোট সংসার ছিল তাদের। রতনের মায়ের হাতে কতবার খেয়েছে শফর। লাশ দুটো পড়ে আছে জড়াজড়ি করে। মরণকালেও পরস্পরকে আঁকড়ে রেখেছিলো তারা। শফরের মতো খুনি লাঠিয়ালের চোখের কোণেও অশ্রু দেখা দেয় জীবনে প্রথমবারের মতো।

এতো ছিল সবে শুরু মাত্র। এরপর ঘটতে থাকে একের এক নারকীয় ঘটনা। গ্রামের সবার প্রিয় হামিদ মাস্টারকে ধরে আনল আমজাদের লোকেরা।আগে থেকেই মাস্টারের উপরে ক্ষোভ ছিল আমজাদ গাজীর। গাজীর ছেলেকে পরীক্ষায় ফেল করানোর পর থেকেই এই ক্ষোভ পুষে রেখেছিল সে। নিরীহ মানুষটাকে বাজারের মাঝখানে উলঙ্গ করে পেটাতে পেটাতেই মেরে ফেলে ওরা। মুখ দিয়ে সমানে রক্ত গড়িয়ে পড়ছিল মানুষটার। তবে এসব বলে আর কি হবে? এরপর আরো কতোজনইতো এলো আর গেলো। একদিন হঠাৎ অন্যরকম একটা ঘটনা ঘটলো। দুজন খানসেনা গিয়েছিলো গ্রামের বাজারে। ফিরতে একটু দেরী হয়েছিল। পরদিন লাশ দুটো পাওয়া গেল জংলার পাশে।গুলিতে ঝাঁঝরা। সাথের অস্ত্র দুটোও নেই। কিন্তু এদের মারল কারা? তাও আবার গুলি করে? আশেপাশের পাঁচ গ্রামে বেপারী আর গাজীদের দুটো বন্দুক ছাড়া আর কারো কাছে বন্দুক আছে বলেতো জানেনা সে। ভেবে কূল করতে পারেনা শফর।

পরদিন এর বদলা নিতে সারা এলাকায় তাণ্ডব চালায় মিলিটারি। বেশ কিছু বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয় ওরা। দুপুরের দিকে ৩০/৪০ জনকে মারতে মারতে নিয়ে আশে গাঙের পারে। মসজিদের ইমাম সাহেবও আছেন সেই দলে। সবার চোখ কালো কাপড়ে বাঁধা। গাঙের হাঁটু-পানিতে নামিয়ে দেয়া হলো সবাইকে। তারপর শুরু হলো এলোপাথাড়ি গুলি। রক্তে লাল হয়ে গেল গাঙের পানি।সব দেখে যাচ্ছে শফর আর করে যাচ্ছে হুকুম তামিল।নিয়ম করে ক্যাপ্টেনের তাঁবু পরিষ্কার করছে, গাজীর পাঠানো গ্রাম থেকে লুট করা মুরগী আর খাসি পৌঁছে দিচ্ছে, গরমে পাখা হাতে বাতাস করছে। কিন্তু কোথায় যেন একটা তীব্র জ্বালা অনুভব করে চলেছে প্রতিনিয়ত। বিশেষ করে তার দোস্ত বদি শেখের বৌকে বেইজ্জত করে মারার পর থেকে ক্যাপ্টেনের আর আমজাদের উপরে তীব্র একটা ঘৃণা ক্রমশ: বেড়ে উঠেছে নিজেরই অজান্তে।

প্রতিদিনের মতো সেদিনও রাতে চাচীর বাড়ি গেল শফর রাতের খাবার খেতে। কিন্তু বাড়ির ভেতরে ঢুকতেই কেমন যেন খটকা লাগলো তার। সারা বাড়ি অন্ধকার। আলো জ্বালেনি কেন? তেল নেই নাকি? একটু এগোতেই দেখতে পেলো কে যেন পড়ে আছে উঠোনের উপরে। সামনে যেতেই দেখতে পেলো চাচীকে। মাথা থেকে রক্ত ঝরছে। তাড়াতাড়ি পাঁজা কোলে করে চাচীকে বারান্দায় নিয়ে গেলো শফর। কলসি থেকে পানি এনে ঢালতে লাগলো চোখে মুখে। একটু পরে হালকা চোখ মেললেন তিনি।

……… চাচী , ও চাচী, কি অইছে? মাথা ফাটলো কেমনে? মরিয়ম কনে?

শফরকে আঁকড়ে ধরে ডুকরে কেঁদে উঠলেন চাচী।

……… সর্বনাশ অইয়া গেছেরে শফর। মরিয়মরে মিলিটারি তুইল্যা লইয়া গেছে। আমজাদ গাজীর লগে আইছিল। আমি আটকাইতে চাইছি, মাইরা আমার মাথা ফাটাইয়া দিছে। আমার মরিয়মরে আইনা দে বাপ।আমার যে আর কেউ নাই রে।
বলে আবারো জ্ঞান হারিয়ে ফেললেন তিনি। সেই জ্ঞান আর ফিরল না। পরদিন চাচীর দাফন সারলো শফর আলী একাই। একেবারে নীরব, অবিচল, ভাবলেশহীনভাবে। পাড়ার কয়েকজন সাহায্য করতে এসেছিলো। কিন্তু তাদেরকে কিছুই করতে দিল না সে। এরপর পশ্চিমের মাঠ ধরে সোজা হেটে গেলো সবার সামনে দিয়ে। কাউকে কিছুই বলল না। কই গেলো, কেউ জানেনা।

দিন পাঁচেক পরে নিজের কাছারি ঘরে পাওয়া গেল আমজাদ গাজীর লাশ। বল্লমটা বুক ফেড়ে সোজা মাটিতে গেঁথে আছে অর্ধেকটা। আর উপড়ে ফেলা হয়েছে চোখদুটো। কেটে ফেলা হয়েছে পুরুষাঙ্গটি।

বল্লমটা চিনতে কারো কিন্তু ভুল হলো না

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন