'গুলি চালাতে চালাতে আমি তখন বেশ ক্লান্ত, গুলিও শেষ, আর একটা ম্যাগাজিন ঢোকাচ্ছি, ওমা, বুম হাতে এক নিউজওয়ালা, না ওয়ালা নয়, ওয়ালি, মেয়ে এক, সোজা আমার দিকে এগিয়ে আসছে! সাহস বলিহারি! পেছন পেছন তার ক্যামেরা-মানুষ। একটা কথা কেবল ক্যানে এল, কেন, কেন এভাবে গুলি চালাচ্ছেন!
ওই ক্যামেরা উদ্ধার হয়েছে কিনা জানি না, যদি হয়, আমি নিশ্চিত ওই দৃশ্য আপনারা এতক্ষণে বারকয়েক দেখে ফেলেছেন। যারা দেখেছেন তারা লক্ষ করবেন। এক্ষেত্রে আমি কিন্তু এসএলআর ব্যবহার করিনি। করেছি। আমার প্রিয় পিস্তল, নাইনএমএম সেমি-অটোমেটিক গ্লক থার্টিফোর। রাইফেল থেকে গুলি স্প্রে করার পাশাপাশি আমি গ্লকটাও ব্যবহার করেছি। আগে এখানে ছিল লাইটহাউস, গ্লোব। ক্লিন্ট ইস্টউডের কত ফিল্ম দেখেছি। এখন সেগুলো কুৎসিত সব শপিং মল হয়েছে। জায়গাটা ঘিঞ্জি। কাছেই নিউমার্কেট থানা। আমি জানি পুলিশ উচু বাড়িগুলো থেকে পজিশন নেবে। মূলত ওদের থামাতেই গ্লক ধরেছিলাম। দু-চারজনকে পেড়েও ফেলেছি। আমার নিশানা দেখে পুলিশ আর সাহস করেনি। অবশ্য যখন চারপাশ থেকে ঘিরেছে ওরা, আমি অস্ত্র ফেলে হাত তুলে দিয়েছিলাম।
অনুতাপ বলে কোনও শব্দে আমি বিশ্বাস করি না। যা করেছি। জেনে-বুঝে করেছি। এবং বেশ করেছি। আমাকে অনুতপ্ত-টপ্ত বলে ভুল ব্যাখ্যা করবেন না। আর হ্যাঁ, আমাকে পাগল বানাবার চেষ্টাও করবেন না। এ ধরণের ঘটনার পর এগুলোই সাধারণত হয়। জানি যতক্ষণ না আপনাদের ব্যাখ্যা খাপে খাপ মিলে যায়, আপনাদের শান্তি নেই। তাই জানিয়ে রাখলাম, আমি অনুতপ্ত নই, আমি পাগলও নই। আমি ঘাতক।
আমি জানি পাগল বানালে আপনাদের সুবিধে হবে। যুৎসই একটা কারণ পাওয়া যাবে যে লোকটা কেন এমনটা করল। কেন লোকটা একানব্বই জন নিরীহ মানুষকে স্রেফ গুলি চালিয়ে মেরে দিল! আমি যে অ্যাবনর্মাল, এটা প্রমাণ করতে পারলে স্বস্তি। নাহলে এই গোটা সিস্টেমের গলার কাঁটা হয়ে থাকব আমি। তাই আমাকে চিহিত করে, ব্যাখ্যা করে, ডিসেকশন করে আমার মনোজগৎকে কম্পিউটার গ্রাফিক্সের সাহায্যে খবরের কাগজে, টিভি স্ক্রিনে ফুটিয়ে তুলতে হবে। ব্যাখ্যা জলের মতন, সিদ্ধান্ত সহজ, টিভি-র ব্রেকিং নিউজ গোটা স্ক্রিন জুড়ে, অপরাধীর ব্রেন ম্যাপিং বুঝিয়ে দিয়েছে সে গভীর মানসিক অসুখে আক্রান্ত। পথে-ঘাটে লোকেরা বলবে, বলেছিলাম লোকটা পাগল ছাড়া কিছুই নয়, নাহলে কেউ একানব্বই জন মানুষকে গুলি করে মেরে দেয়! তার মধ্যে আবার সতেরোটা বাচ্চা! পঁয়তাল্লিশ জন মহিলা! কোনও সুস্থ সাধারণ মানুষ এমন করবে কেন! বস্তুত এ মানুষই না, পশু। সব মানবিক সুকুমারবৃত্তি হারিয়ে লোকটা জন্তুরও অধম।
হ্যাঁ আর একটা কথা, ধর্মাবতার, আমি একটু ভুল বলেছি, মার্জনা করবেন, বলেছিলাম যা করেছি বেশ করেছি, স্যরি, আয়াম উইথড্রয়িং দোজ ওয়ার্ডস! বেশ করেছি বললে একটা উদ্দেশ্য ও আদর্শবোধ তৈরি হয়। যেন আমি কোনো ইডিওলজি দ্বারা আচ্ছন্ন হয়ে এমন কান্ড ঘটিয়েছি। কিন্তু তা তো নয়...।'
অনেকটা বলার পর ঘাতক মুকুন্দ বরাট থামে। আদালত কক্ষে সামান্য গুনগুন। মাননীয় বিচারকের অনুমতি নিয়ে মুকুন্দ একগ্লাস জল খেয়ে আবার শুরু করে তার বক্তব্য।
লালবাজারের সন্ত্রাস দমন শাখার চিফ আইপিএস অফিসার রুহিত বিক্রম এতক্ষণ চোখ বুজে মুকুন্দ বরাটের কথায় কান পেতেছিল। চোয়াল তার শক্ত হয়। শালাকে তখনই শ্যুট করে দিলে ভাল হত। এত নাটকবাজি আর সহ্য করতে হত না। একানব্বই জন তরতাজা মানুষকে খুন করে বলছে বেশ করেছি! তবে রুহিত নিশ্চিত, মুকুন্দ পাগল। ক্লিনিক্যালি ইনসেন। তবে মনোবিজ্ঞানীদের মধ্যে মুকুন্দের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে মতভেদ আছে। কয়েকজন ফরেন্সিক সাইক্রিয়াট্রিস্ট বলেছেন, ওর মনে গভীর গভীরতর অসুখ। বিরাট একটা বিভ্রান্তি গ্রাস করেছে ওকে। কে বাঁচবে কে মরবে সেটা ও নিজেই ঠিক করবে। এমন দুনিয়ায় বাস করে যেখানে ওই শেষ কথা।
কলকাতা মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড রিসার্চের দুই ফরেন্সিক সাইকিয়াট্রিস্ট, অজিত কেলকার ও বৃন্দা সেন মুকুন্দকে বার পাঁচেক সাক্ষাৎ করেছেন। তাঁরা বলেন, 'বিরাট একজন ভ্রমজগতের বাসিন্দা। একধরণের প্যারানয়েড সিজোফ্রেনিয়া ও ম্যানিক ডিপ্রেসনের শিকার সে। ছিটগ্রস্থ এই মানুষেরা কখনও উল্লসিত থাকে আবার কখনও বিষণ্ণতা তাদের গিলে ফেলে। আতঙ্কবিকার থেকে ঘটিয়ে ফেলে অদ্ভূত কান্ড।'
রুহিত জানে বেশ নাটক করে কথা বলতে পারে মুকুন্দ। প্রথমদিন জেরার সময় থেকেই বুঝেছিল। শিলিগুড়ির পায়েল রুদ্রও বলেছিল একই কথা। পায়েল মুকুন্দের এককালের প্রেমিকা। তারপর ম্যারাথন জেরায় জেরবার করার সময়ও লক্ষ্য করেছিল কতটা নাটুকে লোকটা। কত গুছিয়ে কথা বলতে পারে। হয় ব্যাপক ধড়িবাজ না হয়, না-হলে কী, ঠিক এখানেই আটকে যাচ্ছে রুহিত। সত্যি লোকটা একা? সব প্ল্যান একাই করেছে? নাকি ...
কিন্তু আপাতত এটা একটা সিম্পল কেস। মেইন সাসপেক্ট ধরা পড়েছে আর সে কবুল করেছে তার অপরাধ! তাহলে এত আগডুম-বাগডুম কথা শোনার কী আছে! দে পুরে জেলে অনন্তকাল বা দে ঝুলিয়ে ফাঁসিতে! ল্যাটা চুকে যাক। ফাইল ক্লোজ করে অন্য কাজে মন দিই। এতদিন চাকরি করেও রুহিত এগুলো এখনাও বোঝে না। আমাদের মহান গণতান্ত্রিক দেশ, চরম অপরাধীকেও নিজের কথা বলার সুযোগ দিতে হবে, এ তার অধিকার! ঠিক আছে। চলুক। একটা তিন পাতার গল্পকে একহাজার এপিসোডের টিভি-সিরিয়াল বানালে যা হয়, তাই হবে।
তবে এটা ঠিক, চাইলেই ফাইল ক্লোজ করা যায় না! ঘাতক মুকুন্দ বরাটের সঙ্গে আর কে আছে, এখন এটাই কোটি টাকার প্রশ্ন। সে সম্পর্কে তদন্তকারী দল এখনও পুরো অন্ধকারে।
'আমাকে বলতে দেওয়ার জন্য মহামান্য বিচারপতির কাছে আমি কৃতজ্ঞ। যাইহোক, যেটা বলার, কেন এ কাজ করেছি। বলা ভারি শক্ত, হয়তো এমনিই করেছি। সে যাক, তার থেকে এটা বরং বলি, কীভাবে এ কাজ করলাম। সবথেকে শক্ত ছিল বন্দুক জোগাড় করা। যে-সে বন্দুক হলে তো আর হবে না, স্বয়ংক্রিয় রাইফেল চাই। কিন্তু চাই বললেই তো আর হবে না। কে দেবে? কীভাবে হাতে আসবে সেলফ লোডেড রাইফেল। অটোমেটিক সে এসএলআর ঘুরিয়ে একটু ঠ্যা-ঠ্যা স্প্রে করে দিলেই কেল্লা ফতে। মাছির মতো মরে যাবে মানুষগুলো। তো এই একটা এসএলআর জোগাড় করতেই আমার ঘাম ছুটে গেল। কোনো রেবেল গ্রুপ বা কোনো স্মাগলিং গ্যাং বা কোনও আর্মস ডিলার বা কোনো সন্ত্রাসবাদী সংগঠন, কাউকেই আমি চিনি না। রেবেল গ্রুপগুলোর কাজ-কারবার আমার কাছে হাস্যকর। একটা ইডিওলজির পেছনে অন্ধভাবে ছোটা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। স্মাগলিং গ্যাং-ট্যাং, কী বলব, হিন্দি ফিল্মের রামগোপাল-অনুরাগদের দৌলতে যেন কিছুটা গ্ল্যামারাস ব্যাপার, আসলে চোর! পাতি চোরের দল। হাতে অস্ত্র আছে, এই অবধি। সন্ত্রাসবাদী দলগুলো বিপজ্জনক, এদের না আছে বুদ্ধি না আছে বোধ। নিরাপত্তার স্বার্থে দেশের সিকিউরিটি এজেন্সিগুলোর নজর সর্বক্ষণ এদের দিকে। তাই এদের সঙ্গে যোগাযোগ করা খুব রিস্কি।
তো হাতে রইল কেবল অস্ত্রের চোলাকারবারীরা। মুঙ্গেরে একটা ঠেক আছে জানা ছিল, কিন্তু সরাসরি মুঙ্গেরে চলে যাওয়াটাও ঝুঁকির, তাই গেলাম না। অবশ্য এসএলআর-টেসেলার কী পাব ওখানে? যাইহোক, সব ছেড়ে অগত্যা নেট। নেটে বসে দেখলাম অস্ত্র বেচাকেনার অসংখ্য ঠেক। নেট থেকেই নাম্বার নিয়ে একদিন লাগালাম এক ফোন। বিদেশের নয়, দেশেরই নাম্বার। আইএসডি কোড নাইনওয়ান ছিল। কথা হল। দালাল। বিভিন্ন শহরে এরা আছে। ফোন করতেই আমাকে সেই দালাল প্রচুর প্রশ্ন করে। কথোপকথন কোনও ভাষায় হল এ নিয়ে আপনাদের কৌতুহল হতে পারে। হিন্দিতেই হয়েছে। ওর সব প্রশ্নের উত্তর আমি বেশ ঠান্ডা মাথাতেই দিয়েছি। আমার লক্ষ যেকোনো মূল্যে বন্দুকটা বাগানো। তাই যা জানতে চেয়েছে স-ব ভেবেচিন্তে জবাব দিয়েছি। জানতাম ও জেনে নিতে চাইবে আমি কে, কী আমার আসলি পরিচয়, সিআইডি-টিআইডি নয়তো! ভাবছেন এসব প্রথমদিনেই হয়ে গেল, একদম ভুল, বেশ কিছুদিন ধরে কথা হল। আমি কলকাতায় থাকি জেনে সে আমায় দেখা করতে বলে।
খিদিরপুরে আমরা দেখা করি। আমরা বলাটা ঠিক হবে না। সম্ভবত কলকাতার কোনো দালাল আমাকে মিট করে। কারণ ফোনে একদম প্রথমে যার সঙ্গে কথা বলেছি, আমার মনে হয়েছে, আমি মিট করলাম অন্য লোককে। যাইহোক, তার সঙ্গে একবার নয়, বহুবার দেখা করি। বন্দুকটা পেতেই আমাকে যথেষ্ঠ খড়-কাঠ পোড়াতে হয়েছে। অস্ত্রব্যবসায়ীদের নেটওয়ার্ক ব্যাপক বড়। দেশের কোণায় কোণায় ওরা আছে। প্রায় তিন মাস আমাকে বাজিয়ে বাজিয়ে যাচাই যখন খতম, আমার ঈন্সিত এসএলআরের একটি ডেমো আমায় দেওয়া হল একদিন। এই শহরেই দেওয়া হল। মধ্য কলকাতার ফ্ল্যাটবাড়ির জঙ্গলে কোনো একটা ফ্ল্যাটে আমায় নিয়ে যাওয়া হল। বিভিন্ন অংশ লাগিয়ে লাগিয়ে ওরা যন্তরটাকে খাড়া করল।
ইউটিউব দেখে আমার তখন ওসব মুখস্থ। ওরাও মুগ্ধ আমার ফান্ডা দেখে। কেবল নেট নয়। হাতেকলমে সামান্য অভিজ্ঞতাও আমার নেই তা তো বলা যাবে না। ক্যালকাটা শুটিং ক্লাবের আমি একজন সক্রিয় সদস্য। ঘষটাচ্ছি ওখানে চার বছর। সে কী আর এমনি এমনি! গোটা চারেক কম্পিটিশন আর গুনে গুনে বারোটা ট্রেনিং সেশনে সমানতালে যোগ দিয়েছি।
ওরা বলল আমি যা চাই, যে মডেলই চাই তাই মিলবে, কিন্তু টাকা লাগবে বিস্তর। যদিও টাকাটা আমার সমস্যা নয়। না, তা-বলে ভাববেন না, আমি চুরি করেছি বা ডাকাতি করেছি বা ব্যাঙ্ক লুট করেছি। টাকা আমার ছিল। বহুদিন ধরে একটা বন্দুক কিনব বলেই টাকা জমাচ্ছিলাম আমি। বন্দুক আমার প্রিয়। খুব প্রিয়।
জানি এটা বলার সঙ্গে সঙ্গেই আপনারা ধরে ফেলবেন, বস্তুত একটা স্থির সিদ্ধান্তেই পৌঁছে যাবেন যে এ সাইকি কেস ছাড়া আর কিছুই নয়। কিন্তু আমি জানি, নিশ্চিত জানি, একটা বন্দুকের শখ আমাদের প্রত্যেকের আছে। এ বিষয়ে আমার বেশ খানিকটা কাজ আছে, কাজ মানে ঠিক এ বিষয়েই আমি একটা গবেষণা করেছি। গবেষণা বললাম এই কারণেই, কাজটা যে খুব গুরুত্বপূর্ণ, এইটা যাতে আপনাদের মনে হয়।
আমি করলাম কী, প্রায় শ'পাঁচেক লোকের ওপর একটা সমীক্ষা করলাম। ক্লাস, কাস্ট, সেক্স ভেদ না করে আট থেকে একাশি সব বয়সের মানুষকে ধরলাম। সিদ্ধান্ত বা প্রশ্নের উত্তর তো আমার জানা। আসলে মিলিয়ে নিতে চাইছিলাম আমি ঠিক কিনা। দেখলাম অক্ষরে অক্ষরে আমি ঠিক। নির্ভুল। প্রায় প্রত্যেকে জানাল তাদের একটা বন্দুকের শখ আছে। প্রায় বললাম কারণ দু-চারজন গাইগুঁই করেছে। না বলেছে। এ অনেকটা পুরুষের মাস্টারবেশন করে কিনা প্রশ্নের উত্তরের মতো। একশ’ জনের মধ্যে যে তিনজন বলে করি না, তারা আসলে মিথ্যে কথা বলে। এখানেও ঠিক তাই। বন্দুকের শখ আছে এটা বলা আসলে বারণ। সকলের নয়, কারও কারও ক্ষেত্রে এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা আছে। নৈতিকতার ধ্বজাধারি। এইসব ভাবের ঘরের চোরেরা ভাবে, বন্দুকের শখ আছে বললে হিংসাকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়। আর হিংসাকে প্রশ্রয় দিলে, অহিংস না-হয়ে উঠতে পারলে বা অহিংসা নিয়ে কথা না বললে, তারা আর ইন্টেলেকচুয়াল হিসেবে অতটা পাত্তা পাবে না।
দেখুন কথায় কথায় কোথায় চলে এসেছি। বন্দুকের শখ আমার চিরকালের। মেলা-টেলায় গেলে আমার কাজই ছিল টিপ করে বেলুন ফাটানো। আমার টিপ ছিল সাংঘাতিক। ঘুরন্ত বেলুনও বলে বলে মেরেছি। শেষে পেরেকটা দুলিয়ে দিতে বলতাম দোকানদারকে। ও দুলিয়ে দিত। আমি দুলন্ত পেরেককে টিপ করতাম। মারতেই হাততালি। ততক্ষণে চারোতরফ লোক জমে গেছে যে!
প্রথম বন্দুক পেলাম যখন আমি সেভেনে পড়ি। এয়ার গান। বাড়ির ছাদ থেকে একটা কাক মেরেছিলাম, তারপর সে কী কান্ড! কয়েকশ' কাক জাস্ট বাড়িটাকে ঘিরে ফেলল! গোটা একটা দিন আমরা, কী বলব, কেবল কা-কা কা-কা, দুর্বিষহ কাটালাম। কিন্তু এয়ার গান আর যাই হোক, গান নয়! যে চায় আসল গান, তার মন এয়ার গানে ভরবে কেন? স্রেফ এজন্যে আমি টাকাও জমাতে শুরু করি। না, এমনটা ভাবার কোনও কারণ নেই যে আমি ক্লাস সেভেন থেকে বন্দুক কেনার জন্য টাকা জমাচ্ছি। টাকা আমি জমাচ্ছি। আরও অনেক পর থেকে, যখন আমি রোজগার করা শুরু করেছি। আবার ব্যাপারটা এমনও নয় যে কেবল আমিই টাকা জমাচ্ছি, আরও অনেকেই টাকা জমাচ্ছে স্রেফ একটা বন্দুক কিনবে বলে। আমি জানি এখানেও যাঁরা উপস্থিত তাঁদেরও অনেকেই টাকা জমাচ্ছেন একটা বন্দুক কিনবেন বলে।'
একজন বিচারক এবার মুকুন্দ বরাটকে বাধা দিলেন। অপ্রাসঙ্গিক কথা বলার দরকার নেই। মহামান্য বিচারক স্পষ্ট জানালেন এর পর থেকে অভিযুক্ত মুকুন্দ বরাটকে কেবল প্রাসঙ্গিক কথা বলার অনুমতি দেওয়া হল। মুকুন্দ ক্ষমা চাইল। আবার একটু জল খাওয়ার অনুমতি চাইল। বিচারকের সম্মতি পেয়ে জল খেয়ে মুকুন্দ আবার শুরু করল।
রুহিত অনেক ভেবেছে কেন এমন আচরণ মুকুন্দ বরাটের। থই পায়নি। কেবল মোহমিথ্যা, মোহমায়ার জগতে বিচরণকারী এক অলীক পাষণ্ড আর তার খেয়াল, কে জানে!
ঘাতক মুকুন্দ বরাটের নিরুত্তাপ আত্মকথন আমরা আর একটু শুনেও নিতে পারি। রুহিতও কান পাতে বরাটের কথায়।
‘সম্ভবত আমি প্রায় চল্লিশ মিনিট ধরে গুলি চালিয়েছি। লাশের স্তুপের ওপর দিয়ে হেঁটেছি। সেই স্তুপে কেউ নড়ছে-চড়ছে দেখলেই আবার রাইফেলটা ঘুরিয়ে ডিগ-ডিগ-ডগ-ডিগ — ফিনিশ! লাথি মেরে মরেছে কিনা দেখে নিয়েছি।
তবে খুব অবাক হয়েছি পুলিশ আমায় এতক্ষণ সুযোগ দিল কেন? আরও আগে ওদের আমাকে ধরা উচিত ছিল। তবে হ্যাঁ, পুলিশ যখনই আমায় ধরতে চেয়েছে, আমি বিনা বাধায় ওদের হাতে ধরা দিয়েছি। আর একটা ব্যাপারে আমি ভয়ানক অবাক হয়েছি যে পুলিশ কেন আমাকে গুলি চালিয়ে মেরে দেয়নি। মিস্টার বিক্রম এখানে আছেন, উনি দিতে পারবেন। এর উত্তর। অবশ্য যদি মেরে দিত, এখানে দাঁড়িয়ে এতগুলো কথা আর বলতে পারতাম না। ধন্যবাদ মিস্টার বিক্রম। তবে এটা ঠিক যার হাতে মিলিটারি অ্যাসল্ট রাইফেল, তাকে পুলিশ একটু ভয় পাবেই!'
রাগে রুহিত দপদপায়। কিছু করার নেই। সিগারেট খেতে পারলে হত। কিন্তু এখান থেকে বেরোবে কার সাধ্য। লাঞ্চ-ব্রেক হলে বেরোনো যাবে। স্পেশাল আদালত কক্ষে সবটাই স্পেশাল। তিনজন বিচারক। দু-জন পাবলিক প্রসিকিউটার। ডিফেন্সের কেউ নেই। আহত বা নিহতদের পক্ষে আরও বাহান্নজন আইনজীবী। প্রত্যক্ষদশী, আহত ও নিহতদের আত্মীয়-বন্ধু মিলিয়ে উপস্থিত আরও শ’তিনেক লোক। বিচার কভার করতে আসা দেশ-বিদেশের প্রায় দুশ সাংবাদিক। এরা সকলেই বিচারসভায় উপস্থিত থাকার জন্য আবেদন করেছিল। এত লোকের সংস্থান এই ঘরে হবে না। তাই বাইরেও ভিড়। বাইরে স্পেশাল ফোর্সই আছে শ'খানেক। রুহিত মুখ গুজে বসেই থাকে। মুকুন্দ বরাট বলেই চলে।
তবে ওর যে বন্দুকের শখ ছিল ভালোমতো, সেটা ওর বন্ধুরা বলেছে। রুহিত এই ক'দিনে এসব জেনেছে। মুকুন্দের পুরনো বন্ধু-বান্ধবরা এইসব বলেছে। মেলায় গেলে বেলুন ফাটিয়েই ওর সময় কাবার। বন্দুকের দোকান থেকে নড়ত না। আরও ছোটাবেলায়, পুজোয় খেলনা বন্দুকে ক্যাপ ফাটাতো বিরামহীন। দোল খেলার পিচকারিটাও ছিল একটা বন্দুক। একটু বড় হয়ে যখন ধোঁয়া গিলতে শিখল, লাইটারটাও কিনল একটা পিস্তল। চাঁদনী থেকে বহুঘুরে এ পিস্তল-লাইটার সে বাগায়। ট্রিগার টিপলে যার মুখ দিয়ে ভস করে বেরোয় আগুন।
মহামান্য আদালত সাময়িক বিরতি ঘোষণা করেন। এরপর আবার শুনানি শুরু হবে ব্রেকের পরে। খানিকটা অনুত্তেজিত ভঙ্গিতে, মানে, স্বরের তেমন কোনও ওঠা-নামা না করিয়ে, ঘাতক মুকুন্দ বরাট তার কথা বলছে। আত্মপক্ষ সমর্থনে আদালত তাকে এই অনুমতি দিয়েছে যে, সে তার নিজের কথা নিজেই বলতে পারবে। এটাও ঠিক, ঘাতক কোনও আইনজীবীও পায়নি যে বা যাঁরা ওর হয়ে কিছু বলবেন। কলকাতা শহরে প্রকাশ্য দিবালোকে, ঠিক দিবালোক নয়, সন্ধ্যালোক বলাটাই যথাযথ হবে, সন্ধে সাড়ে ছ'টায় নিউমার্কেটের মতো বাজার এলাকায় লোকটা অটোমেটিক রাইফেল থেকে এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে খুন করেছে শিশু ও নারীসহ একানব্বইজনকে! সত্যিই এমন ভয়াবহ হত্যাকান্ড যে ঘটাতে পারে, তার হয়ে কে-ই বা আদালতে দাঁড়াবো! আইনজীবীরা সকলে একজোট হয়ে সিদ্ধান্ত নেন, এ নরাধমের হয়ে তারা কেউ সওয়াল করবেন না। কিন্তু গণতান্ত্রিক দেশের বিচারব্যবস্থায় তা হতে পারে না। ঘটনার ভয়াবহতা আর গুরুত্ব বিচার করে উচ্চ ন্যায়ালয় এক স্পেশাল কোর্টই বসিয়েছেন মুকুন্দ বরাটের বিচারের জন্য। সেই বিশেষ বিচারসভার হুকুমে তার জন্যে উকিল নিয়োগ হয়। কিন্তু সে উকিল প্রত্যাখ্যান করে। নিজেই নিজের সওয়াল করতে চেয়ে সে আদালতের অনুমতি চায়। পেয়েও যায়।
বিরতি শেষ। রুহিতের সিগারেট খাওয়াও। এককাপ চা-ও সে এই সুযোগে খেয়ে নিতে পেরেছে।
রুহিত বিক্রম এই ক'দিনে বরাটের যাবতীয় ঠিকুজি-কুষ্ঠি গুলে খেয়েছে। ব্যাটার তিনকুলে কেউ নেই। মা-বাবা গত। এক বোন ছিল। সে-ও এখন বিয়ে-শাদি করে বিদেশে। মুকুন্দের পুরনো ঠেকের বন্ধুদের থেকে জানা যায়, তার নাকি এক প্রেমিকাও ছিল। পরে সুর কেটে যায়। সে মেয়ে থাকে শিলিগুড়ি। সুভাষপল্লি। নাম পায়েল রুদ্র। রুহিত শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটকে দিয়ে খোঁজ করিয়ে সে-মেয়ের সঙ্গে দেখা করে। পায়েল শিলিগুড়ির সিটি মার্কেটের কাছে এক মিউজিক স্কুলের পিয়ানো টিচার। প্রথমে যথারীতি অস্বীকার, তারপর চাপ দিতেই অনেক কথা বলে পায়েল।
পায়েলঃ জানেন আমি ভাবতেই পারছি না, একদিন এই লোকটার প্রেমে পড়েছিলাম। কলকাতায় একটা প্রোগ্রামে গিয়ে আলাপ হয়েছিল। আপনি শুনে অবাক হচ্ছেন যে এমন একটা খুনি পিয়ানো শুনতে এসেছিল! সত্যিই এসেছিল। আলাপ হয়েছিল এক বন্ধুর মারফৎ, প্রোগ্রামের শেষে। ফোন নাম্বার বিনিময়, মেল আইডি। বেশ ঘনঘন ফোন করত। মেল করত। প্রেমপত্র যেমন হয়। প্রায়ই আসত শিলিগুড়ি। আমরা লাভা-লোলেগাঁও-রিশপ বেড়াতে গেলাম। ডুয়ার্স গেছি। প্রথম আলাপে বেশ চার্মিং লেগেছিল। ওর ফ্ল্যাটেও গেছি। না, ওখানে কোনও গান-টান আমি দেখিনি। আই মিন বন্দুক। তারপর আস্তে আস্তে খুটখাট ঝামেলা শুরু হল। আসলে হি ডিডিন্ট রেসপেক্ট মি। অ্যাকচুয়ালি, দেয়ার ওয়জ নো কেমিস্ট্রি বিটুউন আস। এনিওয়ে, ব্রেক-আপটা হয়ে গেল। বলতে পারেন আমিই উৎসাহী ছিলাম না। এখন মনে হচ্ছে ভাগ্যিস হয়েছিল ... একটা কথা বলছি স্যার, আমার সঙ্গে মুকুন্দের যে কোনও রিলেশন ছিল এটা লিক করবেন না, প্লিজ। ছোট শহরে থাকি। লিক হলে মিডিয়া-টিডিয়া মানে বুঝতেই পারছেন, আমি আর সুস্থভাবে বাঁচতেই পারব না স্যার!
পায়েলকে আশ্বাস দিয়ে বিক্রম চলে আসে। ইন্টারেস্টিং খুনি। পিয়ানো শোনে আবার বাদিকার প্রেমেও পড়ে! কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকিয়াট্রি, মেডিসিন অ্যান্ড ল বিভাগের অধ্যাপক ডাঃ মিলিন্দ বিশ্বাস শুনে বলেছিলেন, “এদের সব নর্মাল হবে। বুঝতেই পারবেন না, বাট হি কুড স্টিল হ্যাভ লস্ট কনট্যাক্ট উইদ দ্য রিয়্যালিটি!”
আজকের মতো আদালত শেষ। কাল আবার। তবে কাল সেকেন্ড হাফে শুরু হবে। মুকুন্দই বলবে। বলা তার এখনো বাকি। রুহিত বিক্রম কোর্ট থেকে বেরোয়। এসইউভি-র স্টিয়ারিং ঘোরাতে ঘোরাতে তাঁর ভ্রু-ও কুঞ্চিত হয়। অফিস যেতে হবে। লালবাজারে নিজের চেম্বারে ঢুকে একটা ফাইল বার করে। ক্যাজুয়াল্টি লিস্টটা একবার দেখতে হবে। মারা গেছেন দু-জন সাংবাদিক। এরা কোন চ্যানেলের? সন্দেশ নিউজ চ্যানেল। বেল বাজায়। সেন্ট্রি আসে।
‘এসিপি ক্রাইম!’
এসিপি ক্রাইম এসে বিক্রম কী চায় বুঝে নিয়ে বেরিয়ে যায়। বিক্রম প্রবেশ করে নেটে।
কিছুক্ষণের মধ্যেই এসিপি ক্রাইম দ্রুত খবর নিয়ে হাজির।
‘না, স্যার, ক্যামেরাটা সন্দেশের কাছে নেই। মোবাইলে সেদিন অনেকেই ছবি তুলেছে। ওগুলোই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সব চ্যানেল দেখাচ্ছে। সন্দেশও দেখাচ্ছে। মুকুন্দ যে দৃশ্যের কথা বলছে, ওই ফুটেজ ওরা পায়নি।’
কিন্তু ক্যামেরাটা তাহলে কোথায়? আমাদের কাছে নেই। চ্যানেলের কাছে নেই! তাহলে?
বিক্রম বেরিয়ে যায় অফিস থেকে। ফ্ল্যাটে ফিরে স্নান-টান করে একটা বড় পেগ ভডকা নিয়ে বসে। আবার নেটে ঢোকে। ফেসবুক লগইন করে। মুকুন্দ বরাটের প্রোফাইলে বোলায় চোখ। বহুবার দেখেছে এর আগে। আবার দেখে। মামুলি ইনফরমেশন। যেমন পাঁচ-পাবলিকের হয়। ভাললাগা সিনেমা — শোলে , দ্য ডে অব দ্য জ্যাকল, ক্লিন্ট ইস্টউড মুভিজ। ভাললাগা বই কিছু নেই। ফেভারিট মিউজিক — আর ডি বর্মন, কিশোরকুমার, মাইকেল জ্যাকসন। কোথাও পিয়ানো নেই। তিনশ' একান্ন জনের ফ্রেন্ডলিস্ট। সকলের গতিবিধিতে নজরদারী চলছে। যাদের সঙ্গে ইদানিং বেশি মেসেজিং বা চ্যাটিং হয়েছে তাদের বারকয়েক জেরা করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য কিছুই এখনও অধরা। খচখচানি একটাই, কারা আছে মুকুন্দের পেছনে?
রুহিত গাড়ি বার করে। সটান চলে যায় ইন্টারন্যাশানাল সেন্টার ফর সোস্যাল স্টাডিস-এর ডিরেক্টর ডাঃ ইলা মন্ডলের কাছে। ডোভার লেন। ডাঃ মন্ডল বাড়িতেই আছেন। প্রাক্তন ছাত্রকে দেখে আনন্দ পেলেন। স্টাডিতে বসে তাদের মধ্যে যা কথা হয় -
‘ম্যাডাম, মুকুন্দ বরাট একা, ওর পেছনে কেউ নেই এটা বিশ্বাস করতে পারছি না!’
‘ওর কথা অবিশ্বাস করার কারণ কী?’
রুহিত নীরব। ডাঃ মন্ডল রুহিতের থেকে সম্ভবত জবাব প্রত্যাশা করছেন।
‘রুহিত, সন্ত্রাসবাদ এখন একটা পেশা। ওকে অ্যাপোয়েন্ট করা হয়েছে।’
‘তার মানে পেছনে সংগঠন আছে?’
‘থাকতেও পারে, নাও পারে! ও নিজেই নিজেকে অ্যাপোয়েন্ট করেছে।’
‘একা!’
‘হতেই পারে রুহিত। এইরকম ঘটনা খুব বিচিত্র নয়। এ একপ্রকার আমাদের ভবিতব্য! মর্ডানিটি মন্থন করলে অমৃত বেরোবে, বিষও! মেনে নিতে হবে।’
নীরবতা। রুহিত একটা ম্যাগাজিন ওল্টায়। ডাঃ ইলা মন্ডল ছাত্রকে দেখে মৃদু হাসেন।
‘রুহিত, বহু স্ববিরোধিতা নিয়ে আমাদের আধুনিকতার প্রজেক্ট। মানবাধিকার আছে, পাশাপাশি সন্ত্রাসও আছে! দু-পক্ষেরই। স্টেট বা অ্যান্টি-স্টেট — সকলেই টেররাইজ করতে চায় । উদারনীতি নিয়ে গলা ফাটাচ্ছে। আবার অ্যাট দ্য সেম টাইম অথরিটিারিয়ান রুলও চলছে। অসংখ্য কালা কানুন! ডেমোক্রেসি নিয়ে বিরাট গর্ব আবার একটা যুদ্ধ-যুদ্ধ ভাব জারি, একটা সন্ত্রাসের আবহ —’
‘এটা তো ম্যাডাম নতুন নয়, এ তো চলছেই। ফর দ্য ইয়ার্স।’
‘প্রতিক্রিয়া এখন টের পাচ্ছি। তবে তোমার পয়েন্ট কারেক্ট। মুকুন্দ বরাটের মোডাস অপারেন্ডি দেখে সন্দেহ হবেই, অ্যাতো প্ল্যানড কাজকম্মোর পেছনে আরও লোক আছে। সংগঠন আছে।’
‘আমার চিন্তা ওখানেই ম্যাডাম! কিন্তু কিছু খুঁজে পাচ্ছি না। একানব্বইজনকে গুলি চালিয়ে খুন করল, আর পুরো ব্যাপারটাই মোটিভলেস, মেনে নেওয়া টাফ!’
‘রুহিত আমি বলব পুরনো ধারণাগুলো এবার ছুড়ে ফেলে দেওয়ার সময় এসেছে। টেররিজমের পেছনে সবসময় কোনও সন্ত্রাসবাদী দল থাকবে, একটা ইডিওলজি থাকবে, সামাজিক বা রিলিজিয়াস — তা নাও হতে পারে!’
রুহিত ম্যাডামের দিকে অবাক চোখে তাকায়।
‘ইনডিভিজুয়্যাল!’
বাড়ি ফিরতে ফিরতে রুহিত ভাবে, ভারতবর্ষে মর্ডানিটির প্যারাডক্স তো আরও বেশি। এবং বহুদিন ধরেই এ স্ববিরোধিতা চলছে। প্রতিক্রিয়ার ইতিহাসও কমদিনের নয়। নতুন মিলেনিয়ামের বছর বিশেক কেটে যাওয়ার পর এসব কথা উঠছে কী করে! লেফট, আল্ট্রালেফট, রাইট, এথনিক, আঞ্চলিক, রিলিজিয়াস - সন্ত্রাসবাদ তো এখানে ভান্ডার খুলে রেখেছে। এমনকি ব্যক্তিকেন্দ্রিক সন্ত্রাসবাদও নতুন নয়। তর্কের খাতিরে নাথুরামকে যদি ইনডিভিজুয়্যাল টেররিস্ট হিসেবেও দেখা হয়, তাহলেও সে গণহত্যা করেনি। তার মতো করে সে একটা মোটিভ নির্মাণ করেছিল।
কিন্তু মুকুন্দ বরাট সব হিসেব গোলমাল করে দিচ্ছে। এইরকম ঘটনা সভ্যতার ইতিহাসে ব্যতিক্রমী হলে ভাল হয়, কিন্তু তা যদি না হয়! মুকুন্দ যদি কোনও গুপ্ত সংগঠনের সদস্য হয়! ধরা পড়লে জঙ্গিরা দশটা সত্যি কথা বলে ঠিকই, কিন্তু তার পাশে আরও বিশটা মিথ্যে মিশিয়ে দেয়। যে মিথ্যা যাবতীয় ধোঁয়াশা তৈরি করে, মিথকে বুনিয়াদী করে। রুহিত। চঞ্চল হয়। কিন্তু কিছুই ঠাওর করতে পারে না। ল্যাপটপ খুলে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকিয়াট্রি, মেডিসিন অ্যান্ড ল বিভাগের অধ্যাপক ডাঃ মিলিন্দ বিশ্বাসের সঙ্গে আলোচনার রেকর্ডিংটা চালায়।
ডাঃ মিলিন্দ বিশ্বাসঃ চিকিৎসাশাস্ত্রের চোখে পাগলামি একরকম, আইনের চোখে আরেকরকম। ন্যায়-অন্যায় একটা রিলেটিভ ব্যাপার। আপনি যেটা ন্যায় ভাবছেন, আমি তাকে ন্যায় না-ই ভাবতে পারি। পারি তো? কিন্তু আইনের চোখে ন্যায়-অন্যায়ের একটা নির্দিষ্ট সংজ্ঞা আছে। একটা লোককে আমি তখনই সাইকোটিক বলব যখন সে এই আইনী ন্যায় ও আইনী অন্যায়ের ভেদাভেদ অনুধাবনই করতে পারে না। প্রাইমা ফ্যাসি, যেটুকু শুনেছি বা দেখেছি, মুকুন্দ বরাটকে সাইকোটিক বলা যেতে পারে। তবে আরও পরীক্ষা-নিরিক্ষা, ব্রেন-ম্যাপিং ইত্যাদি প্রয়োজন। ঠিক ইন্টারোগেট নয়, ওর কথা ওকেই বলতে দিলে আরও কিছু জানা যাবে।
রুহিত ভিডিওটা অফ করে। বলতে দিলে মানে! বলছে তো! মুকুন্দ আর কত বলবে! কাল আবার সারাদিন খানকির ছেলের বুকনি শুনতে হবে। ফোনের বাটন টেপে। এসিপি ক্রাইম।
‘খোঁজ পেলেন?’
‘কী স্যার?’
‘আমার একটা বল হুইচ ইজ লস্ট!’
‘স্যার!’
‘ক্যামেরা! ক্যামেরা!’ রুহিত চিৎকার করে।
‘ওহ, স্যার! না-মানে, পাত্তা লাগিয়েছি স্যার! স্ক্যাভেঞ্জার ইন-চার্জকে বলেছি।’
রুহিত ফোন কাটে। হতাশায় গালাগাল দিতে দিতে শাওয়ারের তলায় দাঁড়ায়।
বেলা দুটো দশ। আজও ব্যাপক ভীড়। বুম-ক্যামেরা নিয়ে সংবাদমাধ্যমের হুড়োহুড়ি সবথেকে বেশি। গাড়ি থেকে নামতেই রুহিতকে ছেকে ধরে তারা। বুম এড়িয়ে সে ঢুকে যায় আদালতে। চোখেমুখে তার পুলিশি ভাবলেশহীনতা। মুকুন্দ বরাট শুরু করে দিয়েছে।
'বিস্ফোরক বানাবারও চেষ্টা করেছিলাম একবার। একটা গাড়ির মধ্যে পুরে সেটা ঢুকিয়ে দেব বাজার এলাকায় বা পুজোর ভাসানে বা কোনও মিছিলে। নিখুঁত সেট করা টাইমার মাহেন্দ্রক্ষণ আসতেই — দু-উ-উ-উ-ম! মন কেড়ে নেওয়া ভিশুয়্যাল। ৯/১১-এর বিমান-বোমা ঢুকে যাচ্ছে টুইন টাওয়ারে — এই ভিশুয়্যাল দেখবেন আমরা হাঁ করে দেখি ! স্বীকার করি বা না-করি দৃশ্য হিসেবে ফাটাফাটি আকর্ষণীয়! চোখ সরানো যায় না। কোথাও না কোথাও এন্টারটাইন করেই। তিন হাজার লোক মারা যাচ্ছে, সত্যি, কিন্তু সে তো পরের ব্যাপার। আগে তো দৃশ্যটা! আমি জানি প্রত্যেকেই আমরা হাঁ করে দেখেছি। উপভোগ করেছি। টিভিতে যতবার দেখাবে বারবার দেখবো!'
মুকুন্দ যখন নিজের কথা বলেই চলেছে, ঠিক সেইসময়, গড়িয়াহাট মোড়ের একটু আগে উড়ালপুলের নীচে ট্রাফিক সিগনালে থমকানো পাবলিক ও প্রাইভেট গাড়ির মিছিল। বালিগঞ্জ ফাঁড়ির দিক থেকে আসা একটা ট্যাক্সি সেই সারির শেষ গাড়িটার পেছনে এসে দাঁড়াল। ভাড়া মিটিয়ে নেমে পড়ল এক মাঝবয়সী পুরুষ। কাঁধে ঝোলানো জুটের চওড়া একটা ব্যাগ। রাস্তা টপকে একটু হেঁটে সে গগন অ্যাপার্টমেন্টের গেট দিয়ে ঢুকে গেল। সিকিউরিটি চেকিং সাঙ্গ হল দ্রুতই। আগন্তুক বুঝল তার আগমন-সংক্রান্ত তথ্য সিকিউরিটিকে আগেই জানানো আছে। ক্যাপসুল লিফট ধাঁ নিয়ে গেল একুশ তলায়। নাম্বার মিলিয়ে দরজার কাছে এসে বেল বাজায়। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে খুলে যায় দরজা। ট্র্যাক শ্যুটের নীল লোয়ার আর কালো টি-শার্ট পরিহিত এক যুবক চোখে হাসি নিয়ে আগন্তুককে আবাহন করে। আগন্তুক ভেতরে ঢুকে যায়। দরজা বন্ধ হয় সশব্দ।
কাঁধ থেকে জুটের ব্যাগটা নামায়। ভেতর থেকে বার করে আয়তাকার এক চ্যাপ্টা বাক্স। তারও ভেতর থেকে বিভিন্ন পার্টস। তারপর দক্ষ হাতে সে যখন জুড়ে জুড়ে লক-স্টক-ব্যারেল সমেত বস্তুটি দাঁড় করাল, দেখা গেল, যা ছিল বেড়াল হয়ে গেল আস্ত একটা রাইফেল। সেলফ লোডেড। অটোমেটিক।
রাইফেলটা হাতে পেয়ে স্তব্ধ হয় লোকটা। কতদিন, কতদিন ধরে শুধু এই জিনিসটার অপেক্ষায় ছিল সে! আহা! যন্ত্রটা ছোঁয়। তারপর ব্যারেলে একটা চুমু খায়। পরম আবেশে জড়িয়ে ধরে। আধবোজা চোখে খুলতেই দেখে আগন্তুক মিটমিটি হাসছে। তারপর গভীর গলায় বলে, প্রত্যেকের একই রিঅ্যাকশন। লোকটা বলল, মানে? ডেলিভারিম্যান বলল, যতগুলো এ জাতীয় মডেল ডেলিভারি দিলাম, প্রথমে সবাই এভাবেই রিঅ্যাক্ট করে! লোকটা মনে মনে হাসে। করবে না! একটা মিলিটারি অ্যাসল্ট রাইফেল হাতে নিয়ে এই প্রতিক্রিয়া হবে না তো কী হবে! শুটিং ক্লাবে অ্যাসল্ট টাইপ রাইফেল হাতে পাওয়ার সুযোগ কোথায়। মিলিটারি মডেলের বেশ কিছু সিভিলিয়ান মডেল আছে বটে, কিন্তু সেগুলো কী আর এ জিনিস!
হেকলার অ্যান্ড কখের এই চারশো ষোল মডেল ভারতীয় সেনার কাছেও নেই। এই মডেল এশিয়ার কোনও দেশই ব্যবহার করে না। সার্বিয়ার স্পেশাল ব্রিগ্রেড করে আর আমেরিকান আর্মিতো করেই। ইউএস নেভি সিল অ্যাবোটাবাদে বিন লাদেনকে মারতে এই অস্ত্রই কাজে লাগিয়েছিল। মালটা দেখে মনে হয় ব্যাপক ভারি, তা কিন্তু নয়, মাত্র কেজি তিনেক ওজন। লম্বায় দু-ফুট তিন ইঞ্চি।
টুকিটাকি কয়েকটা জিনিস জেনে নিয়ে ডেলিভারিম্যানকে ছেড়ে দেয় লোকটা। দরজা অবধি এগিয়ে দেয়। হাত নাড়ে। দরজা বন্ধ করে এসে মেঝেতে গোটা বিশেক ডন মারে। হাতের পেশিগুলো ফুলে ওঠে। ট্রেড মিলে স্পিড বাড়িয়ে একটু হেঁটে নেয়। বেশ চনমনে লাগছে।
ব্যালকনিতে আসে। আকাশছোঁয়া ফ্ল্যাটবাড়ির একুশতলার বাসিন্দা সে। অ্যাপার্টমেন্টের নামও গগন।। গগন অ্যাপার্টমেন্ট। একুশ তলার ব্যালকনি থেকে নীচে তাকায়। লোক থইথই গড়িয়াহাট। অদৃশ্য রাইফেল হাতে শ্যাডো করে। যেন এখান থেকেই নিখুঁত নিশানায় ঝাঁঝরা করে দেবে চলমান শরীর। আবার ঘরে আসে। রান্নাঘরে যায়। গ্যাস জ্বালিয়ে ফ্রাই প্যানটা বসায়। চিজ দিয়ে একটা ডাবল ডিমের ওমলেট বানায়। বেশ খানিকটা চিলি সস ঢেলে চামচ দিয়ে কেটে কেটে খায়। তারপর ঢকঢক করে লিটার খানেক জল। টয়লেট থেকে একবার ঘুরে এসেই পোষাক পরতে শুরু করে।
'আপনাদের হয়ত মনে হতে পারে, এত প্ল্যান এত কান্ড এত কিছু করলাম কেন? এত দিন ধরে এত পয়সা খরচ, কেন? স্রেফ কিছু মানুষ মারব বলে? সত্যি প্রশ্নটা আমিও ভেবেছি। উত্তর পাইনি। পাওয়া সম্ভব নয়। সবকিছুর উত্তর হয় না। উত্তর হয়তো হয়, আমি দিতেও পারি, কিন্তু বোঝা যাবে না! কে জানে আমি হয়তো বোঝাতেও পারব না। তাছাড়া আমাদের পুলিশ, পার্লামেন্ট, কোর্ট, মিলিটারি সব কিছু বুঝে ফেলবে, জেনে ফেলবে, এমনটা তো সবসময় নাও হতে পারে। তাদের বুদ্ধি, বিবেচনা, বাউন্ডারির বাইরেও কত কী-ই ঘটে যেতে পারে, ওরা টেরও পাবে না। যখন পাবে, তখন খেল খতম!
গত পুজোর আগে আমি কাজটা করলাম, আবার একটা পুজো এসে গেল। বিচার শুরু হয়েছে এখন। বাইরের জগতের সঙ্গে আমার যোগাযোগও নেই। জানি না, হয়তো আমারই মতো কোনো বন্দুকবাজ তৈরি হচ্ছে গোকুলে। যার হাতে সেলফ লোডেড রাইফেল। পা টিপে টিপে এগিয়ে যাচ্ছে এলোপাথাড়ি গুলি চালাবে বলে। কোনো মিছিলে বা কোনো বাজার-অঞ্চলে, মল-এ। বলা যায় না, হয়তো ঠিক এই সময়েই সে পৌঁছে গেছে সন্তর্পণ, হাতে রাইফেল, কোমরে পিস্তল, কোনও বাজারে! আমি বেছেছিলাম নিউমার্কেট, সে হয়ত গড়িয়াহাট! (মুকুন্দ আলতো তাকিয়ে নেয় রুহিতের দিকে) যেখানে রাস্তার ধারে বিকিকিনির হাট। সন্ধের মুখে প্রচুর মানুষ। ছেলে-বুড়ো-মেয়ে-শিশু। কিলবিল করছে শুধু মানুষ আর মানুষ। ঘাতক হাতে তুলে নিচ্ছে রাইফেল। পরনে যুদ্ধসাজ। ট্রিগারে আঙ্গুল।
যাদের আমি মেরে ফেলেছি তাদের অনেক আত্মীয়-বন্ধুরা এখানে আছেন। ক্ষমা চাওয়ার কোনো মানে নেই, কারণ ক্ষমা চাইলে তো আর ওরা ফিরে আসবে না। তাই ক্ষমা চাইছি না...'
রুহিত বিক্রম পাগলের মতো কোর্টরুম থেকে বেরোবার চেষ্টা করে। মুকুন্দের শেষ কথাগুলো আর তার কানে ঢোকেনি। গড়িয়াহাট শুনেই সে উঠে পড়ে। কিন্তু ভয়ানক ভীড় ঠেলে সে বেরোতে পারে না। মোবাইলটা হাতে নেয়। কোর্টরুমে মোবাইল ব্যবহার নিষিদ্ধ। চাপা স্বরে 'সাইড প্লিজ, সাইড প্লিজ' বলতে বলতে এগোয় রুহিত। মোবাইলে কথা বললে, অন্তত তার মাপের অফিসারের তরফ থেকে, বেশ বেয়াদপি হবে। আদালত অন্যভাবে নিয়ে নিতে পারে। রুহিত কী করবে বুঝতে পারে না। প্রবল ঠেলেঠুলে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায় নিজেকে দরজার কাছে।
কালো স্কিন টাইট্স্টা লোকটা শরীরে গলিয়ে নেয়। পকেট পাউচে ঢোকায় তিনটে হ্যান্ড গ্রেনেড আর পিস্তলটা আটকে নেয় স্ট্র্যাপে। দুটো তিরিশ রাউন্ডের স্ট্যালাগ ম্যাগাজিনও ঢুকিয়ে নেয় পাউচে। একশ' রাউন্ডের বিটা-সি ম্যাগাজিন লোড করাই আছে রাইফেলে। রাইফেলটা ঢুকিয়ে নেয় গিটার বক্সে। খাপে খাপ। হবে নাই বা কেন? হেখলার অ্যান্ড কখের চারশো ষোল এসএলআরের লেন্থ সাতাশ ইঞ্চি মাপে আগেই তৈরি করে রেখেছিল এই গিটার বাক্স। এখানে গিটার থাকবে থোড়িই।
স্কিন টাইট্স্-এর ওপরে পরে নেয় ব্রু জিনস আর একটি ঢোলা খাদির পাঞ্জাবি। কাঁধে বুলিয়ে নেয় গিটার-বাক্সটা। দরজা বন্ধ করে তালা দেয়। চাবিটা চালান করে প্যান্টের হিপ-পকেটে। এবার লিফট। লিফটটা নামছে। বাটন টেপে লোকটা। লিফট থামে। কাঁধ থেকে গিটার বাক্সটা এবার হাতে। লিফটম্যান মৃদু হাসে। প্রত্যুত্তরে মুচকি ফিরিয়ে দেয় লোকটা। ঢুকে যায় অন্দরে। লিফটের দরজা বন্ধ হয়। মাঝপথে কেউ না উঠলে সাঁ নেমে যাবে নিচে। আর মাত্র কয়েক সেকেন্ড।
রুহিত। আর পারে না। যা থাকে কপালে। পায়ের জঙ্গল ঠেলে বেরোতে বেরোতেই এসিপি ক্রাইমের নাম্বার টেপে। রিং হচ্ছে। শালা ধরে না। কেন! এসিপি ক্রাইম যখন 'হ্যালো, স্যার” বলল, রুহিত কোনোরকমে নিজের শরীরটাকে টেনে বার করে এনেছে। দরজা দিয়ে।
‘অ্যানাদার মুকুন্দ বরাট অ্যাট গড়িয়াহাট! হাতে এসএলআর। ফোর্স নিয়ে বেরিয়ে যান। ইনফর্ম গড়িয়াহাট পিএস অ্যাট ওয়ান্স! বাসন্তী দেবী কলেজ থেকে ওদিকে বিজন সেতু, এদিকে বালিগঞ্জ শিক্ষাসদন থেকে ওদিকে গোলপার্ক ফোর্স ডেপ্লয় করুন। ট্র্যাফিক আটকে দিন। আর বাঞ্চোতকে শ্যুট অ্যাট সাইট! রিপিট, শুট অ্যাট সাইট!’
এসিপিকে ছেড়ে রুহিত সিপির নাম্বার টেপে, প্রচুর ফোর্স চাই।
লিফট থেকে নামে লোকটা। পায়ে পায়ে পেরোয় রাস্তা। ফাঁড়ির দিক থেকে আসে ঠিক গড়িয়াহাট মোড়ে। উড়ালপুলের নিচে যায়। কাঁধ থেকে নামায় গিটারের বাক্সটা। খোলে। রাইফেলটা হাতে তুলে নেয়।
লেখক পরিচিতি:
দেবতোষ দাশ জন্ম ১১ জানুয়ারি, ১৯৭২। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক সাহিত্যে স্নাতকোত্তর। প্রকাশিত উপন্যাস: হলুদ কোকাবুরা, জলের প্রতিভা, বিন্দুবিসর্গ, সন্ধ্যাকর নন্দী ও সমকালীন বঙ্গসমাজ, কামসূত্র। গল্প সংকলন: ধর্ষণের ১৮ দিন পর, একটি কাঁঠাল ও পাকিস্তানের গল্প। লিখেছেন বাচ্চাদের জন্য নভেলা ‘ভূতের নাতি ভোলামন’। লেখেন নাটকও। কিংবদন্তী নাট্যদল নান্দীকার-এর হাত ধরে নাট্যজগতে তাঁর প্রবেশ। নাটক ‘ও চাঁদ’ লিখে পেয়েছেন ‘সুন্দরম পুরস্কার’। পেয়েছেন মোহিত চট্টোপাধ্যায় নামাঙ্কিত ‘মোহিত সম্মান’। ‘ঘাতক@গড়িয়াহাট’ গল্পটি ২০১৩ সালে রবিশংকর বল সম্পাদিত ‘শিলাদিত্য’ পত্রিকার উৎসব সংখ্যায় প্রকাশিত।


1 মন্তব্যসমূহ
As usual, দারুণ রুদ্ধশ্বাস একটা থ্রিলার আর তার সঙ্গে নাগরিক সমাজের জন্য একটা সিরিয়াস সামাজিক মেসেজ।
উত্তরমুছুন