দারুণ দাহনবেলা, জনহীন পথে মরীচিকাজাল ফেলা
দীপেন ভট্টাচার্য
দারুণ অগ্নিবাণে রে হৃদয় তৃষায় হানে রে॥
রজনী নিদ্রাহীন, দীর্ঘ দগ্ধ দিন
আরাম নাহি যে জানে রে॥
পৃথিবী বদলাচ্ছে। জলবায়ু হয়ে উঠছে তীক্ষ্ণতর। মানুষ কি বাস করতে পারবে এই নতুন নিদাঘ পরিবর্তিত পৃথিবীতে? এই শতাব্দীর প্রতিটি বছর গত শতাব্দী থেকে হয়েছে উষ্ণতর। পৃথিবীর যেখানেই আমরা থাকি না কেন জলবায়ু পরিবর্তন এখন আমরা নিজেদের অভিজ্ঞতা দিয়ে বুঝতে পারছি। পৃথিবীর রথী মহারথীরা এই নিয়ে ভাবছেন, কিন্তু তাঁরাও বিভিন্ন ধরণের স্বার্থ, পুরাতন চিন্তায় আবদ্ধ। প্রায় দেড় শ বছর আগে ভিক্টর হুগো (উগো) লিখে গিয়েছিলেন, ‘হে নাগরিকেরা, ভবিষ্যতে থাকবে না অন্ধকার বা বজ্রপাত, থাকবে না অসহ্য অজ্ঞতা বা রক্তাক্ত প্রতিহিংসা…ভবিষ্যতে কেউ কাউকে হত্যা করবে না, পৃথিবী উজ্জ্বল হয়ে বিকিরণ করবে আলো, আর মানব জাতি ভালবাসবে।’ হুগোর এই আশাবাদ কতখানি কার্যকর হয়েছে তা পাঠক জানেন ভালভাবেই। তবুও এই নৈরাশ্যের মধ্যেও মানুষের যে একেবারে অগ্রগতি হয়নি তা নয়; জাতীয়তাবাদ, ধর্মবাদ, অর্থনৈতিক স্বার্থবাদের মধ্যেও সার্বিকভাবে মানুষের স্বাস্থ্যগত ও জীবনের মান ভিক্টর হুগোর সময় থেকে উন্নত হয়েছে।
এক শ বছর আগে অর্থনৈতিকভাবে উন্নত বিশ্বের মানুষ ভাবত আমাদের এই সময়ে উড়ন্ত ট্যাক্সি চলবে, মানুষ সমুদ্রের নিচে বাস করবে, কিন্তু তারা কেউই আমাদের জীবনে গণনাযন্ত্র, আন্তর্জাল, বা মুঠাফোনের আগমন চিন্তা করেনি। এই সূক্ষ্ণ কারিগরি উদ্ভাবন মানুষের সভ্যতাকে আমূল বদলে দিয়েছে। এর অর্থনৈতিক প্রভাব নিশ্চয় সুদূরপ্রসারী, এমনকী ধনাত্মক, কিন্তু একইসাথে সেটি আমাদের জাগতিক জীবনের গুণগত মানের উন্নতি করেছে কিনা তা নিয়ে একটা সন্দেহ থেকে যাচ্ছে। আমাদের দৈনন্দিন কার্যক্রমের একটা বড় অংশ আন্তর্জালের সামাজিক মাধ্যমে ব্যয় হচ্ছে, এটি আমাদের মানসিক স্থৈর্য কিছুটা হলেও যে বিঘ্নিত করছে তাই আমার মনে হয়। জলবায়ু পরিবর্তন, গণতন্ত্র বনাম একনায়কতন্ত্র, সৃজনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আবির্ভাব – সব মিলিয়ে আমরা এক ক্রান্তিলগ্নে বাস করছি।
পৃথিবীর ক্রমবর্ধমান উষ্ণতায় বিচলিত হয়ে আমি chatGPTকে (যান্ত্রিক বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এরকম বেশ কয়েকটি প্রোগ্রাম আন্তর্জালে পাওয়া যাবে) জিজ্ঞেস করলাম (ইংরেজীতে) – সাহিত্যিকরা ‘তাপকে’ একটি সাহায্যকারী যন্ত্র বা অবলম্বন হিসেবে কীভাবে ব্যবহার করেছেন। এর ফলে আমি যে উত্তর পেলাম তা গত শতাব্দীর একটি পিএইচডি অভিসন্দর্ভের ভূমিকা বা সারসংক্ষেপ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। বাংলায় প্রশ্ন করে সদুত্তর পাইনি, তাই ইংরেজীতে সে কী বলেছে তার দু এক লাইন তুলে দিচ্ছি - লেখকরা বিষয়বস্তু, পরিবেশ এবং চরিত্রের বিকাশকে উন্নত করতে বিভিন্ন উপায়ে সাহিত্যে ‘তাপ’কে ‘ডিভাইস’ হিসেবে ব্যবহার করেন। প্রতীকী হিসেবে ‘তাপ’ আবেগ, আকাঙ্ক্ষা, তীব্রতা বা বিপদের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে; বিপরীতভাবে, এটি নিপীড়ন, দমন বা স্বাধীনতার অবক্ষয়তা দেখাতে পারে। ‘অসহ্য তাপ’ চরিত্রগুলির মধ্যে দ্বন্দ্ব এবং উত্তেজনার জন্য একটি অনুঘটক হিসাবে কাজ করতে পারে। চরিত্রের মানসিক অবস্থাকে প্রতিফলিত এবং প্রসারিত করতে এটিকে ব্যবহার করা যেতে পারে – স্ট্রেসের মধ্যে থাকা বা তীব্র আবেগ অনুভব করা চরিত্রগুলি তাপের শারীরিক প্রভাবগুলি অনুভব করতে পারে (ঘাম, রক্তিম মুখ, বা হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি)। একটি গল্পে রূপান্তর বা টার্নিং পয়েন্টগুলি চিত্রিত করার জন্য তাপও ব্যবহার করা যেতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে, তাপ আসন্ন ঘটনার পূর্বাভাস দিতে পারে বা আখ্যানের পরিবর্তনকে নির্দেশ করতে পারে। এটি ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা, আসন্ন দ্বন্দ্ব বা এমনকি বিপর্যয়মূলক ঘটনার ইঙ্গিত দিতে পারে ইত্যাদি।
chatGPTর উত্তরে যে আমি বিমর্ষ হলাম তা বলাই বাহুল্য। আমার দিক থেকে কোনোরকম বুদ্ধিবৃত্তিক বিনিয়োগ ছাড়াই সেটি সাহিত্যে তাপের ব্যবহারের ছ’টি ভিন্ন ভিন্ন দিক উল্লেখ করল। এরপরে যখন আমি তাকে নির্দিষ্ট উদাহরণ দিতে বললাম সেটি নিচের পাঁচটি রচনার কথা লিখল – (১) এফ স্কট ফিটজেরাল্ডের উপন্যাস The Great Gatsby যেখানে গ্রীষ্মের নিদারুণ তাপ চরিত্রগুলির তীব্র আকাঙ্ক্ষা এবং আবেগের রূপক হিসাবে কাজ করেছে। (২) টেনেসি উইলিয়ামসের নাটক A Streetcar Named Desire-এ গ্রীষ্মকালের নিউ অরলিন্সের উত্তপ্ততা পরিবেশের একটি বিশিষ্ট উপাদান হয়ে উঠে চরিত্রগুলোকে আরো অসহিষ্ণু করে তোলে। (৩) গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের উপন্যাস ‘নিঃসঙ্গতার একশ বছর’-এ মাকোন্দো জনবসতির উষ্ণতা ও আর্দ্রতা সেই জগতের স্থবিরতা এবং ক্ষয়কে প্রতিফলিত করে বিচ্ছিন্নতার একটি রূপক উপস্থাপনা হয়ে উঠেছে। (৪) উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের ম্যাকবেথ নাটকে ম্যাকবেথ তার সামনে একটি তরবারিকে তার তাপ-প্রভাবিত মস্তিষ্কের কল্পনা বলে মনে করছিল। রে ব্র্যাডবারির উপন্যাস "ফারেনহাইট 451"-এ তাপ একটি কেন্দ্রীয় বিষয়। রে ব্র্যাডবারি এই তাপমাত্রাটি বেছে নিয়েছিলেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাগজ পোড়ার প্রতীক হিসেবে, বই পোড়ানোর ধ্বংসাত্মক শক্তির প্রতিনিধি, জ্ঞান এবং মুক্ত ধারণার নিপীড়নমূলক নিয়ন্ত্রণ এবং দমনের প্রতীক হিসেবে।
বাংলায় chatGPT উদাহরণ দিতে সেরকম সড়গড় নয়, বরং যেগুলো দিল তা সবই ভুল। আমি বাংলায় এই সম্পাদকীয়টা লিখে দিতে বলেছিলাম, সে ভালই শুরু করেছিল, কিন্তু মাঝপথ থেমে গেল, অন্যদিকে ইংরেজীতে সে আমাকে একটি পূর্ণাঙ্গ সম্পাদকীয় লিখে দিল, শেষে খালি নামটা বসিয়ে দিতে বলল। এই কি আমাদের আর্টিস্ট সৃজনের শেষ? সাতদিন উদয়াস্ত খেটে আমি যা তৈরি করতে পারব এই যন্ত্র আমাকে মুহূর্তে গবেষণালব্ধ সারাংশ করে দেবে। আমি জানি আপনাদের কাছে হয়তো কোনো আশাবাদী বা ভিন্ন উত্তর আছে, কিন্তু শেষ কথাটি হচ্ছে – আমরা জানি না। আর্ট সৃষ্টি করা, কথামালা দিয়ে জগত গড়া, সঙ্গীতের মূর্ছনাকে কাগজে লিপিবদ্ধ করে নিজ হাতে মূর্ত করা – এগুলোর ভবিষ্যৎ কী? আপনি বলতে পারেন মানুষের সৃজনশীলতা দিয়েই তো এসব তৈরি, কাজেই তাকে অতিক্রম করতে হলে আবার মানুষেরই হস্তক্ষেপ লাগবে। কিন্তু এটা এমনই একটা ব্যাপার যেখানে যে এই ব্যাপারে বড় বিশেষজ্ঞ তার পক্ষেও এই বুদ্ধিমত্তার পথরেখা নির্ণয় করা মুশকিল। এই যান্ত্রিক মস্তিষ্ক সচেতন হবে না বটে, কিন্তু সে আপনার আমার চাইতে বুদ্ধিদীপ্ত, জটিল, সংবেদনশীল সাহিত্য সৃষ্টি করতে পারে, উন্নত বিশ্লেষণধর্মী পুস্তক আলোচনা করতে পারে – তখন কি শুধুমাত্র যন্ত্র দ্বারা উৎপাদিত বলে তা আমরা গ্রহণ করব না, পড়ব না, দেখব না? এটি যে এখনই হবে সেটা নয়, যান্ত্রিক বুদ্ধিমত্তা মানুষই তৈরি করেছে, মানুষই এইক্ষেত্রে শিক্ষকের ভূমিকা পালন করবে। মানুষের এই সৃষ্টি মানুষের সত্তাসৃষ্ট সৃজনকে অতিক্রম করলে আমাদের করণীয় কী হবে? প্রকৌশলের ক্ষেত্রে এই যান্ত্রিক উন্নয়ন আমাদের সাহায্য করে, কিন্তু আর্টের ক্ষেত্রে সমস্যাটির সহজ সমাধান নেই।
বাংলা সাহিত্যের সম্ভার এই সমস্ত যান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্তর্গত হয়নি এখনো। এই সমস্যাটা মূলত কারিগরি, বাংলা সাহিত্য আন্তর্জালে এখনো অপ্রতুল এবং যা আছে তা যন্ত্রের জন্য পড়ার উপযোগী নয়। তাই যখন বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের "আরণ্যক" উপন্যাসের সারসংক্ষেপ লিখতে বললাম, সে উত্তর দিল -
“আরণ্যক উপন্যাস বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মাধ্যমিক সাহিত্যিক কৃতি। এই উপন্যাসটি মাধ্যমিক ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য রচিত হয়েছে এবং এটি আধুনিক বিষয়বস্তু, বাঙালি সংস্কৃতি এবং সমাজের প্রবাদ-প্রবৃত্তিগুলির উপর ভিত্তি করে বিবেচিত হয়। উপন্যাসে মুখ্য চরিত্র হিসাবে প্রয়োগ করা হয় আরণ্যক, একজন তরুণ যুবক যার মনে সাধারণ অশ্রুলিপি থাকে এবং তাঁর পরিবেশের প্রতিদিনের জীবন প্রতিটি মুহূর্তে ব্যাপারটি খেলে দেয়। আরণ্যক ছাত্রজীবনের একটি অত্যন্ত উদাত্ত দিক উপস্থাপন করে, যেখানে তিনি শিক্ষার মাধ্যমে বিভিন্ন সমস্যা এবং দুঃখের মূল কারণ নির্ণয় করে ওপর উঠে যান।”
যন্ত্রের কাছে ‘আরণ্যক’ সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই, তাই সে তার কাছে বাংলা সাহিত্যের যে যৎসামান্য ভান্ডার আছে তার ওপর ভিত্তি করে মনগড়া একটি সারাংশ তৈরি করে দিল। অন্যদিকে লক্ষ করুন তার বাক্যগঠনের ত্রুটি, অর্থাৎ যে ভাষা মডেলটি সে ব্যবহার করে সেটি বাংলার জন্য এখনো প্রস্তুত হয়নি। ‘আরণ্যক’ সম্পর্কে সে যে ভুল তথ্য দিচ্ছে তার থেকে আমাদের আন্তর্জাল থেকে জ্ঞান আহরণের ব্যাপারে সতর্ক থাকা উচিত, এইক্ষেত্রে যাচাই বাছাইয়ের ভূমিকাটি বিশাল, তথাকথিত ‘ফেক নিউজে’ chatGPTও ভূমিকা রাখছে (অন্তত বাংলাতে)।
এই লেখাটি কিছুটা নৈরাশ্যপূর্ণ হল। বৈশ্বিক উষ্ণায়নে তাপমাত্রা বৃদ্ধি জীবনকে অসহনীয় করে তুলছে, সাথে পানীয় জলের সঙ্কট বাড়ছে, দাবানলও হচ্ছে সেরকম। কানাডার পূর্বাঞ্চলের দাবানল মার্কিন দেশের একটা বিরাট অংশের বায়ুদূষণের কারণ হচ্ছে। পৃথিবীর বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্ন নয়, প্রকৃতি তাদের ধরে রেখেছে একটু বড় হৃৎস্পন্দনে। আমি শেষ করতে চাই আরণ্যকের একটি অংশের উদ্ধৃতি দিয়ে। লবটুলিয়ায় দাবানল আসছে, তার আগে বিভূতিভূষণ লিখছেন -
“আজন্ম বাংলাদেশের দুপুর দেখিয়াছি – জ্যৈষ্ঠ মাসের খররৌদ্রভরা দুপুর দেখিয়াছি কিন্তু এ রুদ্রমূর্তি তাহার নাই। এ ভীম-ভৈরব রূপ আমাকে মুগ্ধ করিল। সূর্য্যের দিকে চাহিয়া দেখিলাম, একটা বিরাট অগ্নিকুণ্ড – ক্যালসিয়াম পুড়িতেছে, হাইড্রোজেন পুড়িতেছে, লোহা পুড়িতেছে, নিকেল পুড়িতেছে, কোবাল্ট পুড়িতেছে – জানা অজানা শত শত রকমের গ্যাস ও ধাতু কোটি যোজন ব্যাসযুক্ত দীর্ঘ ফার্নেসে একসঙ্গে পুড়িতেছে – তারই ধু ধু আগুনের ঢেউ অসীম শূন্যের ইথারের স্তর ভেদ করিয়া ফুলকিয়া বইহার ও লোধাইটোলার তৃণভূমিতে বিস্তীর্ণ অরণ্যে আসিয়া লাগিয়া প্রতি তৃণপত্রের শিরা উপশিরার সব রসটুকু শুকাইয়া ঝামা করিয়া, দিগদিগন্ত ঝলসাইয়া পুড়াইয়া শুরু করিয়াছে ধ্বংসের এক তাণ্ডব লীলা। চাহিয়া দেখিলাম দূরে দূরে প্রান্তরের সমুদ্রে কম্পমান তাপতরঙ্গ ও তাহার ওধারে তাপজনিত এক অস্পষ্ট কুয়াশা। গ্রীষ্ম-দুপুরে কখনো এখানে আকাশ নীল দেখিলাম না – তাম্রাভ, কটা-শূন্য, একটি চিল শকুনিও নাই – পাখির দল দেশ চাড়িয়া পলাইয়াছে। কী অদ্ভূত সৌন্দর্য ফুটিয়াছে এই রৌদ্রের। খরা উত্তাপকে অগ্রাহ্য করিয়া সেই হরীতকীতলায় দাঁড়াইয়া রহিলাম কতক্ষণ। সাহারা দেখি নাই, সয়য়েন হেডিনের বিখ্যাত টাকলা মাকান মরুভূমি দেখি নাই, গোবি দেখি নাই – কিন্তু এখানে মধ্যাহ্নের এই রুদ্রভৈরব রূপের মধ্যে সে-সব স্থানের অস্পষ্ট আভাস ফুটিয়া উঠিল।”
প্রকৃতির ভীষণতা বিভূতিভূষণ পৃথিবীতে বাস করার একটি অঙ্গ হিসেবে গ্রহণ করে নিচ্ছেন (এ ভাবেও হয়তো দেখা যেতে পারে যতক্ষণ না সেই ভীষণতা নিঃশ্বাস নেবার অনপুযুক্ত হয়ে যায়)। আর আমার আশা এই সম্পাদকীয়টি যান্ত্রিক বুদ্ধিমত্তার প্রোগ্রামগুলি পড়তে পারবে এবং ‘আরণ্যক’ সম্পর্কে সঠিক তথ্য দিতে উৎসাহিত হবে।
নিচের লিংকে ক্লিক করে গল্পপাঠ পড়ুন--



0 মন্তব্যসমূহ