দারুণ দাহনবেলা, জনহীন পথে মরীচিকাজাল ফেলা
দারুণ অগ্নিবাণে রে হৃদয় তৃষায় হানে রে॥
রজনী নিদ্রাহীন, দীর্ঘ দগ্ধ দিন
আরাম নাহি যে জানে রে॥
পৃথিবী বদলাচ্ছে। জলবায়ু হয়ে উঠছে তীক্ষ্ণতর। মানুষ কি বাস করতে পারবে এই নতুন নিদাঘ পরিবর্তিত পৃথিবীতে? এই শতাব্দীর প্রতিটি বছর গত শতাব্দী থেকে হয়েছে উষ্ণতর। পৃথিবীর যেখানেই আমরা থাকি না কেন জলবায়ু পরিবর্তন এখন আমরা নিজেদের অভিজ্ঞতা দিয়ে বুঝতে পারছি। পৃথিবীর রথী মহারথীরা এই নিয়ে ভাবছেন, কিন্তু তাঁরাও বিভিন্ন ধরণের স্বার্থ, পুরাতন চিন্তায় আবদ্ধ। প্রায় দেড় শ বছর আগে ভিক্টর হুগো (উগো) লিখে গিয়েছিলেন, ‘হে নাগরিকেরা, ভবিষ্যতে থাকবে না অন্ধকার বা বজ্রপাত, থাকবে না অসহ্য অজ্ঞতা বা রক্তাক্ত প্রতিহিংসা…ভবিষ্যতে কেউ কাউকে হত্যা করবে না, পৃথিবী উজ্জ্বল হয়ে বিকিরণ করবে আলো, আর মানব জাতি ভালবাসবে।’ হুগোর এই আশাবাদ কতখানি কার্যকর হয়েছে তা পাঠক জানেন ভালভাবেই। তবুও এই নৈরাশ্যের মধ্যেও মানুষের যে একেবারে অগ্রগতি হয়নি তা নয়; জাতীয়তাবাদ, ধর্মবাদ, অর্থনৈতিক স্বার্থবাদের মধ্যেও সার্বিকভাবে মানুষের স্বাস্থ্যগত ও জীবনের মান ভিক্টর হুগোর সময় থেকে উন্নত হয়েছে।....
প্রতিবারের মতই এবারের গল্পপাঠে থাকছে পুরাতন ও নতুনের সম্ভার। থাকছে মিশরের লেখক ইউসুফ ইদ্রিসের বেশ কয়েকটি অনূদিত গল্প। ইদৃস মিশরে নাগিব মাহফুজের মতই বিখ্যাত ছিলেন, তাঁর গল্প তাঁর চিকিৎসক পেশার মতই মেদমুক্ত, চরিত্রদের ছোট পরিসরে চিত্রিত করে সামাজিক ব্যবস্থা ও সম্পর্ককে ফুটিয়ে তুলেছেন, পাঠককে বাধ্য করেছেন চিন্তা করতে। গল্পপাঠের নতুন সংখায় পাঠককে স্বাগতম।
এ-পৃথিবী একবার পায় তারে, পায়নাকো আর
প্রজ্ঞাদীপা হালদার অভিমান করে চলে গেলেন জুন মাসের ১৫ তারিখ। তিনি লিখতেন গল্প। গদ্য। বোম্বাগড়ের পিসি ছদ্মনামেও লিখতেন। ছিলেন নিবিষ্ট পাঠক।প্রজ্ঞার পরিবার বাংলাদেশের বাগেরহাটের মানুষ। একাত্তরে তার মাতামহকে পাকবাহিনী বাড়ির মধ্যে পরিবারের সবার সামনে গুলি করে হত্যা করে। তারপর তার মাসহ সবাই ভারতে চলে আসেন।
প্রজ্ঞার মাতামহী লিখেছেন সেই একাত্তরের মর্মান্তিক ঘটনা। প্রজ্ঞার মা ঝর্না বসু হালদারও একজন লেখক। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তাঁর বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বই রয়েছে।ব্যক্তিগত জীবনে প্রজ্ঞা ছিলেন আয়ূর্বেদিক ডাক্তার। নিজেকে নমোশুদ্র হিসেবে পরিচয় দিতে ভালোবাসতেন। হামিদ বে'র বে অব বেঙ্গল বইটির একটি পাঠপ্রতিক্রিয়া লিখে পাঠিয়ে ছিলেন গত ২৮ মে। সঙ্গে তাঁর আরেকটি গল্পও প্রকাশিত হলো।প্রজ্ঞাদীপা হালদারের পরিবারের প্রতি গল্পপাঠের সহমর্মিতা জানাই।
প্রজ্ঞাদীপা হালদারের লেখা ঃ
বেগম জাহান আরা গত ১২ মে, চলে গেলেন না ফেরার দেশে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা সাহিত্যের কৃতি অধ্যাপক ছিলেন। একজন নিয়মিত অনুবাদক-লেখক হিসেবে তিনি বহুদিন গল্পপাঠের সঙ্গে ছিলেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে গল্পপাঠ টিমের পক্ষ থেকে গভীর শোক ও শ্রদ্ধা। আপা চলে গেলেন, আমাদের এবং আগামী প্রজন্মের জন্য রেখে গেলেন তাঁর অজস্র লেখাজোকার সম্ভার। বাংলাভাষার গবেষণামূলক মূল্যবান কাজের পাশাপাশি, উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ শিশুতোষ সাহিত্য-ইত্যাদি প্রকাশনার প্রায় ১০০টি গ্রন্থ রয়েছে তাঁর। বেগম জাহান আরা আপার উদযাপনযোগ্য সফল এক জীবনের পর্যটন শেষ হলো। তাঁর অনন্তের অবস্হান শান্তিময় হোক। গল্পপাঠের পক্ষে থেকে তাঁর প্রতি সশ্রদ্ধ ভালোবাসা।
গল্পপাঠের পাঠকদের জন্য বেগম জাহান আরার কয়েকটি লেখার লিঙ্ক
পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়ার মানুষ হামিরুদ্দিন মিদ্যা। রূপপাল গ্রামে বাড়ি। জন্ম ১৯৯৭। বাবার সঙ্গে কৃষিকাজ করেন। হাটে বাজারে সবজি বেচেকেনা করেন। এক সময় পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবেও কাজ করেছেন ভীন রাজ্যে। সম্বল মাত্র একটি ফোন। ফোনেই লেখেন গল্প। কথাসাহিত্যিক অমর মিত্র তার এই গল্প সংগ্রহ করে পাঠিয়েছেন পত্রপত্রিকায়। গল্পপাঠ ওয়েবজিনেও। কলকাতায় বিশেষ যাওয়া আসা নেই। মাঠরাখা আজরাইলের ডাক দুটি গল্পের সংকলন বেরিয়েছে গত তিন বছরে। কিন্তু প্রকাশকের অবহেলায় প্রকাশিত বই দুটি পাঠকের কাছে খুব বেশি পৌঁছেনি। তাতে কিছু যায় আসে না। তিনি এ সময়ের খাঁটি কথাকার। লেখার জোরেই তিনি এগিয়ে যাচ্ছেন। এবং যাবেন বলেই আশা করছি।
এ বছর ভারতের সাহিত্য অকাদেমী যুব পুরস্কার পেয়েছেন হামিরুদ্দিন মিদ্যা। অভিনন্দন।
ফিরে পড়া গল্প
সমকালীন গল্প


মিশরীয় কথাসাহিত্যিক ইউসুফ ইদ্রিসকে নিয়ে বিশেষ আয়োজন
ইউসুফ ইদ্রিস - ১৯শে মে ১৯২৭ সালে মিশরের ফাকুশ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর সাহিত্য জীবন ছাত্রাবস্হাতে শুরু হয়। 'আল্ মাসরি নামে কায়রোর এক নামকরা পত্রিকায় তাঁর ছোটগল্প প্রকাশিত হতে থাকে। ১৯৫৪ সালে তাঁর ছোট গল্পের প্রথম সঙ্কলন 'আরক্হাস লাইলি (দ্য চীপেস্ট নাইটস)' প্রকাশিত হয়। ১৯৬০ সালে তিনি ডাক্তারি পেশা চিরতরে ছেড়ে দিয়ে সাহিত্য রচনায় মনোনিবেশ করেন। ছোটগল্প ছাড়াও তিনি উপন্যাস, নাটক এবং প্রবন্ধ রচনা করেছেন। বাম আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং নানা সময়ে তাঁকে কারাবরণ করতে হয়েছে। ১ আগস্ট ১৯৯১ সালে ৬৪ বছর বয়সে হার্ট অ্যাটাকে লন্ডনে পরলোক গমন করেন।
অনুবাদ : সুদেষ্ণা দাশগুপ্ত
অনুবাদ: এলহাম হোসেন
অনুবাদ: বেগম জাহান আরা
অনুবাদ: উৎপল দাশগুপ্ত
অনুবাদ: বিপ্লব বিশ্বাস
অনুবাদ: অমিতাভ চক্রবর্ত্তী
অনুবাদ : মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ্
অনুবাদ: নাহার তৃণা
সমকালীন গল্প
সমকালীন গল্প:
সুহান রিজওয়ানের জন্ম চট্টগ্রামে, বেড়ে ওঠা ঢাকায়। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যন্ত্রপ্রকৌশলে স্নাতক, বর্তমানে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বাের্ডের অধীন এক সংস্থায় কর্মরত। আগ্রহের বিষয় ছােটগল্প, ইতিহাস আর ক্রীড়াসাহিত্য। পড়তে পড়তেই অল্পস্বল্প লিখতে চান।
বই নিয়ে
অনুবাদ গল্প
অনুবাদক : সফিকুন্নবী সামাদীঅনুবাদ গল্প
অনুবাদ: হারুন রশীদ
অনুবাদ: ফাহ্মিদা বারী
অনুবাদ : ফারুক মঈনুদ্দিন
অনুবাদ : সম্পদ বড়ুয়া
অনুবাদ: উৎপল দাশগুপ্ত

2 মন্তব্যসমূহ
খুব ভাল আয়োজন।
উত্তরমুছুনপ্রতিটি সংখ্যা মন দিয়ে পড়ি। এটাও পড়ব💖
উত্তরমুছুন