ভাষান্তরঃ উৎপল দাশগুপ্ত

সুচরিতাসু –

শীতের হাওয়ার শীতল ভাবটা দিনে দিনে কমে আসছে। মিঠে কড়া রোদ্দুর বসন্ত সমাগমের সংকেত বয়ে আনছে। আশা করি কুশলে আছেন।

আপনার লেখা শেষ চিঠিটি পড়ে খুব আনন্দ পেলাম। বিশেষ করে হ্যামবার্গার আর জায়ফলের আত্মীয়তা নিয়ে লেখা অনুচ্ছেদটি, আমার মনে হল, খুব সুন্দর লিখেছেন – দৈনন্দিন জীবনযাত্রার অকপট অনুরাগ মিশিয়ে। রান্নাঘরের উষ্ণ সুবাস আর পাটার ওপর রেখে পেঁয়াজ কুচো করার জন্য ছুরি চালানোর আওয়াজ যেন সত্যি সত্যি পাচ্ছিলাম!

আপনার চিঠিটি পড়তে পড়তে হ্যামবার্গার স্টেক খাওয়ার ইচ্ছে এত প্রবল হয়ে উঠল যে সেদিন রাত্রেই কাছাকাছির একটা রেস্তোরাঁয় গিয়ে খেতে হল। সত্যি বলতে কী, পাড়ার ওই রেস্তোরাঁয় আট ধরণের হ্যামবার্গার স্টেক পাওয়া যায়; বিশ্বাস করতে পারেন! টেক্সাস প্রণালীর , হাওয়াইয়ান প্রণালীর , জাপানি প্রণালীর , এবং এই রকম আরও কয়েক রকম প্রণালীর । টেক্সাস প্রণালীতে বানানো স্টেকটা আকারে বেশ বড়। ব্যাস, ওটুকুই। টোকিয়ো শহরের এই অঞ্চলে কোনো টেক্সানের পায়ের ধুলো যদি পড়েও, তাহলে এই হ্যামবার্গার পরখ করে সে যারপরনাই ধাক্কা খাবে, সে ব্যাপারে সন্দেহ নেই। হাওয়াইয়ান প্রণালীর ওপরে এক ফালি আনারস দেওয়া থাকে। ক্যালিফোর্নিয়া প্রণালীতে … ঠিক মনে পড়ছে না। জাপানি প্রণালীর ওপর ঝিরি ঝিরি করে কাটা মুলো ছড়ানো থাকে। রেস্তোরাঁটি অত্যাধুনিক রুচিতে সাজানো এবং পরিচারিকারা প্রত্যেকেই আকর্ষণীয়া এবং স্বল্পাতিস্বল্প দৈর্ঘ্যের স্কার্ট পরিহিতা।

অবশ্য অভ্যন্তরীণ সজ্জা পর্যবেক্ষণ করার জন্য কিংবা পরিচারিকাদের দিকে তাকিয়ে থাকার জন্য আমি ওই রেস্তোরাঁয় যাইনি। আমার যাওয়ার উদ্দেশ্যে ছিল একটি সাধারণ হ্যামবার্গার স্টেক পরখ করা।

পরিচারিকাটিকে আমি সেই কথাই জানালাম। কিন্তু পরিচারিকাটি দুঃখের সঙ্গে জানাল যে ওদের ওখানে সাধারণ হ্যামবার্গার স্টেক পাওয়া যায় না। অবশ্য এর জন্য পরিচারিকাটিকে দোষ দেওয়া যায় না। মেনুতে কী থাকবে সেটা তো আর ওরা ঠিক করে না। তাছাড়া মেয়েটি তেমন স্বল্পদৈর্ঘ্যের স্কার্টও পরে ছিল না যাতে কেউ হাত থেকে কাঁটা, ছুরি বা চামচ কিছু একটা ফেলে দিয়ে স্কার্টের নীচে থেকে ওর প্যান্টিটা এক ঝলক দেখে ফেলতে পারবে। অতএব আমি একটি হাওয়াইয়ান ঘরানার হ্যামবার্গার স্টেকের অর্ডার দিলাম। খাবার সময় পরিচারিকাটি পরামর্শ দিল যে ইচ্ছে করলে আমি আনারসের ফালিটি সরিয়ে দিতে পারি। কী অদ্ভুত জায়গা এই পৃথিবী। আমি কেবল একটি সাদাসিধে সাধারণ হ্যামবার্গার স্টেক চেয়েছিলাম। সে যা হোক, হ্যামবার্গার স্টেক আপনি কীভাবে বানান? আপনার এই চিঠিটি পড়ার পরে মনে হচ্ছে কোনোদিন হয়ত আপনার হাতে বানানো স্টেক পরখ করে দেখার ইচ্ছে সত্যিই আমার হয়ে যাবে।

স্বয়ংক্রিয় টিকিট যন্ত্রটি নিয়ে আপনি যা লিখেছেন, আমার পছন্দ হয়েছে, মনে হল আপনার লেখার বেশ কিছুটা উন্নতি হয়েছে। দৃষ্টিভঙ্গিটা কৌতুহল জাগানোর মত। তবে সত্যি বলতে কি, ঘটনাস্থল কিংবা পরিস্থিতি কোনোটাই পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠল না। আপনি হয়ত চেষ্টা করার সময় একটু বেশিই আত্মসচেতন হয়ে পড়েছিলেন। মনে রাখবেন কেবল কথা দিয়ে বর্ণনা করে দুনিয়া বদলে দেওয়া যায় না।

আপনার সমস্ত লেখা পর্যালোচনা করে আমার মনে হয়েছে আপনাকে ৭০-এর মত নম্বর দেওয়া যায়। সত্যিই আপনার লেখার উন্নতি হচ্ছে। তাড়াহুড়ো করবেন না, ধৈর্য রাখুন। শুভেচ্ছা রইল। আপনার পরবর্তী চিঠির অপেক্ষায় রইলাম। যাক সেসব কথা, মনে হচ্ছে বসন্ত দোরগোড়ায় এসে কড়া নাড়ছে, আপনার কী মনে হয়?

পুনশ্চ – রকমারি কুকির বাক্সটির জন্য ধন্যবাদ। অসাধারণ স্বাদ। তবে একটা কথা, চিঠি লেখালেখির বাইরে আমাদের মধ্যে কোনো রকম ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলার অনুমতি নেই। তাই ভবিষ্যতে সাবধান হবার জন্য এবং আমাকে আর কোনও বাক্স না পাঠানোর অনুরোধ করছি। তবুও এই বাক্সটির জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

পু-পুনশ্চ – এর আগের চিঠিতে আপনার স্বামীর স্নায়বিক সমস্যার বিবরণ খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন বলেই আমার মনে হয়েছে।

যে বছর আমি ২২-শে পড়লাম সেই বছর এটাই ছিল আমার কাজ। “পেন সোসাইটি” নামে একটি ছোট সংস্থার সঙ্গে আমি চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলাম। সংস্থাটিকে ওই নামে কেন ডাকা হত, আমার জানা নেই। প্রতিটি চিঠি লেখার জন্য আমি ২০০০ ইয়েন করে পেতাম। অল্প দিনের মধ্যেই আমি প্রতি মাসে ৩০টিরও বেশি চিঠি লিখতে লাগলাম। আমাদের সংস্থার নীতিবাক্য ছিল – “তুমিও এমন চিঠি লিখবে যা তোমার বন্ধুর অন্তরের অন্তঃস্থলে অনুরণন জাগাবে।” তালিকাভুক্তির জন্য কিছু দর্শনী এবং তারপর একটি মাসিক দর্শনীর বিনিময়ে একজন গ্রাহক প্রতি মাসে চারটি চিঠি লিখতে পারতেন। এরপর “পেন মাস্টার” – মানে যে নামে আমাদের বলা হত – আমরা সেই সব চিঠির সম্পাদনা করতাম, প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতাম, পথপ্রদর্শন করতাম এবং কীরকম অনুভূতি হল সেটা জানাতাম।

মহিলা “পেন মাস্টার”রা পুরুষমানুষদের চিঠি লিখতেন এবং পুরুষ “পেন মাস্টার”রা মহিলাদের লিখতেন। আমার প্রত্যেক মক্কেলই বয়সে আমার চেয়ে বড় ছিলেন। ১৫ জনের মত মক্কেলের বয়স ৪০ থেকে ৫৩’র মধ্যে ছিল, কিন্তু আমার বেশিরভাগ মক্কেলের বয়সই ছিল ২৫ থেকে ৩৫-এর মধ্যে। চিঠি লেখালেখির প্রথম মাসটা বেশ ঝামেলার মনে হয়েছিল আমার। আমার প্রতিটি গ্রাহকই আমার থেকে ভাল চিঠি লেখেন কী করে? আসলে ওঁরা চিঠি লেখালেখিতে অভ্যস্ত ছিলেন। আর এতদিন পর্যন্ত চিঠি লেখার ব্যাপারটাকে আমি তেমন কোনো গুরুত্বই দিইনি।

তবে ধীরে ধীরে আমার সুনাম বাড়তে লাগল। কথাটা আমার গ্রাহকরাই বলতেন। মাস তিনেক পরে আমার লেখনশৈলী প্রায় “নেতৃত্ব দেওয়ার” পর্যায়ে উন্নতিলাভ করল। এই সব মহিলাদের সাহায্য করতে পারার কৃতিত্ব নিতে পেরে এক আশ্চর্য অনুভূতি হত। ওঁরা আমার এবং আমার পথপ্রদর্শনের ওপর ভরসা রাখতেন। প্রথম দিকে আমি বুঝতে পারিনি, কিন্তু পরে বুঝেছিলাম যে এই সব মহিলারা আসলে খুবই নিঃসঙ্গ। কে ওঁদের চিঠি লিখলেন, তা নিয়ে ওঁদের কোনো মাথাব্যথা ছিল না। এমনকি সেই সব চিঠির বিষয়বস্তু নিয়েও ওঁদের কিছু এসে যেত না। আমরা সকলেই হয়ত নিজেকে প্রয়োজনীয় মনে করাবার প্রয়োজন অনুভব করে থাকি। আমরা সকলেই হয়ত সেই অনুভূতিকে অন্য কারোর সাথে ভাগ করে নেবার প্রয়োজন অনুভব করি।

যাই হোক, আমি ২১ থেকে ২২-এর দিকে এগিয়ে চলা শীত আর বসন্তকালটা এভাবেই কাটিয়ে দিলাম। চিঠির হারেমে পরিবেষ্টিত হয়ে খুঁড়িয়ে চলা এক সামুদ্রিক সিংহের মত।

বিভিন্ন ধরণের চিঠির জবাব দিতে হত আমায়। একঘেয়ে চিঠির জবাব দিতাম। আবার প্রীতিময় এবং বিষণ্ণ চিঠিরও জবার দিতাম। ওখানে আমি মাত্র এক বছরই কাজ করেছি, কিন্তু মনে হত যেন তিন বছর পার হয়ে গেছে। আমি যখন ইস্তফা দেওয়ার কথা ঘোষণা করলাম, আমার মক্কেলরা দুঃখপ্রকাশ করলেন। সত্যি বলতে কী, এই কাজটা করতে করতে আমি অবসন্ন হয়ে পড়েছিলাম। লেগে থাকার কোনো মানেই হয় না। তবে ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারেও আমার মনে কিছু সংশয় ছিল। উপলব্ধি করলাম, এতজন আন্তরিক মানুষের সংস্পর্শে আসার দ্বিতীয় সুযোগ হয়ত আর কোনোদিনই পাব না।

হ্যামবার্গার স্টেক-এর প্রসঙ্গে ফিরি। সেই ভদ্রমহিলার (আমার প্রথম চিঠিটিতে যাঁর উল্লেখ করেছি) বানানো একটা স্টেক আমি সত্যিই একদিন খেয়েছিলাম। ওঁর বয়স তখন ৩২, বিবাহিতা, কিন্তু সন্তান নেই। ওঁর স্বামী বিশ্বের পঞ্চম সর্বাপেক্ষা নামজাদা সংস্থায় কর্মরত। মাস শেষ হয়ে যাবার পর আমি পদত্যাগ করব এই খবরটা যখন ওঁকে জানালাম, উনি আমাকে ওঁর অ্যাপার্টমেন্টে লাঞ্চে নিমন্ত্রণ করলেন। কথা দিলেন যে উনি আমার জন্য একটি সাধারণ হ্যামবার্গার স্টেক বানাবেন। যদিও এই ধরণের বন্ধুত্ব পাতানো আমাদের সংস্থার সামাজিকভাবে মেলামেশা করার নীতির বিরোধী, তবুও নিমন্ত্রণটি আমি নির্দ্বিধায় গ্রহণ করলাম। আমি আসলে কৌতুহল দমন করে রাখতে পারছিলাম না। ওঁর অ্যাপার্টমেন্ট ওতাচু রেলপথের কাছাকাছি। খুবই ছিমছাম, পরিপাটি অ্যাপার্টমেন্ট, নিঃসন্তান দম্পতির ক্ষেত্রে ঠিক যেমন হয়। ঘরের আসবাবপত্র, অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা, এমনকি ওঁর পরনের সোয়েটারটিও এমন কিছু দামি নয়, কিন্তু বেশ মানিয়ে গেছিল। আমার প্রত্যাশার তুলনায় বয়সটা ওঁর কম বলেই মনে হল। আমাকে এত কমবয়সী দেখে উনি অবাক হলেন। সংস্থার নীতি অনুযায়ী আমাদের বয়স গোপন রাখতে হয়।

প্রথম দিকে যদিও দুজনেই একটু অপ্রস্তুত বোধ করছিলাম, কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই আড়ষ্টতা কেটে গেল এবং স্বচ্ছন্দ বোধ করতে লাগলাম। মনে হচ্ছিল দুজনে যেন একই রেলগাড়ি ধরতে না পেরে পরের রেলগাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে করতে পরস্পরের বন্ধু হয়ে গেলাম। দুজনে স্টেক খেলাম আর কফি পান করলাম। সুন্দর পরিবেশ। তিনতলার জানলা থেকে রেলগাড়ি দেখা যাচ্ছে। সেদিনের আবহাওয়াটাও চমৎকার। আলো আর হাওয়া খাওয়ানোর জন্য অনেকের বারান্দাতেই ফুটন১ পেতে দেওয়া হয়েছে। সেগুলো বাঁশের ঝাড়ু দিয়ে গৃহিণীরা পিটিয়ে চলেছেন, তার ঠক-ঠক-ঠক আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে আওয়াজটা যেন শুকিয়ে যাওয়া কুয়োর তলা থেকে উঠে আসছে, কিন্তু আওয়াজটা কত দূর থেকে আসছে সেটা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। হ্যামবার্গার স্টেকটা খুবই সুস্বাদু এবং সাথে সাথে খুব রসালোও ছিল। ঠিক যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু গ্রেভিই ওর ওপর ছড়ানো ছিল। কফি পান করার পর বার্ট ব্যাকারাক২ শুনতে শুনতে আমরা নিজের নিজের জীবনকাহিনী বলতে আরম্ভ করলাম। নিজের জীবন নিয়ে আমার বেশি কিছু বলার ছিল না, তাই বেশিরভাগ কথা উনিই বললেন। ছাত্রাবস্থায় উনি একজন লেখিকা হতে চেয়েছিলেন, সেই কথা জানালেন। বললেন যে উনি ফ্রাঁসোয়া স্যাগানের৩ লেখার খুব ভক্ত ছিলেন। ওঁর লেখা “Do you like Brahms?” গল্পটি ওঁর খুব প্রিয় ছিল। ফ্রাঁসোয়াকে আমিও যে পছন্দ করি না তা নয়। বেশ চলনসই লেখা। লোকে বলে ওঁর লেখা নাকি খুব একঘেয়ে, তবে আমার সেরকম মনে হয় না।

“তবে আমার দ্বারা লেখালেখি হয়ে ওঠে না,” অভিযোগ জানালেন উনি।

“শুরু করার কোনও বয়স নেই,” আমি পরামর্শ দিলাম।

“কিন্তু আপনিই তো বলেছিলেন যে আমার লেখার হাত খুব ভাল,” হেসে ফেললেন উনি।

আমি লজ্জা পেয়ে গেলাম। ২২ বছর বয়সে আমি প্রায়ই এরকম লজ্জা পেয়ে যেতাম।

“কিন্তু আমার মনে হয়েছে আপনার লেখার মধ্যে বাস্তবের নিবিড় প্রতিফলন ঘটে।” উনি কোনো জবাব দিলেন না, কিন্তু ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি খেলে গেল। “আপনি লিখেছিলেন বলেই তো আপনার শৈলীর একটা হ্যামবার্গার স্টেক পরখ করার ইচ্ছে হয়েছিল।”

“হয়ত আপনার খিদে পেয়ে গিয়েছিল,” উনি হেসে জবাব দিলেন।

হয়ত তাই হবে, মনে মনে ভাবলাম আমি।

জানলার নীচ দিয়ে কু-ঝিক-ঝিক-ঝিক করতে করতে একটি রেলগাড়ি চলে গেল।

হঠাৎ খেয়াল করলাম পাঁচটা বেজে গেছে। এবার আমার ওঠা উচিত। বিদায় নেবার জন্য ওঁর অনুমতি চাইলাম। “কিছুক্ষণের মধ্যেই আপনার স্বামী ফিরে আসবেন, তাই আপনার হয়ত ডিনারের জোগাড় করতে হবে।”

“সাধারণত উনি বেশ দেরি করেই বাড়ি ফেরেন,” হাতের ওপর মাথা রেখে উনি বললেন। “বাড়ি ফিরে আসতে আসতে ওঁর মাঝরাত হয়ে যায়।”

“খুবই ব্যস্ত মানুষ মনে হচ্ছে।”

“আমারও তাই ধারণা।” তারপর কিঞ্চিৎ দ্বিধাজড়িত গলায় বললেন, “চিঠিতেই লিখেছিলাম তো, আমাদের মধ্যে তেমন বনিবনা নেই।” আমার কাছে এর কোনও জবাব ছিল না।

“তবে ঠিকই আছে,” উনি খুব মৃদুস্বরে বলে উঠলেন। আমারও মনে হল সব ঠিকই আছে। “আমাকে চিঠিগুলো লেখার জন্য আবার আপনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। ওগুলো পড়ে আমি সত্যিই আনন্দ পেয়েছি।”

“আমিও তাই,” জবাব দিলাম। “আর হ্যাঁ, হ্যামবার্গার স্টেকের জন্যও ধন্যবাদ।”

দশ বছর কেটে গেছে। ওঁর অ্যাপার্টমেন্টের কাছে ওতাচু রেলপথ ধরে যখনই গেছি, ওঁর হ্যামবার্গার স্টেকের কথা মনে পড়ে গেছে। ঠিক কোন জানলাটা ওঁর সেটা মনে নেই। তবে জানতে ইচ্ছে করে উনি কি এখনও সেই অ্যাপার্টমেন্টে একাকী বসে বার্ট ব্যাকারাক শোনেন!

কী মনে হয় আপনার – আমার কী ওঁকে নিয়ে বিছানায় যাওয়া উচিত হত?

এই কাহিনীতে এটিই গূঢ় প্রশ্ন। এর উত্তর আমার জানা নেই।

তারপর বছরের পর বছর কেটে গেছে, আরও নানান প্রশ্ন মনে ভিড় করে এসেছে, কিন্তু একটিরও উত্তর জানা নেই।


..................................................................
(A Window translated into English by Kiki)



টীকা –
১ ফুটন – গদি দেওয়া একধরণের জাপানি মাদুর যা গুটিয়ে রাখা যায়।
২ বার্ট ব্যাকারাক – একজন আমেরিকান গান রচয়িতা এবং সুরকার।
৩ ফ্রাঁসোয়া স্যাগান – ফরাসি মহিলা নাটকার এবং উপন্যাসকার।