সাহিত্যে স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি
দীপেন ভট্টাচার্য
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও আলবার্ট আইনস্টাইনের মধ্যে অন্তত ছ’বার দেখা হয়েছিল, এ’ছাড়া তাদের মধ্যে বেশ কয়েকটি চিঠিরও আদান প্রদান হয়। ছ’টি সাক্ষাতের মধ্যে চারটিই ঘটেছিল ১৯৩০ সনে। সাক্ষাৎকারগুলোর মধ্যে মাত্র দুটি গ্রন্থিত হয়েছে। ১৪ ই জুলাই, ১৯৩০এ বার্লিনের অদূরে কাপুথ শহরে তাদের কথোপকথনটির একটি সংক্ষিপ্ত রূপ ছাপা হয়েছিলে ১৯৩০ সনের ১০ই আগস্ট নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকার ম্যাগাজিন বিভাগে, লিখেছিলেন সাংবাদিক দিমিত্রি মারিয়নফ, যিনি পরে আইনস্টাইনের সৎ মেয়ে মার্গটকে বিয়ে করেন। ১৯৩০ সালের ১৯ আগস্ট তাঁদের আবার দেখা হয় বার্লিনে। সেই কথোপকথনটি অধ্যাপক অমিয় চক্রবর্তী নোট করে রেখেছিলেন। নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় মারিয়নফ তাঁদের বর্ণনা করেছিলেন: কবি রবীন্দ্রনাথ যাঁর মনন চিন্তাবিদের মত আর চিন্তাবিদ আইনস্টাইন যাঁর মনন কবির মত। রবীন্দ্রনাথ কথা বলছিলেন এমন সৌম্য প্রশান্তি নিয়ে মনে হচ্ছিল যে তিনি কবিতা আবৃত্তি করছেন কিংবা ধর্মবাণী উচ্চারণ করছেন। দুজনেই তাঁদের মতামত বিনিময় করছিলেন, কিন্তু পর্যবেক্ষকের কাছে মনে হচ্ছিল যেন দুটি গ্রহ আলাপচারিতায় নিমগ্ন।
দুটি গ্রহের উল্লেখে এই দ্বিরালাপটি ব্যর্থ এরকম একটা ধারনা আমাদের মনে গেঁথে গেছে। ব্যর্থ যে নয় সেই আলাপে এখন যাচ্ছি না, বরং Free will বা স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি এই নিয়ে যে দুজনের ধারনা সেই নিয়ে কিছু বলার ইচ্ছা রাখি, কারণ মহাজগতে আমাদের ব্যক্তিগত সত্তার স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি আছে কিনা সেটা খুবই পুরোনো একটি দার্শনিক জিজ্ঞাসা।
হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তা (বা অনির্দেশতা) নীতি বলে, কোনো ক্ষুদ্র কণার অবস্থান ও গতিবেগ একই সঙ্গে যথার্থভাবে জানা যাবে না; প্রকৃতি সম্পর্কে এটাও এক ধরণের অজ্ঞানতা, অর্থাৎ আমাদের পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি যতই দক্ষ হোক না কেন আমাদের কাছে এই দুটি জিনিস একসাথে অজানা থেকে যাবে, এটা দেশ-কালের মধ্যে প্রথিত। এছাড়া কোয়ান্টাম বলবিদ্যায় পর্যবেক্ষকের একটা ভূমিকা রয়েছে। আইনস্টাইনের কাছে এগুলো পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য হয়নি, তিনি বললেন কোয়ান্টাম তত্ত্ব পূর্ণ নয়। লিখলেন, ‘ঈশ্বর পাশা খেলতে পারে, ঠিক আছে, কিন্তু সে যে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে জুয়া খেলবে এটা আমার ধারনার বাইরে।’ অন্যদিকে রবীন্দ্রনাথ ১৯শে আগস্টের দ্বিরালাপে আইনস্টাইনকে বলেছিলেন, ‘ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র পরমাণুর রাজ্যে আকস্মিকতা কাজ করে কাজেই অস্তিত্বের নাটক পুরোপুরি পূর্বনির্ধারিত নয়।’ আইনস্টাইন উত্তর দিয়েছিলেন, ‘তার মানে এই নয় যে বিজ্ঞান থেকে কার্যকারণ (causality) বিদায় হয়েছে।’
এটা এক ধরণের পরিহাস (বা irony) বলা চলে; রবীন্দ্রনাথ মানব জীবনে স্বাধীন ইচ্ছাকে (free will) – যা কিনা পাশ্চাত্যে আলোকিত (enlightenment) যুগের অন্যতম উপাদান – মূল্য দিচ্ছেন, অন্যদিকে আইনস্টাইন প্রাচ্যের অন্যতম বৈশিষ্ট্য নিয়তিবাদের কাছে আশ্রয় নিচ্ছেন। রবীন্দ্রনাথের ৭০তম জন্মদিন উপলক্ষে আইনস্টাইন The Golden Book of Tagore সঙ্কলনে About Free Will নামে একটি প্রবন্ধ লিখলেন – আমি কিছুটা সারমর্ম করছি – ‘চাঁদের যদি চেতনা থাকত চাঁদও মনে করত সে পৃথিবীর চারদিকে ঘুরছে তার ইচ্ছাতেই… মদ বা ওই জাতীয় মাদক দ্রব্যের প্রভাব আমাদের চিন্তার ওপর যদি প্রভাব না ফেলে তাহলে বলতে হবে কারণবাদ (determinism) আমাদের রাজকীয় স্বাধীন ইচ্ছার সামনে অকার্যকর হয়ে যায় না…হয়তো আমাদের এবং মানব সমাজের কার্যকলাপে স্বাধীনতা বোধের প্রপঞ্চের দরকার আছে।’ অর্থাৎ স্বাধীন ইচ্ছাশক্তির বোধটি নিতান্তই মায়া। মনে হয় আইনস্টাইন রবীন্দ্রনাথের স্বাধীন চিন্তার ধারনাকে কিছুটা ব্যঙ্গ করেই এটা লিখেছিলেন।
সাহিত্যে ‘সত্তার স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি’ বিভিন্ন চরিত্রের মাধ্যমে বিভিন্নভাবে প্রকাশ পায়। এখানে লেখক যে সবসময় ইচ্ছে করে তার চরিত্রদের স্বাধীন বা পরাধীন চালিকাশক্তি দেন এমন নয়, বরং পরোক্ষভাবে তাঁর চরিত্রদের মধ্য দিয়ে লেখকের অন্তর্নিহিত কিছু মূল বিশ্বাস প্রতিফলিত হয়। এখানে সবকিছুই নির্ভর করছে লেখক তার চরিত্রদের কতখানি ‘agency’ দেন তার ওপর। ‘agency’ হলো স্বাধীন কর্মকাণ্ড করার ক্ষমতা, সেখানে চরিত্ররা সচেতনভাবে তাদের পরিবেশ পরিবর্তন করার ক্ষমতা রাখে। এখানে আমি আমাদের মতো সচেতন প্রাণীর স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি আদৌ সম্ভব কিনা সেই বিতর্কে যাচ্ছি না, অনেক পদার্থবিদ ও মন্তিষ্ক-চিকিৎসকের মতে ওই ধরণের অনপেক্ষ (objective) ইচ্ছার অস্তিত্ব নেই, আমাদের প্রতিটি ক্রিয়া তার পূর্ববর্তী ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে, আমাদের পারিপার্শ্বিক ঘটনার ওপরে সেটা নির্ভরশীল। হেগেল ও মার্ক্স উভয়ই ঐতিহাসিক গতিশীলতার সাথে মানুষের এজেন্সিকে যুক্ত করেছিলেন, সেখানে এক ধরণের সীমিত ইচ্ছাশক্তি বর্তমান যা কিনা অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও শ্রেণী, রাষ্ট্র ইত্যাদি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এই রচনার স্বার্থে আমি ধরে নিচ্ছি যে, ওই ধরণের সংজ্ঞাও শর্তহীন স্বাধীন ইচ্ছাশক্তির পর্যায়ে পড়ে না, অর্থাৎ মানুষের কোনো অন্তর্নিহিত এজেন্সি নেই।
প্রাচীন গ্রীসের ট্র্যাজেডিগুলি নিয়তিবাদের বিরুদ্ধে স্বাধীন ইচ্ছার নিস্ফল প্রচেষ্টার অন্যতম উদাহরণ। সফোক্লিস রচিত অদিপাস (বা ঈদিপুস) রেক্স নাটকটির কথাই ধরা যাক, যেখানে অদিপাসের পিতা লেউস নিজের পাপকর্মের জন্য দেবতা এপোলোর অভিশাপগ্রস্ত হয়। অভিশাপটি ছিল যে, সে নিজের পুত্রের হাতে নিহত হবে। তার পুত্র (অদিপাস) জন্মালে লেউস তাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করে, কিন্তু অদিপাস বেঁচে যায় এবং অন্যের কাছে মানুষ হয়। পরবর্তীকালে এক দৈববাণী বলে যে, অদিপাস নিজের মাতাকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করবে। অদিপাসের শত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও এই দুটি ভবিষ্যদ্বাণী সত্য হয়। নাটকের শেষে অদিপাসের মা আত্মহত্যা করে, এবং অদিপাস নিজেকে অন্ধ করে দেয়। অদিপাস নাটকটি মঞ্চস্থ হয়েছিল ৪২৯ খ্রিষ্টপূর্বে, আজ থেকে আড়াই হাজার বছর পূর্বে। এই আড়াই হাজার বছর ধরে দার্শনিকেরা এই নাটকের অভিশাপ ও দৈববাণীগুলিকে বিশ্লেষণ করতে চেয়েছেন – সেগুলো কি একটি শর্তহীন নিষ্পত্তিমূলক (deterministic) জগৎকে নির্দেশ করে, নাকি কিছু শর্ত মানলে লেউস বা অদিপাস তাদের ভয়াবহ নিয়তি থেকে মুক্তি পেতে পারত?
গ্রীক ট্র্যাজেডির উল্টো মেরুতে অবস্থান করছে প্রাচীন সংস্কৃত নাটক, সেগুলো ট্র্যাজেডি নয়, বরং মিলনাত্মক। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, সেগুলো নিয়তিবাদকে অনুসরণ করছে না, বরং জগতের একটি নির্দিষ্ট শৃঙ্খলা বা ক্রম আছে – নাটকগুলিতে সেগুলোর কিছুক্ষণের জন্য ব্যতিক্রম হলেও – যবনিকায় সেই শৃঙ্খলা ফিরে আসে। সেখানে দুর্বাসার অভিশাপ সত্ত্বেও শকুন্তলাকে রাজা দুষ্মন্ত শেষ পর্যন্ত চিনতে পারে। সংস্কৃত নাটকের গঠন ছিল কিছুটা অনমনীয়, তবু তার মধ্যেও নাট্যকাররা মাঝে মধ্যে তাদের চরিত্রদের agency দিতে চেয়েছেন – দ্বিতীয় বা তৃতীয় শতকে ভাস ‘উরুভঙ্গ’ নাটকে ভীম দ্বারা চতুরতার মাধ্যমে দুর্যোধনের উরু ভাঙার ঘটনাটি বর্ণনা করে, প্রচলিত ন্যারেটিভের বাইরে যেয়ে, দুর্যোধনের চরিত্রকে উদার করে তোলেন। দুর্যোধন তার এই নিদারুণ অবস্থার জন্য ভীমকে দোষারোপ করে না, বরং কৃষ্ণকে অভিযুক্ত করে। এর প্রায় দেড় হাজার বছর পরে মাইকেল নিয়তির বিরুদ্ধে দাঁড়াতে, রামায়ণের অন্য একটি ন্যারাটিভে, রাবণপুত্র মেঘনাদকে এজেন্সি দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু রামায়ণের গঠন তাঁর হাত-পা বেঁধে দিয়েছিল – লক্ষণের হাতে নিরস্ত্র মেঘনাদকে নিহত হতে হয়।
এ পর্যন্ত যা বললাম সেই সবকিছুই একটি নিয়তিবাঁধা, নিষ্পত্তিমূলক জগতের প্রতিভূ। আধুনিক সময়ে সিরিয়াস সাহিত্য বলতে যা বুঝি তাতে কি এর বাত্যয় হয়েছে? শহীদুল জহিরের ‘কাঁটা’ একটি অসাধারণ গল্প। পুরানো ঢাকার ভূতের গলিতে আজিজ ব্যাপারীর বাড়িতে ভাড়াটে হিসেবে সুবোধচন্দ্র ও তার স্ত্রী স্বপ্নার আবির্ভাব হয় স্বাধীনতার বহু বছর পরে, কিন্তু সেই পাড়ার সমস্ত বাসিন্দাদের (তারা সবাই মুসলমান) মনে পড়ে ১৯৭১-এ সুবোধ ও স্বপ্না মারা গিয়েছিল আজিজ ব্যাপারীর বাড়ির কুয়োতে পড়ে। সেই সময়, পাক বাহিনির তাণ্ডব শুরু হবার পরে, প্রতিবেশীরা আশ্বাস দিয়েছিল যে, তারা সুবোধ-স্বপ্নাকে আগলে রাখবে, কিন্তু নিজেদের প্রাণ বিপন্ন হবার সময় তাদের একজন সুবোধকে কুয়োতে ফেলে দেয়, স্বপ্না আত্মহত্যা করে সেই কুয়োতে ঝাঁপ দিয়েই। এর বহু বছর পরে, বাবরি মসজিদ ভাঙার পরে, সুবোধ-স্বপ্না ভাঙার খবরে মিষ্টি খেয়েছে, এই গুজবে প্ররোচিত হয়ে উত্তেজিত জনতা সুবোধ ও স্বপ্নাকে কুয়োতে ফেলে দেয়। এরপরে মহল্লার মানুষ যেন অতীতে জেগে ওঠে এবং তাদের মনে হয় এই দুটি ঘটনা যে ভবিষ্যতে হবে সেটা তারা স্বপ্নে দেখেছে। তখন তারা কোদাল নিয়ে আজিজ ব্যাপারীর বাড়ি কুয়োটাকে বুজিয়ে ফেলতে যায়, কারণ তাদের ধারণা হয় কুয়োটা বুজিয়ে ফেললে সুবোধ ও স্বপ্নার বারে বারে কুয়োতে পড়ার ব্যাপারটা আর ঘটবে না। কিন্তু তাদের এটাও মনে হয় যে, কোনো কিছুই সত্যি নয়, তারা একটা চক্রাবর্তে ভবিষ্যৎ থেকে অতীতে, আবার অতীত থেকে ভবিষ্যতে ভ্রমণ করছে। শুধুমাত্র তখনই যখন তারা আজিজ ব্যাপারীর বাড়িতে স্বপ্নার লাগানো তুলসী গাছটি দেখে তাদের মনে কুয়োটি আবার মূর্ত হয়। একে জাদুবাস্তবতা বললেও বলা যেতে পারে, কিন্তু এই গল্পের বিস্তার তার ওপরে – এটি একটি deterministic (নিষ্পত্তিমূলক) আখ্যান যার পুরো ফলাফলটাই নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল স্বপ্নার হাতে তুলসী গাছের চারাটি লাগানোর মাধ্যমে। এখানে বলতে গেলে কোনো চরিত্রকেই এজেন্সি দেওয়া হয়নি, গ্রীক ট্র্যাজেডির মতো তারা স্থান-কালের পূর্ব নির্ধারিত রেখা অনুসরণ করা পুতুল মাত্র। এমনকি কাহিনিতে পাকবাহিনি ও তাদের দোসর রাজাকারদেরও স্বাধীন কোনো ইচ্ছাশক্তি নেই, কারণ গল্পটির construct-ই এমনই যে তাদের নৃশংসতা একটি প্রতিষ্ঠিত সত্য, লেখক তাদের এজেন্সি দিলে তারা সেই বাস্তবতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করত। এ যেন ‘পুতুলনাচের ইতিকথা,’ এ যেন সেই ইতিকথায় যাদব পণ্ডিত ও পাগল দিদির স্বেচ্ছামৃত্যুর ভাবিকথন।
আলোচনাটা শুরু করেছিলাম রবীন্দ্রনাথ ও আইনস্টাইনকে নিয়ে। রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, ‘অস্তিত্বের নাটক পূর্বনির্ধারিত নয়,’ কিন্তু দশ বছর জেল খাটার পরে কাবুলি রহমতকে কৈশোর-উত্তীর্ণ মিনি চিনতে পারেনি, কিশোরী রতন তার পোস্টমাস্টার দাদাবাবুকে ধরে রাখতে পারেনি, কঙ্কালের অতৃপ্ত নারী শেষ পর্যন্ত কঙ্কালই হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ কি তাঁর চরিত্রদের স্বাধীনতা দিয়েছেন? এজেন্সি? হয়তো কোথাও কোথাও -
‘স্ত্রীর পত্র’-এর শেষে মুক্ত মৃণাল যখন লেখে - ‘তোমাদের গলিকে আর আমি ভয় করি নে। আমার সম্মুখে আজ নীল সমুদ্র, আমার মাথার উপরে আষাঢ়ের মেঘপুঞ্জ,’ তখন মনে হয় কাদম্বরী দেবী ফিরে এসেছে কিনা, অর্থাৎ মৃণাল আত্মহত্যা করবে কিনা। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ মৃণালকে এজেন্সি দিলেন। মৃণাল লিখল -
‘তুমি ভাবছ আমি মরতে যাচ্ছি-- ভয় নেই, অমন পুরোনো ঠাট্টা তোমাদের সঙ্গে আমি করব না। মীরাবাঈও তো আমারই মতো মেয়েমানুষ ছিল-- তার শিকলও তো কম ভারী ছিল না তাকে তো বাঁচবার জন্যে মরতে হয় নি। মীরাবাঈ তার গানে বলেছিল, “ছাড়ুক বাপ, ছাড়ুক মা, ছাড়ুক যে যেখানে আছে, মীরা কিন্তু লেগেই রইল, প্রভু-- তাতে তার যা হবার তা হোক।” এই লেগে থাকাই তো বেঁচে থাকা। আমিও বাঁচব। আমি বাঁচলুম। তোমাদের চরণতলাশ্রয়ছিন্ন--মৃণাল।’
বাংলা সাহিত্যে মৃণালেরা বারে বারে ফিরে আসুক। বাংলা সাহিত্যে মৃণালদের বড় অভাব।
গল্পাঠ ওয়েবজিনের সূচিপত্র পেতে নিচের লেখায় ক্লিক করুন




1 মন্তব্যসমূহ
অত্যন্ত সুলিখিত একটি সম্পাদকীয়। গ্রীক ট্র্যাজেডির দিন গেছে, এখন এজেন্সির ব্যাপারে দিল মাঙে মোর। খুব গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্য-সূত্র! এই সংখ্যায় প্রকাশিত আপনার গল্পটি যেন একটি জলজ্যান্ত উদাহরণ ! স্তব্ধবাক করে দেয়।
উত্তরমুছুনপ্রতিভা সরকার