একাত্তরের ডায়েরির পাতা থেকে:



বাংলাদেশের সমাজ প্রগতি আন্দোলনের সর্বজন শ্রদ্ধেয় একটি নাম সুফিয়া কামাল। বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে তিনি এক অনুকরণীয় বাতিঘরের ভূমিকা পালন করে গেছেন। আপাত নরমসরম মানুষটি অন্যায়-অনাচারের বিরুদ্ধে বুকের ভেতর কতটা আগুন বয়ে বেড়াতে সক্ষম ছিলেন, সেটি যারা তাঁর সান্নিন্ধ্যে গেছেন একবাক্যে স্বীকার করবেন। তাঁর লেখালিখি জুড়েও রয়েছে নরম শব্দের ভাঁজে মুখ গুঁজে থাকা একরোখা জেদ, ফিনিক্স পাখির জেগে ওঠার মৃদ্রা। তিনি ছিলেন সবার প্রিয় খালাম্মা।  সুফিয়া কামালের লেখা ‘একাত্তরের ডায়েরী’তে যুদ্ধ দিনের নানা বিবরণ ওঠে এসেছে। বাংলাদেশের জন্মলগ্নের দলিল হিসেবে যার একটি পৃথক গুরুত্ব রয়েছে। ফিরে দেখা একাত্তরের নানা পর্বে আমরা বিভিন্ন স্মৃতিকথা, সাক্ষাৎকার, উল্লেখযোগ্য কোনো বইয়ের অংশ বিশেষের পাশাপাশি সুফিয়া কামালের ডায়েরির একটি-দুটি পাতা পাঠকের সামনে তুলে ধরা চেষ্টা করবো। ‘একাত্তরের ডায়েরী’র ভূমিকাটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আজকের পর্বে রইলো ভূমিকার অংশটুকু।





১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের রাতটি বাংলাদেশের ইতিহাসে 'কালরাত্রি' হিসেবে খ্যাত। পাকিস্তানী বাহিনী অপারেশন সাচলাইট নামে চালিয়েছিল বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ। শুধুমাত্র ঢাকা শহরেই সেদিন পাকিস্তানী বাহিনী ১০লক্ষ বাঙালিকে হত্যা করেছিল। জগন্নাথ হল শুধু নয়, সে রাতে আক্রান্ত হয়েছিল ইকবাল হল, এস এম হল, ফুলার রোডের শিক্ষক আবাসন, পলাশী ও নীলক্ষেতের বস্তিগুলো। রাজবাগ পুলিশ লাইন ইত্যাদি। জগন্নাথ হল হত্যাযজ্ঞ তারই একটি অংশ।


গল্প


মুক্তিযুদ্ধ শুধু গৌরবময় ইতিহাসের বিষয়বস্তু হিসেবে না থেকে সাহিত্যেরও এক অনিবার্য অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছিল। পুরুষ ও নারী-উভয় লেখকই এই অভিজ্ঞতাকে তাঁদের লেখায় বহুবর্ণে এবং বহুমাত্রায় উপস্থাপন করেছেন। আমাদের অগ্রগণ্য লেখকরা মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক, গভীর মানবিক গল্প লিখেছেন। বিশেষত নারী লেখকদের লেখায় যুদ্ধকালীন নারীর অভিজ্ঞতা, সহিংসতা ও প্রতিরোধের অনন্য চিত্র ফুটে উঠেছে। এই ধারাটি এক সময় আমাদের সাহিত্যে প্রবল হয়ে উঠলেও, সাম্প্রতিক সময়ে আগ্রহ স্তিমিত হওয়ার আশঙ্কা জন্ম নিয়েছে। সমসাময়িক কিছু লেখকের কাজ দেখে আশা জাগে, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্প লেখা হয়তো নতুন প্রজন্মের দৃষ্টিকোণ থেকে নতুনভাবে ফিরে আসবে; আরও বৈচিত্র্যময়, আরও অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন হয়ে। আমাদের এবারের আয়োজনে রইলো সেরকম  তিনটি গল্প।