অনুবাদ : কুলদা রায়
আমরা ছিলাম একটি বড় ঘরে। তার পাশে একটি ছোট ঘর। সেখানে থাকে একজন তরুণী। সেখানে সে বহুদিন ধরে আছে।
‘ সে কেনো আমাদেরকে একটি গল্প বলে না?’ একজন বলল।
‘সে কেনো একটি গল্প বলতে চাইবে?’ আমি জিজ্ঞেস করলাম।
‘ তাহলে তাকে জিজ্ঞেস করো।’
‘কেনো তাকে জিজ্ঞেস করব?’
‘বলো তাকে।’
পাশের দরজায় টোকা দিলাম। ভেতরে আসো–তাকে বলতে শুনবো ভেবেছিলাম। ভেতরে ঢুকলাম। তাকে একটি বিছানায় শুয়ে থাকতে দেখলাম। সে খুবই সুন্দরী। তার ত্বক উজ্জ্বল। মাথা ভর্তি ফুরেফুরে চুল। কিছু সময়ের জন্য আমার মুখ দিয়ে কোনো কথা বের হচ্ছিল না।সে আমার দিকে তাকালো। কিছুই বলল না। তাকে আমি শুধালাম, ‘তুমি কি আমাদের ঘরে আসবে? এসে একটি গল্প বলবে আমাদেরকে?’
‘কেনো?’
‘কেনো নয়?’
কেনো নয়–সেটা আমি জানতাম। সে ছিল খুবই লাজনম্র। তরুণীসুলভ সেই লজ্জা। এটা হলো সেই লজ্জা যার মধ্যে স্নেহ আছে।
‘এসো,’ বললাম আমি। ‘তোমাকে এজন্য কতো দিতে হবে?’
‘আমি পারব না।’
কেনো পারবে না?’
‘তুমি জানো কেনো পারব না।’
‘এসো।’
মনে হলো এটা একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাতে আমার কিছু যায় আসে না। ওরা চাইছে তাকে যেন নিয়ে আসি। তাকে নিয়ে আসতে পারি কিনা সেটাই দেখার রোখ চেপে গেল। তাকে পিড়াপিড়ি করতে লাগলাম। কিন্তু তার মধ্যে কোনো নড়াচড়া দেখা গেল না।
আমি বেশ বুঝতে পারছিলাম ওরা দরজার ছোট্ট কাঁচের টকরোর মধ্যে দিকে আমাকে লক্ষ্য করছে। আমি কাজটি করতে পারি কিনা সেটাই তারা দেখতে চাইছে।
সে আমার দিকে তাকিয়েই রইল। বুঝতে পারছিলাম তার লজ্জাই তাকে আসতে দিচ্ছে না। তাহলেও তাকে কিন্তু আমি অনুরোধ করেই যাচ্ছিলাম। শেষে সে বলল, ‘ আমার ্পক্ষে উঠে গিয়ে তোমাদেরকে গল্প বলা ঠিক নয়। কিন্তু আমি এটা করব।’
তখন তার উর্ধাঙ্গের কাপড়টা খুলে ফেলল। তার দিকে না তাকাতে চেষ্টা করছিলাম। ওগুলো ছিল তরতাজা–আর ছোট।
‘এই ঘরে এসে পড়ো। আমাদেরকে একটি গল্প বলো। আমরা মুগ্ধ হতে চাইছি। গল্পটি বলার জন্য তোমাকে কতো দিতে হবে?’
‘আমি কিছু বলতে পারব না।’ সে বলল।
ধূসর-নীলচে চোখ দিয়ে আমাকে মাপতে চেষ্টা করছিল। ওদের মুখগুলো কাঁচের টুকরোটিতে চেপে বসেছিল। নিঃশ্বাসে কাঁচটি প্রায় আবছা হয়ে উঠেছে। আমি তাকে আরেকবার জোর করলাম। কিন্তু সে তার কোলের উপরে থাকা কালো ব্লাউজটির দিকে চোখ নামিয়ে রইল।
‘আমার ইচ্ছে হয় বলতে, কিন্তু সেটা আমি পারি না।’ সে উত্তরে বলল। তখনো চোখটা নত করে রেখেছে।
হয়তো তাকে আর পীড়াপীড়া করা ঠিক নয়, ভেবে দেখলাম। সে একটি গল্প বলতে চায় না। গল্প বলা অতো সহজ নয়। তাকে একা থাকতে দেওয়া দেওয়া উচিত।
কিন্তু তারপর সে আমার দিকে চোখ রাখল। মনে হলো সেটাও একটা চ্যালেঞ্জের মতো। আমি নড়তে পারলাম না। সেও নড়ল না।
‘তুমি কেনো আমাকে কোনো গল্প বলোনি?’ সে বলল।
‘আমি?’
‘হ্যাঁ।’
কাঁচের ফুটোটার উপর চেপে থাকা মুখগুলোর দিকে ঘুরল। আর তারা সবাই ঘরে ঢুকল। বিছানার উপরে তারা বসল।
‘সে আমাকে একটি গল্প বলতে চলেছে,’ বলল মেয়েটি।
কখন যে তার ব্লাউজটি আবার পরে নিয়েছে আমি টেরই পাইনি। তারা সবাই আমার দিকে চেয়ে আছে। বেশ আতঙ্কের মতো ব্যাপার সেটা। দেখে মনে হলো তারা যেন আমাকে গিলে ফেলবে। একটি গল্প আমাকে বলতেই হবে। বুক ভরে দম নিলাম।
‘একদিন,’ আমি বললাম, ‘ আমাদের সামনের দরোজা দিয়ে বাইরে এলাম। দেখলাম একটি বাঘ….’


0 মন্তব্যসমূহ