অনুবাদ: নাহার তৃণা
ছোট্ট এক শহরে ভাবুক এক তরুণ বাস করতো। একদিন তার মনে এমন ভাবনার উদয় হলো, "সবাইকে একদিন মরতে হবে, এ কেমন কথা! ব্যাপারটা মেনে নিতে আমি রাজি নই। এমন দেশের খোঁজে আমি বেরিয়ে পড়বো, যেখানে কেউ মরে না।" ভাবনা মতো সে বাবা, মা, এবং জ্ঞাতিগোষ্ঠীদের বিদায় জানিয়ে সেই স্হানের খোঁজে রওনা দিলো। কয়েক মাস ধরে যুবকটি হেঁটেই চলেছে, চলতি পথে যাদের সাথে তার দেখা হয়েছে তাদের জিজ্ঞাসা করেছে যে তারা তাকে এমন জায়গায় নিয়ে যেতে পারে কি না, যেখানে কেউ মারা যায় না। কিন্তু এমন কোনো জায়গার কথা কেউ জানত না। চলতে, চলতে, একদিন, বুক অবধি নেমে আসা সাদা দাড়িওয়ালা এক বুড়োর সাথে তার দেখা হলো, যিনি তখন পাথর ভরা একটি ঠেলাগাড়ি ঠেলায় ব্যস্ত ছিলেন। ছেলেটি তাকে জিজ্ঞেস করলো, "আপনি কি আমাকে এমন জায়গার সন্ধান দিতে পারেন যেখানে কারো মৃত্যু হয় না?"
"মরতে চাও না তুমি? আমার সাথে থেকে যাও তাহলে। ওই পাহাড়টা দেখতে পাচ্ছো? যতদিন না সম্পূর্ণ পাহাড়ের পাথর একে একে কেটে ওটাকে সমতল করা হবে, ততদিন পর্যন্ত তুমি মরবে না।”
"কাজটা শেষ করতে কতদিন লাগবে?"
"কমপক্ষে একশ বছর।"
“তারপর আমাকে মরতে হবে?”
“সে তো হবেই।”
“বুঝেছি। এ জায়গা আমার জন্য নয়। আমি এমন স্হানে যাবো যেখানে কেউ কখনও মরে না।" বুড়োর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে অমরত্বের খোঁজে সে ফের পথে নামলো। মাইলের পর মাইল পথ উজিয়ে গভীর এক জঙ্গলের কাছাকাছি গিয়ে পৌঁছালো। সে জঙ্গল এতটাই গভীর যেন তার আদি-অন্তের থৈ বলে কিছু নেই। সেখানে সে দেখতে পেলো নাভি পর্যন্ত লম্বা দাড়িওয়ালা এক বুড়ো ডাল কাটার কাঁচি দিয়ে গাছের ডালপালা ছাঁটছেন। ছেলেটি তাকে জিজ্ঞেস করলো,
“দয়া করে আমাকে এমন জায়গার কথা বলতে পারবেন, যেখানে কেউ কখনও মরে না?”
“আমার সাথে থেকে যাও। গাছকাটার এই কাঁচি দিয়ে বেয়াড়া ডালপালা ছেঁটে বনটাকে সাফসুতরো না করা পর্যন্ত তোমার মরণ নেই।”
“কাজটা শেষ হতে কতদিন লাগবে?”
“অনন্ত দুশো বছর।”
“আর তারপর আমাকে মরে যেতে হবে?”
“নিশ্চয়ই মরতে হবে। দুশো বছর বেঁচে থাকাটা তোমার জন্য যথেষ্ট নয়?”
“নাহ্, এ জায়গা মোটেও আমার জন্য নয়। আমি এমন এক জায়গার সন্ধানে আছি, যেখানে কাউকেই কখনও মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয় না।”
কাজেই তারা একে অন্যকে বিদায় জানালো। আবারও ছেলেটি তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে এগিয়ে চললো।
বিরামহীন হাঁটার মাস খানেক পর সে এক সমুদ্রতীরে গিয়ে পৌঁছালো।
সেখানে সে হাঁটু অবধি নেমে যাওয়া দাড়িওয়ালা এক বুড়োর দেখা পেলো। বৃদ্ধ গভীর মনোযোগ দিয়ে একটি হাঁসের সমুদ্রের পানি পান করা দেখায় মগ্ন ছিলেন। ছেলেটি সেই বুড়োকেও একই প্রশ্ন করলো, “ আপনি কি দয়া করে এমন একটা স্হানের কথা বলতে পারবেন, যেখানে কেউ কখনও মরে না?”
“বাছা, মরতে যদি ভয় পাও তবে আমার সাথে থেকে যাও। হাঁসটাকে দেখতে পাচ্ছো? যতদিন না ওটা এই সমস্ত জলরাশির সবটুকু পান করে সমুদ্রটাকে শুকিয়ে ফেলবে, ততদিন তোমার মৃত্যুর ভয় নেই।”
“কাজটা শেষ হতে কতদিন লাগবে?”
“তা মোটামুটি তিনশ বছর তো লাগবেই।”
“ সেই সময়ের পর আমাকে মরে যেতে হবে?”
“এর বেশি কি আশা করো তুমি? আর কত দীর্ঘদিন সময় বাঁচতে চাও?”
“না, না, না। এখানেও থাকা চলবে না। আমার সেখানেই যাওয়া দরকার, যেখানে কেউ কখনও মারা যায় না।”
"কাজটা শেষ করতে কতদিন লাগবে?"
"কমপক্ষে একশ বছর।"
“তারপর আমাকে মরতে হবে?”
“সে তো হবেই।”
“বুঝেছি। এ জায়গা আমার জন্য নয়। আমি এমন স্হানে যাবো যেখানে কেউ কখনও মরে না।" বুড়োর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে অমরত্বের খোঁজে সে ফের পথে নামলো। মাইলের পর মাইল পথ উজিয়ে গভীর এক জঙ্গলের কাছাকাছি গিয়ে পৌঁছালো। সে জঙ্গল এতটাই গভীর যেন তার আদি-অন্তের থৈ বলে কিছু নেই। সেখানে সে দেখতে পেলো নাভি পর্যন্ত লম্বা দাড়িওয়ালা এক বুড়ো ডাল কাটার কাঁচি দিয়ে গাছের ডালপালা ছাঁটছেন। ছেলেটি তাকে জিজ্ঞেস করলো,
“দয়া করে আমাকে এমন জায়গার কথা বলতে পারবেন, যেখানে কেউ কখনও মরে না?”
“আমার সাথে থেকে যাও। গাছকাটার এই কাঁচি দিয়ে বেয়াড়া ডালপালা ছেঁটে বনটাকে সাফসুতরো না করা পর্যন্ত তোমার মরণ নেই।”
“কাজটা শেষ হতে কতদিন লাগবে?”
“অনন্ত দুশো বছর।”
“আর তারপর আমাকে মরে যেতে হবে?”
“নিশ্চয়ই মরতে হবে। দুশো বছর বেঁচে থাকাটা তোমার জন্য যথেষ্ট নয়?”
“নাহ্, এ জায়গা মোটেও আমার জন্য নয়। আমি এমন এক জায়গার সন্ধানে আছি, যেখানে কাউকেই কখনও মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয় না।”
কাজেই তারা একে অন্যকে বিদায় জানালো। আবারও ছেলেটি তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে এগিয়ে চললো।
বিরামহীন হাঁটার মাস খানেক পর সে এক সমুদ্রতীরে গিয়ে পৌঁছালো।
সেখানে সে হাঁটু অবধি নেমে যাওয়া দাড়িওয়ালা এক বুড়োর দেখা পেলো। বৃদ্ধ গভীর মনোযোগ দিয়ে একটি হাঁসের সমুদ্রের পানি পান করা দেখায় মগ্ন ছিলেন। ছেলেটি সেই বুড়োকেও একই প্রশ্ন করলো, “ আপনি কি দয়া করে এমন একটা স্হানের কথা বলতে পারবেন, যেখানে কেউ কখনও মরে না?”
“বাছা, মরতে যদি ভয় পাও তবে আমার সাথে থেকে যাও। হাঁসটাকে দেখতে পাচ্ছো? যতদিন না ওটা এই সমস্ত জলরাশির সবটুকু পান করে সমুদ্রটাকে শুকিয়ে ফেলবে, ততদিন তোমার মৃত্যুর ভয় নেই।”
“কাজটা শেষ হতে কতদিন লাগবে?”
“তা মোটামুটি তিনশ বছর তো লাগবেই।”
“ সেই সময়ের পর আমাকে মরে যেতে হবে?”
“এর বেশি কি আশা করো তুমি? আর কত দীর্ঘদিন সময় বাঁচতে চাও?”
“না, না, না। এখানেও থাকা চলবে না। আমার সেখানেই যাওয়া দরকার, যেখানে কেউ কখনও মারা যায় না।”
বৃদ্ধের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ছেলেটি আবারও হাঁটতে শুরু করলো। হাঁটতে, হাঁটতে একসন্ধ্যায় রাজকীয় এক প্রাসাদের সামনে গিয়ে সে উপস্হিত হলো। বিনাদ্বিধায় গিয়ে দরজায় ধাক্কা দিলো। পায়ের পাতা পর্যন্ত নেমে যাওয়া দাড়ি সামলে এক বৃদ্ধ দরজা খুলে তার সামনে দাঁড়ালেন। শান্ত গলায় তিনি জানতে চাইলেন,
“কিসের খোঁজে এসেছো বাছা?”
“আমি এমন জায়গার খোঁজ করছি যেখানে কেউ কখনও মরে না।”
“তোমার কপাল ভালো, তুমি সেখানেই পৌঁছে গেছো। এটা সেই জায়গা, যেখানে মৃত্যু কাউকেই স্পর্শ করে না। তোমার যাত্রাপথের সঙ্গী পায়ের বুটজোড়া বাজি ধরতে পারো যতক্ষণ আমার সাথে থাকবে তোমার মৃত্যু হবে না। অবশেষে! দীর্ঘ পথের শ্রান্তি শেষে এই সেই জায়গা, যার সন্ধানে এতদিন ঘুরেছি। কিন্তু আপনি নিশ্চিত তো আমি এখানে থাকলে আপনার কোনো সমস্যা হবে না?” “সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত, তোমার সঙ্গ পেলে সময় আনন্দেই কাটবে।”
“কিসের খোঁজে এসেছো বাছা?”
“আমি এমন জায়গার খোঁজ করছি যেখানে কেউ কখনও মরে না।”
“তোমার কপাল ভালো, তুমি সেখানেই পৌঁছে গেছো। এটা সেই জায়গা, যেখানে মৃত্যু কাউকেই স্পর্শ করে না। তোমার যাত্রাপথের সঙ্গী পায়ের বুটজোড়া বাজি ধরতে পারো যতক্ষণ আমার সাথে থাকবে তোমার মৃত্যু হবে না। অবশেষে! দীর্ঘ পথের শ্রান্তি শেষে এই সেই জায়গা, যার সন্ধানে এতদিন ঘুরেছি। কিন্তু আপনি নিশ্চিত তো আমি এখানে থাকলে আপনার কোনো সমস্যা হবে না?” “সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত, তোমার সঙ্গ পেলে সময় আনন্দেই কাটবে।”
কাজেই ছেলেটি বৃদ্ধের সঙ্গে রাজপ্রাসাদে গেল এবং সেখানে মহাসুখে রাজার হালে থাকতে লাগলো। সুসময় পাখা মেলে এতটাই দ্রুত গড়িয়ে চললো যে দিন, তারিখ কিংবা বছরের কোনো হিসাব ছেলেটির পক্ষে রাখা সম্ভব হলো না। এভাবে সময় গড়ানোর একটা পর্যায়ে একদিন ছেলেটি বৃদ্ধকে বললো, সন্দেহ নেই এখানকার মতো জায়গা পৃথিবীর আর কোত্থাও নেই, কিন্তু আমার মন ভারি উচাটন হয়েছে, অন্তত কিছু সময়ের জন্য পরিবার-পরিজনেরা কে কেমন আছে চোখের দেখাটা দেখে আসতে চাই।”
“তুমি কোন পরিবার-পরিজনের কথা বলছো? তোমার শেষতম আত্মীয়টিও বছর কয়েক হলো মারা গেছে।
“তবুও স্বল্প সময়ের জন্য হলেও আমি সেখানে যেতে চাই। আমার জন্মস্হানকে একবারের জন্য হলেও দেখার সাধ। হয়তো কোনো আত্মীয়ের ছেলের ঘরের কোনো ছেলেপুলে কারো না কারোর সাথে দেখা হতে পারে।”
“এত করে যখন চাইছো তবে যাও, ঘুরে এসো। কিন্তু আমার পরামর্শ মনে রেখো বাছা। আস্তাবল থেকে আমার সাদা ঘোড়াটি বেছে নাও। ওটা বাতাসের বেগে ছুটতে পারে। কিন্তু খবরদার! একবার যখন ঘোড়ার পিঠে সাওয়ার হবে, যত যাই ঘটে যাক না কেন, ভুলেও ওর পিঠ থেকে নামবে না। মনে রেখো, যদি তা করো, ওখানেই তোমার মৃত্যু অবধারিত।”
“তুমি কোন পরিবার-পরিজনের কথা বলছো? তোমার শেষতম আত্মীয়টিও বছর কয়েক হলো মারা গেছে।
“তবুও স্বল্প সময়ের জন্য হলেও আমি সেখানে যেতে চাই। আমার জন্মস্হানকে একবারের জন্য হলেও দেখার সাধ। হয়তো কোনো আত্মীয়ের ছেলের ঘরের কোনো ছেলেপুলে কারো না কারোর সাথে দেখা হতে পারে।”
“এত করে যখন চাইছো তবে যাও, ঘুরে এসো। কিন্তু আমার পরামর্শ মনে রেখো বাছা। আস্তাবল থেকে আমার সাদা ঘোড়াটি বেছে নাও। ওটা বাতাসের বেগে ছুটতে পারে। কিন্তু খবরদার! একবার যখন ঘোড়ার পিঠে সাওয়ার হবে, যত যাই ঘটে যাক না কেন, ভুলেও ওর পিঠ থেকে নামবে না। মনে রেখো, যদি তা করো, ওখানেই তোমার মৃত্যু অবধারিত।”
“একদম ভাববেন না। আমি বিলকুল ঘোড়ার জিন ধরেই বসে থাকবো। মৃত্যু আমার কতটা অপছন্দের সেটা তো আপনি জানেন।
ছেলেটি বৃদ্ধের কথা মতো আস্তাবলে গেল এবং সাদা ঘোড়াটি নিয়ে বেরিয়ে এলো। এরপর জিনের উপর সাওয়ার হওয়া মাত্র তাকে নিয়ে ঘোড়াটি বাতাসের বেগে ছুটে চললো। ছুটতে ছুটতে সেই জায়গা সে অতিক্রম করলো, যেখানে একদা সে একবুড়ো আর হাঁসের দেখা পেয়েছিল। সেই সমুদ্র শুকিয়ে বিস্তীর্ণ এক তৃণভূমিতে পরিণত হয়েছে। তারই পাশে ক্ষুদে একস্তূপে সে বুড়োর হাড়গোড় দেখতে পেলো। “দেখেছো কাণ্ড! বুদ্ধি খাটিয়ে এখান থেকে ভেগেছিলাম ভাগ্যিস। নইলে আমাকেও মরতে হতো আর ওই স্তূপে আমার হাড়গোড় জমা হতো।” আপন মনে বললো ছেলেটি।
ঘোড়া তার সাওয়ারি নিয়ে সামনে এগিয়ে চললো। এরপর ছেলেটি সেই গভীর জঙ্গলের কাছে গিয়ে দাঁড়ালো, যেখানে তার এক বুড়োর সাথে দেখা হয়েছিল, যিনি বড় কাঁচি দিয়ে গাছ ছাঁটাই করছিলেন। সেই ঘন বনের অস্তিত্ব আর নেই, গাছপালাশূন্য এক মরুভূমি সেটা তখন। “ এখানে না থাকার সিদ্ধান্তটা একদম ঠিক ছিল। আমার পরিণতিও বুড়ো আর জঙ্গলের মতো হতো।” নিজের মনে বিড়বিড় করলো সে।
এরপর ছেলেটি সেই জায়গা পেরলো, যেখানে এক সময় মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে ছিল এক বিশাল দেহী পাহাড়। এক বুড়োকে সেই পাহাড়ের পাথর কেটে কেটে তার ঠেলা গাড়ি ভরতি করতে দেখেছিল সে। কোত্থাও সেই পাহাড়ের চিহ্ন তার চোখে পড়লো না। জায়গাটা এখন বিলিয়ার্ড টেবিলের/মাঠের মতো সমান। আপন মনে সে বলে উঠল, “এখানে থাকাও আমার জন্য নিরাপদ ছিল না।”
ক্রোশের পর ক্রোশ পথ ভেঙে এক সময় ছেলেটি তার জন্ম শহরে গিয়ে পৌঁছালো। কিন্তু দীর্ঘ সময়ের আবর্তে সে শহর এতটাই বদলে গেছে যে ছেলেটা কিছুতেই শহরটাকে চিনতে পারলো না। কিছুতেই সে তার বাড়ির হদিশ পেলো না, এমনকি যে পথের উপর বাড়িটা দাঁড়িয়ে ছিল সেটাও উধাও। সে তার পরিবার-পরিজনদের খোঁজ করলো, কিন্তু তাতেও হতাশ হতে হলো তাকে। তার বলা নামধাম কেউ শোনেনি কখনও, কাজেই কেউ তাদের চিনতে পর্যন্ত পারলো না।
ঢের হয়েছে খোঁজাখুঁজি।“আর এক মুহূর্ত নষ্ট করার মানে হয় না এখনই আমাকে ফিরে যেতে হবে।”সিদ্ধান্ত নিলো ছেলেটি।
ভাবনা মতো সে ঘোড়ার দিক ঘুরিয়ে ফিরে চললো। সেই রাজকীয় প্রাসাদে পৌঁছানোর প্রায় অর্ধেক পথ তখনো বাকি, এমন সময় সে দেখতে পেলো পথ জুড়ে দাঁড়িয়ে আছে পুরনো জুতায় ভরতি একটা গরুর গাড়ি। যার একটা চাকা কাদায় আটকে গেছে, আর সেটা কাদার খপ্পর থেকে উদ্ধারে হিমশিম খাচ্ছে গাড়োয়ান। মিনতি ভরে গাড়োয়ান ছেলেকে উদ্দেশ করে বলে, “ দয়া করে ঘোড়া থেকে নেমে যদি গাড়িটা কাদা থেকে তুলতে সাহায্য করেন খুব উপকার হতো।”
ঢের হয়েছে খোঁজাখুঁজি।“আর এক মুহূর্ত নষ্ট করার মানে হয় না এখনই আমাকে ফিরে যেতে হবে।”সিদ্ধান্ত নিলো ছেলেটি।
ভাবনা মতো সে ঘোড়ার দিক ঘুরিয়ে ফিরে চললো। সেই রাজকীয় প্রাসাদে পৌঁছানোর প্রায় অর্ধেক পথ তখনো বাকি, এমন সময় সে দেখতে পেলো পথ জুড়ে দাঁড়িয়ে আছে পুরনো জুতায় ভরতি একটা গরুর গাড়ি। যার একটা চাকা কাদায় আটকে গেছে, আর সেটা কাদার খপ্পর থেকে উদ্ধারে হিমশিম খাচ্ছে গাড়োয়ান। মিনতি ভরে গাড়োয়ান ছেলেকে উদ্দেশ করে বলে, “ দয়া করে ঘোড়া থেকে নেমে যদি গাড়িটা কাদা থেকে তুলতে সাহায্য করেন খুব উপকার হতো।”
“আমি তাড়ায় আছি, তাছাড়া ঘোড়ার পিঠ থেকে নামা সম্ভব না।” ছেলেটি তড়িঘড়ি জবাব দিলো।
“দয়া করুন, আশেপাশে আর কেউ নেই যে সাহায্য চাইবো।এদিকে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে, বুঝতেই তো পারছেন আমার একার পক্ষে এই বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়া কঠিন।”
গাড়োয়ানের কাকুতি-মিনতিতে ছেলেটার মন আর্দ্র হলো। সে ঘোড়ার পিঠ থেকে সবেমাত্র মাটিতে এক পা রেখেছে, তখনও তার আরেক পা রেকাবে। ঠিক তখন, খপ্ করে ছেলেটার হাত ধরে ফেললো গাড়োয়ান। ক্রুর হেসে বললো, “এতদিনে কব্জা করেছি তোমাকে! আমি কে জানো? যার ভয়ে তুমি পালিয়ে বেড়াচ্ছো। আমি সেই অমোঘ মৃত্যু! গাড়ি বোঝাই পুরনো জুতো দেখতে পাচ্ছো? ওগুলো তোমার পেছনে ছুটতে গিয়ে আয়ু ক্ষয় করেছে। এবার তোমায় বাগে পেয়েছি, আমার কাছ থেকে কখনও কেউ নিস্তার পায় না।”
অমরত্ব পিয়াসী বেচারা ছেলেটি চেষ্টা করেও রক্ষা পেলো না, শেষমেশ তাকেও মরণশীল অন্য সবার মতোই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হলো।
------------
মূলগল্প:দ্য ল্যান্ড হোয়ার ওয়ান নেভার ডাইজ


1 মন্তব্যসমূহ
এমন গল্প আমাদের দেশে অমিল নয়। আমাদের কর্তাভজা তত্ত্বচাটা মনোভাবের জন্য এইসব গল্প নিয়ে নাচানাচি করি।
উত্তরমুছুন