অমৃতা প্রীতমের গল্প: অন্য সে জন



অনুবাদ: রঞ্জনা ব্যানার্জী



ব কটি ডালেই চাঁপা ফুল ফুটেছিল কিন্তু কান্নু তাদের একটিরও নাগাল পাচ্ছিল না। এমন কি পায়ের আঙুলে ভর দিয়ে দাঁড়িয়েও কান্নু ওদের ছুঁতে পারছিল না। কান্নুর মনে পড়ল, মা বলেছিল এই গাছের বয়স ওর বয়েসের সমান। কান্নু ভাবল : যদি আমরা একই বয়সীই হবো তবে আমি এমন ছোট আর গাছ এমন লম্বা হয়ে গেল কীভাবে!

বাড়ির সীমানা প্রাচীর গাছের চেয়ে নিচু। কান্নুর মাথায় একটা বুদ্ধি এলো- দেয়ালে চড়তে পারলেই কিছু ফুল তোলা যাবে। সে প্রাচীরের কাছ ঘেঁষে ইট জড়ো করল। কিন্তু ইটের পাঁজায় দাঁড়িয়ে ওর হাত কোনোমতে কেবল দেয়ালের কার্ণিশ পর্যন্তই পৌঁছাল কিন্তু তাতে ভর দিয়ে দেয়ালে চড়তে পারল না সে।

সদর দরজায় পা গলাতেই শ্রী কৃষ্ণ দেখল ডান দিকের দেয়ালের মাথায় আঙুল আঁকড়ে ঝুলছে কান্নু। সে না পারছে দেয়ালে চড়তে, না- পারছে নিচে নামতে। শ্রী কৃষ্ণ দ্রুত কান্নুকে দেয়াল থেকে আলগা করল । এরপরে দুই বাহু তুলে কান্নুকে উঁচু করে ধরল যেন গোছা খানেক ফুল সে ছিঁড়তে পারে। ফুল হাতে নিচে নামতে নামতে কান্নু জানতে চাইল, “কাকু মা বলে চাঁপা গাছটার বয়স আমার সমান তাহলে আমি এখনও এত ছোট কেন? “

শ্রী কৃষ্ণ জানে কান্নু দুধ খেতে একেবারেই ভালোবাসে না। যখনই কান্নুর মা দুধ ঢালে তখনই কান্নুর লুকোচুরি খেলা শুরু হয়ে যায়। কখনও দরজার পেছনে আবার কখনও বা খাটের তলায় সে লুকিয়ে থাকে। ব্যাপারটা ভেবেই শ্রী কৃষ্ণ বলল, “বাচ্চারা আম গাছের মতো, ধীরে ধীরে বাড়ে কিন্তু যারা দুধ খায় তারা খুব তাড়াতাড়ি বড় হয়ে যায়। “

“আম গাছ কি দুধ খায়?’ কান্নু জানতে চাইল। কান্নুর হাত ধরে ভেতরে যেতে যেতে শ্রী কৃষ্ণ বলল, “আমি তোমাকে এমন একটা আম গাছের ছবি দেখাব যে দুধ খেয়েই লম্বা হয়েছিল।“

কান্নু বলল, ‘আমিও তবে দুধ খাব’, এবং শ্রী কৃষ্ণের মুঠো থেকে হাত ছাড়িয়ে এমনভাবে ছুট লাগাল যেন এই মাত্র জীবনের গূঢ় রহস্য সে জেনে ফেলেছে।

বসার ঘরে ফুলদানীটা গত ছয় মাস ধরে বিরান পড়ে আছে। ছয় মাস আগে কান্নুর মা প্রতিদিন এতে ফুল সাজাতেন। কান্নু ফুলদানীতে ফুলগুলি রাখতে গিয়েই টের পেলো ওর হাত কষে মাখামাখি হয়ে আছে , ভাঙা ডালের গোড়া থেকে কষ বেরিয়ে আসছে।

ফুলগুলি টেবিলে রেখে অদূরে বসে থাকা মায়ের দিকে তাকিয়ে কান্নু বলল, “ মা ফুলেরা কাঁদছে।“ কান্নুর মা ফুলগুলোর দিকে একবার তাকিয়েই চোখ বুজলেন , সেই ব্যথাতুর স্মৃতি হুড়মুড়িয়ে জেগে উঠল তাঁর মনে।

শ্রী কৃষ্ণ কান্নুর পেছন পেছনই ঢুকেছিল। শ্রী কৃষ্ণের পায়ের আওয়াজ টের পেতেই কান্নুর মা জলভরা চোখ মেললেন। চেয়ার থেকে অর্ধেক উঠে শ্রী কৃষ্ণ কে বসতে বলেই ফের চেয়ারে গা ছেড়ে দিলেন এবং অস্ফুটে বললেন, “একদিকে ভাগ্যের বিড়ম্বনা অন্যদিকে শিশুমনের জিজ্ঞাসা, এই ফুলগুলি কান্নু এনেছে আর বলছে ফুলেরা নাকি কাঁদছে।“

কান্নুর মায়ের গলার স্বর শোকে ন্যুব্জ – সেই শোক যা ছয় মাস আগে এই বাড়ির ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিল এবং শ্রী কৃষ্ণ শক্ত হাতে যে শোক সামলেছিল। শ্রী কৃষ্ণ প্রসঙ্গ পাল্টাতে বলল, ‘ আচ্ছা কান্নু তুমি তো মাকে জানালে না আমি তোমাকে কী বলেছি’। ‘মা কাকু বলেছে বাচ্চারা হলো আমগাছের মতো, যদি তারা দুধ ঠিকঠাক খায় তবে তাড়াতাড়ি বড় হয়, আমিও দুধ খাব।‘

আবছা এক টুকরো হাসি কান্নুর মায়ের মুখ উজ্জ্বল করল। কান্নুর দিকে এক ঝলক তাকিয়েই তিনি শ্রী কৃষ্ণকে দেখলেন, দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোর জন্যে নীরব কৃতজ্ঞতা ছুঁয়ে ছিল সেই দৃষ্টিতে ।

খানিক শক্তি সঞ্চয় করে উঠে দাঁড়ালেন কান্নুর মা এবং কান্নুকে উদ্দেশ্য করে বললেন ,”দুধ আনি তবে? “
“হ্যা! আর ফুলগুলির জন্যে জলও”, কান্নু তার কথা শেষ করতেই শ্রী কৃষ্ণ প্রস্তাব দিল, “ চল কান্নু আমরাই বরং জল নিয়ে আসি আর ফুলদানীটাও খানিক সাফসুতরো করি” ।

কান্নুর মা রান্নাঘরের দিকে পা বাড়িয়েছিলেন, চৌকাঠের কাছে থামলেন, দেয়ালে ঝোলানো ছবিটা তাঁকে টানছে । কান্নুর বাবার ছবি, তাঁর জীবন থেকে উপড়ে যাওয়া বৃক্ষ, কান্নুর দিকে চেয়ে মনে মনে বললেন, সেই গাছের ভাঙা ডালের ছেঁড়া ফুল।

কান্নু টেবিলের উপর থেকে ফুলগুলো তুলে নিল, শ্রী কৃষ্ণ নিল শূন্য ফুলদানীটি যার ভাগ্যে গত ছয়মাস ধরে কোনো ফুল জোটেনি। রান্নাঘরের বাইরের কলতলায় জল দিয়ে শ্রী কৃষ্ণ ফুলদানীটা সাফ করার পরে তাতে ফুলগুলি সাজাচ্ছিল। দুধ গরম করতে করতে সেই দিকে তাকিয়ে কান্নুর মায়ের মনে হলো শ্রী কৃষ্ণ কলের জলের ধারার মতোই। জলের সিঞ্চনে ডাল বিচ্ছিন্ন ফুলগুলি যেমন ক্ষণিকের জন্যে প্রাণ পায় ঠিক একইভাবে গত ছয়মাস ধরে শ্রীকৃষ্ণও ওদের জীবনকে সেচন করে চলেছে।

চুলায় দুধ গরমের পর তিনি চায়ের জল চাপালেন। কলের জলের ভাবনাটির মতো আরও একটা চিন্তা তার মগজে উথলে উঠল, “আপনজনের মৃত্যুর শোক একদিন কিংবা বড় জোর এক সপ্তাহ পর্যন্ত অন্যদের সঙ্গে ভাগাভাগি করা যায় এরপরে আর কাউকেই পাশে পাওয়া যায় না এবং সবাই ভুলেও যায়। অথচ শ্রী কৃষ্ণ তাদের আত্মীয়-সম্পর্কের কেউ নয়, মৃত যে জন তাঁর সংগেই ছিল বন্ধুতার দায়। অথচ সে এখনও আসছে এবং আমাদের ভালো মন্দের খোঁজ রাখছে। কিন্তু আর কতদিন এভাবে আমাদের দেখে রাখবে?’ ফুটন্ত চায়ের জলের ছিঁটে গায়ে লাগতেই কান্নুর মা ভাবনার ঘোর কেটে বাস্তবে ফিরলেন ।

দুধ আর দুই কাপ চা হাতে বসার ঘরে ঢুকতেই তাঁর মনে হলো ঘরের ভেতরের হাওয়া যেন বিগত দিনগুলির ফিকে গন্ধ ধরে রেখেছে - সেই দিনগুলি যখন কান্নুর বাবা বেঁচে ছিলেন। এই প্রথমবারের মতো কান্নু এক চুমুকেই দুধ শেষ করল। এবং মাকে জানাল, “মা তুমি বাবার মতো আমার সঙ্গে কখনই তাস খেল না। দেখ কাকু বলছেন আজ আমার সঙ্গে তাস খেলবেন।‘

গত দিনগুলিতে কান্নুর মায়ের ক্ষুধা- তৃষ্ণা সবই যেন লোপ পেয়েছিল। আজ কাপ হাতে নিতেই গরম চায়ে ঠোঁট ছোঁয়ানোর তীব্র ইচ্ছে অনুভব করলেন তিনি।

কান্নু কেবল একটি তাসের খেলাই জানে আর বাবার সঙ্গে সেই একটি খেলাই খেলতো সে। আর সেই খেলার ফলাফলও ছিল নির্দিষ্ট। খেলাতে জিতবে একজনই - কান্নু এবং হারবেন কান্নুর বাবা। এই খেলার অনিবার্য লক্ষ্যই ছিল - কান্নুকে জেতানো। খেলা শেষে বাবাকে ফের খেলতে রাজি করানোর জন্য কান্নু ছুটতো বাবার পিছু পিছু আর বাবা পালাতেন কান্নুর আগে আগে। মন খারাপের ভান করে বলতেন, “ নাহ্‌ আমি খেললে আবারও হারবো।“ আর যখন অবশেষে বাবা রাজি হতেন তখন কান্নুর খুশি বাধ মানতো না, যেন খেলতে নয় হারবার টোপ গেলাতে পেরেছে সে বাবাকে ।

আজ শ্রী কৃষ্ণের সঙ্গে খেলা শুরু হতেই কান্নু বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করল ওর তাসেরা শ্রী কৃষ্ণের তাসের দানের চেয়ে অনেক ছোট। কান্নুর ছোট্ট মুখখানি রাগে তেতে উঠেছিল। শ্রী কৃষ্ণ তার ভুল ধরতে পেরেছিল তৎক্ষণাৎ এবং পরেরবার তাস বাটার সময় টেক্কা, রানি, রাজা আর সমস্ত বড় দানের তাসগুলি কান্নুর ভাগেই পড়েছিল। কান্নুর হারানো বিশ্বাস ফের ফিরে এসেছিল এবং পুরোনো কান্নুও ফিরেছিল নিজের কাছে । কান্নুর মায়ের মনে হচ্ছিল যেন ছয়মাস পরে দেখছেন মেয়েকে ।

‘কাকু হেরেছে,’ ‘কাকু হেরেছে’ ওর সোল্লাস চিৎকারে ঘরের বিষণ্ণ ম্যাড়ম্যাড়ে দেয়ালগুলিও যেন ঝকমক করে চমকাচ্ছিল।

এর পরের দিনগুলোতে কান্নু শ্রী কৃষ্ণের সংগে খুব বেড়াল- কখনও সার্কাসে, কখনও বা আইস্ক্রিম খেতে কিংবা নতুন জুতো কিনতে। কদিন পরে কান্নুর মা ওকে স্কুলে ভর্তি করানোর জন্যে নিতে চাইলে কান্নু শ্রী কৃষ্ণ কাকুকে ছাড়া কিছুতেই স্কুলে যেতে রাজি হলো না।

এবং এর পরেই সেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল। বাড়ির অদূরের পার্কে কান্নু ওদের প্রতিবেশীর কন্যার সংগে খেলতে গিয়েছিল একদিন। পার্কের কোণে চূড়োমতো স্থাপনাটায় চড়তে গিয়ে সিঁড়ি থেকে পিছলে পড়ে গেল কান্নু এবং পা ভাঙল।

ছোট্ট সেই মফস্বল শহরে জরুরি চিকিৎসায় কেবল হাকিমই ভরসা। হাকিমসাহেব কান্নুর পায়ের হাড়টি যথাস্থানে বসানোর সময় শ্রী কৃষ্ণকে আর্তনাদরত কান্নুর পা চেপে ধরতে বলেছিলেন। ‘আমার পা ছেড়ে দাও কাকু’ কান্নু প্রাণপণে চেঁচাচ্ছিল, শ্রী কৃষ্ণ পা ছাড়েনি, কান্নু ওর জানা অশ্রাব্য গালির সব কটি শ্রী কৃষ্ণকে লক্ষ্য করে ছুড়ছিল অবিরাম। হাড় ঠিকমতোই বসানো হয়েছিল, ব্যান্ডেজও ঠিকঠাক করা গিয়েছিল এবং সকালে কান্নুর ঘুম ভাঙলে তেমন ব্যথা সে অনুভব করছিল না আর। । এই ঘটনা কান্নুর মনে গভীর ছাপ ফেলেছিল। পরদিন শ্রী কৃষ্ণেরর কোলে বসে সে বলল, “ কাকু এখন থেকে তুমি আমার বাবা”।

শ্রীকৃষ্ণ ওর ভ্রুতে আলতো করে ঠোঁট ছুঁয়েছিল , যে কথা শ্রী কৃষ্ণ মনে মনে পুষছিল এতদিন সে কথা কান্নু কেমন অনায়াসে বলে দিল! অপ্রস্তুত কান্নুর মা সামাল দিতে বলেছিলেন, “ তিনি তোমার কাকু’ এবং দেয়ালের ছবিটি দেখিয়ে বললেন, “ ঐখানে তোমার বাবা।‘

কান্নু দেয়ালের ছবিটি দেখেছিল এবং শ্রীকৃষ্ণের গা ঘেঁষে বলেছিল, “কাকুও আমার বাবা।‘ শ্রীকৃষ্ণ কান্নুকে জড়িয়ে ধরেছিল ।

খবর এলো, যুদ্ধে নিহত সৈন্যদের বিধবা স্ত্রীদের জমিদান এবং বাসস্থান নির্মাণে অনুদান দেয়া হচ্ছে। এই মর্মে আবেদন দাখিলের জন্য কান্নুর মাকে শহরে যেতে হয়েছিল। কিন্তু শহর থেকে তিনি একা ফিরলেন না । তাঁর সঙ্গে তাঁর স্বামীর সমপদমর্যাদার এক অফিসারও এসেছিলেন; আবেদনপত্রের জন্য সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র তৈরিতে তিনিই কান্নুর মাকে সাহায্য করবেন ।

শ্রী কৃষ্ণ এর পরেও আগের মতোই বাড়িতে আসতো এবং কান্নুর সংগে নিয়ম করে খেলতো। কিন্তু একদিন সে কান্নুকে বলল, “ কান্নু এখন থেকে আমরা বাড়িতে নয় পার্কে খেলব।“ পার্কে শ্রী কৃষ্ণ কান্নুর সংগে যথারীতি আগের নিয়মেই খেলতো এবং সব খেলাতে কান্নুই বিজয়ী হতো। কিন্তু কোথাও যেন তাল কেটে গিয়েছিল। একদিন কান্নু বলল, ‘কাকু তুমি আগের মত হাসো না কেন? প্রতিবার হারছ বলে কি তোমার মন খারাপ হচ্ছে?’

শ্রী কৃষ্ণ টের পেল কান্নুর প্রশ্নে তার দু চোখ ভিজে যাচ্ছে… যেন ভেতরে কিছু একটা ভেঙে চুরমার হয়েছে এবং সেইসব ভাঙা টুকরো ওর চোখের জমিনে ভেসে উঠছে , কান্নুকে জড়িয়ে ধরল সে, বলল, “খুব সম্ভব আমরা দুজনই হেরে গেছি।“

শহরের আদালত পাড়া থেকে সবখানে খবরটা ছড়িয়ে পড়েছিল : কান্নুর মা সেই সৈনিককেই বিয়ে করেছেন। এই আইনী-বিয়ের বিষয়টি শ্রী কৃষ্ণ আগেই আন্দাজ করেছিল , যখন আদালত থেকে খবরের নিশ্চয়তা এলো তখন সে মাথা নিচু করে ভাগ্যের কাছে নিজেকে সঁপে দিয়ে সরে ওদের জীবন থেকে সরে গিয়েছিল।

বেশ কদিন পরে শ্রী কৃষ্ণ কান্নুদের বাড়ির পাশের বাজারের ভেতরে দিয়ে কোথাও যাচ্ছিল, হঠাৎ দেখতে পেলো কান্নু একা দাঁড়িয়ে আছে। শ্রী কৃষ্ণ নিজেকে সামলাতে পারেনি,কাছে গিয়ে কান্নুকে কোলে তুলে নিয়েছিল এবং জানতে চেয়েছিল, “ এই ঠাণ্ডায় এমন অসময়ে তুমি এখানে দাঁড়িয়ে কেন?”

কান্নুর হাতে একটাকার একটা নোট ধরা ছিল। শ্রী কৃষ্ণকে তা দেখিয়ে কান্নু জানাল, বাবা তাকে এই টাকা দিয়ে কিছু চকলেট কিনতে বলেছে। শ্রী কৃষ্ণ কয়েকটা টফি কিনে কান্নুর হাতে দিয়েছিল। এরপরে কোলে করে ওকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছিল। কান্নু জানতে পারেনি সেই দিন শ্রী কৃষ্ণ ওদের বাড়ির বাইরে অন্ধকারের ভেতর দাঁড়িয়ে কতটা সময় একনাগাড়ে বিড়বিড় করে বলছিল, “আমি তোমাকে বলেছিলাম কান্নু, আমরা দুজনেই হেরে গেছি। দুজনই হেরে গেছি।“

এর পরেই ওদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছিল।

শ্রী কৃষ্ণের জানা হয়নি অচেতন অবস্থায় কান্নু অবিরাম বকে যাচ্ছিল, “ আমার বাবা কোথায়? আমার বাবা কোথায়?” কান্নুর মা হাত তুলে দেখিয়েছিলেন, “এই তো এখানে তোমার বাবা।“ কান্নু অন্য দিকে মাথা ফিরিয়ে নিয়েছিল, বলেছিল, “ও না, অন্যজন।“
------------
মূলগল্প: The Other One








































একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ