ফিরে দেখা একাত্তর



লেখালিখি হলো একধরনের লড়াই। বিস্মৃতির বিপক্ষে স্মৃতির লড়াই। এ স্মৃতি আমাদের পূর্বপুরুষের। তাঁদের লিখিত স্মৃতির বাতাবরণে আমরা বেড়ে উঠেছি। সে স্মৃতি গৌরবের, সে স্মৃতি অশ্রু আর রক্তমাখা মুক্তিযুদ্ধের। পৃথিবীর মানচিত্রে স্বাধীন বাংলাদেশের মাথা তুলে দাঁড়ানোর ইতিহাস। আমাদের লিখিত স্মৃতির ঘেরাটোপের ভেতর বেড়ে উঠবে আগামী প্রজন্ম। তারা জানবে তাদের গৌরবময় ইতিহাস। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি, আবারও শুরু হয়েছে ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তস্নাত গৌরবময় ইতিহাসের বিকৃতিকরণ পর্ব। স্কুলের পাঠ্য বইগুলোতে মুক্তিযুদ্ধের ধোঁয়াশাপূর্ণ ইতিহাস অন্তর্ভূক্তিসহ, জাতীয় পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘিরে চলছে এক দুঃখজনক অরাজক কর্মকাণ্ড। তার বিরুদ্ধে হোক আমাদের অবস্হান।

মিলান কুন্দেরা বলেছিলেন, ক্ষমতার বিপক্ষে মানুষের লড়াই হলো বিস্মৃতির বিপক্ষে স্মরণের লড়াই। এই ক্রান্তিকালে আমাদের লড়াইটা হবে গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধের অর্জনের স্মৃতিসমূহ অক্ষত রাখার লড়াই। লেখালিখির নানা ফর্মের মাধ্যমে আমাদের চেষ্টা থাকবে গৌরবময় একাত্তরকে স্মরণ করা।




একটা দেশকে স্বাধীন করার জন্য নানাভাবে, নানা অঙ্গনে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। অকুতোভয়েরা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার মতো সাহস হয়তো সবার থাকে না। আবার বুকের ভেতর আগুন থাকলেও সবার পক্ষে নানা প্রতিকুল বাস্তবতায় জ্বলে ওঠা সম্ভব হয় না। অস্ত্র দিয়েই তো কেবল যুদ্ধ হয় না। অস্ত্রশস্ত্র সংগ্রহ বা সেগুলো নিরাপদে রাখার দায়িত্বে থেকে, যুদ্ধের নানা খবরাখবর পৌঁছে দিয়ে, মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দিয়ে, সেবা দিয়ে,অনুপ্রেরণা দিয়ে, অভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সামনে ভাতের থালা এগিয়ে দেবার মমতা দেখিয়ে, শব্দ দিয়ে; কতভাবেই না বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে বাঙালি জনগণ যুদ্ধের অংশ নিয়েছিলেন। নিদারুণ লজ্জার হলেও অস্বীকারের উপায় নেই, পাকিস্তানের পক্ষে, আদের হানাদার বাহিনীর সহযোগী হিসেবে প্রচুর বাঙালিও এবং বিহারি একাত্তরে সামিল ছিল। আলবদর, আলশামস ইত্যাদি সংগঠনের ছত্রছায়ায় তারা পাকিস্তান বাহিনীর বর্বরোচিত অত্যাচারের মদত দিয়েছিল। হয়েছিল হত্যা, লুটতরাজ, ধর্ষণ অর্থাৎ বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে আলোর মুখ দেখতে না দেবার জন্য যত ধরনের প্রতিবন্ধকতার প্রয়োজন ছিল, তারা তার সবই করেছিল।বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসে যা এক কলঙ্কময় অধ্যায়। পাশাপাশি স্বাধীনতাকামী সাধারণ মানুষ, যাদের বিরাট একটা অংশ অস্ত্রহাতে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে না পারলেও নানাভাবে মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণা হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন। সাহসী মানুষদের অন্যরকম যুদ্ধ তারই এক উজ্বল দৃষ্টান্ত।



'৭১এর মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশে প্রায় ২-৪ লক্ষ নিরীহ নারী পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও তাদের সহযোগীদের দ্বারা ধর্ষিত এবং অকথ্য অত্যাচারের শিকান হন। ১৯৭১ সালের ২২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকার যুদ্ধকালীন ধর্ষিত নারীদের 'বীরাঙ্গনা' খেতাব প্রদান করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান "পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হাতে নির্যাতিত নারীদের যথাযোগ্য সম্মান এবং মর্যাদা" দেবার জন্য বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান এবং বীরাঙ্গনাদের তিনি নিজের মেয়ে হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

নূর কামরুন নাহার

গল্প


আমাদের মুক্তিযুদ্ধের আখ্যান বিশাল এবং নানামুখী। তার সবটুকু আজও আমাদের শিল্প সাহিত্যের ক্যানভাসে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। আমাদের গর্বের এবং সবচেয়ে বড় অর্জন মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নানামুখী এবং মানোত্তীর্ণ আরো প্রচুর লেখালিখির প্রয়োজন রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক প্রচুর মানোত্তীর্ণ  ছোটোগল্প লেখা হলেও উপন্যাস, চলচ্চিত্রে খামতিটুকু চোখে পড়বার মতো। শিল্পসাহিত্যে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কোয়ান্টিটি নয় কোয়ালিটি সম্পন্ন সৃষ্টি বেশি বেশি হোক। এবারের আয়োজনে র্‌ইল মুক্তিযুদ্ধের ওপর তিনটি গল্প



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ