সেদিন সোমবারে সকালে যখন আমার গর্ভের জল ভাঙছিল, আকাশ ভেঙেও জল ঝরছিল অনিবার। লাগোসের এই উতল বর্ষণের সাথে খুব সখ্য আমার, বৃষ্টির এই রিমঝিম আওয়াজ আমাকে শান্ত করে, ভরে তোলে শান্তিতে। আমার স্বামী ওমোরোগি কাজে থাকায় আমাদের প্রতিবেশীই তখন আমাকে নিয়ে গেল হাসপাতালে। আমার পরনের কাপড়টি একটু ভেজাভেজা। বুকের ভেতরটা তখন এক নতুন উদ্দীপনায় পূর্ণ। আমার প্রথম সন্তান আসছে!
সিস্টার চিয়োমা ছিল তখন ডিউটিতে; মুখে এক্কেবারে কোনো হাসি নেই তার, আর ওদিকে ঠোঁটে সারাক্ষণ লেগেই আছে যত নিষ্ঠুর রসিকতা! শেষবার আমি যখন সব পরীক্ষা করাতে এলাম, কোমরের পেছনের ব্যথাটার বিষয়ে অভিযোগ করতেই এমন এক অদ্ভুত কথা শুনিয়ে দিল আমাকে! “আচ্ছা তুমি যখন সঙ্গমটা উপভোগ করছিলে, এই ব্যথাটার কথা কি একবারও তখন মাথায় এসেছিল?”
জরায়ুর ভেতরে হাত ঢুকিয়ে পরীক্ষা করে চিয়োমা বলল, বাচ্চাটা বোধহয় সময়ের আগেই আসবে। ওয়ার্ডের ভেতরে ওপর-নিচে হাঁটাহাঁটি করার পরামর্শ দিল সে।
বললো, “তুমি নিশ্চয়ই জেনে খুব খুশি হবে যে তোমার সন্তানটি ছেলে।”
আমি কাঁধটা একটু ঝাঁকিয়ে বললাম, “শিশুটি সুস্থ থাকলেই হলো।”
“শিশুটি জন্ম নেয়া পর্যন্ত তোমাকে একটু অপেক্ষা করতে হবে নাম ধরে ডাকার জন্য। কিন্তু আমার কেন যেন মনে হয়, এতদিনে নাম তুমি ঠিক করে ফেলেছ।” চিয়োমা বলল।
“ওর নাম আমি ঠিক করেছি ওলিকোয়।”
“ওহ! একটু থেমে সে বলল, “আমি জানতাম না যে তোমার স্বামী ইয়োরুবা।”
“না তো। আমরা দুজনেই বিনি।”
“কিন্তু ওলিকোয় একটি ইয়োরুবা নাম।”
“হুম। সেটা ঠিক আছে।”
“তাহলে?” সে জিজ্ঞেস করল। প্রসব-বেদনাটা আসছিল ধীরে ধীরে। আমি ওকে আমার পাশে বসতে বলে জবাবটা একটি গল্পে বলতে শুরু করলাম।
আমার বাবার প্রথম সন্তানটি ছিল মেয়ে। তিনি বলেছিল, সেই মেয়েশিশুটি পৃথিবীতে এসেই তীব্রস্বরে অবিরাম কাঁদছিল। জন্মের পরেই বাবার হাতের আঙুলটি এমন জোরে চেপে ধরেছিল যে সেদিন তিনি বুঝে নিয়েছিলেন, এই মেয়েটি বড়ো হলে খুব কঠিন প্রকৃতির হবে। কিন্তু চার মাস বয়সে মেয়েটির মৃত্যু হয়। এরপরের ছেলেশিশুটি মারা যায় চার মাস না হতেই। এই ঘটনা দুটোর পরে আমার বাবার পক্ষের কিছু আত্মীয়স্বজন আমার মাকে ডাইনি ডাকতে শুরু করল। তাদের ধারণা, মা নিজের শিশুদেরকে খেয়ে ফেলত, ওদের কচিপ্রাণের বিনিময়ে সে নিজের আয়ুটাকে দীর্ঘায়িত করত। কিন্তু ঠিক একই সময়ে আমাদের ইডো গ্রামের আরো ক’জন শিশুও মারা যেতে থাকল। পাতলা পায়খানা হতে হতে, চোখ দুটো ক্লান্ত হয়ে মৃত্যু হলো ওদের। কেউ কেউ এ-ও বলতে শুরু করল, এই ডায়রিয়া নাকি ঈশ্বরের পাঠানো শাস্তি। উদ্ধার পেতে চার্চে গিয়ে উপাসনা করতে থাকল খ্রিস্টানরা। মুসলিমেরা গেল মসজিদে। বৃদ্ধ মানুষেরা এটা সেটা বিসর্জন দিল। এতকিছুর পরেও শিশুরা মারা গেল। ওদের ছোট্ট শীর্ণ দেহ কাপড়ে জড়িয়ে যখন কবর দেয়া হলো, দেখে মনে হচ্ছিল, ওরা আদৌ জন্মেছিল কিনা! কী অসাড় জন্ম!
সময়টা ছিল ১৯৮৫ সাল। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গাড়িচালকের কাজ করতেন বাবা। সেখানে নিম্ন শ্রেণির কর্মচারী ছিলেন তিনি। একদিন এয়ারপোর্ট থেকে একজন পদস্থ কর্মকর্তাকে নিয়ে হোটেলে নামিয়ে দেবার ডিউটি ছিল তার। তিনি নেমে যাবার পরে বাবা দেখতে পেল, পেছনের আসনে একটা মোটা খাম পড়ে আছে, আর তার ভেতরে টাকা। খামটি হয়তো ওই কর্মকর্তার ব্যাগ থেকে অসাবধানে পড়ে গেছে। বাবা তক্ষুনি গিয়ে তাকে খামটি ফেরত দিয়ে এলো। লোকটি তখন বিস্ময়ে অভিভূত। এই ঘটনাটা তিনি আবার নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বলেছিলেন। এর ঠিক দু’দিন পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাবাকে ডেকে পাঠালেন আর বললেন, “তোমাকে আমি চাই আমার গাড়ির চালক হিসেবে। সততাকে আমি খুব মূল্য দিই।”
সেই মন্ত্রীর নাম ছিল ওলিকোয় র্যানসাম-কুটি। তার চোখ দুটো ছিল কেমন ঘুম-ঘুম! দেখলে মনে হতো, কোন্ প্রাচীন সময়ের মানুষ তিনি। আদিকালের শুদ্ধতা তার ব্যক্তিত্বজুড়ে। তার সারল্য বাবাকে অবাক করত। ক্ষমতার অপব্যবহার তার ধাতে ছিল না, রাত করে পার্টি করা, মদপান এসবেও তিনি থাকতেন না আর বাবাকে তার কোন গোপনীয়তা আলাদা করে সংরক্ষণ করতে হত না। সকালের নাস্তাটা তিনি পরিবারের সাথে বসে খেতেন, বিকালে স্ত্রীর সাথে হাঁটতে বেরোতেন আর সপ্তাহান্তে টেনিস খেতেন তার সন্তানদের সাথে। গভীর মনযোগের সাথে অন্যদের কথা শুনতেন তিনি। তার আধখোলা দুটো চোখ, এত গভীর সেই দৃষ্টি... যা বাবাকে প্রথমদিকে একটা অস্বস্তিতে ফেলত, যখন তার দিকে মন্ত্রী তাকাতেন।
মন্ত্রীমশায় বাবাকে প্রায়ই জিজ্ঞেস করতেন আমাদের পরিবারের কে কেমন আছেন। বাবা বলতেন, ভালোই আছে সকলে। ক’জন সন্তান আছে, এটা একদিন জিজ্ঞেস করায় বাবা বললেন, এখনো কোনো সন্তান হয়নি। তবে আমার স্ত্রী গর্ভধারণ করেছেন আর সামনে কয়েক সপ্তাহ পরেই প্রসবের তারিখ আছে। (সেইসময়ে মায়ের গর্ভে আমি ছিলাম।) বাবাকে চমকে দিয়ে তিনি হঠাৎই বললেন, “এর আগে ক’জন সন্তান মারা গেছে তোমার?”
আমার বাবা তোতলাতে শুরু করল। বলল, “স্যার, দুজন। কিন্তু আমরা প্রার্থনা করছি এবার সেই দুঃখজনক ঘটনা আর ঘটবে না।” মন্ত্রী তখন বললেন, প্রার্থনা করো, ভালো। তবে এর বাইরেও আরো কিছু করার ছিল। “আমাদের শিশুরা সামান্য অসুখে মারা যাচ্ছে, এটা অবশ্যই থামাতে হবে আমাদের। তোমার গ্রামে একবার আমাকে নিয়ে চলো। একটা পরিকল্পনা করছি আমি। লাগোসেই সেই কার্যক্রমটা শুরু করবো। তবে একইসাথে আমি চাই, দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও এই কাজের বিস্তার ঘটুক। আগামী সপ্তাহেই তোমার গ্রামে যাবার ব্যবস্থা করো তুমি। বাবা একেবারে হতবাক হয়ে গেল এই কথায়, জিহ্বা ভারী হয়ে কথা বন্ধ হবার উপক্রম! কোনমতে বললো, “জি স্যার।”
পরের সপ্তাহে আমার বাবার গ্রামে গেলেন মন্ত্রী। তার সহকারিদেরকে সাথে নিয়ে গ্রামে ঘুরে বেড়ালেন, গ্রামের লোকেদের সাথে কথা বললেন, এটা-ওটা জিজ্ঞেস করলেন, ওদের জবাবও মন দিয়ে শুনলেন। গ্রামের নারীদের সাথে দেখা করে তিনি শিখিয়ে দিলেন, ডায়রিয়া হলে জলের সাথে চিনি আর লবন মিশিয়ে কীভাবে শিশুদেরকে খেতে দিতে হয়। খাওয়ানোর আগে হাত সাবান দিয়ে ভালো করে ধোবার জন্যও বললেন। ওদেরকে আশ্বস্ত করে এলেন, যে আগামী এক মাসের মধ্যে একটি আন্তর্জাতিকমানের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র খোলা হবে এখানে আর গ্রামের শিশুরা সকলে এখান থেকে টিকা নিতে পারবে।
লাগোসের কিছু শিশুর ফটোগ্রাফ তিনি ওদেরকে দেখালেন, ছবির শিশুদের চোখগুলো খুব উজ্জ্বল। তিনি বললেন, এই টিকা হবে তাদের গ্রামের শিশুদের জন্য দারুণ একটি উপহার। শুনে গ্রামের মানুষেরা হাততালি দিয়ে উঠলো খুশিতে। গ্রামবাসীদের চোখে আমার বাবা যেন তখন একজন তারকা! কারণ এর আগে এই গ্রামে কোনো মন্ত্রী আসেননি। বাবার জন্যই তো সেদিন তিনি গেলেন। এর আগে কেউ এই ছোট্ট গ্রামটির নামই তো জানতো না! আমার বাবা বারবার করে বলতে থাকলেন, যে তিনি এই বিষয়ে কিছুই করেননি। বরং মন্ত্রীমশায় তাকে একরকম জোর করেছেন এখানে তাকে আনবার জন্য!
অনেক বছর পরে বাবা যখন আমাকে এই স্মৃতিকথাটা বলছিলেন, তার চোখে এমন কিছু আবেগের ছায়া আমি দেখেছিলাম, তার নাম আমি ভাষায় বলতে পারবো না।
“মন্ত্রীমশায় আমাদের সকলকে একটি মানবিক সত্ত্বা হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন। একটি মানবিক সত্ত্বা।” বাবা বললেন।
ঘটনাটা ঘটতে কয়েক মুহূর্ত নিলো মাত্র। একটা শিশুর হা-করা ছোট্ট মুখ আর এক ফোটা তরল টিকা! একটা শিশুর নরম তুলতুলে উষ্ণ বাহু আর এক ডোজ টিকা! শুধু এইটুকুই! আর এটাই সে বছর প্রাণে বাঁচিয়ে দিল অসংখ্য শিশুকে। আমাদের গ্রামে, আমাদের আশেপাশের গ্রামে, এমন কি দূর দূরান্তের গ্রামে, কালাবারে, ইদুগু আর কাদুনা গ্রামেও কত কত শিশু নতুন জীবন পেল। এই টিকা আমাকেও প্রাণে বাঁচালো। আমি জন্মেছিলাম ১৯৪৬ সালে। মাঝেমাঝে কল্পনায় ফিরে যাই, মায়ের কোলে আমি, ছোট্ট একটি শিশুকে টিকা দেয়া হচ্ছিল, সেই মন্ত্রীর প্রতিষ্ঠা করা নতুন সেবাকেন্দ্রে। গ্রামের নারীরা সব সারি বেঁধে ভিড় করে বসে আছে কেন্দ্রের বারান্দা জুড়ে। সম্পূর্ণ বিনা খরচায় চিকিৎসা! কেন্দ্রের অন্য প্রান্তের একটা ঘরে পরিবার পরিকল্পনার বিষয়ে ধারণা দেয়া হচ্ছে। ঘরভর্তি নারী, সেই সেবিকা মাঝেমাঝে তামাশায় করছে আর ওরা হেসে লুটিয়ে পড়ছে! আমার মা-ও ওখানে ওদের সাথে গিয়ে বসে আছে। কল্পনার চোখে সবই আমি দেখতে পাই।
অনেক বছর পরে মা আমাকে বলেছিল, ওই টিকার জন্যই আমি বেঁচে আছি আর ওই পরিবার পরিকল্পনার জন্য আমি স্কুলে যেতে পেরেছিলাম। আমার জন্মের দু’বছর পরে আমার বোনের জন্ম হয়েছিল আর তারও দু’বছর পরে জন্মেছিল আমাদের ভাই। আমার মা এখনও সেই সেবিকার কথা ভোলেননি। সে নাকি মাকে বলেছিল, “সে ক’টা বাচ্চাই তুমি নেবে যতজনকে তুমি ভালোমত বড়ো করতে পারবে। এর বেশি নিলে একজনকেও তুমি ভালো শিক্ষা দিয়ে বড়ো করতে পারবে না।”
সেই মন্ত্রীর জন্যই পুরো নাইজেরিয়াকে কাছ থেকে চিনেছিলেন আমার বাবা। গাড়ি চালিয়ে মন্ত্রীকে সাথে নিয়ে পুরো দেশ ঘুরে বেরিয়েছেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে পর্যন্ত। উত্তর থেকে দক্ষিণ, দেশের এ প্রান্ত থেকে ওই প্রান্ত। মন্ত্রীর সাথে বিভিন্ন সেবাকেন্দ্রে গিয়েছেন, তিনি কীভাবে ওখানের কর্মীদের সাথে আলাপ করতেন, তা শুনেছেন। যেখানেই তিনি যেতেন, দলে দলে মানুষ তার পেছনে যেত। কেউ শুধু একবার ছুয়ে দেখতে চাইতেন, কেউ করমর্দন করতেন, আবার কেউ বা নিয়ে আসত উপহার! “না, না। নিয়ো না। ওদেরকে বলো এইসব সবজি, ফল বা মুরগি আমার নাম করে ওরাই রেখে দিক।” বাবাকে তিনি বলতেন।
আমার যখন ছয় বছর বয়স, প্রথম একদিন সেই মন্ত্রীর সাথে দেখা হলো আমার। প্রাইমারি স্কুলে ক্লাস ওয়ানে আমি যেবার প্রথম হলাম পরীক্ষায়, বাবা তাকে সেই খবরটা বলেছিল। শুনে তিনি বাবাকে বললেন, ওকে একদিন নিয়ে এসো বাড়িতে। রান্নাঘরে অপেক্ষা করবো, এমনটাই ভেবেছিলাম আমি। কিন্তু ভেতরের বসবার ঘরে আমার ডাক পড়ল। ঘরটায় নরম কার্পেটে পা ডেবে যাচ্ছিল যেন, আর নতুন নতুন সুন্দর জিনিসের কেমন একটা গন্ধে অন্যরকম বোধ হচ্ছিল আমার। খানিক পরে তিনি আর তার স্ত্রী ঘরে ঢুকলেন। সেদিন তারা আমাকে একটা বই উপহার দিয়েছিলেন। “অ্যা চাইল্ডস ইলাসেট্রেটেড বুক অ্যাবাউট দ্য বডি।”
“অনেক ধন্যবাদ স্যার। আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ, মা।” এটা বলে বইটা বুকের সাথে শক্ত করে চেপে ধরলাম। ওই বয়স পর্যন্ত আর কোনোকিছু আমি এভাবে শক্ত করে আগলে ধরিনি।
সিস্টার চিয়োমা আমার হাতটা ওর হাতে নিয়ে মৃদু চাপ দিতে থাকলেন।
“তো, তাকে তুমি খুব কাছ থেকেই দেখেছিলে!যে বছর আমি নার্সিং স্কুল শেষ করলাম, সে বছরই তিনি মন্ত্রী হয়েছিলেন।” সে বলল।
চিয়োমার কণ্ঠটা কেমন অন্যরকম শোনাল। অনেক আবেগ, খানিকটা ধরে এলো তার কণ্ঠ। খেয়াল করলাম, যে চিয়োমাকে আমি কখনো হাসতে দেখিনি, তার চোখে জল।
“এই ওলিকোয় র্যানসাম-কুটির জন্যই আজ নাইজেরিয়ায় অনেক মানুষের প্রাণ বেঁচেছে।” চিয়োমা বলল। খুব শান্ত স্বরে বলল। আমি জানি, তারও একটা নিজস্ব গল্প আছে এই মন্ত্রীকে নিয়ে। পরে কখনো হয়তো একদিন সে শোনাবে, বা কোনোদিনই হয়তো বলবে না আমাকে। তবে একটা বিষয় আমাকে শান্তি দিচ্ছে, যে আমাদের দুজনের গল্পটার কেন্দ্রে সেই একজন মানুষ।
“তিনি ছিলেন এই দেশের শ্রেষ্ঠ স্বাস্থ্যমন্ত্রী।” কান্নাভেজা কণ্ঠে চিয়োমা বলল। এরপর উঠে দাঁড়াল। ততক্ষণে আমার প্রসববেদনা বেড়েছে, তীব্রতর হচ্ছে। চিয়োমা বলল, সময়টা একেবারেই এগিয়ে এসেছে, আমি যেন নিজ থেকে একটু চাপ দিই। আর সে চলে গেল ডাক্তারকে ডেকে আনতে।
ওলিকোয় পৃথিবীর মুখ দেখতে পাবার আগ পর্যন্ত বৃষ্টি ঝরেই চলল, নিঃশব্দে। ·
লেখক পরিচিতি : চিমামান্ডা গোযি আদিচি (জন্ম: ১৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৭) বর্তমান সময়ের অন্যতম বিখ্যাত ও প্রভাবশালী নাইজেরীয় ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক এবং ছোটগল্পকার। তাঁর সাহিত্যকর্মে সাধারণত নারীবাদ, উপনিবেশ-পরবর্তী সমাজ, বর্ণবাদ, এবং পরিচয় ও অভিবাসনের মতো গভীর বিষয়গুলো ফুটে ওঠে। তাঁর লেখালেখি বিশ্বজুড়ে সমাদৃত এবং তাঁর কাজ প্রায় ৫৫টিরও বেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

0 মন্তব্যসমূহ