মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২১

স্মৃতি ভদ্র'র গল্প : কালকূট


আমি হয়তো সেদিনই মরে যেতাম। ভাগ্যিস পলাশ এসে দাঁড়িয়েছিলো সেদিন।

আসলে আমি মাঝেমাঝেই অদ্ভুত সব শব্দ শুনতে পেতাম। সেই যে যখন রুমঝুম হলো, মেটারনিটিতে ওকে নার্স প্রথম আমার কাছে নিয়ে এলো আর ঠিক তখনি আমি কোথা থেকে ভেসে আসা নুপুরের আওয়াজ পেলাম। নার্সকে জিজ্ঞাসা করতেই বললো, এখানে নুপুরের আওয়াজ কোত্থেকে আসবে? আপনার এনেস্থিসিয়া এখনো পুরোপুরিভাবে রিকোভার হয়নি। এজন্য ভুলভাল শুনছেন।

আমি বুঝে গেলাম নার্সকে আর কিছু বলে লাভ নেই। কোলের পাশে শুইয়ে থাকা মেয়েকে দেখে ডাকলাম, রুমঝুম।
তবে এইসব অদ্ভুত অদ্ভুত শব্দ শোনার ব্যাপারটি আমার সাথে কিন্তু সেদিনই প্রথম ঘটেনি। বলতে গেলে তারও মাস আটেক আগে থেকে এমন শুরু হয়েছে।

সেদিন সৈকত একটু দেরী করেই অফিস থেকে ফিরেছিলো। আমি তখন প্রেগন্যান্সির মর্নিং সিকনেসে ভুগছি। কিছু খেলেই হড়হড় করে বমি। আর বমি হবার পড়ে শরীর এত ভেঙে আসতো যে, মনে হতো যেন আর কোনোদিন উঠে দাঁড়াতে পারবো না।

ওমা, উঠে না দাঁড়ালে কী উপায় আছে? এমনিতেই পরপর দুই দু'টো মিসক্যারেজের পর এবার তৃতীয় বার। তাই প্রেগন্যান্সি টেস্ট পজিটিভ আসতেই সৈকতের কড়া হুকুম, চাকরিতে রিজাইন দাও।

হ্যাঁ, দিলামও তাই। চাকরী জীবনে অনেক পাওয়া যাবে। কিন্তু সন্তানবিহীন একটি পরিবার ঠিক পিকচার পারফেক্টের দলে পড়ে না তো। তাই খুব সাধের কর্পোরেট জবটি ছেড়ে ঘরে ঢুকে গেলাম সুড়সুড় করে।

তবে সে ঘরে কিন্তু একা থাকা চলবে না। তোমাকে ডাক্তার এবার খুব সাবধানে থাকতে বলেছে, তাই আম্মাকে আসার জন্য বলে দিলাম, সৈকত বেশ হাসিহাসি মুখে জানিয়ে দিলো। খুব যত্নবান স্বামীর দায়িত্বে সৈকত চিরকালই অগ্রগামী।

তো ঘরে যখন দেখভাল করার জন্য প্রায় সত্তোরোর্ধ শাশুড়ি থাকেন, যিনি সারাদিন বসে হাই ভলিউমে জি বাংলার সিরিয়াল দেখেন আর সুযোগ পেলেই ছেলের অযত্ন হচ্ছে বলে আফসোস করেন, তাঁর সামনে ঠিক শরীর খারাপের প্যারিমেটার প্রেগন্যান্সি সিমটোম হতে পারে না।

'আরেহ্, সারাদিনই তো শুইয়া থাকো। এই রকম গ্যাট হইয়া শুইয়া থাকলে পেটের বাচ্চা পঙ্গু হইবো তো।'

অথবা

' আমি তো সৈকত হওয়ার দিন সকালেও এক মণ ধান সেদ্ধ করছি। শোনো, প্যাট কাটার লাইগ্যা ডাক্তার ওইসব বেড রেস্টের কথা কয়।'

আর এতেও কাজ না হলে সর্বোচ্চ ভলিউমে সিরিয়াল, দ্যাখছো কইছিলাম না রোশনিই আসলে হারামি বাইর হইবো। আরেহ্, সারাজীবন এইরকম মাইয়া কত দেখছি, অন্যের সংসারে ঘুরতে আইস্যা সতীন হইয়া যায়।

আমি গা গোলানো ভাব নিয়েই বিছানা থেকে উঠে পড়ি। মনে মনে বলি, আম্মা সিরিয়ালের শব্দে আমার গা গোলানো ভাব বেড়ে যায়। কিন্তু মুখটা স্বাভাবিক করে অল্প সময় শাশুড়ির কাছে গিয়ে বসি। উনি সিরিয়াল দেখেন, বান্ধবীর কাছে রোশনি অপমানিত হলে খুশির চোটে হাততালি দিয়ে ওঠেন অথবা রোশনির সাথে নায়কের পরকীয়ায় বিরক্ত হয়ে শাপ শাপান্ত করেন।

ওনার এসব কাণ্ডকারখানায় মায়া হয় আমার। বেচারি কত অল্পবয়সে স্বামীকে হারিয়েছেন! তখন সৈকত মাত্র হাঁটতে শিখেছে। শুনেছি, নদীতে গোছল করতে গিয়ে সৈকতের আব্বা ডুব দিয়ে আর ওঠেননি। নদীতে যাবার আগে বাড়িতে সেদিন নাকী খুব অশান্তি হয়েছিলো । সৈকতের ছোট খালা অনেকদিন পর সেদিন এসেছিলো ওদের বাড়িতে। অবশ্য সেবারই শেষ। এরপর আর কোনোদিন ছোটো খালা ওদের বাড়িতে আসেননি। এমনকি আম্মাও নিজের ছোটোবোনের নাম মুখে আনেননি আজ অব্দি।

আব্বার মৃত্যূর কথা উঠলেই আম্মা বলেন, ভাল মানুষ ভাত খাইয়া নদীতে ডুব দিতে গেলো, কিন্তুক পানির তলা থ্যাইকা আর উঠলো না।

সৈকত বলে, আব্বা মনে হয় পানির ভেতরেই হার্ট এট্যাক করেছিলেন। এজন্যই সাঁতার জানা সত্বেও তলিয়ে গিয়েছিলেন।

আমি প্রথম প্রথম অবাক চোখে তাকাতাম, মনে হয় হার্ট এট্যাক করেছিলেন মানে কী? হাসপাতালে নেওয়া হয়নি ওনাকে?

আরেহ্, তখন হাসপাতাল ছিল তিন গ্রাম পর। আর গ্রামের ডাক্তার দেখে তো বলেইছিলো, ঘন্টাখানেক আগেই মারা গেছেন। 
সেইদিন থেকে আমার শাশুড়ি একাই সৈকতকে বড় করেছেন।

শুনেছি, জীবনে অনেক পরিশ্রম করেছেন। সৈকতের বাবার জায়গা জমি টাকা পয়সা তেমনকিছু ছিল না। যেটুকু ছিল তাও ভাইয়েরা বিচার সালিশ বসিয়ে দখল করেছে, সৈকতের বাবার দেনার হিসেব সেসব।

তবে আমার শাশুড়ির কবিরাজি হাত ভাল ছিল। দশ গ্রামের লোজ তাঁর রুগী ছিল। ওই কবিরাজিতেই সংসার চলতো। আমি একটা ব্যাপার খেয়াল করেছি, সৈকতের আব্বার মৃত্যূদিন এলেই আম্মা নিজের বোনকে সারাদিন অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি করেন। এরপর মাগরিবের নামাজে আল্লাহ্‌র কাছে কান্নাকাটি করে ক্ষমা চান।

এই অদ্ভুত আচরণে অবাক হয়ে একবারই সৈকতকে বলেছিলাম, সারাদিনে উনি একবারও মৃত স্বামীর জন্য শোক করলেন না। আমার দিকে ঠান্ডা চোখে তাকিয়ে সৈকত বলেছিলো, আম্মার ব্যাপারে কোনোরকম অশ্রদ্ধা আমি মেনে নেবো না।ব্যস্, সারাজীবনের আত্মসম্মানী আমি সেদিনই এ ব্যাপারে ভাবা বন্ধ করে দিয়েছি। তবে একাকী এই মানুষটির ছেলেকে বড় করার শ্রমকে আমি সম্মান করি।

টিভির সিরিয়ালের তো শেষ নেই। একটার পর একটা শুরু হয়। আমার শাশুড়ির মনোযোগে ব্যাঘাত না ঘটিয়েই ওনার পাশ থেকে উঠে রিডিং রুমে চলে যাই। সে শুধু নামেই রিডিং রুম। মূলত কম্পিউটারে কাজ করতেই সেই রিডিং রুমে যাওয়া হয় বেশী। তাই বলে রিডিং রুমে বই নেই তা কিন্তু নয়। তবে এক আলমারি বইয়ের ধুলা শেষ কবে ঝেড়েছি তা অবশ্য ভুলে গেছি।

আমি এরপর অভ্যাসমতোই গিয়ে কম্পিউটার অন করি। এরপর অফিসের কিছু পুরাতন ফাইল ঘেটে ঘেটে স্মৃতি রোমন্থন করি। গা গোলানো ভাব তখন একটু কমে এসেছে। আমি জীবনে সেসময় সদ্য আগত ফেসবুকে আয়েশি ভঙ্গিতে লগইন করি। তখনো ফেসবুকের প্রতি খুব একটা আগ্রহ তৈরী হয়নি। সেসময় পর্যন্ত মনে হয় কেউই ফেসবুকের অতল জগতের আহবান বুঝে উঠতে পারেনি। আমি নিজের হোমপেইজে কিছুক্ষণ স্ক্রল করে আগ্রহ হারিয়ে, সৈকতের আইডিতে লগইন করি।

হ্যাঁ, ফেসবুকের সেই শুরুর দিনগুলোতে এর পাসওয়ার্ডের গুরুত্বও বুঝে উঠিনি আমরা। একসাথে বসে একাউন্ট ক্রিয়েট করেছিলাম দু'জন, তাই সৈকতের পাসওয়ার্ড জানাই ছিল। সৈকতের হোম পেইজেও তেমন কিছু নেই। আমি জানালায় গ্রীলে দু'টো চড়ুইপাখির ঠোকাঠুকি দেখতে দেখতে আনমনে স্কল করে যাই। হঠাৎ চ্যাটবক্স পপ আপ হয়।

' কী করছো সোনা?' আইডিটা আমার খুব পরিচিত। আমার বান্ধবী স্বর্ণার আইডি। মেসেজ দেখে ভুলে গিয়েছিলাম সৈকতের আইডিতে আমি আছি। কিছু লেখার জন্য কীবোর্ডে আঙুল দিতেই ভৌতিকভাবে সৈকতের আইডি থেকে উত্তর চলে যায়,

' অফিসে খুব বোরিং লাগছে। ক্যান উই মিট টুডে, সোনা? ইট'স বিন লং টাইম টু সি ইউ।'

আমি ঠিক বুঝে উঠতে পারিনা কী ঘটে চলেছে আমার সামনে। একের পর এক মেসেজ আমার চোখের সামনে লাফিয়ে উঠছে।

সৈকতের কথার উত্তরে ওপাশ থেকে আহ্লাদী আহবান আসে।

' আমার আজ প্রচন্ড মাথা ব্যাথা করছে।'

সাথে সাথেই দায়িত্বশীল সৈকতের উত্তর,

' আমি লাঞ্চ ব্রেকে তোমার কাছে চলে আসছি। কড়া করে কফি বানিয়ে দেবো, দেখবে মাথা ব্যাথা পালিয়ে যাবে। আর হ্যাঁ, মালয়েশিয়া ট্যুর থেকে আনা সেই ড্রেসটা পড়লে তোমায় কেমন লাগে দেখতে ইচ্ছে করছে।'

ওপাশের আদুরে মেয়েটির এরপরের উত্তর,

' তোমার অপেক্ষায় রইলাম, সোনা।'

থেমে যায় মেসেজগুলোর লাফালাফি।

কিছু সময় লাগে আমার পুরো ঘটনা বুঝতে। আর বোঝার সঙ্গে সঙ্গেই ঘর ভাসিয়ে বমি করে ফেলি আমি।
সিরিয়ালের মায়া ত্যাগ করে শাশুড়ি ছুটে আসে, হায় হায় ঘর তো ভাসাইয়্যা ফেলছো। ক্যামনে পরিস্কার করবা এখন?
আমি উত্তর না দিয়ে কিছুক্ষণ বিবশ দাঁড়িয়ে থাকি।

এরপর ভাবলেশহীন হয়েই রিডিং রুম পরিষ্কার করি, শাশুড়িকে সন্ধ্যার চা বানিয়ে দেই, বারান্দা থেকে সৈকতের শুকনো জামাকাপড় তুলে আনি। এরও অনেকপর সৈকত ফেরে। ঘরে ঢুকেই কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিসিয়ে বলে, সোনা আমাদের বেবিটা কী আজও তোমাকে খুব কষ্ট দিয়েছে। আমি কিছুক্ষণ নিঃশ্বাস বন্ধ করে থাকি।

এরপর আচমকা সৈকতের দিকে ঘুরে জিজ্ঞাসা করি, অনেকদিন পর আজ স্বর্ণার সাথে দেখা হলো তোমার। আচ্ছা মালয়েশিয়া থেকে এনে দেওয়া ড্রেসটাতে ওকে কেমন লাগলো? তুমি ওর কাছে যাবার পরও কী ওর মাথা ব্যাথাটা ছিল?

আমার এই অনাহুত আক্রমণে প্রথমে সৈকত থতমত খেয়ে যায়। এরপর একরাশ বিরক্তি চোখেমুখে এনে প্রশ্ন করে, তুমি আমার আইডি লগইন করেছিলে কেন?
আমি যেন সেদিন প্রস্তুতই ছিলাম।

ক্রোধ আড়াল করে তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বলেছিলাম, ইশ্ তোমার পরকীয়া কেমন ম্যাড়মেড়ে করে দিলাম।

ব্যস্, পরকীয়া শব্দটি শুনেই সৈকতের কিছু একটা হলো। গায়ের সব শক্তি দিয়ে একটা কষে থাপ্পড় মারলো আমাকে। ছিটকে বিছানায় পড়ে যেতে যেতেই আমি শুনতে পাই বিরান মাঠে ঘূর্ণি তোলা বাতাসের হু হু শব্দ।

সেই শুরু।
এরপর যতবার সৈকত আমার গায়ে হাত তুলেছে, বাতাসের সেই শব্দটি হু হু করে আমার মস্তিস্কে গিয়ে ধাক্কা মেরেছে।
এরপর থেকেই নানারকম শব্দের আনাগোনা আমার চারপাশে। সেসব দিনে শাশুড়ি কাছে আসলেই কাকের কা কা শব্দ পেতাম। গভীর রাতে বারান্দায় বাঁশির আওয়াজ পেতাম। কোনো দুঃসংবাদ পাবার আগে কান্নার আওয়াজ পেতাম। শব্দগুলো কেন যেন বেছেবেছে আমাকেই ঘোরটোপে ফেলতো। অথচ আমার চারপাশে থাকা কেউই কিন্তু সেসব আওয়াজ শুনতে পায় না।

রুমঝুমকে সেদিন প্রথম কাছে আনতেই নুপুরের শব্দ পেয়েই আমি বুঝেছিলাম, এই মেয়ে আমার জীবনে এক অন্যসুর আনতে চলেছে।

রুমঝুম ছোট থেকেই খুব লক্ষ্মী বাচ্চা। তেমন কান্নাকাটি করতো না। ক্ষিধে পেলে একটু খুনখুন করতো, এই যা। আর বাকী সময় একদিকে ঘাড় কাত করে শুয়ে থাকতো। আমার জন্য এই ব্যাপারটা আসলে ছিল আশীর্বাদের মতো।
সেই যে শাশুড়ি প্রেগন্যান্সির সময় এলেন আর তো ফিরে গেলেন না। অন্যদিকে সৈকতের অফিস ট্যুর ক্রমাগত বাড়তেই লাগলো। মাসের মধ্যে পনেরো দিনই ও বাড়িতে থাকতো না। তাই শাশুড়িকে ফেরত পাঠানোর প্রশ্নই আসে না। একা ছোট বাচ্চা নিয়ে আমি হিমশিম খাবো যে!

হ্যাঁ, হিমশিম আমি খেতাম ঠিকই তবে রুমঝুমকে নিয়ে নয়, বরং উলটো শাশুড়িকে নিয়ে।

' আইজ বেশী কইর‍্যা লাল মরিচ দিইয়্যা গোশত পাকাও। সাথে মাসকলাইয়ের ডাল আর বেগুন পোড়াইয়্যা ভর্তা করো। শহরের খাওনে জিহবার স্বাদ চইল্যা গ্যাছে।'

কিংবা

' আমি রাত এগারোটাই ভাত খামু আইজ ' সুহাসিনী' সিরিয়ালের মেগা পর্ব হইবো। আইজ ওই রূপসা পেত্নীর পর্দা ফাঁস হইবো বুইজছো।'

আহারে, পোস্ট প্রেগন্যান্সিতে আমার যত্ন কে নেয়, তা না আমি এখন রাতদুপুরে বসে থাকি ওই সিরিয়ালের মেগা পর্ব নিয়ে।
আমার শাশুড়ির এসব দায়িত্বহীন আচরণে এরইমধ্যে আমি অভ্যস্ত হয়ে গেছি। তবে রুমঝুমটার জন্য মায়া হয়। মেয়েটার কোনো আবদার নেই বলে কেউ ওকে সেভাবে সময়ই দেয় না। সারাদিন ক্রিবেই শুয়ে থাকে। আমাকে দেখলে চোখ ঘুরিয়ে একটু চঞ্চলতা প্রকাশ করে। বুঝে গেছে বাবা আর দাদীর জীবনে ওর আগমন তেমন একটা ছাপ রাখেনি। তাই ওকে নিয়ে কারোও কোনো হেলদোল নেই। তবে এরকম নিরাসক্ত মা আর ছেলে খুব বেশীদিন থাকতে পারলো না।

রুমঝুমের নিয়মিত গ্রোথ চার্টে ডাক্তার যখন বারবার লিখতে লাগলো ' কনসার্ন এবাউট রেসপন্স' তখনই মা আর ছেলের সব আগ্রহ হামলে পড়লো আমার মেয়েটির উপর।

' এখনো শব্দ শুনলে তাকায় না। আর হাত পা-ও তো নাড়ায় না। কী বাচ্চা হলো এটা।'

ছেলের সাথে তাল মিলিয়ে মা-ও সুর চড়ায়।

' ক্যামন কইর‍্যা নেতাইয়্যা থাকে। পোলাপাইন হাসবো, খেলবো তা না সারাদিন ফ্যালফ্যাল করইর‍্যা তাকাইয়্যা থাকে। আজব বাচ্চা।'

আমি যতই ওদের বোঝানোর চেষ্টা করি রুমঝুম আমাদের স্পেশাল কিড, ততই বিরক্ত হয়ে সৈকত বলে, আরেহ ওসব ইংরেজী বললেই কী ল্যাংড়া-নুলা সব জাতে উঠে যায়?
আমার বুক ফেটে কান্না আসে। আমি রুমঝুমকে বুকের মধ্যে জড়িয়ে গুনগুন করি,

' আমার সোনা চাঁদের কণা'

এরপর সৈকত শুধু হাবেভাবে নয়, স্পষ্ট ভাষায় বুঝিয়ে দেয় রুমঝুমকে নিয়ে আদেখলাপনা করার সময় নেই ওর। ও যতই আদেখলাপনা বলুক না কেন, আমার কাছে তা শুধুই চেষ্টা। রুমঝুমের সকল সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সর্বোচ্চ ভাল রাখার চেষ্টা। এজন্যই খাবার খাওয়ানোর সময় গল্প বলা, সকাল বিকাল নিয়ম করে এপার্টম্যান্ট লাগোয়া ছাদে ওকে নিয়ে হাঁটা, বারবার কানের কাছে মুখ নিয়ে রুমঝুম বলে ডাকা----সব করতাম আমি শুধুমাত্র রুমঝুমকে ওর মতো করেই স্বাভাবিক জীবনের স্বাদ দিতে।

এসব দেখে শাশুড়ি মুখ বেঁকিয়ে বলতো, 'ওইসব কইর‍্যা কিছু হইবো না। আমি ওষুধ জানি এইসব রুগীর। দুইটা বড়ি বানাইয়্যা দেই, খাওয়াইলেই উপকার বুঝবা।'

আমি ওনার কথা না শোনার ভান করে রুমঝুমকে অভিনয় করে গান শোনাই,

' লালঝুটি কাকাতুয়া ধরেছে আজ বায়না
চাই তার লাল ফিতে চিরুনি আর আয়না।'

রুমঝুম ভাবলেশহীন আমার দিকে তাকিয়ে থাকে। আর আমি চারপাশ অগাহ্য করে হেসে হেসে গেয়ে চলি এই আশায়, আমার রুমঝুম হাত পা নেড়ে খিলখিল করে হেসে উঠবে একদিন।
না, তা হয় না।
শুধু পাশ থেকে ছুটে আসে কয়েকটা শব্দের তীর,

' ও কী গান শুনতে পায়? ওই তো হইলো বোবাকালা।'

আমি শুধু ঠান্ডা গলায় উত্তর দিতাম, রুমঝুম বোবাকালা নয়, স্পেকট্রাম ডিজওর্ডার আছে ওর।
হ্যাঁ, ততদিনে প্রায় নিজ উদ্যোগেই রুমঝুমের ইভ্যালুয়েশন করিয়ে ফেলেছি আমি। সৈকত রাজী ছিল না। আমার জোরাজুরিতে শুধু বলেছিলো, এই এ্যাবনর্মাল বাচ্চার পেছনে সময় দেবার ইচ্ছা নাই আমার। আমি জানি, অফিস বাদে বাড়তি সময়ের হিসাব আগে থেকেই ঠিক করা থাকে সৈকতের। তাই সে সময়ের অপচয় না করিয়ে আমিই রুমঝুমকে নিয়ে ডাক্তারের চেম্বারে চেম্বারে দৌঁড়াতে লাগলাম।

ইভ্যালুয়েশন শেষে যখন দেখা গেলো রুমঝুমের স্পিচ থেরাপি থেকে শুরু করে ফিজিক্যাল থেরাপি সবই লাগবে, তখন সৈকত রাগে গজগজ করতে করতে জানিয়ে দিলো, চিকিৎসার নামে সব টাকা পানিতে ফেলার ষড়যন্ত্র করছি আমি।
আমিও মুখ বুজে না থেকে উত্তর দিয়েছিলাম, অন্যের জন্য অহেতুক দামী দামী গিফটগুলোও কিন্তু টাকা পানিতে ফেলারই সামিল। এর উত্তরে কয়েকটি থাপ্পড় ঠিক চোখের কোলে কালশিটে দাগ হয়ে থেকেছিলো কয়েকদিন।

সেই কালশিটে দাগ যত্ন করে লুকিয়ে আমি সেদিন গিয়েছিলাম রুমঝুমকে নিয়ে স্পিচ থেরাপির জন্য একটি অটিজম রিহ্যাব সেন্টারে। রুমঝুমকে স্ট্রলারে রেখে মন দিয়ে ওদের ব্রুশিয়ার গুলো পড়ছিলাম। আর ঠিক তখনি কোথা থেকে বৃষ্টির রিনিঝিনি শব্দ ভেসে এলো। কতদিন এমন সুরেলা শব্দ শুনতে পাই না। চোখ বন্ধ করে সেই শব্দকে আরেকটু আয়েশ করে উপভোগ করতে চাইছি, ঠিক তখনি হ্যাঁচকা টানে কেউ আমাকে চেয়ার থেকে উঠিয়ে নিলো।

পলাশ। পলাশ আহমেদ। অটিজম রিহ্যাব সেন্টারের পরিচালক ও স্পিচ থেরাপিস্ট।

আসলে বৃষ্টির শব্দে মগ্ন হয়ে যাওয়ায় বুঝতেই পারিনি, পাশে বসা দশ বছরের অটিস্টিক বাচ্চাটি ফোনে ব্যস্ত মায়ের মনোযোগ না পেয়ে ভায়োলেন্ট হয়ে উঠেছে। হাতের কাছে পাওয়া কাঁচের একটি ভারী শোপিস তুলে আমার বরাবর ছুড়ে দিয়েছে। পলাশ এসে আমাকে সরিয়ে না দিলে সেই দিনই হয়তো আমার মৃত্যূ হতো।

তবে মৃত্যূ নিয়ে ভাবার সময় তখন কই?
প্রায় আটবছর পর পলাশকে দেখছি। একই পাড়ায় বড় হয়েছি আমরা। স্কুল কলেজ সব এক। তবে ভার্সিটিতে ভর্তি হবার পর পলাশের সাথে আর যোগাযোগ থাকেনি। আর আব্বা মারা যাবার পর সেই পাড়া থেকে উঠে গিয়ে আম্মা নানাবাড়িতে থাকা শুরু করলেন। তাই সেই পাড়ার যোগসূত্রটাও হুট করেই ফুরিয়ে গিয়েছিলো।

আমি আশপাশ সব ভুলে প্রায় চিৎকার করে উঠি, পলাশ তুই।

ব্যস্, সেই অটিজম রিহ্যাব সেন্টার হয়ে উঠলো আমার বন্ধুবেলার তেপান্তর।

পলাশের কাছে অটিজম সেন্টারটি ছিল প্রার্থনার জায়গার মতো। অদ্ভুত ব্রত নিয়েছিলো ছেলেটি। নিজের অটিস্টিক এক বোনকে হারিয়ে শহরের সকল অটিস্টিক বাচ্চাকে আত্মীয় বানিয়ে নিয়েছে। এজন্য এই রিহ্যাবে আসা প্রত্যেকটা বাচ্চার প্রতি ওর যত্ন ছিল চোখে পড়ার মতো। আর রুমঝুম তো অল্পদিনেই ওর খুব আপন হয়ে উঠলো।

' রু...ম....ঝু....ম' হাতের মধ্যে রাখা ঘুঙুরের শব্দ আর পলাশের ডাক কেমন মিলেমিশে আমার মেয়েটাকে চঞ্চল করে দিতো। আমি ছাড়া একমাত্র পলাশের ডাকেই রুমঝুম চোখ ঘুরিয়ে তাকাতো।

আর পলাশও যেন ধনুকভাঙা পণ নিয়েছিলো, ছ'মাসের মধ্যেই রুমঝুম জিহ্বা ঠোট নেড়ে বাতাসে অস্পষ্ট শব্দের বুদবুদ ওড়াবে।

হলোও তাই। রুমঝুমের 'বু....বু...বু' শব্দের আনন্দ আমার চোখে বান হয়ে নামলো। আমার রুমঝুমের প্রথম শব্দ। আমার রুমঝুম কিছু বলছে। আমি রুমঝুমকে জড়িয়ে ডুকরে কেঁদে উঠি।
তবে এই আনন্দ খুব বেশী সময় জায়গা পেলো না আমার জীবনে।
রুমঝুম খুব দ্রুত ইমপ্রুভ করছে দেখে ওর রেগুলার ডাক্তার রিহ্যাব সেন্টারে আরোও বেশী সময় রিকম্যান্ড করলো। প্রতিদিন ঘন্টা ছ'য়েক থাকতে হবে রিহ্যাবে।
ধরতে গেলে সারাদিনই বাড়ির বাইরে। সংসার তা মানবে কেন? যতই বোবাকালা বাচ্চার মা হই না কেন, সংসারের আর সবার প্রতিও তো একটা দায় থাকে নাকী?

সংসার বলতে ওই তো মধ্যরাতে বাড়িতে ফেরা স্বামী, লাউড ভলিউমে সিরিয়াল দেখা শাশুড়ি আর কয়েকটা ঘর। তা সে যেমনই হোক না কেন, সবকিছুর দায় মিটিয়েই আমাকে মেয়ের চিকিৎসা করাতে হবে।

কিন্তু তা কেমন করে হয়? আমার কাছে তো সবকিছুর আগে রুমঝুমকে ভাল রাখা।
ব্যস্, গুরুত্ব নির্বাচনে ভুল করায় মাসুল তো দিতেই হবে।

' আজ না ফিরলেই হতো। কে আছে ওই রিহ্যাবে যে বাড়ি ফিরতেই মন চায় না।'

অথবা,

' তাই বইল্যা ঘরের রান্নাবান্নাতেও গোঁজামিল দিইব্যা? তাড়াহুড়াই গোশতে হলুদের জায়গায় দুইবার মরিচ দিছো। মাইয়্যার লাইগ্যা কী সংসার ভাসাইয়্যা দিইব্যা?'

মা-ছেলের ফোড়নগুলো শুরুতে অবজ্ঞা করতাম। কিন্তু আমার এই অবজ্ঞা ওদের কাছে পরাজয় মনে হতে শুরু করে।
আর একইসাথে নিজের নোংড়ামোকে ন্যায়সঙ্গত করার সুযোগটিও হাতে এসে যায় সৈকতের।

' পলাশ কী শুধু মেয়েরই যত্ন নেয়, না মায়েরও।'

ঘৃণায় গা রি রি করে ওঠে আমার। ' সবাইকে নিজের মতো ভাবা বন্ধ করো' এতটুকু বলতেই অশ্রাব্য গালির সাথে উড়ে আসে থাপ্পড়।

আমি কান্না গিলে রুমঝুমকে নিয়ে অন্য ঘরে চলে যায়।
আবার কখনো,

' মেয়ের তো কোনো উন্নতি নাই, বোবাকালাই আছে। ভালই হয়েছে, মেয়ে অবুঝ বলে পলাশের সাথে তোমার সময় কাটানোয় কোনো সমস্যা হয় না তোমার।'

আমি অসহ্য হয়ে চিৎকার করে উঠি।

' থামো, আরেকটাও বাজে কথা বলবে না ?'

এরপর আমার চিৎকারের ডেসিমাল হিসাব করে চড়, থাপ্পড় বা ধাক্কা দিয়ে দেয়ালে কপাল ঠুকে দেবার উপায় বেছে নিতো সৈকত। মাঝেমাঝে অবাক হতাম এটা ভেবে, এই নোংড়া আর নির্দয় ছেলেটি কীভাবে অন্য মেয়েদের সাথে অত সুন্দর করে কথা বলে।

তবে সেসব সময় রুমঝুমকে ভাল রাখার ভাবনায় এত মগ্ন ছিলাম যে, সৈকতকে নিয়ে অকারণ ভাবনাগুলো হুট করেই হারিয়ে যেতো।আর এসবের মাঝে নিজেকে নিয়ে ভাবনার ফুরসত তো ছিলই না। তবে আমাকে নিয়ে একজনের ভাবনা মাঝেমাঝেই চরম বিরক্তির উদয় করতো।

' ওই মাইয়্যাই তোমার সংসার খাইবো। ওই রোগ তো সারনের না। তাইলে মাইয়্যার জইন্য স্বামীরে অবহেলা করো ক্যান?'

দাঁতে দাঁত কামড়ে আমি তখন চুপ করে থাকতাম। কিন্তু তাতেও কী শান্তি পেতাম? এরপর শুরু হতো নিজের কবিরাজি বিদ্যা জাহির করা।

' এই বড়িতে ধুতরার বীজ আছে এক চিমটি। কয় রাত ঘুম হয় না। এই বড়ি কিন্তুক খুব সাবধানে খাইতে হয়। বেশী খাইলেই তো মরণ ঘুম।'

আমি দীর্ঘশ্বাস চেপে রুমঝুমকে নিয়ে বারান্দায় চলে যেতাম। আকাশের তারা দেখিয়ে গুনগুন করি,

' আকাশ ভরা সূর্য তারা
বিশ্ব ভরা প্রান,
তাহার মাঝখানে আমি পেয়েছি
মোর স্থান।'

আমার সুরে রুমঝুম কী পেতো বুঝতাম না। তবে নিস্পলক তাকিয়ে থাকতো আমার মুখের দিকে। আর আমি ওকে শক্ত করে বুকের মধ্যে জড়িয়ে সুর চড়াতাম,

' বিস্ময়ে তাই জাগে আমার গান'

তবে ওটুকুনই, এরপর বাজখাঁই গলায় একজন বলে উঠতো,

' হইছে রাতদুপুরে গান বাদ দিইয়্যা ঘুমাও যাও। মাইয়্যার লগে তুমিও পাগল হইছো।'

আমি কীভাবে বুঝাই ওই ঘর আমার বা রুমঝুমের কারোরই না। সারারাত সৈকতের ফোন ভাইব্রেট হয়ে জানিয়ে দেয়, কেউ একজন একটু পরপর ওকে ভালবাসার কথা লিখছে। আর সৈকতও মাঝেমাঝেই বিছানা ছেড়ে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ায় সুখগল্প করতে।

এরমধ্যে রুমঝুম একটু কেঁদে উঠতেই, আরেহ্ থামাও ওইটাকে; রাতের বেলাও ট্যাঁ ট্যাঁ করে মাথা খাচ্ছে। এরপরেই দরাম করে বন্ধ হয়ে যায় বারান্দার দরজা।
আর সেই শব্দে কেঁপে উঠে পুরো ঘর। তবে সময়ের কী অদ্ভুত খেয়াল। ক'দিন আগেও শব্দের সাথে যে ঘরের ছিল ওতপ্রোত সম্পর্ক, আজ কেমন নিঃস্তব্ধতা আঁকড়ে ধরেছে সে ঘরের দেয়াল।

হুট করেই রুমঝুমের শরীর খুব খারাপ করলো। তেমনকিছু নয়, ওই তো একটু জ্বর হলো শুরুতে। কিন্তু দিন তিনেকের মধ্যেই নিউমোনিয়া আর ফুসফুসে ইনফেকশন নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করতে হলো ওকে। না, আর বাড়ি ফিরলো না রুমঝুম। হাসপাতাল থেকেই সোজা সৈকতের গ্রামের বাড়ির পারিবারিক কবর স্থানে। জীবদ্দশায় যতই সন্তানকে অবহেলা করুক না কেন, মৃত সন্তানের প্রতি লোক দেখানো দায়িত্ব কী অবহেলা করা যায়? সৈকত আর তার মায়ের ইচ্ছায় রুমঝুমকে ওদের পারিবারিক কবরে শুইয়ে দেওয়া হলো।

না, না, এতে করেই যে সেই ঘরে নিঃস্তব্ধতা নেমে এলো, তা কিন্তু নয়। ববরং আমার সেই আলটপকা শব্দ শোনা আরোও বেড়ে গেলো। প্রায়ই দূরে কোথাও বাচ্চা কান্নার শব্দ পাই তো, আবার সৈকতের মোবাইল থেকে বিদ্রুপ হাসির শব্দ পাই।

সাধারণত সৈকত কখনো মোবাইল হাতছাড়া করে না। সেদিন ভুল করে মোবাইল রেখে বাইরে গিয়েছিলো। তবে বেশী সময় নয় কিন্তু। মিনিট তিরিশের মধ্যেই সৈকত বুঝে গিয়েছিলো ওর সবচেয়ে প্রয়োজনীয় জিনিষটি বাসায় ফেলে এসেছে। তবে সেই তিরিশ মিনিট আমার কাছে অনন্তকাল মনে হচ্ছিলো।
ওদিকে আমার শাশুড়ি চেঁচাচ্ছে তরকারীতে লবণ হয়নি বলে, আর এদিকে সৈকতের ফোনের রিংটোন অনবরত বেজেই যাচ্ছে। তবে তা রিংটোন হলে মনে হয় সমস্যা ছিল না কিন্তু ওই যে বললাম বিদ্রুপের হাসি। ফোন থেকে অনবরত সেই হাসি আবার মাথায় এসে টোকা মারছে। আমি আছড়ে ফেললাম সৈকতের ফোন। টুকরো টুকরো হয়ে ছড়িয়ে পড়লো সারা ঘর।
ব্যাস্, থেমে গেলো সবরকম আলটপকা শব্দ।

ফোন হারানোর ব্যথায় নাকী আমার প্রতি বিরক্তি, জানি না কোনটা কাজ করেছিলো সৈকতের মনে। আমার শরীরে এখনো কালশিটে পড়া দাগগুলো খুব স্পষ্ট। তবে অদ্ভুতভাবে তাতে এতটুকুও ব্যথা নেই। শুধু ব্যথা কেন, কোনো অহেতুক শব্দও নেই আজ আমাকে ঘোরটোপে ফেলতে।

এই যে আজ বিকেলে ব্যাথায় শরীর যখন বিবশ হয়ে আসছিলো, তখন আমার হাত থেকে কাঁচের গ্লাস পড়ে খানখান হয়ে ছড়িয়ে গেলো। সেই শব্দও আমার অব্দি পৌছালো না। শব্দহীন এ বাড়িতে এখন শুধু আছে একটাই শব্দ। খুনখুন কান্নার শব্দ।

আমার শাশুড়ি খুনখুন করে কাঁদছে আর ফিসফিস করে বলছে, ওই বড়িগুলান কী আমি তোমারে খাইতে দিছিলাম? ধুতরা বীজের বড়িগুলান ওর বাপে রে দিতে আমার হাত কাঁপে নাই কিন্তুক পুতে রে দিতে তো বুক কাঁপে।

আমি এই প্রথম মানুষটাকে প্রাণভরে ডাকি, আম্মা।
কিন্তু আমার সেই ডাক বাতাস কেটে আমার শাশুড়ির কাছে পৌঁছায় কই?

৪টি মন্তব্য: