অলোক গোস্বামীর গল্প: গোলকধাঁধা




চমকা এক তীক্ষ্ণ আর্তনাদে নম্র প্রভাত যেন বিদীর্ণ হইয়া গেল। শব্দের উৎস সন্ধানে নতুনপাড়া নিবাসী আবালবৃদ্ধবণিতা নিদ্রা ভাঙিয়া জ্যা মুক্ত ধনুর ন্যায় উৎক্ষিপ্ত হইয়া আসিয়া দাঁড়াইল যে যার গৃহ সম্মুখে। কোথায় কী ঘটিল! সামান্য কিছুক্ষণ মাত্র, তাহার পরই আর্তনাদের উৎস বিষয়ে কাহারও সন্দেহ রহিল না। কারণ একদা ইহা ছিল এতোদঞ্চলের এক নিত্য নৈমত্তিক ঘটনা। তখন যদি প্রশ্ন করা যাইত, নতুনপাড়ায় দিবার সূচনা কীরূপে হয়? অবধারিত উত্তর আসিত, বাঙালবাড়ির কলহ মারফত। পুনরায় যদি প্রশ্ন করা হইত, নতুনপাড়ায় কিভাবে নিশাকালকে বরণ করা হয়? উত্তর হইত পূর্ববৎ। অথচ কলহ হয় না এমন কোনো গৃহ নতুনপাড়ায় কদ্যাপি ছিল না। শুধু নতুনপাড়া কেন, সম্ভবত সমগ্র ভারতবর্ষেই নাই। কারণ দৈনন্দিন একঘেয়েমি কাটাইতে নিম্নমধ্যবিত্ত সংসারে কলহ অপেক্ষা উত্তম কোনো বিনোদন নাই। তথাপি তাবৎ দোষারোপ শুধু ওই একটি বিশেষ গৃহের উপরেই ন্যস্ত হইত। কেহ কেহ এক পা আগাইয়া বলিত, শালা, বাঙালরা মানুষ নাকি!

এই দোষারোপটিও অন্যায্য। সমগ্র নতুনপাড়াই একটি বাঙাল কলোনি! এই পাড়াটির জন্মই হইয়াছে দেশভাগ পরবর্তী উদ্বাস্তুদের আশ্রয়দান কল্পে। মহানগরের দক্ষিণ কোণের এই সকল অঞ্চলে পূর্বে মনুষ্য বসতি ছিল না। ছিল জলা এবং জঙ্গলে পরিপূর্ণ। মনুষ্যের পরিবর্তে শৃগাল,ভাম, খাটাস এবম্বিধ নানান প্রজাতির বন্যপ্রাণীর নিশ্চিন্ত আবাসস্থল। তৎকালীন দূরদৃষ্টি সম্পন্ন মুখ্যমন্ত্রী বিধান রায় স্বভাবজাত ঔদার্য্যে শরণার্থীদিগকে এই অঞ্চলে বসবাসের অনুমতি প্রদান করেন। বিধানবাবুর প্রশ্রয়ে আহ্লাদিত শরণার্থীবৃন্দ হোগলা, বাঁশ আর শরের বন পরিষ্কার করিয়া স্থানটিকে বাসযোগ্য করিয়া তুলে। কিন্তু শীঘ্রই বিধানবাবুর স্বপ্নে ছাই দিয়া কমুনিষ্টিগণ এই অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার করে। তাহাদের সহযোগিতায় সীমানা দীর্ঘ হয় এবং গড়িয়া ওঠে নিত্য নতুন কলোনি। তখনও মহাপুরুষদিগের প্রতি জনগণের তীব্র আস্থা থাকায় বেশির ভাগ কলোনির নামকরণ করা হইয়াছিল মহাপুরুষদিগের নামে, কিন্তু কী কারণে এই পাড়াটির নামকরণ করা হইয়াছিল, নতুনপাড়া, তাহা কেহই বলিতে পারে না। মোদ্দা কথা হইল ছিয়াত্তর বৎসর পরেও নামকরণের সুবাদে পুরাতন হয় নাই।

সাতচল্লিশ পরবর্তীতেও যেহেতু শরণার্থীর আগমন বন্ধ হয় নাই এবং তাহাদিগের অনেককে আশ্রয় দান করিয়াছে এই নতুনপাড়া তাই এই পাড়ার অপর নাম বাঙালপাড়াও। এই নামকরণের কৃতিত্ব বলাবাহুল্য এতদ্দেশীয়দিগের অর্থাৎ ঘটিদিগের। সম্ভবত সুবর্ণ স্বরূপিনী কলিকাতা ছারেখারে যাইবার আক্ষেপে স্থায়ী বাসিন্দারা উদ্বাস্তুদিগের প্রতি ক্ষিপ্ত ছিল। কারণ শুধু তো দক্ষিণের এই অঞ্চলই নহে, উত্তর-দক্ষিণ- পূর্ব- পশ্চিমে কলিকাতার যাহা কিছু বিস্তার সবই তো উদ্বাস্তুদিগের সৌজন্যে। সেই ক্ষোভ মিটাইতে তাহারা উদ্বাস্তুদিগে নানান রূপ ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ-টিটকারি করিত। নিরুপায় বাঙালবৃন্দ সেই লাঞ্ছনা হয় ঘাড় নীচু করিয়া সহ্য করিত, কদাপি মারমুখিও হইত। যেহেতু দুই প্রকার আচরণই ছিল আমোদ যোগানের পক্ষে অপরিহার্য্য তাই টিটকারিইও বন্ধ হয় নাই।

কিন্তু ভাগ্যের পরিহাস এমত যে উদ্বাস্তুদিগের পরবর্তী প্রজন্ম সেই সকল ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের প্রতিবাদ করিবার পরিবর্তে নিজেরাই নিজদিগকে সেই সকল ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ-টিটকারি বর্ষণ করিতে পশ্চাৎপদ হইল না। ইহার প্রকৃষ্ট উদাহরণ প্রারম্ভেই দেওয়া হইয়াছে--নতুন পাড়ায় দিবার সূচনা কীরূপে হয়? বাঙালবাড়ির কলহ মারফত ইত্যাদি ইত্যাদি।

সেই প্রসঙ্গ থাকুক বরঞ্চ বাঙালবাড়ি বলিয়া যাহাদের নির্দিষ্ট করা হইয়া থাকে সেই ঘোষবাড়ির প্রসঙ্গে আসা যাক। যাহারা স্বীয় অঞ্চলের তো বটেই এমন কী দূর-দূরান্তের মানুষদিগের মুখে মিষ্টান্ন তুলিয়া দিবার দায়িত্ব লইয়াছে তাহারা মিষ্টভাষী হইবার পরিবর্তে কীরূপে এত কলহপ্রিয় হইলো তাহা নিঃসন্দেহে গবেষণার বিষয়। সেই গবেষণা হইতে জানা যায় যে ময়মনসিংহ জেলার খালিয়াজ্বরী মহকুমায় সৃষ্টিধর ঘোষ নামক একজন বিখ্যাত মোদক ছিলেন। কথিত আছে সৃষ্টিধরের দধি বিনা সমগ্র ময়মনসিংহ জেলায় কোনোরূপ অনুষ্ঠানাদি সম্পন্ন হইত না। সেই কারণে মানুষের মুখে মুখে একটি ছড়া ঘুরিত, “সৃষ্টিধরের মিষ্টি দই/ ফুরায়া গেলে পাবেন কই!”

দেশভাগকালে দিকে দিকে নানাবিধ দুর্ঘটনার খবর আসিতে থাকায় এবং স্বজাতিগণের দেশত্যাগের হিড়িকে সৃষ্টিধরের ভ্রূ কুঞ্চিত হইয়া উঠিয়াছিল। কী করা উচিৎ তাহা স্থির করিতে পারিতেছিলেন না। সমস্যা অনুধাবন করিয়া স্থানীয় মুরুব্বীগণ আগাইয়া আসিয়াছিল। ইহা ব্যতীত অন্য কোনো উপায়ও তো ছিল না। সৃষ্টিধরের দেশত্যাগের অপর অর্থ খালিয়াজ্বরীর সুনাম ধূলায় মিশিয়া যাওয়া। কারণ হিন্দুদিগের দোকানে বিশেষত খাদ্যদ্রব্যের কারবারে বিধর্মীদিগের কর্মচারী হইবার সুযোগ ছিল না। নতুবা হিন্দুদিগের বিভিন্ন মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান অমাঙ্গলিক হইয়া পড়িত। পরবর্তীতে কিছু কিছু বিধর্মী মিষ্টান্ন বিক্রয়ের পেশা গ্রহণ করিলেও দধির ওইরূপ প্রস্তুতি পদ্ধতি, অধুনা যাহাকে রেসিপি বলা হইয়া থাকে, তাহা অজ্ঞাত থাকার কারণে তাহাদিগের পক্ষে দধির গুণমান বজায় রাখা সম্ভব হইত না। প্রবাদে রহিয়াছে, “ পয়সা দিয়া খাবো দই/ গোয়ালিনী আমার কিসের সই?” সুতরাং মুরুব্বিগণ স্বেচ্ছায় ঘোষ পরিবারকে রক্ষা করিবার দায় স্বীয় স্কন্ধে তুলিয়া লইয়াছিল। সৃষ্টিধরও তাহাদিগে বঞ্চিত করেন নাই। নিজ পারদর্শীতার পূর্ণ শতাংশ ব্যবহার করিয়া খালিয়াজ্বরীর সুনাম উত্তরোত্তর বৃদ্ধি করিয়া চলিয়াছিলেন। এমন কী বিশেষ দক্ষতায় হরিৎ বর্ণের দধি প্রস্তুত করিয়া নাম রাখিয়াছিলেন পাকিস্তান, যাহা বিভিন্ন রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে বিনামূল্যে বিতরণ করিতে শুরু করিয়াছিলেন।

কে বলিতে পারে সৃষ্টিধরের এহেন কৃতকর্মে বিধাতা পুরুষ অলক্ষে হাসিয়া ছিলেন কিনা; কেননা ইহার পর হইতে শুধু রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে নয়, সামাজিক অনুষ্ঠানাদিতেও বিনামূল্যে পাকিস্তান দধি এবং অন্যান্য মিষ্টান্নও দান করিবার দাবী উঠিতে থাকিল। প্রথম প্রথম হাসিমুখে পরবর্তীতে বাধ্যতামূলক ভাবে সৃষ্টিধর সেই দাবী মানিয়া চলিতে বাধ্য হইয়াছিলেন।

সৃষ্টিধরের প্রয়াণের পর তাহার একমাত্র পুত্র লালমোহন ঘোষ যখন ব্যবসায়েরর দায়িত্ব গ্রহণ করিয়াছিল তখনও দধির ঐন্দ্রজালিক ক্ষমতা জারি ছিল। ইহাই স্বাভাবিক, কারণ দধি প্রস্তুতের পদ্ধতি একমাত্র পুত্র হিসাবে লালমোহনেরও আয়ত্বে ছিল। ফলে খালিয়াজ্বরীর সুনাম ক্ষুন্ন হইবার মতো কোনো কারণ ঘটে নাই।

ঘটিবার উপক্রম হইল একাত্তর নাগাদ। যুদ্ধকালীন সময়ে প্রতিবেশীদিগের সহায়তায় সপরিবারে প্রাণরক্ষা হইবার পর বাঙালির নিজস্ব দেশ লাভ করিবার সাফল্যে লালমোহন ঘোষ আহ্লাদে আটখানা হইয়া পড়িয়াছিলেন। পিতার পদক্ষেপ অনুসরণ করিয়া উদ্ভাবন করিয়াছিলেন লাল সূর্য অঙ্কিত সন্দেশ, যাহার নাম রাখিয়াছিলেন–জয় বাংলা। ইচ্ছা করিয়াছিলেন শুধু খলিয়াজ্বরী নহে, স্বাধীন দেশের সর্বত্র শাখা খুলিয়া মিষ্টান্ন বিপ্লব ঘটাইবেন।

কিন্তু এইবার বিধি সঙ্গ দিতে অস্বীকৃত হইলেন। লালমোহন ঠারেঠোরে শুনিলেন এই স্বাধীন দেশের মাটিতে বাঙালি হওয়া সত্ত্বেও তাহার কোনরূপ অধিকার নাই। কারণ ইহা বর্তমানে স্বাধীন মুসলমান রাষ্ট্র।

যদিও লালমোহন প্রথমভাগে বিচলিত বোধ করেন নাই। প্রতিবেশীদিগের মধ্যে কাহারও কাহারও এই ধরণের ব্যবহারের সহিত পূর্ব পরিচয় থাকায় মুখে হাসি ধরিয়া রাখিয়া অল্পবিস্তর গঞ্জনা, কটূক্তি সহ্য করিয়া দুই কূল বজায় রাখিবার চেষ্টা করিয়া চলিতেছিলেন। এমন কী দুইবার দোকানে ডাকাইত পড়িবার পরও ঘাবড়াইয়া যান নাই। কিন্তু যেই রাত্রে বাসগৃহে ডাকাইত আসিল এবং মুরুব্বিবৃন্দের কেহই আদৌ রক্ষা করিতে আসিল না তৎমুহূত্বেই লালমোহন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিলেন দেশত্যাগের। পরবর্তী অমাবস্যার অন্ধকারকে ব্যবহার করিয়া সপরিবারে সীমান্ত অতিক্রম করিয়া চলিয়া আসিলেন।

এইপারে যেহেতু কেহই বরণডালা লইয়া অপেক্ষায় ছিল না তাই কপর্দক শূন্য উদ্বাস্তু হিসাবে আসিয়া নাবালক পাঁচ পুত্র এবং নাবালিকা তিন কন্যা সমৃদ্ধ দশজনের ঘোষ পরিবার বিস্তর নাকানি চোবানি খাইয়াছিল। শিবির হইতে শিবিরে অবহেলিত সারমেয় পরিবারের মতো ঘুরিয়া বেড়াইতে হইলেও লালমোহনের বিশ্বাস ছিল দিন ফিরিবে। দক্ষ কারিগরের ভাত মারিবার ক্ষমতা কাহারও নাই। এবং সেই ঘটনাই ঘটিয়াছিল। বিভিন্ন ঘাটের জল খাইয়া অবশেষে নতুনপাড়ায় স্থিত হইবার পর লালমোহনের সৌভাগ্যলক্ষ্মী চক্ষু মেলিয়া তাকাইবার অবসর পাইয়াছিলেন।

তাহা বলিয়া এমন ভাবিবার কারণ নাই যে সৌভাগ্যলক্ষ্মীর নিদ্রা অকালে ভঙ্গ হইয়াছিল এবং লালমোহন ঘোষ রাতারাতি ফুলিয়া ফাঁপিয়া উঠিয়াছিলেন। তাহা সম্ভবও ছিল না। কারণ নতুনপাড়ার অধিবাসীদিগের অন্ন জুটাইতেই এতটা প্রাণপাত করিতে হইত যে নিত্য নিত্য মিষ্টান্নের বিলাসিতা করা তাহাদের নিকটা স্বপ্ন ব্যতীত অন্যকিছু ছিল না। অপর দিকে বেড়ার বাঁধুনি, বিচালির চাল সম্বল দোকানে শুধু সিঙ্গারা, জিলাপি বিক্রয় মারফত দশজনের সংসার প্রতিপালন করিতে হইলে লালমোহন তো কোন ছার স্বয়ং বিশ্বকর্মাও অবধারিত ফেল মারিতেন। তবে সুখের কথা ইহাই যে সময় লাগিলেও লক্ষ্মীর কৃপায় অবশেষে দোকানের বেড়ার দেওয়াল টিনের হইল, বিচালির চালও টিনের হইল তদুপরি যুক্ত হইল একটি শোকেস। ইহার পর যাহা না থাকিলে সব সমৃদ্ধিই বিফলে যায় সেই সাইনবোর্ডের বন্দোবস্তও হইল, যাহাতে লিখা হইল--লাবণ্য মিষ্টান্ন ভান্ডার।

সর্বস্ব ত্যাগ করিয়া আসিতে বাধ্য হওয়া উদ্বাস্তুবৃন্দ যেহেতু ঈর্ষার থলিটি সযত্নে রক্ষা করিতে পারিয়াছিল এবং সঙ্গে আনিতে ভুল হয় নাই তাই যথারীতি নতুনপাড়ায় শোরগোল উঠিয়াছিল। সাইনবোর্ড লইয়া পর্যালোচনার অন্ত রহিল না, ‘লাইবণ্য কেডা!’ খালিয়াজ্বরীতে যাহার দোকানের নাম ছিল সর্বমঙ্গলা মিষ্টান্নালয় তিনি কোন গূঢ় কারণে নাম পরিবর্তন করিলেন! বিশেষত যেই পরিবারে লাবণ্য নাম্নী কেহ নাই তাহাদিগের দোকানের নাম কিরূপে লাবণ্য মিষ্টান্ন ভান্ডার হইতে পারে?

বিস্তর গবেষণার পর এবম্বিধ গুজব রটিয়াছিল যে খালিয়াজ্বরীতে ঘোষ পরিবার ছিল একাদশ সদস্য সমৃদ্ধ। সেই একাদশতম অস্তিত্বটি ছিলেন লালমোহনের জ্যেষ্ঠা কন্যা লাবণ্য। সেই হতভাগিনী পরিবারের সঙ্গে রওয়ানা হইলেও তাহার পক্ষে শেষাবধি সীমান্ত অতিক্রম করা সম্ভব হয় নাই। ঘোষ পরিবার তাহাকে সীমান্তেই ছাড়িয়া আসিতে বাধ্য হইয়াছিল। মেয়ের শেষাবধি কী গতি হইয়াছে জানা না থাকায় তাহাকে মৃত বিবেচনা করিয়া লালমোহন ঘোষ সাইনবোর্ড মারফত চিরস্মরণীয় রাখিতে ইচ্ছা করিয়াছেন।

পূর্বেই বলিলাম ইহা গুজব মাত্র। হইতেও পারে ইহা সর্বেব মিথ্যা রটনা। প্রতিবেশির এহেন লক্ষ্মীলাভ দেখিয়া ঈর্ষাবশতঃ কেহ কেহ এইরূপ কলঙ্ক প্রদানকারী গল্প রটনা করিয়া থাকিতেও পারে। যদিও রটনাকারীদের বক্তব্য তাহারা নাকি লালমোহনের পত্নীকে কখনও কখনও পা ছড়াইয়া বসিয়া ‘লাবু, লাবুরে’ বিলাপসহ চোখের জলে ভাসিয়া যাইতে দেখিয়াছে। কিন্তু লাবণ্য মিষ্টান্ন ভান্ডার প্রতিষ্ঠার পূর্বেই লালমোহন ঘোষের পত্নীর মানসিক ভারসাম্য নষ্ট হইয়া গিয়াছিল। মধ্যে মধ্যেই তিনি সম্পূর্ণ উলঙ্গ দশায় পথে বাহির হইয়া পড়িতেন জন্য তাঁহাকে গৃহের অভ্যান্তরে বাঁধিয়া রাখা হইত। জনসম্মুখে আসিতে দেয়া হইত না। সুতরাং তিনি কাহারও গলা ধরিয়া কোনোরূপ বিলাপ করিয়াছেন এমত তথ্য বিশ্বাসযোগ্য হয় কীরূপে!

বিশ্বাসের প্রয়োজনও নাই কারণ আলোচনা চলিতেছে বাঙালবাড়ির কলহ বিষয়ে। নেহাত কেচ্ছা বিনা কাহিনির আকর্ষণ যেহেতু বিনষ্ট হয় সেই কারণেই লাবণ্য বিষয়ে দুই-একটি কথা বলা হইল। আশা রাখি ওইটুকুতেই কৌতূহলীর আগ্রহ মিটিবে। আপাততঃ ফিরিয়া যাওয়া যাক পূর্ব প্রসঙ্গে।

লালমোহন ঘোষের জাদু এই বঙ্গেও মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করিতে ব্যর্থ হইল না। লাবণ্য মিষ্টান্ন ভান্ডার ফুলিয়া ফাঁপিয়া উঠিল তো বটেই এমন কী গড়িয়া এবং বেহালার অবস্থাপন্ন অঞ্চলেও দুইটি শাখা উন্মোচিত হইল। বলাবাহুল্য সেই দুইটি শাখার নামও লাবণ্য মিষ্টান্ন ভান্ডার রাখা হইল। পুত্র এবং কন্যাদিগের সাধ্য মোতাবেক শিক্ষার ব্যবস্থা হইল এবং শিক্ষান্তে উপযুক্ত পাত্র-পাত্রীর সঙ্গে বিবাহ হইল।

এক্ষণে লালমোহন ঘোষকে পায় কে! পুত্রদের পাশাপাশি জামাতাবৃন্দও ব্যবসাকর্মে সহযোগী হইল। দধির পাশাপাশি নিত্য নতুন মিষ্টিরও উদ্ভাবন হইতে থাকিল। তবে এইবার সেই সকল মিষ্টির নাম হিন্দুস্থান রাখিবার মতো ভুল লালমোহন ঘোষ করেন নাই। বাম জমানায় লাল সন্দেশ এবং দিদি জমানায় ঘাসফুল সন্দেশ। যথারীতি লাবণ্য মিষ্টান্ন ভান্ডারের যেকোনো মিষ্টিই তুমুল জনপ্রিয় হইল।

কলহের সূত্রপাত ঘটিল লালমোহন বৃদ্ধ হইবার পর। যদিও তৎকালে এইরূপ ঘড়ির সময় ধরিয়া কলহ শুরু হইত না এবং এতটা দীর্ঘসূত্রীও হইত না। যেইটুকু কলহ না হইলে গৃহস্থবাড়ির মর্যাদাক্ষুন্ন হয় ঘোষবাড়িতে সেইটুকুই ঘটিত। অবস্থা জটিল হইয়া উঠিল লালমোহন ঘোষ অসুস্থ হইয়া শয্যাশায়ী হইবার পর যখন গৃহ হইতে বাহির হওয়া বন্ধ করিলেন তৎকালে। যদিও লালমোহনের গৃহবন্দী পর্ব অত সহজে ঘটে নাই। দুইবার রক্তচাপ জনিত কারণে পথিমধ্যে সংজ্ঞাহীন হইয়া পড়িবার পরও চালু ছিল। শেষবার প্রায় মাস খানেক যমে মানুষে টানাটানি হইবার পর পুত্র-পুত্রবধূ-কন্যা-জামাতাগণের পীড়াপীড়িতে এবং নিজেও কিঞ্চিৎ ভীত হইয়া লালমোহন গৃহবন্দীত্ব মানিয়া লইতে বাধ্য হইলেন।

কিন্তু বাধ্যতামূলক ভাবে গৃহে আবদ্ধ হওয়া এবং গৃহপালিত হওয়া যেহেতু এক জিনিস নহে তাই এই পর্বে শুরু হইল লালমোহনের পুরুষাকারের প্রকাশ। প্রথমে মৃদু রূপে, পরবর্তীতে দুর্বাসা রূপে। অতি প্রত্যূষে যখন পক্ষীকূল ডাকিয়া উঠিবার সময় প্রায় আগত বিবেচনা করিয়াও শেষবারের মতো একটু ঘুমাইয়া লইবার তোড়জোড় করিত সেইক্ষণে লাঠি ঠুকিয়া ঠুকিয়া লালমোহন আসিয়া বসিতেন বারান্দায়। প্রথম সিকিঘন্টা ধরিয়া চলিত হরিনাম স্মরণ। তাহার পর শুরু হইত আক্ষেপ, ব্যবসায়ীর গৃহে অতি নিদ্রা কাতরতা মূলতঃ বিনাশকালের সূচনা। এই আক্ষেপ পর্বের পর শুরু হইত গালাগালি পর্ব যাহার লক্ষ্য ছিল পুত্রবধূগণ। কারণ বিনাশ রুখিবার জন্য প্রয়োজন গৃহলক্ষ্মীদিগের তৎপরতা। গৃহলক্ষ্মীর ছদ্মবেশে যেই সংসারে অলক্ষ্মীদিগের প্রবেশ ঘটিয়াছে তাহাদের বাঁচাইবে কোন পত্নীভ্রাতা? সুতরাং তাহাদিগে শাসনে রাখা নিতান্তই আবশ্যিক।

প্রথম প্রথম এই সকল ভবিষ্যৎবাণীর ছদ্মবেশে থাকা অভিশাপগুলির উদ্দেশ্য ব্যর্থ হইত না। লালমোহন বচন শুরু করিবা মাত্র দুদ্দার করিয়া দ্বার খুলিয়া যাইত। শুরু হইয়া যাইত পাপস্খালন করিয়া লক্ষ্মীদেবীকে চিরস্থায়ী রাখিবার বন্দোবস্ত। কিন্তু দীর্ঘদিন এই ব্যবস্থা চলিল না। লালমোহনের সাতসকালে সরাসরি শাপ-শাপান্তগুলি বর্ষণ করিলেও সেইগুলি বন্ধ দ্বারে আঘাত খাইয়া নিস্তেজ সর্পের ন্যায় পড়িয়া থাকিতে লাগিল। যেহেতু সহজে হার মানিয়া লইবার মতো পিতার ঔরসে লালমোহনের জন্ম নহে তাই অভিশাপের সঙ্গে যুক্ত হইল গালাগালি এবং সেইগুলির পরিমাণ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাইতে লাগিল। ফলাফলও মিলিতে লাগিল। আসিতে থাকিল প্রত্যুত্তরও। প্রথম প্রথম স্তম্ভিত হইয়া নিশ্চুপ হইয়া যাইতেন লালমোহন কিন্তু নখদন্দহীন ব্যঘ্রও যেহেতু সহজে হিংস্রতা ত্যাগ করিতে পারে না তাই প্রবল বিক্রমে ঝাঁপাইয়া পড়িবার চেষ্টা জারি রাখিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য বশতঃ তাহার হৃদযন্ত্র বেশিদিন সঙ্গ দিতে অরাজী হওয়ায় ক্রমশঃ নিস্তেজ হইয়া পড়া ব্যতীত তাহার অন্য কোনো উপায় থাকিল না।

এক্ষণে প্রশ্ন উঠিতে পারে, তাহা হইলে রণাঙ্গন শান্ত হইল না কেন? উত্তর ইহাই যে কলহ হইল মাদকতুল্য, একবার গ্রস্ত হইলে গ্রাহকদিগের চক্ষুলজ্জার বালাই থাকে না। সুতরাং লালমোহন কর্তৃক বন্টিত কলহ নেশা তৎক্ষণে প্রত্যেকের শিরায় শিরায় ছড়াইয়া পড়ায় লালমোহনের একক লড়াই বহুভাগে বিভক্ত হইয়া গেল। বধূসহ পুত্র এবং জামাতাসহ কন্যা এবং উভয় তরফের সন্তানাদি নিছক গৃহবিবাদ পর্বটিকে লইয়া গেল মহাভারতের যুদ্ধের পর্যায়ে। যুদ্ধের কারণ যেহেতু চিরকালই গুরুত্বহীন তাই বিষয়ের অভাব পড়িল না। প্রত্যূষ হইতে নিশাকাল অবধি যে যার প্রতিপক্ষ বাছিয়া লইয়া লড়াই শুরু করিয়া দিল।

তবে কুরুক্ষেত্রের সহিত এই যুদ্ধের কিছু পার্থক্য ছিল। যেমন অর্জুন সদৃশ বিহ্বলতা কাহারও অন্তরে জাগরূক না হইবার কারণে উস্কানির নিমিত্ত কোনো কৃষ্ণেরও প্রয়োজন হয় নাই। এবং কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ অষ্টাদশ দিবস অতিক্রম করিবার পর থামিয়াছিল কারণ একপক্ষ নির্বংশ হইবার কারণে কোনো প্রতিপক্ষ ছিল না। কিন্তু এই যুদ্ধে লালমোহন শরসজ্জা গ্রহণ করায় ঘোষিত কোনো পক্ষ ছিল না। প্রতিদিন দল বদল পর্ব চলিত। গতকল্য যাহার বাপ বাপান্ত করা হইয়াছে অদ্য তাহারই পক্ষ অবলম্বন করিয়া বিগত দিনের স্বপক্ষদিগকে আক্রমণ করিতে কেহ কুণ্ঠাবোধ করিত না।

প্রতিবেশিবৃন্দ প্রথম প্রথম বিস্তর পুলক অনুভব করিলেও একই আমোদ যেহেতু নিত্যদিন উপভোগ করা যায় না, বরঞ্চ বিরক্তি উৎপাদনের কারণ হয় তাই নতুনপাড়ার মুরুব্বিবৃন্দ চেষ্টা করিয়াছিল এই কলহ অবসানের। লালমোহন ঘোষকে উপদেশ দেওয়া হইয়াছিল সম্পত্তি বন্টন করিয়া পৃথগান্ন হইবার। কারণ হাঁড়িই অনর্থের মূল।

মূল শনাক্ত করিতে যে কোনো ভুল হয় নাই তাহার প্রমাণ মুরুব্বিদিগের যাতায়াত কালে রণাঙ্গণ শান্ত হইয়াছিল। পরিবারস্থ সকলে অপেক্ষায় ছিল লালমোহন কী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন তাহা জানিবার। কিন্তু লালমোহন কষ্টেসৃষ্টে বিছানায় উঠিয়া বসিয়া মুরুব্বিদিগের মুখে থুথু নিক্ষেপ করিয়া সন্ধি প্রস্তাবে জল ঢালিয়া দেয়া মাত্র ঘোষবাড়ির অঙ্গন পুনরায় মথিত হইয়া উঠিয়াছিল।

পাঠক, কাহিনিতে অতীতকালের ব্যবহার লক্ষ্য করিয়া আপনার এমত কৌতূহল হইতে পারে যে সন্ধি প্রস্তাব ব্যর্থ হওয়া সত্বেও ঘোষবাড়ির অঙ্গণ শান্ত হইল কীরূপে! এক্ষণে সেই কথা।

আমরা প্রত্যেকেই অবগত যে যেকোনো কান্ড চরমে না পৌঁছাইলে পরম প্রাপ্তি ঘটে না এবং চরম হইতে পরমে পৌঁছাইয়া দিবার কার্যে যুক্ত মুরুব্বিদিগেরও শ্রেণিবিভাগ থাকে। এই তত্ত্বকে মান্যতা দিতে ঘোষ পরিবার যেই দিবসে কন্ঠের পরিবর্তে হস্ত ব্যবহারের প্রয়োজন অনুভব করিল এবং শূন্যহস্তকে সঙ্গী জোগাইতে লাঠির সাহায্য যাঞ্চা করিল, সেই অপরাহ্ণেই বড় মুরুব্বি ওরফে পুলিশের আগমন ঘটিল। ইহার পর কাহার সাধ্য সেই মুরুব্বির মুখে থুতু নিক্ষেপ করিবার, কাহারই বা সাহস হয় নতুনপাড়ার বাতাস দূষিত করিবার?

লালমোহন সম্মত হইলেও সমস্যার অত সহজে সমাধান মিলিল না। আর্থিক অবস্থার উন্নতি হইলে লালমোহন ঘোষ প্রতিবেশির নিকট হইতে বিস্তর জমি ক্রয় করিয়াছিলেন এবং সন্তানদিগের বিবাহ উপলক্ষে যততত্র গৃহ নির্মাণ করিয়াছিলেন যাহা বসতভিটার ভাগ-বাঁটোয়ারায় বিস্তর গন্ডগোল করিল।অবশ্য ইহাকে গন্ডগোল বলাটা সঠিক হইবে না কারণ লালমোহনের কল্পনাতে কদাপি ভাগ-বাটোঁয়ারার সম্ভাবনা মাথা চাড়া না দেওয়ায় ওইরূপ গোলমাল ঘটিয়াছিল। খানিকটা শূন্য জমি তদ্যাপি থাকিলেও পুত্র কিংবা কন্যাদিগের কেহই বসতবাড়ির ভাগ ছাড়িয়া শূন্য জমিতে বসত গড়িতে রাজী নহে। অতএব উপায়?

উপায় তো থাকিতেই হবে কারণ স্থানীয় প্রশাসন অবিলম্বে সমস্যা সমাধানের নির্দেশ জারি করিয়াছিল। অতএব সেই নির্দেশকে মান্যতা দিতে জমি বিশেষজ্ঞের সাহায্য লইতে হইল। সেই বেচারির দশা হইল র‍্যাডক্লিফ সাহেব অপেক্ষাও ভয়াবহ। কারণ র‍্যাডক্লিফ নির্বিবাদে কাহারও পাকশালের ভেতর দিয়া, কাহারও শয়নঘরের অভ্যন্তরে, কাহারও বসতভিটা এক প্রান্তে এবং শৌচালয়কে অপর প্রান্তে রাখিয়া সীমানা নির্দিষ্ট করিয়াছিলেন। কাহারও উচ্চবাচ্চ করিবার মতো সাহস হয় নাই। কিন্তু এইক্ষেত্রে চিত্র ভিন্নরূপ। ব্যবসার দায়িত্ব কর্মচারির হস্তে ন্যস্ত করিয়া ঘোষ পরিবারের পুরুষ সদস্যবৃন্দ সপরিবারে শকুন্তপক্ষীর ন্যায় ওঁৎ পাতিয়া বসিয়া রহিল। লাইন পছন্দসই না হইলেই ঝাঁপাইয়া পড়িতে উদ্যত রহিল।

বন্দুকের নলই যেইহেতু সকল ক্ষমতার উৎস সেইহেতু পুনরায় পুলিশি সাহায্যের প্রয়োজন হইল। এবং অবশেষে সীমানা নির্দিষ্ট করা গেল। ঘোষবাড়ির অঙ্গনে প্রাচীর উঠিল। পুনরায় ছুটিয়া আসিল নতুনপাড়ার অধিবাসীবৃন্দ। তাহাদের এবম্বিধ কৌতূহলকে কেহ অন্যায্য বলিতে পারিবে না কারণ দেখিবার মতো বস্তুই হইল বটে। গোলকধাঁধাঁ সদৃশ প্রাচীরের বাধা অতিক্রম করিয়া নিজস্ব গৃহ চিনিয়া লইতে যে ঘোষজাদিগের বিস্তর বেগ পোহাইতে হবে সেই বিষয়ে কাহারও বিন্দুমাত্র সন্দেহের অবকাশ রহিল না।

সে কথা থাক। সমস্যা যাহাদের সমাধানের উপায় বাহির করিবার দায়িত্বও তাহাদেরই। মোদ্দা কথা হইল নতুনপাড়ার বদনাম তো ঘুচিল।

সত্যিই ঘুচিয়াছিল। অন্ততঃ অদ্য প্রত্যূষের পূর্বকাল অবধি। কিন্তু অদ্য নতুনপাড়ার নিদ্রা ঘুচিল জান্তব এক আর্তনাদে। প্রথমে আর্তনাদের উৎস এবং আর্তনাদ মানবিক কিনা বুঝা যায় নাই। মনে হইয়াছিল যেন বা কোনো পশু মৃত্যুযন্ত্রণায় ছটফট করিতেছে। কিন্তু একদা এতদাঞ্চলে জন্তুদিগের গতায়াত থাকিলেও সেই ইতিহাস তো কবেই গত হইয়াছে! পুনরাবৃত্তিরও সম্ভাবনা নাই। তাহা হইলে?

আর্তনাদের উৎস শনাক্ত হইবার পর সবাই ছুটিয়া আসিল ঘোষবাড়িতে। প্রথমে মনে হইয়াছিল বোধকরি কোনো প্রগৈতিহাসিক প্রাণী। ভ্রম ঘুচিলে চোখে পড়িল এক উলঙ্গ অতি বৃদ্ধা সীমানা প্রাচীরের গাত্রে মাথা ঠুকিয়া আর্তনাদ করিতেছে। শণের নুড়ির মতো এলোমেলো চুল, রক্তে মুখমন্ডল ভাসিয়া যাওয়ায় এবং পরণে বস্ত্র না থাকায় প্রথমে কেহই চিনিতে পারে নাই। রাক্ষসী কিংবা ডাইনি ভ্রমে সবাই নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখিল কিন্তু কৌতূহল নিরসনের তাগিদে জীবন বিসর্জনের রেকর্ড যেই জাতির আছে তাহাদিগের পক্ষে কতক্ষণ নিরপদ দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব?

লালমোহন ঘোষের স্ত্রীকে শনাক্ত করিবার পর কাহারও মনে বিন্দুমাত্র ভয় থাকিল না। কিন্তু ব্যক্তিকে শনাক্ত করাটাই তো যথেষ্ট নহে, আর্তনাদের মর্মোদ্ধার করাটাও তো আবশ্যিক কর্তব্য। নতুবা পরবর্তীতে এই প্রসঙ্গে আলোচনা চলিবে কীরূপে! সুতরাং বৃদ্ধাকে ওইরূপ আত্মহননকারী কর্ম হইতে বিরত করিবার পরিবর্তে সবাই কান পাতিয়া রোদনের ভাষা শুনিতেই ব্যস্ত রহিল। কিন্তু নিটফল শূন্য। নানা মুণি নানা মত। কাহারও মতে আর্তনাদে নিহিত ছিল শুধুই কুৎসিত গালাগালি। কাহারও বিবেচনায় আর্তনাদের ভাষারূপ ছিল, লাবু….লাবু রে…...।
***


লেখক পরিচিতি:অলোক গোস্বামী। ২৯.০৫.১৯৬২ কোচবিহারে জন্ম। আলিপুরদুয়ার/ জলাপাইগুড়িতে শৈশব কাটিয়ে শিলিগুড়িতে বেড়ে ওঠা।

প্রকাশিত গ্রন্থ :গল্প:--সময়গ্রন্থি, জলছবি, আগুনের স্বাদ, কথা কিংবা কাহিনি, দশটি গল্প, পনেরটি গল্প।
কবিতা:- বই নেই। তবে মেমরি লোকাল নামে একটি ভ্রমণালেখ্য রয়েছে। উপন্যাস:-- বাতিল নিঃশ্বাসের স্বর, অদ্ভুত আঁধার, আদিম হাওয়ার সংলাপ ( প্রকাশিতব্য)




একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ