‘কাম মায়ের পেট থিকা শিখা আসে না। কাম হইল মগজ। তরা ত হুজুগে বাঙালি। কিছু বুঝস না। খালি মালিকের গোয়া মারার চিন্তা করছ।’
হাজি সফি নাটবল্টু খুলতে খুলতে আনিসদের ঝাঁটার বাড়ি মারে। মিস্ত্রি হয়ে ফিড মিলের জালিটা লাগায়। তারপর মৌলানা গ্রিল ওয়ার্কস-এর আলোর ঝিলিক ও শ্রমিকদের কর্মকাণ্ড দেখে।
লম্বা ইনসান মুখ আড়াল করে মুচকি হাসে। অদূরে ভুট্টার বস্তার স্তূপ। ক্লেমেন, সুপারস্টার, লেটুস ও মার্তুস সাংমা বিব্রত।
পরদিন রাস্তার ওপাশে স্কাউট জাম্বুরি শুরু হয়। স্কাউটদের আগমনে শ্রমিকদের চোখের ব্যস্ততা বাড়ে। তারা দেখে স্কাউট মেয়েরা ঠেলাগাড়ি ঠেলছে। লাইট জ্বলছে, ক্যাম্প বাড়ছে। হৈচৈ, ধুলো, বাঁশ, রান্নার যোগাড়, বিবর্ণ শালগাছ, টাইয়ের নড়াচড়ার মধ্যে পাঁচশ কেজি, এক হাজার কেজি খাদ্য বানায়। সুমাইয়া পোলট্রি ফিড সেন্টারের যন্ত্রের গোঙানির ভেতর রাইস পলিস মাখা ভূত ক্লেমেনরা হাজির বিরুদ্ধে বিষ ছড়ায়। তা হাজির গোঁফের ফাঁকে ঢুকিয়ে দিতে পারলে তারা দলে দলে গার্মেন্টসমেয়ে দেখার শান্তি পেত।
লেটুস বলে, ‘মালিক মাদারচোদ আমাদের কষ্ট বুঝত চায় না। ট্যাকা দিলে বাল দ্যাখাইয়া যামু গা। বালের মেশিন বওয়াইছে। কার বালে থাকব এহানে।’ সে ক্ষোভে পূর্ণ। পরনে নীল গেঞ্জি ও কালো সস্তা জিন্স। মাথায় তেনা বাঁধা। তাকে কিছুটা বিচিত্র লাগছে।
ইনসান বলে, ‘সফি মিয়া ফুইনলে গোয়া মাইরা চাঙে তুইলা রাখব।’ সে জারির সুরে তামাশা করে, ‘আরে হাগতে গিয়া নবা কচু পাতায় গোয়া মুছে। তারপরেদি দাও লইয়া যায় বাঁশবনে। আরে বাঁশবনে নবা পাইল শিয়ালের ছাও।’ কণ্ঠ পাল্টে মাথা নিচু করে সালাম দিয়ে বলে, ‘আমি মানিক চন্দ সবার কাছে ক্ষমা ক্ষমা ক্ষমা চাই।’
ক্লেমেন বলে, ‘তোদের মা-বোন নাই।’
সবাই হাসে। সুপারস্টার লাল দাঁত দেখায়, ‘মা আছে বোন নাই।’
ফ্রান্সিস ভ্যানে আল-আমিন পোলট্রিতে চার বস্তা রাইচ পলিস দিয়ে আসে। আনিস পানদাঁত বের করে তাকে মেইনসুইচ বলে ডাক দেয়। ফ্রান্সিস মুচকি হাসে। ছানোয়ার পোলট্রির ষাট কেজি খাবার তৈরি করা হয়েছে। এখনো নিতে না আসায় আনিস ছানোয়ারকে জানোয়ার বানায়। সে নাকি এক নম্বর ভিতুর ডিম। রাতে পেশাব করতে বের হলে পাশে বউকে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। সে আসবে মাল নিতে! আনিসকে আজ আগে যেতে হবে। বাজার করা দরকার। অথচ হাজি বলে গেছে কাজ আছে। লেটুসকে বলে, ‘যার হাঁড়ির ভাত খাই তারে চিনি না! চিনি অনেক দিন। ফাঁক পাইলে হইল, গোয়া মাইরা দিব।’
কিছুক্ষণ পর এক ক্রেতা ভুট্টা যাচাই করতে এসে কয়েকটা চিবায়। তারপর পোকা খাওয়া বলে নাক বাঁকিয়ে চলে যায়। তখন ইনসান মালিকের বলা কথাটা আনিসকে বলে, ‘য্যা প্যাচাল পারব তারে চাইর কেজি ঝিনুক ঢুকাইয়া দিবি। ফাল পারা চিত হইয়া যাইব।’
আনিস বলে, ‘আমাগো সাথে কিছু খাটব না। গোয়াতে তেল মাইজা খাবার নিয়া মুরগিরে খাওয়াইতে হইব। কারো গোয়াত বাঁশ ঢুকাইয়া দিমু, কারো হাতত হারিকেন দিমু।’ কথা বলার সময় মনে হয় তার পান খাওয়া দাঁতের ফাঁকে জং ধরা তামার তার আটকে আছে।
সুপারস্টার বেটে, শক্ত শরীর। ইন্ডিয়ান সয়াবিনের পঞ্চাশ কেজি বস্তা নামাতে গিয়ে হাসে। গতকাল নিজেকে ব্যাপটিস্ট খ্রিস্টান পরিচয় দিয়েছিল। সিলেটে মিশনে কাজ করা বাপের সঙ্গে পানপুঞ্জির পাহাড়ে অনেক হেঁটেছে। কিছুদিন কাঠমিস্ত্রির কাজও করেছে। ময়মনসিংহের কামারখালী গ্রামে কাকা-কাকির কাছে মানুষ। এসএসসি ফেল করলে কাকি রেগে দুপুরে, রাতে ও পরদিন সকালে ভাত দেয় না। তখন সে ঢাকায় এসে রেস্টুরেন্টে চাকরি নেয়। সে নাকি এক চীনা মেয়ের সাথে সম্পর্ক করেছিল। মালিকের কানে কথা গেলে চাকরি ছেড়ে দেয়।
আনিস বলে, ‘মৌচাকে কন মাতবরি চুদাইবার লাইগা আইছস?’ একটু পর লাল ডিব্বা থেকে গুল বের করে। জিহ্বার নিচে গুলের ঘর বানিয়ে সুপারকে ভেংচি কাটে।
বাদুড় উড়ে যায় নিঃসঙ্গ কাকের মতো। রাস্তায় টাঙ্গাইলের গাড়ির হর্ন। মহিলা জানালায় মুখ বাড়িয়ে বমি করছে। পেছনে চালতাগাছের পাতায় চড়ুইয়ের গু। কেউ কেউ বাতি জ্বালায়। কয়েকটা গার্মেন্টসমেয়ে ক্লান্ত হেঁটে আসছে। শালগাছের পাতায় পাতায় আঁধার জমাট বাঁধে। সন্ধ্যা হচ্ছে।
কিশোর সোলেমান হাজির গরুঘর থেকে বেরিয়ে লুঙ্গি একটু তুলে পুরুষাঙ্গ থেকে আলগা রেখে হেঁটে আসে। দশ-বারো দিন আগে তার সুন্নত করা হয়েছে। সুমাইয়া পোলট্রি মেডিসিন সেন্টার থেকে হাজি তাকে দেখে। গোপন কথা শোনাবে এমন ভঙ্গিতে ডাকে। কাছে এলে লুঙ্গি তুলে তার লিঙ্গ দেখে।
ফিড সেন্টার থেকে হাজির ছেলে আল আমিন ও ভাইপো হাবিব দুষ্ট ইশারায় ডাকে। সোলেমান কাছে না এসে দাঁত দেখায়। কণ্ঠ গরুর জিহ্বার চেয়ে লম্বা করে বলে, ‘খানকির পোলারা বেশি নেতাগিরি চোদাইবার লাগছে।’ কাকে বলে বোঝা যায় না।
দুজনের মধ্যে তর্ক হয় নিজ লিঙ্গের সাইজ বিষয়ে। হাবিব হেয় করলে আল আমিন চেইনে হাত দিয়ে খোলার ভঙ্গি করে। দেখিয়ে দিতে চায় প্রথম বিয়েটা পরিবারের অজান্তে করেছিল। সেটা ছাড়িয়ে বাপে করিয়েছে নতুন বিবাহ। চিকন, ফরসা, অল্পবয়সী কন্যা। হাত মুঠো করে দুই বিয়ের শক্তি দেখায় আঠারোর তরুণ। কনিষ্ঠ আঙুলের লম্বা নখ দিয়ে জুলফির কাছে চুলকায়।
মার্তুসের নাকের গোড়ায়, ক্লেমেনের চোখের কোনায় হাসি। আনিস মার্তুসকে দাঁতে চিবিয়ে মেশিনে ঢেলে দিতে চায়। কিছুদিন আগে ইন্ডিয়া থেকে মেশিন এনে ফিট করা হয়েছে।
‘ভাইয়ের দ্যাশ কুনে?’ আনিসের দাঁতের ফাঁক দিয়ে গিয়ে রেমেন সূর্যপুরে উপস্থিত হয়। তাই প্রশ্নটা শুনতে পায় না। দুই সন্তানের বাপ মার্তুস ট্রাক থেকে পঞ্চান্ন কেজি বস্তা রাইচ পলিস নামাতে গিয়ে উপর থেকে যোগান দিচ্ছিল। ঢক ঢক পানি খেয়ে বোকা হেসে কৈফিয়তের ঢঙে ম্যানেজার ফরিদকে বলে, ‘গারো মাথা পাতলা মাথা।’
ইনসান রস ঝরায়, ‘আগর বাতি বাপের বাতি জ্বালাও।’ মালিকের হুকুম। সন্ধ্যায় আগর বাতি জ্বালাতে হবে। বুড়ো গতকাল ছয় টাকার দুই প্যাকেট দিয়েছিল। ক্লেমেন বস্তার ফাঁকে সবুজ রঙের আগর বাতি গুঁজে দেয়। মার্তুস ভাত রাঁধতে যায়। তারা থাকে আল আমিন পোলট্রিতে।
পরদিন মাঠে স্কাউটদের সামনে মন্ত্রী সাপের মতো জিহ্বা নাচায়। হাজি সফি ফিড সেন্টারে ঢুকেই একপ্রস্থ গালাগালি করে। ঝিনুকের ছেঁড়া বস্তায় হাত ঢুকিয়ে মাল কেমন বুঝতে চায়। এই একশ বস্তা চট্টগ্রামের জহিরের মাল। জহিরের বড় পেট। বেটে রসালো শরীর। চোখগুলো ইঁদুরের। গতকালও এখানে এসেছিল। ঘরজামাই বড় জামাইয়ের মাধ্যমে মালিকের সেভেনে পড়া ছোট মেয়েকে বিছানায় নেওয়ার সুযোগ খুঁজছে। ফরিদ নাক কুঁচকে দেশি ঝিনুকের দুর্গন্ধের কথা জানায়। হাজি বলে, ‘আরে কক্সবাজার, টেকনাফ জহিরের চ্যাঙের তলে। দরকার হইলে আরেক ট্রাক আনুম্নে।’
ম্যানেজার ফরিদের মাথা সাদা হয়ে গেছে রাইস পলিসের ধুলোয়। হাবিব ভাইকে গতকালের প্রতিশ্রুত দশ টাকার জন্য ধরে। হাবিব বলে, ‘আগে আমার মাল বানাতে কও। দিমুনে ট্যাকা।’
ফরিদ বলে, ‘আগে ছাড়েন।’ তার কথা, সবার নরম হাসি, আনিসের চোখকে তীর বানানো, লম্বা ইনসানের ‘টাকা লাগব না’ বলায় বাধ্য হয়ে তামাশার হাবিব দশ টাকা বের করে বলে, ‘ফ্রান্সিস যা ত ভাই, গরম গরম পেয়াজি নিয়ে আয়।’
ওদিকে ফিসফাসের পরে আনিস বস্তা বেচা আশি থেকে বিশ টাকা বের করে দেয়। তা জিলাপি আনতে খরচ হয়। আনিসের জন্য হাকিমপুরী জর্দায় চুন ছাড়া পান আনা হয় না।
স্কাউটের মাঠের শেষ মাথায় স্থাপিত উড়োজাহাজে দোয়েল লেজ দোলায়। টুপি মাথার সংখ্যা বেশি দেখে আনিসের মনে পড়ে আজ শুক্রবার। ইনসান ও ফরিদকে মনে করায়।
মেশিনের জালির কাছে ধুলোবাবু ক্লেমেন। সে কাঠের লাঠিটা দিয়ে ভুট্টা, সয়াবিন, রাইচ পলিস, প্রোটিন, ঝিনুক, ক্রেতার প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ঔষধের মিশ্রণ ঠেলছে গহ্বরের দিকে। ধুলো ও ঝাঁজের ভেতর কোনো এক প্রাচীন মুখ সে দেখতে পায়। ছোটকালে বাবার বলা সেইসব গল্পের মতো বুড়ো সৃষ্টিকর্তা তাতারা-রাবুগাকে ডাকে। সে শান্তি খোঁজে। মনে হয় মাকড়সার জালটা তার মুখের উপর বিছিয়ে দিচ্ছে দেবতা নস্তু-নপাস্তু। সেটা একটা উড়োযান হয়ে গেল। আর সে উড়াল দেয় মনের সুখে। তার মাহারীতে যাচ্ছে। মেশিনের মুখে বস্তা ধরেছে মার্তুস ও রেমেন। তাদেরকেও চড়াল। এবারের আশ্বিনে, ওয়ানগাল্লায় নাচে-গানে খাওয়ার ধুমে খুব উপভোগ করবেÑএ সুখে সে ছু খায়। স্ত্রীর বাড়িতে তাড়াতাড়ি পৌঁছতে চায়। কিন্তু ইনসানের চিৎকার শুনে সে থতমত। সুপারস্টার ভুট্টার বস্তায় হেলান দিয়ে মুখের ভেতর পান নাড়ানোর মতো গান নাড়ে :
রা রা ননো রা
দঃ ফিৎ রিককে দংবরা
অংজাওদে মিগিমিক খে
রাংসান ছাঃ এ গালগেনয়া।
(বোন তুমি তাড়াতাড়ি এস। পাখি না তাড়ালে সব ফসল খেয়ে ফেলবে।)
পনেরো-বিশ হাত উপরে বস্তার স্তূপে মরার ভঙ্গিতে ফ্রান্সিস শুয়েছিল। গান শুনে হেসে ভুট্টার একটা জালি নিয়ে সুপারের মাথায় ছুড়ে মারে। মাথা ঘুরিয়ে সুপার গালি দেয়, ‘নাগমা জোয়া।’ (তোর মারে ...)
ফ্রান্সিস বলে, ‘সুখদং।’ (চুপ কর।)
সুপার লাল দাঁতে ভেংচি কাটে, ‘কিছুং কং খাগান।’ (কথা কম বল।)
ইনসানদের গায়ে মুরগির খাদ্যের গন্ধ। ভেতরে জায়গা পায়নি। বাইরে বারান্দায় রোদের মধ্যে বসে ইমামের দিকে মনোযোগ দেয়। হাঁটুর উপর কনুই, হাত গালে। জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। তাই হুজুর ইব্রাহিম (আ.) এর স্বপ্নের কথা বয়ান করছেন। ছুরিকে আল্লা মানা করে দিয়েছেন ইসমাইলের গলা না কাটার জন্য। ইব্রাহিম (আ.) রাগে ছুড়ে মারলে পাথর কেটে যায়। পাথর অনুযোগ করে সে কী দোষ করল। হুজুর বলেন, ‘আল্লার ওপর কেউ হাত বুলাতে পারবে না।’ ইনসানের অকস্মাৎ হাসি পায়। ফরিদ আঙুল দিয়ে তার কোমরে গুঁতা দেয়।
তিনটা-চারটা হবে। মেডিসিন সেন্টার থেকে খাবার বানানোর মেমো নিয়ে কেউ আসছে না। দরজা উপর থেকে অর্ধেকের বেশি টেনে ভেতরে তারা ঝিমায়। কয়েকজন ঘুমাতে চেষ্টা করে। অসংখ্য মাছি জ্বালাতন করছে। আনিস পেপারে নকরোচ ঢেলে দরজার সামনে রাখে। একটু পানি ছিটায় পেপারে।
ফরিদ বলে, ‘দারোগা নাকি বুঝছে, আসামি কারে মারছে।’
ক্লেমেন ঝিমুনির মধ্যে বুড়ো পাদরির তাড়া খায়। ওয়ানগাল্লার উৎসবে নিজের ভেতর ছেচল্লিশজন হয়ে ছেচল্লিশ নৃত্য করবে। বাবার মতো স্বপ্ন দেখেছিল। তা টুটে যায়। এর মধ্যে কোত্থেকে সুপার এসে আগাছা পরিষ্কার করার ভঙ্গিতে ‘অপিংরাত্তা’ নাচটা নাচে। এ নাচ তার প্রিয়। ফ্রান্সিস ‘নমিল্ পান্থে সালি দিং আ’ গেয়ে কোনো তরুণীকে আকর্ষণের চেষ্টা করে। মার্তুস কোথায়? মহিষকে ঘাস খাওয়ানোর ভঙ্গিতে তখন মার্তুস ‘মাৎমানা জেং অন্না’ নৃত্য করছিল আর তার মরা মহিষের কথা ভেবে বৃক্ষহীন পাহাড়ে দাঁড়িয়ে কাঁদছিল।
ওদিকে এক হাতে যিশুর ছবি, অন্য হাতে টাকা নিয়ে পাদরি ক্লেমেনের বাবাকে প্রভুর ভালোবাসার কথা শোনাচ্ছেন। বুড়ো দৌড়ে দৌড়ে পাহাড়ে কী যেন খোঁজে। হয়তো তার শৈশবের মানেপিল্টোকে (পৃথিবী) খুঁজে পেতে চায়। তার হাহাকারে পাহাড় কেঁপে কেঁপে ওঠে :
সালাম চিং মাপরাং ফিল্লাকরিপ্পেংরাং
ইন্দিরা রাম রাম তামাসা নিফালসান
(সালাম লও যত ভাই-বন্ধু গুণীজন/ যদিও আমরা অতি অভাজন।)
লেহাজ মাল নিতে আসে। আনিস চিৎকার করে, ‘ওরে টমটম আইছে।’
শ্যালো মেশিনে টমটম গাড়ি বানিয়েছে লেহাজ। তার চোখে ধূর্ত মাছরাঙা বাস করে। জিজ্ঞেস করল, ‘নতুন চাকরি করবানি?’
আনিস পান খাওয়া জিহ্বা দেখায়, ‘বাইছা খাওন ঘুমান ফিরি আছেনি?’
খাদ্য লেহাজের টমটমে তোলার পর আনিস সবাইকে বলে, ‘ঝিনুক ভাঙারে। খবর চুদাই দিব আইজ।’ তার চেহারা আধাইরা প্যাঁচাল পারা লোকের মতো। ছোট গাবকষা শরীর। ধূসর কেশভরতি বুকে কয়টা হাড্ডি তা দেখা যেত ক্লেমেনদের মাথায় নব্বই কেজি ভুট্টার বস্তা তুলে দেওয়ার সময়। কখনো সে নিজের মাথায় নেয় না।
লেহাজ কি একটা বলতে গেলে আনিস বাম হাত বাড়ায়, ‘কথা কয়েন না, কথা কইলে জীবন শ্যাষ।’
লেহাজের হাতে স্টার সিগারেট। আনিসের মুখে যেন ছাই ফেলে, ‘কাম না কামের ধুন করছ।’
শুরু হয় দেশি ঝিনুক ভাঙানো। ক্লেমেন মেশিনের গোড়ায়। নরকের ধারণা তার কাছে মিশ্র, তাই আবছা। বেশি ভাবার সুযোগ হয়নি। কাঁচা ঝিনুকের গন্ধ মৌচাকের বিকেলে নাক দিয়ে জল্লাদ হয়ে ঢোকে। নরকের মতো কি সব বানায়। ফরিদ, ইনসান, সুপার রাস্তায় দাঁড়ানো। মুখে জড়ানো ন্যাকড়ায় কাজ হচ্ছে না। আনিস রাস্তায় এসে খোলা হাওয়া টানে।
ক্লেমেন কি সূর্যদেবতা সালজংকে ডাকছে? টেলকি গ্রামে জমির জন্য খুন হওয়া সেন্টু নকরেক, হাত কাটা বিকুল হাদিমা মনের ভেতর পতাকা বানাচ্ছে? গন্ধ যেন খোলা চোখেও ঢুকে গেছে। গন্ধ তাড়াতে সে চলে যেতে চায় তার বাবার মানেপিল্টোর দিকে। প্রথম নারী-পুরুষ শানী ও মুনির জীবনপ্রক্রিয়া চিন্তা করবে। কিন্তু মেশিনের গোড়া থেকে নড়ার উপায় থাকে না।
পল্লী বিদ্যুৎ চলে গেল। হাবিব কোত্থেকে এসে বলে, ‘বাল ফুকায় বইয়া থাক।’ বসে পা নাচায়। আবার চলে যায়।
ক্লেমেন ফরিদকে জানায়, গতকাল সন্ধ্যায় মার্তুস দুয়েকটা লম্বা হওয়া দাড়ি কামাচ্ছিল। নাপিত জিজ্ঞেস করে, কোন ধর্ম? তোমাদের পূজা আছে? এইচ্ছা ওইচ্ছা বক্কর চক্কর অনেক কিছু জিগাইল। তোমরা নাকি মরা মুরগি শুয়র খাও? জানল না, দেখল না, শোনা কথায় টিটকারি মারে। আমিও কইছি, ‘শুনেন, সবকিছু মাপা গেলেও ব্যাঙকে মাপা যায় না।’
পতিতায় আসক্ত হাজির দক্ষতার কথা বলে ইনসান। কোনাবাড়ীর বাধা দুজন মেয়ে আছে। আল আমিন পোলট্রির ম্যানেজারের ঘরে বা অসমাপ্ত তিনতলায় কাজ সারে। হাবিবও এ কাজে ওস্তাদ। ভাই ভাই পোলট্রির রফিক জানায়, মালিকের পুতকে একই ভূতে ধরেছে।
লেটুস এক নম্বর দোকান থেকে ভ্যান চালিয়ে এসে স্টাইল করে নামে। ‘দুই বস্তা রাইস পলিস।’ ইনসানের কানে চিকন সুর ঢুকিয়ে দেয়। বলে, ‘আইয়ের, গোয়া দি মোমবাত্তি বাইর কইরব। বইয়া থাকন দ্যাখাইব।’
ইনসান বলে, ‘তোর গোয়ায় আগরগাছ লাগাই।’
লেটুস চুপি চুপি বলে, ‘মালিক বউ খুঁইজা পায় না।’
‘কথা না কইয়া বস্তা তোল।’
লেটুস হেসে মরা মাছি গোনে।
ক্লেমেন নোয়াখালীতে ছিল অনেকদিন। তীর মারার মতো টানটান কণ্ঠে বলে, ‘চমচ্যা থাকা ভাল। চমচ্যা থাকলেই বুদ্ধি বাড়ে। আগু-পিছু ভাবনা খোলে।’ তাদের নিচু জাত হিসেবে দেখা হয়Ñএ কষ্টে সে গতকাল থেকে পীড়িত।
ক্লেমেন আনিসকে বলে, ‘ঘোড়ার ধুন মালিকের মুখের মতন, চাইয়া দ্যাখ।’ তখন তাবিন পোলট্রির শওকত হাতে দাড়ি আঁচড়ে বলে, ‘মুখে মধু অন্তরে বিষ/ তার নাম আনিস।’
চায়না পাল্লায় উঠে সুপারস্টার নিজেকে মাপে। দুই মাসে বাষট্টি থেকে বায়ান্ন কেজিতে নেমেছে। মার্তুসের কমেছে সাত কেজি। পাল্লায় বসে সুপার গুনগুন করে, রা রা ননো রা। বস্তায় তবলা বাজায়।
‘না নামি দোঙামা?’ (কেমন আছ?) মার্তুস হরেনকে জিজ্ঞেস করে।
‘নামি দোঙামা।’ (ভালো আছি।) হরেন রাস্তা থেকে জবাব দেয়।
ক্লেমেন ফরিদকে বলে, ‘হরেন সাংমা নয়, বংচী। নিচু জাতের গারো।’ তারপর কাঁচা ভুট্টা চিবিয়ে আপনমনে সুর তোলার চেষ্টা করে, ‘মালিক বড় চিটার, চিটার নম্বর ওয়ান।’ বিড়ি ধরায়। স্কাউটের মাঠে লাল-সাদা পতাকায় সূর্য দোলে। গাবের কষের মতো বিকেল। মনে হাহাকার। চালাক শেয়ালের গল্প শুরু করতে চায় ছোটবেলার মজাটা পাওয়ার জন্য। এক পাল শুয়োর টাঙ্গাইল রোড ধরে এগিয়ে যায়। সানাইগাছে প্রচুর ফুল। পুকুরে ফুলের হলুদ ঢেউ। পরশু সন্ধ্যায় পচা পানিতে মরা মোরগ, জঞ্জালের ভেতর মাগুর মাছের তিনটা বাচ্চা ছেড়েছে। মার্তুস তখন কাজলের ক্যাসেট কিনছিল। এখন ক্লেমেন নিজের ওপর বিরক্ত, ‘না, বক্কর চক্কর আর ভালা লাগে না।’
মৌলানা গ্রিলের টুটুল বস্তার ভেতরে ভুট্টার জালি পায়। বাইরে দরজার কোনায় খোলা গ্যাসের চুলায় তা পোড়ায়। পোকা বেছে খেতে খেতে বলে, ‘ভুট্টা ভাঙতে দেরি লাগে না। ভুট্টার গোয়ায় শিক ভরি দিছিলাম।’
ফরিদ চোখ বড় করে বলে, ‘চুর চুট্টা খেজুর গুড়, তিনে মিলে ফরিদপুর। এ্যাই শালার পুত টুটুইল্যা, এমুই আন।’
নতুন মেমো আসে। ফরিদ আনিসকে বলে বলে মাপায়। সবাই মেশিনে তোলে। ইনসান লাল সুইচে টিপ দেয়। গর্জন শুরু হয়। আবার ব্যস্ততা। একটু পর ফরিদ চেয়ারে বসে পত্রিকায় মিরপুর চিড়িয়াখানার জলহস্তি ও অজগরের সমস্যার কথা পড়ে। অজগর দিয়ে বাল্যশিক্ষা পাঠ করে হাসে।
তখন ফ্রান্সিসের কালো ঠোঁটে হাসি, ‘অজগরের চাইর পা, মাথা ঠান্ডা। আমি এ্যাকবার অজগরের মাংস খাইছি।’
আনিস গুই সাপের চামড়া ছোলে। বলে, ‘গুই সাপের পিঠে যত মার ফুলতে থাকব। মাথায় এ্যাকটা মারলে কাম ফিনিশ।’
বেগুন ভাজার ঢেকুর উঠে ক্লেমেনের। মালিক দুপুরে খাওয়ায়। সবাই গোলাকার খেতে বসেছিল তাদের ভাত রান্না করা মধুপুরের চাচির বড় ডেকচির পাশে। খেতে গেলেই ইনসান প্রথমে চাচিকে শুনিয়ে দেবে, ‘টাঙ্গাইল থেকে একটু দূর/ বন্ধুর বাড়ি মধুপুর।’ চাচি যথারীতি বলবে, ‘যা গোলামের ছা, ঢং করিস না।’ অনেক মাছি ওড়ে। আনিস জিজ্ঞেস করে, ‘তোরা কি বইলা খাওন শুরু করস?’
ক্লেমেন আনিসের কথা পান খাওয়া দাঁতে চিরিয়ে ফেলে, ‘কি আর, গোবিন্দ সেবা বলে স্টাট। আমরা ত আর বংচীদের মতো মরা মুরগি খায় না।’
আনিস পানি খাচ্ছিল। চাচি মাড়ির বাড়ি মারে। বলে, ‘দাড়ায় পানি খাইলে ভূতের মুত খায়।’
শিকারি বিড়ালের চোখের তীক্ষèতা ক্লেমেন, ফ্রান্সিস, মার্তুস ও সুপারস্টারের চোখে-মুখে। সফি ওমরা করে হাজি হয়েছে। সৌদি আরবে পানির গাড়ি চালাত। তারা হাজিকে আনিসের একশ পঞ্চাশ গ্রাম মরা মাছির সাথে দোজখের চৌরাস্তা খুঁজতে পাঠায়। সুপারস্টার কঠিন মুখে চিবায়, ‘গোয়া মারা এ্যাকটা জাওরার পোলা।’ মার্তুসের কপালে ঘাম, ‘ট্যাকা দিব না খালি কামে মারব। দুই মাসের ট্যাকা বাকি।’ ফ্রান্সিস নলকূপের হাতলে হাত রেখে দীর্ঘশ্বাস আল আমিন পোলট্রিতে ছড়িয়ে দেয়। ক্লেমেন বিড়ির ধোঁয়া ছেড়ে দাঁত ভাঙে, ‘চালা আমগো মরণ আনব। আমগো গোয়াদি আগুন বাইর করতে চায়।’
পরদিন সকালে সুমাইয়া পোলট্রি মেডিসিন সেন্টারের সামনে মালিক, ম্যানেজার লিয়াকত, হাবিব, আল আমিন ও ফার্মের ম্যানেজার রোদের মাঝে গোলাকার দাঁড়িয়েছে। ক্লেমেনরা নাকি পালিয়েছে। শোনা যাচ্ছে লেটুসও গেছে। ইনসান বলতে চাইল, লেটুসের বউ আর একটা মেয়ে আছে। সে পালায়নি। ময়মনসিংহ গেছে বউয়ের কাছে।
কাল নাকি হরতাল। ‘হরতাল কইরা সিদ্ধি ত পাইল না।’ এ কথা বলে ফরিদ জানায়, হাবিব মধুপুর গেছে নতুন লোক আনতে। পোলট্রি থেকে আলফ্রেডকে আনা হয়েছে। ফরিদকেও হাত লাগাতে হয়। বস্তা তুলে দিতে গেলে তার দাঁত-মুখের অবস্থা দেখে ইনসান লজ্জা পাওয়া নারীর ভঙ্গিতে হাসে।
গতকাল আনিসের মেয়ে হয়েছে। কাঠের তুষ আনতে যাবে। তাকে পাত্তা না দিয়ে হেলাল হাসে দাঁত দেখিয়ে। অর্থাৎ আমার খাদ্য তাড়াতাড়ি বানিয়ে দাও। ফরিদের চোখ দেশি ঝিনুকের দিকে। শুকিয়েও কোনো লাভ হয়নি। এখনো বোটকা গন্ধ।
দেড়শ কেজি ভুট্টা মাপতে মাপতে ইনসান বলে, ‘ভুট্টার দানা গরুর দাঁত।’ তারপর শিসের সুরে গায়, ‘গান আমি গেয়ে যাব এই আসরে। মুখে মুখে রটে যাবে আমাদের প্রেমকাহিনি।’ গানের মাঝে আলফ্রেডকে বলে, ‘ওরে একটা চোদন দিমু।’ কথাটা আনিস শোনেনি। তার কোমরে কামকামিনী গোটা বাঁধা। সে আজ কুছপাড়ার ক্ষিতিশ বংশীর কাছে যাবে মদ খেতে। আনিস আলফ্রেডকে বলে, ‘এ্যাকসময় এসব জায়গা বংশীদের ছিল। হাজির মতো মালিকরা দখল কইরা ফেলছে। মৌচাকে আমার দশ বছর চলছে। প্রথম মৌচাকে আইসা সাঁইত্রিশ দিন চিড়া খেয়ে থাকছি।’
নতুন একটা দল এনেছে ধূর্ত হাবিব। সীমন, আবেল, বাদল ও পিতিশসন সাংমা। দুদিন কাজ করেই তারা মৃতপ্রায়। সীমনই কেবল শক্তিশালী। কারাতে জানে। বস্তা উঠানোর ফাঁকে বাদলের দিকে একটা-দুটা ভঙ্গির দুষ্টুমি করে। বাদলের মুখে সবসময় বিব্রত হাসি। আবেল পাতলা। শখের তোলা আশি তোলাÑকথা বলে বেড়ানোর মতো লোক সে। আর পিতিশসন মরা কাঁঠালগাছ একেবারে। তাদেরকে হালকা কাজের কথা বলে আনা হয়েছে। লোভ দেখিয়েছে। তারা করেছে চাষের ও বাগানের কাজ। বিদ্যাবিল চা বাগানে কাজ করার সময় ডেইলি তেইশ টাকা, জমি চাষ, রেশনে কোনোমতে চলত।
ফরিদ, ইনসান ও আনিস বিরক্ত। কেননা একটা বস্তা উঠাতে পাঁচজনে ধরতে হয়। এদের দিয়ে কাজ চালানো যাবে? তারা মালিকের মগজে লাথি মারতে চায়। ইনসান ফরিদকে বলে, ‘বুঝলেন না, গোয়ার খাওজ ত বেশি। শান্তি নাইরে। অষ্টআশির বন্যার মধ্যে শান্তি ভাইসা গ্যাছে গা।’
মেমো হাতে ফরিদ জিজ্ঞেস করে, ‘আল-আমিনের খবর শুনছ?’
দেহের মতো মুখ লম্বা করে ইনসান, ‘খারাপ কথা কইতে হয়, ট্যাকা বেশি হইলে মাইনষে গোয়ার মইধ্যে চশমা লাগায়।’
দুদিনেই সীমন বুঝে গেছে তাদেরকে দেখলে মালিকের চোখ চুলকায়। বাড়তি হাবিজাবি কাজ করায়। সে দাঁত ভাঙে, ‘চালা নামজা। টাকা দিব আটচ। খাটাইয়া মারব রাত আটটা-নয়টা পরযন্ত।’
ফরিদ সীমনকে এক মাতবরের গল্প বলে। বেঁচে থাকতে মাতবর গ্রামের লোকদের অনেক জ্বালাতন করেছে। মরার আগে সবাইকে ডেকে বলল, আমি ত তোমাদের ওপর অনেক অত্যাচার করেছি। মরার পর শাস্তিস্বরূপ তোমরা আমার গোয়ায় বাঁশ ঢুকাইয়া খাড়া কইরা রাইখ। গ্রামবাসী তাই করল। মাতবর পুলিশের কাছে আগে রেকর্ড রেখে গিয়েছিল। পুলিশ এসে সবাইকে ধরে নিয়ে যায়। ‘দ্যাখেন কেমন ধূর্ত। মরার পরও সবাইকে গোয়া মারল।’
আনিস দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে, ‘গরিবের কফালে সবাই গোয়া মারে।’ কোকিল ড্রাইভারকে দেখে স্বর পাল্টায়, ‘মরা কোকিল তাজা হইছে।’
ফরিদ জোড়া লাগায়, ‘পক্ষী এখন ঘুঘু হইছে।’
কোকিল বলে, ‘টাসকি মারছ ক্যান?’
আনিস পান মুখে দিয়ে গানের সুরে বলে, ‘আমাগো ছুটি কুত্তা বিলাই লই যায়।’
‘গারোগুলান পাতলা হয়া গ্যাছে গা।’ হাসে কোকিল। ক্লেমেনদের কথাই বোঝায়।
‘চুদাত্থুন আইবুনি? বাঙালি মাগনা পেলে আলকাতরা খায়।’ আবেলদের দেখিয়ে তর্জনী নাড়ে, ‘আইজকে ওদের মুখ দিয়া চুদা বাইর হইয়া গ্যাছে গা।’
মন্ত্রীর গাড়ি যাচ্ছে। পুলিশের সাইরেন বাজে। তখন পানের রসভরা মুখে আনিস ক্রোধী, ‘পে পো চোদাও ক্যান?’
হাজি সফি ঘোড়ার মতো হেঁটে এদিকে আসছে। গতকাল ইনসানের পাছায় লাথি মেরেছিল। তাই সে ঝিমন্ত খরগোশের ঢঙে বসে তীর চালায়, ‘খানকির পোলা এখানে ক্যান আহে?’
হাজির মুখে তরবারি, ‘ব্যাক হালার পুতে বইয়া রইছে। কাম করছ না ধুন দেহছ? মুখত লাকরির ঘুষি দিমু শালার পুতহগল। যা কাম কর।’ টেবিলে পা তুলে বসে। সীমনকে বলে, ‘এ্যাই গারো শালার পুত, সাইজ কইরা দিমুনে। বইয়া বইয়া বাল দেহছনি? যা, রাইস পলিসের বস্তা সরা।’
সীমন মেঝেতে পা টেনে বসে গাড়ির গতি দেখছিল। সবার মলিন মুখে চোখ ঘোরায়। পালকিতে চড়েছে সন্ধ্যা। সে লবণের বস্তায় ঘুষি মেরে ওঠে। হাজি নাকের ভেতর আঙুল ঢোকায়। ·
লেখক পরিচিতি : জাহেদ মোতালেব কথাসাহিত্যিক। প্রকাশিত উপন্যাস: ‘রক্তরেখা’, অন্যজন’, ‘ধানশি’। গল্পগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে : ‘খেলাবুড়া’, ‘লাল পা’, ‘বিকেল অথবা বাঘের গল্প’। শিশুসাহিত্যেও তিনি সক্রিয়। বসবাস চট্টগ্রামে।


0 মন্তব্যসমূহ