মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২১

মিউরং শুয়েকেন এর গল্প: একটি দুর্ঘটনা



ভাষান্তর: শতঞ্জিৎ ঘোষ

(প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার রাস্তায় উকিল ওয়েই বিপত্তির সম্মুখীন হন। চীনা ভাষায় মূল গল্পটির লেখক Murong Xuecun. ইংরেজিতে The accident নামে অনুবাদ করেছেন Harvey Thomlinson) 

চোখের কোণ দিয়ে আমি দেখলাম যে মোটর বাইকটা রাস্তায় কাৎ হয়ে খড়খড় শব্দে ঘসতে ঘসতে বেশ খানিকটা দূরে গিয়ে থামল। আর বাইকের চালক যেন হাওয়ায় উড়ে গিয়ে রাস্তার উপরে ধপাস করে পড়লো। তারপর সেখানেই বার দু'য়েক পালটি খেয়ে তবে তার দেহটা স্থির হলো।

ততক্ষণে নিজের গাড়িটাকে আমি সেখানেই রাস্তার উপরে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিলাম। মনে হচ্ছিলো আমার মাথাটা যেন একেবারে ফাঁকা হয়ে গেছে। এদিকে রাত‌ও হয়ে আসছিল, কিছুক্ষণের মধ্যেই অ্যাক্সিডেন্টের জায়গাটার আশে-পাশে ভীড় আর শোরগোল বাড়তে লাগলো। আহত লোকটার হেলমেটের নীচে দিয়ে বসন্তের লাল গোলাপ-রঙা টাটকা রক্ত বেরিয়ে আসছিল। আমি একদৃষ্টে অনেকক্ষণ ধরে তাই দেখছিলাম।

বাইকের চালক নিশ্চল হয়ে রাস্তার উপরেই পড়েছিল। আমি গাড়িতে বসে একমনে ভাবছিলাম, যাই হোক না কেন, লোকটা যেন মারা না যায়! মনে মনে তাকে বলছিলাম, 'তুমি যদি মারা যাও, তাহলে আমাকে প্রচন্ড দুর্ভোগ পোহাতে হবে। আর আমার জন্যে তা হবে মরার বাড়া।' একে তো মদ খেয়ে গাড়ি চালানো, তারপর নিয়ম ভেঙ্গে মাঝ রাস্তায় মোড় নেওয়া! এসব কথা ভাবতে ভাবতে আমি মোটরকার থেকে নেমে লোকটার কাছে গেলাম। ততক্ষণে সে প্রথমে শরীরটাকে চিৎ করে নিয়ে অনেকটা সহজভাবেই উঠে বসেছে। হেলমেটের ভিতর থেকে তার বড়বড়ানি আর গালি দিব্যি শোনা যাচ্ছিল--' শালা! হারামির বাচ্চা! এ রকম করে কেউ গাড়ি চালায়!'

লোকটার মুখে এসব কটুকাটব্য শুনে আমার যে কী আনন্দ হচ্ছিলো তা বলার নয়। আমার, মানে এই আধবুড়ো ওয়েই-এর উদ্দেশ্যে গত সাঁইত্রিশ বছরের জীবনে গোছা- গোছা গালাগাল কিছু কম বর্ষিত হয় নি। কিন্তু এই 'ধুর শালা' গালিটা আমার কানে তখন আসমানী কৃপা-বর্ষণের মতো মধুর ও বরণীয় বলে মনে হয়েছিল। ভাবছিলাম এতো বড়ো অ্যাকসিডেন্টের পর এখনো যদি লোকটার গালি বকার মতো শারীরিক সামর্থ্য থাকে, তাও তো 'শালা' কম আশ্চর্যের কথা নয়!

রাস্তায় পড়ার সময় বাইকটা থেকে সারা রাস্তা জুড়ে ঢ্যাঁড়শ আর সেলারি ছড়িয়ে পড়েছিল। সম্ভবত, লোকটা কোনো গ্রামের চাষী, শহরে সব্জি বিক্রী করতে যাচ্ছিল। যাইহোক্, ততক্ষণে আমার মাথা অনেকটা ঠান্ডা হয়ে এসেছিল, তাই আমি হাত ধরে তাকে দু'এক পা চলতে সাহায্য করলাম। এ পর্যন্ত সব ঠিক ছিল, লোকটা নিজে থেকে সোজা হয়ে দাঁড়াতেও পারলো। কিন্তু তার মুখের দিকে তাকাতেই আমি দেখলাম যে, তখনো সেখান থেকে রক্ত ঝরছে। তা সত্বেও আমি ঠিক করলোাম, এই লোকটার সঙ্গে কোমল ব্যবহার করার দরকার নেই। ভালো ব্যবহার করলো সে সুবিধা চাইতে পারে, কে জানে কতো টাকা চেয়ে বসবে!

বাইক-চালক মাথা থেকে আস্তে আস্তে হেলমেট খুলে ফেলতেই আমি চেঁচিয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, 'তোমার ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে? দেখাও আমায়!' যে মানুষ নিজেই অ্যাকসিডেন্ট করছে তার কখনো এভাবে কথা বলার সাহস হয় না, কিন্তু শুরুতেই প্রবলভাবে চাপ দিয়ে আমি তাকে নতিস্বীকারে বাধ্য করতে চাইছিলাম।

মনে হলো, চাষি লোকটা তখনো মানসিক বিভ্রান্তি কাটিয়ে উঠতে পারে নি। হাত দিয়ে মাথা মোছার চেষ্টা করতে গিয়ে তার হাতে রক্ত লেগে গেল। সেদিকে তাকিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত ভাবে সে আমায় জিজ্ঞাসা করলো, 'আপনার কি করা হয় আজ্ঞে ?' লোকটার বয়স পঞ্চাশের কম হবে না, পরনে তেলচিটে ময়লা জামাপ্যান্ট আর পায়ে হলুদ রঙের একজোড়া রবারের জুতো। তার জামাকাপড় থেকে কীট-নাশকের তীব্র গন্ধ বেরোচ্ছিল। দেখেশুনে মনে হচ্ছিলো, শহুরে জীবনের জটিলতা বিষয়ে এই গেঁয়ো কিষানটার কোনো ধারণাই নেই।

তার প্রশ্নের জবাবে চোখ রাঙিয়ে চড়া সুরে আমি বল্লাম, 'আমি কি করি, সে খবরে তোমার কি দরকার বাপু? আগে দেখাও তোমার ড্রাইভিং লাইসেন্স!'

অনেকক্ষণ ধরে কি উত্তর দেওয়া যায় ভাবার পর লাজুক হেসে সে বললো, ' ইয়ে... সেটা তো আনতে ভুলে গেছি!' দেখলাম, আমার কাছে এটাই সবচেয়ে বড়ো সুযোগ, তাই তার বুকে আঙ্গুল দিয়ে ধাক্কা মেরে বল্লাম, 'আচ্ছা...ভুলে গেছো তাই না, শালা! ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই, আবার পিছন থেকে আমার ঘাড়ের উপরে চড়ার চেষ্টায় ছিলে! ঠিক কিনা? অথচ এতোক্ষণ উল্টে আমাকেই গালাগালি করছিলে, অ্যাঁ!'

চাষি লোকটা মাথা ঝুঁকিয়ে নীচু গলায় বললো, ' আপনিও তো... আপনারও তো গাড়ির আলো জ্বলছিল না, আমি কি করে বুঝবো...'

ঠিক তখন‌ই আমি লক্ষ করলাম ধীরে ধীরে বেশ কিছু মানুষ বাইক- চালকের পিছনে এসে দাঁড়িয়েছে। ভীড় দেখে ভাবলাম, ঝামেলাটাকে আর বাড়তে দেওয়া ঠিক হবে না। কথায় আছে 'হাতি কাদায় পড়লে ব্যাঙেও লাথি মারে।' এই দেহাতি লোকটাকে বরং কিছু টাকা-পয়সা দিয়ে এখানেই ব্যাপারটা মিটিয়ে ফেলা ভালো। এসব ভাবতে ভাবতে আমি তার সঙ্গে মোটর বাইকটাকে দাঁড় করানোর কাজে হাত লাগালাম। আধ বুড়ো চাষি লোকটার মাথা বুকের উপরে ঝুলেই ছিল, অশক্ত ভাবে কয়েক পা চলার পরে সে একেবারে ধপাস করে রাস্তার উপরে পড়ে গেল। আমি অনেকক্ষণ ধরে মাটিতে পড়ে থাকা তার বিস্রস্ত শরীরটাকে নাড়িয়ে, ধাক্কা দিয়ে দেখলাম-- এবারে সে সম্পূর্ণভাবে জ্ঞান হারিয়েছে।

এদিকে ভীড় তো বাড়ছিল‌ই, আমাদের পিছনে একটার পর একটা গাড়ির লাইন‌ও ক্রমশ লম্বা হচ্ছিল। এর‌ই মধ্যে দুর থেকে পুলিশের সাইরেন শোনা গেল। এসব আমার ঠিক সুবিধের মনে হচ্ছিল না, তাই তখন‌ই হু কাওঝিংকে ফোন লাগালাম। ফোন ধরেই হু তার স্বভাব অনুযায়ী কেজো মানুষের মতো দু'একটা প্রশ্ন করে জেনে নিলো- ঘটনাটা কোথায় ঘটেছে, পরিস্থিতি কেমন ইত্যাদি। তারপর বেশ জোর দিয়েই বললো, আমি যেন চিন্তা না করি, সে এখনি সাহায্যের ব্যবস্থা করছে। 

সবে আমাদের কথা শেষ হয়েছে, এমন সময় পুলিশের কয়েকজন সিপাহি এসে হাজির হলো। এদের মধ্যে একজন এগিয়ে এসে আমার কাছে গাড়ির কাগজ-পত্র দেখতে চাইলো। উত্তরে আমি নিচু গলায় বললাম, 'আমি কমিসারের বন্ধু!'

পুলিশের লোকটা আমার দিকে কড়া চোখে তাকিয়ে ধমক দিলো, 'বাজে বকো না তো, গাড়ির কাগজ দেখাও!'

এতক্ষণে আধবুড়ো চাষিটার একটু একটু করে জ্ঞান ফিরে আসছিল। তার শ্বাস-প্রশ্বাসের গভীর আওয়াজ স্পষ্ট শোনা যাচ্ছিলো। মনে হল জড়ানো গলায় সে কিছু বলার চেষ্টা করলো, 'তুমি... না..!' আমার উদ্বেগ ক্রমশ বেড়েই যাচ্ছিলো, ঠিক এমন সময়ে পুলিশের রেডিও বেজে উঠলো। মনে হয় হু কাওঝিং-ই হবে, আর তা যদি হয় তাহলে নিশ্চিত যে ব্যাপারটা সে এবার নিজের হাতে তুলে নিয়েছে। পুলিশের লোকটা ফোনে কথা শুনতে শুনতে তীব্র দৃষ্টিতে একবার আমার দিকে তাকালো, তারপর আড়ালে কথা বলার জন্য আমাদের কাছ থেকে দুরে সরে গেল। মিনিট দু'য়েক পরেই সে ফিরে এলো, কিন্তু ততক্ষণে তার হাবভাব একেবারে বদলে গেছে। কিছু বলা তো দুরের কথা, আমার দিকে সে একবার ফিরেও চাইলো না। সোজা চাষিটার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করলো, 'তো, তুমি পিছন থেকে এর ঘাড়ে চড়ার চেষ্টা করছিলে। তাই তো? চলো, এবার আইডি কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স, পাসপোর্ট সবকিছু বার করো তো দেখি! জলদি !' একথা শুনে দেহাতি মানুষটার চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল, আগে থেকেই তার মুখে ছাপ-ছাপ রক্ত লেগে ছিল, এখন ভয়ে আর উত্তেজনায় সে থরথর করে কেঁপে উঠলো। এতক্ষণ ধরে যা ঘটে চলেছে সে যেন তার কিছুই বুঝে উঠতে পারছিল না। সিপাহিটা তাকে আরো কিছুক্ষণ নানা কথা জিজ্ঞাসা করার পর আমার দিকে ফিরে ফিসফিস করে বললো, 'এডভোকেট ওয়েই, ওকে সবচেয়ে আগে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া দরকার। লোকটা মারাত্মক ভাবে জখম হয়েছে।'

'হা কপাল!' হতাশায় আমার মুখ থেকে কাতর ধ্বনি বেরিয়ে এলো। কিন্তু তখন‌ও আমি ভাবতেই পারিনি যে বাইক-চালক চাষিটা কতো বড়ো বেওকুফ। সে হঠাৎ করে উঠে কাঁপতে কাঁপতে মোটরবাইকের উপরে ভর দিয়ে দাঁড়ালো। তারপর রাস্তা থেকে তরকারির টুকরিটায় সব্জিগুলো কুড়িয়ে তুলতে শুরু করলো। তখন‌ও তার মাথা থেকে শাকের পাতার উপরে এক-আধ ফোঁটা রক্ত চুঁইয়ে পড়ছিল।

আমার সঙ্গে পুলিশের জোয়ানটির সকৌতুক দৃষ্টি বিনিময় হলো। সে বাইক চালককে উঁচু গলায় জিজ্ঞাসা করলো, 'কি হে, শরীরে আর কোনো কষ্ট নেই তো?'

উত্তরে আধবুড়ো চাষি বুকের পাঁজরে হাত বুলিয়ে বললো, 'ব্যথা করে।'

এবারে বেঁটে, ছোটো-খাটো চেহারার দ্বিতীয় সিপাহিটা এগিয়ে এসে তাকে জিজ্ঞাসা করলো, ব্যাপারটা সে মিটিয়ে নিতে চায় কিনা! 'দেখো, তোমার কাছে ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই, তাছাড়া তুমি পিছন ঘেঁষে আসছিলে। দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে, মোটরগাড়িটাকে তুমিই ধাক্কা দিয়েছো। সেক্ষেত্রে দোষ স্বীকার করা ছাড়া তোমার কোনো উপায় নেই, বুঝতে পারছো?' তারপর সে আমার দিকে ফিরে বললো, 'আপনার‌ও দোষ আছে, আপনি লাইট জ্বালাননি কেন?' খুব‌ই বিনম্র গলায় আমি স্বীকার করলাম, যে আমার‌ও দোষ হয়েছে।

এসব শুনে ভয়ে কাঁচুমাচু হয়ে চাষি লোকটা হাত জোড় করে আমার কাছে ক্ষমা চাইতে শুরু করলো, ' ক্ষমা করবেন, আমি সত্যিই দুঃখিত!'

তার কথা শুনে এবার আমার হাসি পেলো, কেননা বুঝেছিলাম যে এতোক্ষণে আমি সত্যি সত্যি অব্যাহতি পেয়েছি। এধরণের ঘটনা কি করে সামলাতে হয় তা পুলিশের এই জোয়ানটি ভালো করেই জানতো। গাড়ির যেখানে ধাক্কা লেগেছিল সেইদিকে আঙুল তুলে জিজ্ঞাসা করলো, 'কারটা ঠিক আছে তো?'

আমি বললাম, 'মেকানিকের গ্যারেজে নিয়ে না গেলে ঠিক বোঝা যাবে না। কিন্তু ডেন্ট মেরামত, পেইন্টিং এসব তো নতুন করেই করাতে হবে, নয় নয় করেও তিন-চার হাজার টাকার ধাক্কা।'

টাকার অংক শুনে গ্রাম্য চাষিটার চোখে-মুখে ভয়ের ছাপ ফুটে উঠলো। বিস্ফারিত দৃষ্টিতে আমাদের দিকে তাকিয়ে সে কয়েকটা দোমড়ানো-মোচড়ানো নোট বার করে দিতে এলো-- দুই কুয়াই, এক কুয়াই আর বেশ কটা মাও নোট। সব মিলিয়ে ১০০ য়ুআন‌ও হবে না। প্রবল মানসিক ক্লেশে তার দু'চোখ থেকে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছিল-' আমার কাছে মোট এই আছে। এতে যদি না হয় আপনারা আমার মোটর সাইকেলটাও নিতে পারেন।'

আমি রেগেমেগে বললাম, 'লোহার ছাঁটের দোকানি ছাড়া ওই ভাঙা বাইক আর কেউ কিনবে না। ও আমি কেন নেবো ?' সিপাহিটা এবার ফিসফিস করে লোকটার সঙ্গে কথা বলতে শুরু করলো। চাষি লোকটা আতঙ্ক আর দুশ্চিন্তায় কেঁপে কেঁপে উঠছিল। অবশেষে সে তার জ্যাকেটের বোতাম খুলে ভিতরের পকেট থেকে প্লাস্টিকের ছোটো একটা ব্যাগ বার করে দিলো। ব্যাগের ভিতরে একটা একশো, চারটে পঞ্চাশ আর তিনটে দশের নোট ছোটো করে মুড়ে রাখা ছিল, সব মিলিয়ে ৩৩০ য়ুআন। চোখের জলে তার গাল ভেসে যাচ্ছিল-- 'এই আছে আমার মোট সঞ্চয়। সার কিনবো বলে রেখেছিলাম। আমার কাছে আর একটা পয়সাও নেই।' আমি তার কাছ থেকে ওই ৩৩০ য়ুআন নিয়ে নিলাম। ততক্ষণে সিপাহিরা মোটর বাইকটাকে রাস্তার একদিকে ঠেলে নিয়ে গেছে। বাইকটা হাতে পেয়ে সেটাকে স্টার্ট করার জন্যে বাইক-চালক অনেকরকম চেষ্টা করলো, কিন্তু বাইক কিছুতেই স্টার্ট হলো না। তখন কোনো উপায় না দেখে, এক হাতে তরকারীর টুকরি নিয়ে অন্য হাতে বাইকটা ঠেলতে ঠেলতে সে হাঁটতে শুরু করলো। তার মুখ বেয়ে এক‌আধ ফোঁটা গাঢ় রক্ত তখন‌ও চুঁইয়ে পড়ছিল। 

আস্তে আস্তে ভিড় পাতলা হতে লাগলো। পুলিশের প্রথম সিপাহিটা মৃদুস্বরে আমাকে পরামর্শ দেওয়ার ঢঙে বললো, 'মদের মাত্রাটা খেয়াল রাখা দরকার; মানে, আমি আগামী দিনের কথা বলছি আর কি!'

'বুঝেছি, বুঝেছি'- আমি বললাম, 'আপনাকে শিগগিরই নেমন্তন্ন করবো একদিন।' পুলিশের লোকটা আমার কথায় সাড়া দিলো না, তার বাঁশিটা একবার জোরে বাজিয়ে এগিয়ে গেল। 

আমিও গাড়িতে উঠে পড়লাম। কার স্টার্ট করে সবে সামনের মোড়টায় পৌঁছেছি, দেখি দেহাতি লোকটা একটা ছোটো ঝোপের নীচে বসে আছে। তার মুখটা চালধোয়া জলের মতো সাদা, পেট চেপে ধরে সে ক্রমাগত কেশে যাচ্ছে। আমরা পরস্পরের দিকে তাকালাম। কিন্তু পরক্ষণেই আমি মুখ ফিরিয়ে নিলাম--যেন কিছুই হয় নি। 'এ বিষয়ে যা করণীয় ছিল ট্রাফিক পুলিশ তা করেছে। সাহায্য করার নামে আমি আবার নতুন ঝামেলায় কেন পড়তে যাই,' -একথা ভেবে আমি এক্সিলারেটরে চাপ দিলাম। 

আপাতত আমার গন্তব্য ফেং শান শহর, যেখানে আমার প্রেমিকা শাও লি উৎকন্ঠিত অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।


----------------
লেখক পরিচিতি
মিউরং শুয়েকেন। 
চীনে জন্ম : ১৯৭৪ সাল। কথাসাহিত্যিক। উপন্যাস : লিভ মি এলোন।
চীনের সাম্প্রতিক সামাজিক বিষয়াবলী নিয়ে তিনি লেখেন। চীনা সরকার কর্তৃক আরোপিত লেখালেখির উপর থেকে সেন্সরশিপের কট্টর সমালোচক 


অনুবাদক পরিচিতি:
শতঞ্জিৎ ঘোষ
অনুবাদক।প্রাবন্ধিক

কলকাতায় থাকেনশৈশব, কৈশোর কেটেছে পশ্চিম বাংলার বীরভূম মুর্শিদাবাদ বর্ধমান জেলার ছোটো ছোটো রেল স্টেশনে। লেখাপড়া আশেপাশে গঞ্জের স্কুল-কলেজে, তারপর বর্ধমান ও গোরখপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্রাচীন ভারতের ইতিহাস ও প্রত্নতত্বের ছাত্র। চাকরি সূত্রে উত্তর প্রদেশের গোরখপুর শহরের বাসিন্দা। এখানেই ডি.এ.ভি. কলেজ থেকে সহযোগী অধ্যাপক/গ্রন্থালয়ী পদ থেকে অবসর প্রাপ্ত। কিছু লেখা, অনুবাদ করা এবং প্রাচীন ইতিহাস ছাড়াও সাহিত্য-পাঠে বিশেষ রুচি।



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন