অন্তর্জলীযাত্রা : সঙ্গ, প্রসঙ্গ, প্রতিসঙ্গ


কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর

অন্তর্জলী যাত্রা’র জীবনগল্প যেভাবে শুরু করলেন কমলকুমার, তাতে মনে হতে পারে আমরা এমন এক কথনরাজ্যে ঢুকছি, যার শুরু ভাগীরথী কিংবা গঙ্গার তীরঘেঁষে—রামকৃষ্ণজী তাঁর খাসকামরায় বসে তা দেখে দেখে শিশুর মতোই হাসছেন; মানুষ কত বড় হতে পারে, মানুষ তার নিজের ভেতর কতভাবে ঈশ্বরত্ব জাহির করে থাকে, তাই পরখ করছেন। এ এক কাব্যময় নান্দনিক প্রকাশ। তবে তাতে মুক্ততার স্পর্শ কতটুকু থাকে তা বিচার্যের দাবিও রাখে। কমলকুমার যে ভাষাটি নিয়েছেন তা হেলায়-ফেলায় বাড়তে থাকা অতি সাধারণ প্রাকৃত কথন নয়; বরং এ এক আলাদা জগৎ যেখানে ভাষার নিজস্ব একটা এ্যারেঞ্জমেন্ট আছে। আমরা সেই জগৎকে দেখি, আলো-হাওয়ার পরশ নিই। আমরা আমাদের ভেতর ঈশ্বরত্ব সৃজনে ব্রতী হই। আমরা ক্রমে ক্রমে তবে অন্তর্জলী যাত্রার মায়াময় জগতে প্রবেশ করতে থাকি।

অন্তর্জলী যাত্রার শুরুটাই অসাধারণ। অন্য এক সৌন্দর্যময় জীবনের হাতছানি দিয়ে যেন সূর্য ওঠছে। আকাশ নীলাভ-ফর্সা হয়ে উঠছে ক্রমশ। আলোয় ভরে দিচ্ছে চারদিক। ক্ষণে-ক্ষণে মানুষের লৌকিক, সনাতন চেতনার ভাবতরঙ্গ, স্বাধীনস্পৃহার ব্যক্তিসংকট অত্যন্ত নিজস্ব ঢঙে ক্রমাগত বলে গেছেন। অন্তর্জলী যাত্রায় যুগপৎ অনেক ক্রিয়া ঘটেছে। এ এমনই এক দৃশ্যকাব্য যেখানে ব্রাহ্মণত্রাসিত সংস্কার যেমন আছে, তেমনি আছে মুক্ত-স্বাধীন জৈবিক ভালোবাসা। কখনও মনে হবে, সংস্কারই জীবন বহন করে, আবার মনে হতে পারে রক্তমাংসের জীবনবাদিতার বাইরে কিছু নেই। এর কাহিনি অতি সামান্য কিছু। এখানে সীতারাম নামের অতি-বৃদ্ধকে সার্বিক সদগতির স্বার্থেই গঙ্গার তীরে নেয়া হয়। পবিত্র পাপমুক্তির আরাধনাস্থল সেই গঙ্গা। সেখানে শ্মশান আছে, আছে বৈজু চণ্ডাল নামের এক শ্মশানচারী। সে যেন চলমান শব, শিবের শৌর্য, ধ্বংস, উচ্ছ্বাস তার রক্তে ঠাঁই নিয়েছে। সীতারাম কতক আয়োজনের ভেতর আত্মার সদ্গতি কামনা করে। তার সাথে তার দুই ছেলে হরেরাম-বলরাম আছে। আছে পূজা-অর্চনার লোকজন, গীত-গাওয়ার লোক, জ্যোতিষী অনন্তহরি, কবিরাজ কৃষ্ণপ্রাণ। 

তথায় লক্ষ্মীনারায়ণ জাতকুল বাঁচানোর জন্য কিশোরী কন্যা যশোবতীকে বৃদ্ধের সঙ্গে বিয়ে দেয়। তাতে ব্রাহ্মণের মান রক্ষা হয়। অনন্তহরির কথিত দোসরসহ সীতারামের জন্য করা গণনাও সঠিক প্রমাণিত হয়! তবে বৈজুনাথ এমন কথিত কাষ্ঠবিবাহ মানতে পারে না। তার অন্তর পোড়ে। যশোবতীকে সে মানুষতায় নিয়ে আসতে চায়। তাকে বাঁচাতে চায়। প্রেম চায়। যশোবতী সংস্কারকে একেবারে ছাড়তে পারে না। সমাজ-ধর্ম-মানুষ তার মায়াকে বন্দি করে রাখে। সীতারাম বুঝতে পারে বৈজু চণ্ডালের সাথে যশোবতীর একধরনের আত্মিক যোগাযোগ হয়ত হয়ে গেছে। তার বউকে সে গালমন্দ করে। একসময় প্রকৃতিই যেন এর সমাধা করে দেয়। গঙ্গাসৃজিত প্লাবনে তারা ভেসে যায়, তবু কোথাও না কোথাও মায়া লেগে থাকে। 

এই হচ্ছে সংস্কারের ভেতর বিরাজ করা চমৎকার এক জৈবিক ভালোবাসার উপাখ্যান। এর মূল চরিত্র কোনটি? লেখকের সবচেয়ে জনপ্রিয় এ উপন্যাসটি নিয়ে প্রশ্নটি নির্দ্বিধায় করা যেতে পারে। কারণ এখানে কোনো একটা ইস্যু আলাদা মর্যাদা নিয়ে আসেনি। সীতারাম চট্টোপাধ্যায় কিংবা তাকে নিয়ে করা ধর্মীয় অনুষ্ঠান গঙ্গাতীরের অন্তর্জলী নয়, যশোবতীর বিয়ে কিংবা সতীদাহের প্রস্তুতি নয়, অথবা নয় শ্মশান ডোম বৈজুনাথের মানবিক ক্রিয়াকলাপ কিংবা কনেবউ’র প্রতি অনুরাগই মূল বিষয় নয়। সবকিছুর পরেও আছে সনাতন ধর্মের সংস্কারকে দৃশ্যত আঘাত করার মানবিক আয়োজন। এ হচ্ছে লেখকের একমাত্র উপন্যাস যেখানে সনাতন ধর্মীয় সংস্কার নিয়েই বেশি কাজ করেছেন। এটি সবচেয়ে বেশি প্রচারও পেয়েছে। এই লেখা নিয়ে ফিল্ম করার জন্যই হোক কিংবা ভাষাশৈলীর জন্যই হোক, অধিকতর পাঠকের নজরে আসতে পেরেছে এটি। কমলকুমার মুখবন্ধেই বলেছেন : এর ভাববিগ্রহ রামকৃষ্ণের আর কাব্যবিগ্রহ রামপ্রসাদের। আমরা জানি যে, রামপ্রসাদ সুলতানী আমলের আর রামকৃষ্ণ অষ্টাদশ শতকের। একজন ভক্তিসঙ্গীতে অন্যজন ভক্তিচর্চায় শিব থেকে উত্থিত মা কালীর ভক্ত। তিনি একেবারে ঘোষণা দিয়ে কেন যে এ দু’জনকে বেছে নিলেন তা বোঝা মুশকিল।

এ উপন্যাসে নিষ্ঠুরতার শেষ নেই। কিশোরী বউকে শুধু নয়, সীতারামের দুই পুত্রের মাঝে চাবি দখল নিয়ে কাইজা-ফ্যাসাদ, বিয়ে পড়ানো নিয়ে ব্রাহ্মণদের অতি-সচেতনতা, সতীদাহের জন্য কিশোরী বউটাকে তৈরি করা—এমন আরো অনেক বিষয় এখানে আছে। তবে কিছু-কিছু ব্যাপারে অবাক হতে হয়। যেভাবে যশোবতীকে সাজগোছ করানো হয়, তাতে যে কারো মনে হতে পারে কমলকুমার কি সতীদাহের ভেতরও সৌন্দর্য খুঁজেন! নাকি এ বিষয়টাকে ভিন্নঘরানার নান্দনিক সৌকর্য হিসেবে প্রয়োগ করলেন কেবল? সীতারামের সঙ্গে যশোবতী যেমন আচরণ করে তাতে মনে হতে পারে বউটি বৃদ্ধকে স্বামী হিসেবে পেয়ে খুবই খুশি। আসলে লেখক সনাতন ধর্মের আচারনিষ্ঠ থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে পারেননি। এসবের প্রতি দৃশ্যত একধরনের পক্ষপাত তাঁর থাকেই, হয়ত একধরনের সংস্কারের বশেই তা তিনি করছেন। যে যশোবতী বৈজু চণ্ডালের কথা শুনে চমকিত; যার হাতটি বেশ সময় নিয়ে ধরে রাখলেও তার খেয়ালই থাকে না; তার হাতেই আবার রাগ করে অত জোরে কামড় বসায় কী করে? 

যশোবতী সম্পর্কে লেখক বারবার কেন পতিগতপ্রাণ, সতী, পতি-ব্যাকুলা ইত্যাদি বলেন তা বোঝা মুশকিল। আরও একটা বিষয়ে অবাক হতে হয়; তিনি সতীদাহ প্রথার বিষয়টা মুখ্য করতেই এ উপন্যাসের সময়কালটা অষ্টাদশ শতাব্দীকেই নিলেন। কিন্তু জীবনের স্বাভাবিক প্রবহমানতা কেন মাঝে-মাঝে পৌরাণিক শৃঙ্খলে আটকে থাকে? উনবিংশ শতাব্দীর প্রতি পৌরাণিক ভাবনাকে তিনি যেন ছাড়তেই চাইলেন না। নাকি তার ভয় এখানে যে এসব করতে গেলে আবার রাজা রামমোহন, ঈশ্বরচন্দ্র, ঠাকুর পরিবার, ব্রাহ্মসমাজ সম্পর্কে বিরূপ কথা চলে আসে? কারণ সতীদাহের মতো জঘন্য প্রথা নিয়ে বিদ্যাসাগরই বেশি কাজ করেন, কাজেই তাদেরকে বাইপাস করার সহজ পথটি হলো অষ্টাদশ শতাব্দীকে প্লট হিসেবে নেয়া।

তবে এ উপন্যাসের বৈজু একটা অসাধারণ চরিত্র। তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে যশোবতীকে কোনো স্বাধীনতাই দেননি কমলকুমার। বড়ো কঠিন বাঁধনে তাকে বেঁধে রাখা হল। ভাষাচিত্র কত ব্যাপক হতে পারে তা অন্তর্জলী যাত্রা পড়লে বোঝা যায়। যেন জাদু মেশানো সবখানে। ডিটেইলের কাজ, মিথ ব্যবহার, জীবনকে দেখার কলাকৌশল—বাংলা উপন্যাস সাহিত্যের এক বিরল নজির। উপন্যাসের একেবারে শেষদিকে জীবনের মায়ামমতা, বেঁচে থাকার ব্যাকুলতা যেভাবে প্রকাশ পায় তাও অপূর্ব। তবে এখানে স্পষ্ট হতে থাকে যে, পাঠজনিত কমলকুমারের সৌন্দর্য, সীমাবদ্ধতা, দেখার কৌশল কারও সঙ্গেই মিলবে না। পাঠক নিজেকে তৈরি না করে তার তৃষ্ণা মেটাতে পারবে না। দীর্ঘ প্রস্তুতি তার প্রয়োজন। ভাষার এমন মায়ামমতা, ধার, জটিলতা-কুটিলতা, বৈদিক শ্বাস-দীর্ঘশ্বাসকে চেনাÑ সবই একধরনের সাধনার বিষয়। তিনি যেন বাংলা কথাসাহিত্যের আরেক চেকপোস্ট; যেখানে অতি সহজে ঢোকা যায় না, নিত্য রিহার্সাল দিয়ে তবে পাঠক নিজেকে তৈরি করতে পারেন। অবশেষে তার লেখার কমা, সেমিকোলন, কোলন, দাড়ি, ড্যাস, হাইফেন, প্যারাগ্রাফও তার হয়ে ওঠে। তিনি যেন পণ করেই নেমেছিলেন ভাষার ল্যাবিরিন্থই সাহিত্যের অন্যতম সৌন্দর্য। তিনি তার অন্তর্জলী যাত্রা বা অন্য কথনশিল্পে ভাষায় চিত্রশিল্প আঁকতে চেয়েছেন। এ তার নিজস্ব ধারার নান্দনিক আয়োজন।

উপন্যাসের গল্পকথা কি নিজেকেই বুনে যাওয়া নয়? আঠারো শতকের আগে তো সাহিত্যশিল্পী বা কথকরা জানতেনই না যে মুখের ভাষা দিয়েও সাহিত্য হয়। তাহলে বাংলা লেখ্য-কথাসাহিত্যের ইতিহাস পদ্যরীতিরই এক্সটেনশন! সেই ভাষাতে ছন্দের বা তালের আধিপত্য থাকাটা কি অসম্ভব? আর সাহিত্যের ভাষার কি আদপেই কোনো সীমারেখা বা বাঁধাধরা নিয়ম-কানুন থাকে? বাংলাভাষার তো নিজস্ব ঘরানার ব্যাকরণই নেই, যা আছে তা সংস্কৃতের দুর্বল ছায়া বৈ কিছু নয়। এই যখন অবস্থা তখন কী করে নির্ণয় করা যাবে যে এই হচ্ছে বামাচারী বা স্বেচ্ছাচারী বাংলা; যা দিয়ে কমলকুমার ভাষা নামক দরবারটিকে অতিশয় কর্দমাক্ত করে দিলেন—এভাবেই কি রায় দেয়া যায়? না, একেবারেই যায় না। হ্যাঁ, এও সত্যি ভাষা দিয়ে যাচ্ছে তাই কিছু করা যায় না। কারণ তার পরিমিতিবোধ আছে, ভাষাশৈলীর আপাত নিয়ম-নীতি আছে। এর বাইরে যাওয়ার একটা যুক্তি নিশ্চয়ই থাকা দরকার। 

এখন এ বিষয়টা দেখা খুবই জরুরি, তিনি আসলে কদ্দুর কী করতে চাইলেন বা ভাষা সহযোগে উন্মাদনা করলেন কিনা? কথাসাহিত্যের জটিল বাক্যবিন্যাসকে শিল্পচৈতন্যের একধরনের মান ধরলে, এর জনক হতে পারেন কমলকুমার মজুমদার। বাংলা কথাসাহিত্যের জটিলতম লেখক হিসেবে অনেকে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সাথে কমলকুমার মজুমদারের নামটিই বলতে চাইবেন। এটা সত্যি তাঁর লেখা পড়তে-পড়তে বোঝার জন্যও মেধাময় অতিরিক্ত পরিচর্চার প্রয়োজন। তিনি যে ৩০টির মতো গল্প আর আটটি উপন্যাস লিখেই কথাসাহিত্যে এমন জটিলতার আয়োজন করলেন—এসব শিল্পের নামে একধরনের স্বেচ্ছাচারিতার ফসল কিনা এমন কথকতাও শোনা যায়। এর জন্য আলাদা কোনো শিল্পসাধনার প্রয়োজন ছিল কিনা বা তার সাহিত্য সাধনা কি শতাব্দি প্রাচীনতার গৌরব নিতে পারবে? নাকি এসব হেয়ালিতে ভরপুর কতিপয় সৃষ্টি-মাত্র! তার ভাষাপ্রতীমে আঠারোশতকে ব্যবহৃত পণ্ডিতকুলের সহজাত ভাষাটিই খানিক ঘষেমেজে, খানিক ফরাসি-আদল দিয়ে, তৎসব-তদ্ভবের ভারী পদবাচ্য ব্যবহার করে আলাদা এক চেহারা সৃজন করেছে। তখনকার পণ্ডিতকুল, যেমন, শিবনাথ শাস্ত্রী, স্বামী সারদানন্দ, স্বামী শুদ্ধানন্দ, বলাই দেবশর্মা, স্বামী বিবেকানন্দ প্রমুখের ভাষার চেহারা কমলকুমারের ভাষায় আছে। তার সৃজনশীলতায় নানান রঙের আশ্রয় তিনি নিয়ে নিয়েছেন। যেন রঙের এক হুলস্থূল মেলা তার কথনশিল্পে দেদীপ্যমান হয়ে আছে। শাদা, কালো, হলুদ ইত্যাদি রং থাকলেও রক্তলাল তার লেখায় আলাদা এক চরিত্ররূপে বিকশিত। যেন রঙের এক প্রকৃতিদশা তার সৃজনে থাকে। তার লাল এমনই রক্তাক্ত যেন তার শরীর থেকে নৃমুণ্ডের রক্তপ্রবাহ বেরুয়। এই যেমন তার অন্তর্জলী যাত্রা’য় গল্পের শুরুতেই আছে লালের আধিক্য, পূর্ণিমা লাল, সিথির সিঁদুর লাল, সীতারামের রক্তে গঙ্গাও রক্তাক্ত হয়। এ যেন কমলকুমারের এক রক্তজ শুদ্ধিঅভিযান! 

তার বাক্য, বিশেষত অন্তর্জলী যাত্রার বাক্য শেষ হয় নিত্য বা পুরাঘটিত অতীতে। কখনও কখনও সমাপিকা ক্রিয়া বাক্যস্থিত অন্য পদে বিলোপ বা ক্ষয় হয়। এ ক্ষয়েও নেশা থাকে, কোথাও না কোথাও মায়া থাকে। তিনি যে ভাষাটা ব্যবহার করেন, তাতে বঙ্কিম থাকে না, থাকে না প্যারীচাঁদ মিত্রের লৌকিক ঢং, যা থাকে তা আর বাংলা গদ্যে নেই। যা নেই তা-ই তিনি আয় করেন। এ গদ্যকে লোকগদ্য বলার লোভ হলেও তা কিন্তু তার সৃজিত ভারী শব্দের জ্বালায় এক স্থলে থাকে না। ফলে যা থাকে, যার ভেতর ক্রমশ প্রবেশ করতে করতে তারই নিজস্ব বলয়ের লোকগদ্য মেলে। তার ভাষার যে প্রাণ, মানে যে প্রাণভোমরা তার স্বাদ নেয়ার সাথে নারিকেলের ভেতরকার সুপেয় জল খাওয়ার মিল হয়ত আছে। সেই রস নিতে গেলে গাছে যেমন আরোহণ করা লাগে, তা অক্ষত অবস্থায় হাতে নেয়া লাগে, ছাল-বাকলা সরিয়ে জল বের করা লাগে; তার গদ্য অনেকটা সেই রকম।

তার উপন্যাসে শিল্পের স্বরূপ কেমন, কোন্ নান্দনিক সৌন্দর্যকে ক্রমান্বয়ে বুনে গেছেন—এটি তাঁর মানসচেতনাকে বোঝার জন্য অপরিহার্য একটা বিষয়। এমনই মনে হয় যে বহুকণ্ঠআশ্রিত শিল্পরূপ এঁকে যাওয়াই তাঁর মৌলচেতনার উৎস। তাঁর গদ্যে স্বতঃস্ফূর্ত নান্দনিকতার আভাস খুবই স্পষ্ট। তবে তাঁর বাক্যের জটিলতম বিন্যাস সেই আয়োজনকে ঝাপসা করে দেয়। বাক্যের হুলস্থূল প্যাঁচগোছ পাঠ-স্বাদুতার প্রধান অন্তরায়। এতেই সহজাত লোকভাবনা ক্রমশ পাঠকের মনোপীড়নের কারণ হয়ে ওঠে। তাঁর ভাবনা প্রকাশের ধারায় শুভ আর সৌন্দর্যের ভেতর আলাদা প্রবাহমানতা থাকে না। ফলে রামকৃষ্ণের লোকায়ত সমাজনিষ্ঠা যত প্রকাশ পায় শিল্পের স্বাধীন বিকাশ ততই রুদ্ধ হয়। তবে এতে যে রামকৃষ্ণীয় ভাবনার সাথে কোনো দ্বন্দ্ব তৈরি হয় না তা কিন্তু বলা যাবে না। উনিশ শতকীয় সনাতন ভাবঘেঁষা লৌকিক ধর্মের সাথে স্বতন্ত্র দ্বন্দ্ব লক্ষ্য করা যায়। মানবিক তৃষ্ণার একটা রূপ কখনও-কখনও তাঁর সৃষ্ট জীবনচিত্রে দেখা গেলেও ধর্মীয় আভিজাত্যময় লৌকিক রূপ ক্ষণে-ক্ষণে জাগরুক থাকে। তাঁর লেখায় উপনিষদও এসেছে, কিন্তু মাইকেল মধুসূদনের সাহস নিয়ে তিনি কখনও তাতে আঘাত করেননি। তাকে কখনও মনে হয় তিনি যেন শ্রী রামকৃষ্ণের সময়ের ধর্ম বিস্তারের পদ্ধতিকেই সমর্থন করেছেন। এটাও তাঁর আরেক সীমাবদ্ধতা।

কমলকুমারের ভাষার প্রকরণ-কৌশলই জটিল এবং তাতে স্বনির্মিত ভাঙচুরও প্রচুর। তিনি বামাচারী গদ্যশৈলীতে বিশ্বাসী! তাঁর সবই মেকি! স্বোপার্জিত বাসনায় তিনি আলাদা ভাষা-ইনস্টিটিউট গড়তে চেয়েছেন? না বোধ হয়, কিংবা তাই হয়ত তার সাধনা। তবে বঙ্কিমের প্রতি তার নেশা থাকলেও তিনি তাঁর মতো করেই প্রতিটি বর্ণ, বাক্য, বাক্যস্থিত শূন্যতা ব্যবহার করেছেন। রবিঠাকুরেরর ব্রাহ্মত্বঘেঁষা ভাষার বিস্তারকে তিনি আলাদা করে দেখার বাসনা রেখেছেন। তা থেকে কমলকুমার নিজেকে আলাদা করেছেন, পরম সৌন্দর্যবিলাসী হয়েছেন, আলাদা এক বাউলিয়ানা, ধুলিধুসরিত জীবনের প্রতি মমতা গড়ে তুলেছেন। তার ভাষা দীর্ঘজীবী হওয়ার আপাতত সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে কি? শ্মশানের তাপে জ্বলে-জ্বলে তার ভাষায় কি মানুষের হাড়গোর মাংস-নাড়িভুঁড়ির পোড়াগন্ধে ঠাসা? তাঁর বিদ্রোহটা আসলে কোন্ জায়গায়? আদৌ কি তিনি কোথাও পৌঁছতে পারলেন? তাঁর ক্রিয়েটিভিটিকে পাঠক কেন অত কষ্ট করে পড়বে? তাঁর ভাষার কি সামাজিক ভিত্তি বা সাহিত্যিক বোধ নেই? তিনি কি এতই স্বেচ্ছাচারি যে তাকে আলাদা মর্যাদা দেয়ার কিচ্ছু নেই? 

বঙ্কিমের কাছে তাঁর ঋণ কতটুকু? নাকি তাঁর সহযাত্রী কেউ নেই? তিনি কি ব্যাকরণহীন ভাষার স্রষ্টা? তিনি অতই নৈরাজ্যের অধিপতি? গদ্যশৈলীর অচেনা আধিপত্য তাহলে পাঠককে বিরক্তই করবে শুধু? তাঁর ভাষা কি স্বয়ম্ভু? তাঁর কি নিজের উপর কোনো কন্ট্রোল নেই? অত বেহিসেবি হয় শিল্পচর্চা? রঙের যে কী অসাধারণ ভাষাজীবীতা থাকতে পারে, তা রবিঠাকুর কিংবা অন্য কারও লেখায় আসেনি। বঙ্কিমও এদিকটাতে তেমন উৎসাহ দেখিয়েছেন বলে মনে হয় না। উপমার এত শক্ত গাঁথুনি, চিত্রকল্পের নিটোল বর্ণনায় হাসান আজিজুল হক ছাড়া তার পর্যায়ে আর তেমন চোখে পড়ে বলে মনে হয় না। কমলকুমারের ভাষা বলে এককথায় কিছুই বোঝানো যাবে না। কারণ শবরীমঙ্গল-এর বর্ণনাধর্মী প্রায় শরৎচন্দ্রীয় ভাষার সাথে পিঞ্জরে বসিয়া শুক বা সুহাসিনীর পমেটমকে এক করে দেখা যায় না। প্রায় সবদিক থেকেই এসব পৃথক। কাজেই কমলকুমারকে বিচার-বিবেচনায় রাখতে হলে প্রত্যেক রচনাকে আলাদা করে বিবেচনা করা উচিত।

তিনি যে স্বরূপকে লালন করতে চান, ব্যক্তির উন্মেষ করতে তা অনেকটাই ভূ-রাজনৈতিক। উনিশ শতকের একটা সোজাসাপ্টা প্রবণতাই হচ্ছে, আমিত্ব দিয়ে নিজের মতটি প্রকাশ করা। যেমন বঙ্কিম করেছেন কৃষ্ণযোগে, রবিঠাকুরের ব্রহ্ম, তেমনি কমলকুমারের আরাধ্য হচ্ছেন রামকৃষ্ণ। এ হচ্ছে নিজের মতকে প্রকাশ করার, ধর্ম-রাজনীতিকে লালন করার একটা পাথেয় মাত্র। তবে কমলকুমার প্রাকৃতজনের বন্দনায় নিজেকে যে জড়িয়ে রাখতে চেয়েছেন এটাই তার শিল্পত্বকে অনেক দৃঢ় করতে পেরেছে। তবে তিনি যে ঈশ্বরদর্শনের ফিলসফি অনুধাবনে ব্যাপকভাবে আস্থাশীল তা মনে করা মুশকিল। তিনি মূলত ঈশ্বররূপী প্রাকৃতজনকেই পূজনীয় বরণীয় করতে সচেষ্ট আছেন—যিনি কার্যত নিজ-সৃজিত জগতের ঈশ্বরত্ব চান! তাই তো তিনি তার বলার ভেতর লৌকিকত্বকেই প্রাধান্য দেন। তিনি যে বৈজুকে দেখেন সে আসলে শিশুর মতোই সরল। তার বাক্যের পরতে পরতে জীবনের ক্লান্তি থাকে, সে নিঃশ্বাস নেয়, নাকি নিশ্বাসই তাকে নেয়—এ প্রশ্ন উদিত হয়। যে মায়া আমরা এখানে দেখি, তা এই সময়ের আমাদের চেনাজানা লৌকিকতার মায়ায় পরিপূর্ণ। তিনি একেবারে সাধারণ-জীবনের ব্যাকুলতায় মানুষকে দেখছেন। এ দেখাটাই কমলকুমারকে শিল্প-সাহিত্যে আলাদা জায়গা করে দিচ্ছে।

তিনি মূলত বিকল্প-সত্য সন্ধান করেছেন, এখনও যেন তাই করে যাচ্ছেন। তার ভেতরে আছে চিরন্তন সজীবতা। আমরা যে উপন্যাস চিনি, মানে ইউরোপতা যেখানে স্পষ্ট হয়ে আছে, তিনি তার থেকে দূরে থেকেছেন। তিনি বাংলা ভাষার একটা উপন্যাস লিখতে চেয়েছেন, মৌলিকত্ব আনতে চেয়েছেন সেখানে। তিনি কিছু মানুষের কথা বলেছেন, সেই মানুষকে তিনি চেনেন, তাদেরকে সাধনা করার মতো কায়দা ও করণকৌশল তার জানা আছে। যার জন্য যে চরিত্র তার আওতাধীন নয়, যে মানুষকে সাধন-ভজন করা যায় না, যদিও তারা বাংলায় কথা বলেন, তিনি তাদের পছন্দসই মানুষ, পাপ-তাপ-সংস্কারের কাছে গেছেন। এটা একধরনের সীমাবদ্ধতা বলে রায় দেয়া যায়, কিন্তু বায়বীয় সত্য তিনি রচনা করেন না। এখানে তার মৌলিকত্ব, এখানেই তার দৃঢ়তা।

তিনি সাহিত্যে, তার শিল্পে, একটা দর্শনের কথা বলছেন। অন্তত অন্তর্জলী যাত্রায় সেই মত প্রকাশ করেছেন। বলা যায়, একধরনের স্বতঃস্ফূর্ত ঘোষণাই তিনি দিয়ে ফেলেছেন। তিনি তার এ সৃজনে রামকৃষ্ণের ভাববিগ্রহের দ্বারস্থ হয়েছেন। তার এ কাণ্ড দেখলে মনে হয় স্বামী বিবেকানন্দ যদি হন রামকৃষ্ণের ভূ-রাজনৈতিক শিষ্য, তিনি তাহলে রামকৃষ্ণের শৈল্পিক এক্সটেনশন। এটা একটা অতি কৌতুহলের বিষয়, দৃশ্যত অক্ষরহীন রামকৃষ্ণের এমনই এক ভাবশিষ্য পাওয়া যাচ্ছে, যিনি তার ভাবপ্রকাশের নিমিত্তে আলাদা একটা ভাষাকৌশলকেই রীতিমতো ধ্যান করতে আছেন। তিনি তার কাজে সদা ভ্রাম্যমাণ আছেন। কারণ তিনি মরহুমত্বকে জয় করতে আছেন। তিনি আমাদের মনমাজারে চলমান সৌন্দর্য জারি রাখেন, তাকে আমরা স্মরণ করি, এমনকি আমরা তা বহন করারও বাসনালিপ্সু হই। 

তিনি তার জীবনদর্শনকে শেষতক কিভাবে দেখেন তা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক হতে পারে। একজন সৃজনকর্তা শুধু একটা জীবনদর্শনকে বহন করতে পারেন না। এই যে তার কথনশিল্প, অন্তর্জলীযাত্রা, তাতে নানান চরিত্র আছে। জীবনদর্শন যদি তার রামকৃষ্ণআশ্রিতই হয়, তাহলে কোন চরিত্র তা বহন করবে? মরণোন্মুখ সীতারাম, লক্ষ্মীনারায়ণ-কন্যা যশোবতী, নাকি বৈজু চাড়াল? তার অপর-সব চরিত্র. বৃদ্ধের দুইপুত্র, হরেরাম, বলরাম, যারা তার পিতাকে গঙ্গার তীরে অন্তর্জলী যাত্রার মতো অনেকটা যেন ‘খতমে সাফা’ ধরনের কিছু করতে আনা পিতার শোকের কষ্টের যাতনার দিকে না তাকিয়ে জাগতিক লোভ-লালসায় মত্ত হয়, তারা কমলের ভাববিগ্রহকে কিভাবে ধারণ করবে? একটা জীবনদর্শন তো সব চরিত্রের জন্যই হয়। কমলের সব-চরিত্র তো লেখক-বাসনা ধারণ করতে পারে না বা তা সম্ভবও নয়। তাহলে কমলকুমার কেন একটা নির্দিষ্ট ভাব নিয়ে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ তো করছেনই, তার পাঠককেও একটা নিয়ন্ত্রণবাদী আচরণে আটকে দিচ্ছেন? শিল্প তো পুলিশ-মোক্তারের বিষয় নয়, সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণে তা চলেও না। তাহলে কেন এ নিয়ন্ত্রণ?

তিনি যেভাবে তাঁর উপন্যাসটি শুরু করলেন, যেভাবে গঙ্গার তীরে মরণোন্মুখ বৃদ্ধকে তার সদগতির জন্য গঙ্গার একেবারে কিনারে আনা হলো, সেখানে শুধুু গঙ্গা বহমান, একটা সময়, সামাজিক-ধর্মীয় ক্রিয়া নয়, মানুষের মুহূর্মুহূ আচরণ সেখানে আছে। ধর্মনির্ভর জীবন সেখানে সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। তাহলে একজন পাঠককে একটা ঘোষণা দিয়ে কেন নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছেন তিনি! এই যে নিয়ন্ত্রণবাদী আচরণ তা তো শিল্পের সহায়ক কিছু হয় না। কমলকুমার নিজেই নিজের প্রতিস্পর্শীও হয়ে ওঠছেন। তবে এটা দৃশ্যমান হয় যে, শেষতক তিনি প্রাকৃতজনকেই যেন দেবতা মানছেন। এই জন্যই হয়ত তিনি রামকৃষ্ণের দ্বারস্থ হচ্ছেন। তার লীলায় পাঠককে অবগাহন করাতে চাইছেন। তবু প্রশ্ন থেকে যায়, যেখানে তিনি নিজেই একটা এলাকা, সময়, ব্যবস্থাপনা বা রাজনীতিতেও থাকতে পারেননি, সেখানে কলির দেবতার কাছে বার বার আরাধনার ব্যবস্থাকে একটা লৌকিক আচরণই হিসাবে দেখা যায় কিনা?

তিনি কি তত্ত্বনির্ভরশীল লেখক? কোনো বাদ প্রচার করছেন? তা একেবারে অগ্রাহ্য করা যায় না। কারণ তিনি রামকৃষ্ণের চরণে নিজেকে সঁপে দেয়ার ঘোষণা রেখেছেন। ঈশ্বরদর্শনের কথা বলেছেন। সর্বোপরি প্রাকৃতজনকে স্মরণ করেছেন। আমার মনে হয়, এ দ্বারা একটা জগতে ঢোকার কায়দা রেখেছেন মাত্র। শেষ পর্যন্ত মানবমায়ায় তার মূল জায়গা। তাকে আমরা সেখানেই খোঁজার ব্যবস্থা রাখতে চাই।

তিনি যে বাংলা কথাসাহিত্যের অপরিহার্য স্বপ্নপ্রতীম তা স্বীকার করে রাখতে হয়। এ নিয়ে আরও কথকতা চালিয়ে যাওয়ার বাসনাও ভ্রাম্যমাণ রাখা দরকার। কারণ তা না করে আমাদের যেন উপায় নেই। নানাজন নানাভাবে তাকে দেখেন। কেউ কেউ তাঁর লেখাকে হেয়ালিপূর্ণ আর উদ্ভট গদ্যশৈলী বলেছেন। সেটা যিনি বলছেন তিনিই তার যথার্থ ব্যাখ্যাও দেবেন হয়ত। কেউ তার সৃজনে তত্ত্বেও রূপ-রস-গন্ধ চাখেন। কিন্তু এটাও বোধ হয় মনে রাখা দরকার, তিনিই ওই লেখক যিনি শুধু অপরকে নন, নিজেকেও উৎরে যেতে পারেন। তাই তিনি করেছেন, অনবরত নিজেকে ভেঙেছেন, ফের ভিন্নমাত্রায় গড়েছেন। কথিত যুক্তি-নিরপেক্ষভাবে সমুদয় সৌন্দর্যকে উপস্থাপনের সম্ভাবনা বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা খুব একটা তৈরি করতে চাননি তিনি। কথিত সত্যম-শিবম-সুন্দরমের নান্দনিক স্পৃহার বাইরে খুব একটা বিচরণও করেননি তিনি। 

তার চৈতন্যে ধর্মীয় চিন্ময়ীরূপ, লোকজ আবহ বিস্তৃত হয়েছে। এসবও স্বতঃস্ফূর্ত নান্দনিক চেতনাকেও সঙ্কুচিত করেছে কেবল। তিনি অনেকটা দার্শনিক-নন্দনতত্ত্ববিদ হেগেলের সৌন্দর্যবিষয়ক ভাববাদী অধ্যাত্মধরনের ভাবনা সহযোগে যেন পৌরাণিক ধারণার পঞ্চভূতের অপার রূপদর্শনের মৌতাতে মেতেছিলেন। ফলে তাঁর সৃষ্ট শিল্পের বিপুল সম্ভাবনা স্বনির্ভর হয়নি। এমনকি তা হয়ত করতে চানওনি। নিজস্ব কায়দার আবেগময়তা কখনও-কখনও প্রচণ্ড দাপট নিয়ে এসেছেন তিনি।

**********

লেখক পরিচিতি : কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর ছিলেন গল্পকার ও প্রাবন্ধিক। জন্ম ১৯৬৩ ইং মামাবাড়িতে। কিশােরগঞ্জের বাজিতপুর থানার সরিষাপুর গ্রামে শৈশব-কৈশাের, যৌবনের প্রাথমিক পর্যায় কাটান তিনি। স্কুল-কলেজের পড়াশােনা করেছেন গ্রাম ও গ্রামঘেঁষা শহরে। চিকিৎসা বিজ্ঞানে একাডেমিক পড়াশােনা করেন চট্টগ্রামে। বিভিন্ন জায়গায় ছােট বা বড়ােকাগজে তিনি নিয়মিত লিখে গেছেন। কথাসাহিত্যের ছােটকাগজ ‘কথা’র সম্পাদনা ছাড়াও প্রকাশিত হয়েছে বেশ কটি গল্পগ্রন্থ। তিনি ৭ মার্চ ২০১৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর এই প্রবন্ধটি প্রকাশিত হয়েছিল ছোটকাগজ ‘সম্প্রীতি’র ‘বিশ শতকের বাংলা উপন্যাস সংখ্যায়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ