অনুবাদ : বনমালী মাল
চাইলে আপনি এখানে এসে বসতে পারেন। যথেষ্ট জায়গা আছে। একজন মানুষের কতটাই-বা জায়গা লাগে? না না, আমার কোনো সমস্যা হবে না। অবশ্য যদি আপনি চান তো চুপ করে থাকতে পারেন। আমি নিজেও চুপ থাকতে পছন্দ করি। মানুষ একইসঙ্গে কথাও বলতে পারে, চুপ করেও থাকতে পারে— একই সময়ে। খুব কম লোকই এটা করতে পারেন। আমি কতকাল থেকে এরকম করে আসছি। না না আপনি পারবেন না। আপনার তো এখন কত কম বয়স! এই বয়সে কথা বলা আর চুপ করে থাকা একসঙ্গে হয় না। আপনি ছোটো পাত্রে পান করছেন যে! ও বোধহয় আপনি এখনও তেমন নেশাড়ু হননি। সেটা আমি আপনাকে প্রথম দেখেই বুঝে নিয়েছিলাম। এই সময় এখানে যারা আসে, তাদের সবাইকেই আমি চিনি। তারা আগে থেকেই নেশায় এত চুর হয়ে থাকে যে আপনি তাদের সঙ্গে কোনো কথাই বলতে পারবেন না। শহরের বাকি পাব যখন বন্ধ হয়ে যায়, কোথাও আর যাওয়ার থাকে না, তখন ওরা শেষ বিয়ারের জন্য এখানে আসে।
কতবার তো আমাকে ওদের ঘর অবধি পৌঁছে দিয়ে আসতে হয়। যদিও পরের দিন ওরা আমাকে চিনতেও পারে না। ভুল বুঝবেন না, আমি আসলে আপনাকে কিছু বলছি না। আপনাকে এই প্রথম এখানে দেখলাম। এই যে আপনি চুপচাপ এখানে এসে বসলেন, এটা আমার মোটেই পছন্দ হয়নি। না না আপনি ঘাবড়াবেন না—আমি আপনাকে আমার মতো হতে বলছি না। আমরা একসঙ্গে বসেও নিজের নিজের বিয়ার খেতে খেতে একলা হয়ে থাকতে পারি। যদিও আমার বয়সে এই একলা হয়ে থাকতে পারাটা খুব কঠিন, কারণ প্রত্যেক বয়স্ক ব্যক্তিই সবসময় একটা ভয়ের মধ্যে থাকে… আসলে কী বলুন তো, ধীরে ধীরে বুড়ো হওয়াটা একটা শিল্প—এটা সবাই পারে না। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে এটা শিখতে হয়।
কী বললেন? আমার বয়স? অনুমান করুন। আরে না না মশাই—আপনি আমাকে খুশি করার চেষ্টা করছেন। যদিও আপনি আমাকে খুশি করেই দিলেন। আচ্ছা এই খুশিতে যদি আমি আরও একটা বিয়ার নিই, আপনার কোনো আপত্তি নেই তো?
আর আপনি? আপনি নেবেন না? না না আমি জোর করব না।
প্রত্যেক মানুষেরই তার নিজের জীবন আর নেশা বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা থাকা উচিত। এই দুটো জিনিসকে আমরা কেবল একবারই বেছে নিতে পারি, তারপর শুধু ওই পছন্দেরই পুনরাবৃত্তি চলতে থাকে। আপনি জন্মান্তরে বিশ্বাস করেন? মানে মৃত্যুর পরেও যে জীবন? আশা করছি, আপনি কোনো ধরাবাঁধা উত্তর দেবেন না—যেমন আপনি কোনো ধর্মেই বিশ্বাস করেন না ইত্যাদি ইত্যাদি। আমি কিন্তু একজন ক্যাথলিক অথচ আপনাদের এই বিশ্বাস আমাকে খুব টানে যে, মৃত্যুর পরেও মানুষ পুরোপুরি মরে না… আমরা প্রথমে একটি জীবন পূর্ণ করি, তারপর আর-একটা—তারপর আর-একটা। প্রায় প্রতিদিন রাতের বেলায় আমি এগুলো ভাবি… জানেন, এই বয়সে সহজে ঘুম আসে না। আসলে ঘুম আনার জন্য একটু অসাবধানতা আর একটু ক্লান্তি চাই—আর যদি আপনার কাছে এই দুটোই না থাকে তো আপনি বিয়ার পান করে পুষিয়ে দিতে পারেন। এই জন্য আমি মাঝরাতে এখানে চলে আসি, বিগত পনেরো বছর ধরে— প্রতিদিন।
অবশ্য আমি একটু আধটু ঘুমাই, কিন্তু ঠিক ওই তিনটার দিকে আমার ঘুম ভেঙে যায়। তারপর আমি আর ঘরে থাকতে পারি না জানেন। রাত ৩টা—একটি ভয়ংকর সময়। আমি আপনাকে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, রাত ২টার সময় আপনার ঘুম ভাঙলে দেখবেন তখনও রাত আছে আর ৪টে বাজলে দেখবেন প্রায় সকাল হয়ে গেছে। কিন্তু ৩টার সময় আপনি না এদিকে না ওদিকে। আমার তো সবসময় মনে হয়, যদি মৃত্যু আসার কোনো সময় থাকে তো এটাই—এই সময়েই।
কী বললেন?
না মশাই, আমি ঘরে একা থাকি না। আপনি নিশ্চই জানেন, পেনশনভোগী মানুষদের আলাদা কিছু সখ থাকে। আমার সঙ্গে একটা বেড়াল থাকে—বছরখানেক আগে থেকে। এই তো দেখুন না, আমি এখানে বিয়ার খেতে খেতে আপনার সঙ্গে লম্বা চওড়া বক্তৃতা দিচ্ছি আর ওদিকে হয়তো ও আমার অপেক্ষায় দরজায় বসে আছে। আপনার কথা বলতে পারব না তবে আমার এটা ভেবে খুব ভালো লাগে যে, কেউ আমার জন্য রাস্তা চেয়ে অপেক্ষা করে আছে।
আমি তো এমন লোকের কথা ভাবতেই পারি না—যার জন্য কেউ অপেক্ষা করে না বা সে নিজে কোনোদিন কারও জন্য অপেক্ষা করেনি। যে-মুহূর্তে আপনি অপেক্ষা করা ছেড়ে দেন—আসলে সেই মুহূর্তে আপনি বাঁচাও ছেড়ে দেন। বেড়াল খুব ধৈর্য ধরে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে পারে। এই ব্যাপারে ওরা মেয়েদের মতো। শুধু এই ব্যাপারে নয়, আকর্ষণ করার ক্ষেত্রেও এরা মেয়েদের মতো। এদের ভেতর একটা ভয় আর মোহ আছে, যেটা দেখে আপনি হতচকিত হয়ে দাঁড়িয়ে পড়েন।
কুকুর বা অন্য প্রাণীর ক্ষেত্রেও এরকম ভয় কাজ করে কিন্তু সেটা অন্য ধরনের ভয়। আপনি একপাশ দিয়ে চলে যাচ্ছেন আর দেখবেন কুকুর অন্যপাশ দিয়ে চলে যাচ্ছে। ওর ভয় লাগতে পারে যে, আপনি হয়তো ওর সঙ্গে বেইমানি করে বসবেন, আবার ও ঝাঁপিয়ে পড়বে এই ভেবে আপনি নিজেকে ভয়ে ভয়ে বাঁচিয়ে চলেন। কিন্তু দেখবেন, এই ভয়ের মধ্যে কোনো রহস্য থাকে না, যেমনটা বেড়াল বা সাপ দেখলে আমাদের হয়ে থাকে।
সত্যি কথা বলতে কি, আমি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, মেয়েদের মতো বেড়ালকেও আপনি শেষপর্যন্ত বুঝে উঠতে পারেন না—এমনকী বছরের পর বছর একসাথে থাকলেও না। এমন নয় যে, ওরা জেনে বুঝে আপনার কাছ থেকে কিছু লুকিয়ে রাখছে বরং উলটে আপনারই এতখানি ক্ষমতা নেই যে আপনি শেষ অবধি ওদের ভেতরের রহস্যটা খুলতে পারবেন। কী অদ্ভুত দেখুন, যে-জিনিসটা রহস্যের মতো আমাদের টানে, যেটার ভেতর একটু ভয় লুকিয়ে আছে—সেটাই কিন্তু আমাদের বেশি টানে… আপনি যদি কিছু মনে না করেন, আমি আর-একটা বিয়ার নিই। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই এই পাবটাও বন্ধ হয়ে যাবে তারপর সকাল হওয়া পর্যন্ত সারা শহরে আপনি আর একফোঁটাও পাবেন না।
আপনি চিন্তা করবেন না… আমি আমার লিমিট জানি… সবসময় একজন মানুষের মাটি থেকে দেড় ইঞ্চি উপরে থাকা উচিত। তার থেকে বেশি নয়, না হলে আবার সে এত উপরে উড়তে থাকবে যে, তার উড়ান গিয়ে শেষ হবে হয় কোনো পুলিশ স্টেশনে নয়তো কোনো নর্দমায়। যেটা মোটেই অভিপ্রেত নয়। কিন্তু কিছু লোক ভয়ে মাটি ছেড়ে উঠতেই চায় না… এইসব লোকের কাছে নেশা করা আর না-করা দুইই সমান। হ্যাঁ, ঠিক বুঝেছেন, পা আর মাটির মধ্যে তফাত থাকবে দু-ইঞ্চির।
একটা মানুষের এরকম হুঁশ অবশ্যই থাকা উচিত যে শেষ অবধি সে যেন একটা দেশলাই কাঠির নিভে যাওয়াটা দেখতে পারে। আগুন যখন আঙুলের ঠিক কাছে আসবে, তখন ওটাকে ছেড়ে দিন। তার আগেও নয়, পরেও নয়। কতক্ষণ ধরে রাখবেন আর কখন ছেড়ে দেবেন, এই নিয়মেই আপনাকে ড্রিংক করতে হবে। মুশকিল এটাই যে আমরা আসলে ততক্ষণ বুঝতে পারি না, যতক্ষণ দেড় ইঞ্চি উপরে না উঠছি। আমরা মাতাল হয়েই তালজ্ঞানের কথা বুঝতে পারি, এই কথাটা শুনে আপনি হয়তো হাসবেন, হাসুন হাসুন, আমি কিছু মনে করব না… কখনো কখনো একটা জিনিস অজানা থাকলেই মনে হয় নিজেকে নিরাপদ রাখতে পারব, এটা আমি নিজেও শেখার চেষ্টা করেছি। ধীরে ধীরে আপনিও শিখে যাবেন, যেমন করে একজন স্বামী তার স্ত্রীর কাছে এরকম একটা থাকার অভ্যাস করে নেয়।
বছরের পর বছর।
একই ঘর।
কিন্তু একটা সংশয় থেকেই যায়, হয়তো দেখা যাবে, সেও আপনার সঙ্গে ওই একই খেলা খেলছে।
কখনো এই সংশয় থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য আপনি দ্বিতীয় বা তৃতীয় স্ত্রীলোকের সঙ্গে প্রেম করেন কিন্তু বুঝতে পারেন তাদেরও আলাদা আলাদা রহস্য আছে। অনেকটা দাবা খেলার মতন। আপনি একটা চাল দেওয়ার পর নিশ্চিন্ত চুপচাপ বসে আছেন আর মনে মনে সুখ পাচ্ছেন কিন্তু আপনি নিজেও জানেন না, আপনার ওই চালের ফলে আপনার বিরোধীর কাছে কত অসংখ্য বিকল্প বেরিয়ে গেল। এক রাউন্ড হেরে যাওয়ার পর আপনি আশা করেন যে দ্বিতীয় রাউন্ডে জিতবেন কিন্তু ভুলে যাবেন না, সেখানেও আপনার জন্য এরকম অন্তহীন রহস্য আর সম্ভাবনা অপেক্ষা করে আছে। দেখুন, আমি বলছি, আপনার জীবনে যত স্ত্রীলোকই আসুক-না-কেন, আসলে কিন্তু আপনি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে একজন স্ত্রীলোকের সাথেই সম্পর্ক রাখছেন। কী বললেন আপনি?
আমি আগেও আপনাকে বলেছি, ঘরে আমি একলাই থাকি, অবশ্য যদি বেড়ালের কথা না ধরেন। হ্যাঁ, আমি বিবাহিত… আমার স্ত্রী আর বেঁচে নেই, এটা আমার অনুমান। কী হল, আপনি চিন্তায় পড়ে গেলেন যে! অনুমান বললাম কারণ আমি যে আমার স্ত্রীকে মরতে দেখিনি! আপনি যখন কাউকে মরতে দেখলেন না, নিজে হাতে তার শেষ কাজ করলেন না, তখন তো আপনাকে অনুমান করতেই হবে যে সে বেঁচে আছে। আপনার হয়তো হাসি পাচ্ছে, কিন্তু আমার মনে হয় যতক্ষণ না আমরা আমাদের পরিচিত জনকে নিজে চোখে মরতে না দেখছি, ততক্ষণ একটা ক্ষীণ আশা থাকে যে সে বেঁচে আছে… আপনি দরজা খুললেন আর সে রান্নাঘর থেকে তোয়ালায় হাত মুছতে মুছতে বেরিয়ে এসে আপনার সামনে দাঁড়াবে। জানি এটা বিভ্রম। বাস্তবে এমনটা হয় না। এখন তার জায়গায় বেড়াল আসে, দরজার পেছনে দাঁড়িয়ে চোখের রং বদলায়। লোককে বলতে শুনেছি, সময় নাকি অনেক কিছু শুষে নেয়… আপনারও কি তাই মনে হয়? আমি ঠিক জানি না তবে আমার মনে হয় ততখানি নয়, যতখানি সে উগরে দেয়… কোনো অন্ধকার কোণে কিংবা চাদরের নীচে সে ঘাপটি মেরে থাকে যাতে সহজে কেউ দেখতে না পায়। কিন্তু তার ঝাপট থেকে বাঁচা মুশকিল। যেকোনো মুহূর্তে সে আপনাকে থাবা মারতে পারে। আমি বোধহয় প্রসঙ্গ থেকে সরে যাচ্ছি, বিয়ার খাওয়ার সুখটা দেখেছেন! আপনি রাস্তা থেকে ছিটকে যাবেন আর-একটা গণ্ডির ভেতর গোল গোল চক্কর কাটবেন। আপনি বাচ্চাদের ওই খেলাটা জানেন তো, গোল মতন দাগ কেটে তার ভেতর বাচ্চারা বসে যায় আর একজন বাচ্চা রুমাল হাতে করে সেই গণ্ডির চারপাশে চক্কর কাটে। আপনাদের ওখানেও এরকম খেলা আছে! বাঃ, দেখুন আমরা যতই আলাদা হই, বাচ্চাদের খেলাগুলো কিন্তু সবজায়গাতে একই। ওই সময়টাতে আমাদের সকলের অবস্থা একইরকম ছিল… আমরা কেউ জানতাম না, কখন কার পেছনে খাঁড়া ঝুলবে। আমরা সবাই শিশুর মতো ভীত মুখ নিয়ে বার বার পেছন ফিরে তাকাতাম… এরকম দিনগুলোতেই এখানে জার্মান এসেছিল। আপনি নিশ্চই ওই সময় খুব ছোটো ছিলেন। আমার বয়সও তখন খুব বেশি ছিল না। যুদ্ধের জন্য সারাদিন জোয়ান ষাঁড়ের মতো লেগে পড়ে থাকতে হত।
একটা বয়সে এসে দেখবেন সব মানুষই গড়পড়তা সুখের মধ্যে বাঁচতে শিখে যায়… তার বাইরে চেয়ে দেখবার অবসরও সে পায় না, অর্থাৎ ততক্ষণ সে ওই পরিস্থিতিকে উপলব্ধি করে উঠতে পারে না, যতক্ষণ না সে নিজে ওর মধ্যে পড়ছে। দেখবেন, প্রায়ই আমরা যাকে সুখ বলি আসলে সেটা কিন্তু সামান্য কিছু মুহূর্তেরই—নিজের মধ্যে হারিয়ে যাওয়া একটা মুহূর্ত। ওই মুহূর্তটা পেরিয়ে গেলে দেখবেন, সবকিছু কেমন ফিকে লাগছে। কিন্তু দুঃখের ব্যাপারটা আলাদা, যন্ত্রণা পাওয়ার কোনো নির্দিষ্ট মুহূর্ত হয় না… আমি বলতে চাইছি, দুর্ঘটনার সময় এই যন্ত্রনাটা আপনি অনুভবই করতে পারবেন না। ঠিক দুর্ঘটনার মুহূর্তে আমরা কেমন হতবুদ্ধি হয়ে যাই। ওই সময় আমাদের কেমন যন্ত্রণা, কেমন কষ্ট পেতে হয়—আমরা খুঁজেই পাই না।
আসলে কি জানেন, কোনো একটি দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়া এক বিষয় আর সেই দুর্ঘটনার ফল সারাজীবন ভোগ করে যাওয়া অন্য বিষয়। আর নিজেকে বার বার অন্যের পরিস্থিতিতে রেখে তার কষ্টে সমব্যথী হওয়া অসম্ভব ব্যাপার। হয় আপনি তার থেকে বেশি কষ্ট পাবেন নয়তো কম—তার সমান যন্ত্রণা আপনি পেতে পারবেন না। না না, আপনি ভুল বুঝবেন না যেন, আমি কিন্তু নিজের চোখে আমার স্ত্রীকে কষ্ট পেতে দেখিনি।
আমি যখন ঘরে পৌঁছলাম, তখন তারা তাকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল। আমাদের সাত বছরের বিবাহিত জীবনে সেই প্রথমবার আমি খালি ঘরে পা রেখেছিলাম। বেড়াল? না মশাই, তখনও ও আমাদের বাড়িতে আসেনি। আমি ওকে অনেক বছর পর পালতে শুরু করি।
প্রতিবেশীরা তাদের জানালা থেকে আমাকে উঁকি দিয়ে দেখছিল। অবশ্য এটা হওয়ারই ছিল কারণ প্রতিবেশী কিংবা তার কোনো পরিজনকে গেস্টাপো পুলিশ তার গাড়িতে তুললে আমিও এরকম জানালা থেকে উঁকি মারতাম। কিন্তু আমি ভাবতেও পারতাম না কোনো দিন আমার নিজের সঙ্গেও এরকম হবে, আমি বাড়ি ফিরব আর দেখব আমার স্ত্রীর ঘর খালি পড়ে।
আচ্ছা একটা অবাক ব্যাপার দেখুন, যখন আপনি কোনো মৃত্যু বা দুর্ঘটনার কথা শোনেন বা সকালের খবরের কাগজে পড়েন, তখন কিন্তু একবারও মনে হয় না যে এটা কখনো আমাদের সঙ্গে ঘটতে পারে, সবসময় মনে হয় এই খবরটা অন্যের জন্য ছিল… এই তো আমি খুব খুশি হলাম যে আপনি একটা বিয়ার নিচ্ছেন। খালি গ্লাসের সামনে সারারাত বসে থাকা মুশকিল… কী বললেন আপনি? হুঁ হুঁ আমি জানতাম আপনি এটা জিজ্ঞেস করবেন। বরং জানতে না চাইলেই অবাক হতাম।
না মশায়, প্রথম দিকে আমি নিজেই কিছু বুঝতে পারিনি। বললাম না, এরকম পরিস্থিতির সামনে মানুষ হতচকিত হয়ে যায়। অবস্থাটাই বুঝে উঠতে পারে না। আমার স্ত্রীর জিনিসপত্রগুলো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে ছিল… কাপড় বই কতদিনের পুরানো সব খবরের কাগজ। টেবিল আলমারির দেরাজ খোলা ছিল আর যত জিনিস সব মেঝের ফরাসের ওপর এদিক সেদিক পড়ে ছিল। ক্রিসমাস গিফ্ট সেলাই মেশিন পুরানো ফোটো অ্যালবাম, আপনি তো জানেন, বিয়ের পর এমনিই কত কত জিনিস ঘরে জড়ো হয়ে যায়। মনে হয় ওরা সবকিছু খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছিল, ছোটো ছোটো জিনিসগুলোও, এমন কিছু ছিল না যাতে তাদের হাত পড়েনি। ওই রাত্রে আমি নিজের ঘরে বিহ্বল বসে ছিলাম। স্ত্রীর বিছানাটা খালি পড়ে ছিল। বালিশের নীচে রাখা ছিল তার রুমাল দেশলাই আর সিগারেটের প্যাকেট। শোওয়ার আগে ও প্রায়ই সিগারেট খেত। প্রথম প্রথম আমার অস্বস্তি হত কিন্তু পরে পরে সয়ে গিয়েছিল।
খাটের পাশে তেপায়ার ওপর তার একটা বই রাখা ছিল, যেটা ওই সময় ও পড়ত… আগের রাতে বইটা যেখান অবধি পড়ে ছিল, সেখানে একটা ক্লিপও গুঁজে রেখেছিল। ক্লিপটাতে তার চুলের গন্ধ ভরে ছিল… জানেন তো কত বছর পরেও কিছু স্মৃতি আমাদের মনে থেকে যায়। বিয়ের আগে আমরা মূলত গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা ভাবি কিন্তু বিয়ের পরে অনেক অনেক বছর একসঙ্গে থাকার ফলে এইসব বড়ো বড়ো ভাবনাচিন্তা কোথায় পিছলে যায়। থেকে যায় শুধু সামান্য কিছু অভ্যাস, নিত্যদিনের রুটিন আর নিজেদের মধ্যেকার খুনসুটি, যেগুলো আমরা কাউকে কোনোদিন বলতে পারি না অথচ সেগুলো বাদ দিয়ে জীবনও চলে না। ওই রাতে স্ত্রীর জিনিসগুলোর মাঝে আমি একা বসেছিলাম, হয়তো নিজের মধ্যে ছিলাম না। ও নিজের কামরায় ছিল না, এটা কেবল একটা সাধারণ সত্যি ছাড়া আর কিছুই নয়। আমি ওর অবস্থাটা অনুমান করতে পারছিলাম কিন্তু ওরা কেন যে আমার স্ত্রীকেই নিয়ে গেল—সেটা আমার বোধ বুদ্ধির বাইরে ছিল।
আমি ওই রাতে বার বার নিজেকে জিজ্ঞেস করেছি, আমার স্ত্রীই কেন? আপনি হয়তো আশ্চর্য হবেন, আমাদের সাত বছরের বিবাহিত জীবনে সেই প্রথম আমার স্ত্রীর প্রতি সন্দেহ হয়েছিল… যেন সে কতকিছু আমার কাছ থেকে লুকিয়ে রেখেছিল, অথচ আমি কিছুই জানতে পারিনি। পরে জানতে পারি, গেস্টাপো পুলিশ অনেকদিন থেকেই ওকে নজরে রেখেছিল। তখনকার দিনে গোপনে লোকের মধ্যে বিলি করা হত এমন কিছু অবৈধ পুস্তিকা আর চিরকুট পাওয়া গিয়েছিল ওর কাছ থেকে। জার্মান আধিকারিকদের কাছে এটা খুব বড়ো অপরাধ ছিল। তারা নিজে আমার স্ত্রীর কামরা থেকে ওইসব খুঁজে উদ্ধার করেছে… আপনার হয়তো হাসি পাবে যে এসবের ব্যাপারে আমি নিজে কিছুই জানতাম না। ওই রাতের আগে পর্যন্ত আমরা এক কামরায় শুয়েছি, প্রেম করেছি অথচ ওই একই কামরায় আরও এত কিছু রহস্য ছিল আমিই জানতে পারিনি। আচ্ছা এটা ভেবে আপনার অবাক লাগছে না যে আমার থেকে বরং ওরা আমার স্ত্রীকে বেশি চিনত। একটু দাঁড়ান, আমি গ্লাসটা শেষ করে নিই, তারপর আপনার সাথ দিচ্ছি। একটু পরেই তো এরা বন্ধ করে দেবে, না না, এক্ষুণি নয়। ধীরে ধীরে পান করার মজাটাই আলাদা। এক-শো বছর… আপনার মনে হয় না এটা খুব লম্বা একটা সময়? আমাদের মধ্যে কেউ এত বছর বাঁচতে পারবে কি না আমার সন্দেহ আছে। একটা লোক বেঁচে আছে, খাওয়া দাওয়া করছে আর একদিন হঠাৎ শেষ! না না, মানুষের মরে যাওয়াটা কোনো অসুবিধের নয়। সমস্যা হয় যে, মৃত মানুষটা তার সঙ্গে তার সমস্ত রহস্যও সঙ্গে নিয়ে যায়। যেন আমাদের থেকে পুরোপুরি মুক্তি পেয়ে গেল। ওই রাতে আমি ঘরটায় এদিক সেদিক পায়চারি করি… আপনার হয়তো হাসি পাবে, ওইদিন পুলিশ যাওয়ার পর আমি দ্বিতীয় ব্যক্তি ছিলাম যে আমার স্ত্রীর জিনিসগুলোর তল্লাশি করছিলাম… একটা একটা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে তালাশ করছিলাম। আমি একবারও বিশ্বাস করতে পারিনি জানেন, তার এমন কিছু আমি পেলাম না, যেটাতে আমার কোনো ভাগ বা অবদান ছিল। ওর বিয়ের পোশাক, ড্রেসিং টেবিলের দরাজে রাখা কিছু চিঠি, যেগুলো আমি বিয়ের আগে ওকে লিখেছিলাম, তার জমানো কিছু পালক আর পাথর… সাত বছর একসঙ্গে থাকার পর আমিই এমনভাবে তার জিনিসগুলো ঘাঁটছিলাম, যেন আমি তার স্বামী নই, কোনো পুলিশ বা গোয়েন্দা ধরনের কেউ… এটাও বিশ্বাস হচ্ছিল না যে আমি তাকে আর কোনোদিন কিছু জিজ্ঞাসাও করতে পারব না। কারণ, আমি জানতাম যে ওদের হাত থেকে ও আর কোনোদিন রেহাই পাবে না।
ওরা যাকে যাকে তুলে নিয়ে গেছে, তাদের কাউকে আমি কোনোদিন ফিরে আসতে দেখিনি, জানেন। সত্যি বলছি ওই রাতে ও মৃত্যুর এত কাছে ছিল বলে আমি ভয় পাইনি, ভয় পাচ্ছিলাম যে আমি ওকে কোনোদিন ঠিকভাবে জানতেই পারলাম না। মৃত্যু চিরদিন এই রহস্যে একটা তালা লাগিয়ে চলে যাবে আর আমি কোনোদিন কোনো সূত্র দিয়ে ওই তালাটা খুলতেই পারব না।
দ্বিতীয় রাতে ওরা আমার কাছে আসে। আমি অবশ্য জানতাম ওরা আসবে। আমার স্ত্রী যদি ওদের কাছে সবকিছু স্বীকার করে নিত, তাহলে ওদের আর আমাকে দরকার পড়ত না। কিন্তু আমি জানতাম ও নিজের মুখে একটা কথাও বলবে না। আমি এতদিন ওর রহস্য বুঝতে পারিনি ঠিকই কিন্তু অভ্যাস ঠিকই জানতাম। যত ভয়ানক যন্ত্রণা হোক, ও মুখ খুলবে না। না না আমি ওর যন্ত্রণা দেখিনি কিন্তু অনুমান করতে পারছি।
ওদের প্রথম প্রশ্নটা একদম পরিষ্কার ছিল, আমিই কি শ্রীমতি অমুকের স্বামী? আমি “হ্যাঁ” ছাড়া আর কী উত্তর দিতাম এই প্রশ্নের? আর বাকি প্রশ্নগুলো সব আমার বোধ-বুদ্ধির বাইরে। কিন্তু ওরা আমাকে সহজে ছাড়লও না। আমি যখন বললাম যে, আমার স্ত্রীর এইসব কাজের ব্যাপারে আমি কিছুই জানতাম না, ওরা হাসতে লাগল জানেন, ওরা ভাবল, আমি বোধ হয় নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছি। একটা আলাদা সেল-এ আমাকে নিয়ে গেল। পুরো সপ্তাহটা ধরে রাত-দিন ওরা আলাদা আলাদা ঢঙে একই প্রশ্ন করে যেতে লাগল… আমার স্ত্রীর ব্যাপারে আমি কী কী জানি? সে কোথায় যেত? কার কার সাথে যোগাযোগ রাখত? কে তাকে লিফলেট দিত… এইসব। একটা কিছু সূত্র পেতে তারা যে কী কী অত্যাচার করত, আমি আপনাকে বলতেও পারব না। যত খুঁটিয়েই বলি, আপনি অনুমানও করতে পারবেন না… ওরা আমাকে ততক্ষণ মারত যতক্ষণ না আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলতাম। আবার ওদের ধৈর্যও ছিল ভীষণ, ওরা আমার জ্ঞান ফেরার প্রতীক্ষা করত। জ্ঞান ফিরলেই আবার সেই এক পুরানো প্রশ্ন আর অন্তহীন যন্ত্রণা।
তাদের বিশ্বাসই হচ্ছিল না, আমি, যে কিনা নিজের স্ত্রীর সঙ্গে এতগুলো বছর এক ঘরে কাটিয়েছি, আমি কেন তার কাজকর্মের ব্যাপারে জানব না? ওরা ভাবছে, আমি ওদের বোকা বানাচ্ছি। ওদের চোখে ধুলো দেওয়ার চেষ্টা করছি। না মশায়, ওরা আমাকে মারত বলে আমার কষ্ট হত না, আমার কাছে দেওয়ার মতো কোনো উত্তর ছিল না বলেই আমার কষ্ট হত। প্রত্যেক স্বামী স্ত্রী যেমন সাধারণ কিছু ঘরোয়া কথাবার্তা বলে, সেরকম ছাড়া আমার কাছে বলার মতো আর কিছুই ছিল না। আমি কখনো কল্পনাও করতে পারিনি যে ও আমার সঙ্গে প্রতিদিনের জীবনের পাশাপাশি আর-একটা জীবন কাটাচ্ছিল, আমার থেকে আলাদা।
আচ্ছা এই ব্যাপারটা ভেবে আপনার হাসি পাচ্ছে না যে আমার স্ত্রী যদি কোনোদিন ওদের হাতে ধরা না পড়ত, আমি কিছু জানতেই পারতাম না। ভাবতাম, আমি যেমন জানি, আমার স্ত্রী তেমনই।
জানেন, সেটা যুদ্ধের শেষ দিন ছিল আর গেস্টাপো তার শিকারকে সহজে হাতছাড়া করত না… আমার স্ত্রী শেষ পর্যন্ত কিছুই স্বীকার করেনি বলে তারা হাল ছেড়ে দিয়েছিল কিন্তু আমাকে কাঁচা ভেবেছিল। হয়তো আমাকে জানে মেরে ফেলতে চায়নি কিন্তু বাঁচিয়ে রেখে একটা মানুষকে যতটা কষ্ট দেওয়া যায়, দিয়েছিল। যতক্ষণ না ওরা ক্লান্ত হয়ে যেত বা আমি বেহুঁশ হয়ে পড়তাম ততক্ষণ ওরা থামত না। আমি কিছু স্বীকার করিনি মানে এই নয় যে আমি সাহসী ছিলাম। আসলে আমার কাছে স্বীকার করবার মতো কিছু ছিল না।
আপনি জানেন না, প্রথম রাতে যখন আমি আমার স্ত্রীকে ঘরে পেলাম না, তখন আমার খুব কষ্ট হচ্ছিল। ও আমার সঙ্গে এরকম ছলনা করল! আমাকেও বিশ্বাস করে কিছু বলা গেল না! কিন্তু গেস্টাপোর অত্যাচার দেখে বার বার স্ত্রীকে ধন্যবাদ দিয়েছি। ভাগ্যিস সে আমাকে কিছু বলেনি। একপ্রকার আমাকে বাঁচিয়েই দিয়েছে।
আমি আজও বুঝতে পারি না জানেন, যদি আমি আমার স্ত্রীর ব্যাপারে সবকিছু জানতাম, তাহলেও কি এরকম চুপ করে থাকতে পারতাম? একবার ভাবুন, আমার কাছে যদি স্বীকার করার মতো কিছু থাকত, আমি কি এত যন্ত্রণা মুখ বুজে সহ্য করতে পারতাম! বাধ্য হয়ে যন্ত্রণা সহ্য করা একরকম কিন্তু আপনি যদি জানেন যে এই চরম যন্ত্রণা থেকে মুক্ত হওয়ার উপায় আপনার জানা আছে, তাহলে কিন্তু আপনি আপনার স্ত্রী পিতা ভাইয়ের সঙ্গেও যেকোনো সময় বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারেন। পছন্দ করবার স্বাধীনতা থাকলে বরং বেশি কষ্ট পেতাম আর আমার মনে হয় এই জন্যই আমার স্ত্রী আমার কাছ থেকে এতকিছু লুকিয়ে রেখেছিল… দেখুন লোকে বলে না যে প্রেম ভালোবাসার মধ্যে কখনো কিছু লুকিয়ে রাখা উচিত নয়, সম্পর্কটা আয়নার মতো পরিষ্কার হওয়া উচিত। ভুল।
আমার তো মনে হয় প্রেম করার অর্থ নিজেকে প্রকাশ করা নয় বরং লুকিয়ে রাখা। লুকিয়ে রাখলে তবেই নিজের ভাবনাচিন্তা থেকে তাকে মুক্ত রাখতে পারব… এই কথাটা প্রত্যেক স্ত্রী কিন্তু খুব ভালোই বোঝে। যেহেতু স্ত্রীলোকের ভালোবাসার ক্ষমতা অনেক বেশি, সেহেতু তারা নিজেকে গোপন রাখতে ভালোই পারে।
আপনার কী মনে হয়? হতে পারে আমিই হয়তো ভুল… কিন্তু রাতের পর রাত যখন ঘুম আসে না, আমি এটা ভেবে অন্তত একটু নিশ্চিন্ত হই যে… ছাড়ুন বাদ দিন, আমি আপনাকে বোঝাতে পারব না। আমি কিছু বোঝাতে পারব বলে এই টেবিলে আপনাকে ডাকিনি। কী বললেন, নাহ্ মশাই… আমি আমার স্ত্রীকে আর কোনোদিন দেখিনি। একদিন দুপুরে আমার নজর একটা পোস্টারে গিয়ে পড়ল জানেন…
তখন প্রতি তিন চার দিন অন্তর শহরের দেয়ালে দেয়ালে পোস্টার পড়ত, তাতে এমন তিরিশ চল্লিশ জনের নাম থাকত, যাদেরকে আগের রাতে ওরা গুলি করেছে… একদিন যখন ওই পোস্টারে আমি আমার স্ত্রীর নাম দেখলাম… কিছুক্ষণের জন্য থ মেরে দাঁড়িয়ে রইলাম। ভাবলাম, এই ছোটো নামটার পেছনেই হয়তো আমার স্ত্রীর মুখটা লুকিয়ে আছে… বললাম না, যতক্ষণ আপনি নিজে চোখে কাউকে মরতে না দেখছেন, ততক্ষণ একটা ক্ষীণ আশা বেঁচে থাকে যে আপনি দরজা খুলবেন আর… এই দেখুন আমি একই কথা বলে যাচ্ছি। বিয়ার নেওয়ার সুখটা দেখেছেন, আপনি একই সীমানার ভেতর ঘোরাফেরা করতে থাকবেন… রাউন্ড অ্যান্ড রাউন্ড অ্যান্ড রাউন্ড।
আপনি উঠছেন? একটু দাঁড়ান… বেড়ালটার জন্য একটু সলামি কিনে নিই… এই সময়েও বেচারি ভুখ তেষ্টায় আমার পথ চেয়ে বসে থাকবে। না না আপনাকে আমার সাথে আসতে হবে না। আমার ঘর বেশি দূরে নয় আর তাছাড়া আমি আমার পান করার সীমা জানি। ওইযে আপনাকে বললাম না… কেবল দেড় ইঞ্চি উপরে।
**********
লেখক ও অনুবাদকের পরিচিতি : হিন্দি কথাসাহিত্যে নতুন ধারা প্রবর্তনের ক্ষেত্রে নির্মল বর্মা (১৯২৯-২০০৫) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। শুধু টেকনিকের দিক থেকেই নয়—তাঁর সাহিত্যে বাস্তবকে দেখার ভঙ্গি বা মনস্তত্ত্বকে প্রকাশ করার অভিনবত্ব প্রশংসার দাবি রাখে। নিঃসঙ্গতা, মানবিক সম্পর্ক এইসব ব্যক্তিগত অনুভূতি যেমন আছে তেমনি তাঁর সাহিত্যে রাষ্ট্র এবং গণতান্ত্রিক বাস্তবের সেই সূক্ষ্মতাটুকুর প্রকাশ আছে—যা পঞ্চাশ পরবর্তী একজন ভারতীয় সাহিত্যিকের মধ্যে থাকা উচিত। ‘কব্বে অউর কালাপানি’, ‘বিচ বহস মেঁ’, ‘লাল টিন কী ছত’, ‘এক চিথড়া সুখ’ তাঁর গ্রন্থগুলির মধ্যে অন্যতম। ‘সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার’, ‘জ্ঞানপীঠ পুরস্কার’ পাওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিকের স্বনির্বাচিত ‘মেরি প্রিয় কাহানিয়াঁ’ হিন্দি সংকলনটি থেকে ‘দেড় ইঞ্চ উপর’ গল্পটি অনুবাদ করা হয়েছে।
অপরদিকে, বনমালী মাল ১৯৯০ সালে ভারতবর্ষের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। মূলত গল্প এবং উপন্যাস লেখেন। এযাবৎ প্রকাশিত হয়েছে ‘সোনার বলদ কিংবা সবুজ সুখ’ এবং ‘বিরহান’ নামের দুটি গল্পের বই এবং ‘দুটি উপন্যাস’ নামের দুটি উপন্যাসিকার সংকলন। পাশাপশি তিনি হিন্দি গল্প এবং উপন্যাস অনুবাদের কাজ করেন।

0 মন্তব্যসমূহ