শনিবার, ১৫ এপ্রিল, ২০১৭

প্রেম, অপ্রেম আলবেয়ার কামু

চিরন্তন সরকার

১. এক লক্ষ বছর সঙ্গে থাকার পর সাব্যস্ত হবে, তুমি আমার কিনা 
এখন ওসব কথা থাক।’----মণীন্দ্র গুপ্ত

কেন প্রেমের গভীরে বাসা বেঁধে আছে সুতীব্র অপ্রেম, কেন বিপুল জলের সামনে মৃত্যুপথগামী মনে হয় নিজেকে, কেন চরাচর-ভেসে-যাওয়া জ্যোৎস্না শুধুই আত্মনাশী চিন্তার উত্থান, এক টুকরো বিষন্নতায় ঘেরা থাকে আকাঙ্ক্ষার চরম নির্বাপণ, শৈশবের নির্জনতা শাসন করে জীবনের শ্রেষ্ঠতম মুহুর্তটিকেও, কেন স্তোকবাক্যগুলি হাঁটুভাঙা অন্ধ ভিখিরি, শিরীষের ডালপালা লেগে থাকা বিকেলের মেঘে করুণ হয়ে ওঠে ঝাউবন, কেন কুয়াশাবৃত বাকশূন্য তমিস্রায় বাঁশির তীক্ষ্ণ সুর হৃদয়ে তুলেছিল অলৌকিক আতঙ্কের ঢেউ -- এইসব প্রশ্ন, উদ্বেগ, স্মৃতি আমাকে বারংবার এগিয়ে দেয় একটি ক্ষীণতনু মহাগ্রন্থের অভিমুখে যেটি শুরু হচ্ছে এইভাবে : “আমার মা কাল মারা গেছেন বা হতে-পারে। পরশু, আমি জানি না ঠিক কবে।' অনুধ্যায়ী পাঠকের মতে, "এ যেন কালো কিংখাব থেকে বেরিয়ে বাঁট পর্যন্ত ঢুকে গেল বারো ইঞ্চি ঝকঝকে ছুরি। ১


২. ‘আমরা কি দু হাজার তিন হাজার চার হাজার বছরের মমি ? 
একটা পাংশু ধারাবাহিকতা ?” - ভাস্কর চক্রবর্তী

আর কি-ই বা করতে পারতো মেরসো ? বান্ধবী যখন জিজ্ঞাসা করেছে যে তাকে ভালোবাসে কিনা মেরসো সেই সন্ধিৎসার অর্থ খুঁজে পায়নি। অনুভূত সত্যের বাইরে কিছু প্রকাশ করতে কামুর পুরুষদের স্পৃহা নেই। প্রেম শব্দটিকেও তাই বিনা প্রশ্নে স্বীকার করতে তারা অপারগ। নির্মমতার অভিযোগে মেরসোদের বিদ্ধ করার মুহুর্তে ভেবে দেখা প্রয়োজন কী দুঃসহ যন্ত্রণায় তারা আপন অন্তরের অনুজ্ঞা থেকে দাঁড়ানোর জমি পরীক্ষা করতে চাইছে আমরণ, প্রখর যুক্তিময়তায় অস্বীকার করছে আরোপিত ভাবনাছক, পাড়ি দিয়েছে একটা প্রায়ান্ধকার, জনহীন, ক্ষুরধার রাস্তায়। দ্য ফল-এ ক্লমাঁস্‌ নিশ্চিত, প্রেমের ছদ্মবেশে আমাদের অর্জন, মূলত, ক্লান্তি অথবা আত্মাভিমান। নিঃসম্পর্ক ক্লমাঁস্‌ তাই বলতে পারে ; প্রথাগতভাবে যদি আজ বলি আমি ওদের ভালোবেসেছিলাম তার অর্থ দাঁড়ায় যে আমি ওদের কাউকেই কখনো ভালোবাসিনি। ভালোবাসার মতো সর্বপরিচয়গ্রাসী শব্দ দিয়ে অন্তর্ভুবনের নিগুঢ় মাত্রাগুলিকে রুদ্ধ করার প্রবর্তনা পায় না কামুর চরিত্ররা। অথচ নিশচুপ রইলে অন্যপ্রান্তে

সঙ্গহীনতার দাহ। আ হ্যাপি ডেথ এ লুসিয়ানার সঙ্গ মেরসোর কাছে ক্লান্তিকর, মাের্থর প্রতিও তার হৃদয়ে এক ধরনের কৃতজ্ঞতা ছাড়া কিছু নেই। লুসিয়ানাকে যে এটুকুই বলতে পেরেছে : তুমি সুন্দর, এর বেশি আমি কিছু বুঝি না, আমাদের জন্য এ-ই যথেষ্ট। এমনকি জাক কারমেরি, কামু-সৃষ্ট চরিত্রগুলির মধ্যে শুভনাস্তিক্য যার ব্যক্তিত্বে সবচেয়ে কম, সেও মাতৃস্নেহকে ব্যর্থ বলতে ছাড়েনি। দ্য আউটসাইডার-এ যখন মেরসো জানায় সে তার দলছুট বেদনার কণ্ঠরোধ করবে না, বলবে শুধু সেটুকু যা সে যাপন করে, সমাজ তখন বিপন্ন, দিশেহারা হয়ে যায়। কেয়ারটেকারের প্রশ্ন : "কেন আপনি মাকে দেখতে চান না?” মেরসোর বরফঠাণ্ডা জবাব : ‘আমি জানি না।' মূলধারার, মুখোশসর্বস্ব ব্যবস্থা তৎক্ষণাৎ বুঝে নেয় এই ব্যক্তি কোনোনা-কোনোভাবে স্থিতাবস্থার পক্ষে বিপজ্জনক, একে আঁতুড়েই ধ্বংস করা দরকার। পাঠান্তে যদি এই সিদ্ধান্ত নিতে উৎসাহ বোধ করি যে সম্পর্কের ঘনতা বোঝার ক্ষমতা সে হারিয়েছে, তাহলে মেরসোর দৃষ্টিকোণ ঠিকভাবে দীপিত হবে না। মাকে সে নিজের মতো করে ভালোবাসতে চেয়েছে। নিরাবেগ জীবন নয় তার, শুধু আবেগের ওপর অটুট অস্তিত্বের বহুমাত্রিকতা ও দ্ব্যর্থতা সম্পর্কে জ্ঞান। ফলে প্রেম, অপ্রেম, মৃত্যু কোনো কিছুই তার কাছে একশিলীভুত সত্তা নয়। বিশাল আকাশের নীচে পাহাড় আদি প্রসারিত গাছপালার দিকে চেয়ে মেরসো অনুভব করেছিল, যে তার মাকে বুঝতে পারছে। নিয়ন্ত্রিত আবেগ নিয়ে বোঝার একটা চেষ্টা সে করেছিল, একথা আমরা ভুলে যাই। তার স্বীকারোক্তির তাপে দুমড়ে যায় সারাবাঁধা রঙিন মুখোশ।

প্রেম নিয়ে আমাদের ভাবের ঘরে চুরিকে ফর্দাফাই করেন কামু, কখনো প্ৰেমবিষয়টিকে, এক ধাপ এগিয়ে, নস্যাৎ করে দেন। দ্য ফাস্ট ম্যান-এ উপলব্ধ, প্রেম শুধু সুন্দরের প্রতি আমাদের দুর্বলতা। দাম্পত্যের অভ্যাসে প্ৰেম নেই। দ্য মিথ অব সিসিফাস -এ কামু অভ্যাসআক্রান্ত, পুনরাবর্তন-ক্লিন্ন জীবনের কথা বলেন। বেঁচে থাকার দ্বিধাহীন প্রবৃত্তির সামনে সতর্ক চিন্তনের অভ্যাস ন্যূব্জ, শক্তিহীন। অসুস্থ বন্ধুকে ক্লমাঁস্‌ দেখতে যায় নিয়মের নির্দেশে অথবা তাকে তুষ্ট করতেই কেবল। বন্ধুটি কিন্তু আপ্লুত। শূন্য দাম্পত্যের বোঝা টানতে টানাতেও মানুষ এইরকম আত্মপ্রতারণায় স্বচ্ছন্দ হয়ে ওঠে, তুমুল তৎপরতায় তুলে নেয় ছলনার পাঠ। জীবনের অধিকাংশ ‘গভীর’ দায়বদ্ধতাই, কামুর ধারণা, ক্লান্তি মোচনের নিরুপায় হাত-পা ছোঁড়া। সময় ও চিন্তার অভাবে, তেমন কিছু না বুঝেই ভালোবেসে চলা। দোদুল, অব্যক্ত, অনির্দেশ ভালোচনাসা। যৌথ নির্ভরতার রফাগুলিকেও অনেকে প্রেম বলে ডাকাডাকি করেন। নার্সিসিজম-বিমুক্ত প্রেম কি আদৌ সম্ভব? আত্মরতিকে মর্যাদা দিতে গেলে, প্রেমের জনপ্রিয়, প্রতিষ্ঠিত বতয়ানে টান পড়ে যায় না কি? প্রেমে প্রচ্ছন্ন নেই আধিপত্যের আকাঙ্ক্ষা? একটি নারীদেহ অধিকার, অসম্মান ক’রে মেরসোর সুখ। সে বোঝে, মার্থাও তাকে তিলমাত্র ভালোবাসে না। কেবল দুর্বলতাগুলি চিনে তাকে দরকার মতো যন্ত্রণা দিতে চায়। পুরুষটির ঘাড়ে মুখ ঘষে, নানাবিধ আদুরেপনা করে,অবিচ্ছিন্ন অভিনয় জারি রাখে। মেরসোর কাছ থেকে বিদায়ী পত্র পেয়ে মার্থা অশ্রুহীন, শুধু আহত অহং-এর আঁচড়ে বিক্ষত। প্রেম এক ক্ৰমপরিবর্তনময় ধারণা ও অনুভূতির সমবায়। সংশ্লিষ্ট চরিত্রদের ব্যক্তিত্ব অনুযায়ী বদলে যায় বলে এর মান্য সংজ্ঞা লভ্য নয়। বহু বিচিত্র অভিজ্ঞতাকে "প্রেম' দিয়ে ঢেকে ফেলা কামুর পক্ষে কঠিন। অ্যাবসার্ড’-এর একটি লক্ষণ 'ডেন্‌স্‌নেস' অর্থাৎ আপাত-প্রামান্য বিধির অন্তরালে অজস্র বহুকৌণিক অর্থস্তরের উপস্থিতি। অস্তিত্ব নিয়ে নিশ্চিস্ততার উপায় নেই বলেই অনুমানের ভেলায় উঠতে হয়। তাই যুক্তি কিংবা মনস্তত্বে একটি স্থিরীকৃত মহাসত্য বা মাস্টার ডিসকোর্স (কামুর ভাষায় "ফান্ডামেন্টাল ট্রুথ') থাকতেই পারে না, যা থাকে তা বিমিশ্র, অন্তঃস্ৰাবী সত্যসমূহের সবেগ প্রবাহ।

শরীরের অসংকোচ উদ্‌যাপনের মধ্যে দিয়ে জীবনকেই সর্বাগ্রে আহ্বান করে কামুর চরিত্ররা। প্রেমিকার শরীর ব্যতীত অন্য কিছুতে মেরসো আগ্রহী নয়। যৌনতাকে বাদ দিলে, প্রেমে আর ঠিক কী অবশিষ্ট থাকেঃ সত্যনিষ্ঠার খাতিরে কামুকে প্রশ্নটি তুলতে হয়। শরীর দুটি যখন অসংলগ্ন তখন তো মেরসোর কাছে তার সঙ্গিনীর অস্তিত্ব নেই। মেয়েটি মৃতই তখন। প্লেটােনিক প্রেমের স্বেচ্ছানিযুক্ত দৌবারিকদের উদ্দেশে ক্লমাঁস বলে : আমাদের একটি টিয়াপাখিকে ভালোবাসতে দেওয়া হয়েছে, অথচ বিছানায় যেতে হল একটি সাপের সাথে। যৌন-কল্পনা আধুনিক জীবনের অবসাদ ভোলায় এবং প্রকাশ থাক, তার সাথে নৈতিকতার সম্বন্ধ নেই। যৌন-কল্পনায় ডুব দিয়ে ক্লমাঁস শুধু তার প্রেমিকার কথাই নয়, পরিচিত সব মহিলার কথাই ভাবে। সে জানে বন্ধুপত্নী পবিত্র। পরমুহুর্তে তার স্বীকারোক্তি, বন্ধুটিকে সে আর বন্ধুজ্ঞান করে না। যৌন-কল্পনা সময়কে সংহার করে অস্তিত্বের অসহ্য ক্লান্তি থেকে সাময়িক মুক্তি দেয়। অবশ্যই ক্লমাঁসদের যৌন আচরণের বহুতর দিকগুলির মধ্যে এটি একটি প্রধান দিকমাত্র। আর হ্যাপি ডেথ –এ মেরসো যৌনতৃষ্ণায় অস্থির, তার তলপেট শক্ত, বুক খালি, অন্তরে একটি মহিলার অনাবৃত বাহু,উষ্ণ ওষ্ঠের কামনা। অবরুদ্ধ কামের বিস্ফারকে কামু ‘জীবন’-এর সাথে অম্বিত করতে ভোলেন না, লক্ষ্যণীয়। নারী ও সূরা কখনো কখনো দায়িত্বের সঞ্চার করে না। সময়চিহ্নের প্রহরামুক্ত সেই অরণ্যে সান্ত্বনা নেই, আসন্ন শাস্তির আশংকা নেই। কথোপকথন বাধ্যতামূলক নয়। এই হচ্ছে বোধহীন যৌনতার সুবিধে। শুধু ব্যাধি ও ক্লান্তির সম্ভাবনা থাকে। ভোঁতা হয়ে যেতে পারে কল্পনা বা বিচারের ক্ষমতা, ক্লমাঁসের অনুমান।

প্রেমের প্রশ্নে জীবনের আর পাঁচটা প্রশ্নের মতোই, কামুর চরিত্রদের ঔদাস্যের হেতু খোঁজা চলে তাদের অ্যাবসার্ড অস্তিত্বে। অ্যাবসার্ডিটি, কামুর ভাষায়, অতীত স্মৃতি এবং সম্ভাব্য আশ্বাস থেকে বিচ্ছিন্নতার চেতনা। অ্যাবসার্ড এক অন্তহীন সংগ্রাম, প্রত্যাখ্যানের দীর্ঘস্থায়ী সামর্থ্য, অপরিণত অস্থৈৰ্যকে সেখানে স্থানচ্যুত করে সচেতন অসন্তুষ্টি। এ্যাবসার্ড সমস্ত ধরনের নির্ণেয়তা, ইচ্ছেপূরণ, ফর্মুলাশ্রিত মুক্তির সম্ভাবনাকে খারিজ করে। দাঁত-চাপা, মর্মন্তুদ অপেক্ষার একনিষ্ঠতায় তার যা কিছু অনন্যতা। কিয়ের্কঙ্গার্দ অস্তিত্বের মর্মে প্রোথিত এক মহা আতঙ্কের কথা বলতেন। কুলপ্লাবী বিস্তারে যা আত্মরক্ষার ধারণাকেই একদিন অবান্তর করে তুলতে পারে। অস্তিবাদীদের কথা ছেড়ে দিলে বলা যায়, মােটের ওপর, অস্তিবাদীরা মানব অস্তিত্বের অপার্থিব তাৎপর্যে আস্থা না রেখে তাকে একটি মূর্ত, ঐতিহাসিকভাবে সীমাবদ্ধ অবস্থার পরিপ্রেক্ষণীতে আয়ত্ত করেন যা তাঁদের মতে, মানুষের পছন্দকে নিয়ন্ত্রণ, এমনকি খর্ব করে। সুখ যেহেতু মেরসোর কাছে একটি প্রি-ল্যাপসেরিয়ান ধারণা নয়, দ্বন্দ্ব, নৈরাশ্য ও ত্রাসের অভিজ্ঞতাকে স্বাগত জানাতে সে দায়বদ্ধ। সেখানেই তার শরণাগতিহীন, নিবিষ্ট আত্মভাবনার অন্তর্ভূমি। যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে পালায় 'টেলর-মেড’ আশাবাদীরা, দীর্ঘসময় রণভূমির বাস্তবতা বিশ্লেষণ করার প্রস্তুতি তাদের থাকে না। আর অনুভবী জন জানেন, অপরিমেয় সাহস ব্যতিরেকে ভয়ের উপলব্ধি অসম্ভব। এমন কোনো সারধর্ম নেই যা অস্তিত্বকে নির্ধারণ করে। পরিচিত সার্ত্র উবাচ : মানুষ স্বাধীন হতে দণ্ডিত। ভবিষ্যৎ নিয়ে অজ্ঞানতার অনুভূতির মধ্য দিয়ে বােধ করা যায় আমার স্বাধীনতা। আমরা শাপগ্ৰস্ত সিসিফাস, পর্বতচূড়ায় পাথর বয়ে নিয়ে যাচ্ছি, গড়িয়ে নেমে আসছে। সেই পাথর, আবার এই মুহূর্তে সেটা তুলতে হবে। কামু লিখছেন ; "হ্যাঁ, মানুষ নিজেই তার লক্ষ্য, এবং নিজেই সে একমাত্র লক্ষ্য যার জন্য সে আকাঙ্ক্ষা করতে পারে।” দ্রুত ভুলে যাওয়া, প্রায় সবই পিছলে যেতে দেওয়া, একটি সূর্যপোড়া, জলসিঞ্চিত প্রস্তরখণ্ডের মতো নির্লিপ্ত, অদম্য পড়ে থাকাই মেরসোদের জীবনসংকেত। প্রেমিকাকে সে বলছে : “বিশ্বাস করো, মহৎ যন্ত্রণা, মহৎ শোচনা, মহৎ স্মৃতি বলে কিছু নেই ... সবই ভুলে যাওয়া যায়, এমনকি মহৎ প্রেমও। জীবনের এই এক দুঃখ, আবার চমৎকারিত্বও বটে।' শরীরী ঘনিষ্ঠতার সময় মেরসোর স্থৈর্য লৌহপ্রতিম, পাথুরে কণ্ঠে তার স্মৃতিচারণ : আমি ওর স্তনে হাত বুলিয়ে আদর করছিলাম, আমাদের পা সংলগ্ন ছিল। — মেধার চাপ সহ্য করে, অনুভবের ওপর সম্পূৰ্ণ কর্তৃত্ব অক্ষুন্ন রেখে প্রেমিকাকে স্পর্শ করতে পারে কামুর পুরুষরা। হৃদয়কে মাথায় চড়তে দেবার দৌর্বল তারা বরদাস্ত করেনি, ক্ষণকালের জন্যও না।

দ্য আউটসাইডার, ও দ্য ফল-এ যৌনতা কোনো যান্ত্রিক অনুশীলন, কামুর গদ্যও তাল রেখে ধাতব, শীতল, অ্যা হ্যাপি ডেথ-এ প্রলম্বিত বাক্য, স্বল্প যতি, অবাস্তব ইমেজের ব্যবহার কিন্তু কামুর গদ্যকে কবিতার ধর্ম দিয়েছে। নিস্তব্ধতা, মিরাকল, আত্মার প্রসার, জবরদস্তিহীন ইরোটিসিজমকে প্রশ্রয় দিয়ে এখানে যৌনতাকে তিনি উৎক্ষিপ্ত করে ফেলেন। (অবশ্য এ সবই অনুবাদের মাধ্যমে যতটা বোঝা যায়, বোঝা সম্ভব)। এখানে তার আধা-আধ্যাত্মিক গদ্যভঙ্গি মনে পড়িয়ে দেয় লরেন্স অথবা পোর্টেট অব দ্য আর্টিস্ট-এর জয়েসকে। প্রেমিককে ওষ্ঠ দিতে গিয়ে শীতল গভীর আঁধারে নিমজ্জিত লুসিয়ানা, সে আঁধার তাকে গ্রাস করে ‘ঈশী বিস্মরণের' মতো। এ ধরনের অলৌকিকতায় খুবই বিস্রস্ত, মুহ্যমান লাগে কামুকে। এমন পৃথিবীতে তো আসলে বিশ্বাস করেননি তিনি। কামু তাই এখানে নেই। দূরে কোথাও।


সূত্র--
১. চট্টোপাধ্যায়, সন্দীপন, গদ্যসমগ্র-১, কথা যখন কথকতা (প্ৰতিভাস, ২০০৩) পৃষ্ঠা ১৯৮,

 A. Don E. Marietta, Jr., Philosophy of Sexuality, page 20



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন