ফিওদর দস্তয়েভস্কির গল্প : যীশুর বড়দিন বৃক্ষ ও ভিখারি বালকটি


অনুবাদ : ফারহানা আনন্দময়ী

আমি একজন ঔপন্যাসিক এবং ধরে নিচ্ছি যে গল্পটা আমিই সাজিয়েছি। ‘ধরে নিচ্ছি’ কথাটা লিখছি বটে, যদিও ঘটনা হচ্ছে, গল্পটা সত্যিই আমি সাজিয়েছি। তবুও কল্পনা করে চলেছি, বড়দিনের আগের সন্ধ্যায় তীব্র শীতের মধ্যে কোনো এক শহরে ঘটনাটি নিশ্চয়ই ঘটেছে।

ছোট্ট একটা ছেলেকে দেখতে পাচ্ছি, বয়সটা ছয় বছর কিংবা তার চেয়েও সামান্য কম হবে। সেদিন সকালে বেইজমেন্টের ঠাণ্ডা স্যাঁতসেতে একটা ঘরে ঘুম থেকে জেগে উঠল সেই ছেলেটি। ওর গায়ে ছিল ছোট একরকম ড্রেসিং গাউন, একটু পরপর সে কেঁপে কেঁপে উঠছে ঠাণ্ডায়। ঘরের কোণায় একটা বাক্সের ওপরে বসে ছিল সে। সাদা মেঘের মতো ধোঁয়া বের হচ্ছিল ওর মুখ থেকে। একঘেয়ে সময়টাতে মুখ থেকে ফুঁ দিয়ে সেই ধোঁয়া বাতাসে উড়িয়ে দিয়ে, তা দেখেই সময় কাটছিল ওর। কিন্তু এদিকে ছেলেটির ক্ষিধে পেয়েছিল অনেক। সকালবেলায় সে বেশ কয়েকবার তার অসুস্থ মায়ের কাছে গেল, ওর মা, একটা তক্তপোশ বিছানায় প্যানকেকের মতো পাতলা একটা তোশকের ওপরে শুয়ে ছিল, তার মাথার নিচে ছিল একটি ছোট কাপড়ের পুঁটলির মতো বালিশ। এখানে মা কী করে এলো? সে নিশ্চয়ই তার ছেলেকে নিয়ে অন্য কোনো শহর থেকে এখানে এসেছে আর এরপর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। যে বাড়িওয়ালি এসব উদ্বেগগুলোকে সামলে নিত, তাকেও দু’দিন আগে ধরে নিয়ে গেছে পুলিশস্টেশনে। বড়দিনের ছুটি একেবারে সামনে এসে যাওয়াতে অন্য ভাড়াটিয়ারাও বাইরে বেরিয়েছিল ঘুরে বেড়াতে। আর অন্য আরেকজন ছুটির অপেক্ষা না করেই বেহেড মাতাল হয়ে পড়ে আছে চব্বিশ ঘন্টা ধরে। ওদিকে আশি বছরের এক বৃদ্ধা, যে একসময়ে শিশুদের সেবিকা ছিল- বন্ধুবান্ধবহীন অবস্থায় মৃত্যুর দিন গুনছে ঘরের আরেক কোণে শুয়ে। বাঁতের ব্যথায় সে এমনই গোঙাচ্ছিল আর কোঁকাচ্ছিল যে ছোট্ট ছেলেটি ভয়ে তার পাশে যেতে সাহস করছিল না। বাইরের ঘরে গিয়ে ছেলেটি এক গ্লাস জল পেল শুধু, কিন্তু খাওয়ার জন্য একটা রুটিও সে পেল না কোথাও। মাকে জাগাবে বলে কয়েকবার করে মায়ের কাছে এসেও থমকে গেল। অন্ধকারের মধ্যে তার কেমন ভয়ভয় লাগছিল। অনেকক্ষণ হলো সন্ধ্যা নেমেছে ঘরের বাইরে- কিন্তু ঘরে আলো জ্বালানো হয়নি তখনও। কাছে এসে মায়ের মুখটা স্পর্শ করে সে খানিকটা অবাক হয়ে দেখল, মা একেবারেই নড়াচড়া করছে না আর মায়ের গা ঠাণ্ডা দেয়ালের মতো একেবারে শীতল হয়ে আছে। সে ভাবল, “এখানে অনেক ঠাণ্ডা।“ খানিক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে, অসচেতনভাবেই সেই মৃত মহিলার কাঁধে ওর হাতটা রাখল। আঙুলগুলোকে উষ্ণ করার জন্য ফুঁ দিল হাতের ওপরে। এরপর বিছানায় পড়ে থাকা ওর টুপিটা খুঁজে নিয়ে বেরিয়ে এলো ঘর থেকে। আরো আগেই সে বেরিয়ে যেতে পারত। কিন্তু বাইরের সিঁড়িতে প্রতিবেশীর ঘরের সামনে তাদের কুকুরটা সারাদিন বসে ঘেউঘেউ করে ডাকছিল বলে, ভয়ে বের হয়নি। কুকুরটা এখন সেখানে আর নেই, তাই সে-ও বেরিয়ে এলো রাস্তায়।

দয়া করো আমাদের, এ কেমন শহর! সে কখনও এমন শহর দেখেনি আগে। যে শহর ছেড়ে সে এখানে এসেছে, সেখানে রাতগুলো কী ঘুটঘুটে অন্ধকার! একটাই মাত্র সড়কবাতি থাকত পুরো রাস্তায়; আর ছোট, নিচু কাঠের বাড়িগুলো বন্ধ হয়ে যেত ঝাপ ফেলে। সন্ধ্যার পরে কাউকেই আর রাস্তায় দেখা যেত না, সকলেই ঢুকে যেত যার যার ঘরের ভেতরে এবং সারারাত ধরে বাতাসের গর্জন শোনা যেত শুধু। কিন্তু সেখানে তো উষ্ণতা ছিল—আর সেখানে তার খাবারও জুটতো। ওহ ডিয়ার, সে যদি একটু খাবার পেত! আর কী ভীষণ কোলাহল আর আওয়াজ এখানে! এত আলো আর এত মানুষ, কত ঘোড়া আর ঘোড়ার গাড়ি আর কী কনকনে শীত! ঘোড়াগুলোর নিঃশ্বাসের ধোঁয়ারাশি জমে মেঘের মতো ঝুলে আছে ওদের মুখের ওপর। গুড়ো গুড়ো তুষারের ওপর দিয়ে যাওয়ায় ওদের খুরের আওয়াজ প্রতিধ্বনি তুলছে পাথরের রাস্তায়। মানুষগুলো এ-ওর গায়ে ধাক্কা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে আর সে একটুখানি খাবারের জন্য কী আকুলই না হয়ে আছে! হঠাৎ কেমন অসহায় বোধ করতে লাগল সে। ছেলেটির পাশ দিয়ে একজন পুলিশ হেঁটে গেল; কিন্তু তাকে যেন দেখতেই পেল না এমন ভান করে মুখ ফিরিয়ে চলে গেল।

আরেকটা রাস্তা দেখা গেল সেখানে, বাহ, কত চওড়া এটা! এখানে তো নিশ্চিত সে গাড়ি চাপা পড়বে। অথচ সকলেই কীভাবে চিৎকার করছে, ছোটাছুটি করছে, গাড়ি চালাচ্ছে, আর এত আলো, কী দারুণ আলো! আর ওটা কী? বিশাল কাঁচের জানালা, সেই জানালার ভেতর দিয়ে সিলিং পর্যন্ত উঁচু একটা বড়দিনের গাছ দেখা যাচ্ছে, ফার গাছ হবে। সেটার গায়ে কত আলো, সোনালী কাগজ, আপেল, ছোট ছোট পুতুল আর ঘোড়া দিয়ে সাজিয়ে রাখা। সেখানে ঘরের ভেতরে সুন্দর পরিপাটি পোশাক পরে সেজেগুঁজে ছোটছোট বাচ্চারা দৌড়াদৌড়ি করছে, হাসছে, খেলছে, খাচ্ছে আর পান করছে কিছু। তারপর ছোট একটি মেয়ে একটি ছেলের সাথে নাচতে শুরু করল, মেয়েটি কী মিষ্টি দেখতে! বাইরে দাঁড়িয়ে জানালা দিয়ে গানবাজনার আওয়াজ শুনতে পেল সে।

যদিও বাইরের প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় তার পায়ের পাতা টনটন করছিল ব্যথায় আর হাতের আঙুলগুলো লাল হয়ে শক্ত হয়ে গিয়েছিল, তবুও ছেলেটি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল জানালার দিকে আর হাসল। ব্যথাটা এত তীব্র ছিল যে সেগুলো নাড়াতেও খুব কষ্ট হচ্ছিল তার। হঠাৎ করেই যেন আঙুল আর পায়ের পাতার সেই যন্ত্রণার কথা মনে পড়ল ছেলেটির, তখন সে কাঁদতে কাঁদতে দৌড়াতে লাগল। আবারও অন্য একটি জানালার কাঁচের মধ্য দিয়ে আরও একটি বড়দিনের গাছ দেখতে পেল সে। সেখানে একটি টেবিলের ওপরে নানান রকমের কেক—বাদামের কেক, লালরঙা কেক আর হলুদরঙা কেক সাজানো ছিল। তিনজন চমৎকার অল্পবয়সী মেয়ে বসে ছিল ওখানে। যারাই বেড়াতে আসছিল তাদের সবাইকে পিঠা দিচ্ছিল ওরা। অনেক ভদ্রলোক ও ভদ্রমহিলা রাস্তা দিয়ে হেঁটে এসে ভেতরে যাচ্ছিল এবং সেজন্যই দরজাটি খোলা হচ্ছিল বারবার। একপা-দু’পা করে একটু এগিয়ে গেল ছেলেটি আর হঠাৎ দরজা খুলে ঢুকে পড়ল ভেতরে। ওকে দেখামাত্রই সকলেই এমন চিৎকার করে উঠল! হাত নাড়তে লাগল ছেলেটিকে তাড়িয়ে দেবার জন্য সেখান থেকে! একজন মহিলা তাড়াতাড়ি দৌড়ে এসে ওর হাতে একটি 'কোপেক' গুঁজে দিলো। নিজের হাতে রাস্তার দিকের দরজাটি খুলে ঠেলে বের করে দিলো তাকে! কী যে ভীষণ ভয় পেয়েছিল সে! তার হাত থেকে সেই কোপেকটি গড়িয়ে পড়ল সিঁড়িতে, সেটার টুংটাং শব্দ শোনা গেল। ব্যথায় লাল হয়ে যাওয়া শক্ত আঙুলগুলো দিয়ে সে ওটা ঠিকমতো ধরতেও পারল না।

ওখান থেকে পালিয়ে যাবার জন্য দৌড় দিলো ছেলেটি এবং কোথায় কোনদিকে যাবে কিছু না জেনেই দৌড়াতে থাকল। আবারও তার খুব কান্না এলো, কিন্তু ভয়ে সে দৌড়াতে লাগল আর ফুঁ দিতে লাগল নিজের আঙুলে। ছেলেটির খুব কষ্টে হচ্ছিল কারণ খুব একা লাগছিল নিজেকে এবং আতঙ্কিত বোধ করছিল। আর ঠিক তখনই, প্রভু দয়া করো! ওখানে আবার কী? কতগুলো মানুষ দলা হয়ে দাঁড়িয়ে কিছু একটা দেখছে। একটা কাঁচের জানালার ওপাশে তিনটি পুতুল, লাল আর সবুজ পোশাক পরা, সেগুলো ঠিক যেন জীবন্ত! ওখানটায় একজন বৃদ্ধ লোক বড় একটা ভায়োলিন বাজাচ্ছিল বসে বসে, আর বাকি দুইজন পাশে দাঁড়িয়ে বাজাচ্ছিল ছোট ভায়োলিন। তারা পরস্পরের দিকে তাকিয়ে, তালে তাল মিলিয়ে মাথা দোলাচ্ছিল। ঠোঁট নড়ছিল,পরস্পর কথা বলছিল তারা। সত্যি সত্যিই কথা বলছিল, কিন্তু মাঝখানে কাচের জানালা থাকায় শোনা যাচ্ছিল না। ছেলেটি প্রথমে ভেবেছিল তারা জীবন্ত, কিন্তু পরে যখন সে বুঝতে পারল ওগুলো পুতুল, সে তখন হেসে ফেলল। আগে কখনও এমন পুতুল দেখেনি ছেলেটি, তাই তার ধারণাই ছিল না যে এমন পুতুলও হতে পারে! হঠাৎ তার মনে হলো কেউ যেন পেছন দিক থেকে তার জামা টেনে ধরেছে। পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল তার চেয়ে বড় একটা ছেলে, দুষ্টু প্রকৃতির। কিছু বুঝে না-উঠতেই তার মাথায় আঘাত করল আর টুপিটা ছিনিয়ে নিল সেই ছেলেটি। এরপর ল্যাং মেরে ফেলে দিলো ওকে। ছেলেটি মাটিতে পড়ে যেতেই চারপাশে শুরু হয়ে গেল শোরগোল চেঁচামেচি। ভয় পেয়ে সে যেন পাথর হয়ে গেল। তারপর এক লাফে উঠে দাঁড়িয়ে দৌড় দিলো। কোথায় যাচ্ছে না জেনেই দৌড়াতে দৌড়াতে ঢুকে পড়ল একটা বাড়ির উঠানের সদর দরজা দিয়ে আর সেখানে জড়ো করে রাখা কাঠের স্তুপের পেছনে গিয়ে বসেই ভাবল “যাক, আমাকে এখানে তারা আর খুঁজে পাবে না, আর জায়গাটা বেশ অন্ধকারও!”

ভয় পেয়ে সে এমনই জড়সড় হয়ে বসে ছিল যেন দমবন্ধ হয়ে আসছে, ঠিক সেই মুহূর্তে হঠাৎই কেমন আবার ভালোও লাগতে শুরু করল তার। ওর হাতপায়ের ব্যথাও সব হঠাৎই উধাও হয়ে গেল; ভেতরটা উষ্ণ হয়ে উঠল, মনে হতে লাগল সে বসে আছে কোনো গরম চুল্লির পাশে। চমকে উঠল ছেলেটি, আরে! সে নিশ্চয়ই ঘুমিয়ে পড়েছিল। কী আরাম এখানটায় ঘুমাতে! “আর কিছুক্ষণ এখানে বসে তারপর যাব, আবার দেখব সেই পুতুলগুলোকে।“ বলে নিজেই হাসল সে ওদের কথা ভেবে। “তারা কী ভীষণ জীবন্ত!” হঠাৎ সে শুনতে পেল ওর মা গান গাইছে। “মা, আমি ঘুমিয়ে আছি। কী আরাম এখানে ঘুমোতে!”

নরম একটা কণ্ঠস্বর ওর মাথার ওপরে ফিসফিস করে বলে উঠল, “আমার ক্রিসমাস গাছের কাছে এসো।“

সে ভাবল এটা হয়তো ওর মা। কিন্তু না, সে তার মা ছিল না। ওকে কে ডাকছে তা সে দেখতে পেল না, কিন্তু তার ওপরে কেউ একজন ঝুঁকে এলো; আর হঠাৎই, ওহ! কী উজ্জ্বল আলো! কী দারুণ এক ক্রিসমাস ট্রি! যদিও সেটা ফার গাছ ছিল না, সে এরকম ক্রিসমাস ট্রি কখনও দেখেনি আগে। সে কোথায় এখন? সবকিছুই কেমন উজ্জ্বল আর ঝলমলে! আর ওর চারপাশে সব পুতুল। না, ওরা পুতুল ছিল না। ওরা সবাই ছোট ছোট ছেলেমেয়ে, খুবই উজ্জ্বল আর জ্বলজ্বলে। বাচ্চাগুলো উড়ে এসে সবাই ঘিরে ধরল ওকে, চুমু দিতে লাগল, আর তাকে সাথে নিয়ে এগোল। সে নিজেও উড়তে শুরু করল। দেখল, ওর মা ওর দিকে তাকিয়ে খুশিমনে হাসছে। “মা, মা, এখানে কত আনন্দ, মা!” সে আবার চুমু দিলো সেই বাচ্চাদেরকে, আর ওদেরকে দোকানের জানালার পাশের সেই পুতুলগুলোর কথা বলতে চাইল।

“এই ছেলেরা, তোমরা কারা? এই মেয়েরা, কারা তোমরা?” মুগ্ধ হয়ে হাসিমুখে জিজ্ঞেস করল সে।

তারা জবাব দিল, “যীশুর বড়দিন বৃক্ষ এটি।“ বলল, “যে সব ছোট বাচ্চাদের নিজেদের কোনো গাছ নেই, তাদের জন্য যীশু এই দিনে একটি বড়দিন বৃক্ষ রাখেন।“ এবং এটাও সে জানতে পারল যে এই ছোট ছেলে-মেয়েরা ঠিক তার মতো শিশু। এদের কেউ কেউ মারা গেছে পিটসবার্গের ধণী মানুষের বাড়ির দরজায় ফেলে রাখা ঝুড়িতে জমে গিয়ে। কাউকে পাঠানো হয়েছিল ফিন দেশের নারীদের কাছে লালন-পালনের জন্য আর সেখানেই শ্বাসরোধে মারা গেছে কোনো কোনো বাচ্চা। কেউ কেউ সামারা দুর্ভিক্ষের সময়ে তাদের অভুক্ত মায়ের স্তনে দুধ না পেয়ে মারা গেছে। আবার কারো কারো মৃত্যু হয়েছে তৃতীয় শ্রেণির রেলগাড়িতে বিষাক্ত বাতাসে শ্বাস নিয়ে। যদিও সেইসব শিশুরা সবাই এখানে ছিল, ক্রিসমাস উপলক্ষ্যে তারা সবাই দেবশিশু হয়ে ছিল এখানে। এবং যীশু তাদের মাঝেই ছিলেন আর বাচ্চাদের দিকে হাত বাড়িয়ে ওদেরকে এবং ওদের পাপী মায়েদেরকে আশীর্বাদ করছিলেন। একপাশে দাঁড়িয়ে কাঁদছিল এই বাচ্চাদের মায়েরা। তারা প্রত্যেকেই চিনতে পেরেছিল তাদের নিজ নিজ সন্তানকে। এবং কাছে উড়ে এসে বাচ্চারা তাদেরকে চুমু দিচ্ছিল। চোখের জল মুছে দিচ্ছিল ওদের ছোট ছোট হাত দিয়ে, এবং কাঁদতে বারণ করছিল মায়েদেরকে, কারণ খুব আনন্দিত ছিল ওরা।

ভোরবেলায়, নিচতলায় কাঠের গাদার ওপরে ছোট্ট শিশুটির জমে যাওয়া মৃতদেহ খুঁজে পেল ওখানকার দারোয়ান, সাথে পেল ওর মায়ের মৃতদেহটিও। বাচ্চাটির আগেই মারা গিয়েছিল সে। স্বর্গে ঈশ্বরের সামনেই তারা পরস্পর মিলিত হলো আবার।

আমি এমন গল্পই বা কেন লিখলাম, যা কোনো সাধারণ ডায়েরির জন্য একেবারেই বেমানান, বিশেষত একজন লেখকের ডায়েরির ক্ষেত্রে? আর আমি তো প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম বাস্তব কোনো ঘটনাকে অবলম্বন করে দুটো গল্প শোনাবার। কিন্তু ব্যাপার হলো, বারবার আমার কল্পনায় আসছিল যে এরকম কিছু হয়তো সত্যিই ঘটেছিল। সেই যে ঠিক যেমনটা ঘটেছিল বেইজমেন্টের ঘরে এবং কাঠের স্তূপের ওপর। কিন্তু যদি বলো যীশুর বড়দিন বৃক্ষের বিষয়টি, সেটা ঘটেছিল, না কি ঘটেনি, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছি না আমি।

মূলগল্প : The Beggar Boy at Christ’s Christmas Tree by Fyodor Dostoevsky 

**********

লেখক ও অনুবাদকের পরিচিতি : ফিওদর দস্তয়েভস্কি (১৮২১–১৮৮১) ছিলেন রাশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ ঔপন্যাসিক, যিনি মানবমনের গভীরতা, নৈতিক সংকট ও অস্তিত্ববাদী প্রশ্নকে সাহসীভাবে অনুসন্ধান করেছেন। তাঁর বিখ্যাত রচনাগুলোর মধ্যে রয়েছে Crime and Punishment, The Idiot, Demons এবং The Brothers Karamazov.

অপরদিকে, অনুবাদক ফারহানা আনন্দময়ীর জন্ম ২১ অক্টোবর, খুলনায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করে বর্তমানে চট্টগ্রামের বাসিন্দা। একটি প্রতিষ্ঠানে খণ্ডকালীন কাজ করেন। কবিতায় হাতেখড়ি এবং লেখালেখির জগতে প্রবেশ। ইতোমধ্যে প্রকাশ পেয়েছে চারটি কবিতার বই : ‘মেঘ অরণ্য’, ‘ইচ্ছেসবুজ’, ‘দীর্ঘায়ু চাইনি, আনন্দায়ু দাও’ এবং ‘কবিতাস্নানে যাই’। মুক্তগদ্য এবং অনুবাদ গল্প ছাপা হয়েছে বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকার সাময়িকীতে এবং ওয়েব পত্রিকায়। পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষাভাষী লেখকদের গল্পের অনুবাদ নিয়ে সম্প্রতি ‘একজোড়া সপ্তর্ষি’ শিরোনামে একটি অনূদিত গল্পসংকলন প্রকাশিত হয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ