বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট, ২০১৩

তালা

রূপঙ্কর সরকার 

এ জায়গাটা মেদিনীপুরের পশ্চিম দিকে। খানিকটা জংলামত, তার মাঝখান দিয়ে লাল কাঁকড়ের রাস্তা। কেউ কোত্থাও নেই, শুধু দূর থেকে একটা ধাতব আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। আওয়াজটা থেমে থেমে হচ্ছে, একটানা নয়। কিছুক্ষণ পরে ঝোপঝাড়ের মাঝখান দিয়ে একটা গরুর গাড়িকে আসতে দেখা গেল। বলদটার গলাতে বাঁধা ঘন্টা থেকেই আওয়াজটা আসছিল। এ ঘন্টা পেতলের নয়, তাই অনুরণন হয়না, ধাতুর ওপর ধাতু পেটার চাপা আওয়াজ। গাড়িটাকে এবার স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। বলদটা খুবই নির্জীব এবং রোগা। গাড়িটাও তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
গাড়ির বাঁশ ও কাঠ কারোই খুব বেশি দিন আয়ু নেই, আর তা জানে বলেই তারা ক্যাঁচ কোঁচ করে প্রতিবাদ জানাচ্ছে বেশ জোরেই। গাড়িটা এবার থামল। পেছন থেকে লাফ দিয়ে নামল একটা বছর আষ্টেকের ছেলে। তার খালি গা, ইজের পরা, কিন্তু একটা ময়লা সাদা গোছের চাদর গায়ে মাথায় একসঙ্গে জড়িয়ে গলার কাছে গিঁট বাঁধা। একজন শার্ট প্যান্ট পরা শহুরে মানুষও নামলেন গাড়িটা থেকে। তাঁর হাতে লম্বা লম্বা ভাঁজ করা লাঠির মত কি সব জিনিষ, কাঁধে একটা ব্যাগ। ছেলেটা আঙুল তুলে এক দিকে নির্দেশ করল। দুজনে সেদিকে হাঁটতে শুরু করল।

সে বেশ কিছুকাল আগের কথা। সে সময়ে ডিজিটাল ক্যামেরা বেরোয়নি, ফিল্ম    দিয়েই ছবি তোলা হ’ত। কোলের কাছে ধরা ইঁটের মত ভারি জার্মান ক্যামেরার বদলে হাল্কা, চোখের সামনে রাখা নতুন জাপানী ক্যামেরাগুলো বেশ সুবিধেজনক। আমাদের রথিনবাবু, মানে, শ্রী রথীন্দ্রনাথ নাগ মশাই তাঁর দেড় মাসের মাইনের সমান টাকা দিয়ে দুম করে একটা ক্যামেরা কিনে বসলেন। এই নিয়ে বাড়িতে কম অশান্তি হয়নি। ছোটশালির বিয়েতে তিন ভরির হার দেওয়ার কথা উঠতে তিনি বলেছিলেন, ওরে বাবা, তি-ন? হারের ওজনে কয়েক রতি এদিক ওদিক হওয়াতে ছোট শালির বিয়ের ওপর কোনও প্রভাব পড়েনি এটা ঠিক, কিন্তু রতির সঙ্গে বিয়ের যে একটা নিবিড় সম্বন্ধ আছে, মানে অন্ততঃ নিজের বিয়ের, সেটা আর রথিনবাবু্র মাথায় ছিল না।

প্রায়ই দেখা যেত, রথিনবাবু বেশ একখানা পেটমোটা ব্যাগ কাঁধে ঝুলিয়ে আর বন্দুকের মত একখানা ট্রিপড ঘাড়ে ফেলে কোথাও চলেছেন হন্তদন্ত হয়ে। এ পাড়ায় রামজীবন হালদার সবচেয়ে প্রবীন লোক। ছানি কাটানোর পর ইয়া মোটা কাঁচের চশমা। সে সময়ে ফেকো টেকোর নাম শোনেনি কেউ। ছানি কাটালে ইতর ভদ্র নির্বিশেষে এই চশমাই উঠত চোখে। রামজীবনবাবুর বাড়িতে মন টিকতনা।  তিনি রাত্তিরে চোখে দেখতেন না বটে তবে দিনমানে প্রায় পুরোটাই রাস্তায়। হয় টুকটুক করে হাঁটছেন, না হয় কারো রকে বসে জিরিয়ে নিচ্ছেন। তিনি কপালে হাত মেলে রোদ্দুর আড়াল করে মুখটা যতখানি পারা যায় তুলে ঠাওর করতেন কে যায়। তারপর চিনতে পেরে বলতেন, ও রথি, যাও কই ? এই সব ক্যামেরা কুমেরা লইয়া যাইতাছ, অপিশ যাইবানা? রথিনবাবু উত্তর না দিয়ে মুচকি হেসে পাশ কাটিয়ে চলে যেতেন।

নেশা জিনিষটাই গোলমেলে। তা সে মদের নেশাই হোক, তাস খেলার নেশাই হোক বা ছবি তোলার। রথিনবাবুর নেহাৎ সরকারি চাকরি, তাই সেটা যায়না কিন্তু ছুটি অনেকদিন আগেই শেষ বলে যেদিন যান না সেদিনের মাইনেটা যায়। কদিনের মাইনে পান না, সেটা হিসেব করার চেয়ে ক’দিনের পান, সেই হিসেবটা অনেক সোজা। তাতে সংসার খুব যে ভাল চলে, তা বললে মিথ্যাভাষণ করা হবে। শুধু তাই নয়, যে কটা টাকা হাতে পান, তাতে সিলভার ব্রোমাইড পেপার, হাইপো, ইত্যাদিও কিনতে হয়। আরও একটা ব্যাপার আছে। নাগ মশাই সম্ভবতঃ ভুলেই বসেছেন, যে তিনি বিয়ে করেছেন। নাগের বৌ নাগিনী মাঝে মাঝে ফোঁস করেন তবে ছোবল দেবার সুযোগ পাননা, ধরতে পারলে তো। একদিন ধরতে পারলেন। মধ্যরাতে বসন ভূষনের মায়া ত্যাগ করে রথিনবাবুর ডার্ক রুমের দরজায় এক ফণা তোলা নাগিনী। রথিন বাবু হাঁ হাঁ করে উঠলেন, দাঁড়াও দাঁড়াও, আলো ঢুকে যাবে যে। সবে প্রিন্টটা চাপিয়েছি। তার পর খেয়াল হতে বললেন, একি মানু, তোমার জামাকাপড় – ওঃ খুব গরম পড়েছে বুঝি? মানু, অর্থাৎ শ্রীমতি নাগ দাঁতে দাঁত চেপে বললেন, নাঃ, মাকালী সেজেছি। তুমি শুতে আসবে কিনা? রথিনবাবু বললেন, আসব তো। না শুলে শরীর খারাপ করবে না? এই মোটে চারটে প্রিন্ট বাকি। নিয়েই আসছি। চারটে প্রিন্ট নিতে নিতে ভোর হয়ে গেল।

এখন হেমন্তের শেষ। গ্রামের দিকে শীতটা একটু আগেই পড়ে। যদিও সন্ধ্যা নামতে এখনও বেশ দেরি, তবুও ঠান্ডা ভাবটা আছেই। বাচ্চা ছেলেটিকে চাদরে মুড়িয়ে গিঁট বেধে দিয়েছেন সম্ভবত তার মা। গ্রামের দিকে বাচ্চাদের এভাবেই বাইরে ছাড়া হয়। শহুরে বাবুটির গায়ে কিন্তু শীতবস্ত্র নেই। উনি ঠিক আন্দাজ করতে পারেননি ব্যাপারটা, তাই হাতে হাতে ঘষে খানিক উত্তাপ যোগাড় করার চেষ্টা করছেন। রাস্তা ছেড়ে এরা বেশ খানিকটা নেমে এসেছে। ছেলেটি হাত তুলে যা দেখাল, তা দেখে বাবুটি স্তম্ভিত হয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন। বাবুটির নাম রথীন্দ্রনাথ নাথ নাগ, পেশায় নয়, নেশায় ফোটোগ্রাফার।

এটা একটা ধনীলোকের বাড়ির ধ্বংসাবশেষ। ছোটখাট রাজা রাজড়ার বাড়িও হতে পারে। মাঝে মাঝে ভাঙা ইঁটের দেওয়াল, থাম, খিলেন ইত্যাদি দেখা যাচ্ছে। ছাদ প্রায় কোথাও নেই। পুরো বাড়িটার কঙ্কালের মধ্যেই গুল্ম আর লতারা সংসার পেতেছে নিশ্চিন্তে। বিভিন্ন কৌণিক অবস্থান থেকে বাড়িটার ছবি নিতে হবে। অসাধারন সব ফ্রেম তৈরী হবে। বেশি ভেতরে যেতে একটু ভয় ভয়ও করছে। যে প্রাণীরা বুকে হাঁটে, তাদের শীতকালীন অজ্ঞাতবাসে যাবার সময় এখনও হয়নি। কিন্তু সেই সব অসাধারন ছবি তোলা নাহয় পরে হবে। এখন চোখের সামনে যা দেখছেন, তাতেই রথিনবাবু বাকরুদ্ধ। এটা সম্ভবতঃ বাড়িটার মূল কাঠামোরই অংশ, একটা বেশ প্রশস্ত ঘর। কিন্তু বাকি অংশের দেয়াল, থাম, খিলেন, কুলুঙ্গি কোথাও কোথাও দেখা গেলেও, এই ঘরটির আর কিছুই অবশিষ্ট নেই, শুধু দুধারে সামান্য কিছু ইঁটের গাঁথনির মাঝখানে একটা কারুকার্য করা দরজা, তাতে বিশাল এক তালা ঝুলছে।

রথিনবাবু ফোটোগ্রাফি শিখেছেন প্রভাসদার কাছ থেকে। প্রভাসদা বয়স্ক নিঃসন্তান মানুষ। সারাদিন ক্যামেরার পরিচর্যায় ও সারারাত ডার্করুমেই পড়ে থাকেন। প্রভাসদা প্রায়ই বলেন, বুঝলে রথিন, সে ছবিই সেরা, যাতে চোখে যা দেখছ, তার বাইরেও কানে একটা গল্প এসে বাজতে থাকবে। শুধু ল্যাম্পপোস্টের ছবি তুললে হবেনা, ল্যাম্পপোস্টে যদি হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা কোনও লোককে পাও, আর সেই লোক কার জন্য প্রতীক্ষা করছে, তা যদি বোঝাতে পার, তুমি তখন একজন ফোটোগ্রাফার হলে। রথিনবাবু এবার গল্প শুনতে পাচ্ছেন। বিশাল একটা তালা ঝুলিয়ে যে বা যাঁরা চলে গেছিলেন, তাঁরা কি ভেবেছিলেন, কোনওদিন এসে সে তালা আর খোলা হবেনা ? কি আশ্চর্য একটা ফ্রেম। দেয়াল নেই, ছাদ নেই, কেন সেই ঘরে তালা মারা হয়েছিল, কী দুর্মূল্য বস্তু আগলে রাখার জন্য, তা বোঝারও উপায় নেই, কী রক্ষা করছে সুদৃশ্য দরজায় ঝুলন্ত ওই বিশাল তালা ? প্রভাসদা দেখলে যা খুশি হবেন না, রথিনবাবু প্রিন্টগুলো নিতে নিতে ভোর করে ফেললেন। যখন ডার্করুম থেকে বেরোলেন, তখন কাক ডাকা শুরু হয়ে গেছে।

আবার বেরোতে হবে, এবার বাঁকুড়ার দিকে প্রোগ্রাম। গলির মুখেই রামজীবনবাবুর সঙ্গে প্রায় ধাক্কা। সে সময়ে সামাজিক বন্ধনগুলো অনেক পোক্ত ছিল। পাড়াতুতো কাকা জ্যাঠারাও বকলমে অভিভাবক হতেন। রামজীবনবাবু  কপালে হাত তুললেন চোখ আড়াল করে। প্রয়োজন ছিলনা, এখন রোদ নেই, কিন্তু ওটা অভ্যাস হয়ে গেছে। কে যায় ? রথি নিকি ? অ রথি, খালি ক্যামেরা কুমেরা নিয়া ছুটলে হইব ? বিয়া করছ কয় বৎসর ? আমার আর কয়দিন, তা যাইবার আগে নাতিপুতি দেখাইবানা ? রথিনবাবু যা করার, তাই করলেন। মুচকি হেসে পাশ কাটালেন।

সেবার বাড়ি ফিরে কলিং বেল বাজিয়ে রথিনবাবু রীতিমত ঘাবড়ে গেলেন। কিরে বাবা, ভুল করে অন্য বাড়িতে চলে এলাম?  তা কী করে হবে – একই রাস্তা, একই গলি, দরজাটাও তো চেনা। কিন্তু দরজা খুলে যে দাঁড়িয়ে আছে সে তো চেনা নয়। এক দীর্ঘদেহী যুবক। তার মাথায় এলোমেলো চুল, চোখ দুটো স্বাভাবিকের তুলনায় বেশ বড় ও উজ্জ্বল। রথিনবাবু ভাবলেন, এর পোট্রেট তুললে অসাধারণ হ’ত, তবে তিনি পোট্রে্টের কাজ খুব একটা করেন না, ওটা প্রভাসদার এলাকা। যুবক বলল, কাকে চাই ? রথিনবাবু ভাবলেন, এ তো মহা গেরো দেখছি। যুবকের পরণে লুঙ্গির মত করে জড়ানো ভাঁজ করা ধুতি, গায়ে একটা বেমানান পাঞ্জাবি, যেটা মাপে অনেক ছোট। রথিনবাবুর ধুতি আর পাঞ্জাবি, দুটোই চেনা চেনা লাগছিল, এমন সময় পেছনে মানুদেবী, আরে সরো সরো, এই তো তোমার জামাইবাবু। ইয়ে শুনছ, এ হচ্ছে অনুপ। আমার ভাইয়ের মত। তোমার মনে নেই, বিয়ের সময় পিঁড়ি ঘোরাচ্ছিল ?

অনুপ মাঝে মাঝেই আসে এখন। এলে দুদিন থেকেও যায়। বেচারা মানু, সময় কাটায় কী করে। অনু-মানু, মানু-অনু, রথীনবাবুও নিশ্চিন্ত। রাত্তিরে ডার্করুমে আর মাকালীর হামলা হয়না। সেবার কাকদ্বীপ গিয়ে কাঁপিয়ে জ্বর এল। সুন্দরবনের দিকে বনবিবির মন্দিরের ওপর কিছু কাজ করার ইচ্ছে ছিল, কিন্তু তা আর হবেনা। রথিনবাবু কাঁপতে কাঁপতে বাড়ি ফিরলেন। এর পর চেনা গল্প। এমন গল্প অনেক অনেক লেখা হয়েছে আগে। শোনা গেছে তার চেয়েও কয়েকগুণ বেশি। ব্যাপার কিছুই নয়, রথিনবাবু বাড়ি ঢুকতে গিয়ে সদর দরজা খোলাই পেলেন কিন্তু শোবার ঘরে ঢুকতে গিয়ে দেখলেন দরজা বন্ধ। ভাবলেন, মানু অবেলায় ঘুমোচ্ছে ? তাহলে দোতলায় যাই, ওঘরেই শুই না হয়। এই বলে সিঁড়িতে উঠতে গিয়ে দেখেন, জুতোর র‍্যাকে বিশাল একজোড়া চটি, খুব লম্বা লোকের।

জ্বরের ঘোরে রথিনবাবু ভুল বকলেন। অবশ্য তা শোনার কেউ ছিলনা। তিনি নানা রকম উদ্ভট স্বপ্নও দেখলেন। মাঝে মাঝে চেতনা ফিরছে, মাঝে মাঝে হারিয়ে যাচ্ছে। তার মধ্যেই তিনি দেখলেন একটা অন্ধকারমত জায়গায় একটা বিশাল দরজা। তাতে মস্ত এক তালা ঝুলছে। হঠাৎ ঠক করে তালাটা আপনা আপনি খুলে পড়ে গেল। দরজাটাও খুলেও গেল ক্যাঁচ করে। ওপাশে দাঁড়িয়ে মা কালী। তাঁর চার হাত নয়, দুটোই হাত। গলায় যতগুলো মুন্ডু ঝুলছে, সব কটা রথিনবাবুর। কপালে হাত দিয়ে বাতাসীর মা বলল, একি, জ্বর তো খুব বেশি গো দাদাবাবু, রথিনবাবু চিঁ চিঁ করে বললেন, বৌদিকে বলনা, কিছু ওষুধ আনতে। বাতাসীর মা বলল, বৌদি তো নীচে নেই গো, কতক্ষণ ডাকাডাকি করলুম – রথিনবাবু বললেন, তাহলে ওষুধের দোকানে গিয়ে ধারে কিছু ওষুধ এনে দাও। আমার নাম করলে দেবে।

নাগিনীর সংবাদ নেই একমাসের ওপর। রথিনবাবুর ছবি তোলা বন্ধ বেশ কিছুদিন । একা হাতে সংসারের কাজ করা যে বিলক্ষণ মুশকিল তা ভালই টের পাচ্ছেন এখন। মানুদেবী বাপের বাড়ি যাননি। তাঁরা কিছুই জানেন না। অনুপ বলে কারো নাম তাঁরা শোনেননি জানিয়ে দিলেন। সেদিন রাত্রে রথিনবাবু আবার সেই তালাওয়ালা দরজাটার স্বপ্ন দেখলেন। দরজাটা ভীষণভাবে টানছিল তাঁকে। সকালে উঠেই তিনি জামা কাপড় পরে বেরিয়ে গেলেন। বাড়ির ঠিক উল্টোদিকে মুখুজ্জ্যেদের রকে বসা রামজীবন হালদার কপালের ওপর আলো আড়াল করে মুখ তুলে বললেন, কে যায়, রথি নিকি ? আইজ তুমার লগে ক্যামেরা কুমেরা নাই দেখতাছি। যাও কই ? রথিনবাবু উত্তর দিলেন না। রামজীবনবাবু তবু বললেন, দরজাটা দেখি খুইলাই থুইয়া যাইতাছ, তালা দিবানা ? রথিনবাবু মুচকি হেসে চলে গেলেন। আর ফেরেন নি।

রচনা:  ০৬/০৮/২০১৩।



লেখক পরিচিতি

রূপঙ্কর সরকার

জন্ম : আগস্ট ১৬, ১৯৪৮
গল্পকার, আলোকচিত্র শিল্পী, নাট্যজন। 
প্রকাশিত বই: ধানাই পানাই

৩টি মন্তব্য: