রবিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

জ্যোতিপ্রকাশ দত্তের 'পরমাত্মীয়': গল্পের সংলাপসম্ভাবনা -

অর্ক চট্টোপাধ্যায়

সাহিত্য যদি 'সহিত' শব্দের বিশেষ্যরূপ হয়, তবে তা কার সহিত? রবীন্দ্রনাথ যেমন মনে করতেন, সহিত থাকবার অবস্থাই হলো সাহিত্য; সহিতত্ব থেকেই সাহিত্য; অর্থাৎ সাহিত্য যেন সদাই কারুর না কারুর, কিছু না কিছুর সহিত থাকে। যখন মনে হয় সে একা আছে, তখনও অন্য কেউ থাকে তার কাছে। নির্জনতম সাহিত্যও শূন্য নয়। পাঠক আর পাঠবস্তু মিলে যে এককত্ব তৈরী হয় তা সম্পূর্ণরূপে শূন্যগর্ভ কখনই হতে পারে না।
মানুষের নির্জনতম মুহুর্তগুলোর ভেতর থেকে অপর এক কন্ঠ হয়ে জেগে ওঠে সহিত থাকার এই অবস্থাটি। আমরা সকলে প্রত্যেকে একা হলেও সাহিত্য আমাদের সেই একাকিত্বের ভিতর বসবাসকারী এক অপর সত্ত্বার খোঁজ দিয়ে যায় হয়ত। একটি টেক্সট বা পাঠবস্তুর আগমনে ভেঙ্গে যায় সেই নিসঙ্গতা আর আমরা আত্মার গভীরে এক পরম বিন্দুর দিকে যাত্রা করি। আত্মার ভিতরের এই পরম বিন্দুটি আত্মনের বাইরে। ভিতর বাহির যেখানে একাকার হয়ে ওঠে, সেখানে। হয়ত সেই টেক্সটের ভেতর ঘর করছে যে মানুষ সেও একা, কিন্তু তাতে কি? দুই একা মিললেই তো একা থাকার  শেষ। সাহিত্যের মর্মমূলে রয়েছে এহেন এক কথোপকথনের ধারণা। সংলাপকে তাই শুধু নাটকের বিষয় বললে ভুল হয়। গল্প, উপন্যাস এমনকি কবিতারও গভীরে কোথাও না কোথাও এমনি নানা রকমের মগ্নসংলাপ থাকে যা সময়বিশেষে তার বহিরঙ্গে উঠে আসে। প্রাচীন গ্রীসে সাহিত্য নামক পৃথক এই পাঠবস্তুটির জন্মের আগে থেকেই সংলাপের ধারা বয়েছে প্লেটোর দার্শনিক ডায়ালগগুলিতে। সাহিত্য মানুষকে তার নিজের সত্ত্বার বাইরে অন্য কোথাও নিয়ে যাবার প্রতিশ্রুতি নিয়ে আসে। এই বাহিরপথ কখনো অপর আরেকটি একক সত্ত্বার কাছে নিয়ে হাজির করে আমাদের, কখনো আবার একটা বিরাট জগৎ ভেসে ওঠে চোখের সামনে, যেখানে এক নয়, বহুর জীবন, এমনকি মহাজীবনও পাঠবস্তু হয়ে ওঠে। দ্বিতীয় এক সত্ত্বার মাধ্যমে আমরা আমাদের একান্ত গোপন গভীরতার বাইরে বেরোতে শিখি, বহুর দিকে যেতে শিখি। আমাদের এক থেকে দুইয়ের মধ্যস্থতায় বহুর দিকে নিয়ে যায় সাহিত্যের এই মৌনমুখর সংলাপ।  

    কোনো কথাই ঠিক একলা থাকে না। কথা বলতে শুরু করলেই এক ধরণের সহিতত্ব তৈরী হয়: কথার সহিতত্ব, ভাষার সহিতত্ব, শব্দের সহিতত্ব। সে সাদা পাতার ওপর ফুটে ওঠা বর্ণবিন্যাসের লিখিত সাহিত্যই হোক আর শৈশবের বিস্ময়কর শ্রুতির স্মৃতি হয়ে থাকা কথিত সাহিত্যই হোক, কিছু দৃশ্য-শ্রবণ-স্পর্শ-ঘ্রাণ-স্বাদানুভূতি অথবা ভাষার অপরাপর কোনো এক উপস্থিতি আকর হয়ে ওঠে সেখানে। বাখ্তিনের মতো ভাষাতাত্ত্বিকও তাই মনে করেন যে কথন মাত্রেই কথোপকথন, সবই ডায়ালগ, মনোলগ বলে আসলে কিছু হয় না ঠিক যেমন আমি বলে নির্দিষ্ট কোনো একটি সত্ত্বাও যেন হয় না। অসংখ্য এবং অনির্ণেয় আমিদের এই জটিল অন্তর্জালের ভেতরে ঘোরাফেরা করলেও কথন সবসময়ই তার উপ্কথন খুঁজে পায়; অপরের উদ্দেশে উচ্চারিত শব্দাবলীকে সেই অপরের উপস্থিতির ওপর নির্ভর করতে হয় না কথোপকথন হয়ে উঠতে; মুখ থেকে বেরোবার সাথে সাথেই তা আত্মনের বাহিরে ছড়িয়ে যায় এবং খুঁজে নেয়  তার নিজস্ব এক শ্রুতি। আমরাও তো প্রতিদিন কতো কতো কথা শুনি, সব কথাই কি আর আমাদেরকে উদ্দেশ্য করেই বলা হয়ে থাকে? মুখ থেকে বেরোনো অন্য কাউকে বলা কতো কথাই তো আমরা শুনে থাকি। আর সেই সব সমাপতন কিম্বা দশ জনের অন্য দশজনকে বলা দশটি আপাত-বিছিন্ন বাক্যও সময়ের নিয়মে বিভিন্ন বিস্ময়কর সিকোয়েন্স তৈরী করে। এই সবই আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে থাকা জীবনের সংলাপসম্ভাবনা! আর এই সংলাপসম্ভাবনা থেকেই জারিত হয় গল্প। জ্যোতিপ্রকাশ দত্তের 'পরমাত্মীয়' গল্পটিও গল্প তথা সাহিত্য তথা জীবনকান্ডের অন্তরস্থ এই সংলাপসম্ভাবনারই গল্প বলে যায় আমাদের। 

    আত্মীয়তার এই পরম বিন্দুটিই  হলো সংলাপসম্ভাবনা; গল্পের সম্ভাবনা; যেখানে ধূসর বৃষ্টির দিনে গল্পের আমি তার পরমাত্মীয় শ্রীমন্তের অপেক্ষা করে। গল্পের শুরুতে শ্রীমন্ত নিরব থাকে, যেন বা ব্যথিত। কথা বলে শুধু আমি। শ্রীমন্তের সাথে কথোপকথন তৈরী করাই যেন এই গল্পের তাগিদ বয়ে আনে:

খানিকক্ষণ আগে আমি যখন এই ঘরে ঢুকলাম-তুমি আগে থেকেই বসে ছিলে, তোমার দৃষ্টি আমায় কোমল গাঢ় আশ্লেষে আবদ্ধ করলো, শ্রীমন্ত। অথচ তারপরে, তুমি সেই দৃষ্টিকে ভাঙ্গলে, ছড়ালে, কণায়  কণায় আমার সঙ্গে ছড়িয়ে দিলে আর সেই অজস্র  কণা তোমার দুচোখে থিরথির করে কাঁপতে লাগলো। 

পাঠক লক্ষ করুন শ্রীমন্তের নিরবতাকে আশ্রয় করেই কথোপকথন শুরু হয়ে গ্যাছে এবং একটি শব্দ উচ্চারণ না করেও শ্রীমন্ত ভেঙ্গে দিয়েছে আমির এক দৃষ্টিকে বহু  কণায় এবং বহু কথনসম্ভাবনার কক্ষপথে। মানুষের সেতুবন্ধনের ইচ্ছা, কথোপকথনের ইচ্ছাই গল্পের সদর দরজা, এমনকি খিড়কিও বটে। গল্পের কথক যখন বলে: "তুমি কি আমায় শুনতে পারছ শ্রীমন্ত? বুঝতে পারছ?", এই সংলাপমুখীনতাই তার গল্পের চালিকা শক্তি হয়ে ওঠে। আমাদের কথক নিয়মমাফিক বলা প্রাত্যহিক কথাবার্তার অসারতা বোঝে, সে জানে, সে সব অধিকাংশ শব্দই মৃত, কারণ তারা অনুভুতিপ্রদেশ থেকে আসা আলোয় আলোকিত নয়। আবার সকল অনুভব যে ভাষায় ধরা দেয় না, সেই অধরাবোধও রয়েছে তার। এই সব অপারগতার কথা মাথায় রেখেই অপর এক জীবন্ত কথোপকথনের খোঁজে বেরিয়েছে সে:   

অথচ আমি যা ভাবছি তা বলছি না। আমরা কেউ তা বলি না। আমাদের জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত কথায় কথায় ঠাসা। একটি মুহূর্ত থেকে আর একটি মুহূর্ত-একটি কথা থেকে আর একটি কথা। মুহূর্ত আমাদের জীবন-কথা, আমার, আমাদের ভাবনা। তাই সব বলে না কেউ। বলা যায় না। 

এই অংশটির পরে জ্যোতিপ্রকাশ এক তৃতীয় পুরুষ কথককে নিয়ে আসেন। আমরা বুঝতে পারি, এতক্ষণের কন্ঠ ছিল একটি চরিত্রের, কথকের নয়। তার নামও জানা যায়: সাঈদ। এইভাবেই গল্প লতিয়ে ওঠে এক আমি থেকে তিন তিনটে আমি-তুমি ও সে-র দিকে। লেখক কোথাও কোটেশন মার্ক্সের ব্যবহার করেননি; যেন এই মগ্নসংলাপকে ধরতে কোন যতিচিহ্নের দরকার হয় না। কথনের দায়িত্ব এবার শ্রীমন্তের। সাঈদ এখন নিরব। একদিকে নিরবতা থাকলেও অন্যদিকের কথন কিন্তু একা নয়। শরীর ও অনুভবের এক দৈহিক উপস্থিতিতে সে তার উপকথন খুঁজে পায় যেন। শ্রীমন্ত তার নিরব বন্ধুকে পরপর বলে যায় তাদের কথনের অতীত স্মৃতির কথা। একের পর এক দৃশ্য সাজিয়ে বলে যায় তাদের কিছু দুর্লভ কথোপকথনের ইতিহাস:

তার একটু পরে এবং এখন থেকে আরো একটু আগে কি অদ্ভুত এবং আশ্চর্য হয়ে আমরা মিলে গেলাম। আমাদের কথা একসঙ্গে মিলল। আকাশের পূর্ব দিকে মেঘ ছিল। ঘন, কালো, নিশ্ছিদ্র, গম্ভীর মেঘ। আর পশ্চিমে পড়ন্ত বেলার রোদ। 

দুজন মানুষের কথা ও সেই সব কথার মধ্য দিয়ে তাদের পরস্পরের গভীরে মিলিয়ে যাওয়ার রসায়ন হলো কথোপকথন। আর প্রকৃত এই কথোপকথন ইন্দ্রিয়াতীত দৃশ্যপরম্পরার জন্ম দিতে পারে: "তুমি হঠাৎ চিৎকার করে বললে, দেখো কি আশ্চর্য, জীবনে এমন দেখো নি। দেখে নাও।" এই দেখা আর দুজনের কথাদের এক হয়ে যাওয়াকে পরস্পরের থেকে আলাদা করে দেখা যায় না: 

আমি দেখলাম সাঈদ। তোমার সেই আশ্চর্যকে এবং আমাদের কথার একসঙ্গে মেশাকে। দুচোখ ভরে দেখলাম। পেছনে কৃষ্ণ মেঘের স্তূপ এবং সামনে পড়ন্ত বেলার রোদকে রেখে, সমস্তটা আকাশ আর সব দেওদার শিরিষের শির্ষগুলো কী অদ্ভুত এবং আশ্চর্য সোনা রঙ্গে মাখামাখি হয়ে গেছে। এমন কখনো দেখিনি-না, একবার দেখেছিলাম। 

এই একবার কবে অমন আলো দেখেছিল শ্রীমন্ত? সেই আলোর সুত্র ধরে ফিরে আসে তার ছোটবেলার স্মৃতি। কাহিনীর ছোট্ট একটা ইশারা। প্রকৃত কথোপকথন বিভিন্ন অতীত কথোপকথনের স্মৃতিবাহক হয়ে গল্প বয়ে আনে, নির্মাণ করে নিজেরই এক চলমান চিত্রশালা। ক্রমে আমরা পাঠকরা অনুভব করি যে আসলে সাঈদ এবং শ্রীমন্ত পরস্পরের সামনে বসে নেই। একজন রয়েছে ছাপ্পান্ন বাই নয়-এর এ গোলক বসু বাইলেনে, অন্যজন তেষট্টি ছয়-ই কাদের বক্সের গলিতে। আসলে তারা দুজন কথা বলছে কথোপকথনের নিজস্ব এক পরিসর থেকে; যে পরিসর তাদের নিজেদের মধ্যে ভাগ হয়ে গেছে তাদের ডায়ালজিক স্মৃতির হাতে, জাতি, ধর্ম, দেশ-এইসব সীমানার উর্দ্ধে। সংলাপ তার নিজস্ব বসত গড়েছে আর এই বসত আর যাই হোক উপনিবেশ নয়। এই সংলাপ কথায় বাঁধা নেই, বরং স্তব্ধতার গানেই খুঁজে পায় নিজেকে। একাকিত্বকে এককত্বের দিকে নিয়ে যায় অন্তরঙ্গ এই মৌনসংলাপ:

তখন তারা দুজন আরো ঘনিষ্ঠ এবং একান্ত হয়ে বসেছিল। দুজন দুজনের কথা বলছে না অথচ পরস্পরকে অনুভব করছে আর সেখানেই একাত্ম হয়ে যাচ্ছে। যেন দুজনে ট্রেনের কামরা থেকে নেমে একই প্লাটফর্মে পা রাখছে। একই মাটিতে, একই ছাউনির নিচে। 

কথোপকথন অদ্ভুত এক বিয়োজনের পথে বহুমুখী হয়ে ওঠে। প্রকৃত সংলাপে দুজন থেকে চারজন মানুষের জন্ম হয় ক্রমে ক্রমে:  

আসলে দুজনে যেমন বসে ছিল তেমনি বসে রইল। কেবল তাদের সেই দুটি আশ্চর্য সত্তা, যারা নিঃশব্দে কথা বলে-দেহকে মুখর হবার সুযোগ দিয়ে, তারা মুখোমুখি বসল। 
[...]  

যুধ্যমান দুই সৈনিকের মতো তাদের সত্তারা তখন মুখোমুখি এবং এইসব নিঃশব্দ মুখরতায় কলকন্ঠ। 

এই সংলাপ কি তবে ক্রমেই হেগেলীয় দুই আত্ম-চেতনার সংঘর্ষমূলক আলাপচারিতায় পরিণত হয়? এই দুই কন্ঠ কি পরস্পের অস্তিত্ব এবং প্রতিস্ব প্রতিষ্ঠার জন্য যে অপরকে প্রয়োজন, সেই প্রয়োজনীয়তার ভেতরকার সলিপসিজমকেই নির্দেশ করে? সাঈদ বলে তার ছোটবেলার একটি গল্প, কিভাবে বিরাট এক মাঠের মাঝে দাড়িয়ে বিশাল আকাশে শত শত নক্ষত্রের ব্যাপৃতি দেখতে দেখতে প্রথম তার মনে অসীমের ধারণা এসে উঁকি দিয়ে গিয়েছিলো, কিভাবে ওই ব্যপ্তির সামনে নিজেকে তার তুচ্ছ ও হাস্যকর মনে হয়েছিলো। দুই বন্ধুর এই জয়-পরাজয়্মূলক কথোপকথন ভালবাসার পরিসরের বাইরে বেরয় না, কারণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাও এখানে ভালবাসারই উপ্কথন। সময় ও অসীমের এই প্রতর্ক আসে দুই বন্ধুর দুমাস বিচ্ছেদের পর একজন যখন দুমাস সময়টাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চায় না, তখন। সংলাপের আর্তির বাইরে, সহিতত্বের অভিপ্রায়ের বাইরে কোনো সংঘর্ষ নেই আসলে। শরীর দিয়ে যেমন কথা বলে তারা, তাদের নিবিড় এই কথোপকথনে তেমনই শরীরের উর্দ্ধেও উঠতে পারে এই সংলাপ: "সাঈদ-সাঈদের দেহ থেকে উঠে এলো এবং শ্রীমন্তের চারদিকে শূন্যে কয়েকটি পাক দিল বিজয়ী সৈন্যের মতো।" শ্রীমন্ত সাঈদকে জিজ্ঞাসা করে শেষ দুমাসে সে কি লিখেছে আর উত্তরে সাঈদ তাকে জানায় সে লেখা ছেড়ে দিয়েছে, আর কোনদিন কিছুই লিখবে না। শ্রীমন্ত হতবাক হয়ে যায়, বুঝতে পারে না বন্ধুর কথা। সাঈদ তাকে জানায় সে লিখবে না কোনো বিমর্ষতার কারণে নয়, সে লিখবে না, কারণ সে আঁকবে, সে আঁকা শিখছে নিজের কাছে। সে বুঝতে পেরেছে, এমন অনেক কিছুর কথা যাদের লেখায় ধরা যায় না, কিন্তু দৃশ্য হয়ত বা ধরতে পারে তাদের। তাই তার স্বপ্ন এখন তেমনই এক পোর্ট্রেট আঁকা; একটি "নিখুঁত পুর্নাবয়ব অনুভবকে" ধরতে চাওয়া: "শ্রীমন্ত, আমি লিখব না কেন জানো, লিখতে পারব না বলে। আমি একটি নিখুঁত পাখির ছবি এবং একগুচ্ছ নিখুঁত ফুলের ছবি আঁকতে চাই বলে। " আমরা পাঠকরাও বুঝতে পারি যে লেখা থেকে ছবির দিকে এই নান্দনিক রূপান্তর আসলে সংলাপের রূপান্তরও বটে। অপরকে কথার আবডালের বাইরে অন্য এক চিত্রভাষায় ধরার তাগিদ রয়েছে এখানে! রয়েছে নতুন এক সংলাপসম্ভাবনা। একদিন তাদের অনন্য কথোপকথন বৃষ্টি-মেঘের অমোঘ অতীতে অনির্বচনীয় যে আলোর সৃষ্টি করেছিল সেই আলোতেই তো ফেরৎ যেতে চায় সাঈদ। ফেরৎ যেতে চায় আশ্চর্য সেই দেখাতে।  সেই দেখা হয়ত অধরাই থেকে যাবে, এমন এক বিষন্ন ইঙ্গিত রেখেই শেষ করেন জ্যোতিপ্রকাশ। দুই বন্ধু উঠে দাড়ায় শরীরের বাইরে আর আলাদা আলাদা পথে নিজেদের বাড়ির দিকে এগিয়ে যায়।  তাও একটা প্রতিক্ষা রয়েই যায়। একটুর জন্য হলেও কিয়দংশে থেকে যায় নতুন এক সংলাপসম্ভাবনা। কথোপকথনের মধ্য দিয়ে তৈরী হওয়া অপর সত্ত্বাদুটি অবিভাজ্য থেকে যায় কোথাও আর এখানেই কিছুটা মায়া রয়ে যায় যেন: 

আর যে দুই যুধ্যমান সৈনিক এতক্ষণ তাদের পাশে পাশে মাথার ওপরে এবং চোখে-মুখে--সারা অঙ্গে লুকোচুরি খেলছিল, তারা এবারে একাত্ম হয়ে গালে গাল রেখে মিশে গেল, কিন্তু তাদের সঙ্গে এলো না। একজন চোখে অলৌকিক প্রাসাদের এবং নিখুঁত ফুল-পাখি আঁকার স্বপ্ন নিয়ে, এবং আর একজন তারই পাশে টলমল আবছা চোখে চেয়ে বসে রইল আরেক এমনি সামনে গম্ভীর মেঘ এবং পিছনে পড়ন্ত বেলায় রোদে মাখা দুর্লভ বিকেলের জন্য। 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন