শনিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৩

আমার সব লেখাই একপ্রকার দেয়াল লিখন

মুক্তি মণ্ডল
------------------------------------------------------------------------------------------------------------
কবিতা লিখছেন বহুদিন ধরে মুক্তি মণ্ডল। তিনি লেখেন নিজের অনুভব প্রকাশের জন্য। এক্ষেত্রে তিনি নিজের। তিনি লিখেছিলেন-- অন্যকোনো মাধ্যম জানা না থাকার কারণে তিনি কবিতা মাধ্যমটি বেছে নিয়েছেন। এর মধ্যে তিনি আবিস্কার করেছেন--তার কবিতায় এক ধরনের গল্পই থাকে। সেই গল্পের বিস্তারের জন্য কবিতার পাশাপাশি এখন গল্প লিখছেন।
তাঁর জন্ম চুয়াডাঙ্গায়, ১৯৭৬ সালে। একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন। প্রকাশিত কবিতার বই : ঘড়ির কাঁটায় ম্যাটিনি শো (২০০৮), পুষ্পপটে ব্রাত্যমিনতি (২০০৯), উন্মাদ খুলির পৃষ্ঠাগুলি (২০১১)। --গল্পপাঠ
 ------------------------------------------------------------------------------------------------------------
১. গল্প লিখতে শুরু করলেন কেন?মুক্তি মণ্ডল : আমি নিজেকে কখনো গল্পকার মনে করিনি, কবিতার যে বৈভবজগৎ তার ভেতরই আমার চিন্তামণি থেকে বিচ্যুত ভাবকল্পকে কেউ কেউ গল্প বলে অভিহিত করে থাকে, এতে আমার জীবনযাপনের চিহ্ন লেগে থাকে ঠিকই যা আমার কবিতার স্বর ও স্বরভঙিমাতেও থাকে, থাকে চারপাশের আরোসব মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যও, যা হয়তো খুব গোপনে চালান হয়ে যায় – যা আমার কবিতাচর্চারই অংশ মনে করি। কবিতা ও গল্পের একটা সমন্বিত ভাবনাবিশ্ব সামনের দিনে রাজত্ব করবে বলে মনে মনে আমি ভাবি, সেইভাবনা থেকে কবিতাচর্চা করি আর সেসবই গল্প নামে অভিহিত হয় হয়তো কারো কারো কাছে, যদিও এও জানি যে এসব সাম্প্রতিক কবিতাচর্চা ও কবিতা অনুভব থেকে ভিন্ন, এ ভাবনা থেকেই গদ্যচিত্রকল্পের ভেতর দিয়ে অনুভবকৃত দৃশ্য ও চরিত্রকে প্রকাশ করার পায়তারা থেকে এধরণের লেখাগুলা তৈরি হয়েছে।


২. শুরুর লেখাগুলো কেমন ছিল?
মুক্তি মণ্ডল :শুরুর লেখা ছিল একদমই কবিতা – অনেকেই আমার গদ্য লেখা যা গল্প হিসেবে কেউ কেউ ভাবে, তা কবিতা হিসেবে প্রকাশ করেছেন। প্রথম দিকে এধরণের লেখার জন্য কবিতাচর্চার জন্য যা যা দরকার সেসবই ছিল মুখ্য, পরবর্তীতে এই ভাবনা থেকে সরে এসেছি, এখন মনে করি এথনোগ্রাফাররা যেধরণের কৌশল অবলম্বন করেন গল্প বা গদ্য লেখার জন্য সেধরণের কৌশল অবলম্বন জরুরি, এ কৌশল পুরোপুরি এখনও লেখার ভেতর প্রবাহিত করতে পারিনি।

৩. গল্প লেখার জন্য কি প্রস্তুতি নিয়েছেননিলে সেগুলো কেমন?
মুক্তি মণ্ডল : সামনে গল্প না একটা মানবগোষ্ঠীর জীবনাচারণ গদ্যে তুলে আনতে চাই তার জন্য মনে মনে অনেক প্রস্তুতি নিয়েও এখনও শুরু করতে পারেনি। উদাহরণ হিসেবে বলতে পারি – নাটরের চলনবিল এলাকার একটা গ্রামে আমি ২০০১ সালে গবেষণা কাজে অনেকদিন ব্যয় করেছিলাম। ওখানকার মানুষের সংগ্রামমুখর জীবনের ওরাল হিস্ট্রির নথি আমার কাছে গচ্ছিত আছে, আমি আবার ওই এলাকায় যেতে চাই এবং বর্তমানে কি অবস্থা ওই জনগোষ্ঠীর তা আবার পর্যবেক্ষণ করেই তবে লিখবো – তা যদি না করতে পারি তাহলে আর লিখবো না। যে কমিউনিটির ভেতরকার মানুষের জীবনযাপন ও সাংস্কৃতিক স্পন্দন বিষয়ে আমার ধারণা নেই সেসব আমি লিখতে চাই না। এরকমই ভাবনা বর্তমানের।

৪. আপনার গল্পলেখার কৌশল বা ক্রাফট কি?
মুক্তি মণ্ডল : গদ্য লেখার কৌশল আর কবিতা লেখার কৌশল একইরকম নয় এখন এরকম মনে হয়, পর্যবেক্ষণকৃত কমিউনিটির সাংস্কৃতিকবোধের লিখন যথাযথভাবে তুলে ধরা জরুরি মনে করি।

৫. আপনার নিজের গল্প বিষয়ে আপনার নিজের বিবেচনা কি কি?
মুক্তি মণ্ডল : আমার নিজের গল্প নিয়ে কোন প্রকার বিবেচনা নাই, এগুলাকে গল্প না কবিতা নাকি শুধুই ভাবনা চিন্তার চিত্যুতরশ্মি তা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। পাঠক ভাবুক এ নিয়ে। 

৬. আপনার আদর্শ গল্পকার কে কেকেনো তাঁদেরকে আদর্শ মনে করেন?
মুক্তি মণ্ডল : আমার প্রিয় গল্পকার সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস ও মানিক বন্দোপাধ্যায়। এদের আধুনিক চিন্তাভাবনার সারমর্ম যেন আমারও। এদের চেতনবিশ্বে সমাজের রাষ্ট্রের এথনোগ্রাফিক যে ভিউ তা আমাকে সজাগ করে তোলে যা অনুভব করতে বাধ্য করায়, পরিবর্তনের পালে তুলে দেয় মানুষের নতুন জীবনের যাত্রা, স্বপ্ন জাগিয়ে রাখে বাঁচতে শেখায়। 

৭. কার জন্য গল্প লেখেনআপনি কি পাঠকের কথা মাথায় রেখে লেখেনলিখলে কেনো লেখেনআর যদি পাঠকের কথা মনে না রেখে লেখেন তাহলে কেনো পাঠককে মনে রাখেন না লেখার সময়ে?
মুক্তি মণ্ডল : কোন নির্দিষ্ট পাঠকের কথা মাথায় রেখে কোন কিছুই লিখিনা, আমার সব লেখাই একপ্রকার দেয়াল লিখন – ব্যক্তির ক্রমবিকশিত মন ও মননের যাত্রাধ্বনি।

৮. এখন কি লিখছেন?
মুক্তি মণ্ডল : এখন লেখালেখি একপ্রকার বন্ধ। ভাবনাচিন্তা করছি। কারণ গত ৫-৭ বছরে যেসব লেখাজোখা লিখেছি তা থেকে ভিন্ন কিছু হচ্ছে না, এজন্য চুপ করে আছি। অন্যদের লেখাজোখা পড়ছি। 

৯. আগামীতে কি লিখবেন?
মুক্তি মণ্ডল : আগামীতে গদ্য লিখার পরিকল্পনা আছে যা বানানো মানুষের জীবনযাপন না  নিকট মানুষের জীবনযাপন না, নির্দিষ্ট কমিউনিটির মানুষের জীবনপ্রণালী পর্যবেক্ষণকৃত জীবনযাপনের ইতিবৃত্ত লেখার পরিকল্পনা করছি।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন