শুক্রবার, ৪ অক্টোবর, ২০১৩

গল্পলেখা এক ধারাবাহিক সাধনার নাম

কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর
------------------------------------------------------------------------------------------------------------
তিনি পেশায় ডাক্তার। নেশায় কথাশিল্পী। কথা নামে একটি ছোট কাগজও সম্পাদনা করেন। লেখেন প্রবন্ধ, গল্প, উপন্যাস। গ্রহণ করেন সাহিত্যের লোকজনের সাক্ষাৎকার। বেশ কয়েকটি বই প্রকাশিত হয়েছে কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীরের। বাংলাদেশের ছোট কাগজ বড় কাগজে তাঁর লেখা নিয়মিত প্রকাশিত হয়। নিচের সাক্ষাৎকারে স্বল্প পরিসরে হলেও কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীরের লেখক ভুবনের পরিচয় পাওয়া যাবে। --গল্পপাঠ। 
------------------------------------------------------------------------------------------------------------
১. গল্প লিখতে শুরু করলেন কেন?
আমার তো মনে হয় গল্প লেখাটা হচ্ছে গিয়ে আমার অক্ষমতাকে ঢেকে রাখার একধরনের প্রচেষ্টা মাত্র! আমাদের চারপাশে কত মানুষ কতকিছু পারছে, তাদের করা-টরার আর শেষ নাই। আর আমি মানুষটা আমার শেখা বিদ্যা অর্থাৎ ডাক্তারিকেও ঠিক মতো কাজে লাগাতে পারলাম না। তখনই কী করে যেন মনে হলো আবার গল্পই লিখি। গল্প লিখতে গেলে তো কারও মুরিদ হওয়ারও দরকার নাই। অনেকেই মনে করেন, গল্প মানে ছোট প্রাণ ছোট ব্যথা যুক্ত করে একখান কাহিনী লেখাই তো হাহাহা।

যাই হোক, গল্প কেন লিখতে শুরু করলাম, এমন আকস্মিক প্রশ্নে নিজেকে কিঞ্চিত অপরাধীও মনে করছি। গল্প নামের কিছুই বোধ হয় আমার দ্বারা হচ্ছে না। তবে এর পিছনে কোনো চিন্তা-ভাবনা বা কসরত আমার ছিল না।


২. শুরুর লেখাগুলো কেমন ছিল?
আমার প্রথম গল্প ছাপা হয় আমাদের কলেজের ওয়াল ম্যাগাজিনে। সেটা তো ৭৮ সালের ঘটনা, এতদিন পর গল্পটির নামও মনে নাই। তবে কোনো নীতিকথা নির্মাণের তুমুল চেষ্টা যে ছিল তা মনে পড়ছে। সেটা ছিল একুশে ফেব্রুয়ারী উপলক্ষে বের করা একটা ম্যাগাজিন। এরপর ম্যাডিকেল কলেজের সাহিত্যবিষয়ক বার্ষিকীতে লাল জামার সবুজ রং নামের একটা গল্প ছাপা হয়। এইসব ছাপাছাপি আমার জীবনে মনে রাখার মতো দারুণ ঘটনা বলা যায়।

৩. আপনি পেশায় চিকিৎসক। চাকরী, চেম্বার, ঘর-দোর সামলিয়ে লেখালেখির সময় বের করেন কিভাবে? এ ব্যাপারে বাড়ির লোকজনের আপনাকে মেনে নিচ্ছেন কিভাবে?

চাকরি, সংসার, ডাক্তারি চেম্বার ইত্যাদির পর লেখালেখির বিষয়টা আমার নিজের কাছেও মাঝে মাঝে মিরাকলই মনে হয়। তবে সবই চলছে দয়ার উপর,-- বৌম্যাডাম দয়ার অবতার না হলে আমি মুশকিলেই পড়ে যেতাম। বৌ, সন্তান, ডাক্তারি ইত্যাদির উপর তো কিছুটা অবিচারও করছি। তবে, একটা বিষয় কী, লেখালেখি তো দারুণ নেশার ব্যাপার; ফলত, কিভাবে কিভাবে যেন সময় বার হয়ে যায়। যেমন, বিকাল, আর রাত দশটার পরের সময়টা আমি কাজে লাগাই। আর আমি তো সকালেই উঠি, ফলে অফিসে যাওয়ার আগের সময়টা কাজে লাগাই। জীবনের উপর জীবনের চৌর্যবৃত্তি আর-কি হাহাহা। আর পেশার কথা যদি বলেন, তাহলে আমার পেশা হচ্ছে লেখালেখি করা, ডাক্তারি হচ্ছে আমার জীবিকা। আসলে পেশা শব্দটাকে আমরা স্বার্থপরের মতোই ব্যবহার করি। এই শব্দটার উপর দারুণ আস্থা আর মধ্যবিত্তীয় প্রেম আমাদের আছে!

৪. গল্প লেখার জন্য কি প্রস্তুতি নিয়েছেন? নিলে সেগুলো কেমন?

গল্পলেখার সেই রকম প্রস্তুতি নিয়ে কথা বললে তো আমাদের ময়-মুরুব্বিদের কথাই বলতে হয়। মানে যারা তাদের কর্মযজ্ঞ দিয়ে বিপুল এক ভুবন নির্মাণ করেছেন, তাদেরকেই সালাম জানাই। আমার প্রস্তুতি তেমন ছিল না। তবে একধরনের অন্তর্গত কোলাহল তো নিশ্চয়ই ছিল। আমার কাছে যেটা মনে হয়, সিরিয়াসলি বলছি, গল্পলেখা এক ধারাবাহিক সাধনার নাম। গল্প এমনি এমননি হয় না, এর পিছনে নিজেকে উজাড় করে সম্পৃক্ত রাখতে হয়। তবে আমার গল্প লেখার শুরুর কালে রবিঠাকুর, শরৎচন্দ্র আকবর হোসেন, বঙ্কিম পড়তাম।

আমি বরাবরই মানুষকে অবজার্ভ করতাম। সমাজকে নিয়ে নানাভাবে ভাবতাম, বাম-রাজনীতির সাথে জড়িতও ছিলাম।

৫. গল্প লেখা একটা ধারাবাহিক সাধনা--বলতে আপনি আসলে কি বলতে চাইছেন? কোন সাধনার ধন এই গল্পগুলো?

গল্পলেখাটা আমার কাছে সাধনাই মনে হয়। আমি যখন একটা গল্পলেখার ভিতর থাকি, বা এর প্রস্তুতি চলে, তখন কার্যত আমি আলাদা জগতে থাকি। তখনই জাগতিক বিষয়ের প্রতি অবিচারটা করি আর-কি। আমার চেম্বারে এমন কথাও বলতে শুনেছি, মানে আমার সম্পর্কে দোকানদার বলছে আর-কি, ‘আমি জীবনে এমন ডাক্তার দেখিনি, যিনি রোগী দেখলে মেজাজ খারাপ করেন!’

৬. আপনার গল্পলেখার কৌশল বা ক্রাফট কি?
গল্পলেখার কৌশল সম্পর্কে একেবারে একাডেমিক্যালি কিছু বলতে পারব না। আর আমার অত পড়াশুনাও নাই হাহাহা। কী করে যেন গল্প শুরু করার কথা ভাবি। বা, হঠাৎ মনে হয়,-- বিষয়, থিম বা ঘটনা নিয়ে গল্প লিখতে হবে। 

যেমন মৃতের কিংবা রক্তের জগতে আপনাকে স্বাগতম নামের গল্পটির কথাই ধরা যাক, আমি চেয়েছিলাম, আমাদের এই রক্তাক্ত সমাজ, দেশ নিয়ে একটা কিছু লিখি। আমার মনে হয়, আমাদের তো রক্তাক্ত হওয়ার এক-এক প্রক্রিয়ার ভিতর দিয়েই আমাদের সময় পার হয়েছে; বা, এখনও তা হচ্ছে। সেই ভাবেই স্বপ্নবাস্তবতার আদলে একটা জগৎকে নির্মাণ করতে চেয়েছি। বা, তাকে আর পাওয়া যায় না নামের গল্পে ধর্ম-সাম্প্রদায়িকতার পেষণ কী করে আমাদেরকে একেবারে তছনছ করে দিচ্ছে, তার একধরনের বয়ান এখানে আছে। তবে গল্প লেখার কোনো ধরনের যান্ত্রিক কৌশল আমার জানা নাই। পত্রমিতা নামের গল্পটির কথাই ধরুন, এ হয়ত জীবনের এক বিজ্ঞাপন, কাউকে খোঁজার এক আহাজারি। পত্রমিতালীর মাধ্যমে পাওয়া এক সত্তাকে পুনর্নিমাণের বাসনা।

৭. আপনি মূলত গদ্য লেখেন--লেখেন গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নিবন্ধ। কিন্তু কবিতা লেখেন না। কবিতার পদ্যের বদলে গদ্যে কেনো এলেন? কেনো কবিতার চেয়ে গল্পকে বেছে নিলেন? আপনি কি কবিতায় নিজেকে প্রকাশ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না?

দেখুন আমি যে কবিতা একেবারেই লিখিনি তা কিন্তু নয়, মেডিক্যালে পড়ার সময় কবিতা লিখেছি। আমরা একই ক্লাসে চারটা জাহাঙ্গীর ছিলাম, আমার নামই ছিল কবি জাহাঙ্গীর হাহাহা। কেমন অদ্ভুত নয় কি? এখন কবিতা না--লিখলেও প্রচুর কবিতা পড়ি আমি। লিটলম্যাগ, সাময়িকী বা ফেসবুক শুধু নয়, আমার সংগ্রহে প্রচুর কাব্যগ্রন্থ আছে। কাজেই কবিতার সাথে আমার কোনো বৈরিতা নেই। একসময় হয়ত কবিতা লেখা শুরুও করতে পারি হাহাহা।

৮. আপনার নিজের গল্প বিষয়ে আপনার নিজের বিবেচনা কি কি?
নিজের গল্পের ব্যাপারে বিবেচনাটা দুইভাবে বলা যেতে পারে, সে তো আবার বিবেচনা তৈরি হওয়ার কথা নয়, যা বলার পাঠকই বলবেন। অথবা, ভিন্নভাবেও বলা যায়, আমাকে দিয়ে নতুন এক গল্পভুবন তৈরি হচ্ছে হাহাহা।

৯. আপনি বলেছেন--আপনাকে দিয়ে এক নতুন ভুবন তৈরী হচ্ছে। এটা খুবই আশাবাদী কথা। এই নতুন গল্পভুবন বলছেন কেন? কি কি কারণে আপনার গল্প অন্যদের চেয়ে পুরনো নয়?
আমার উদাত্ত হাসিকে আপনি একটু মূল্যায়ন করবেন না। আমার গল্পভূবন বলে নিজে একটু মজা করলাম আর-কি। জগৎকে মজাময় করতেই তো কার্যত আমরা লিখি, তাই না? আমার গল্পভুবন বলতে আমার গল্পচর্চার ভিতর নিজেকে জারিত রাখার কথাই বলছি। অন্যের চেয়ে আমার গল্প আলাদা হতেই হবে, বা তা করাই আমার বাসনা,-- এমনটি আমি মনে করি না। আমার গল্প আলাদাকরণের কোনো বিষয় নয়, আমার গল্প আদৌ কিছু হয় কিনা, তাও বলবে এর পাঠক। আমি নিজের ঢোল নিজে ঢোল পিটানোর বিষয়টা একেবারেই অপছন্দ করি।


১০. আপনার আদর্শ গল্পকার কে কে? কেনো তাঁদেরকে আদর্শ মনে করেন?

আমি কখনও আদর্শকে গলায় মালা হিসাবে জডাতে চাইনি। একটা সময় মার্কসীয় প্রাতিষ্ঠানিকতাকে খুব খেযাল করতাম। এখন মনে করি, শিল্পের আলাদা জগৎ থাকা দরকার, মুক্তচৈতন্যের বিকাশ দরকার। অথবা, বলা যেতে পারে নৈরাজ্যিক সাম্য, আমায় এখন খুব ভাবাচ্ছে। তবে কোনো গল্পকারকে আমি আদর্শ ধরতে রাজি নয়। তাহলে তো তাকে পোস্টার বানিয়ে একটা রাজনৈতিক দল বা গ্র“পই করে ফেলতাম,--তাই না?

আমার কিছু প্রিয় গল্পকারের নাম করতে পারি,-- রবিঠাকুর, মানিক, সতীনাথ, জগদীশ, সন্দীপন, দীপেন্দ্রনাথ, ওয়ালীউল্লাহ্, ইলিয়াস, হাসান, সৈয়দ শামসুল হক, মাহমুদুল হক, কায়েস আহমেদ, মঈনুল আহসান সাবের, শহীদুল জহির প্রমুখ। আমি তো প্রচুর গল্প পড়েছি, কাজেই সেই হিসাবে অনেক গল্পকারই আমার
প্রিয।

বাংলাদেশস্থ অন্য ভাষা, যেমন, চাকমা, মনিপুরী ভাষার অনূদিত গল্পও পড়েছি। তবে এখানে ভিন্ন ভাষার কিছু গল্পকারের কথা না-বললেই নয়,-- বোর্হেস, কাফকা, ক্যামু, মার্কেস, হুয়ান রলফো, ইতালো কালভিনো, দস্তয়েফস্কি,
ম্যাক্সিম গোর্কি, হারুকি মুরাকামী, কুন্ডেরা, পামুক প্রমুখকে আমার খুবই দরকারি গল্পকার মনে হয়।

১১. আপনার প্রিয় গল্পকারদের তালিকায় আপনার সমসাময়িক গল্পকারদের নাম নেই--নেই আপনার অনুজদের নামও? আপনি কি মনে করেন শহিদুল জহিরের পরে আর কোনো উল্লেখ করার মত গল্পকার এদেশে নেই? কেনো এ রকম মনে করছেন? শহিদুল জহিরদের চেয়ে আপনার সময়ের ও পরের গল্পকারদের মধ্যে পার্থ্যক্য চিহ্ন কি মনে করেন? কি তাদের ব্যর্থতা? 

কে প্রিয় কে অপ্রিয় গল্পকার এইসব ঠিক করার কিছু নাই। যার-তার লেখা লিখে যাচ্ছেন। অনেক গল্পকারই আমার প্রিয়। আমি গোগ্রাসে গল্প পান করি হাহাহা। আমি অনেকের গল্প নিয়েই লিখেছি। আমাদের সময়কার অর্থাৎ নব্বই দশকের উপর আমার একটা দীর্ঘ প্রবন্ধ আছে, যা অনেকবার রিপ্রিন্টও হয়েছে। এমনকি তা গল্পের গল্প নামের আমার প্রবন্ধের বইয়ে তা ছাপাও হয়েছে। আমি গল্প নিয়ে যত কথা বলেছি, লিখিতভাবে, তা আমাদের গল্পসাহিত্যে বলেছেন বলে মনে হয় না। আমার তো এমনও হয়েছে, অতি নবীন এক গল্পকার, তার গল্প পছন্দ হয়ে গেল, তখন একটা গল্প নিয়েও নিবন্ধ লিখে ফেলেছি। এখন কথা হচ্ছে, আমি বলে দিলাম যে মামুন হুসাইন, রায়হান রাইন, সুমন রহমান, মাহবুব মোর্শেদ, শামীমা বিনতে রহমানের গল্প কোথাও পেলেই আমি একটানে তা পড়ে ফেলি,-- তার অর্থ তো এ নয় যে আমি আর কারও গল্প পড়ি না। আমি প্রচুর গল্প পড়ি, তা নিয়ে কথাও বলি।

১২. কার জন্য গল্প লেখেন? আপনি কি পাঠকের কথা মাথায় রেখে লেখেন? লিখলে কেনো লেখেন? আর যদি পাঠকের কথা মনে না রেখে লেখেন তাহলে কেনো পাঠককে মনে রাখেন না লেখার সময়ে?
পাঠক, পাঠক, এবং পাঠক। তবে আমিই হচ্ছি গল্পটির প্রথম এবং অপরিহার্য পাঠক। কাজেই কার্যত আমার বিবেচনাটাই আসল বলে মনে করি।

১৩. গল্পপাঠের ক্ষেত্রে আপনার নিজের বিবেচনাকেই আসল বলছেন। এই বিবেচনাগুলো কি কি? একটু ব্যাখ্যা করুন। আপনি কি ধরনের গল্প আসলে চান? তার শর্তগুলো কি? আপনি কি মনে করেন সেই শর্তগুলো আপনি পুরণ করতে পারছেন?

গল্পপাঠের ক্ষেত্রে আমি তো আমার বিবেচনাই নেবো,-- নয় কি? শেষ পর্যন্ত সবই নিজের জন্য। আমি অনেকের জন্য বেঁচে থাকি, কিন্তু আমাকে বেঁচে থাকার নিমিত্তে আমার শ্বাসটা তো আমাকেই নিতে হয়। শর্ত দিয়ে প্রেম হয় না। আমরা শর্ত বহন করি, তা সত্য,-- সেই হিসাবে গল্প পড়তে পড়তেই তার ভালো-মন্দ বোঝা হয়ে যায়। যৌনতার সুখ আছে, কিন্তু একেবারে কী ধরনের সুখ আছে তা বলে কি কোনোদিন বোঝানো যায়? গল্পের শর্ত পূরণ করার কথা বলতে পারছি না, তবে আমার গল্পটি আমার কাছে যথার্থ মনে হলেই তা শেষ করি। তবে অঙ্ক করে-টরে, ফর্মুলামাফিক তা দেখিয়ে দিতে পারব না। তবে গল্পে শেষ পর্যন্ত একটা গল্প হয়ে উঠার বিষয় থাকতে হয়। গল্পহীন গল্প বলে কিছু নাই। গল্পের ইশারা হলেও থাকবে, হয়ত তা পাঠকের জন্য কিছুই হলো না, কোনো গল্পকার একেবারে গল্পহীন পর্যায়ের গল্প রেখেন বলে মনে হয় না।

১৪. এখন কি লিখছেন?
মহান জনজাগরণ মঞ্চের উপর ভিত্তি একটা উপন্যাস কমপ্লিট করার কাজ করছি। এটি একুশে মেলায় বার করতে চাই। আমার নেয়া দশটি সাক্ষাৎকার নিয়েও একটা গ্রন্থ করার ইচ্ছা আমার আছে।

আগামী ১৪ এপ্রিল আমার প্রিয় গল্পকার কমলকুমার মজুমদারের জন্মশতবার্ষিকী,--তাকে নিয়ে কথার আগামী সংখ্যা করব। কাজেই এ নিয়েও আমাদের নানাধরনের তৎপরতাও আছে।


১৫. আগামীতে কি লিখবেন?
জীবনই লিখব, তাতে হয়ত গল্পের আকার থাকবে, অথবা তা উপন্যাস বা প্রবন্ধের আকারও থাকতে পারে।

১৬. জীবনকে নিয়ে লিখবেন। কিন্তু মৃত্যুকে নিয়ে নয় কেন? জীবনোত্তরকে নিয়ে নয় কেন?

আমি আমার জীবনোত্তর অবস্থাকে নিয়ে কিভাবে লিখব? তা কি সম্ভব? তবে মৃত্যুজনিত বিষয় নিয়ে যে লিখি না, তাতো একেবারেই সঠিক নয়। আমার প্রথম গল্পগ্রন্থের নামই হলো মৃতের কিংবা রক্তের জগতে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের এই বাংলাদেশে, মৃত্যু আর রক্তের বাংলাদেশে মৃত্যু বা মৃত্যুজনিত অবস্থার বাইরে থাকার কোনো ব্যবস্থাই নাই। ফেসবুকে আমার একটা স্ট্যাটাস খেয়াল করেন নাই! আমি লিখেছিলাম, এখন যে অবস্থা চলছে তাতে মনে হয় নিজের কবর নিজেই কান্ধে নিয়ে ঘুরতে হবে! জীবিতরা তো মৃত্যুকে স্পর্শ করার জন্যই যেন বেঁচে আছে। তা-ছাড়া মৃতরা যে জগৎ তৈরি করে দিয়ে গেছে, যে রক্তাক্ত স্মৃতি আমাদের আছে, যেমন, শেখ মুজিব, কর্নেল তাহের, সিরাজ শিকদার, তাজউদ্দীনরা যে রক্তাক্ত মৃত্যুমুখর জীবন দিয়ে গেছেন, মুক্তিযোদ্ধারা যেখাবে মৃত্যুবরণ করেছেন, যেখানে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে মানুষ প্রাণ দিয়েছে, সেখানে মরণোত্তর জীবনের বন্দনা করা ব্যতীত আমাদের দিনযাপনই সম্ভব নয়।
১১.৯.২০১৩--০৯/২/২০১৩


জন্ম ১৯৬৩-এমামাবাড়িতে। কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর থানার সরিষাপুর গ্রামে শৈশব-কৈশোর,যৌবনের প্রাথমিক পর্যায়ও কাটান তিনি। স্কুল-কলেজের পড়াশোনা করেছেন গ্রাম ও গ্রামঘেঁষা শহরে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একাডেমিক পড়াশুনা করেন চট্টগ্রামে। লেখাজোখা তাঁর কাছে অফুরন্ত এক জীবনপ্রবাহের নাম। মানুষের অন্তর্জগতে একধরনের প্রগতিশীল বোধ তৈরিতে তাঁর আকাক্সক্ষা লক্ষ করা যায়। বিভিন্ন জায়গায় --ছোট / বড়োকাগজে তিনি লিখে যাচ্ছেন। তিনি লিখছেন নব্বইয়ের শেষ দিক থেকে।
 কথাসাহিত্যের ছোটকাগজ কথা-র সম্পাদক তিনি। 

তাঁর প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ : মৃতের কিংবা রক্তের জগতে আপনাকে স্বাগতম  (জাগৃতি প্রকাশনী),স্বপ্নবাজি ((ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ) কতিপয় নিম্নবর্গীয় গল্প (শুদ্ধস্বর)
উপন্যাস--পদ্মাপাড়ের দ্রৌপদী (মাওলা ব্রাদার্স)।

এবারের একুশে মেলায় তার 
প্রকাশিতব্য গ্রন্থসমূহ : উপন্যাস > যখন তারা যুদ্ধে (জোনাকী)প্রবন্ধগ্রন্থ কথাশিল্পের জল-হাওয়া (শুদ্ধস্বর)।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন