শুক্রবার, ৮ নভেম্বর, ২০১৩

জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত: গোত্রহীন গল্পের নির্মাণ

জাকির তালুকদার

তাঁর প্রজন্মের সবচেয়ে নিম্নকণ্ঠ-কথাশিল্পী জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত। নিম্নকণ্ঠ কিন্তু লক্ষভেদী এবং দূরগামী। তাঁর নিম্নকণ্ঠ এবং পরিমিত শব্দোচ্চারণ আমাদের অতিকথনবিলাসী পাঠকের কাছে অপরিচিত মনে হওয়াই স্বাভাবিক। অচেনা এবং অস্বাভাবিক। অতিকথনের মেদ থেকে মুক্ত কথাশিল্পীর সঙ্গে সেই প্রথম অপরিচয়ের বাধা এখনো কাটেনি বাংলা ছোটগল্পের পাঠকসমাজের। অন্য লেখকদের সঙ্গেই কি কেটেছে? বোধহয় পুরোপুরি কাটেনি। একটা কারণ হতে পারে জ্যোতিপ্রকাশ দত্তের চার দশকেরও অধিককালের বিদেশবাস। বিদেশবাস একটা যোগাযোগহীনতার দেয়াল যে তুলে রাখে নিরন্তর, সেকথা অনস্বীকার্য। সেই বাধা পেরোনোর দায় যেমন আছে পরবাসী লেখকের, তেমনই আছে স্বভাষী পাঠক ও দেশের লেককদেরও। পরবাসী লেখকের প্রধান দায় হচ্ছে বিদেশে থেকেও শিল্পমানে উত্তীর্ণ রচনা উপহার দেওয়া সেই কাজটি যে জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত নিষ্ঠার সাথে করে চলেছেন, সে ব্যাপারে অভিযোগের কোনো অবকাশ নেই। কিন্তু বাংলাভাষী বৃহত্তর পাঠকসমাজ বা লেখককুল সেই রচনার যথাযথ মর্যাদাদানের উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এতে জ্যোতিপ্রকাশ দত্তের কোনো ক্ষতি হয়নি। ক্ষতি হয়েছে আমাদের তথাকথিত মূলধারার সাহিত্যের। স্বরগ্রাম উঁচুতে না তুলেও যে জীবন এবং শিল্পের কথা খুব জোর দিয়ে বলা সম্ভব, সেই ধারাটি আমাদের এখানে প্রচলিত হতে পারল না। তার ফলে আমরা প্রায়শই কথার ভিড়ে প্রয়োজনীয় বার্তাটি হারিয়ে ফেলছি।

জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত গত শতকের ষাটের দশকের সেই উজ্জ্বল গল্পলেখকদের অন্যতম যিনি সমাজ বাস্তবতার সাথে শিল্পসফলতার মেলবন্ধন ঘটিয়েছিলেন প্রায় সহজাত দক্ষতায়। তাঁর অনেকগুলি সাফল্যের একটি হচ্ছে উপরিতলের বাস্তবতার কুহকবিভ্রমে আচ্ছন্ন ও প্রতারিত না হয়ে গভীরতায় প্রবেশ করতে পারা। সারফেস রিয়ালিটির ধারাবর্ণনাতে তুষ্ট থাকেতে পারে কেবলমাত্র গৌণ লেখকরাই। জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত তাঁর লেখকজন্মের শুরু থেকেই সেই দঙ্গলের বাইরে। পশ্চিমের শিল্প বাস্তবতা পেরিয়ে অ্যাবস্ট্রাকশনে যায়। আর আমাদের এই উপমহাদেশের শিল্প অ্যাবস্ট্রাকশনকে বস্তুর আকার দিতে চায়। শব্দকে ওম চিহ্ন দিয়ে প্রতিভাসিত করেছে উপমহাদেশ। শক্তির রূপ তৈরি করে দেখানোর জন্য, সবদিক সামাল দেবার এবং সর্বদিক জয় করার ক্ষমতার প্রতীক হিসাবে দশভূজা দূর্গার অবয়ব তৈরি করেছে উপমহাদেশ। অ্যাবস্ট্রাকশন দিয়ে রিয়ালিটিকে উপস্থাপন ও ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে তিনি এই দেশে পথিকৃৎ গল্পলেখক। সেকারণেই এই ভূখণ্ডের শিল্প-সাহিত্যের ক্ষেত্রে আধুনিকতার যথার্থ পথিকৃৎ হিসাবে যখন কবিতায় নাম আসে শামসুর রাহমানের এবং শহীদ কাদরীর, নাটকে সাঈদ আহমেদের, ভাস্কর্যে নভেরা আহমেদের; তখন ছোটগল্পের ক্ষেত্রে কোনো দ্বিধা ছাড়াই উচ্চারিত হয় জ্যোতিপ্রকাশ দত্তের নাম। লেখকজীবনের শুরু থেকেই জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত যেন জানতেন বাংলা ছোটগল্পকে তিনি কোন উচ্চতায় দেখতে চান। তাই শুধুমাত্র নিজের লেখাই নয়, ষাটের দশকে তিনি ছোটগল্পের সংগঠক হিসাবেও ভূমিকা পালন করেছেন। একথার প্রমাণ পাওয়া যায় ষাটের গল্পকেন্দ্রিক সকল উল্লেখযোগ্য পত্রিকা যেমন উত্তরণ, পরিচয় ও সপ্তক পত্রিকাতে কখনো নেপথ্য সংগঠক, কখনো সম্পাদক হিসাবে তাঁর সক্রিয় থাকার মধ্যে।

জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত আম-পাঠকের কাছে অপরিচিত হতে পারেন। এমনটি অনেক প্রাগ্রসর লেখকের বেলাতেই ঘটে থাকে। কিন্তু সমকালীনদের দ্বারা যখন আক্রান্ত হন, তখন বুঝতে হবে সাহিত্যের অন্তর্নিহিত রাজনীতি তাঁকে বিপর্যস্ত করার জন্য সক্রিয় ছির পূর্বাপর। তাঁর সমকালীন আবদুল মান্নান সৈয়দ, যিনি নিজে পশ্চিমের কাছে সবচাইতে বেশি হাত-পাতা লেখক, সেই তিনি জ্যোতিপ্রকাশ দত্তের অ্যাবস্ট্রাকশনের সমালোচনা করেন এই বলে যে-- অ্যাবস্ট্রাকশনের মুশকিল হলো যেতে যেতে সে একসময় হয়ে ওঠে জীবনের প্রতিদ্বন্দ্বী। আর জীবনসম্পর্কহীনতা থেকে আর যাই হোক, গল্প জন্ম নিতে পারে না। বাংলাদেশের সর্বাধিক জীবনসম্পর্কহীন লেখক আবদুল মান্নান সৈয়দ দাবি করেন যে জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত হচ্ছেন অ্যাবস্ট্রাকশনে পথ হারানো জীবনসম্পর্কহীন লেখক! তখন তার কথাগুলো বুমেরাং হয়ে মান্নান সৈয়দকেই আঘাত করে। তবে একই সময় যখন বশীর আল হেলাল যখন জ্যোতিপ্রকাশ দত্তকে বলেন জীবন থেকে আত্মনির্বাসিত লেখক তখন আমাদের জীবনের সংজ্ঞাটিকেই নতুন করে ঝালিয়ে নিতে হয়। জীবনের বহুরূপতাকে মিলিয়ে নিতে হয় জ্যোতিপ্রকাশ দত্তের রচনার সঙ্গে, এবং জীবনের সঙ্গেও। জীবন থেকে আত্মনির্বাসিত লেখক কি রংরাজ ফেরে না লিখতে পারেন? বস্তুত জ্যোতিপ্রকাশ দত্তের মতো আর কোনো আধুনিক বাঙালি লেখক জীবনের এতগুলি স্তরের মধ্য দিয়ে পর্যটন করেছেন বলে আমাদের জানা নাই। পেশাগত দিক দিয়েও একথা চরম সত্য। সেই ছাত্রবয়স থেকেই গৃহশিক্ষকতা, মুদি দোকানের সহকারী, প্রেসে প্রুফ রিডিং থেকে শুরু করে মার্কিন মুলুকের বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনার মতো পেশার বিচিত্র স্তরে তিনি পরিভ্রমণ করেছেন। এই পরিভ্রমণ তাঁর রচনাকে সমৃদ্ধ করেছে অবশ্যই। যদিও তাঁর রচনার ধারাবাহিকতা ক্ষুণœ হয়েছে মাঝে মাঝে, তারপরেও তিনি পুনরাবিষ্কার করেছেন বারংবার এবং একের পর এক লিখে গেছেন বৈচিত্র্যসন্ধানী গল্পসমূহ। একদিক থেকে এইসব গল্পগুলিকে ভিন্ন ভিন্ন অভিক্ষেপের ফসল বলে মনে হলেও সেগুলো সাধারণ মানুষের জীবনযাপন এবং জীবনস্বপ্নই ফুটিয়ে তোলে; আর সমস্ত বৈচিত্র্য ও ভিন্নতা সত্ত্বেও আমরা আবিষ্কার করতে পারি, কোথাও যেন একটি বিশেষ ছবির আদলই ফুটে আছে। তখন তাঁর গল্পের চরিত্রগুলি কে কোন অবস্থান থেকে যুদ্ধ করছে তা আর বিবেচ্য থাকে না, সুস্থ জীবনের জন্য সবাই বিরতিহীন অনিবার্য যুদ্ধে জড়িয়ে আছে, এটাই সত্য হয়ে দেখা দেয়।

মনে রাখতে হবে যে, এদেশের মধ্যশ্রেণী ইউরোপের মতো বিবর্তনের মাধ্যমে গড়ে ওঠেনি। তাকে গড়ে তোলা হয়েছে হরেক কিসিমের বিকৃত পথে। সেই কারণে এই মধ্যবিত্ত নিজের পায়ে ভর দিয়ে হাঁটতে তেমন অভ্যস্ত নয়। দেশী বা বিদেশী অভিভাবক ছাড়া এখনো চলতে অক্ষম। এই মধ্যবিত্তের অসংখ্য বিপজ্জনক প্রবণতার একটি হচ্ছে সার্বিক জাতীয় এবং সামাজিক জীবন থেকে নিজেকে ছিঁড়ে নিয়ে নিজের মধ্যে নিবদ্ধ করা। এটাই এককথায় নৈরাজ্যবাদী ব্যক্তির বিচ্ছিন্নবাদ। এই জিনিসটির একটি দার্শনিক সমর্থনও রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরপরই ইউরোপে যার উদ্ভব এবং ষাটের দশকে তার ব্যাপক প্রাদুর্ভাব। আমাদের মতো যেসব দেশে বহুকাল ধরে ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর সাথে বাধ্যতামূলক আদান-প্রদানে সংশ্লিষ্ট থাকায় মানসক্ষেত্রে বহু ধরনের প্রভাবের ঘটনা ঘটেছে, সেখানে একাকীত্ববাদী পশ্চিমা দর্শনের ঢেউ মধ্যবিত্তের একাংশের মধ্যেও তরঙ্গ সৃষ্টি করবে এটাই স্বাভাবিক। জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত সেই দর্শনের সাথে পরিচিত হয়েছিলেন, কিন্তু প্রভাবিত তেমন হয়েছিলেন বরে মনে হয় না। গ্রহণ তো করেনই নি। বরং তিনি এই বিচ্ছন্ন হয়ে যাওয়া ব্যক্তিকে আঁকার চেষ্টা করেছেন তার বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াসমেত। তাঁর কুক্কুরাধম গল্পটিতে যুগপৎ মেরুদ-হীন মধ্যবিত্তের তৈরি হওয়া এবং একই সাথে তার শামুকীকরণ প্রক্রিয়ার পরিচয় পাওয়া যায়।

কাহিনী বা ঘটনাপ্রবাহ জ্যোতিপ্রকাশ দত্তের গল্পের প্রধান উপাদান নয়। তিনি মূলত অনুভূতির অনুবাদ করেন। সেই অনুভূতিগুলির পারম্পর্য গল্পে বজায় রাখতে পারেন কঠোরভাবে। আর সবটুকু মিলিয়ে একটি গভীর ব্যঞ্জনাময় বার্তা পাঠিয়ে দেন পাঠকের কাছে। অপ্রত্যক্ষ বয়নরীতির কারণে রূপক বা প্রতীকের আশ্রয় নেন অহরহ। কাজেই যে পাঠক নিটোল একটি কাহিনী বা আখ্যানের লোভে তাঁর গল্পপাঠে প্রবৃত্ত হন, তিনি হোঁচট খান। কেননা কাহিনীর নিটোলতা তাঁর গল্পে প্রায়শই অনুপস্থিত। আর লেখক, যিনি প্রচুর অধ্যবসায়ের দ্বারা প্রাগ্রসর পরিশীলিত অনুভূতির অধিকার লাভ করেছেন, তাঁর অনুভূতির সাথে সাবলিল একাত্মতা গড়মাপের পাঠক কিংবা প্রথাসিদ্ধ সমালোচক অনুভব করতে পারবেন, সেটা আশা করা যায না। সেই কারণে গড়মাপের পাঠক মুখ ফিরিয়ে রাখেন জ্যোতিপ্রকাশ দত্তের রচনা থেকে। প্রথাসিদ্ধ সমালোচকরাও দাঁত ফুটাতে না পেরে নীরবতা অবলম্বন করেন তাঁর গল্পের প্রসঙ্গে। কখনো মুখ খুলতে বাধ্য হলেও দুর্বোধ্য কিংবা জীবন থেকে নির্বাসিত, বলে নিজের দায়িত্ব সম্পন্ন করেন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, ষাটের দশকের লোকজীবন, স্ফুটনোন্মুখ নাগরিক জীবন ও সমাজজীবন অনেকের গল্পে বিবৃত হলেও ‘জীবন ও আত্মার ইতিহাস, ফুটে উঠেছে জ্যোতিপ্রকাশ দত্তের গল্পেই।

০২.

ইংরেজি গঠনশৈলী বিচারকদের সাথে তাল রেখে বাংলা ছোটগল্পে গল্প বলার ধরনে বেশ কয়েকটি ধারার দেখা পাওয়া গেছে। তবে এই ধারাগুলো একটা অপরটা থেকে একেবারে যোজন যোজন দূরে তা বলা যাবে না। একটি ধারা অনেক সময়েই আরেক ধারার সঙ্গে মিলমিশ করে এগিয়ে যেতে পারে একই লেখকের একই গল্পে। তবে লেখকের মূল প্রবণতা কোনদিকে, সেটি বুঝতে অবশ্য খুব বেশি বেগ পেতে হয় না।

প্রথম প্রবণতাকে বলা যেতে পারে সোপানারোহ পদ্ধতি। স্টিয়ার-স্টেপ কনস্ট্রাকশন। ক্রমশ সিঁড়ি বেয়ে বেয়ে ওঠা। এই দলে বাংলা ছোটগল্পের অনেক দিকপালের অবস্থান। রবীন্দ্রনাথও এই ঘরানারই গল্পনির্মাতা। পরবর্তীতে সতীনাথ ভাদুড়ী থেকে শুরু করে সাম্প্রতিকতম পাঠকপ্রিয় প্রায় সকল গল্পলেখক এই ধারাতেই গল্প নির্মাণ করেন। যেহেতু এই পদ্ধতির সাথে আমাদের প্রাচীন কথকতার মিল আছে, তাই অভ্যাস-সাপেক্ষে বৃহত্তর পাঠকসমাজ একধরনের অনায়াস পাঠ-সুখ লাভ করেন। এই অতি পরিচিত রাস্তাটি সকল বাণিজ্যসফল লেখকই ব্যবহার করে থাকেন।

দ্বিতীয় পদ্ধতিটি তুলনামূলক জটিল। এটিকে আলোচকরা ইংরেজিতে বলেন রকেট কনস্ট্রাকশন। ত্বরিৎ উল্লম্ফন বলা যেতে পারে বাংলায়। এই পদ্ধতিতে ছোটগল্পের সূচনা হয় একটি তুঙ্গ মুহূর্ত বা ক্রাইসিস থেকে। তারপর সেখান থেকে গল্পের কাহিনী এগিয়ে চলে কখনো জোরগতিতে, কখনো ধীরগতিতে। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় অনেক গল্পে এই রীতি ব্যবহার করেছেন। হাসান আজিজুল হক এই ধারার শিল্পী। আছেন সন্দীপন চট্টোপাধ্যায় এবং সুবিমল মিশ্র।

সবচেয়ে বেশি চর্চিত হয় তৃতীয় যে ধারাটি তা হলো সার্কুলার কনস্ট্রাকশন বা ঘূর্ণরেখ গঠন। এই পদ্ধতিতে কাহিনীরেখার চারপাশে থাকে অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যতের নানা অবয়ব। চরিত্র আর পরিবেশ মিলিয়ে সৃষ্টি হয় একটি বৃত্ত। এই ধারাতে রয়েছেন বাংলা ছোটগল্পের অনেক কালজয়ী শিল্পী।

চতুর্থ ধারাটি মিশ্র ঘরানা। মিক্সড কনস্ট্রাকশন। অমিয়ভূষণ মজুমদার, সৈয়দ শামসুল হক এই ঘরানার গল্পকথক।

তাহলে আমরা জ্যোতিপ্রকাশ দত্তকে কোন ঘরানায় ফেলব?

আমি তাঁকে কোনো ঘরানায় ফেরতে অক্ষম।

তাহলে কি তিনি নতুন কোনো ঘরানার একক স্রষ্টা? নাকি নিতান্তই সাইডলাইনের খেলোয়াড়?


উত্তরের জন্য ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া গত্যন্তর নেই।

 

--------------------------------------
জাকির তালুকদার : গল্পকার, উপন্যাসিক, প্রবন্ধকার। 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন