শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৩

লেখার বিষয়ের মধ্যে লেখা নিজেই ঢুকে যায়

সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়

১.  গল্প লিখতে শুরু করলেন কেন?
সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়:  এভাবে বলা যাবেনা। নিঃশ্বাস নিতে শুরু করলাম কেন, বা হিসি করতে শুরু করলাম কবে, বলাটা অসম্ভব। বরং চশমা নিলাম কেন বলা সহজ। মাথা ধরত বলে। সে বোধহয় ক্লাস সিক্স। ডাক্তার বলেছিলেন, না নিলেও চলে, কিন্তু নিলে পাওয়ার কমতে পারে। কিন্তু সে আর কমলনা।

মাঝখান থেকে কতরকম ফ্রেম হল। প্রথমটা ছিল খয়েরি রঙের। চৌকো। চৌকো থেকে গোল হয়ে এখন আবার চৌকো। এবারেরটা পুরো কালো। আগেরটায় একটা লাল দাগ ছিল, এবার সেটাও বাদ। এখন আর ছাড়া যাবেনা। কিন্তু এসব শুধুই ফ্যাশন নয়। সোজা কথা হল, চশমা ছাড়লে এখন আর দেখতে পাবনা। ক্লাস সিক্সে পেতাম, এখন আর না।


২. শুরুর লেখাগুলো কেমন ছিল?

সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়:  ঠিকঠাক মনে নেই। কাঁচা হওয়াই স্বাভাবিক। প্রথম যে গপ্পটা লিখি, তাতে দেবেশ রায়ের প্রচন্ড প্রভাব ছিল, এইটা মনে আছে। ঘ্যানঘ্যানে একটা ন্যারেটিভ, যেন প্রবন্ধ লিখছি, কিন্তু আসলে লিখছি গল্প, এই ব্যাপারটা খুব আকর্ষণ করত। বাকি যা লিখেছি, সেসব কাছেও নেই, হারিয়ে গেছে।

নিজের প্রথম যে লেখাটা পড়ে আমার বেশ ভালো লাগে, সেটার নাম বন্দর ও দিকচক্রবাল। বকখালিতে দুটি মেয়ে ও দুটি ছেলে। প্রায় পুরোটাই সত্যকথন। উনিশশো ছিয়ানব্বই সালে বিশ্বকাপ ক্রিকেট চলছিল। সেদিন ছিল ভারত আর অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচ। বকখালিতে একটিও লোক আসেনি। গোটা সমুদ্রতটে আমরা শুধু চারজন। সেই নিয়ে লেখা। খুব নরম ছিল লেখাটা। এখন পড়লে কেমন লাগবে কে জানে।

এইদুটো ছাপা হয়েছিল। আরও কয়েকটা গল্প ছিল, যা বেশ পছন্দের, কিন্তু ছাপা হয়নি। বর্ষার রাতে সাড়ে বারোটায় বলরামবাটি স্টেশনে নেমে মাইল দুই হেঁটে বাড়ি ফেরা, ঝমঝএ বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে হাঁটা, এই নিয়ে একটা লেখা ছিল। বাজ পড়ছে, ভয় পেয়েছিলাম। পিছনে কুকুর আসায়, ভয় পেয়েছিলাম। একটি সাইকেলও ছিলনা রাস্তায়। এমনকি রাস্তা দিয়ে হাঁটছি, নাকি পাশের মাঠে নেমে যাচ্ছি, সেও বুঝছিলাম না। সাপের ভয় পেয়েছিলাম। পুরোটাই ভয়ের বর্ণনা। সেটা মনে হয় খুব জীবন্ত হয়েছিল। কারণ ওটা আদ্যন্ত সত্যকথন। এখন চাইলেও ওই গল্পটা আর লিখতে পারবনা, কারণ, এখন আর সেই ভয়টা নেই।

৩. গল্প লেখার জন্য কি প্রস্তুতি নিয়েছেন? নিলে সেগুলো কেমন?

সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়:  প্রচুর অনুকরণ করেছি। সন্দীপন চট্টোপাধ্যায় অসম্ভব ভালো লাগত। সন্দীপনের মতো লেখা অভ্যাস করেছি। দেবেশ রায় ভালো লাগত, দেবেশ রায়ের মতো লিখতে চেষ্টা করে গেছি। চেষ্টা মানে শখের চেষ্টা নয়, পাতার পর পাতা। লিখেছি, এবং হলনা বলে ফেলে দিয়েছি। দুঃখ পেয়েছি। সেসব হিরো-ওয়ারশিপ ধরণের ব্যাপার ছিল। কিন্তু নন-সিরিয়াস একেবারেই নয়। ফলে কিছু কলাকৌশল রপ্ত হয়েছে সন্দেহ নেই। তবে সবচেয়ে বড়ো যে ব্যাপারটা হয়েছে, যে, পড়ে বুঝতে পারি, লেখাটা দাঁড়াল কিনা। না দাঁড়ালে ফেলে দিই। এতবার ফেলেছি, যে, ওটা অভ্যাসে আছে। অসুবিধে হয়না। ছিঁড়ে ফেলতে মায়া না হওয়া, আমার জীবনে এইটা সবচেয়ে বড়ো প্রস্তুতি।

৪. আপনার গল্পলেখার কৌশল বা ক্রাফট কি?

সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়:  কৌশল জানতে চেয়েছেন। এটা ঠিক কৌশল নয়, বলব স্ট্র্যাটেজি। কম্পোজিশন আর অনুভূতি, এই দুইএর প্রতি একসঙ্গে সৎ থাকা। এটা হয় কিনা জানিনা। তবে না হলে আমি অনুভূতির সততার দিকে ঝুঁকে যাই। ওইটা বাদ দিলে স্রেফ কম্পোজিশন দিয়ে কিছু হয়না।

এইজন্যই আমার লেখার বিষয়, আর লেখা, এরা আলাদা করে কিছু হয়না। গল্পে সবসময় সেটা না হলেও, উপন্যাসে হয়েই থাকে। লেখার বিষয়ের মধ্যে লেখা নিজেই ঢুকে যায়। সেটা সচেতন কৌশল। তবে ওই, গায়ের জোরে কিছু হয়না। অনুভূতি উল্টো কথা বললে আমি সেদিকে ঝুঁজে যাই। কারণ, শেষবিচারে আমি ইম্পালসিভ।

এই একই কারণে, গল্প যখন শুরু করি, তার শেষটা মূলত আমি জানিনা। নদী তার নিজের ইচ্ছায় গড়ায়। আমি শুধু খড়কুটো মাত্র।

৫. আপনার নিজের গল্প বিষয়ে আপনার নিজের বিবেচনা কি কি?

সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়: এটা আমাকে জিজ্ঞাসা করার কোনো মানে নেই। আমার নিজের গল্প সম্পর্কে আমার উচ্চ ধারণা থাকাই স্বাভাবিক। নইলে সেগুলো প্রকাশ করতাম না।

প্রবন্ধ, বা স্যাটায়ারে এর অন্যথা আছে। কিন্তু গল্প বা উপন্যাসে নেই।

৬. আপনার আদর্শ গল্পকার কে কে? কেনো তাঁদেরকে আদর্শ মনে করেন?

সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়:  কেউ নেই। আমার ছক আমার নিজের। আমার রাস্তা আমার নিজের খোঁড়া। বা, বলা ভালো, আমার গল্পের খোঁড়া। সেখানে আমি জাস্ট ভেসে যাই। কোনো মডেল, কোনো প্রোটাইপ, কোনো আদর্শ, কোনো ঈশ্বর, কোনো প্রণম্য মহাপুরুষের সেখানে কোনো জায়গা নেই।

৭. কার জন্য গল্প লেখেন? আপনি কি পাঠকের কথা মাথায় রেখে লেখেন? লিখলে কেনো লেখেন? আর যদি পাঠকের কথা মনে না রেখে লেখেন তাহলে কেনো পাঠককে মনে রাখেন না লেখার সময়ে?

সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়: পাঠকের কথা ভাবিনা বলা মিথ্যাচার হবে। তাহলে কেনই বা লেখা, কেনই বা প্রকাশ করা। কিন্তু লেখার সময় কী ওসব মাথায় রাখা সম্ভব? তখন নিজেই পাঠক হয়ে যাই। নিজে একবার লিখি, নিজেই পড়ি। নিজের অনুভূতির সঙ্গে পাঠ-প্রতিক্রিয়া মিলে গেলে নিজেই হাততালি দিই। তার চেয়ে ফুর্তির জিনিস হওয়া সম্ভব নয়। নিজের খোরাক নিজেই বানিয়ে নিচ্ছি। আমি জানিনা, চাষীরা যখন নিজের ধান ঘরে তুলে আনে, তখন বোধহয় এরকমই আনন্দ পায়।

৮. আপনার লেখার মধ্যে দ্রুত চাল লক্ষ করা যায়। বহু ভাবনার মিশেল এবং ভঙ্গী লাফিয়ে লাফিয়ে চলে। তবে পা মচকানোর ভয় থাকে না। থাকে তীব্র শ্লেষ আর স্যাটায়ার। বং ব্লেন্ডিংটা হয় ঈর্ষা করার মত। এই ধরনটা বেশে নিলেন কেন?

সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়: এগুলো ঠিক বেছে নেওয়া নয়। পুরোটাই এসেছে, মনে হয়, বিশ্বাসহীনতার জায়গা থেকে। ধর্মে অবিশ্বাস, ঈশ্বরে অবিশ্বাস, বিজ্ঞানে অবিশ্বাস, চরম বা পরম কোনোকিছুতেই অবিশ্বাস, এর পরে হাতে আর কিইবা পড়ে থাকে কিছু চিমটি কাটা ছাড়া?

এসব খুব অস্বাভাবিক নয়। তাত্ত্বিক জায়গাও নয়। আমার অবস্থা অনেকটা গ্রীক সোফিস্টদের মতো। ছোটোবেলা কেটেছে পশ্চিমবঙ্গের গ্রামে। থাকতাম সিঙ্গুরে, তখনও জায়গাটা বিখ্যাত হয়নি। যৌবনের ওঠাপড়া সবই কলকাতা শহরে। তারপর আমেরিকায়, যেখান থেকে কলকাতা কেন, আস্ত ভারতবর্ষকেই গ্রাম মনে হয়। এক জায়গায় বিবাহিত মেয়েরা জিনস পরলেও ট্যারাচোখে তাকানো হত। অন্যত্র সুইমসুট না পরে জলে নামা বারণ। দুটৈ হাস্যকর ছাড়া আর কিছু লাগেনা। আমি একা নই, আমার মতো যারা এতকিছুর মধ্যে দিয়ে গেছেন, পরম কোনো মূল্যবোধের জায়গাটা তাঁদের অনেকটাই নড়বড়ে হয়ে গেছে। সোফিস্টদের যেমন হয়েছিল। আমি ব্যতিক্রম নই।

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে রাজনীতি। নানা ধরণের রাজনীতি করেছি। সবই অল্প অল্প করে। সবতেই একটু করে বীতশ্রদ্ধা জন্মেছে। সেসবের ডিটেল দিয়ে লাভ নেই, কারণ দায় আমারও হতে পারে। কিন্তু রাজনীতি হোক বা মূল্যবোধ, কিংবা অর্থনীতি, নিবিষ্ট ঈশ্বরসাধনার অঙ্গীকারটি গোল্লায় গেছে। কিছু মহৎ ভাব আছে, কোনো মহৎ আইডিয়া আছে, যা, সব বলে দিতে পারবে, এটায় বিশ্বাস নেই। পরিবর্তে পড়ে আছে খন্ড খন্ড ভাবনা। নানা রঙের। আকৃতির। টুকরো-টাকরা।

আমার গোটা লেখালিখিই, এই টুকরো গুলোকে জুড়ে কিছু একটা বানানোর চেষ্টা। ওই কাঁথাসেলাই যেমন হয়। কিছু কাপড় মূল্যবান ছিল এককালে। তার টুকরোরা আছে। এদিক সেদিক বেখাপ্পা এবড়োখেবড়ো টুকরো গুলোকে তাপ্পি মারা, একেই আমি কম্পোজিশন বলি। পুরোটাই জোড়া-তাপ্পি। আর জুড়তে গেলে আঠা কোথায় পাই? বিশ্বাসহীনতা আছে, কোনো মহৎ ভাব নেই তো, যে এসে সব এক দেহে লীন করে দেবে। তাই ইয়ার্কি, ফাজলামো। তাই শ্লেষ। এইসব জোড়াতাপ্পি।

দ্রুত চালটাও এই জায়গা থেকেই। গম্ভীর ভাব অনেক দেখলাম। মহাপুরুষরা বাণী দিচ্ছেন, লোকে ভক্তিভরে শুনছে। বা, গম্ভীর সিনেমা। মহৎ ভাব, ভাবগম্ভীরতা, আর অ্যাবসলিউটনেস, আর গতিহীনতা, সবই জুড়ে আছে মনে হয়। মানে তত্ত্বে নয়, আমার চৈতন্যে। এসব একেবারেই তত্ত্বের কথা নয়। একেবারে অনুভূতির কথা। আমার ক্যালাইডোস্কোপ দেখতে ভালো লাগে। এমনকি খুব স্থির বস্তুরও নড়াচড়া ভালো লাগে। পুকুরের জলে চাঁদের ভেঙে যাওয়া ভালো লাগে। ভালো লাগে ঝিকিমিকি আলো। ন্যারেটিভহীনতা। তীব্র গতি ভালো লাগে। ঘোড়ার খুরের শব্দ ভালো লাগে। একই নদীতে আমি দুবার ডুব দিইনা।

তবে, চিরকাল এরকম লিখি তা নয়। কম বয়সে নরম গদ্য লিখতাম। আবার পরে অন্যরকমও লিখতে পারি।


৯. এই টুকরো টাক্রা জোড়ানোর কথা বললেও কিন্তু একটা পরিপাটি ভাব আছে। সংগঠিত বিষয় আছে। এবং আপনি সহজ করে তত্ত্ব কথাকে চালান করে দিতে পারেন। যেমন ফুকোর ক্ষমতা তত্ত্বটি নিয়ে আপনার এক্টা অসাধারণ বড় লেখা আছে।

সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়: হ্যাঁ, কম্পোজিশন। কম্পোজিশনে গুরুত্ব দিই তো। সব মিলিয়ে জিনিসটা কেমন হল। বেখাপ্পা টুকরোগুলো জুড়ে একটা ডিজাইন তৈরি হল কিনা। এসব খুব গুরুত্বপূর্ণ। সব মিলিয়ে কেমন দাঁড়ায়, সেটা নিয়ে ভিন্নমত থাকতে পারে। কিন্তু আমার তো ভালই লাগে। যার ঈশ্বর নেই, যার গুরু নেই, এমনকি যুক্তিকেও যে সন্দেহের চোখে দেখে, তার তো ওই দুটি জিনিসই সম্বল। ইমপালস আর কম্পোজিশন।

তবে এখানে আরও একটা কথা বলা দরকার। এই নানা জায়গার টুকরো গুলো। আসলে সব জিনিসকে আলাদা আলাদা খোপে ঢেলে ফেলার, আলাদা ডিসিপ্লিনে ভেঙে ফেলার ইতিহাস তো খুব পুরোনো না। এই তো ঊনবিংশ শতাব্দীতেও দর্শন, অর্থনীতি, এমনকি জীব বিজ্ঞানও সেভাবে খুব আলাদা কিছু ছিলনা। জল-অচল ডিসিপ্লিনগুলো শুরু হয়েছে তার পরে। এবং ক্রমশঃ আমরা প্রবেশ করেছি এক্সপার্টদের যুগে। ডিসিপ্লিন গুলো আলাদা হয়ে গেছে। দেবদ্বিজে ভক্তির জায়গা নিয়েছে এক্সপার্টের মতামত। এই নানা বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের দুটি জিনিসে মিল আছে।

এক। তাঁরা যে ভাষায় কথা বলেন, সেটা দেবভাষাতূল্য। সাধারণের অগম্য। এবং চূড়ান্ত। সে নিয়ে আর কোনো প্রশ্ন করা সম্ভব নয়। দুই। এক বিষয়ের বিশেষজ্ঞরা অন্য বিষয়ে নাক গলান না। বিভিন্ন জিনিসে একই বস্তু নিয়ে স্টাডি হয়ে চলেছে, তা অনেক ক্ষেত্রেই পরস্পরবিরোধী। ধরুন, মেয়েরা কেন অবদমিত, এই নিয়ে সোসিওবায়োলজি আর মানবীবিদ্যা সম্পূর্ণ দুই ধরণের মতামত পেশ করে চলেছে। এবং গম্ভীরভাবে।

একজন লেখক হিসেবে, আপনি এর কোনোটাকেই মেনে নিতে পারেন না, বিশেষ করে আপনি যদি জোড়াতালি দেবার পদ্ধতিতে বিশ্বাস করেন। প্রথমতঃ বিষয় গুলো জল-অচল তো একেবারেই না। আপনার মাথায় খন্ড-খন্ড চিন্তা আছে, যার খানিক অর্থনীতি, খানিক বিজ্ঞান। মাথা ধরলে ওষুধ খাবেন কিনা আপনাকে ঠিক করতে হয়, আবার বাজারে জিনিসের দাম বাড়লে কেনাকাটার হিসেব বদলাতে হয়। সব বিষয়ের আধাখ্যাঁচড়া টুকরোটাকরা নিয়েই আপনি একটা সম্পূর্ণ জীবন বাঁচেন। বিশেষজ্ঞ না হয়েও। এই বাঁচাটাকেই আমি কম্পোজিশন বলি। যেখানে জল-অচল কিছু নেই। জীববিদ্যা, দর্শন, জিনের কেরামতি, অর্থনীতি, কলোনি, নানা টুকরো, সব মিলেমিশে যাচ্ছে। নানা ভাবে। তারই একটা প্রকরণ আমার বাঁচা, আমার লেখা।

দ্বিতীয়তঃ এসবের পাঠোদ্ধারের জন্যও কোনো বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন নেই। মাথার পিছনে চাকতিওয়ালা কোনো মহাপুরুষের দরকার নেই। কারণ বিষয়গুলিকে আমি বহন করে চলেছি। এরা আমার শরীরে ঢুকে আছে। আমার শরীরের কথা আমি বুঝি। আমার অর্থনীতির কথা আমি নিজেই বুঝতে পারি। সেসব সোজা-সাপ্টা। এলোমেলো। কিন্তু অর্থহীন নয়।

এখানে আমি মানে ঠিক আমি না। যেকোনো পাতি পাবলিক। যারা ল্যালা। যারা ফ্যাফা। আমি একজন ল্যালা। এবং এই ভাষাকে আমি ল্যালাভাষা বলি। এখানে অহরহ নানা টুকরো আসছে। জীবনে ঢুকে পড়ছে দর্শন, ভুডু, ব্ল্যাক-ম্যাজিক। হোমিওপ্যাথি, বিজ্ঞান, রাজনীতি, হিন্দি সিনেমা। এদেরকে জুড়ে আমি বানাচ্ছি একটি কম্পোজিশন। বিশেষজ্ঞহীন।

১০. এখন কি লিখছেন?

সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়:  কিছু না।

১১.. আগামী কি লিখবেন? 

সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়:  জানিনা। ইমপালসিভ লোকেরা এত প্ল্যান করে রাখেনা।

২টি মন্তব্য: