শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৩

লেখাটা আসলে অনেকটাই কারুশিল্পের মত

শাকিলা তুবা

১. গল্প লিখতে শুরু করলেন কেন?
আমি খুব খেয়ালী মানুষ। গল্প কিংবা কবিতা যা-ই লিখি না কেন কোনো কারনে লিখি না। নিজের ভেতরে লিখবার একটা প্রেরনা অনুভব করি বলেই লিখে ফেলি।

২. শুরুর লেখাগুলো কেমন ছিল?
মনেই করতে পারি না কবে লেখা শুরু করেছিলাম। নিজের লেখা ভাল, এমন কখনো মনে হয়নি। তবে আমার লেখার মূল পাঠক ছিল আমার বন্ধুরা এবং পরিবারের লোকজন। তাদের অনুপ্রেরনাতেই ক্লাস নাইনে থাকতে প্রথম আমার একটা গল্প তৎকালীন পত্রিকা জনকণ্ঠে প্রকাশিত হয়েছিল। এরপরে ওই পত্রিকাতেই আমার আরো কয়েকটা লেখা ছাপা হয়েছিল।
৩. গল্প লেখার জন্য কি প্রস্তুতি নিয়েছেন?
নিলে সেগুলো কেমন? এই প্রশ্নের উত্তর বোধকরি প্রথমেই বলে দিয়েছি। আসলে প্রস্তুতি বলতে তেমন কিছু আমার নেই। মনের ভেতর যে প্লটগুলো আসে প্রায়শঃই সংসারের ঝামেলা সে গুলো ভুলে যাই। আর যেগুলো মনে থাকে সেগুলো অবসরে বসে লিখে ফেলি। প্রস্তুতি বলতে এটুকুই।
৪. আপনার গল্পলেখার কৌশল বা ক্রাফট কি?
হুম এটা তো বলা যাবে না। হাহাহা। এটা খুব গোপন। তবে হ্যাঁ একটা বিষয় আছে। লেখাটা আসলে অনেকটাই কারুশিল্পের মত। মেয়েরা যেমন নকশিকাঁথায় সুঁচের বুননে কাজ ফুটিয়ে তোলে আমিও দিন শেষে তেমনিভাবেই চেষ্টা করি লেখায় একটা কিছু ফুটিয়ে তুলতে। যদিও কখনোই আমি সন্তুষ্ট হতে পারিনি আমার এই ফুল ফোটাবার প্রচেষ্টা নিয়ে, তথাপি চেষ্টা করে যাই। তবে হ্যাঁ, প্রত্যেক গল্পকারেরই যার যার নিজস্ব স্টাইল থাকে। আমিও নিজের মত করেই ফুটিয়ে তুলতে চেষ্টা করি।

৫. আপনার নিজের গল্প বিষয়ে আপনার নিজের বিবেচনা কি কি?
প্রশ্নটা একটু অস্পষ্ট। আমি ধরে নিলাম প্রশ্নটা এমন যে আমি কোন কোন বিষয় নিয়ে লিখি। আসলে প্রথমেই আমি ভাবি যে কোন ঘটনাটা আমাকে নাড়া দিল। এরপরে আমি চাই সেটাকে নিজস্ব উপকরণে সাজাতে। এসবের মধ্যে আমার প্রাত্যাহিক জীবনে ঘটে যাওয়া চিত্রগুলোই আমাকে পরভাবিত করে বেশী।


৬. আপনার আদর্শ বা প্রিয় গল্পকার কে কে? কেনো তাঁদেরকে আদর্শ বা প্রিয় মনে করেন? 

মনে দাগ কাটবার মত বেশ কিছু বাংলায় অনুবাদ রাশিয়ান বই পড়েছিলাম ছেলেবেলায়। মালাকাইটের ঝাঁপি, উভচর মানুষ, ইস্পাত, সার্কাসের ছেলে, মা সহ আরো অনেক। কেন জনিনা পাভেল বাঝোভের মালাকাইটের ঝাঁপি থেকে এখনো বের হতেই পারিনি। এছাড়া বঙ্কিম বা শরৎ তো অস্থি মজ্জায় গেঁথে আছেন। পরবর্তী জীবনে আমাকে প্রবলভাবে প্রভাবিত করেছেন আখতারুজ্জামান ইলিয়াস। উনার লেখা পড়েই মনে হয়েছে এক জীবনে অনেক না লিখলেও চলে যদি তেমন একটা লেখাই কেউ লিখতে পারে! আরেকজন রাশিয়ান গল্পকার আন্তন চেখভের নামও না বললেই নয়।

আসলে কোন লেখকের গল্প ভাল বা কে আমার আদর্শ গল্পকার এই স্বল্প পরিসরে তা বলেও বোঝানো যাবে না। আমি শুধু জানি, ব্যাক্তিজীবন বিষয় নয় লেখায়ও সততা থাকে। যাদের লেখায় আমি সততা খুঁজে পাই তাদের কথাই বললাম। আরো অনেকেই আছেন যাদের কথা বলা হল না বা এই মূহুর্তে মনে পড়ছে না। লেখক যা দেখেন, লেখক যা ভাবেন সেসব পরিচ্ছন্নভাবে লেখায় তুলে ধরতে পারাটাই বোধকরি একজন ভাল গল্পকারের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
৭. কার জন্য গল্প লেখেন?
আপনি কি পাঠকের কথা মাথায় রেখে লেখেন? লিখলে কেনো লেখেন? আর যদি পাঠকের কথা মনে না রেখে লেখেন তাহলে কেনো পাঠককে মনে রাখেন না লেখার সময়ে? --কার জন্যে লিখি এটা আসলে বলা মুশকিল। কেনন যখন লিখি তখন কোনো কিছু না ভেবেই লিখি। লিখবার পরে মনে হয় কাউকে পড়তে দেই এবং তখনই যেহেতু পাঠকের কথা আসে সেক্ষত্রে পাঠক প্রায়োরিটি পেয়ে যায় বলে কিছুটা সংসোধনের প্রশ্ন তখন আসে। সে জন্যে শুধুমাত্র পাঠকের কথা চিন্তা করে লিখছি এমন যেমন বলা যায় না তেমন এটাও বলা যায় না যে পাঠকের কথাও ভাবিনি।
৮. এখন কি লিখছেন? আগামী কি লিখবেন?
--মূলতঃ এখন মাথায় কোনো গল্প নেই। কবিতা লিখছি নিয়মিত। আর একটা উপন্যাস লিখছি। মাঝে মাঝে সেটাও এগিয়ে রাখছি। সময় আমার ভেতর লেখার কি তাগিদ সৃষ্টি করবে তার উপর নির্ভর করছ আগামীতে আমি কি লিখব। শুরুতেই বলেছি আমি লিখি আপন খেয়ালে এবং সময়ই আমার ভেতরে সেই খেয়ালটা তৈরী করে দেয়। অনেক ধন্যবাদ।




লেখক পরিচিতি
শাকিলা তুবা

কবি। গায়িকা। গল্পকার।
প্রকাশিত কবিতার বই : জেগে আছি দুই চোখ।
ব্লগার।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন