রবিবার, ৫ জানুয়ারী, ২০১৪

পাঠকের গল্পভাবনা : সিরাজুল ইসলাম মুকুল-- চাপিয়ে দেবার মানসে বিতর্কিত বার্তা তৈরী করা হলে মন্দই বলি

সিরাজুল ইসলাম মুকুল বাংলাদেশের নোয়াখালির অধিবাসী। তিনি একজন ফেসবুক এক্টিভিস্ট। তাঁকে গল্পপাঠ থেকে গল্পভাবনা বিষয়ে লিখতে অনুরোধ করলে তিনি নিচের সূচনাকথাটি জুড়ে দেন।  একজন সৎ পাঠকের গল্পভাবনার পরিচয় পাওয়া যাবে এখানে। 
-----------------------------------------------------------------------------

আমি একজন কায়িক শ্রমিক। প্রাতিষ্ঠানিক লেখা পড়া নেই। গুছিয়ে কথা বলা শিখিনি। মাঝে মাঝে গল্প পড়তে দেখেন বলে কিছু প্রশ্নোত্তর চেয়েছেন। খুশী হয়েছি। তবে সময় সুযোগ হচ্ছে না, তাছাড়া কি বলতে কি বলি করে সময় চলে গেল। তারপরও কিছু কথা বলা হলো। আমার অনুরোধ, আপনি দেখে আমাকে বলবেন আশা করি, আরো কিভাবে সুন্দর করে বলা যাবে। আপনি হয়তবা বুঝতে পারেন, আমার পড়ার অভ্যাস আছে, তবে কারো মত করে কথা বলি না। জোর চেষ্টা করি নিজের স্বাতন্ত্র্যেই আত্মপ্রকাশটা যাতে হয়।

গল্পপাঠ :১. আপনি শুরুতে কি পড়তেন? 

সিরাজুল ইসলাম মুকুল  : শুরুতে বলতে কি বুঝতে পারি না তো যখন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়তাম তখন বিদ্যালয়ে যেতে চাইতাম না। পড়তে চাইতাম না, প্রায়ই পালাতাম। তবুও বিদ্যালয়ের পড়া পড়তে হতো। ঘরে যখন পিতা মাতা আর বড় ভাইদের কঠোর তত্ত্বাবধানে পড়তে বসতে হতো তখন সুযোগ খুঁজে নিজের বই রেখে বড় ভাইদের বই খুলে বসতাম। পিতা ছিলেন কল্যাণ হাই স্কুলের শিক্ষক। সাত ভাইবোনের মধ্যে তিনজনই বড় ভাই। তারা উপরের শ্রেণীতে পড়েন, কেউ কলেজে কেউ বিদ্যালয়ে। তারা ছিলেন ভাল ছাত্র ভাল ছেলে, যেমন বিদ্যালয়ে তেমনি বাড়িতে পিতামাতার কাছে। আমি ছিলাম বরাবরই খারাপ। পড়ালেখা করতে চাইতাম না, বাড়ি ঘরের অবশ্যকরণীয় কাজকর্ম তাও করতে চাইতাম না, করতে হতো ঠেলায় পড়ে। তাদের প্রত্যেকের হাতেই সাজা ভোগ করতে হতো আমাকে। তাঁরা সবাই পড়ালেখায় খুব মনোযোগী, যেমন বিদ্যালয়ের পাঠ্য পড়ায় তেমনি অপাঠ্য পড়ায়। 

বাড়িতে এঘরে ওঘরে টেবিলে বিছানায় নানারকম বই পড়ে থাকতো। তাছাড়া পিতার সিতানে, সিতান ধারের টেবিলে পড়ে থাকতো নানান গল্পের বই, তার সাথে বালাম বইয়ের মত বড় পরিসরের একটা বইও, উল্টে দেখেছি বইটিতে ছিল বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের আর হোসেন সহিদ সোহরাওয়ার্দীর জেলায় জেলায় সফরের নানা ছবি ভরপুর। খবরের কাগজতো থাকতোই। 

পিতা স্কুল থেকে ফিরতে টিউশনী সেরে আসতে রাত হতো, হাতে থাকতো খবরের কাগজ, ইত্তেফাক নয়ত সংবাদ। উল্টে পাল্টে দেখতাম কিন্তু একাগ্র হতে পারিনি কোন পড়াতেই। তাই বলে শরত চন্দ্রের কাশীনাথের মত ছিলাম না, যে কেউ পড়ছে কেউ খেলছে কেউ পিতামাতার হুকুমের কর্তব্য কাজ করছে আর কাশীনাথ গোলাঘরের কোনায় কম্বল বিছিয়ে বসে উদাস হয়ে নিরুদ্দেশে চেয়ে আছে, মোটেই তেমন ছিলাম না। মাছ ধরা, গাছে চঁড়া, ফল পাড়া, গ্রামের স্বাধীন ছেলেদের সাথে ব্যাটবল খেলা, মার্বেল, পয়সা খেলা, মেলায় নানারকম পয়সার খেলায় জড়িয়ে যেতাম। বাজি বাঁধা খেলা ছাড়া কোন খেলাই ভাল লাগত না। 

বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক পিতার সাত ছেলে মেয়ে খাবারে উপোস করা না লাগলেও খাবার দাবারে ছিল বড় টানাটানি। আমার টানাটানি ভাল লাগতো না, পিতার পকেট কাটা, বাজারের টাকা মারা, বাড়ির ধান চাল নারকেল সুপারি ফল পাকড়া গাছ গাছড়া বেচে দিয়ে ঠিকই ব্যাডমিন্টনের আসর জমিয়ে নিতাম সব খরচই ছিল আমার, ফুটবল ম্যাচ সব খরচই আমার, টাকার টানাটানি হতে দেইনি, রেষ্টুরেন্টে গিয়ে পছন্দের খাবার পেটপুরে খেয়ে নিতাম। বাড়ির মুরুব্বিদের হিসেবে এসব ছিল অবৈধ পন্থা, দুষনীয়, ফৌজদারী অপরাধের মত, জেনেও করতাম। সবার কাছে যেন আমি একটা অপদার্থ। অবশ্য একটা বৈধ আয়ও ছিল আমাকে দিয়ে জাসদের পোস্টার লেখাতো যারা তারা কিছু টাকা দিত, আবার বিয়ে বাড়ির গেটে নানান সাজানীতে রঙতুলির কাজ করিয়ে নিত লোকে তাতেও বৈধ রোজগার ছিল। স্কুল পলায়ন, গৃহপলায়ন কত করেছি গোনা পড়া নেই। ধরা পড়তেই হতো, মার খেতাম জন্মের। ফের ফের মার কিন্তু আমাকে কেউ ফেরাতে পারে নি। তবে শেষের পলায়নে আর ফিরিনি। আজও ফিরিনি। আমি একজন পলাতক মানুষ কিসের আর লেখাপড়া। প্রশ্নের জবাবে বলতে হয়, ফাইভে পড়া কালে ঘরে যত্র তত্র পড়ে থাকা থেকে একটি গল্পের বই পড়ে ফেলি। গল্পের নাম মনে আছে আনোয়ারা, শখানেক পৃষ্ঠার বইটির উপরের কয়েক পৃষ্ঠা ছেঁড়া ছিল বলে লেখকের নাম জানতে পারিনি। আজও জানিনা। 

গল্পপাঠ : ২. এর মধ্যে গল্প পড়া কখন শুরু করলেন? 

সিরাজুল ইসলাম মুকুল  : এই যে বললাম আনোয়ারা মোচড় মেরেছে, সেই থেকেই নিজের চেনা জানা দেখা বোঝা জগত ছাড়িয়ে আরো বড় পরিসরের জগতকে জানার একটা অদম্য আগ্রহ জন্মে গেছে। তখন থেকেই যেখানে যা পেয়েছি পড়ে ফেলেছি। তবে বিদ্যালয়ের পাঠ্য পড়ায় মন বসাতে পারিনি, কখনোই না, আজও না, তারপরেও কি করে আরো কয়েকটা ক্লাশ টপকেছি বিশ্বাস হতে চায় না। তা হয়ত বড়ভাইদের আর পিতামাতার পিটান খেয়ে। 

তবে এর বাইরের যত অপাঠ্য যত নিষিদ্ধ পুস্তকই হোক পড়ার বেগ কমাতে পারিনি, লাঠি পেটা গুতা গাতাও খেতে হয়নি। আপনার প্রশ্নের জবাবে বলব এমন মনে হতে লাগল, মনে হয় জানতে হবে বলেই পড়ি। মনে হলো একটি গল্পের বই মানেই অনেকগুলি জীবন, অনেক অচেনা জায়গা, অননুভূত কত বোধ। না পড়া বই দেখলেই মনে হতো, আমি কিছুই জানিনা এই বইতে যাঁদের কথা বলা আছে, কোন ঘটনার কথা বলা আছে। পড়ে জানবার আগ্রহ বেড়েছে বরাবর, তবে ঠিক মনের মত করে পারিনি। আজও না। 

মনে হয় কি সৌভাগ্যবান এই সময়ের পৃথিবীবাসী আমরা, সকল কিছু লিপিবদ্ধ হয়ে আছে শুধু পড়ে নিলেই হলো। আবার দূর্ভাগ্যবান মনে হয় যখন বুঝতে পারি কত কিছু জানার সুযোগ থেকেও জানতে পারছি না, জানা হবেনা সময়ের জন্য। কোন গল্পের বইকে কখনোই মনে হয়নি কাল্পনিক কাহিনীলিপি, এমনকি মাসুদরাণাকেও না। ছোটগল্প বড়গল্প অনুগল্প উপন্যাস যাই হোক আলাদা করে বিবেচনা করিনি। আমার কাছে গল্পগুচ্ছকে যেমন গল্পের বই মনে হয়েছে বিমলমিত্রের কড়ি দিয়ে কিনলামকেও গল্পের বই মনে হয়েছে। 

তবে হ্যাঁ হাতের কাছে পেয়েছি বেশী শরত বিমলমিত্র রবীন্দ্রনাথ। সিক্স সেভেনে পড়তে বিমলমিত্রের কড়ি দিয়ে কিনলাম দুই খন্ড পড়ে গল্পপড়ার বেগ বেড়েছে, বেগ বাড়ার একটা কারণ হলো বিমল মিত্র সম্পর্কে একজন আলোচকের লেখায় কয়েকটি প্রশ্ন এবং উত্তর পড়েছিলাম কোন এক খবরের কাগজে। প্রশ্ন ছিল, আচ্ছা বিমলমিত্রতো সবচে বেশী রয়্যালটি পান তবে বিমলমিত্রের কোন লেখা টেক্সটবুকে স্থান পায় না কেন? জবাবটা আজো মনে আছে, মনে থাকবেও, জবাব ছিল বিমল মিত্র তার সাহিত্য কর্মে দেখিয়েছেন সত্য পরাজিত নয়, মিথ্যাও পরাজিত নয়। কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের এমন রূঢ় বাস্তবতার মুখোমুখি না আনা-ই ভাল, উচিৎও নয়। বিমলমিত্রের আরো কিছু বই পেয়ে গেছি হাতের কাছে, আসামী হাজির, চৌরঙ্গী, পরস্ত্রী, যে অঙ্ক মেলেনি। 

গল্পপাঠ : ৩.গল্প কেনো পড়েন?

সিরাজুল ইসলাম মুকুল  :  আমার কাছে একটা পর্যায়ে মনে হলো বিদ্যালয়ের পাঠ্য বিষয় পুস্তক আর সমস্ত বিদ্যাবিষয়ের সমন্বয়ই হলো গল্প। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা যখন হলোই না তবে গল্প পড়েই না পড়া বিদ্যাবিষয় জানার সুযোগ পেতে পারি। 

গল্পপাঠ : ৪. জীবনে প্রথম কোন গল্পটি আপনাকে বেশী স্পর্শ করেছিল? কেনো করেছিল? 

সিরাজুল ইসলাম মুকুল  :  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছুটি। ফটিকের জন্য মনটা বড় পোড়ে। স্বাধীনচেতা হয়ে বড় হবার বাসনা যার, তার কষ্টের পরিণতি! 

গল্পপাঠ : ৫. গল্প পড়তেন কিভাবে? কোন কোন সময়ে? কোন কোন পরিবেশে? পরিবারের কেউ বা বন্ধু বা শিক্ষক কি কেউ গল্প পড়তে উৎসাহিত করেছেন? একটি গল্প কিভাবে পড়তে হয়--সেটা কি কেউ কখনো আপনাকে দেখিয়ে দিয়েছেন? : না কেউ দেখিয়ে দেন নি।

সিরাজুল ইসলাম মুকুল  : ছোটবেলা থেকে ছিলাম স্বেচ্ছাচারী, স্বাধীনচেতা। আমাকে দিয়ে কেউ সহজে কিছু পড়াতে পারেনি। না গৃহে, না বিদ্যালয়ে। তবে হ্যা বাড়িতে বড়ভাইদের আর শিক্ষক পিতার পড়ার বইগুলো হাতের কাছেই থাকতো। একসময় পড়তে আগ্রহী হলাম। শেষেরবার গৃহপলায়নের পর আর ফিরিনি। কাজ যোগাড় করে কোথাও থেকে গেছি, আবার চলে গেছি আর কোথাও। পথে চলতে, ফুটপাতে বসে, ট্রেনে চড়ে, পার্কে বসে, পিকনিকে, ভ্রমনে, যখন যেখানে থেকেছি অবসরে পড়ার দরকার মিটিয়েছি। চট্টগ্রামে যেখানে ছিলাম, সেখানে কয়েকজন পড়ুয়া বয়স্য পেয়েছিলাম। তাদের হাতে চলাফেরার সময়ও গল্পের বই থাকত। উল্লেখ করবার মত সেলিম, নিপ্পন। তাদের হাত থেকে নিয়ে প্রথম লা মিজারেবল পড়েছিলাম। বই চেয়ে নিয়ে ধারে এনে পড়েছি কমই, টাকা পয়সা কখনোই বাড়তি ছিল না, তবু বই কেনার অভ্যাসটা হয়ে গেছে। 

গল্পপাঠ : ৬. পড়ে কোনো গল্প ভালো লাগলে কি রকম অনুভূতি হয়? আপনার কি কখনো মনে হয়েছে গল্পের কোনো চরিত্র আপনার নিজের মত। বা চরিত্রটি আপনার মধ্যে চলে এসেছে। কিছুদিন তার মত করে চলাফেরা করতে শুরু করেছেন?

সিরাজুল ইসলাম মুকুল  : ভালো লাগলে গোচরে অগোচরে লেখককে সাধুবাদ জানাই। গল্পটি মাথায় থেকে যায়। হতে পারে পুরো গল্পটি, হতে পারে কোন সংলাপ, হতে পারে কোন বর্ণনার অংশবিশেষ। হ্যা কোন কোন চরিত্রকে অনেক সময় মনে হয়েছে যেন আমার মতই। পরক্ষণে ভ্রম স্বীকার করেছি। তবে হ্যাঁ হতে চেয়েছি, চাই। 

গল্পপাঠ : ৭. একটি গল্পের কি কি বিষয় আপনাকে টানে? অর্থাৎ একটি ভালো গল্প হয়ে উঠতে হলে গল্পের মধ্যে কি কি বিষয় থাকা দরকার বলে মনে করেন? 

সিরাজুল ইসলাম মুকুল  : রস থাকা চাই। ঘটনে বা ঘটনসম্ভাব্যতায় বাস্তবতা থাকা চাই, দরকারি বার্তা চাই, গড়নে বর্ণনে শিল্পমানতো চাইই। 

গল্পপাঠ : ৮. সে রকম গল্প কোন কোন গল্পকারের মধ্যে পেয়েছেন? কিছু গল্পের নাম বলুন। 

সিরাজুল ইসলাম মুকুল  :  বিভূতিভূষনের অনুবর্তন। শীর্ষেন্দুর মানবজমিন। অনেক গল্পের কথা মনে আছে কিন্তু গল্পের এবং গল্পকারের নাম মনে নেই। খবরের কাগজে পড়া একটি গল্পের কথা সামান্য বলি- লেখক ঠাঠারী বাজারের একেবারে বাজারী গমগমের কাছাকাছি কোন এক ঘরে বাস করেন। নিয়মিত গল্প লেখেন, সুনাম সুখ্যাতি দিন দিন বাড়ছেই। কাগজঅলারা গল্প চেয়ে আগাম সম্মানীও দেন। একবার কোন এক কাগজঅলা লেখককে এমনভাবে চুক্তিবদ্ধ করলেন যেন তিনি এখন থেকে সব গল্পই অন্য কাউকে দিতে পারবেন না। তাতে লেখককে তারা একটা সুবিধা দিল একটা নির্জন বাড়ি, যত্ন আত্মি সুবিধাদির কমতি নেই সেখানে। লেখক সেখানে থাকতে লাগলেন, সুবিধাদি যথেচ্চ ব্যবহার করতে লাগলেন। কিন্তু লেখা জোকায় কোনভাবেই আর মন বসাতে পারলেন না। গল্পটিতে মনে হয়েছে যে যেভাবে প্রকাশে অভ্যস্ত তাকে অন্যভাবে নিয়ে এলে স্বাভাবিক প্রকাশে ব্যত্যয় ঘটে, মেধার বিনাশও হতে পারে। 

এমন আর একটি গল্প লেখক সম্ভবত শংকর। বড়লোকের ছেলে গল্প লেখার শখ। লিখতে পারছেও বেশ। সুনাম হচ্ছে। নানা দিক থেকে আরো লেখার উৎসাহ আসছে। আসছে ঈদ সংখ্যায় একটা গল্প দেবেন বলে এক কাগজঅলার সাথে চুক্তি হয়েছে। কিন্তু সমস্যা হয়ে গেছে লেখকের ভাবনার একাগ্রতায়। একাগ্র ভাবনায় গেলেই বাড়িসুদ্ধ মানুষ এসে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। সকলে মিলে লেখককে অসুস্থ গণ্যে এনে নানা রকম পরামর্শ দিতে শুরু করে, ডাক্তারও আনা হয়। তাতে লেখকের পক্ষে ভাবা অসম্ভব হয়ে পড়ে। দিনে দিনে এমন হয়ে পড়ে লেখক কোনপ্রকারেই আর নিজেকে একলা করতে পারে না, গল্প লেখা হয় না। বড়লোকের ছেলে লেখক একদিন কাউকে না জানিয়ে এক আবাসিক হোটেলে উঠে শুধুমাত্র লিখবার জন্য। কিন্তু গল্প লেখা শেষ হবার আগেই পুলিশের গোয়েন্দা শাখার লোক এসে তাকে ধরে নিয়ে বাড়ি পৌছে দেয়। গল্পটির নাম ছিল সম্ভবত গল্প লেখা হলো না।

আসলে ভাল লাগা গল্পতো অনেক আর সব গল্পের নাম মনে নেই, সংগ্রহেও নেই। তথ্য সূত্রের কোনদিন প্রয়োজন হবে এ কথা কখনো মনে হয়নি। পড়েছি পড়তে ভাল লেগেছে বলে। লেখকের কাছে কৃতজ্ঞ থেকেছি। পথে পথে দুয়ারে দুয়ারে ঘোরা মানুষ, কম বেশী সবার কাছেই শিখেছি, পেয়েছি। যা দিয়ে নিজের মতামত তৈরী হয়েছে। তা দিয়ে নিজের মত করে বলতে শিখেছি।

গল্পপাঠ : ৯. কি কি কারণে কোনো গল্প মন্দ হয়ে ওঠে? এ রকম কি ঘটনা ঘটেছে যে এক সময় মনে হয়েছিল গল্পটি ভালো--পরে তা মন্দ লেগেছে?

সিরাজুল ইসলাম মুকুল  :  চাপিয়ে দেবার মানসে বিতর্কিত বার্তা তৈরী করা হলে মন্দই বলি।

গল্পপাঠ : ১০. এ সময়ের কোন কোন গল্পকারের গল্প আপনি পড়েছেন বা পড়েন? সেগুলো কেমন লাগে? ভালো লাগলে কেনো ভালো লাগে? মন্দ লাগলে কেনো মন্দ লাগে? কারণগুলো বিস্তারিত লিখুন।

সিরাজুল ইসলাম মুকুল  :  এখন শীর্ষেন্দুর যাও পাখি পড়ছি। বহেরু  ব্রজগোপাল চরিত্র টানছে খুব। কিছুদিন থেকে গল্পপাঠ থেকে কয়েকটা গল্প পড়েছি। তাছাড়া কদিন আগে পড়লাম মিলি সুলতানার গল্পের বই দেহকর, তাতে বেশ কটা গল্প আছে। এছাড়া মিলি সুলতানার ওগো সুকন্যা । প্রতিটি গল্পই বাস্তবতায় জ্বাজ্বল্য , পড়তে মন লাগে। ভাল মন্দ কেন লাগে জবাবটা আমার কাছে কঠিন। তবু বলব, নিজের অতিবাহিত আয়ূস্কালে দৃষ্ট কল্পিত লব্ধ-উপলব্ধ বিষয় বা ধারণা কোন গল্পে তুলে আনা হয়েছে দেখলে ভাল লাগে। আবার ঠিক এর বিপরীত হলে মন্দ লাগে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন