মঙ্গলবার, ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৪

রুপঙ্কর সরকারের গল্প পাঁচটা তেত্রিশের ডাউন ট্রেন


( এই গল্পটি যতদূর মনে পড়ে ১৯৬৫ সালের লেখা আমার প্রথম গল্প। তখন পূজোর সময়ে ‘পূজোর বই’ বলে একটা স্যুভেনীর বেরোত বড় বড় পূজোর উদ্যোক্তাদের তরফে। এখন হয়ত শুধুমাত্র বিজ্ঞাপন ছাপা হয় সেই ধরণের বইতে। তেমন বই ছাপা হয় কিনা আদৌ, তাও জানিনা। আমাদের কেয়াতলা পল্লী সমিতির পূজোর বইয়ে ছাপার জন্য আমার কাছে গল্প ছেয়েছিলেন পাড়ার দাদারা। আরো অনেকের লেখাও ছিল। দু একজন প্রখ্যাত লেখককেও ধরা হত লেখার জন্য। মানুষ পড়তও সে সব বই। আমার গল্পটাও অন্তত পাড়ার লোকেরা আগ্রহ নিয়ে পড়েছিলেন বলে লোকমুখে শুনেছিলাম। সতের বছর বয়সে ছাপার অক্ষরে নিজের লেখা দেখে যারপরনাই উত্তেজনা হয়েছিল। এখন ভাবলেও হাসি পায়।

সেসময়ের অসবর্ণ বিবাহে আপত্তি, রেলের স্টীম এঞ্জিনের ভূমিকা, পোস্ট কার্ডে লেখা চিঠি, এসব এখনকার চিন্তনে খাপ খাওয়ানো মুশকিল, তবু ইচ্ছে হল গল্পটা আবার লিখতে।
তখন অবশ্য গল্পটার নাম ছিল, - ‘জ্যাঠামশাই’।)

পাঁচটা তেত্রিশের ডাউন ট্রেন


সূপর্ণা খুব কাঁদল একচোট। আমি সান্ত্বনা দিতে কাঁধে হাত রাখতেই ছিটকে সরে গেল। বলল, যারা বাবা জ্যাঠার ধুতির কোঁচা ধরে ঝোলে, তাদের প্রেম করতে যাওয়ার আগে দুবার ভাবা উচিত। মিছিমিছি আমার জীবনটা নষ্ট করে দিলে তো। আমি বললাম, দেখ জীবন নষ্ট করার মত তেমন কিছু – সুপর্ণা বলল, মেয়েদের জীবন কিসে নষ্ট হয় তা বোঝার মত চেতনা তোমায় দিয়ে পাঠাননি ভগবান। এগুলো ঠিক খেলাধূলোর পর্য্যায়ের ব্যাপার নয়। যাক, এই আংটিটা রাখ। আমি বললাম, আরে এটা অন্তত তোমার কাছে থাকনা, তোমার জন্যই তো এটা আমি - ফেরত নেবার জন্য হাত বাড়াচ্ছিনা দেখে আমার পায়ের কাছে সেটা ছুঁড়ে দিয়ে চলে গেল সুপর্ণা। না একবারও পেছন ফিরে তাকায়নি, রুমাল দিয়ে চোখও মোছেনি গলির মোড় অবধি যতদূর দেখা যায়।

একটা বেশ মিষ্টিমত প্রেমের গল্প হঠাৎ শেষ হয়ে গেল। আমি বখাটে ছেলে না, পড়াশোনা শেষ করে চাকরিও পেয়েছি একটা মোটামুটি। এই প্রেমঘটিত ব্যাপার স্যাপারে মেয়েদের বাড়ি থেকেই আপত্তিটা ওঠার কথা, কারণ সুপর্ণা ব্রাহ্মণকন্যা কিন্তু আমি অন্য জাতের। তবুও তা কিন্তু হয়নি, ওদের বাড়িতে প্রায় কোনও আপত্তিই ওঠেনি। আমি প্রবাসে চাকরি পেয়েছি, দিল্লীতে। ইচ্ছে ছিল একেবারে বিয়েটা সেরে দুজনে দিল্লীর ট্রেনে উঠব। আমাদের বাড়িতে বিয়ের কথা নিজের মুখে বলার রেওয়াজ নেই তাই বড়বৌদিকে দিয়ে কথাটা পাড়িয়েছিলাম। জ্যাঠামশাই একটাই শব্দ উচ্চারণ করেছিলেন, ‘না’।, বৌদি তখনও দাঁড়িয়ে ছিলেন দেখে তিনি বললেন, ওর বিয়ের শখ জেগে থাকলে ঘটকমশাইকে খবর দাও। আমাদের বাড়িতে নিজে সম্বন্ধ করে বিয়ে কোনওদিন হয়নি, হবেওনা। তাছাড়া বামুনের মেয়ে এবাড়িতে ঢুকবেনা।

সুপর্ণার চলে যাওয়াটা দেখতে দেখতেও বুঝতে পারিনি এটা সত্যি সত্যিই একটা বিচ্ছেদের গল্প। মনে হচ্ছিল মাঝে মাঝেই ঝগড়া করে, চলে যাচ্ছি বলে মোড় অবধি গিয়ে বুড়ো বাদামওয়ালার কাছ থেকে চিনেবাদাম কিনে যেমন ফিরে আসে, এবারও তেমনি হবে। ও চলে যাওয়ার আধঘন্টা পরে খেয়াল হ’ল, সুপর্ণা আর আসবেনা। কী হবে আমার? ও যে চলে গেল? চলে যাবেনাই বা কেন, আমিই তো তাড়িয়ে দিলাম। মুখের ওপর না বলে দিলাম। জ্যাঠামশাই বারণ করেছেন না? আমার কী হবে? বুকের ভেতর ফাঁকা ফাঁকা লাগছে কিরকম। সব কেমন অন্যরকম হয়ে গেল। মাথার মধ্যে ওলটপালট হচ্ছে, পার্কের রেলিংটা ধরে ফেললাম, না হলে পড়ে যাচ্ছিলাম। জ্যাঠামশাই কড়া ধাঁচের মানুষ তা জানি, কিন্তু এমন যে হবে, তা ভুলেও ভাবিনি। কত স্বপ্ন ছিল সুপর্ণাকে ঘিরে, আমাদের দিল্লীর বাড়ি, হিন্দী না জানা সুপর্ণার কথা শুনে প্রতিবেশিদের হাসি, আমাদের ছোট্ট মেয়ে, পূজোয় কোলকাতা আসা – সব স্বপ্ন কেড়ে নিল ওই লোকটা, সব শেষ। ওই লোকটা আমার জ্যাঠামশাই হয়। ওকেও শেষ হতে হবে, হ্যাঁ, হবে।

জ্যাঠামশাইকে তো আর বাঁচতে দেয়া যায়না। ওই লোকটার বেঁচে থাকার কোনও অধিকারই নেই। তবে মাথা গরম করে কাজ হবেনা, আমি চিরকালই একটু ঠান্ডা মাথার। যা করি, ভেবে চিন্তেই করি। ভেবে চিন্তেই ঠিক করেছি, জ্যাঠামশাইকে যেতে হবে। না, মাথা গরম করে এমন সিদ্ধান্ত নিইনি। লোকটাকে যেতে হবে, কিন্তু কী ভাবে ? আমি খুন টুন করতে পারবনা। ঝাঁটার বাড়ি দিয়ে আরশোলা মারতে আমার হাত কাঁপে। যদিবা বাধ্য হয়ে মারি, আরশোলাটা চিত হয়ে পড়ে পা গুলো যখন শুন্যে ছোঁড়ে, তাই দেখেই আমি কেঁপে যাই। আমার দ্বারা খুন টুন হবেনা কিন্তু লোকটাকে যে মরতে হবে, কী করা যায় ? ভাবি একটু, ভাবলে অনেক কিছু পাওয়া যায়, ভাবি, একটা উপায় বেরোবেই।

আমার বাবা মা নেই। কেন নেই তা জানিনা, কেউ বলেনি আমায়। খুব ছোটবেলার স্মৃতিও নাকি মাঝে মাঝে ভেসে ওঠে। আমিও মাঝে মাঝে চোখ বন্ধ করলে দাউ দাউ করে জ্বলা আগুন দেখতে পাই আর অনেক লোকের চিৎকার আবছা আবছা শুনতে পাই। আমায় কোলে নিয়ে কে যেন দৌড়চ্ছে। আমার নরম চামড়ায় খু্ব বিঁধছিল তার ঝাঁটার মত গোঁফ, এটুকু মনে পড়ে। জ্যাঠামশায়েরও মস্ত বড় গোঁফ। কে জানে আসল ব্যাপারটা কী। ছোটবেলায় জ্ঞান হওয়া ইস্তক জ্যাঠামশাইয়ের বাড়িতেই তো আছি। খুব আদরে মানুষ হয়েছি। আমার তিন দাদা, মানে জ্যাঠামশায়ের তিন ছেলে, খানিকটা হিংসাই করত আমাকে। সব চেয়ে বড় মাছটা আমার পাতে পড়ত, পূজোয় আমার জামা সবচেয়ে দামি। দাদারা কেউ কিছু বললেই শুনত, লজ্জা করেনা, বাপ মা মরা ছেলেকে হিংসে করতে ? জ্যাঠামশাই নিজে পড়াতেন আমাকে। দাদাদের জন্য একটা রোগা, ক্যাংলা টাইপের মাস্টার আসত। দাদারা পান থেকে চূণ খসলেই চড় চাপাটি খেত, কিন্তু আমি, দুষ্টুমি করলেও কোনওদিন কি অন্ততঃ বকুনি খেয়েছি ? মনে তো পড়েনা। আচ্ছা এত সব ভাবছি কেন ? ওই লোকটা আমার জীবন নষ্ট করেছে, ওকে মরতে হবে, ব্যাস।

আমাদের বাড়ির বারান্দায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভাবছিলাম। আমাদের বাড়ি মানে, জ্যাঠামশায়ের বাড়ি। জ্ঞান হওয়া ইস্তক এখানেই আছি বলে, আমাদের বাড়িই বলি। আমার এখন একটাই কাজ, ভাবা। আমি জানি ভাবলে সব সময়ে একটা না একটা রাস্তা বেরিয়ে আসে। দিল্লীতে জয়েন করতে হবে এই সপ্তাহের মধ্যে। যা কিছু করার এর মধ্যেই করতে হবে, কিন্তু কী করতে হবে, কিছুই তো মাথায় আসছেনা। এখন বিকেল, সাড়ে পাঁচটা আন্দাজ বাজে, হঠাৎ দূর থেকে একটা বিকট ভোঁ শুনতে পেলাম, আর একরাশ কালো ধোঁয়া চোখে পড়ল। বুঝলাম নতুন এক্সপ্রেস ট্রেনটা আসার সময় হয়েছে। ডান দিকে কিছুটা গাছপালার আড়ালে আছে, বাঁকটা ঘুরল এবার, যমদূতের মত বিশাল ক্যানাডিয়ান এঞ্জিনটা ছুটে আসছে গুম গুম আওয়াজ করে। যাঁরা চড়েন তাঁদের কথা জানিনা, যাঁরা দেখেন তাঁদের তো বুক কেঁপে যায় আসেপাশে থাকলে। আমাদের বাড়ির সামনের স্টেশনে ট্রেনটা দাঁড়াবেনা, এটা এক্সপ্রেস, নতুন চালু হয়েছে। যেদিন যায়, তার পরদিন ফেরে।

ট্রেনটা ঘাড়ের ওপর এসে পড়ল। আমাদের, মানে, জ্যাঠামশায়ের বাড়িটা স্টেশনের খুব কাছে, প্রায় ঘাড়ের ওপর দিয়েই রেল লাইন চলে গেছে। মাটি কাঁপিয়ে বিভীষিকার মত দানবটা ছুটে আসছে। আমার পায়ের তলায় বারান্দাটা কাঁপতে আরম্ভ করল। যবে থেকে গাড়িটা চালু হয়েছে, বিকেল পাঁচটা তেত্রিশ বাজলেই লাইনের আসেপাশের বাড়িগুলো কাঁপতে থাকে। পায়ের তলার কাঁপুনিটা কি মাথা অবধি পৌঁছয়? আমার মাথায় যে ঝিলিক মেরে গেল চিন্তাটা? আমার রাস্তা খুলে গেল। এ বাড়ি সাবেক কালের, বারান্দা অনেক চওড়া। আমার বাঁ দিকে রাখা আছে একটা মেহগিনি কাঠের খুব ভারি আলমারি। এটা আগে মেজদার ঘরে ছিল, এখন নতুন হালফ্যাশানের ফার্নিচার কিনে এটাকে বিদায় দেবার তালে ছিল। জ্যাঠামশাই বললেন, না, পুরোন জিনিষ, আমি যতদিন বেঁচে আছি, বাড়ির বাইরে যাবেনা। একগাদা পুরোন বই ঠাসা সে এখন বারান্দায়। কী বলেছিলেন তিনি ? আমি যতদিন বেঁচে আছি – বাঃ এবার তুমিও যাবে, ইনিও যাবেন, একসঙ্গেই। এখন দাদারা সব অফিসে কিংবা ফেরার ট্রেনে, বৌদিরা ঘরে। শুধু জ্যাঠামশাই এই সময়ে বারান্দাতেই থাকেন, একটা গীতা না কী যেন মুখস্থ করেন মাটিতে বসে। আজ শরীর খারাপ বলে আসেন নি। যে সুযোগ খুঁজছিলাম, তা হাতের মুঠোয়। একখানা করাত ছিলনা এ বাড়িতে?‌

আজ আমি এই মফঃস্বল শহর থেকে অনেক দূরে। মানে, সেরকমই তো হবার কথা। কেননা হাওড়া স্টেশন থেকে আমার রিসার্ভ করা বার্থটা নিয়ে দিল্লীর ট্রেন ছেড়েছে অনেকক্ষণ। ছোটদা তুলে দিতেও এসেছিল। সে অবশ্য জানেনা যে আমি বর্ধমানে নেমে আবার লোকাল ধরে ফিরে এসেছি। আমাদের স্টেশনের আগে ছোট খালটার ওপরে যে রেলের ব্রিজটা আছে, তার থামের আড়াল থেকে তাকিয়ে আছি আমাদের বারান্দাটার দিকে। বিকেলে পড়ন্ত সূর্যের আলো এসে পড়েছে বারান্দায়, ঐ তো, ঐ তো বুড়ো বসে আছে গীতা হাতে। যদিও বিশাল একটা আরাম কেদারা আছে বাড়িতে, জ্যাঠামশায় বারান্দার মাটিতেই বসেন দেয়ালে ঠেস দিয়ে। আজও তেমনি বসে, তবে গীতা পড়ছেন না, সেটা কোলের ওপর পাতা খুলে উলটো করে রাখা। চোখ বুজে কী ভাবছে লোকটা? আমার সর্বনাশ করার জন্য অনুতাপ হচ্ছে নাকি? পশ্চিমের লালচে আলোয় মুখটায় বড় মায়া মাখানো। খোঁচা খোঁচা গোঁফ নিয়ে আমায় কোলে করে কে পালাচ্ছিল আগুনের শিখা টপকে? কে আমায় বুক দিয়ে আগলে মানুষ করল এতকাল? সুপর্না চলে গেছে ঠিক, কিন্তু এই ছাতাটা মাথার ওপর থেকে সরে গেলে কী হবে ভাবতেও পারিনা। সাড়ে পাঁচটা বেজে গেছে। এ আমি কী করছি, না না, এ হতে পারেনা। চীৎকার করে বলব, জ্যাঠামশাই সরে যান ওখান থেকে ? আলমারির পায়াটা আলগা করা আছে, সরে যান - বলব? এত দূরের চীৎকার শোনা যাবে? গুম গুম করে আওয়াজ হচ্ছে। যমদূতের মত সামনে তারা আঁকা কালো দৈত্যটাকে দেখা যাচ্ছে এবার। জ্যা-ঠা-ম-শা-ই – এসে পড়ল এঞ্জিনটা। মাটি কাঁপছে, বুকের মধ্যে হাতুড়ির বাড়ি পড়ছে আমার। কী করি এখন? পরম শান্তিতে কোলের ওপর উল্টে রাখা বইটা নিয়ে বসে আছেন আমার জ্যাঠামশাই, আমার বাবা, আমার মা, আমার শিক্ষক, এঞ্জিনটা ব্রিজে উঠে পড়ল। আমি দুহাতে মুখ ঢেকে পালিয়ে এলাম। না, ও দৃশ্য আমি দেখতে পারবনা।

সারা রাত কোথায় কাটিয়েছি মনে নেই। শুধু মনে আছে জ্বর এসেছিল আমার। কী ভীষণ অস্থিরতা মাথার ভেতর, বলে বোঝানো যাবেনা। তা বলে পরদিন ট্রেনে রিজার্ভেশনের কথা ভুলিনি। চেপে বসেছি দিল্লীর ট্রেনে। কাজে জয়েনও করেছি দিল্লী গিয়ে। দু তিন দিনে খানিক ধাতস্থ হ’লাম। যা করেছি, তা ঠিক না ভুল, তাই নিয়ে সমানে মনের মধ্যে লড়াই চলছিল। যতক্ষণ কাজের মধ্যে থাকতাম, ততক্ষণ ভুলে থাকলেও কোয়ার্টারে ফিরেই পাপের যন্ত্রণা বিঁধত আমায়। কিন্তু যা হয়ে গেছে, তা তো আর ফেরানো যাবেনা। মাঝে মাঝে তাই সুপর্ণার ব্যাপারটা দিয়ে নিজের স্বপক্ষে যুক্তি খাড়া করার চেষ্টা করতাম। সে চেষ্টা ব্যর্থ হত অচিরেই।

বেশ ক’দিন পর একখানা পোস্টকার্ড পেলাম, বড়দার লেখা –
কল্যানবরেষু,
অত্যন্ত পরিতাপের সঙ্গে জানাচ্ছি, আমাদের পিতৃদেব গত চৌঠা অগস্ট বৈকাল পাঁচটা আঠাশ মিনিটে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে স্বর্গবাসী হয়েছেন –

পাঁচটা আঠাশ ? আঠাশ ? ভুল পড়ছিনা তো? কিন্তু তা কী করে সম্ভব? আবার লিখছে হৃদরোগে – বাকিটা পড়িতো –

তোমার নতুন চাকরি, তাই এগারদিন ব্যাপী অশৌচ পালন ও পারলৌকিক ক্রিয়ার সঙ্গে তোমাকে জড়াতে চাইনি বলেই তোমাকে টেলিগ্রাম করে সে কথা জানাইনি। এর জন্য তুমি দুঃখ কোরনা। বাবার মৃত্যুর সঠিক সময়টা জানাও গেছে অদ্ভুতভাবে। তাঁর দেহান্তের পাঁচ মিনিট পরে, পাঁচটা তেত্রিশের ডাউন গাড়িটি যাবার সময়ে পাশে রাখা আলমারিটি ভেঙে পড়ে বাবার দেহের ওপর। তাই অত্যন্ত অনিচ্ছা সত্বেও পোস্ট মর্টেম করাতে বাধ্য হই আমরা।
হ্যাঁ, যেকথা তোমায় আগে জানানো হয়নি, তুমি দিল্লী রওয়ানা হবার কিছুক্ষণের মধ্যেই তোমার বড় বৌদিদিকে ডেকে তিনি বলেন, বাপ মা মরা ছেলেটা ওখানে হাত পুড়িয়ে কী খাবে, অসুখে পড়বে তো। তুমি বরং সেই বামুনবাড়িতেই খবর পাঠাও। এখন তো এক বৎসর কালাশৌচ, তার পরই তোমার বিবাহের আয়োজন করা হবে। তুমি তাঁদের এই সংবাদটি দিও।
ইতি।
আশীর্বাদক,
তোমার বড়দাদা

(পুনর্লিখন – ২৭/১০/২০১৩)


লেখক পরিচিতি
রূপঙ্কর সরকার
বয়স : ৬৫ বছর।

প্রধাণতঃ নাট্যকার ও নির্দেশক। এখন শারীরিক কারণে 
নাটকের ধকল সহ্য হয়না বলে গল্প লিখছেন।
বার্ড ওয়াচার। আলোকচিত্র শিল্পী। 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন