বৃহস্পতিবার, ১০ এপ্রিল, ২০১৪

বাংলা গল্পের অন্য দিগন্ত : নীহারুল ইসলাম

শ্যামল রায়

সমসাময়িক গল্পকারদের মধ্যে নীহারুল ইসলাম (জ. ১৯৬৭) একটি উল্লেখযোগ্য নাম। বিগত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশক থেকে তাঁর গল্প লেখার সূত্রপাত ঘটে। তার আগে কবিতাচর্চার মধ্য দিয়ে তিনি শব্দের চয়ন, বয়ন ও সৌন্দর্য সৃজনের কৌশলটি করায়ত্ত করে নিয়েছিলেন। বহরমপুর থেকে প্রকাশিত ‘রৌরব’, পত্রিকায় তাঁর প্রথম গল্প ‘ফুলি’ প্রকাশিত হয়। তারপর থেকে ধারাবাহিক ভাবে দুই বাংলার পরিচিত-স্বল্প পরিচিত প্রায় শতাধিক পত্রিকায় নীহারুলের আনুমানিক আড়াই শত গল্প প্রকাশিত হয়েছে। অপ্রকাশিত গল্পের সংখ্যাও প্রায় অর্ধ শতাধিক। সঙ্গত কারণেই বিশিষ্ট সমালোচক সুধীর চক্রবর্তী ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় নীহারুলকে ‘বহুপ্রজ’ গল্পকার বলে উল্লেখ করেছিলেন।
এ পর্যন্ত নীহারুলের প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা চারটিঃ ১। পঞ্চব্যাধের শিকার পর্ব (১৯৯৬); ২। জেনা (২০০০); ৩। আগুনদৃষ্টি ও কালোবিড়াল (২০০৪); ৪। ট্যাকের মাঠে মাধবী অপেরা (২০০৮)।

নীহারুলের প্রথম গল্প সংকলন ‘পঞ্চব্যাধের শিকার পর্ব’ (দিবারাত্রির কাব্যঃ ১৯৯৬) গ্রন্থটির ভূমিকায় বিশিষ্ট ছোটগল্প লেখক সাধন চট্টোপাধ্যায় সপ্রশংস মন্তব্য করে বলেছিলেন, “... তাঁর ছোটগল্পে বিষয়, অভিজ্ঞতা এবং পরিস্থিতি ফুটিয়ে তোলার দক্ষতায় যে প্রতিশ্রুতির ছাপ পাই, অবশ্যই তা গুমোট পরিমণ্ডলে টাটকা ও তাজা হাওয়ার মতো।”১

প্রথম গল্প সংকলনেই নীহারুল পাঠক ও সমালোচকদের মন জয় করে নিতে সক্ষম হয়েছিলেন। এই সক্ষমতার কারণ হলো নীহারুল সাজানো গল্প লেখার কায়দা গ্রহণ না করে নিজস্ব পরিমন্ডল থেকে বিষয় বস্তু, চরিত্রগুলি তুলে এনে এক সাবলীল বাগ্‌-বিন্যাসে তা তুলে ধরতে প্রয়াসী হয়েছিলেন। নীহারুল জন্মেছিলেন তাঁর মামার বাড়ি মুর্শিদাবাদ জেলার সাগরদিঘী থানার হরহরি গ্রামে। লেখাপড়া, বড় হয়ে ওঠা, জীবনযাত্রা মুর্শিদাবাদ জেলার সীমান্তবর্তী অঞ্চল লালগোলায়। স্বাভাবিক কারণেই মুর্শিদাবাদ জেলার মধ্য দিয়ে প্রবহমান ভাগীরথীর পূর্বপ্রান্ত তথা বাগড়ি অঞ্চল নীহারুলের গল্পে বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে নিয়েছে। ‘পঞ্চব্যাধের শিকার পর্ব’ সম্পর্কে ড. অজয় ঘোষ বলেছিলেন, “প্রথম গ্রন্থেই তিনি যথেষ্ট শক্তিমত্তা এবং ভবিষৎ প্রতিশ্রুতির স্বাক্ষর রাখতে পেরেছেন। ভাষা বাহুল্য নেই, গল্পগুলি অকারণ পল্লবিত নয়, বর্ণনার বর্ণাতিরেক নেই, ভাষার সচেতন কারিকুরি নেই; সহজ, সরল সাদামাটা অথচ সংযত ভাষায় তিনি নদী তীরবর্তী প্রাচীন সমাজের বিশেষ অঞ্চলের কিছু মানুষের জীবন ও চরিত্র তুলে ধরেছেন।”২




নীহারুল কল্পনাবিলাসী গল্পকার নন, তাঁর গল্পের বিষয়বস্তু, চরিত্র এমন কি ভাষাভাষী পর্যন্ত মুর্শিদাবাদের পদ্মাতীরবর্তী প্রান্তিক মুসলমান জনগোষ্টী থেকে উদ্ধৃত হওয়ায় তার মধ্যে এক প্রবল বাস্তবতার ছাপ লক্ষ্য করা যায়। নীহারুলের বর্ণনাভঙ্গীর সঙ্গে সহজাত সহানুভূতি ও সমবেদনার মিশ্রণে গল্পগুলির আবেদন অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। পদ্মার করাল গ্রাসে তীরবর্তী অঞ্চলের ভাঙন, বর্ষার বানভাসি মানুষের অসহায়তা, সীমান্তের চোরাচালান, রাজনৈতিক সংঘর্ষ, ভূমিহীন খেতমজুরের হতাশা ও দারিদ্র, নানা ধর্মীয় বিধি-নিষেধ, সংস্কার ইত্যাদির পাশাপাশি পদ্মা ও কলকলির স্নিগ্ধ জলধারায় নীহারুলের গল্পে বাস্তবতার সঙ্গে রোমান্টিকতার সংমিশ্রণ ঘটে গিয়েছে। তাই গল্পকার হিসাবে নীহারুল একই সঙ্গে বাস্তববাদী, রোমান্টিক ও নস্ট্যালজিক। তাঁর গল্পের ঘটনাবলী ও চরিত্র চিত্রণে বাস্তবতার ছাপ থাকলেও ঘটমান জীবনের সঙ্গে পরিবেশ প্রকৃতির প্রতি লেখকের সুনিবিড় আকর্ষণ কোনও কোনও ক্ষেত্রে গল্পগুলিতে রোমান্টিক ও নস্ট্যালজিক অনুভূতির সৃষ্টি করেছে। হৃদয়ের অনিবার্য আবেগে নীহারুলের গদ্য খুব সহজেই কবিতার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। ৩

নীহারুলের ‘পঞ্চব্যাধের শিকার পর্ব’(১৯৯৬, দিবারাত্রির কাব্য, চম্পাহাটি) গল্প সংকলনের অন্তর্গত গল্পগুলির মধ্যে ‘ফুলি’, ‘ঝড় বা আগুন নয়, গাজলী একটি মেয়ে’, ‘রক্তসন্ধ্যা’, ‘পরমেশ্বর’, ‘গগন আকাশী ও পায়রার গল্প’, ‘কানপাশা ওরফে ঝাঁটার খিল’, ‘পালকে জলের ঢেউ’, ‘জ্যোৎস্না রাত্রিঃ চারিদিক অন্ধকার’, ‘রক্তবীজ’ ইত্যাদি গল্পে জীবনের নানা বৈচিত্রময় দিক প্রতিফলিত হয়ে উঠেছে।

নীহারুলের দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ ‘জেনা’ (২০০০, প্রচ্ছায়া, বারাসাত) গল্প সংকলনটিতে ‘জুব্বারের সুখ-দুঃখ’, ‘চনখা মেষের’, ‘পাকাঘর কিংবা পোড়া পেট্রলের গন্ধ’, ‘ফেরেস্তা’, ‘তালাক বৃত্তান্ত’, ‘ছায়া’র মতো গল্প স্থান পেয়েছে। মুসলিম জীবনের পারিবারিক আলেখ্য, আর্থ-সামাজিক ও ধর্মীয় জীবনের পরিচয় গল্পগুলিতে প্রতিফলিত হয়েছে। নীহারুল একই সমাজের কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড়িয়ে মানুষগুলির জন্য সহানুভূতির সঙ্গে জানিয়েছেন মৃদু-বিনম্র প্রতিবাদ। যা কখনই গল্পগুলিকে প্রচারধর্মী করে তোলেনি।

তৃতীয় গল্পগ্রন্থ ‘আগুনদৃষ্টি ও কালোবিড়াল’ (২০০৪, আকাশ, বহরমপুর)। এই গ্রন্থের অন্তর্গত গল্পগুলির রচনাকাল ১৯৯৩-২০০০ সাল। এই সংকলনে রয়েছে ‘আগুনদৃষ্টি ও কালোবিড়াল’, ভিখারির স্বপ্নকথা ও নেতাজি’, ‘জন্ডিস’, ‘ছায়াবৃক্ষ’, ‘প্রভু আসছেন’, ‘রূপকথা’, ‘সাপ’, ‘ঈশ্বর অথবা চোর’, ‘বানভাসি’ ইত্যাদি গল্প। ‘পঞ্চব্যাধের শিকার পর্ব’ বা ‘ ট্যাকের মাঠে মাধবী অপেরা’ গল্প সংকলন যেভাবে পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং গল্পগুলি নিয়ে বহুতর আলোচনা দেখা গিয়েছে, ‘জেনা’ বা ‘আগুনদৃষ্টি ও কালোবিড়াল’ সেভাবে জনপ্রিয়তার আলোয় না এলেও বলা যায় ‘জেনা’ থেকে নীহারুলের জীবনে এক পরিণত রচনার ইঙ্গিত দেখা দিয়েছে। উল্লেখযোগ্য ‘জেনা’ নীহারুল উৎসর্গ করেছেন ‘পলি’কে। পলি তাঁর বিবাহিত পত্নী। দাম্পত্য জীবনের পূর্ণতা থেকে নীহারুল সাহিত্য জীবনের পূর্ণতার দিকে এই পর্বে এগিয়ে এসেছেন। ‘জেনা’ ও ‘আগুনদৃষ্টি ও কালোবিড়াল’ পর্বে নীহারুল খুঁজে পেয়েছেন বিদগ্ধ বাচনভঙ্গী।

‘আগুনদৃষ্টি ও কালোবিড়াল’ গ্রন্থের গল্পগুলিতে নীহারুলকে সরল গল্প বর্ণনা ভঙ্গীর বদলে রূপক-প্রতীক ও সাংকেতিকতাকে গ্রহণ করতে দেখা যায়। যার ফলে গল্পগুলি অধিকতর ব্যঞ্জনাধর্মী হয়ে উঠেছে। শোষক-শোষিতের সম্পর্ক, শোষতের মেরুদন্ডহীনতা, রাজনৈতিক তত্ত্বের অন্তঃসার শূণ্যতা, জাদু-বাস্তবতা ও পৌরাণিক উল্লেখে গল্পগুলি সমৃদ্ধ হয়ে উঠেছে। ঈশ্বর, বিড়াল, প্রভু, সাপ, মরুভূমি, রক্তসমুদ্র, চোর নানা গল্পে প্রতীক হয়ে উঠেছে।



‘ট্যাকের মাঠে মাধবী অপেরা’ (২০০৮, দীপ প্রকাশনী) নীহারুলের চতুর্থ গল্প সংকলন। সংকলিত গল্পগুলিতে নীহারুলের লেখার সব বৈশিষ্ট্যই ধরা পড়েছে। সাহাবাজপুর গ্রাম, তারানগর, বোরাকোপরা, সেখালিপুর, পীরতলা, ধূলাউড়ি, ভাতারবান মাঠ, কালমেঘা, চামাপাড়া, জুগোর, কড়িয়ার মাঠ, আটরসিয়া, রাজগুরুপাড়া, কুলগাছি, দেওয়ানসরাই, ধূমপাড়া, পলাশবাটি, ট্যাকের মাঠ, সীতেশনগরের মতো এক বিস্তীর্ণ গ্রামাঞ্চলের জীবনযাপনের বিচিত্র রূপ আঞ্চলিক আবহে নীহারুলের গল্পে চমৎকারভাবে ধরা পড়েছে। আঞ্চলিকতার বাইরে নীহারুলের গল্পের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো বিকলাঙ্গ ও বিকৃত মানুষেরা। ‘কে এন ডি’ গল্পের কালুর বিটি, ‘সন্ন্যাসী ঠাকুর’ গল্পের পাগলি, ‘গ্রামীণ উপাখ্যান’ গল্পের বোবা আতীব, ‘আশ্বিনে ডাওর’ গল্পের কনক, ‘দাঙ্গা’ গল্পের ল্যাংড়া ফকির, পোলিও আক্রান্ত ল্যাংড়া মাস্টার, ‘সালিশ’ গল্পের সেতাব, ‘কুহুকুন্ডলের গল্প’-এর নিয়ামত তাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে গল্পগুলিতে দেখা দিয়েছে।

স্টেশন-বাজার-চায়ের দোকান নীহারুলের গল্পে পরিণতি পটভূমি ও পরিবেশ নিয়ে ধরা পড়ে। ‘ট্যাকের মাঠে মাধবী অপেরা’ গ্রন্থের গল্পগুলিতে সাধুবাবার চায়ের দোকান (কে এন ডি), সন্ন্যাসী ঠাকুরের হোটেল (সন্ন্যাসী ঠাকুর), ফকিরের চায়ের দোকান (গ্রামীণ উপাখ্যান), টকি হাউসের পাশে পরেশের মুড়ি-ঘুগনির দোকান (লালপান বিবি), রথবাজারের মামুদের চায়ের দোকান (মামলা গোস্ত কা) ইত্যাদি গল্পগুলিতে জনজীবনের স্পর্শ এনে দিয়েছে।

নীহারুল জনজীবনের কথাকার। তাই তাঁর গল্পগুলিতে একক বিচ্ছিন্ন জীবনের চেয়ে যৌথজীবনের পরিচয় নানাভাবে ধরা পড়ে। লালগোলা, কেষ্টপুর, জিয়াগজ্ঞ, নশীপুর, বেলডাঙা, কৃষ্ণনগর ছুঁয়ে শিয়ালদহগামী ট্রেণের চালওয়ালি, ভিখারী, পুলিশ-যাত্রী স্টেশনগুলিকে কেন্দ্র করে নীহারুলের গল্পে সজীব হয়ে উঠেছে।

মুসলিম জনজীবনের সংস্কার, ধর্মীয় বিশ্বাসের বুনোটের আড়ালে লোভ-লাসসার কদর্য রূপ নীহারুলের গল্পে কেন্দ্রীয় বিষয়। ‘পঞ্চব্যাধের শিকার পর্ব’ বা ‘জেনা’-য় যার সূত্রপাত ‘ট্যাকের মাঠে মাধবী অপেরা’য় তা পরিণত রূপ লাভ করেছে। নানা গল্প ‘ট্যাকের মাঠে মাধবী অপেরা’ নাম-গল্পটি ছাড়াও এই সংকলনের ‘ডাহিন’, ‘ভূতনির চর’, ‘জিনপরি’, ‘জৈবন কেচ্ছা’, ‘আলটপকা মরিচ’, ‘সালিশ’ ইত্যাদি গল্পে ডাহিন, জিনপরি, ফেরেস্তা সম্পর্কে লোক-বিশ্বাস ও তার আড়ালে বিকৃত যৌনকামনা, তালাকপ্রথায় জীর্ণ মুসলিম সমাজের প্রামান্য চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। ‘ডাহিন’ গল্পে ইমরানের ভাতারবান মাঠের কাশের জঙ্গল থেকে অপরিচিত মেয়ের সঙ্গে আজিজ সেখের বেরিয়ে যাওয়া, ইমরানের প্রতিশোধ স্পৃহা, ইমরানের মৃতদেহ কোলে নিয়ে দাইমার ডাহিন হয়ে যাওয়ার সঙ্গে নীহারুল গল্পের পূর্বসূত্র ডাবাংকালুর ডাহিন বৌকে সুকৌশলে বিলিয়ে দিয়ে ধর্মীয় সংস্কারের উপর যেমন প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছেন। তেমনি ‘জিনপরি’ গল্পে জিনপরির টানে নিখোঁজ খাইরুলের এহেসান পীরের কেরামতি ফিরে আসার পর অবাক বিস্ময়ে যে খাইরুলের মুখে জিনপরির গল্প শোনে সেই কলিমুদ্দিনের মেয়ে জামিলার দিকেও সন্দেহের তীর ছুঁড়ে দেওয়া হয়েছে।

নীহারুলের গল্প সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে ড. শক্তিনাথ ঝা সঙ্গত কারণেই বলেছেন, “নীহারুলের গল্পের অন্তরে কাজ করে যায় ধ্রুপদী লোক-ঐতিহ্য। সৎ-অসৎ, পাপ-পূণ্যের দ্বন্দে, শুভ ও সত্যের সাময়িক আপাত পরাজয়েও উদ্ভাসিত হয় অমর মহিমা। নষ্ট পৃথিবীতে দেখা দেয় উজ্জ্বল ভবিষ্যতের সোনালি রেখা।”৪

নীহারুল ইসলাম মুসলিম সমাজজীবনের ভিতরকার মানুষ। নির্মোহ দৃষ্টিতে তিনি ইসলামের ধর্মীয় সংস্কারগুলি পর্যবেক্ষণ করেছেন, তার অভ্যন্তরের অলীক ও অবাস্তব কল্পনাকে চিনিয়ে দিয়েছেন। হিন্দু-মুসলিম সম্পর্ককে তিনি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গীতে তুলে ধরেছেন ‘তৃষ্ণা’, ‘দাঙ্গা’, ইত্যাদি গল্পে। পঞ্চব্যাধের শিকার পর্বের ‘পরমেশ্বর’ গল্পে তাঁর একই অনুভূতির পরিচয় পাওয়া গিয়েছে।



ড. সুমিতা চক্রবর্তী নীহারুলের গল্প সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘বিবাহ-সম্পর্ক-বহির্ভূত প্রণয় তাঁর গল্পে অনেকখানি জায়গা করে নিয়েছে।’৫ “পঞ্চব্যাধে...” ‘ফুলি’, ‘গাজলী একটি মেয়ের নাম’, ‘রক্তসন্ধ্যা’, ‘রক্তবীজ’; “জেনা” সংকলনের ‘জেনা’ গল্পের মতো “ট্যাকের মাঠে ...”ও যৌনতা এবং অসামাজিক যৌন সম্পর্কের পরিচয় রয়েছে ‘আলটপকা মরিচ’, ‘পরিবর্তিত প্রতিশোধ’, ‘ডাহিন’, ‘জোবেদাভাবীর গল্প’, ‘ভূতনির চর’, ‘লালপান বিবি’, ‘কুহুকুন্ডলের গল্প’, ‘জিনপরি’, ‘জৈবন কেচ্ছা’ ইত্যাদিতে।

নীহারুলের ‘ট্যাকের মাঠে মাধবী অপেরা’ কোনও বিচ্ছিন্ন গল্প সংগ্রহ নয়, নীহারুলের গল্পের সব বৈশিষ্ট্যই ‘ট্যাকের মাঠে মাধবী অপেরা’য় যেন পূর্ণাঙ্গ রূপ দিয়েছে। সেই পূর্ণ স্বরূপের পরিচয় দিয়ে ড. সৌমিত্র বসু বলেছেন, “... নীহারুল তুলে আনছেন সীমান্তবর্তী এলাকার গ্রামীণ, এবং মূলত দরিদ্র মুসলমান সমাজের জীবনযাপন, রীতিনীতি, এক কথায় তাঁদের জীবনযাপন। সে সব এত সহজে, অনায়াসে অনুপুঙ্গখময় অনুষঙ্গে এত জ্যান্ত হয়ে ওঠে যে পাঠক কখন আখ্যানের মধ্যে ঢুকে গেছেন, তা তিনি টের পান না।”৬

আর তার জন্যই নীহারুলের গল্প মৌলিক ও স্বকীয়তায় ভাস্বর হয়ে ওঠে।


সুত্রঃ

১। দ্র. ভূমিকা, পঞ্চব্যাধের শিকার পর্ব- সাধন চট্টোপাধ্যায়
২। এবং মুশায়েরা- শারদীয়া সংখ্যা ১৪০৩, পৃষ্ঠা ২৭৪-৭৭
৩। দ্র. দিবারাত্রির কাব্য- নয়ের দশকের গল্প ও গল্পকার সংখ্যা’ ৯৬, পৃষ্ঠা ১৯২
৪। দ্র. ইছামতী বিদ্যাধরী- জানুয়ারি ২০০৯, পৃষ্ঠা ১২৬
৫। দ্র. মহাদিগন্ত পত্রিকা
৬। দ্র. পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি প্রকাশিত ‘বাংলা বই’ পত্রিকা- জুন ২০০৮, পৃষ্ঠা ৮-৯


লেখক পরিচিতি
. শ্যামল রায়  
প্রাবন্ধিক, গবেষক এবং 
প্রাক্তন অধ্যাপক, 
বাংলা বিভাগ, 
শ্রীপৎ সিং কলেজ, 
জিয়াগজ্ঞ, মুর্শিদাবাদ।



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন