মঙ্গলবার, ১০ জুন, ২০১৪

আকাশ নীলার জার্নাল : রোদ-চশমা

১১ নভেম্বর ২০১৩
--------------------
পাখি জীবনেও যে অবসাদ থাকে , এখানে না এলে জানতাম না জীবনানন্দ দাশ আমার প্রিয় কবি । তাকে নিয়ে ৩/৪টি ঘটনা বলি । অনেকেই জানেন । তবু যারা জানেন না তাদের জন্য বলা । কারণ আছে বলার । কারণ পরে বলছি । 

ঘটনা .এক) জীবনানন্দ দাশ যেদিন মারা গেলেন সেদিন তার বাসায় বুদ্ধদেব বসু সহ সহ অনেক লেখকের ভীড়। জীবনানন্দের ওয়াইফ বুদ্ধদেব বসুকে বলেছিলেন , ‘এত লোকের ভীড় । তার সাথে এতবছর ঘর করলাম, জানতামই না তিনি এত বড়োকবি ।


ঘটনা, দুই ) জীবনানন্দ যে বাসায় ভাড়া থাকতেন সে বাসার ভাড়া অনেক জমেছে । তিনমাস দিতে পারেননি । একদিন বাড়িওয়ালা ডেকে খুব বাজে আচরণ করলেন । কবি মন খারাপ করে একটি চায়ের দোকানে গিয়ে বসেছিলেন। সেপথে কবি দীপেন বন্দ্যোপাধ্যায় যাচ্ছিলেন । দীপেন ছিলেন একটি ড্যাশিং টাইপের । জীবনানন্দকে মন খারাপ দেখে বসে থাকতে দেখে জানতে চাইলেন কারণ । জীবনানন্দ বললেন । কবি দীপেন বললেন , ‘ আমি তোমার বাড়িওয়ালাকে খুব ধমকে দিবো । গালি দিব । তবে এজন্য ভাড়া বাবদ আমাকে ২০ টাকা দিতে হবে । রাজী আছো?’ জীবনানন্দ রাজি হলেন ।

ঘটনা, তিন ) জীবনানন্দকে একদিন তার পরিচিত এক লোক দেখেন তিনি ঘাস বিছানো একটি নিরিবিলি পথে কান পেতে শুয়ে আছেন। রাত । সেই পরিচিত লোক কাছে গিয়ে জানতে চান কী হয়েছে ? জীবনানন্দ বলেছিলেন, ‘এপথেই তো মনে হয় , হরপ্টপ্পায় ঘোড়ার দল ছুটে গিয়েছিল । তাদের ছুটে যাওয়া শুনছি ।এবার কারণ বলি ।অমর দাশ আমাদের সাথে পড়ত । কবিতা লিখত । কবিখ্যাতি পায়নি । তাকে নিয়ে তিনটি ঘটনা বলি এবার ।

ঘটনা , এক ) একদিন আমায় বলল , ‘আমার কবিতা লিখা হবে না । কারণ জানতে চাইলে বলল , ‘লিখতে গেলেই মনে হয় , সবার যে কবিতার ভাষা সেটি আমারও হলে আমার আর লিখে কী হবে ? মনে হয় , কোনো না কোনো মতবাদ আমার কবিতায় ভর করে । আসলে মতবাদ জানানোর জন্য তো আমি কবি হতে চাই না ।’ এরপর কবিতা লিখা ছেড়ে দিল ।

ঘটনা ,দুই ) দার্জিলিং বেড়াতে গিয়েছি । দুপুরবেলা বিগবাজার থেকে শপিং করে হোটেলে ফিরবার আগে একটু বিয়ার খেতে সাধ জাগলো । এক বারে ঢুকলাম । দেখি ওই বারের ওয়েটার অমর । রীতিমত যেন ভুত দেখলাম । ওখানে একটি পাহাড়ি মেয়ে বিয়ে করেছে । থাকে ‘ঘুম’ রেল ইসটিশনের পাশেই । নিয়ে গেল তার বাসায় । ওই রাত তার বাসায় থাকলাম । তার ওয়াইফের নাম মুরিরি । গান শোনাল । মমো ( দার্জিলিং এর একটি বিশেষ খাবার আইটেম ) খাওয়ালো । আর ওড়িয়া নাচ দেখাল । বাসার সামনে পাহাড়ের ঢাল । ভরা জোছনা । মুরিরি নাচছে । অমর দোচোয়ানি ( ওখানকার মদ ) গিলছে । আমি দেখছি আর ভাবছি , বেশ আছে আমাদের অমর ।পরদিন বিদায়ের সময় বললাম , ‘ বেশ আছিস অমর ।বলল , ‘ এসবই পানসে । কবিতা ঘুরে আজো মাথায় । পারি না রে লিখতে । আসলে পড়াশনা করে ভুল করে ফেলেছি । এখন সুযোগ পেলে আর পড়তাম না ।জানতে চাইলাম , পড়াশুনা আবার দোষ করল কোথায় ?বলল , আমাদের পড়াশুনা কলোনিয়াল মনোজগত তৈরি করে ফেলে । এ ফাঁদ থেকে বেরুতে পারছি না।

ঘটনা ,তিন ) ভেবেছিলাম এরপর আর অমরের সাথে দেখা হবে না । হলো । হাফলং থেকে শিলচর যাবার পথে জাটিংগা নামের একটি জায়গা আছে । ওখানে বরষাকালে পাখিরা ঝাঁকে ঝাঁকে সুইসাইড করে । কারণ অজানা । 

আমি এক বর্ষাকালে গিয়েছিলাম । ওখানে দেখি ‘ম্যাটাং ” ( কাঠের তৈরি একধরণের উঁচু পিড়ি , বসার জন্য তৈরি) ফেরি করছে অমর । যারা দেখতে যায় তাদের কাছে গিয়ে বলে , ‘বসে আরাম করে দেখেন । ম্যাটাং আছে । নিবেন ? অমর জানালো মুরিরির সাথে তার ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে । জাটিংগা এলাকাতেই থাকে । পাখিদের দেখে । পাখির পালক জমিয়ে রাখে । হাত বুলোয় । কতো হালকা । অখচ সুইসাইডের আগে তাদের ডানা ঝাপটানো কতো যে ভারী এটা দেখতে দেখতে পাখিদের ওপর তার মায়া পড়ে গেছে । আর কোথাও যাবে না অবসাদের পাখিদের ফেলেদ। সেই শেষ দেখা অমরের সাথে । আবার হয়তো হবে । হয়তো না । পুরো লাইন গুলো ঠিকভাবে মনে পড়ছে না , এমন না লাইনগুলো , ‘সব পাখি ঘরে ফিরে-----------থাকে শুধু অল্পব্দকার মুখোমুখি বসিবার বনলতা সেন। ’এই লাইনগুলো বিদায়বেলা অমর শুনিয়েছিল আর হাসতে হাসতে বলেছিল , ‘লীনা , পাখি জীবনেও যে অবসাদ থাকে , এখানে না এলে জানতাম না ।

২২ মে ২০১৪
আকাশের শেষ সীমানা , মানিক ?
-------------------------------
কথাসাহিত্যিক মানিক বাড়ূজ্যে। ওই দুর পাহাড়ের ওপারে ঘোড়া নিয়ে গিয়েছিল একজন । আকাশের শেষ সীমানা খুঁজতে । তার নাম নিশিপদ । তিনি ছিলেন মানিকের সহপাঠী । সেই নিশিপদ আরে ফিরে আসেননি । মানিক তার ডায়েরিতে লিখেছেন , ‘ আকাশের দিকে তাকিয়ে সীমানা খঁজতে নেই । খুজলে হারিয়ে যেতে হয় ।’
মানিক মানেই ও কথাটি মনে পড়ে বারবার । কিন্তু আমি অবাধ্য । আমি আকাশের দিকে তাকিয়ে মাঝে মাঝে সীমানা খুঁজি । কেননা ওদিকে তাকালেই আমার মানিককে মনে পড়ে মাঝে মাঝে । সবসময় নয় ।
সবসময় মনে না পড়াই ভালো । বেশি ভালোবাসলে বেশি মনে পড়তে নেই ।
মানিক মানেই আমার কাছে কালো ফে ্রমের চশমা । মাস শেষে বেতন পেয়ে সারা মাসের জমা খরচের হিসেব খাতায় টুকে রাখা , সেখানে বাংলা মদের জন্যও বাজেট রাখা ।
মানিক মদ আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন কেনো ? কেনো স্যানেটোরিয়ামে মানসিক সমস্যার জন্য ভর্তি হতে হয়েছিল ? এদুটো
কোশ্চেন আমাকে বেশ ভাবায় । কারণ, তার লেখায় যুক্তিবাদিতা আছে , জীবন ও জগত নিয়ে যেভাবে ভেবেছেন , দেখতে পাই ভীষণ ম্যাটারিয়েলিসটিক ।
এরপরও কী এমন টানপোড়েন চলছিল ভেতরে ভেতরে তার ? তাহলে কী সেই আকাশের ভেতর আকাশ নিয়ে ভাবতেন মানিক ?
সারাদিন প্রচুর হাটতেন । রাতে যেনো ভালো ঘুম হয় । তবু হতো না । ঘুমের জন্য মদ খেতেন ? খিদিরপুরে এক রেল কলোনীতে সনজয় ভটাচার্যের সাথে বাংলা মদ খেতে খেতে দুপুরের কড়া রোদে বলেছিলেন , ‘ আমার ঘুম হয় না যেন কতোকাল । ’
সংসারের খরচ চালাতে হিমশিম খেতেন । তার ওপর বাংলা মদ । অপরাধবোধ কাজ করত । মনে হয় ।
আর যেভাবে সমাজকে দেখতে চেয়েছিলেন সেভাবে দেখতে পারেননি বলে ব্যর্থতাবোধ ? আমি জানি না ।


২৫ জানুয়ারী ২০১৪
----------------------
হ্যাপি বার্থ ডে পোয়েট মাইকেল মধুসুদন । ডিরোজিও’র পাললায় পড়ে আধুনিকতার বিকার আপনাকে ভাল পেয়ে বসেছিল । অনেক পাগলামি করেছেন । গৌরকে মনে পড়ে ? হোমো সেকসচুয়ালিটি + মদ্যপান + ইংলিশ এ লেখা + বিয়ে + বোহেমিয়া + ধারদেনা + ইউরোপমুখীনতা সব সব করে শেষে ফিরলেন তখন বেশ দেরি । 
মহাকাব্য লিখলেন । আপনার জীবনই ছিল মহাকাব্য । 
বাংলা সাহিত্যের আপনাকে ইগনোর করার উপায় নেই । আপনাকে স্যালুট ।

২ জানুয়ারী ২০১৪
-------------------‘আমার ধারণা জগতের সব মানুষেরই গোটা জীবনের যৌনবাসনার মধ্যে একবারের জন্য হলে অপরাধবোধ লুকিয়ে থাকে । ’ কথাটি এলিস মুনরো’র । তিনি এবার সাহিত্যে নোবেল জিতেছেন । তিনি প্রথম প্রেমে পড়েছিলেন তার বাসার পাশের এক আসতাবলের ঘোড়সওয়ারের । সে এলিস মুনরোর সাথে জড়ানোর পর থেকে গির্জায় যাওয়া শুরু করেছিল ।
এলিস মুনরো বলছেন , ‘অপরাধবোধের হাত থেকে রেহাই পেতেই মানুষ উপাসনালয় গুলোর দিকেও ছুটে ।’
আমার ডাবল স্যালুট মুনরো’কে ।


২ ডিসেম্বর ২০১৩
--------------------
মীর্জা গালিব মসজিদে বসে মদ্যপান করছিলেন। তখন মুসল্লীরা তাকে বাধা দিল। বলল, মসজিদ আল্লার ঘর। মদ্যপানের জায়গা নয়।

গালিব তাকালেন মুসল্লীদের দিকে। তারপর আরেক চুমুক খেয়ে আওরালেন উপস্থিত শের,

পিনে দো ব্যায়ঠ কার
মসজিদ মে জানিবাঁ (বন্ধু),
ইয়া ও জাগা বাতা
যাঁহা পার খুদা নেহি।

মুসল্লীরা লা জবাব। কী জবাব দেবেন। খোদা নাই এমন জায়গার কথা বলা শক্ত বইকি। তবে জবাব দিলেন আল্লামা ইকবাল। বহু বছর পর। তার শের দিয়ে। তখন মীর্জা আর বেঁচে নেই।

ইয়া গালিব, পিনে কি জাগা
মসজিদ নেহি হ্যায়, যা
কাফির কো দিলমে পি
ওঁয়াহা পার খুদা নেহি।

গালিব তুমি মদ পান কর মসজিদে নয়, কাফের দের অন্তরে, কারন সেখানে খোদা নাই।



১৯ নভেম্বর ২০১৩
------------------------
বোদলেয়ার কী ভেবেছিলেন সেইদিন ?

পানশালা খেকে বেরিয়ে বোদলেয়ার দেখেন একটি ক্যারভ্যান যাচেছ একদল ভেড়া নিয়ে । ছোট শহর এনথিনা । এ শহরের একপাশে পাহাড় অন্যপাশে সাগর । সড়কগুলো খুব উঁচু নীচু । সাপের মতো পেঁচিয়ে যেন চলেছে ।
বেদলেয়ার ক্যারাভ্যানের পেছনে উঠে বসলেন । খুব ধীর গতিতে যাচিছল ।
উলিমার তাকে শেষ কী বলেছিল পানশালায় ? মনে করার চে®দ্বা করলেন । কিনতু এখনের ভাবনাগুলো যেন মেঘের মতো । ওপরে মেঘ । নীচে ভেড়ার দল ।
উলিমারের সাথে পরিচয় দিয়্যেনোতে । তার বাবা ইনটিরিয়ার ডিজাইনার । মা নার্স । তার বিয়ে হয়েছিল এক পিয়ানোবাদকের সাথে । টিকেনি সংসার ।
উলিমারের বয়স বেশি হবে না । সাতাশ/ আটাশ । শরীর টানটান । উবু হয়ে যখন রেড ওয়াইনে চুমুক দিচিছল তখন কার ভারী স্টøন দেখছিলেন বোদলেয়ার ।
উলিমার বলছিল , কী দেখছ ?
বোদলেয়ার বলেছিলেন , উনমাদনার উঁচু ঢিবি ।
ক্যারাভানটি যেন যাচিছলই । রাত হয়ে গিয়েছে । কোথায় আজ রাত কাটাবেন জানা নেই ।
তবু এনথিনায় আজ এসেছিলেন কোনো কাজের আশায় । পানশালার পাশেই উলিমারের সাথে দেখা । সে ই ধরে নিয়ে গিয়েছিল বোদলেয়ারকে পানশালায় । বিল মিটিয়েছিল । আর কী জানি শেষ কথাটি বলেছিল । বোদলেয়ারের মারিজুয়ানা আগেই নেওয়া হয়েছিল । অদভুত মাদক । কাননা ’র কথা ভাবলেই কাননা চলে আসে ।
বোদলেয়ার চোখ মুছলেন । তিনি জানেন কেউ তার না ।
মনে পড়েছে , উলিমার শেষে বলেছিল , ‘ মরে যাবে তুমি । আরো ক’টা দিন বেঁচে থাকলে আমিও তোমার কবিতা পড়ে নিসংগতা ঘোছাতাম ।
বোদলেয়ার মারা যান তার পরদিন ভোরবেলা । তার ওভারকোটের পকেটে পাওয়া গিয়েছিল একটি টিসহৃ পেপারে লেখা , ‘উলিমার , কেবলই কদর্য চারপাশে । আমাদের সবার মাঝে থাকে শুধু যোগাযোগের একটি সেতুর সমস্যা । সেই সেতু তৈরি হবে না কোনো দিন কোনো দিন ।’

( এ কাহিনী শুনিয়েছিল একদিন নন্দনে এক রাতে শুভাগত । সত্য মিথ্যা জানি না । শুভাগত লিখত না । বানিয়ে ওসব বলার কথাও না । তবে সব শুনিয়ে আমার হাত নিবিড় ভাবে ধরে বলেছিল ‘ আমাদের মধ্যে যোগাযোগের একটি সেতু আছে কী ?
মনে আছে , বলেছিলাম , নেই । কেন ? জানতে চেয়েছিল ।
বলেছিলাম , তুমি লজিক দিয়ে সব বিচার করো । আধুনিক । আমি বিচার করি পরাণ দিয়ে । এই জন্যই সেতু নেই আমাদের মাঝে । এপাড়ে তুমি । ওপাড়ে আমি । একই আকাশের নিচে দেখে যাই শুধু আমাদের বেঁচে থাকতে থাকতে এই যা ।



‘মা দিবস ’ পালিত হচ্ছে, আমার মা ও যৌনকর্মী ছিলো তোমার মতো
---------------------------------------------------------------
আমি মা ডাক শুনিনি । শুনব না কোনোদিন । প্রথম যেদিন শুনি ‘মা দিবস ’ পালিত হচ্ছে , মনে আছে , আমি ছিলাম লাসভেগাসে । টপলেস ড্যান্স সেরে ড্রেসিংরুমে ফিরে জিনস ট্রাউজার পড়ছি , তখনো কেটার্স লাগাইনি । শরীরের ওপরের ভাগ অনাবৃত , তখন আমার সেলফোন বেজে উঠল । দেয়ালের ঘড়ির দিকে তাকালাম । লাসভেগাসে ভোর ৫টা । এখন লাসভেগাসের রাত জাগার পর ঘুমানোর সময় । আমারও এখান থেকে বেরিয়ে ট্রেন ধরে এ্যালগিনে ফেরা , তারপর কিছু খেয়ে ঘুমুনোর পালা ।
কেটার্স লাগিয়ে টি-শার্ট মাথার ভেতর দিয়ে ঢুকিয়ে গলিয়ে দিতে দিতে দেখি সেলফোন বেজেই চলেছে । শিভাস রিগালের নেশায় পা টলছিল , চুরুটের টানে গলা খসখসে । কোনোরকমে কল রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে একজন ডাকল , ‘ মা’।
কে? তাড়াহুড়ো ছিলো , তাই নিজের গলায় দাবানলদেখলাম যেনো ।
বলল , ‘ আমি ভেনিজুয়েলার । রবার্তো । মনে আছে আমায় ? তোমার সাথে শুতে গিয়েছিলাম এক হোটেলে । পরে মন সায় দিলো না । মায়ের মুখ মনে পড়ল । আমার মা ও যৌনকর্মী ছিলো তোমার মতো । সেদিন তোমায় বলেছিলাম আজীবন তোমায় ‘ মা’ ডাকব । তোমার মনে আছে আমায় মা ? সেদিন আমায় তুমি তোমার নাল্ফ^ার দিয়েছিলে । মা, আমার মা’কে আজো খুজে পইনি । একজন বলেছে মধ্যপ্রাচ্যে তাকে শেষ দেখেছে । ’ কথাগুলো একনাগাড়ে বলে যাচ্ছিল, আমাকে কোনো সুযোগ না দিয়েই ।
আগেই বলেছি আমার তাড়া ছিল , তাই থামিয়ে দিয়ে বললাম, এখন কী করছ ?
সে বলল , দর্শন পড়তে প্যারিসে সেটেলড হয়েছি । প্টেèটো পড়ছি । তার রাজ্যে মা আছে । কিন্তু কারো একক না । ছেলেমেয়েরা চিনবে না কে তার মা । মা ও জানবে না কে তার ছেলে মেয়ে ।
তার কথাগুলো বুঝলাম না ।
লাইনও কেটে গেলো ।
গাড়ি ছুটে চলেছে । জানালায় হাওয়ার ঝাপটা । চুলগুলো আলুথালু ।
রাতে শরীরের মাংস বেচেছি । টায়ার্ড । হেলিয়ে পড়েছি । রবার্তোর মুখ মনে পড়ছে না । একবার ফিলিপিনে , একবার লন্ডনে, আরেকবার ব্যাংককে, আর দুবার আমেরিকায় আমার জানামতে আমার বাচ্চা হয়েছিল । ব্রোকাররা সরিয়ে নিয়েছিল । আমায় খুব গালি দিয়েছিল ,,এমনকি মার । কারণ আমি কেন মা না হওয়ার জন্য সতর্ক থাকতে পারিনা । আমার বাচচাগুলোর মুখ আমি দেখিনি । তারাও না । কোথায় বড়ো হচ্ছে কে জানে ।
ট্রেন ছুটছে । রবার্তোর মুখ মনে পড়ছে না । কীসব জানি বলছিল । মা দিবস ? প্টেèটোর রাজ্য ।
রোদ উঠছে । রোদচশমা দিয়ে ঢেকে দেই চোখ । ওখানে শৈশব । ওখানে পরাজয় । ওখানে হারানো । ওখানেই লুকানো
রাশি রাশি জল ।



লেখক পরিচিতি
আকাশ লীনা
কবি। গদ্যকার। 
ফ্রি ল্যান্স সাংবাদিক। ব্লগার।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন