বুধবার, ১১ জুন, ২০১৪

সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের গল্প : আরামকেদারা

আরামকেদারা
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম

মঈনের মনে পড়ে, আরামকেদারাটা যেদিন বাড়িতে আনা হলো, একটা ছোটখাটো উৎসবের উপলক্ষই যেন তা তৈরি করে দিল। তার বাবার প্রিয় জায়গা ছিল সামনের বড় বারান্দাটা, সেখানেই তিনি সেটি পাতলেন। পালিশ করা কাঠের ফ্রেম, নতুন বার্নিশ করা বেতের পিঠ আর আসন। আকারে ঢাউস। মাস্টারপাড়ার তকদির সাহেব কবে সেটি বানিয়েছিলেন, কারও মনে থাকার কথা নয়। বনেদি পরিবার, আসবাবপত্রের ভাবভঙ্গিও বনেদি। কেদারাটারও। একসময় তকদির সাহেব ইহজগতের মায়া কাটিয়ে চলে গেলেন, তাঁর ছোট ছেলে জুয়া খেলার টাকা জোগাড় করতে কেদারাটা বিক্রি করে দিল। মঈনের বাবা সেটি কেনার জন্য মুখিয়ে ছিলেন। কিনে ভালো করে পালিশ-টালিশ করালেন। তকদির সাহেবের ডাক্তার ছিলেন তিনি। কেদারায় বসা রোগীকে দেখেছেন, কেদারাটা দেখেছেন, তাঁর বনেদিপনার তারিফ করেছেন এবং মনে মনে ভেবেছেন, এই কেদারায় বসার সৌভাগ্য তাঁর কি কোনো দিন হবে?


জুয়াড়ি ছেলে থেকে মঈনের বাবা যেন তকদির সাহেবের বনেদিপনাটাও কিনলেন। তাঁর চালচলন বদলে গেল। এক প্রকাণ্ড নলঅলা তুর্কি হুঁকা ছিল তাঁর, একসময় দুপুরের খাওয়া শেষে আয়েশভরে সেই হুঁকায় কিছুক্ষণ টান দিতেন। কিন্তু ধূমপানকে না বলার যুগ শুরু হলে এবং রোগীদের জন্য বাজে উদাহরণ সৃষ্টি হচ্ছে বলে হুঁকা খাওয়াটা ছেড়ে দিলেন। এত দিন পর আরামকেদারায় বসে প্রথমেই তিনি সেই হুঁকাটাকে পুনর্বাসিত করলেন। খাম্বিরা দেওয়া তামাকের গন্ধে বাড়ির বাতাস ম-ম করতে থাকলে মঈন দেখল বাবা চোখ বুজে হাসছেন। তিনি যে হাসতে পারেন, সে কথাটা ভুলে গিয়েছিল মঈন। হয়তো তাঁর ছোটবেলার কোনো স্মৃতিতে সেই হাসি আছে। কিন্তু একটু বড় হয়ে দেখেছে, বাবা হাসতে অপছন্দ করেন, যেন পুরুষদের হাসতে নেই। গম্ভীর মুখ নিয়ে, কপালে বিরক্তির দু-তিন ভাঁজ ফেলে, ভ্রু দুটিতে চিরস্থায়ী বিতৃষ্ণা জাগিয়ে তিনি দিনের কাজ করতেন। মঈনের পড়াশোনার খোঁজ নিতেন। রোগী দেখতেন। কথা বলতেন পাল্লায় মেপে, যেন কথা তাঁর ব্যক্তিত্বটাকেই তরল করে দেবে।

মঈনের বড় বোন কেয়ার সঙ্গে এক-আধটুকু যা কথা বলতেন বাবা, কিন্তু ওই পাল্লায় মেপেই। কেয়া বলত মঈনকে, ‘বাবাটা অকারণ গম্ভীর।’

স্কুল শেষ করতে না করতে কেয়াকে বিয়ের পিঁড়িতে বসিয়ে দিলেন বাবা। ওর বর ছিল হাসিখুশি। কথাপ্রিয়। তার সঙ্গে শহরের আরেক মাথায় শ্বশুরবাড়ি যেতে পেরে সে যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচল।

কেয়া কখনো মঈনকে বলেনি, কিন্তু আমরা জানি, বাবার বিরুদ্ধে কেয়ার বড় অভিযোগ ছিল মাকে নিয়ে। মঈন যে বুঝত না তা নয়, তার নিজের ভাবনাতেও তো ওই অভিযোগ-চিন্তা একটা বড় জায়গা নিয়েছিল। বাবা সম্পর্কে মঈনের আরও গুরুতর অভিযোগ ছিল। মা চলে যাওয়ার পর একদিন—এবং তকদির সাহেবের আরামকেদারা পেতে বসে হুঁকায় টান দেওয়ার দিন ঘরের শূন্যতাকে সাক্ষী মেনে সে বলেছে, ‘বাবা, তুমি মাকে খুন করেছ।’

কথাটা ঠিক নয়। তবে কিনা কথার অনেক অর্থ ও দ্যোতনা থাকে। ‘ও আমার রাতজাগা চাঁদ’ বলে কেউ মাঝরাতে কথা বলে উঠলে তার সঙ্গে চাঁদের কোনো সম্পর্ক না থাকতে পারে। মাঝরাতের চাঁদ বলতে কে কাকে বোঝাচ্ছে—তা না জানলে এ কথার পুরো অর্থ পাওয়া হবে না। ঠিক কিনা বলুন?

না, মঈনের মাকে গলা টিপে অথবা বালিশে মুখ চেপে মারেননি তার বাবা। কিন্তু একটি মানুষের ভেতরের হাসিটা কেউ থামিয়ে দিলে, তার অকারণ উচ্ছ্বাসকে শাসন করলে অথবা ছোট ছোট আনন্দকে চুরি করে নিলে মানুষটা তো একদিন খুনই হয়ে যায়—সে রকমই ভাবত মঈন।

মঈনের ছেলেবেলার স্মৃতিতে যে মা, তাঁর মুখখানি হাসিতে ভাসত; গলায় ছিল গান, তাঁর কথায় সুর উঠত; সেই মা যখন হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে, তাঁর হাসি ঠাঁই নিয়েছে ইতিহাসে, আনন্দও বিদায় নিয়েছে। মঈন একবার একটা প্রজাপতি ধরে কাচের বয়ামে রেখেছিল। ভেবেছিল, প্রজাপতিটার ওড়াওড়ি খুব কাছ থেকে দেখবে। দুদিন পর বয়াম হাতে নিয়ে দেখল, প্রজাপতিটা স্তব্ধ পড়ে আছে—মরা। আর বয়ামের কাচের গায়ে লেগে আছে তার ডানার সব রেণু।

মঈন বুঝেছিল, স্বচ্ছ কাচের বাধাকে কিছুতেই বিশ্বাস না করতে পেরে বারবার তা ডিঙাতে চেষ্টা করেছে প্রজাপতিটা।

মা ছিলেন সেই প্রজাপতি, মঈন ভাবত। একটা অবিশ্বাস নিয়ে তিনি নিশ্চয় শেষবার চোখ বুজেছিলেন। অবিশ্বাসটা এই: তাঁর হাসির উৎসটা তাঁর সবচেয়ে কাছের মানুষ একটা পাথরচাপা দিয়ে বন্ধ করে দিল।

এই প্রশ্ন নিজের মতো করে কেয়া করেছে কেয়াকে, মঈন করেছে মঈনকে, যেহেতু বাবাকে জিজ্ঞেস করার উপায় নেই, এবং করলেও তিনি মুখ খুলবেন না। মঈনের আরও একটি গুরুতর অভিযোগ ছিল বাবাকে নিয়ে: মার যে কঠিন একটা অসুখ হয়েছে, একজন ডাক্তার হয়ে তা বুঝতে কেন তাঁর এত দিন সময় লাগল?

মাকে কবরে শুইয়ে এসে বারান্দার মেঝেতে বসে পড়েছিলেন বাবা। থামে পিঠ মেলে স্তব্ধ তাকিয়ে ছিলেন সামনের গাছগাছালির দিকে। অনেকক্ষণ পরে উঠে গিয়ে গোসলটোসল করে বেরিয়ে গিয়েছিলেন ঘর থেকে। বাবাকে সেদিন কাছে পেতে খুব ইচ্ছে হচ্ছিল মঈনের; মনে হচ্ছিল, বাবার একটা কথা তাকে উদ্ধার করতে পারে।

২.

আরামকেদারাটা বাবাকে যেন বদলে দিল। তিনি সেখানে বসলে নিজের ভেতরে ডুবে যান। মঈন যে পড়াশোনা শেষ করল, এখন চাকরি খুঁজতে হবে—এ কথাও তিনি নিজ থেকে আর ভাবলেন না। মঈন একবার বাবাকে বলল, ‘ঢাকা যাচ্ছি, একটা চাকরি পেয়েছি’, তবু শূন্য চোখে তাকিয়ে একটু হাসলেন তিনি। বললেন, ‘বেশ তো, যাও।’ চাকরিটা অবশ্য পেতে সাহায্য করেছেন মিশনপাড়ার ইলিয়াস মাস্টার—জেলা শহরের সবচেয়ে নামী উকিল। মঈন যে মাস্টার সাহেবের মেয়ে সোমার সঙ্গে দুই বছর থেকে প্রেম করছে—খবরটি তার বাবার জানার কথা নয়। কিন্তু কিছুটা সময় নিয়ে যখন মঈন তাঁকে বলল, মাস্টার সাহেব তাঁর সঙ্গে একটা বিষয় নিয়ে কথা বলবেন, চোখের শূন্যতা একটুখানি ভরাট না করেই বাবা বললেন, ‘বেশ তো, আসুন না।’ বিষয়টা ভালো লাগল না মঈনের। তার আর কথা বলতে ইচ্ছে হলো না। বাবাকে বলা হলো না, বিষয়টা হচ্ছে বিয়ে।

ইলিয়াস মাস্টার তাঁর চাচাতো ভাই বিশিষ্ট ব্যাংকার খলিলুর রহমানকে ধরে একটা থ্রিজি ব্যাংকে মঈনের চাকরির একটা ব্যবস্থা করলেন বটে, কিন্তু বিয়ের কথাটা আর তুললেন না। মঈনকে সময় দিলেন। একদিন ছুটিতে বাড়ি এসে মঈন দেখল, বাবা যেন ভিন্ন এক মানুষ। ঢাউস আরামকেদারায় শরীর বিছিয়ে যিনি শুয়ে আছেন, তিনি আগের মানুষ নন। তাঁর গম্ভীর মুখে জমেছে বিপন্নতা, চোখে কালো ছায়া। এসব আগে দেখেনি মঈন। তারপর মঈন চলে যাওয়ার কিছুদিন পার হলে একদিন কেয়া ফোন করে জানাল, বাবা নেই।

৩.

সোমার সঙ্গে মঈনের বিয়েটা হলো, এবং বিয়ের পর সোমার সোজাসাপ্টা কথা, এবার এই শহরের পাট চুকাতে হবে—এবার যাত্রা ঢাকায়। যে যাত্রার ফেরত টিকিট সে কাটবে না।

ইলিয়াস সাহেব উদ্যোগ নিয়ে বাড়িটা বিক্রি করালেন। সে উদ্যোগে খুশিমনে যোগ দিল কেয়ার স্বামী। ইলিয়াস সাহেব এবার ধরলেন তাঁর বন্ধু বিশিষ্ট রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী কতুবউদ্দিনকে।

লম্বা গল্প ছোট করলে যা দাঁড়ায়: একটা ফ্ল্যাট কেনা হলো ঢাকায়। হাতে থাকল কিছু নগদ টাকা। সোমা বলল, এই টাকা দিয়ে অনেক কিছুর সঙ্গে একটা বড় প্লাজমা টিভি কিনবে।

৪.

সমস্যা দেখা দিল আরামকেদারাটা নিয়ে। ইলিয়াস সাহেব কিছুতেই সেটি নেবেন না। কেয়ার স্বামীও না। সোমা বলল, ‘বিক্রি করে দাও।’

কেনার জন্য দুজন মানুষও হাজির, কিন্তু তাদের ফেরত পাঠিয়ে দিল মঈন। বলল, ‘এটা বাবার কেদারা। এটা বিক্রি করব না, ঢাকায় নিয়ে যাব।’

৫.

ফ্ল্যাট বাড়ির বসার ঘরের ১৬ x ১২ ফুট পরিসরে কেদারাটা একটু অস্বস্তি নিয়ে এল—অনাবশ্যক একটা বড় জায়গা দখল করে রাখল কেদারাটা। সোফাসেটটা তাই মনের মতো কিনতে পারল না সোমা। লোকজন এলে কেদারাটা দেখে হাসে। বেঢপ। বেমানান। একটা যন্ত্রণার নাম।

এক ছুটির দুপুরে কেদারায় হাত রেখে মঈন ভাবল, কী এমন কারণ আছে এটা বিক্রি না করার? অনেক চেষ্টা করেও এই কেদারা নিয়ে একটা সুখস্মৃতিও সে উদ্ধার করতে পারল না। দু-একটা স্মৃতি উঁকি মেরে একটা আদল নেওয়ার আগে বিদায় হলো। হঠাৎ একসময় একধরনের ঘ্রাণ ছড়াতে শুরু করল কেদারাটা, যা অবশ করার মতো। ঘ্রাণটা আবার হঠাৎ হারিয়েও গেল; এবং জেগে উঠল মঈন, ঘ্রাণটা তো বাবার নয়, এটা তো মায়ের!—অথবা সে রকমই মনে হলো তার। তাহলে? কোনো কূলকিনারা না পেয়ে কেদারাটার দিকে তাকিয়ে থাকল সে। এ সময় কেদারায় বসা বাবার চোখের হাসিটা মনে পড়ল তার। এরপর কেদারাটার কোনো মহিমা কি আর থাকে, বলুন? এটি বিদায় করে দেওয়া যায়, সে ভাবল।

কিন্তু রাতে বসার ঘরের জানালাটা বন্ধ করতে এসে দেখল, নানা দালানের ফাঁকফোকর দিয়ে কেদারার ওপর যে একটুখানি চাঁদের আলো এসে পড়েছে, তাতে যেন বদলে গেছে সব। একটা স্মৃতির মিছিল যেন শুরু হয়ে গেছে কেদারার চারপাশে। অথচ আশ্চর্য, এই মিছিলের কোথাও কেদারাটা নেই। সবই সেই কবেকার। যখন মা ছিলেন। চোখ বুজে এবার মিছিলে শামিল হলো মঈন। একসময় টের পেল, মা যেন কেদারাটা ধরে দাঁড়িয়ে আছেন, হাসছেন।

৬.

সোমার সঙ্গে একদিন তুমুল তর্ক হলো কেদারা নিয়ে। বিশিষ্ট ব্যাংকার খলিল সাহেবের মেয়ে এসেছিল, সোমার ছোটবেলার বন্ধু। কেদারা দেখে সে বলেছে, এটা সহ তোর বরকে জাদুঘরে পাঠিয়ে দে।

তর্ক ঠেকল ঝগড়ায়। সারা বিকেল ঝগড়া শেষে সন্ধ্যা থেকে কথা বলা বন্ধ। রাতে গেস্টরুমে ঘুমাতে গেল সোমা। মঈন যে ভেতরে ভেতরে বেশ একরোখা, যুক্তিহীন মানুষ—বুদ্ধিহীনও, আগে সে কেন বোঝেনি, তা নিয়ে নিজেকে ধিক্কার দিল।

মঈন বিছানায় গেল বাবার মতো শূন্য চোখ নিয়ে।

৭.

রাতে ঘুমের মধ্যে তেষ্টা পেল মঈনের। তেষ্টার একটা কষ্ট আছে, যা চৈত্রের পাতার মতো শুকনো আর খসখসে, যা শুধু সারা অস্তিত্বে উড়ে বেড়ায়, শুষে নেয় আর্দ্রতার সব বিন্দু। সে উঠে পানি খেতে খাবার ঘরের দিকে গেল, অর্থাৎ বসার ঘরের লাগোয়া খাবার ঘরের দিকে। বসার ঘরে চাঁদের আলো পড়েছে, ঘোলা ঘোলা একটা ভাব। সেই আলোয় সে দেখল, কেদারাটা ধরে দাঁড়িয়ে আছেন মা। বাবা বসে আছেন বেতের আসনে, পিঠটা মেলে দিয়ে। মার হাতের চুড়ির টুংটাং শুনল মঈন। আরও শুনল মা বাবাকে বলছেন, ‘সারা দিন মন খারাপ করে এই কেদারায় বসে থাকেন কেন?’ একটুখানি হাসলেন বাবা—হাসিটা কষ্টের। কোনো কথা বললেন না।

‘ছেলেমেয়েদের কোনো দিন বলেননি কেন, কী হয়েছিল?’—মা বললেন। এবার মাথা তুললেন বাবা, ‘তুমি বলোনি কেন?’

‘সব কথা কি সব সময় সবাইকে বলা যায়?’—মা বললেন।

বাবা হাসলেন, ‘কোনো কথাই আসলে কাউকে বলা যায় না।’

‘আমাকেও না?’—মা জানতে চাইলেন।

আবার হাসলেন বাবা। তারপর উঠলেন। বললেন, ‘একটু হাত লাগাও তো। কেদারাটা নিয়ে বারান্দায় রাখি। এই বাড়িতে এটা একটা সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেয়াল তুলতে চাইছে।’

মঈনকে অবাক করে মা হাত লাগালেন। দুজনে মিলে চেয়ারটা বারান্দায় রাখলেন। তারপর বাবাকে বললেন, ‘ছেলেমেয়ে দুটো জানলে এমন কী ক্ষতি হতো?’

‘সময়ের কথা অসময়ে বলা যায় না, বুঝলে? বলতে বলতে সময়টা চলে গিয়েছিল।’

৮.

সকালে উঠে সোমা দেখল, আরামকেদারাটা বারান্দায়, দেয়ালের সঙ্গে ঠেস দেওয়া। মঈন ঘুমাচ্ছে। একবার তাকে ডেকে সাড়া না পেয়ে তার বন্ধুকে ফোন করল সোমা, ‘তোর জাদুঘরের দাওয়াইটা কাজে দিয়েছে’, সে বলল, ‘আপদটা বিদায় হচ্ছে।’

বন্ধুটা নিশ্চয় সেই কথা শুনে হাসল, কারণ সোমাও হাসতে থাকল।




লেখক পরিচিতি
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্যের একজন অন্যতম শক্তিশালী কথাশিল্পী। তিনি বাংলা ছোটগল্পে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। তিনি তাঁর গল্পগুলো উত্তরাধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ব্যাখ্যা করে থাকেন। তাঁর গল্প বাস্তব ও জাদুবাস্তবতার ব্যবধান ঘুচিয়ে দেয়। সমকালে বেশিরভাগ লেখকই ধার করা ভাষায় লিখে অভ্যস্ত, অন্যদিকে সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের ভাষা মেদহীন ও ঝকঝকে যা পাঠককে অনায়াসেই কাছে টেনে নেয়। আবার তাঁর লেখা উপন্যাসগুলো নানা কারণে তাঁর সমকালীনদের চেয়ে ভিন্ন। এ ভিন্নতা তাঁকে বিশিষ্টতা দান করেছে। অপরদিকে তাঁর প্রবন্ধসমূহ পড়লে বোঝা যায়, তিনি বিশ্বসাহিত্যের একজন বোদ্ধা বিশ্লেষক ও পাঠক। তবে গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ প্রভৃতি বিচিত্র শাখায় তাঁর দৃপ্ত পদচারণা থাকলেও তিনি নিজেকে কেবল গল্পকথক বলেন।

২টি মন্তব্য:

  1. স্মৃতি বিস্মৃতি কল্পে কোন আদল না পাক, অনেক কিছু যে রয়েছে প্রমাণ করা না যাক, মঈনের মনে বিস্মৃতির অতল থেকে কিছু যে জাগতে চাইছে এ কথাটাতো সত্য! বাবা

    উত্তরমুছুন