শুক্রবার, ১১ জুলাই, ২০১৪

স্বপ্নময় চক্রবর্তী'র গল্প : ধর্ম

রুপুর মা ম্যাজেনাইন ফ্লোরে থাকেন। ঘরের হাইট কম, তাই দরজার ফ্রেমটাও ছোট। তাই ‘মা ভাল আছ?’ বলতে গিয়ে মাথা ঝোঁকাতে হয়। আজও দরজার সামনে মাথা ঝুঁকিয়ে কথাটা ছেড়ে দিয়েই উপরে চলে যাচ্ছিল। রোজই তাই করে রুপু। ‘কিছুই খেতে ইচ্ছে নেই, ঘুম নেই, গা জ্বালা, আর পারি না’ এইসব এক কথা রোজ শুনতে ইচ্ছে করে না। রুপু চলে যায়, রুপুর মায়ের কথা চলতেই থাকে। আজ যাবার জন্য ঘুরে দাঁড়াতেই মায়ের জন্য রাখা আয়াটি বলল, মাসিমার আজ শরীর খুব খারাপ। বমির সঙ্গে রক্ত গেছে।


বেশ হয়েছে। রুপু মনে মনে ঝাঁঝিয়ে ওঠে। জুতোর শব্দ খটখট উপরের দিকে চলে যায়।

আজ দু’বছর ধরে এসব চলছে। গ্যাস অম্বলের ধাত বহুদিনই। ছোটবেলা থেকেই লম্বা লম্বা ঢেঁকুর তুলতে দেখেছে রুপু। গাদাগাদা জেলুসিল, অম্লজিন, আমলকীর বড়ি, ভাস্কর লবণ ইত্যাদি নানারকম জিনিস চানু সাপ্লাই করে গেছে। বাবা মারা গেছেন বছর পাঁচেক হল। তারপরই রুপুর মা একটু বেশি শুচিবাইগ্রস্ত হয়ে পড়লেন। কোনও বউ কিছু খাবার নিয়ে এলে আগে জেনে নিতেন ‘শোয়া কাপড়ে’ আছে কি না। সকালে উঠে স্নান, দুপুরে স্নান, বিকেলে স্নান। ঘরে ওঁর বিছানায় বাইরের কেউ বসতে পারবে না। একদিন এরকমও হয়েছে, মা যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন, রুপুর বউ গায়ে হাত বুলোতে গেলে, রুপুর মা বললেন, কী শাড়ি? রুপুর বউ বলল, ধোয়া শাড়ি মা। মা বললেন, আমাকে ছুঁয়ো না, আমি অন্যরকম গন্ধ পাচ্ছি। এর পরেও কি কোনও বউ সেবা করবে? রুপুর মা বলতেন, আমার কিছু দরকার নেই। সারাটা জীবন সংসার করেছি, কোনও প্রতিদান আশা করি না। নিজের রান্নাটা নিজেই করতেন। গত দু’বছর ধরেই আর পারছেন না। বছর খানেক আগেই ধরা পড়ল গলব্লাডারে স্টোন হয়েছে, অপারেশন হল ছ’মাস আগে। এবং স্টোন অপারেশন করতে গিয়েই ধরা পড়ল ক্যানসারও হয়েছে। তারপর কেমোথেরাপি ইত্যাদি। খুবই ব্যতিব্যস্ত রুপু। বহুদিন কোথাও বাড়িতে বন্ধু-বান্ধব ডেকে হই হই করতে পারেনি। ছেলেটার জন্মদিনও নমো নমো করে সারতে হয়েছে, এসব কারণে রুপুর মনটা একটু খিঁচোনোই থাকে। তা ছাড়া অফিসেও ঝামেলা চলছে। লোক কমে গেছে বলে খাটুনি বেড়েছে খুব, তা ছাড়া রুপুর আন্ডারে কাজ করে একটি মেয়ে, সে এস সি কোটায় প্রোমোশন পেয়ে রুপুর বস হয়ে গেছে। আজ একটু হুইস্কি চড়িয়ে এসেছিল রুপু। জুতোটা খুলতে খুলতে শুনছিল সাগা মাগা মাগারে নিসা। শুক্লা রেওয়াজ করছে। ভীমপলশ্রী। ভীমপলশ্রীর মধ্যেই রুপু বলল, মায়ের রক্তবমি হয়েছিল? মাপা গামা পানি সা নি ধাপা। হ্যাঁ। হাসিদি বলছিল। সাগা মাপা মাগারে নিসা। বেসিনে মুখে জলের ঝাপটা দিল রুপু। মুখটা ভাল করে কুলকুচি করল। তারপর মায়ের ঘরে গেল রুপু। রাত ন’টা। নীল আলো জ্বলছে। মায়ের কপালে হাত রাখল রুপু। কপালে একটা হাত বুলিয়ে দিল। আসলে ওর হাত বলার চেষ্টা করছিল সব সময় মেজাজটা ঠিক রাখতে পারি না মাগো। রুপু শুনল ওর মা বলছে জল খাব।

হাসি নামের আয়াটি, বছর পঞ্চশেক বয়স হবে, বাটিতে জল নিয়ে ঝিনুক দিয়ে মায়ের মুখে জল দিল। মা বলল, অণু, তুই এতো দিন পরে এলি? ভাল আছিস মা?

হাসিদি বলল, মাসিমা এখন আবার আমাকে অণু অণু ডাকছে। উপর থেকে ভেসে আসা ভীমপলশ্রী মাখানো নীল আলোয় চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল হাসি।

অণু হল রুপুর দিদি, রুপুর চেয়ে বছর তিনের বড়। রুপুর মা প্রীতিলতার তিন সন্তান ছিল। রুপু, চানু আর অণু। রূপক, চম্পক আর অণিমা। অণুই সবচেয়ে বড়। বিয়ে হয়েছিল দিল্লিতে, ছেলেমেয়েরা ওখানেই পড়ে। হঠাৎ মেনিনজাইটিসে মারা গেল প্রীতিলতার অপারেশনের দু’সপ্তাহের মধ্যেই। প্রীতিলতাকে জানানো হয়নি। ক’দিন আগে অণুর স্বামী এসেছিল। প্রীতিলতা শক পাবে বলে কিছু বলেনি। ছেলেমেয়ের পড়াশুনা নিয়ে ব্যস্ত বলে অণু আসতে পারছে না এরকম কথাই বলেছে অণুর স্বামী। প্রীতিলতার মনের মধ্যে একটা ক্ষোভ ছিল। কতদিন বলেছে, অণু একটিবারের জন্যও দেখতে এল না, আমি বুঝি ছেলেমেয়ে মানুষ করিনি। গলব্লাডার অপারেশন করে যখন ফিরে এসেছিল, তখন রুপু একটা মিছিমিছি চিঠি সামনে নিয়ে বলেছিল, দিদির চিঠি। পড়ে শুনিয়েছিল, মাগো, তোমার অপারেশনের খবরে বড় চিন্তিত আছি। ভগবানের কাছে প্রার্থনা করি খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ওঠো। আমি বড় ঝামেলায় আছি। সময় পেলেই আমি আসব। এর পর আর পড়তে পারেনি রুপু। কান্না চাপতে বড় কষ্ট হচ্ছিল।

কিছুদিন পরে চিঠিটা আবার দেখতে চেয়েছিল প্রীতিলতা। কিন্তু রুপু তখন চিঠিটা খুঁজে পায়নি। তবে মাঝে মাঝে বলেছে, দিদি ফোন করে খোঁজ নিয়েছিল। ভাগ্যিস ফোনটা উপরে, ম্যাজেনাইনে নয়।
ম্যাজেনাইন ঘরকে বলে দেড়তলা ঘর। দেড়তলার ঘর থেকে উঠে ফোন ধরা প্রীতিলতার পক্ষে সম্ভব ছিল না। দেড়তলার ঘরে ফোনের শব্দঝঙ্কার শোনা যায়। মাঝে মাঝেই প্রীতিলতা বলতেন—ওই, বোধহয় অণুর ফোন এল।

অপারেশনের পর থেকেই আয়া রাখা হচ্ছে। দু’বেলার দু’জন। কাছেই একটা এজেন্সি আছে, রেডক্রস লাগানো, ‘নিবেদিতা নার্সিং সেন্টার’, ওরাই আয়া সাপ্লাই করে। আগে দু’বেলায় দু’জন আসত। ওদের মধ্যে একজনের নাম হাসি, ওই হাসিকেই প্রীতিলতার বেশি পছন্দ। ঘোরের মধ্যে থাকলে প্রীতিলতা ওকে অণু বলে ভুল করে। ঘোর কেটে গেলে ভুল ভেঙে যায়, ওকে যে অণু ভেবেছিল, অণু ডেকেছিল, সেটাও ভুলে যায়।

প্রীতিলতার এখন কেমোথেরাপি চলছে। ফলে মাঝে মাঝেই জ্ঞান-অজ্ঞানের সীমার মধ্যে থাকছেন। আলো-আঁধারে। প্রীতিলতার প্রায় সব চুল উঠে গেছে। গায়ের চামড়ায় কালচে ছাপ। কেমোথেরাপি নিতে পারছেন না। যে-ডাক্তার কেমোথেরাপি করছেন, তিনি বেশ নাম করা ডাক্তার। বলেছেন কেমো যদি স্যুট করে তবে বছরখানেক ভালো থাকবেন। কিন্তু যা সব হচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে কেমোথেরাপি স্যুট করছে না। ডাক্তার এসেছিলেন বাড়িতে। পাঁচশো টাকা ভরা খামটা খুব নির্লিপ্তভাবে বুক পকেটে ঢুকিয়ে বলেছিলেন, কেসটা আর তত হোপফুল নেই।

রুপু জানে ডাক্তাররা এর বেশি বলেন না। গত ছ’টা মাস ভীষণ চাপ চলছে রুপুদের। রুপু বড়ছেলে হওয়াতে ওরই দ্বায়িত্ব বেশি। এরই মধ্যে দিল্লী যেতে হয়েছিল। মা-মরা ভাগ্নে-ভাগ্নিদের একটু দেখে তো আসতে হয়। চানুটা দিব্যি গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘোরে। ও খালি অফিস দেখায়। ট্যুর কি রুপুর নেই? রুপু তো মায়ের অসুখের কথা বলে ট্যুর-এ যায় না। প্রতিমাসেই একবার দু’বার বাইরে যায় চানু। আর প্রতিবার না হলেও, প্রায়ই চানুর অবর্তমানে চানুর বউ বাপের বাড়ি চলে যায়। এখন যেমন চানুরা কেউ বাড়ি নেই। রুপু মনে মনে বলে—মা যখন মারা যাবে তখন যেন চানু বাড়ি না থাকে, চানু যেন দেখতে না পায়। মনে মনে এই যে প্রার্থনা, এই প্রার্থনা-বাক্যটির প্রথমেই হে ভগবান শব্দটি গুপ্তভাবে থেকে যায়, যদিও রুপু ভগবানে-টগবানে বিশ্বাস করে না। কিন্তু যখন বায়োপসি করতে দিল, রিপোর্ট পাবার অপেক্ষায়, তখন কালীমন্দিরের পাশ দিয়ে যাবার সময়েই কেন মনে আসত বায়োপসি রিপোর্ট যেন ভাল হয়। কিন্তু কালীমন্দিরের সামনে দাঁড়িয়ে কপালে আঙুল ছোঁয়ায়নি কখনও রুপু।

এখন বড্ড ঝামেলা মনে হচ্ছে। প্রতিদিন টেনশন। বাড়ি ফেরার পর প্রতিদিন নতুন নতুন মন খারাপ। জ্বর হয়েছে কিংবা খুব ব্যাথা, কিংবা গা কাঁপছে, কিংবা চানু চলে গেছে কিংবা শুক্লা কাঁদছে।

শুক্লা আর পেরে উঠছে না। কতদিন আর ভাল লাগে। আয়া আছে যদিও, কিন্তু শুক্লা তো কোথাও যেতে পারছে না। বিয়ের আগে গ্রুপ থিয়েটারে ছিল, বিয়ের পরেও কিছুদিন অভিনয় করেছে। এখন করে না যদিও, কিন্তু নাটক দেখতে ভালবাসে। কতদিন নাটক দেখেনি শুক্লা। কত দিন নন্দন চত্বরে যায়নি। বাড়ির ঝক্কি আর টেনশন, দিনের পর দিন। তেমন কিছু হলে পাড়ার ডাক্তারকে খবর দেওয়া, ওষুধ বিষুদ আয়াকে বুঝিয়ে দেওয়া... ।

আজ একটা প্যাকেট এনেছে রুপু। মাঝে মাঝে রান্না করা খাবার নিয়ে আসে, এতে শুক্লার কিছুটা খাটুনি কমে। একটা মাইক্রো-ওভেন থাকলে ভাল হত। মায়ের জন্য যদি এত টাকা খরচ না হত হয়ে যেত...। রুপুর খাবার ব্যাপারে কোনো প্রেজুডিস নেই। সব খায়। শুক্লাও। ওরা প্রেম পর্বে কতদিন নিজাম-টিজামে গিয়ে বিফরোল খেয়েছে। বাড়িতেও এনেছে কয়েকবার। রুপুর এ নিয়ে একটা প্রচ্ছন্ন গর্বও রয়েছে। ওর প্রগতিশীল বন্ধুদের বলেছে, পারবি তোরা আমার মতো বামুনের বাড়িতে বিফ ঢোকাতে? ওদের ছেলে পুকু। পুকুকেও খাইয়েছে। যদিও বলেনি কিছুই। পুকু জানে মিট। মিট খেতে ভালভাসে পুকু। পুকুকে এখন বলা যায় না। স্কুলে গিয়ে যদি বলে বাড়িতে বিফ খাই, স্কুলের বন্ধুরা, টিচাররা এটাকে ঠিকভাবে নেবে না। রুপু ওর কলিগদেরও বলে না। তবে প্রীতিলতার খাবারের সঙ্গে মেশায় না শুক্লা। প্রীতিলতার জন্য আলাদা রান্না। উনি মাছ খেতেন না। অসুখের আগে প্রীতিলতা একটা ছোট্ট গ্যাস বার্নারে নিজের নিরামিষ রান্না নিজেই করে নিতেন। এর পর শুক্লাই করে। এখন যেসব পথ্য খান প্রীতিলতা, শুক্লাই করে। ডালের জল, গলা ভাত, মাছের পাতলা ঝোল...। এখন তো ক’দিন ধরে ভাত-টাত খেতেই পারছেন না। হাসি নামে যে আয়াটি, ও দু’বেলাই থাকছে। রাত্রে প্রীতিলতার ঘরেই শুয়ে থাকে। রুপুরা যা খায়, হাসিও তাই খায়। বাইরের খাবার আনলেও ভাগ পায়। চিলিচিকেন—চাউমিন কিংবা বিরিয়ানি খেতে পায় হাসি। একবার পরোটা আর বিফ চাঁপ এনেছিল রুপু। হাসি দেখেছিল পলিথিন মোড়া প্যাকেট। প্যাকেট দেখলে হাসি হাসিখুশি হয়ে যায়। জিজ্ঞাসাই করে ফেলে, আজ কী আনিছেন?

চাউমিন খুব একটা পছন্দ করে না। বলে কেমন কেঁচোপনা দেকতি। বিরিয়ানি খুব পছন্দ। একদিন বলেছিল ওর মা নাকি ভাল বিরিয়ানি রান্না করতে পারত। কাঠকয়লার আঁচে বিরিয়ানি করার গল্প বলেছে হাসি। সেদিন যখন জিজ্ঞাসা করল, আজ কি আনিছেন? রুপু বলেছিল, এটা তুমি পাবে না হাসিদি।

হাসির আলাদা একটা প্লেট আছে। যখন প্লেটে খাবার দিচ্ছিল, শুক্লা আস্তে আস্তে হাসিকে বলেছিল—বাইরের খাবারটা তোমাকে দিলাম না হাসিদি। গলা নামিয়ে বলল, এটা কিন্তু গোরুর মাংস। কাউকে বলো না কিন্তু আবার।

হাসি বলেছিল, গরিবের আবার গোরু আবার ছাগল। আমাদের সবই অব্যেস আছে।

ক’দিন পরে একটু পোর্ক এনেছিল রুপু। শুক্লা খুব ভালবাসে এটা। চাংওয়াতে চিলিপোর্ক খেত ওরা মাঝে মাঝে। সেদিন হল কী, যখন হাসির খাবার বেড়ে দিচ্ছিল শুক্লা, হাসিকে বলল, আজও কিন্তু খারাপ মাংস। শুয়োর খাবে তো? হাসি কেমন আঁতকে উঠল। হাসি বলল, তোবা তোবা। তখন রুপুও ছিল সামনে। রুপু প্রথমে ভেবেছিল হাসি একটা ইয়ারকি করছে। কিন্তু যখন হাসি ওটা খেলই না, এমনকী রুটি তরকারিও খেল না, তখন একটু ধন্ধে পড়ে গেল ওরা। শুক্লা জিজ্ঞাসা করল, রুটি খেলে না কেন? হাসি বলল, এমনি, খাতি ইচ্ছা নাই। বড় এ্যাসিড অম্বল হয়েছে। শুক্লাদের মনে হল ওই মাংসের ছোঁয়া লেগেছে বলেই হাসি রুটিও খায়নি।

হাসি মুড়ি খেল শুধু, একটা কালচে হয়ে যাওয়া কলা দিয়ে।

রুপুর সন্দেহ হল হাসি কি তবে মুসলমান? রুপু খবর কাগজের একটা ফিচারে পড়েছে দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা থেকে ট্রেনে চেপে অনেক মহিলারাই আসে ওদের নামটা ওদের নিজের গ্রামে জমা রেখে। ইউনিফর্মের মতো একটা নতুন নাম পরে নেয় ওরা। ফাতেমারা প্রতিমা হয়ে যায়, মমতাজরা মুনমুন, জুবিলারা জবা। হাসি কি তবে অন্য কিছু?

রুপু হাসিনাকে দেখতে থাকে। রোগা শ্যামলা মুখ, ঠিক ওর কোনও আত্মীয়অরই মতো। একটা সবুজপাড়ের শাড়ি। এখানকার বিধবারা যেমন পরে। ওর মা-ও এরকমই শাড়ি পরে। হাতে কোনও চুড়ি নেই, শাঁখা নেই, পলা নেই। ওর মায়েরও নেই। বাটির ভিতরে একটা হাত শুকনো সাদা সাদা মুড়ি উঠিয়ে নিচ্ছে মুখে। মুখ নাড়ছে, হাসিদির মাথাটা নিচু। চুপচাপ খেয়ে যাচ্ছে। কোথাও মুসলমান লেখা নেই।
হাসি চলে গেল, রুপু আর শুক্লার মধ্যে এরকম কথাবার্তা হয়।
রুপু—কিছু বুঝলে?

শুক্লা—কেমন যেন মনে হল।

রুপু—ও কি নাম ভাঁড়িয়েছে?

শুক্লা—এখন থাক।

পুকুর দিকে তাকাল শুক্লা।
শুক্লা আর রুপু নিচে নামল। ওরা দেখল মায়ের মশারি খাটিয়ে ফেলেছে হাসি। হাসি বসে আছে মশারির ভিতরে, মায়ের পাশে। মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে হাসি। কিন্তু হাসির মুখে হাসি নেই। গম্ভীর।

মা বলছেন, ক’দিন থাকবি অণু?

হাসি বলছে—তুমি ভাল হলে যাব।

কবে ভাল হব?

আর ক’দিন পরেই।

ভাত খেয়েছিস মা?

খেয়েচি।

কী দিয়ে খেলি?

ডাল, তরকারি, ভাজা...

মাছ ছিল না।

মাছও ছিল।

পেট ভরেছে?

হ্যাঁ গো মা।

তোকে আমি বাড়ির অংশ দেব।

হুঁ।

ঠাকুরকে জল দিয়েছিস?

কোনও কথা বলে না হাসি।
রুপু দেখল ঠাকুরের তাকে জল ঢাকা।

ঠাকুর এখানেই থাকে। যখন প্রীতিলতা আর পারতেন না, তখন শুক্লাই এই কাজ করত। এর পর যখন আয়া রাখা হল, আয়াই করে।

ওরা উপরে চলে আসে।

রুপু শুক্লাকে বলল, ব্যাপারটা অন্যরকম লাগছে।
শুক্লা বলল, ওকে কাল জিজ্ঞাসা করব।

রুপু—কাল কেন? আজই।

শুক্লা—এত ব্যস্ত হবার কী হল?

ঘুম হবে না নইলে।

কীসের টেনশন?

নাম ভাঁড়াবে?

আর ইউ শিয়র?

অলমোস্ট। তুমি কী ভাবছ?

হতে পারে। কিন্তু তুমি কিভাবে কীভাবে শিওর হলে?

ওর তওবা তওবা শুনে।

কী নাম হতে পারে!

জানি না। তবে ও মুসলিম।

না হয় হল। কী হল তাতে? তুমি কি এসব মানো?

মানি না। একদম মানি না। তাই বলে মিথ্যে কথা বলবে?

অনেক মিথ্যে সত্যির চেয়ে বেশি সত্যি। ওর অণু হয়ে যাওয়াটা তো মিথ্যে। কিন্তু ওই মিথ্যেটা মার কাছে সত্যি না?

দ্যাটস ডিফারেন্ট।

কেন ডিফারেন্ট?

সেটা অন্যকথা। কিন্তু আমাকে ধোঁকা দেবে? তার মানে ও রিলায়েবল নয়। শি ইজ নট ট্রানসপারেন্ট। ও আমাদের রান্নাঘরে ঢুকছে, এর জন্য কিছু নয়, ওসব প্রেজুডিস আমার নেই। কিন্তু আমরা মাকে কী করছি? প্রতারণা করছি না? কিন্তু মা তো এসব মানেন। মায়ের সঙ্গে প্রতারণা করছি না?

শুক্লা কিছু বলে না।
রুপু বলে, ওকে একবার ডেকে নিয়ে এসো। ওর সঙ্গে খোলাখুলি কথা বলল।

হাসি আসে।

শুক্লা বলে, সত্যি করে বলো তো তুমি কে?

আমি কে আবার? এ্যাটেনডেন।

এ্যাঁ।

এ্যাটেনডেন। আয়া।

রুপু বলে, তোমার ঠিক নামটা বলো। ধমকে উঠল রুপু। কিন্তু জোরে না। তাই সত্যি কথা বলো শব্দ তিনটি কীরকম যেন হয়ে গেল।

আমি তো সত্যিই বলছি। আমার নাম হাসি।

তুমি হিন্দু না মুসলমান?

মোছলমান। মাথা নিচু করে হাসি।

তা হলে বলছ যে তোমার নাম হাসি?

মোছলমান হলি হাসি হতে নেই? বাবা নাম রাখছিল হাসিনা। কিন্তু হাসিই ডাকত কিনা। ইস্কুলেও হাসি নাম লেখা ছিল।

শুক্লা জিজ্ঞেস করল, ইস্কুলেও পড়েছিলে বুঝি? কোন ক্লাস পর্যন্ত পড়েছিলে!

কেলাশ ফাইব।

তা তুমি তো মুসলমান বলোনি তো কখনও?

কখনও নিকেশ করেননি কিনা। নিকেশ নিলেন, বললাম।

তুমি যে ঠাকুরের জল দিচ্ছ? অসুবিধা হচ্ছেনা?

আমার কিসের অসুবিদে! আমার অসুবিদে নেই, ঠাকুরের অসুবিদে হলি অন্য কথা।

রুপু কোনও কথা বলে না। শুক্লাও চুপ। রুপু বলে, শুতে চলে যাও।

এবার? রুপু জিজ্ঞাসা করল শুক্লাকে।

শুক্লা বলে, তুমি কী ভাবছ?

মেয়েটার কাজ কিন্তু খারাপ না কী বলো!

শুক্লা বলল, চলুক না যেমন চলছে।

পরদিন রবিবার। চা খেয়ে থলে নিয়ে বাজারে গেল রুপু। কিন্তু কোনও পরিকল্পনা ছিল না, তবুও নিবেদিতা নার্সিং সেন্টারে ঢুকল রুপু।

যে মোটা মতো মহিলাটি বসেছিল, ওর কাছেই পেমেন্ট করতে হয়। কমিশন কেটে বাকি টাকা নার্স বা আয়াকে দেয়। রুপুর সঙ্গে ভালই চেনা হয়ে গেছে ওই মোটা মহিলার। উনিই মালিক। উনি জিজ্ঞাসা করলেন, কেমন কাজ করছে মেয়েটা?

প্রশ্নের জবাব না দিয়ে রুপুই জিজ্ঞাসা করে—যাকে পাঠিয়েছেন ওর নামটা কী বলুন তো?

কেন, হাসি!

হাসি কী?

হাসি মণ্ডল।

ঠিকানা?

খাতা খুলে দেখতে হবে। কেন? পালিয়েছে? কিছু নিয়ে টিয়ে গেছে?

না, ওসব কিছু না। ঠিকানাটা বলুন।

নবাহাটি। হিঙ্গলগঞ্জ।

আগে কোথায় কাজ করত?

কে্‌ কাজ কি ভাল করছেনা? ও তো ভালই করে। ওর নামে তো ব্যাড রিপোর্ট নেই। আগে তো জুপিটার নার্সিংহোমে কাজ করত।

রুপু বলে, জেনে রাখুন ওর নাম হাসি নয়, হাসিনা।

ওই একই হল।

কী করে এক হল?

একটু শর্ট করে বললে হাসিনা তো হাসিই হয়। ডাক নাম।

জানতেন ওর নাম হাসিনা?

না। খাতায় তো হাসিই আছে। কিন্তু তাকে ক্ষতি কী হয়েছে?

ও তো মুসলমান। আমার মা তো বিধবা, নিয়ম মানেন। ঘরে ঠাকুর আছে...

মোটা মহিলাট মাথা চুলকোলেন। তারপর বললেন—সরি সরি। সেটা তো জানতাম না। লোক পালটে দেব। ভাল লোক দিয়ে দেব।



সকালবেলা উঠে হাসির স্নান সেরে নিতে হয়। ম্যাজেনাইন ফ্লোরে একটা বাথরুম বানানো হয়েছে প্রীতিলতার অসুস্থতার সময়। ওখানেই আয়ারা ওদের বাথরুম সারে। স্নান করার পর কাচা কাপড় পড়ে হাসির প্রথম কাজ হল ছাদ থেকে ফুল তুলে আনা। কয়েকটা জবা গাছ আছে টবে। সারা বছর ফুল ফোটে। আর আছে নয়নতারা। তারপর থালায় সাজিয়ে দেয়। প্রীতিলতা যদি ভাল থাকেন, তো নিজে উঠে ঠাকুরকে ফুল দেন। ঠাকুর বলতে কয়েকটা দেবদেবীর ছবি, আর পেতলের ছোট্ট একটা নাড়ুগোপাল। যদি ওঠার মতো অবস্থায় না থাকেন তা হলে যে আয়া থাকে, সেই দিয়ে দেয়।

আজও স্নান সারল হাসি। ফুল তুলে আনল। তারপর কাপড়ও পালটে নিল। এবার শুক্লার কাছে গেল হাসি। বলল, দিদি, মাসিমা তো উঠতে পারবেন না, ফুল দিতি হবে, কী করব!

শুক্লা বলল, দিয়ে দাও।

হাসিনা তাই করল। বাসি জল ফেলে দিল। বাসি ফুল তুলে নিয়ে প্রীতিলতার কপালে ছোঁয়াল, তারপর জড়ো করে রেখে দিল। ওই ফুল জঞ্জালের সঙ্গে যাবে না, ছাদের টবের মাটির সঙ্গে মিশে যাবে। নতুন তুলে আনা ফুল দিল; প্রীতিলতা হাত জোড় করল, সেই সঙ্গে হাসিনাও। শুক্লা নীচে এসে এ-দৃশ্য দেখল। ঘরে ধূপের গন্ধ তখন। এবার মাকে বেড প্যান দেবে হাসিনা। হাসিনা এ সময় শুক্লাকে দেখতে পায়। বলে, সকাল ন’টায় ডিউটি শেষ। আর কী রাখবেন?

ন’টা থেকেই শিফট শুরু হয়।

শুক্লা বলল, তুমিই থাকবে।

রুপু ফিরে আসার কিছুক্ষণের পরেই একটি নতুন মেয়ে এল। হাতে একটা কাগজ, বলল, ম্যাডাম-দিদি আমাকে পাঠালেন, এটা কি রূপক ব্যানার্জির বাড়ি? মেয়েটা বলল, হাসিদিকে ফিরে যেতে বলেছে ম্যাডাম-দিদি। শুক্লা রুপুর দিকে জিজ্ঞাসার দৃষ্টিতে তাকালে, রুপু বলল, আমি সেন্টারে গিয়ে বলে এসেছি।

শুক্লা একটু কপাল কুঁচকে রুপুর দিকে তাকায়।

রুপু ওদিকে না তাকিয়ে একটা সিগারেট ধরায়। নতুন আসা মেয়েটি হাতে কাগজ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কাগজটা চেয়ে নিল রুপু। লেখা নতুন লোক পাঠালাম। হাসি মণ্ডলের কার্ডে সই করে পাঠিয়ে দেবেন।

রুপু মেয়েটিকে দেখতে থাকে।

সিন্থেটিক ছাপা শাড়ি, হাতে কাচের চুড়ি, কপালে হলুদ টিপ, নাকে ছোট্ট একটা নথ, গোলগাল চেহারা, বছর তিরিশেক বয়স হবে।

রুপু জিজ্ঞাসা করল, কী নাম আপনার?

জরি।

পুরো নাম বলুন।

জরিনা।

জরিনা? জরিনা খাতুন?

না, বিশ্বাস।

মুসলমান?

হিন্দু।

হিন্দুর নাম জরিনা?

তা কী করব? বাংলাদ্যাশে ছিলাম কিনা। সেইখানে এইরকম নাম রাখে। হিন্দুরাও রাখে। সুবিধা আছে।

কী সুবিধা?

বুঝা যায় না।

বাংলাদেশে থাকতেন?

জ্বী।

কবে এসেছেন?

তিন বছর।

বিয়ে হয়েছে?

জ্বী।

আপনার ঘটনাটা বলুন। কেন এলেন, স্বামী কী করে, বাড়ি কোথায়।

মাদারিহাটে থাকতাম। স্যাখ মুজিবরের পাশের গ্রাম। দাদার সংসার। একজন ছাতা সারাইতে কোলকাতা আসত। তারেই বিয়া করলাম, সে বলল, চল, ইন্ডিয়াতেই থাকব।

ছাতা সারায় তো মুসলমানরা।

অখন হিন্দুরাও সেই কাম শিখছে।

তারপর?

ছোড একখানি দোকান আছে অর, হাবড়া বাজারে। আর এই কাজ করি।

শুক্লা বলল, মায়ের কাছে চলো। মা যাকে চাইবেন, সেই থাকবে।

রুপু বলল—মাকে তো নিশ্চয়ই বলা হবে না হাসি আসলে হাসিনা।

শুক্লা বলল--তা হলে আর চেঞ্জ করছ কেন?

রুপু বলল--না, মানে। আমি যে জেনে গেছি, জেনে শুনে... মানে মায়ের ঠাকুর-টাকুর...।

প্রীতিলতার ঘরে গেল ওরা। হাসিও রয়েছে ওখানে। তখনও ধূপের গন্ধ।

রুপু হাসি কংবা হাসিনাকে দেখিয়ে বলে, মা, ওর নাম কী বলো তো?

প্রীতিলতা বলল, কেন, ওর নাম তো হাসি।

রুপু ভাবল, যাক, বাঁচা গেল। অণু বলেনি।

রুপু, শুক্লার কানে ফিসফিস করে বলল, স্বাভাবিক অবস্থায় মা ওকে কখনও অণু ভাবে না। ঘোরের মধ্যে ভাবে। ঘোরের মধ্যে এই নতুন মেয়েটিকেও অণু ভাববে মা। সুতরাং ওই ব্যাপারটা নিয়ে চিন্তা নেই।

রুপু বলল, মা, একটি নতুন মেয়ে এসেছে। বেশ ভাল। তোমার কাজকর্ম করবে। ভাবছি এবার ওকেই রেখে দেব। তুমি কী বলো।

হাসিনা তখন শুক্লার শরীরের নিকটবর্তী হয়। শুক্লার হাত ধরে আস্তে আস্তে বলে,আমায় চলে যেতে কিছু অসুবিধে নেই দিদি, কিন্তু এ বাড়িতে মাঝে মাঝে মেয়ে হয়ে যেতে পারতাম কিনা...।

মা মরিছিল ছোটকালে, মেয়ের ধম্মো তো করতি পারিনি কখনো... ।

ঘরে তখনো ধূপগন্ধের অবশেষ ছিল।



লেখক পরিচিতি
স্বপ্নময় চক্রবর্তী
জন্ম কোলকাতায় ১৯৫২ সালে।

স্কুল-কলেজে বিজ্ঞানের ছাত্র। পরে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এম.এ.।

দেশলাই-এর সেলসম্যান হিসেবে কর্মজিবন শুরু। নানা জীবিকা বদলে আকাশবাণীর সঙ্গে যুক্ত হন।
সত্তর দশুকের মাঝামাঝি থেকে লেখালেখির শুরু। প্রথম গল্প ' অমৃত' পত্রিকায় প্রকাশিত হলেও ছোট পত্র-পত্রিকাতেই লিখেছেন বেশি। প্রথম গল্প সংকলন'ভূমিসূত্র। প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৮২ সালে। প্রথম উপন্যাস চতুষ্পাঠী প্রকাশিত হয় আনন্দবাজার পূজা সংখ্যা ১৯৯২ সালে। প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে বিশিষ্ঠ লেখকরূপে চিহ্নিত হয়েছিলেন।
অবন্তীনগর উপন্যাসের জন্য ২০০৫ সালে পেয়েছেন বঙ্কিম পুরস্কার। এছাড়াও পেয়েছেব মানিক স্মৃতি পুরস্কার, তারাশঙ্কর স্মৃতি পুরস্কার, গল্পমেলা, ভারতব্যাস, আনন্দ-স্নোসেম ইত্যাদি পুরস্কার।
লেখালেখি ছাড়াও গণবিজ্ঞান আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। স্বপ্নময় চক্রবর্তী এ সময়ের একজন প্রধান লেখক।

১২টি মন্তব্য:

  1. অনবদ্য। হঠাত মোচড় ধাক্কা মারল কোথাও!
    শ্রাবণী দাশগুপ্ত।

    উত্তরমুছুন
  2. দু’একটা জায়গায় সম্ভবত শব্দ মিস করেছে। সেসব জায়গা বুঝে নিয়ে পড়তে হচ্ছে।

    গল্পটি অসাধারণ!

    উত্তরমুছুন
  3. বিধান সাহা, বানানগুলো ঠিক করা হয়েছে। ধন্যবাদ।

    উত্তরমুছুন
  4. ভীষণ ভাল। জীবনের এমন কঠিক বাঁকগুলো সরলভাবে তুলে আনাইতো মহান শিল্পীর কাজ।

    উত্তরমুছুন
  5. গল্পটি আগে পড়েছি। আবার পড়লাম। আবার পড়বো। এমন ধর্ম ঘরে ঘরে ঘরে কষ্ট পাক। আর ভাবনা তৈরি হোক। মা, ভাই, বোন বৌ কাজের মেয়ে এমন এক একটি শব্দ, সংস্পর্শে এলেই অনেক গল্প বুকের ভিতর বাজতে থাকে, তারই একটি অসাধারণ ভাষারূপ।

    উত্তরমুছুন
  6. গল্পটি আগে পড়েছি। আবার পড়লাম। আবার পড়বো। এমন ধর্ম ঘরে ঘরে কষ্ট হয়ে ঘুরে বেড়াক। মা, দিদি, ভাই, বোন, বৌ, কাজের মেয়ে এমন এক একটি শব্দ, সংস্পর্শে এলেই হাজার গল্প বুকের ভিতর বাজতে থাকে। তারই একটি অসাধারণ ভাষা রূপ।

    উত্তরমুছুন
  7. অসাধারণ একটি গল্প..। মানুষের আবার জাত কী? ধর্ম কী? মানুষতো মানুষই।

    উত্তরমুছুন
  8. গল্পের নাম ধর্ম । ধর্ম মানে কি ?ছোটবেলায় আমরা একটা কথা বলতাম একদমে অর্থাত্ একশ্বাসে ।তেমনি গল্পটা আমি একদমেই পড়লাম ।পড়ার পর উপলব্ধির কথা কি বলবো ,চুপ করে বসেছিলাম বেশ কিছুক্ষণ ।
    রুপু ব্রাহ্মণ কিন্তু গরু শুয়োর খায় উদার মন ।
    মা বামুন বাড়ির বিধবা ।সংস্কার থাকতেই পারে ।কিন্ত মানবিকতাই তো সব্বার উপরে ।হাসিনা যদি হাসি হয় ক্ষতি কী তার তো অণু হয়ে উঠতে আটকায় না ।ঠাকুর কে ফুল জল দিতেও ।
    শেষে মেয়ের কাজ করতে পারছে এই উপলব্ধি দিয়ে গল্পের শেষ ।
    আমি কোন লেখক কবি নই ।এক সাধারণ পাঠক ।
    প্রাণ ছুঁয়ে গেল ।স্বপ্নময় বাবুকে প্রণাম ॥

    উত্তরমুছুন