শুক্রবার, ১১ জুলাই, ২০১৪

গল্পে দ্বন্দ্ব ও টেকসই সাসপেন্স সৃষ্টির কৌশল

সাজেদা হক

ভেজা বারান্দার উপর দাড়ালো ড্যান। জানালার ফাক দিয়ে চোখে পড়লো অবিশ্বাস্য একটি দৃশ্য। দুহাতে জানালার পর্দা সরালো সামান্য। চোয়াল ভয়াবহ রকমের শক্ত করে সন্তর্পণে সেটে রইলো জানালার পাশে। যা দেখছে, বিস্ময়ে কোঠর থেকে চোখ বেরিয়ে পড়ার উপক্রম। ড্যান দেখছে, ড্রয়িং রুমের সোফায় এলিয়ে আছেন স্ত্রী। মুখে স্ফীত হাসি, আমন্ত্রণের ভংগিতে কাছে ডাকছে তারই সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু। দুজনের এমন অন্তরঙ্গ দৃশ্য দেখে স্থবির ড্যান। নিস্তব্ধ।


ছেড়ে দাও! আমার স্ত্রীকে ছেড়ে দাও। খুব ক্ষীণ স্বরে কথাটা বলল। ঠোট নড়লো ঠিকই, কিন্তু কোনো শব্দ হলো না।

ড্যান খেয়ালই করলো না যে তার অসাড় আংগুলের ফাকে আটকে আছে গাড়ির চাবি। ভোতা একটা কর্কশ শব্দ করে সেগুলো পড়ে রইলো তার পায়ের কাছে। একইসাথে উদ্ভট এক শব্দ মিলিয়ে গেলো ঠিক জানালার পাশে। একটা কালো ছায়া নজর এড়ালো না ড্যানের। বুকের ধরপড়ানি যেনো বেড়ে গেলো মূহুর্তেই।

ড্যান বিস্মিত, কিভাবে তারই প্রিয় মানুষগুলো তার বিশ্বাসকে এভাবে খুন করতে পারে?

............

সামাণ্য এই বর্ণনা কি আপনাকে আরো বেশি আগ্রহী করে তুলছে না? জানতে ইচ্ছে করছে না, এর পর কি হলো। আমি নিশ্চিত, উত্তরটা হ্যা ই হবে। এটাই আমাদের আলোচনার মূল বিষয়:

দ্বন্দ্ব বা সংঘাতই কথাসাহিত্যে রহস্য বা সাসপেন্স তৈরি করে, করতে পারে। দ্বন্দ্ব ছাড়া আসলে গল্পই হয় না, মানে জমে না। বিশ্বাস করুন আর নাই করুন সাহিত্যে দ্বন্দ্ব তৈরি করা আসলেই খুব সহজ। যতটা কঠিন মনে হয় তা কিন্তু নয়।

অনেক নতুন লেখক মনে করেন একটি গল্পে বিরোধ হিসেবে যোগ করেন চক্রান্ত বা সহিংসতাকে। চরম কিছু সত্যর পরেও গল্পে দ্বন্দ্ব থাকতে পারে। উপরের উদাহরণে আমরা দেখলাম ড্যানের মানসিক দ্বন্দ্বকে। জানালায় সেটে থেকে শারিরিক অবস্থার পরিবর্তন না করে তার মানসিক দ্বন্দ্বই আপনাকে আরো আগ্রহী করে তুলেছে। অথচ কাহিনীটার শুরু নাকি শেষ কিছুই বুঝতে পারছেন না আপনি। এর উত্তর জানার জন্য আকুল হয়ে আছেন আপনি। এটাই একচন দক্ষ, ভালো ও আদর্শ লেখকের দ্বন্দ্ব ও টেকসই সাসপেন্স সৃষ্টির কৌশল।


আসুন আরো একটি উদাহরণ খেয়াল করি:-

কাজ শেষ করে বাড়িতে ফিরছে ড্যান। বৃষ্টি থেকে বাচার জন্য তড়িঘড়ি করে গাড়ি থেকে নেমেই ঘরের দিকে রওনা দিলো। জানালার পর্দার পড়া আলোতে খেয়াল করলো, তার জন্য সোফায় মুখে স্ফিত হাসি নিয়ে অপেক্ষা করছে তার স্ত্রী। স্ত্রীর এমন ভংগিতে বিস্মিত ড্যানের হাত থেকে নিজের অজান্তেই খসে পড়লো গাড়ির চাবি, ঘরে ঢোকার আগে সেই চাবি তুলতেও ভূলে গেছে ড্যান!! অবাক সে!


এখন সত্যি করে বলুন তো, এমন আরো অন্তত ৪০০ পাতা পড়তে ইচ্ছে করছে আপনার? কেৌতুহল কি বেড়েছে? জানতে ইচ্ছে করছে...এর পর কি হলো??



খেয়াল করেছেন কি, দুটো উদাহরণেই ড্যান ঘরের বাইরে, একটি জানালার ধারে দাড়ানো, অল্প আলোয় স্ত্রীকে দেখছেন। কথিত উদাহরণে কেবল ড্যান কি দেখলো আর ড্যানের মন কি ভাবলো তা নিয়ে দ্বন্দ্ব তৈরি করেছেন লেখক।

প্রথম উদাহরণেই লেখক একটু বৃষ্টির ইংগিত দিয়েছেন, ভেজা বারান্দার কথা উল্লেখ করে। সুচনা চরিত্রে এমন করে তুলে ধরেছেন যে ইচ্ছে করলেও শারিরিকভাবে নড়তে পারছেন না ড্যান। আটকে আছেন মানসিক দ্বন্দ্বে। শরীর চাইলেও মন যেনো অবশ হয়ে গেছে তার।

দ্বিতীয় উদাহরণে তেমন কিছুই নেই পাঠকদের জন্য। এটি কেবলি বর্ণনা, পাঠকের জন্য বিশেষ কিছু নেই। পাঠক চাইলেই পাতা উল্টে যেতে পারেন। কেবলি ঘটনার বর্ণনা। যা খুব বেশি আকৃষ্ট করে না পাঠককে।

ঝুঁকি
উপরের প্রথম উদাহরণে, ড্যান অন্য পুরুষের সঙ্গে তার স্ত্রীর সম্পর্ক নিয়ে মানসিক দ্বন্দ্বের সাথে মোকাবেলা করার চেষ্টা করছেন। গল্পে এটাই ঝুকি। শেষ লাইন পর্যন্ত ঝুকি নিয়েই গল্পে দ্বন্দ্ব তৈরি করা যায়। অর্থাত ঝুকি দ্বন্দ্ব তৈরির একটি উপাদান। বেশির ভাগ মানুষ মানসিক দ্বন্দ্বে ভোগেন। এখানে ড্যানেরও একটি মানসিক সংকট তৈরি করা হয়েছে। উভয়সঙ্কটে সম্মুখীন ড্যানের মানসিক অবস্থা বোঝানোর জন্য লেখক তার স্নায়ুকেও ব্যবহার করে পাঠকদের আপন করে দিলো। পাঠক বুঝতে পারলো ড্যান কেনো মানসিক দ্বন্দ্বে পড়েছে। ড্যানের মানসকি অবস্থার সাথে যোগ হলো সাধারণ পাঠক। সেটাই ঝুকি!!

চরিত্রে হুট করেই ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলা যায় না। পাঠক এটা সহজে গ্রহণ করেন না। গল্পে সংঘাত তৈরি করার জন্য চরিত্রটিকে এমনভাবে তৈরি করতে হয় যেনো সেই চরিত্রের দ্বন্দ্বের সাথে পাঠক একাত্ম বোধ করেন। হোক সে মানসিব দ্বন্দ্ব বা শারিরিক। চিত্রিত চরিত্রের ভার অনুযায়ী দ্বন্দ্ব বা সাসপেন্স তৈরির ঝুকি নিতে হবে।

যদ গল্পটা এমন হতো, ড্যান ঘরে ঢুকলো আর তার বন্ধুর মুখে কষে দিলো এক ঘুষি। এখানে যদি ড্যানের স্ত্রীর কথা উল্লেখ না করেন, তাহলে কি পাঠক প্রশ্ন করে বসবে না, কেন বন্ধুকে ঘুষি মারলো ড্যান। অনেক পাঠকের কাছে ড্যানের গ্রহণযোগ্যতাই হয়তো কমে যাবে। হয়তো এ কারণেই পড়াই বন্ধকরে দিতে পারেন পাঠক। তাই না?


সহানুভূতি

বেশির ভাগ পাঠকই নিরুপায়, অসহায় ড্যানের জানালার পাশে দাড়িয়ে থেকে অসাড় হয়ে যাওয়ার সাথে একমত হবেন। কেউ কেউ এই পরিস্থিতিতে ভীত হতে পারেন, শংকিত হতে পারেন। এটাই টেকসই সাসপেন্স। কিন্তু ড্যান যদি এই ঘটনার পর খুনও করেন, তাহলে পাঠক তার খুনকেও হয়তো ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। অর্থাত পাঠক মেনে নেবেন। সহানুভূতিপ্রবণ হয়ে উঠবেন ড্যানের প্রতি। তারাও যোগ হবেন ড্যানের দু:খের। এমন উভয় সংকট মানুষের সাথে সম্পর্কযুক্ত।

ধরেন ড্যান হুড়মুরিয়ে ঘরে ঢুকলো, কোর্ট ছুড়ে ফেলে নিজেই শারিরিক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়লেন। এই দ্বন্দ্বে পাঠক সহানুভূতি নাও দেখাতে পারেন। এমনকি পাঠক আর উপন্যাস বা গল্পটাই পড়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারেন।

একটি দৃশ্য তৈরি করার সময় খেয়াল রাখতে হবে, আপনার পাঠক নায়কের জয় দেখতে চান। সে জয়ও অর্জন করতে হবে আপনার নায়ককেই। তার চরিত্রের দৃঢ়তা, যুক্তি-তর্ক, চিন্তার ধরণ, সামাজিক-মানসিক, আর্থিক প্রেক্ষাপট সবই বিবেচনায় রেখে পাঠক তার নায়ককে জয়ী দেখতে চাইবেন। সুতরাং তার চরিত্র চিত্রণে যত্নশীল তো হতেই হবে নাকি?

আরো দ্বন্দ্ব যোগ করুন

ধরে নেই ড্যান এর স্ত্রী তার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধুর সঙ্গে পরকীয়া করছেন- এটাই যদি সাসপেন্স হয়, কেবল এই সাসপেন্স ই কি পাঠক ৪০০ পাতা পড়তে আগ্রহী করে তুলবে??মনে হয় না!

আমি নিশ্চিত, ড্যান তার সবচেয়ে ভালো বন্ধুকে খুন করার পরিকল্পনা করবেন। কিন্তু তিনি জানালার ওপারে ঠায় দাড়িয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন, মানসিক দ্বন্দ্বে বিভোর। এটুকুও কি যথেষ্ট পাঠককে আরো ৪০০ পাতা পড়ার আগ্রহ তৈরি করার জন্য? আমার তো সন্দেহ আছে, আপনার সন্দেহ তৈরি হচ্ছে না।

প্রথম দ্বন্দ্বের পরপরই পাঠক আরো দ্বন্দ্ব চান, বার বার বিরোধ চান। একবার নয়, পাঠক বার বার তাজা সংকট চান।


সাসপেন্স বাড়ান

"বজ্রধ্বনি, বার বার বিদ্যুতের ঝলকানি, সাথে শুরু হওয়া যন্ত্রণাদায়ক বৃষ্টি এবং একটি বাশের সাকো। ড্যান জানালা থেকে কিছুটা সরে আসলো, মাথা ঝাড়া দিয়ে, দ্রুতবেগে ছুটে গেলো দূরে দাড়িয়ে থাকা গাড়ির দিকে। হঠাত করেই তার মাথা কাজ করতে শুরু করেছে। সব সময়ই গাড়ীতে একটি পিস্তল রাখে ড্যান। ঠিক এই মুহুর্তে সেটি লোডেড কি না, তা নিয়ে সংশয়ে, দ্রুত সেটাই চেক করতে চাইছে সে!!

মুহুর্তেই চোখের কোনে জমে থাকা অশ্রু মুছে নিলো সে। ঘরে ফিরে গিয়ে সবচেয়ে প্রিয় দুজন মানুষকে খুন করার পরিকল্পনা মনে মনে এটে নিলো সে।


এখন? ড্যান কিন্তু আর কেবলি হত্যা পরিকল্পনা করছেন না, রীতিমতো হত্যা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগী হয়েছেন। ঠিক এই মুহুর্তে এসে পাঠকের কথা ভাবুন!! ড্যান কি তাই করতে যাচ্ছে? এটা কি করবে ড্যান? যদি খুন ড্যান করেই ফেলে, তাহলে কি ধরা পড়বে? ধরা পড়লেও দু্ খুনের অপরাধ থেকে কিভাবে রেহাই পাবে সে?

শুধু তাই নয়, পাঠককে ভাবতে দিন, পাঠকের মনেও দ্বন্দ্ব তৈরি করুন। এখনও নায়কের প্রত ঠিক কতটা সহাণূভুতি প্রবণ আপনার পাঠক, যিনি একজন ঠান্ডা মাথার খুনিকেও প্রধান চরিত্র হিসেবে মেনে নেবেন?


জটিলতা তৈরি করুন

ড্যান তার স্ত্রী এবং সবচেয়ে ভালো বন্ধুকে হত্যা ড্রয়িং রুমের দিকে ছুটে গেলো। দুহাত সোজা করে, বন্দুকের নলা তাক করলো সোফার দিকে। কিন্তু দেখলো সেখানেই নেই কেউ। অবাক হয়ে ঘরের অন্য দিকে চোখ ঘুরিয়ে নিলো, দেখলো কোথাও কেউ নেই!! বিস্মিত ড্যান।

তাকে বিস্মিত করে দিয়ে হঠাতই একটি আঘাত আসলো সোজা পেট বরাবর। সে আঘাতে অনেকটা কুজো হয়ে গেলো ড্যান। এই ধাক্কাতেই হাত থেকে পড়ে গেলো বন্দুক। পেছন থেকে দুই হাত শক্ত করে ধরলো কেউ।

....তো প্র্র্রিয়তম, তুমি যদি তাকে এই সিড়ি থেকে ফেলে দাও তাহলে তা একটি দুর্ঘটনার মতো দেখাবে!

.... এ ব্যাপারে কি তুমি আমাকে সাহায্য করবে, তুমি জানো মানে লাশের কি গতি করতে হবে...... বললেন অন্যজন।

..... অবশ্য। কেনো নয়!! কেউ কোনোদিনই জানবে না। আমি কাউকে কোনোদিনই এই বিষয়ে গোয়েন্দাগিরি করতে দেবো না।


ছি ছি! পাঠক এখনই ছি ছি করে উঠবে। এমন একজন ব্যাভিচারি স্ত্রী ও প্রতারক বন্ধুকে কেনো খুন করবে না ড্যান তার পক্ষেই যুক্তি দাড় করাবেন সচেতন পাঠক।

কিন্তু সমস্যা তৈরি হয়েছে অন্য জায়গায়, ড্যানের যে বন্ধুর সাথে স্ত্রীর অণৈতিক সম্পর্ক তিনি নিজেই পুলিশের একজন বড় কর্মকর্তা। তিনি যা চাইবেন তাই হবে।

প্রতিনিয়ত নিজেকে প্রশ্ন করুন, এটা পাঠক গ্রহণ করবে কি? প্রতিবারই নিজের উত্তরের প্রতি সত থাকন। আপনার মন যদি বলে , হ্যা পঠাক নেবে, তাহলে তাই করুন। প্রতিনিয়িত নিজেকে পাঠকের আসনে বসান এবঙ সেই পাঠক থেকে উত্তরগুলো বের করে আনুন। কি এবারও পাঠক পাতা উল্টোতে ব্যস্ত থাকবে না?


চরিত্রকে কাজ করতে দিন
আপনার নায়ক যাকে আপনি থৈরি করেছেন তার কি এই সংঘাত তৈরির বাস্তব কারণ, বা যুক্তিসঙগত ব্যাখ্যা তৈরি করতে পেরেছেন? সত্যিই কি চরিত্রটি তা করতে চায়?

পরিস্থিতি সম্পর্কে বর্ণনা করুন
তিনি কি সত্যিই যাবেন এবং একটি বন্দুক নিয়ে ফিরে আসবেন! পরিস্থিতি কি এতোটাই জটিল বানাতে পেরেছেন যে ঠান্ডা মাথায় খুন করাটাই একমাত্র পথ?


গল্পের ধারাবাহিকতা সম্পর্কে বর্ণনা করুন
এই দৃশ্যটি আপনার গল্পকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম? আপনি কি প্রতিটা মুহুর্তের বর্ণণা নিখুতভাবে দিতে পারছেন, যাতে আপনার পাঠক নিজেকে ঘটনার সাথে ওতোপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত করতে পারছেন? এমন কোনো দৃশ্য কি পাঠকের মনে তৈরি করতে পেরেছেন যেখানে ড্যানের উত্তেজনা বাড়া বা কমার বর্ণনা এতোটাই নিখুত যে যে যেকোনো পাঠকই সহানুভূতিশীল হয়ে পড়েন?


আপনার পাঠকদের প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন
কেন পাঠক কি আপনার চরিত্রটিকে ভালোবাসবে, পছন্দ করবে, মনে রাখবে?
কেন পাঠক প্রত্যেকটা পাতা পড়ার জন্য উল্টাবে?

কেন পাঠক পরবর্তীতে কি ঘটছে, তা জানার জন্য উদগ্রীব হয়ে উঠবে? এসব প্রশ্ন প্রশ্ন করুন আপনার পাঠককে। তার পর যে উত্তরগুলো পাবেন তা কেবল কি বোর্ডে চাপ দিন, দেখবেন এমনিতেই তৈরি হয়ে গেছে দ্বন্দ্ব ও টেকসই সাসপেন্সে ভরা অনন্য এক উপন্যাস, গল্প বা অসাধারণ একটি কথাসাহিত্য। আর কি চাই?


*বিদেশী প্রবন্ধের ভাবানুস্মৃতি

এ সিরিজের আরেকটি লেখা পড়ুন--

লেখালেখির টিপস




লেখক পরিচিতি
সাজেদা হক
সাংবাদিক। লেখক।
ঢাকা

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন