শুক্রবার, ১১ জুলাই, ২০১৪

দীপেন ভট্টাচার্যের গল্প : বার্ট কোমেনের ডান হাত


আজ সকালে উঠে শুনলাম ২০১২ সালের মেডিসিনের নোবেল পুরস্কার জন গার্ডন ও সিনিয়া ইয়ামানাকাকে দেওয়া হয়েছে। এই দুই বিজ্ঞানী পরিণত কোষকে এক ধরণের স্টেম কোষ অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছিলেন যে কোষ কিনা শরীরের অন্য যে কোন ধরনের কোষে রূপান্তরিত হতে পারে। এই খবরটা শুনে মনে হল অনুরূপ কোন একটা ঘটনার কথা আমি শুনেছিলাম, বহু বছর আগে, প্রশান্ত মহাসাগরের ওপরে।


১. যাত্রা

প্রায় দশ বছর আগের ঘটনা। সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সে লস এঞ্জেলেস থেকে সিঙ্গাপুর হয়ে ঢাকা যাচ্ছি। প্লেন পথে টোকিয়ো থামবে। লস এঞ্জেলেস বিমান বন্দরে পৌঁছে দেখি লোকে লোকারণ্য, এয়ারলাইন কাউন্টারে বিশাল লাইন। সেই লাইন দেখাশোনা করছে বিমান কোম্পানীর এক ছেলে, সে আমাকে পাঠাল মাল এক্স-রে করতে। সেখানে অনেক সময় গেল। সব মিলিয়ে ঘন্টাখানেক লাগল শুধু কাউন্টারেই পৌঁছাতে। কোম্পানীর এক মহিলা আমার টিকিট দেখে বললেন আমার নাম নাকি লিস্টে নেই।

‘ভাল করে দেখুন,’ অনুরোধ করলাম। মনে মনে আমার ট্র্যাভেল এজেন্সীর শাপ-শাপান্ত করতে থাকলাম। ‘ভাল করে দেখুন,’ আবার বললাম, ‘আমার দুটো বুকিং ছিল, একটা ক্যান্সেল করেছি।’

মহিলা অনেকক্ষণ ধরে কম্পিউটারে হাত চালালেন। তারপর বললেন, ‘আপনি অপেক্ষা করুন, আমি আসছি।’ চলে গেলেন, আর এদিকে আমি তো আতংকে অস্থির, ঘেমে গেলাম। পুরো দশ মিনিট লাগল তাঁর ফিরতে। হাসি মুখ।

‘আমি ম্যানেজারের সাথে কথা বলেছি। আমাদের কম্পিউটারে কিছু গন্ডগোল হয়েছে। আমাদের ইকোনমি ক্লাসে সব সিট ভর্তি। কিন্তু আমরা আপনার টিকিট আপগ্রেড করে দিয়েছি বিজনেস সেকশানে।’

বিমান কোম্পানীর ত্রুটির বদলে ভাল আসন জুটল। পা ছড়িয়ে, সিট পেছনে ফেলে প্রশান্ত মহাসাগর পারি দেওয়া যাবে।


২. গিলবার্ট গাইলস

বোয়িং ৭৪৭, জাম্বো জেট – মানব সভ্যতার অন্যতম সৃষ্টি। তার বিশাল আকার আকাশের গা ঘেঁষে চলে পৃথিবীকে নিচে ফেলে ঠাণ্ডা লঘু বায়ুমণ্ডলে। শ’য়ে শ’য়ে লোক নিয়ে ওড়ে সেই অতিকায় তিমি, কয়েক ঘন্টায় পৌঁছে যায় পৃথিবীর অন্য প্রান্তে মহাসাগর পারি দিয়ে, যে মহাসাগর পার হতে পারে নি ম্যাজিল্লান। উড়তে পেরে মানুষ পৃথিবীকে করেছে ছোট, তার মানচিত্রে রাখে নি কোন ফাঁকা জায়গা। ভূতলের প্রতিটি ইঞ্চি ধরা পড়েছে সার্ভেয়ারের জরিপে। আমি ভাবি, পৃথিবীটা যদি আর একটু বড় হত। যদি উড়োজাহাজের উদ্ভাবন না হত, আমরা কি এখনও আবিষ্কার করতাম প্রশান্ত মহাসাগরে নতুন দ্বীপ? যদি আকাশে না পাঠাতে পারতাম কৃত্রিম উপগ্রহ তাহলে স্যাটেলাইট টেলিভিশন থাকত না, কথা বলতে পারতাম না ফোনে মূহুর্তে প্রিয়জনের সাথে পৃথিবী গোলকের ওপাশে। রহাস্যাবৃত থাকত কি সেই পৃথিবী নতুন আবিষ্কারের আকাঙ্খায়? আমাদের ভাগ্যে কি থাকত অচেনা দুর্ভেদ্য জায়গা আবিষ্কারের অ্যাডভেঞ্চার।

বিমানে উঠে দেখি একপাশে দুটি করে আসন। আরামদায়ক। আমার আসন আইলে। জানালার ধারে দেখলাম বছর পয়তাল্লিশ হবে এরকম একজন শ্বেতকায় মার্কিন বসে আছে। মাথাটা একেবারে চাঁচা-ছোলা। প্লেন ছাড়ল। ধীরে ধীরে প্রতিবেশীর সঙ্গে আলাপ হল। ভদ্রলোক পেশায় চিকিৎসক, নিউরোলজিস্ট, এখন গবেষণা করছেন। নাম গিলবার্ট গাইলস। কাজ করেন নিউ ইয়র্ক শহরের একটা নামকরা হাসপাতালে। জাপান যাচ্ছেন, কিয়োটো শহরে একটা নিউরোলজি কনফারেন্সে। ডাক্তারি সম্পর্কে আমার কোন জ্ঞান নেই। জিজ্ঞেস করলাম, ‘ক্যান্সারের সমাধান কেন হচ্ছে না?’

গিলবার্ট হেসে বলল, ‘আমি ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ নই। আর পেশাগতভাবে রোগী দেখা আমি অনেক আগেই ছেড়ে দিয়েছি। এখন আমি মোটামুটি গবেষণা নিয়েই থাকি। নিউরোসায়েন্স। আমাদের ইউনিভার্সিটির হাসপাতালের আর একজন প্রফেসর ও কয়েকজন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ফেলো আমার সাথে কাজ করে। আমরা গ্রান্ট পাই ন্যাশানাল ইন্সটিটিউট অফ হেলথ ও ন্যাশানাল সাইন্স ফাউন্ডেশন থেকে। তবে কিছু প্রাইভেট সংস্থা থেকেও টাকা পাই। আপনি বিজ্ঞানের ছাত্র, হয়তো বুঝবেন, আমরা কাজ করি distributive system-এর ওপর।’

আমি মাথা নেড়ে বললাম, ‘বুঝলাম না।’

গিলবার্ট উৎসাহের সাথে বলতে শুরু করল, ‘ধরুন একটা রাষ্ট্র ব্যবস্থা, তার প্রশাসনের মূল কেন্দ্র রাজধানীতে। সেই দেশের সমস্ত কর্মকাণ্ডের নির্দেশ যায় রাজধানী থেকে। দেশের কোন অঞ্চলে কোন দুর্ঘটনা ঘটলে তার খবর প্রথম যায় রাজধানীতে, সেখানে আছে দুর্যোগ মন্ত্রণালয়। সেই মন্ত্রাণালয়ে সিদ্ধান্ত হলে দুর্গত অঞ্চলে রিলিফ পাঠানো হয়। যদি কোন কারণে দুর্যোগ মন্ত্রণালয় ধ্বংস হয়ে যায় তবে দুর্গত অঞ্চলের পরিত্রাণ হবে না, দেশের সেই অংশ ধ্বংস হয়ে যাবে। তাই রাজধানীতে যদি সবকিছু কেন্দ্রীভূত থাকে তবে রাজধানীর পতন হলে সারা দেশের পতন হতে খুব বেশি দেরি হয় না।

‘আমাদের দেহটাকেও বলতে পারেন অনেকটা এইরকম। সমস্ত কর্মকাণ্ডের নির্দেশ যায় মস্তিষ্ক থেকে দেহের সব জায়গায়। যদি মস্তিষ্কের কোন অংশ ক্ষতিগ্রস্থ হয় তার পরিণামটা বহন করে আমাদের পুরো অস্তিত্ব। যেমন মাথার পেছনে অক্সিপেটাল লোবে আঘাত লাগলে মানুষ অন্ধ হয়ে যেতে পারে। ব্রেন স্টেমে যদি স্ট্রোক হয় তবে তার ফলাফল খুবই খারাপ হতে পারে, প্যারালাইসিস ছাড়াও অনেক ধরণের সমস্যা হতে পারে, শ্বাসকষ্ট, হার্টের সমস্যা, ইত্যাদি। মস্তিষ্ক যেমন আমাদের শক্তিশালী করেছে, তেমন ভাবেই নিজেকে রক্ষার কোন ভাল ব্যবস্থা করে নি। কিন্তু মস্তিষ্ক অচল হলে আমরাও অচল। প্রকৃতির নিয়মে তাই বোধহয় হবার কথা। তবে আমরা ডাক্তারেরা তো প্রকৃতির নিয়মের বাইরেই কাজ করছি।’

আমি মাথা নেড়ে সায় দিলাম। গিলবার্ট গাইলস ফ্লাইট এটেনডেন্টকে হুইস্কি দিতে বলল।

‘এখন দেখুন আমাদের মধ্যে একই ডিএনএ তৈরি করছে কখনও ত্বকের কোষ, হৃদযন্ত্রের কোষ, দাঁত, চুল! ডিএনএ জানে কোন জিনটিকে বশ করতে হবে, আর কোন জিনটির অভিব্যক্তি করতে হবে।’

‘তাহলে বলছেন দেহের বিভিন্ন অংশের কোষ আলাদা দেখতে হলেও তারা মূলতঃ একই?’

‘শুধু তাই নয়,’ গিলবার্ট বলল তার হইস্কি পান করতে করতে, ‘প্রতিটি কোষের মধ্যে অন্য যে কোন কোষ হবার একটা সম্ভাবনা থেকে যায়।’

‘আপনি ক্লোনিংয়ের কথা বলছেন?’

‘তা বলতে পারেন। তবে এটা ক্লোনিং থেকে জটিল। আমি এমন একটা জিনিসের কথা বলছি যা কিনা দেহের যে কোন কোষকে অন্য যে কোন কোষে রূপান্তরিত করতে পারে। যেমন ধরুন এই ত্বকের কোষ,’ গিলবার্ট তার জামার ডান হাতের আস্তিন গুটিয়ে আমাকে দেখায়, ‘এই কোষগুলি বদলে দেওয়া যাবে। আপনাকে যদি বলি আমার ডান বাহুর চামড়ার নিচের কোষগুলি মস্তিষ্কের, বিশ্বাস করবেন?’

‘অসম্ভব,’ আমি বলে উঠি।

‘অসম্ভব বলছেন? খেয়াল করে দেখুন।’

আমি খেয়াল করে দেখলাম। কিন্তু সাধারণ হাতের চামড়ার সঙ্গে কোন পার্থক্য বুঝলাম না। শুধু মনে হল তার শরীরের অন্য অংশের চেয়ে হাতটা একটু কালো।

আমার কিংকর্তব্যবিমূঢ় ভাব দেখে গিলবার্ট বলল, ‘কিছু বুঝলেন না তো? সেটাই তো এই সৃষ্টির মহিমা।’

সৃষ্টির মহিমা? এতো বদ্ধ পাগলের পাল্লায় পড়া গেছে!

গিলবার্ট গাইলস যেন আমার বিভ্রান্ত অবস্থা উপভোগ করে। ‘বিশ্বাস করলেন না তো? না করারই কথা। তবে আপনাকে এটা বলতে পারি যে মস্তিষ্কের কোষ তৈরি করতে যত ঝামেলা হয়েছে তার থেকে শতগুণ পরিশ্রম হয়েছে সেগুলো দিয়ে আমার হাতে নতুন নিউরাল নেট তৈরি করতে। এখন পর্যন্ত যে পুরোপুরি সফল হয়েছি সেটা বলতে পারি না। এই হাতটা নিয়ে কিছু পরীক্ষা করেছি মাত্র।’

‘আপনি একাই করেছেন?’

‘না, না, তা কি হয়! আমার ল্যাবের কয়েকজন পোস্ট-ডক্টারাল ফেলো আছে, এছাড়াও আমি বাইরের দুটো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের সাথে কাজ করি। সব ধরলে গোটা পনেরো লোক এর সাথে যুক্ত। তবে যতদিন না আমরা একটা সফল মডেল তৈরি করতে পারব ততদিন এটা বাইরের জগতে জানানো যাবে না।’

‘কি ধরণের মস্তিষ্কের কাজ করে আপনার হাত?’ আমি কিছুটা ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করি।

‘আমার উদ্দেশ্য ছিল মস্তিষ্কের কাজটা সারা শরীরে বিতরণ করে দেওয়া, সেই জন্য distributive system-এর কথা বলেছিলাম। কিন্তু হাতের মধ্যে পুরো মস্তিষ্কটা টেনে আনা সম্ভব নয়, কারণ আমি হাত দিয়ে যে কাজটা করতে চাই তার সিদ্ধান্তটা সেরিব্রাল করটেক্সের সামনের দিক থেকে উৎপন্ন হয়ে পনসের মাধ্যমে সেরিবেলামে পৌঁছায়। সেরিবেলাম থেকে আবার সেরিব্রাল করটেক্সের মাধ্যমে এফেরেন্ট নামের স্নায়ু দিয়ে সেই সিদ্ধান্ত মাংসপেশীতে পৌঁছায়। সেরিবেলামেই যে কত বিভিন্ন ধরণের নিউরন কোষ আছে। গ্রানিউল, পারকিঞ্জি, গলজি। কোটি কোটি নিউরন, কোটি কোটি সিন্যাপস।’


৩. স্ট্যান ফ্র্যাঙ্ক

গিলবার্ট গাইলস যেন নিজের মনে হারিয়ে গেল। হাতের মধ্যে কেন পুরো মস্তিষ্কটা ভরা সম্ভব নয় সেটা জানা হল না। গিলবার্ট বিড়বিড় করতে থাকে। এরকম প্রায় মিনিটখানেক গেল, তারপর যেন সম্বিত ফিরে পেয়ে বলে, ‘আপনাকে বরং এই হাতের একটা গল্প করি। দশ বছর আগে আমি একটি ব্রিলিয়ান্ট ছেলেকে পোস্ট-ডক হিসেবে নিয়ে আসি। ছেলেটি রকফেলার ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি করেছিল। সাংঘাতিক ভাল কাজ করেছিল ছেলেটি। হাতে নিউরন সমষ্টি তৈরি করে সেগুলোর মাঝে সংযোগ সৃষ্টি করতে আমরা এক ধরণের প্রিন্টার উদ্ভাবন করেছিলাম। প্রিন্টারে এক এক স্তরের করটেক্স বা সেরিবেলামের স্তর ছাপা হয়। সেই স্তরগুলোকে সরাসরি হাতের চামড়ার নিচে বসিয়ে দেওয়া সম্ভব।’

আমি আশ্চর্য হয়ে গিলবার্টের দিকে তাকিয়ে থাকি।

‘ছেলেটির নাম ছিল স্ট্যান ফ্র্যাঙ্ক,’ গিলবার্ট যেন আমার উপস্থিতি ভুলে নিজেকেই গল্পটা বলছিল, ‘মেধাবী ছিল ছেলেটি, লম্বা, ঝাঁকড়া চুল, চশমা পড়ত। ল্যাবের সবাই স্ট্যানকে সমীহ করত। দিন-রাত খাটত, বলতে গেলে ল্যাবেই থাকত।। কিন্তু ধীরে ধীরে তার ধারণা হল যে সেই নিউরন প্রিন্টার আর স্তরীভূত মস্তিষ্কের উদ্ভাবন তার একার সৃষ্টি। ল্যাবের অন্যান্যরা, বিশেষতঃ আমি নাকি অন্যায় ভাবে তার আবিষ্কারকে কুক্ষীগত করছি। কিন্তু আমাদের ফান্ডিং এজেন্সির সাথে একটা non-disclosure agreement ছিল যে যতদিন না আমাদের গবেষণা পুরোপুরি সাফল্য লাভ করবে ততদিন আমরা কোন বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ লিখতে পারব না বা প্রেসের কাছে যেতে পারব না। এদিকে স্ট্যানের ধারণা হল এসব আমার ছলনা মাত্র, আমি এই সব বলছি তাকে তার ন্যায্য দাবি থেকে বঞ্চিত করার জন্য। আস্তে আস্তে সে একেবারে প্যারানয়েড হয়ে গেল। আমি বাধ্য হলাম তাকে ল্যাব থেকে বের করে দিতে। একটা কোর্ট অর্ডারও আনতে হল যাতে আমাদের ল্যাবের বিল্ডিংএ সে ঢুকতে না পারে।

‘স্ট্যান চলে গেল। কোথায় গেল জানি না। কিন্তু দেশের অন্য কোন ল্যাব তাকে যে চাকরি দেবে না সেটা আমি জানতাম। আমাদের এই গবেষক মহলটা খুব বড় নয়, স্ট্যানের ব্যাপারটা প্রায় সবাই জানত। দু-বছর এই ভাবে কেটে গেল। আমাদের এর মধ্যে স্তরীভূত মস্তিষ্কের transplant-এর গবেষণায় বেশ অগ্রগতি হয়েছে। আমি নিজে ভলান্টিয়ার হয়ে আমার ডান হাতের চামড়ার নিচে মস্তিষ্কের প্রথম স্তরটা বসালাম। তারপর আমার হাতের কি প্রতিক্রিয়া হয়েছিল সেটা বলতে গেলে অনেক সময় লাগবে, আমি বরং এই কাহিনীর মূল জায়গাটা বলি। আমাদের ল্যাব পনেরো তলা নিউরোলজি ইন্সটিটিউটের তিন তলায় অবস্থিত। দু’বছর পরে স্ট্যান সেই বিল্ডিং-এ হাজির, কিন্তু একা নয়। তার সাথে ছিল একটা গ্লক পিস্তল। বিল্ডিং-এর নিচে বসা দারোয়ানকে সে গুলি করে, সেই দারোয়ান পরের দিন হাসপাতালে মারা যায়। তারপর স্ট্যান তিন তলায় উঠে আসে। তিন তলার করিডরে সে আমার একটি পোস্ট-ডক ফেলো মেয়েকে গুলি করে, মেয়েটি সেখানেই মারা যায়। কিসের আওয়াজ হল সেটা শুনতে আমি ল্যাবের দরজা খুলে করিডরে পা দেওয়া মাত্রই দূরে স্ট্যানকে দেখি, স্ট্যান আমাকে দেখা মাত্র একটা গুলি করে, আমার গায়ে লাগে না। আমি সাথে সাথে ল্যাবের ভেতরে ঢুকে দরজার তালা লাগিয়ে দিই। ল্যাবে আরো দুজন ছিল, তাদেরকে ল্যাবের অন্য দিকে একটা বড় টেবিলের অন্য ধারে লুকাতে বলি। আমি নিজে দরজার কাছাকাছি একটা টেবিলের পেছনে বসি। টেবিলের ওপর আমাদের বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার জন্য অনেক ধরণের কাঁচের টিউব, বিকার, ইত্যাদি ছিল।

‘স্ট্যান গুলি করে দরজার তালাটা খুব সহজেই খুলে ফেলে। কিন্তু সে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকতে না ঢুকতেই আমি টেবিলের পেছন থেকে একটু উঁচু হয়ে স্ট্যানের দিকে টেবিলের ওপর রাখা কাঁচের বোতলগুলো ছোঁড়া আরম্ভ করলাম। আমার ডান হাত দিয়ে। জীবনে পরপর এত দ্রুত কখনও কোন কিছু ছুঁড়ি নি, এমন যেন একটা কম্পিউটার আমার হাতের দখল নিয়ে নিয়েছে। আমার লক্ষ্যও অব্যর্থ ছিল। কাঁচের সব কটা বস্তুই স্ট্যানের মুখে যেয়ে লাগছিল। সে এতই ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল যে পিস্তলটা সে তাক করতে পারছিল না। এর মধ্যে একটা শিশিতে এসিড ছিল যেটা তার মাথায় যেয়ে লাগল। তার চুল পুড়তে আরম্ভ করল, স্ট্যান তখন ল্যাবে ঢোকার আশা ছেড়ে দিয়ে করিডরে দিয়ে দৌড়াতে আরম্ভ করল। আমি কাঁচ ভাঙ্গার শব্দ পেলাম। বাইরে বেরিয়ে দেখি করিডরের শেষে বড় একটা কাঁচের জানালা ভেঙ্গে স্ট্যান নিচে লাফ দিয়েছে। আমি ছুটে সেখানে গেলাম, কিন্তু নিচে ঘাসের ওপর কাউকে দেখলাম না। এত ওপর থেকে লাফ দিল, হাত-পা কিছুই ভাঙ্গল না? স্ট্যান পালিয়ে গেল। এর পর তিন বছর হয়ে গেল, পুলিশ এখনও তাকে ধরতে পারে নি।

‘আমাদের বিল্ডিং-এর দুজন স্ট্যানের গুলিতে মারা গেল। এর মধ্যে একজনের সুপারভাইজার ছিলাম আমি। বলতে গেলে তার মৃত্যুর জন্যই আমিই দায়ী, আমিই স্ট্যান ফ্রাঙ্ককে চাকরি দিয়েছিলাম, আমিই আবার তাকে বরখাস্ত করেছিলাম। তবে আমি যদি অত ক্ষিপ্রহস্ত না হতাম তবে আরো অনেকে মারা যেত। আমার হাতের নিচে স্তরীভূত মস্তিষ্ক আমাকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে ও মাংসপেশীতে দ্রুত সংকেত পাঠিয়ে ওরকম ভাবে কাঁচের বোতলগুলো ছুড়তে সাহায্য করেছিল।’

আমি মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে গিলবার্ট গাইলসের কাহিনী শুনি। মার্কিন দেশে কাজ থেকে বরখাস্ত হওয়া অসন্তুষ্ট কর্মচারীদের পুরোনো কাজের জায়গায় ফিরে এসে প্রতিশোধ নেবার ঘটনা প্রায়শই ঘটে। নিউরোলজি সেন্টারের এই কাহিনীটা আলাদা করে মনে করতে পারলাম না।


৪. বার্ট কোমেন

আমি গিলবার্টকে তার হাতটা নিয়ে প্রশ্ন করতে যাই, কিন্তু গিলবার্ট তার সিট থেকে উঠে বাথরুমে যায়। মিনিট দশ পরে সে ফিরে আসে। সে দেখলাম কম্বল মুড়ি দিয়ে ঘুমানোর আয়োজন করছে। আমি দ্রুত তাকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘সরি, কিন্তু একটা কথা আমাকে বলুন, যে কোষগুলো আপনার হাতে বসানো হয়েছে, সেগুলো কোনখান থেকে এসেছে?’

গিলবার্ট একটু আশ্চর্য হয়ে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘কি বললেন?’

আমি একটু অপ্রস্তুত হয়ে বললাম, ‘যে কোষগুলো আপনার হাতে মস্তিষ্কের মত কাজ করছ, তাদের কি আপনি ল্যাবেই সৃষ্টি করেছিলেন?’

গিলবার্ট তবুও আমার দিকে এমন ভাবে তাকিয়ে থাকল যেন আমার কথা সে একেবারেই বুঝতে পারছে না। তারপর তার যেন বোধোদয় হল। এতদিন পরেও আমার স্পষ্ট মনে পড়ে তার মুখ। গিলবার্ট হাসতে আরম্ভ করে। হা, হা, হা, হা, তার হাসি থামতেই চায় না। আইলের অন্যপাশের যাত্রীরা আমাদের দিকে তাকায়। আমি প্রথমে কিছুই বুঝতে পারি না, তারপর বুঝি গিলবার্ট আমাকে ভালই বোকা বানিয়েছে। এমন আষাঢ়ে গল্প ফেঁদেছে।

আমার বিমূঢ় মুখ দেখে গিলবার্টের যেন দয়া হল, বলল, ‘মস্তিষ্কের কাহিনী আমার কাছ থেকে আপনি শোনেন নি। শুনেছেন গিলবার্ট গাইলসের কাছ থেকে।’

‘গিলবার্ট? কিন্তু আপনিই তো গিলবার্ট!’

‘না, আমার নাম বার্ট কোমেন।’

‘বার্ট কোমেন?’

‘হ্যাঁ, আমার নাম বার্ট কোমেন, গিলবার্ট আমার অন্য পারসোনালিটির নাম।’

আমি কি বলব ভেবে পাই না। দেখলাম গিলবার্ট, নাকি বার্ট ঘুমানোর আয়োজন করছে। আমি তাড়াতাড়ি জিজ্ঞেস করি, ‘আপনি কি ডাক্তার?’

সে বলে, ‘না, আমি ব্যবসায়ী। টালসা, ওকালাহোমায় থাকি। গিলবার্ট ভাবে সে ডাক্তার। গিলবার্ট মানুষকে দক্ষ করতে চায়, অমর করতে চায়, সে ঈশ্বরের দায়িত্ব পালন করতে চায়।’

‘আপনি গিলবার্টের সব কথা জানেন?’

‘হ্যাঁ,’ বার্ট বলে, ‘এটা আমার অনেক দিনের সমস্যা। মনোবিজ্ঞানীরা প্রায় বছর দশেক আগে আমার এই মাল্টিপল পার্সোনালিটি ডায়াগনসিস করেছেন। আমি মূলত বার্ট কোমেন, কিন্তু মাঝে মধ্যে আমি গিলবার্ট গাইলস।’

‘কিন্তু গিলবার্ট একজন মস্তিষ্ক বিজ্ঞানী, তার মস্তিষ্ক সম্পর্কে অনেক টেকনিকাল বিদ্যা আছে,’ আমি বলি।

‘হা, হা, হা,’ আবার হাসে বার্ট। ‘হ্যাঁ, এসব কথা আমি আমার সাইকিয়াট্রিস্টদের কাছ থেকে শুনেছি, আমি যখন গিলবার্ট হই তখন নাকি এসব কথা বলি। তবে কি জানেন, কোন শিক্ষিত বুদ্ধিমান লোক জনপ্রিয় বিজ্ঞান সাহিত্য থেকে এসব মস্তিষ্ক, নিউরন, হেন-তেন খুব সহজেই শিখে নিতে পারে। আমি দুঃখিত আপনাকে গিলবার্টের বকবকানি শুনতে হয়েছে। তবে গিলবার্ট অবস্থায় আমি বেশীক্ষণ থাকি না। বড়-জোর তিন-চার ঘন্টা।’

এই বলে বার্ট কোমেন চোখের ওপর বিমান কোম্পানীর দেওয়া কাপড়ের ঠুলি পড়ে নিল। সিটটা বিছানার মত পেছনে হেলিয়ে দিল, সে এখন ঘুমাবে।

আমার কিছুই বলার থাকে না। বার্ট কোমেন ঘুমিয়ে পড়ে।

বার্ট কোমেন? গিলবার্ট গাইলস? এই লোক আমাকে কি বুদ্ধু বানাল? ডক্টর জেকিল আর মিস্টার হাইড। মাল্টিপল পার্সোনালিটি আসলেই হয় নাকি? উফ! আমাকে বোকা ভেবে কি গল্পই না ফাঁদল। তারপর কোন ধরণের ব্যাখ্যা নেই, ক্ষমা চাওয়া নেই, ঘুমিয়ে পড়ল। জাপান পৌঁছাতে এখনও ছয় ঘন্টা বাকি। রাগে-ক্ষোভে বসে থাকি। বিজনেস ক্লাসের কোন আরামই উপভোগ করতে পারি না। সামনের স্ক্রিনে সিনেমা দেখতে মন বসে না। মাঝে মধ্যে ঘুমে ঢুলি, কিন্তু ভাল ঘুম হয় না। দুঃস্বপ্ন দেখি। বিশাল অতল খাদে পড়ে যাচ্ছি, তার মধ্যেই অশরীরী কারা যেন আমার চারপাশে ঘুরতে ঘুরতে ভয় দেখাচ্ছে। ঘুম ভেঙ্গে যায়। দেখি বার্ট কোমেন নাক ডাকিয়ে ঘুমাচ্ছে। মনে হয় তাকে ধাক্কা দিয়ে জাগিয়ে দিই। বলি, ‘স্যার, আপনি একটি অতি অসভ্য লোক।’

পরের কয়েক ঘন্টা কেমন করে কাটল জানি না। প্লেন জাপান পৌঁছাল। ল্যান্ড করার পর বার্ট কোমেনের ঘুম ভাঙ্গল। তাকে আর কিছু জিজ্ঞেস করার মন ছিল না আমার। বের হবার সময় ওপরের মাল রাখার জায়গা থেকে আমি ছোট স্যুটকেসটা নামাতে গেলাম, আমার চোখ পড়ল বার্টের ওপর, সে আমার দিকে তাকিয়ে হাসল। আমি কি প্রতিক্রিয়া দেখাব বুঝে পেলাম না, কিন্তু ঐটুকু অন্যমনস্কতায় আমার হাত থেকে স্যুটকেসটা ফস্কে গেল – ওপরে। অনেকটা অসহায় হয়েই আমি যেন দেখলাম স্যুটকেসটা সামনের সিটে বসা একজনের মাথার ওপর পড়ছে। কিন্তু তখনই বার্ট কোমেনের ডান হাত বিদ্যুৎ গতিতে যেন একটা আলাদা প্রাণ পেয়ে স্যুটকেসটা ধরে ফেলল। এত দিন পরে এই ঘটনাটা আমি মনে করার চেষ্টা করি। বার্ট কি উঠে দাঁড়িয়ে স্যুটকেসটা ধরেছিল, নাকি সিটে বসেই হাত বাড়িয়ে ধরেছিল। সেটা কেমন করে সম্ভব? আমি অত কাছে দাঁড়িয়ে জিনিসটা ধরতে পারি নি। স্যুটকেসটা ধরে বার্ট আস্তে করে আমার খালি সিটে বসিয়ে দিয়েছিল। আমার দিকে তাকিয়ে আবার হেসেছিল।

লোকজন আমার পেছনে বিমান থেকে নামার জন্য লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। আমার পক্ষে সেইখানে দাঁড়ানো আর সম্ভব ছিল না, আমি বার্ট কোমেনের আগেই বিমান থেকে নেমে গিয়েছিলাম।


৫. পরিশেষ

এক মাস পরে ঢাকা থেকে আবার আমেরিকা ফিরে আমি নিউ ইওর্ক শহরে সেই হাসপাতালে ফোন করি। গিলবার্ট গাইলস নামে সেখানে একজন ডাক্তার সত্যি কাজ করে। তার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ অবশ্য আমার হয় না। আমি টালসা, ওকলাহামায় ফোন করি। বার্ট কোমেন নামে কাউকে পাই না। ডাক্তারি অভিধান ঘাঁটি, দেখি মাল্টিপল পারসোনালিটিকে বলছে dissociative identity disorder - DID। এর যথাযথ রূপ নিয়ে দেখলাম অনেক বিতর্ক আছে। এর পরে আমি আর এই ঘটনা নিয়ে ভাবি না। এর প্রায় দু’ বছর বাদে লস এঞ্জেলেস টাইমস পত্রিকায় একটা খবর দেখি-

‘গতকাল নিউ ইয়র্ক নিউরোলজি ইন্সটিটিউটে একটি দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে। নিউরোসায়েন্সের একজন পুরোধা, প্রফেসর গিলবার্ট গাইলস, তাঁর একজন প্রাক্তন ছাত্রের হাতে নিহত হয়েছেন। নিউরোলজি ইন্সটিটিউটে এই প্রথম এই রকম একটি ঘটনা ঘটল। তবে অপরাধীকে আহত অবস্থায় পুলিস ধরতে পেরেছে। তার নাম স্ট্যান ফ্র্যাঙ্ক । প্রফেসর গাইলসকে তাঁর অফিসে ঢুকে ফ্রাঙ্ক গুলি করে, তার কাছে একটি গ্লক পিস্তল ছিল। তারপর সেই অফিসের দরজা বন্ধ করে সে পুলিসের অপেক্ষা করে। পুলিস ফোনের মাধ্যমে ফ্র্যাঙ্কের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হয় এবং সে আত্মসমর্পণ করে। ফোনে ফ্ল্যাঙ্ক বলে যে প্রফেসর গাইলস তার জীবন নষ্ট করে দিয়েছে। প্রায় দশ বছর আগে ফ্র্যাঙ্ক পোস্ট-ডক হিসেবে প্রফেসর গাইলসের গ্রুপে যোগ দেয়। সে দাবি করে যে প্রফেসর গাইলস তার আবিষ্কৃত কোষ প্রিন্টার যন্ত্রকে নিজের উদ্ভাবন বলে চালাতে চেয়েছেন। সে আরও দাবি করে গাইলস তার হাতে অপেরাশন করে এক ধরণের বিশেষ কোষের স্তর বসিয়েছিলেন যা কিনা তার হাতকে মস্তিষ্কের অনেক ক্ষমতা দিয়েছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে তার হাত বদলে যায় এবং হাতের সব কোষ মরে যেতে থাকে। ভীষণ যন্ত্রণায় তার গত একটা বছর কেটেছে। হাতের অবস্থা আরো খারাপ হলে দু’মাস আগে একটা হাসপাতালে স্ট্যান ফ্র্যাঙ্কের পুরো ডান হাতকে অ্যাম্পুটেট করা হয়।’

পত্রিকার রিপোর্টের সাথে স্ট্যান ফ্র্যাঙ্কের একটা ছবি ছিল। দেখলাম চাঁচা-মাথার স্ট্যান দু-বছর আগে টোকিয়ো যাবার পথে বিমানে আমার সঙ্গী ছিল। কেন স্ট্যান মাথায় এসিডের ঝাঁঝ এড়িয়ে, কাঁচের জানালা ভেঙ্গে তিন তলা থেকে লাফ দিয়েও অক্ষত ছিল, আর কেন আমি বার্ট কোমেনকে টালসায় খুঁজে পাই নি এখন বুঝি। প্রশান্ত মহাসাগরের ছয় মাইল ওপরে গ্লক পিস্তলের কথা আমি অনেক আগেই শুনেছিলাম।





[এই কাহিনীটির প্লট ও চরিত্রসমূহ কাল্পনিক]



লেখক পরিচিতি

ড. দীপেন (দেবদর্শী) ভট্টাচার্যের জন্ম ১৯৫৯ সালে। আদি নিবাস টাঙ্গাইলের এলেঙ্গায়।

ঢাকার সেন্ট গ্রেগরিজ স্কুল, নটরডেম কলেজ ও ঢাকা কলেজের ছাত্র ছিলেন। মস্কো স্টেট ইউনিভার্সিটিতে পদার্থবিদ্যায় মাস্টার্স এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ নিউ হ্যাম্পশায়ার থেকে জ্যোতির্বিজ্ঞানে পিএইচডি করেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাসার (NASA) গডার্ড স্পেস ফ্লাইট ইনস্টিটিউটে গবেষক ছিলেন। পরে ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার রিভারসাইড ক্যাম্পাসে (ইউসিআর) গামা-রশ্মি জ্যোতির্বিদ হিসেবে যোগ দেন। মহাশুন্য থেকে আসা গামা-রশ্মি পর্যবেক্ষণের জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান থেকে বায়ুমণ্ডলের ওপরে বেলুনবাহিত দূরবীন ওঠানোর অভিযানসমূহে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়ায় রিভারসাইড কলেজে অধ্যাপক। 

দীপেন ভট্টাচার্য বাংলাদেশের বিজ্ঞান আন্দোলনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ্ভাবে যুক্ত। ১৯৭৫ সাথে বন্ধুদের সহযোগিতায় 'অনুসন্ধিৎসু চক্র' নামে একটি বিজ্ঞান সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। পত্রপত্রিকায় বিজ্ঞান বিষয়ক লেখা ছাড়াও তাঁর নিওলিথ স্বপ্ন, অভিজিৎ নক্ষত্রের আলো দিতার ঘড়ি নামে বিজ্ঞান-কল্পকাহিনিভিত্তিক ভিন্ন স্বাদের তিনটি বই প্রকাশিত হয়েছে।

দীপেন ভট্টাচার্যের সাক্ষাৎকার পড়ুন--লিঙ্ক

1 টি মন্তব্য: