শনিবার, ৯ আগস্ট, ২০১৪

ফ্লবের, ফ্যাতাড়ু ও আহাম্মকের অভিধান

সুমন সাজ্জাদ


একে তো আহাম্মক, তার আবার অভিধান! ভাবতে পারছেন বিষয়টা কেমন! জীবনে অনেক রকম অভিধানের নাম শুনেছেন, পড়েছেনও নিশ্চয়ই। গুটিকয়েক হয়তো আপনার সংগ্রহেই আছে। বানান অভিধান থেকে প্রেমাভিধান। হয়তো কেউ জানতে চেয়েছে ‘তিমিঙ্গিলে’র মানে, হঠাত্-প্রশ্নে বলতে পারেননি; অভিধানের পাতা খুলে জেনেছেন, তিমিকেও গিলে ফেলতে পারে এমন অতিকায় কাল্পনিক জন্তুবিশেষ। বারো রকম ভূত বিষয়ে পড়তে পড়তে আপনার হয়তো কৌতূহল হলো, মামদো ভূত কী? বই খুলে দেখেছেন, মামদো ভূতের মানে, ‘প্রেতযোনিতে পরিণত মুসলমান’— সোজাসাপ্টা মুসলমান ভূত। কিংবা অফধস’ং ধঢ়ঢ়ষব’-এর বাংলা কী? দেখলেন, কণ্ঠমণি। বাকিটা শুনেছেন গল্পে, নিষিদ্ধ আপেল খেতে গিয়ে অ্যাডামের এ দশা, গলায় আটকে উঁচু হয়ে উঠেছে, তাই সব পুরুষের গলায় ওই রকম কণ্ঠমণি। দরকারে অ-দরকারে ধূলি মুছে শেলফের ঘুপচিতে পড়ে থাকা অভিধানের পাতা ঘেঁটেছেন। তাই বলে আহাম্মকের অভিধান? আহাম্মকের জন্য লেখা অভিধান? না, সহজে ঘাঁটেননি। কী আছে ওখানে? আহাম্মকির রকমফের? এ-রকম অভিধান হতে পারে?


পারে। ঘটনাটি সত্যি, এক বর্ণ মিথ্যে নেই। নিরীক্ষামূলক পাগলামোর(?) কাজটি যিনি করেছিলেন তিনি মোটেও আহাম্মক নন, বিখ্যাত এক ফরাসি ঔপন্যাসিক— ঔপন্যাসিক গুস্তাভ ফ্লবের। বুভার ও পেকুশে নামের উপন্যাসে জুড়ে দিয়েছিলেন আহাম্মকের অভিধান; যেখানে ‘অভিধানে’র পরিচিতিতে বলা হচ্ছে, ‘অভিধানের নাম শুনলে হাসবে— অজ্ঞদের জন্যে।’ ‘বিশ্বকোষ’ সম্পর্কে লেখা, ‘এর বিরুদ্ধে গর্জন করতে হবে। অতি লক্কড়মার্কা বই বলে সমবেদনার হাসি হাসতে হবে।’ যে-হাসিই হাসুন না কেন, আহাম্মকের অভিধান কালের গোত্তা খেয়ে নাকানিচুবানি খায়নি। ব্যঙ্গ বিদ্রূপ আর শ্লেষের হদিস নিতে গেলে এখনো অভিধানটির নাম নিতে হয়। হাল-জমানায় পোস্টমডার্ন হাঁকাহাঁকিতে ফ্লবেরের নতুন করে ডাক পড়েছে। রোলা বার্ত, ফুকো, দেরিদার মতো প্রথাবিধ্বংসী মারদাঙ্গা পণ্ডিতরাও ফ্লবেরের নাম নেন, যদিও ফ্লবের পণ্ডিতদের ছেড়ে কথা বলেননি, ‘একটু স্মৃতিশক্তি থাকলেই পণ্ডিত হওয়া যায়।’ অথবা, ‘লেখাপড়া জানা লোক মাত্রেরই কোষ্ঠকাঠিন্য।’

পাঠক, আমি অবশ্য ডাকছি অন্য কারণে; ফ্লবেরের কথার মারপ্যাঁচে ঘুরে ফিরে অন্য কোনো কথার ডিম পাড়া যায় কিনা, তা-ই ভাবছি। ভাবছি, ফ্লবের উনিশ শতকের ফ্রান্সে বসে শব্দের সামাজিক, সাংস্কৃতিক অর্থ নিয়ে যে-মশকরাগুলো করছিলেন, সেগুলোকে বাংলাদেশী বাস্তবতায় কেঁচিকাটা করে চালিয়ে দিলে কেমন হয়। যেমন, ধরুন, ‘মন্ত্রী’— ‘মানুষের গরিমার শ্রেষ্ঠ স্তর।’ কথাটিকে বেশ খাসা মনে হয় আমার কাছে; আহা, কি গরিমাগরম ওই পদ, মন্ত্রিত্বে অভিষেকমাত্র শত শত তোরণ, সোনার নৌকা-লাঙল-ধানশীষে ভরে ওঠে তওফা-ভাণ্ডার। আরো খাসা ‘সর্বজনীন ভোটাধিকার’— ‘রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শেষ কথা।’ এখানেই এসে থমকে দাঁড়ায় রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সরকার ও রাজনীতি; কৌতুক করে হয়তো ভাবছেন, ভোট কি আমি দিই, দেয় তো অন্য কেউ, আর দিয়েইবা কী পাই, সেই তো কাঁচকলা আর বুড়ো আঙুল। গত ভোটে একজন বলল, ‘ভেবেছিলাম জীবনের প্রথম ভোটটা দিতে যাব। হায়! যেতেই হলো না।’ এরই নাম সর্বজনীন ভোটাধিকার। ‘কূটনীতি’ নিয়ে লেখা, ‘অসামান্য জীবিকা, যদিও নানা প্রতিকূলতায় ভরা। রহস্যে আবৃত। ডিপ্লোম্যাটরা যেমন সূক্ষ, তেমন গভীর। কী যে এদের কাজ কেউ ভালো করে জানে না। ধোঁয়াটে পেশা, তবে অসাধারণ। খানদানি মানুষদের জন্য।’ আসলেই তো কূটনৈতিকদের কাজ কী! জানেন কী? আহাম্মক হিসেবে বলা যায়, আমি তেমন কিছুই জানি না।

আসলে ফ্লবের হাড়ে হাড়ে রসিক ছিলেন; আতশ কাচের তলায় সমকালকে রেখে মুচকি হেসে দেখেছিলেন মানুষের মনের এপিঠ-ওপিঠ। আর তাঁর দেখা ও লেখাগুলোও কেমন করে ভবিষ্যতে এসে টিকে গেল! পৃথিবীর তাবত্ মানবজাতিকে ভাগ করেছেন দুভাগে— বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটে। জুন মাসের শেষে বাড়তি বাড়িভাড়া গোনা ভাড়াটেমাত্রই জানেন বাড়িওয়ালা কী বস্তু! এদিকে মধ্যবিত্তের চোখে ফ্লবের ‘প্রকৃতি’কে দেখাচ্ছেন এভাবে, ‘যতবার গ্রামে যাবে, বলতে হবে: ‘অপূর্ব প্রাকৃতিক দৃশ্য!’; ফ্লবের যদি বলে বসেন, হে মধ্যবিত্ত শহরবাসী, করপোরেট চাকুরে আপনি কি এভাবে ভাবেন না? হে টগবগে ফেসবুকার কাশফুলের কভার ফটোওয়ালা, আপনি কি এভাবে বলেন না? আপনার আমার মুখে কী জবাব বেরুবে আল্লাহ মালুম। বাড়িতে যে শুয়ে বসে শান্তিতে কাটাবেন তারও কি উপায় আছে? ফ্লবের লেখেন, ‘বাড়ি’— ‘নিশ্চিন্ত আশ্রয়— তবে পুলিশ এসে যখন তখন ঝামেলা পাকাতে পারে।’ আর ‘পুলিশ’ মানে যদিও ‘সমাজের প্রাচীর’, আমরা জানি, পুলিশ ছুঁয়ে ফেললে আঠারো ঘা। র্যাবে ছুঁলে? ঘা তো ঘা, মরার আগে পালাই পালাই।

দেখুন ‘কাজের লোকে’র মানে হিসেবে ফ্লবের কী লিখছেন, ‘চোরের ঝাড়।’ ওদিকে রবিবাবুও বলে গেছেন, ‘যা কিছু হারায় গিন্নি বলেন কেষ্টা বেটাই চোর।’ এ দেশের কাজের লোকের মানেই পাজির পাঝাড়া; গরম খুন্তির ছ্যাঁকা ছাড়া এদের শায়েস্তা করা দুঃসাধ্য। মোদ্দা কথা, আমাদের কাজের লোকগুলোর বড়ই বিপদ, পান থেকে চুন খসে পড়তে না পড়তেই পুলিশি জেরা! মনে পড়ে কি, পুলিশ দম্পতি হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে আটকানো হয়েছিল দম্পতির কন্যাশিশুকে? টিভি ক্যামেরার সামনে ওর মুখ ঢেকে দেয়া হয়েছিল; কিন্তু কাজের মেয়েটির মুখ রাখা হয়েছিল খোলা। কেন? পাজির পাঝাড়া বলেই? নাকি মায়ে চেনে না, বাপে খেদানো ফ্যাতাড়ু বলে? ফ্যাতাড়ু? সে বিষয়ে পরে আসছি।

দেশ থেকে মাথা ঘুরিয়ে একটু এদিক-ওদিক করুন, দেখবেন ফ্লবের শাসক, জাতি ও ইতিহাসের পর্ব-পর্বান্তর নিয়ে কীভাবে কথা বলছেন। ফ্লবের ঠাট্টা করে ধরে রেখেছেন সাধারণের কাছে প্রায় শাশ্বত রূপে আসন গেড়ে বসে যাওয়া সত্যকে। মূলত তিনি জানেন এর অপর পিঠে অন্য সত্য নিহিত। তাই উপনিবেশের অর্থ লিখতে গিয়ে বলেন, ‘এ বিষয়ে কথা বলার সময় মুখটা কালো করে রাখার কথা।’ কেননা ফ্রান্স নিজেও তো ছিল অন্যতম ঔপনিবেশিক শক্তি। তাঁর চোখে আমেরিকার অন্যতম অর্থ, ‘কাছাখোলা হয়ে প্রশংসা করতে হবে, বিশেষত সেখানে না গেলে।’ ওদিকে ‘ইংরেজ মানেই বড়লোক।’ যুদ্ধ, ‘‘সর্বদাই ‘রক্তগঙ্গা’ বইয়ে দেয়। সর্বদাই দুজন বিজয়ী হয় : বিজয়ী ও বিজেতা।’’ এবার তাকান গাজা, ইসরায়েল, জাতিসংঘ, আমেরিকা ও ব্রিটেনের দিকে। কে বিজয়ী, কে বিজেতা? অনুমান করি, ফ্লবের বেঁচে থাকলে জাতিসংঘের নতুন এক পরিচয় তৈরি হতো; জাতিসংঘ— আমেরিকার প্রতিধ্বনি, ছিঁচকাঁদুনে অথবা সাক্ষী গোপাল।

আহাম্মকের অভিধান উল্টালে অর্থবদল ও ভিন্নতা সহজেই চোখে পড়ে। সামাজিক অভিজ্ঞতার আলোকে ফ্লবের পুরনো শব্দের পিঠে চাপিয়ে দিয়েছেন নতুন অর্থভার। ফ্লবের কেন, হরহামেশা আমরা নিজেরাও তা করে থাকি। যেমন— মফিজ, কে না জানে, একটি নামবিশেষ; কিন্তু এর ওপর অর্থ চাপিয়ে বানানো হয়েছে আহাম্মকের হদ্দ, হাঁদারাম, লোকে ঠকায় এমন বোকাসোকা মানুষ। এ রকমই আরেকটি শব্দ, মদন। পৌরাণিক দিক থেকে মদনের গুরুত্ব যে কোনো রোমান্টিকের পক্ষেই আনন্দদায়ক সংবাদ; পৌরাণিক মদন ধরে আছে প্রেম ও কাম। অথচ কামদেবের অর্থ কমে হয়েছে নিরেট বোকা। সময় বুঝে নেতার মানেও আমরা বদলে নিতে শিখেছি দেখতে দেখতে। নেতা, মানে দাপট আছে, ওসি সাহেবের গালে কষে থাপ্পড় দেয়ার ক্ষমতা রাখেন, ডিসির সঙ্গে খাতির ভালো, নিশ্চয়ই স্থানীয় সংসদ বা মন্ত্রীর গাড়িতে করে ঘোরেন, টেন্ডারবাজিতে ওস্তাদ, একুশে ফেব্রুয়ারিতে সবার আগে বেদিতে ফুল দেয়ার জন্য হম্বিতম্বি করেন; নেতার বয়স কম হলে বুঝে নিতে হবে, পাশের বাড়ির সুন্দরী অষ্টাদশীর জন্য সমুহ বিপদ অপেক্ষা করছে।

গণতন্ত্র, মানে গৌণ একটি তন্ত্র, ভোটের আগেই কেবল মুখ্য তন্ত্রের গুরুত্ব পায়; এ শব্দটি ছাড়া কোনো প্রার্থীর নির্বাচনকালীন ভাষণ কল্পনা করা যায় না। আর শব্দটি কেবল জনসমাবেশেই মানায়; এর ব্যবহারে গণতন্ত্র না-বোঝা লোকের প্রচুর হাততালি পাওয়া যায় এবং লিবারেল বুদ্ধিজীবীরা এর পক্ষে সদাসোচ্চার। গণতন্ত্র চর্চার জন্য অবশ্যই গণমাধ্যমের গলা টিপে ধরার নীতি প্রস্তুত করতে হবে এবং বলতে হবে, আপনাদের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হবে না। এ অনিষ্টি সাধনের জন্য দরকার একজন কমিউনিস্টের (যিনি কমিউনিজম ও সোস্যালিজম করে মুখে ফেনা তোলেন), যাঁর মিষ্টি কথায় ধর্ম ও জিরাফ দুই-ই থাকল। কষ্ট করে নীতিমালা তৈরি করার চেয়ে গণমাধ্যমের মুখে স্কচ ট্যাপ মেরে বলে দিলেই হয়, এই-এই লিখবেন, বলবেন। আর গণমাধ্যম না বলে গরুমাধ্যমও বলা যেতে পারে। খুঁটি মারা গরুর মতো গলায় দড়ি নিয়ে গরুমাধ্যমগুলো চরে বেড়াল নির্ধারিত গণ্ডিতে।

চলুন আমরা আপাতত ফ্লবেরকে ছেড়ে ‘ফ্যাতাড়ু’র কাছ থেকে ঘুরে আসি। ‘ফ্যাতাড়ু’— একটি শব্দ, অথচ এখানে অনেক অনেক মানুষের ভিড়; শব্দ হিসেবে যেটি অভিধানে সম্ভবত এখনো জায়গা করে নিতে পারেনি। ফ্যাতাড়ুদের পক্ষে জায়গা করে নেয়া খুবই কঠিন কাজ। বলে রাখি, সদ্য-লোকান্তরিত কবি ও কথাকার নবারুণ ভট্টাচার্যের একটি গল্পের নাম ‘ফ্যাতাড়ু’। গল্পেই জানা যায়, ফ্যাতাড়ু কারা। ভবঘুরের মতো যারা ফ্যা ফ্যা করে ঘুরে বেড়ায় তারাই ফ্যাতাড়ু। কাজ তাদের আছে বটে— চোরাকারবারি, শরীর বেচা, চিটিংবাজি। আর হলো উড়ে উড়ে ঘুরে ঘুরে বড়লোকি পাড়ায় পাড়ায় নোংরা ময়লা আবর্জনা ফেলে আসা। প্রত্যেকেরই জীবনে আছে লাথিঝাঁটা খাওয়া বিষণ্নতার গল্প।

আমাদের দেশেও এসব ফ্যাতাড়ুকে দেখতে পাবেন। ফ্যাতাড়ুর অর্থ বদলে নিলে আরো সুবিধা। নানা বিষয়ে নানা ঘটনায় ফ্যাতাড়ুকে বসিয়ে দিতে পারবেন। লঞ্চডুবির পর লাশের জন্য ফ্যা ফ্যা করে ঘুরে বেড়ানো আত্মীয়-পরিজনদের দিকে তাকান। ফ্যাতাড়ুদের দেখতে পাবেন। জলের তরঙ্গে ভেসে বেড়ানো লাশ দেখতে পাচ্ছেন? ওরাও ফ্যাতাড়ু। ৮৫ জনের আসনে তোলা হয়েছিল ২০০ জন। নৌ-পরিবহনমন্ত্রী অবশ্য এসব হিসাবের ওপর ঠিকঠাক আস্থা রাখতে পারছেন না। দোষ ঝাড়ছেন অধস্তন অফিসারের কাঁধে। রানা প্লাজা ধসে যাওয়ার পর ফ্যাতাড়ুদের টিভিতে ও অকুস্থলে দেখা গেছে মাসের পর মাস। কয়েক টুকরো হাড়, বিধ্বস্ত খুলি, একটি মানিব্যাগ পেলেই দৌড়ে আসত ফ্যাতাড়ুরা। আরো আরো অজস্র ফ্যাতাড়ু আছে আমাদের কারখানাগুলোয়। বেতন-বোনাসের জন্য এরা অনশন করে। দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে বেড়ায়। ঈদের আনন্দ প্রথমে মাটি হয়, পরে কাদা হয়ে যায়। ক্ষোভে জেদে এ ফ্যাতাড়ুরা যদি ভাংচুর করতে রাস্তায় নেমে আসে, তখন নাকি দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়! ফ্লবের শ্রমিকের অর্থ লিখছেন, ‘ধর্মঘট না করলে এমনিতে খুবই সত্।’ আর কারখানা?— ‘কারখানার চারপাশ মানেই অস্বাস্থ্যকর ও বিপজ্জনক।’ দারুণ বিদ্রূপ। পাঠক, আপনি জানেন, উনিশ শতকে বলা এ কথাগুলো থেকে বাংলাদেশের বাস্তবতা কয় বিঘত দূরে অবস্থান করছে।

তো ফ্যাতাড়ুরা কী করবে? নবারুণ যেহেতু রেডিমেইড বুদ্ধিজীবী নন, র্যাডিক্যাল লেখক সেহেতু তার ফ্যাতাড়ুরা বেশ জিদ্দি হয়ে ওঠে— বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচ্যগ্র মেদিনী। এক রাতে ওরা উড়ে যায় গঙ্গায় ভেসে বেড়ানো ফ্লোটেলে (জলে ভাসমান হোটেল)— মহান নাগরিকদের উত্সবে। বঙ্গদোষে মাতাল, অর্থাত্ বাংলা মদ খেয়ে মাতাল ফ্যাতাড়ুরা সাহেবসুবো, নর্তকি, স্মাগলার, হাওলাদার, ফ্যাশন ডিজাইনার, পলিটিশিয়ান, মালকিন, মাফিয়া, সম্পাদক, কিং, কুইনসহ আরো আরো চ্যালাচামুণ্ডাদের উত্সবে গিয়ে শহরের আবর্জনা ফেলে আসে। ভাগ্য ভালো, আমাদের ফ্যাতাড়ুরা এখনো এ রকম সাঁড়াশি আর গেরিলা হামলা শুরু করেনি। শুরু হলেও খারাপ হতো না, শহরের মোড়ে মোড়ে থাকা আবর্জনার স্তূপগুলো অনায়াসে শূন্য হয়ে যেত। সিটি করপোরেশন আর পৌরসভার দায়িত্বও কিছুটা কমে যেত।

ফ্লবের থেকে ফ্যাতাড়ু— আহাম্মকি অনেক হলো; এবার কিসসা খতম করার পালা। তার আগে বলে যাই, আমাদের ফ্যাতাড়ুরা মুখ বুজে অনেক সহ্য করেছে, আর কত! নবারুণের হার্বার্ট উপন্যাসের হার্বার্টের মতো মৃত্যুকালে শ্মশানে গিয়েও ডিনামাইটের মতো ফেটে পড়তে পারে। রাষ্ট্রযন্ত্র যার হদিস পাবে বরাবরের মতোই সময়ের অনেক অনেক পরে। আলবিদা।

ঋণস্বীকার: চিন্ময় গুহ সম্পাদিত ও অনূদিত গ্যুস্তাভ ফ্লবেরের আহাম্মকের অভিধান।



লেখক: সহযোগী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন