শনিবার, ৯ আগস্ট, ২০১৪

নবারুণ ভট্টাচার্যের গল্প : ৪+১

বৃষ্টি পড়েছিল সেদিন সারাদিন ধরে। যদিও জল জমার মতো জোরে নয়। ঠাণ্ডা হাওয়া। দিনের আলো কম ছিল কম। ট্রামের চালক খুব একটা সতর্ক না থাকলেও ব্রেক সে ঠিকই করেছিল। আর ট্রামটা তখন সদ্য মোড় ঘুরেছে বলে খুব একটা জোরে চলছিল না। ঘষটে লাইন কামড়ে থেমে যাওয়ার আগেই ধাক্কাটা লেগে যায়। সামনের দুজনেরই অল্প চোট লাগে। পেছনের দুজনের লাগেনি। একজনের কপাল ফেটে গিয়েছিল। অন্যজনের নাকে লাগে। মাড়ি ও দাঁতেও। দুজনেরই রক্ত পড়ছিল। যারা দৌঁড়ে এসেছিল তাদের কাছে শোনা। ওদের চারজন বাদে আর একজন যে ছিল সে মৃত। খাটের সঙ্গে কালো প্লাস্টিক জড়িয়ে দড়ি দিয়ে বাঁধা। সচরাচর এরকম মৃতদেহের খাটে ধূপকাঠির গোছা, ফুল এসব থাকে। সেসব কিছুই ছিল না। পরে জানা গিয়েছিল যে মৃতদেহটির মাথার কাছে একটি ময়লা কাপড়ে জড়ানো একটা ভাঙা কালো চশমা, কয়েক টুকরো চকখড়ি, কয়েকটা ছেঁড়া কাগজ ও আধখানা থিন এরারুট বিস্কুট ছিল। আশা করা গিয়েছিল যে ছেঁড়া কাগজের মধ্যে কোনো হদিশ হয়তো পাওয়া যাবে। যায়নি। কাগজে অর্থহীন কিছু আঁকিবুঁকি ছিল। কষ্ঠ কল্পনাতে হয়তো মানে একটা বের করা যায় কিন্তু তারও কোনো মানে হয় না।


সবচেয়ে ভয় পেয়েছিল ট্রামচালক। ভয় না পাওয়ার কিছু নেই। কারণ মোড়টা ঘোরার পরেই সে দেখেছিল যে মুখোমুখি ওরা এগিয়ে আসছে। মৃতদেহ নিয়ে ওই চারজন। সরাসরি ট্রামের দিকে। হতভম্ব হয়ে সে তার খাঁচার মধ্যেই দাঁড়িয়েছিল। রাস্তায় বেশি লোক ছিল না। তবুও ছোটখাটো একটা ভিড় জমে যায়। তারপর সকলেই ভয় পেয়ে যায়। ফোন করা হয়। পুলিশ আসে।

ট্রামের সঙ্গে মুখোমুখি ধাক্কা খেয়ে চারজন শববাহক যে দাঁড়িয়ে যায় তারপর তারা আর নড়েনি। পুলিশ এসে নিয়ে যাওয়া অবধি ট্রামকে রাস্তা ছাড়েনি। সামনের দুজনের মুখ বেয়ে রক্ত পড়ছিল। লোকে ওদের বলেছিল সরে যেতে। কয়েকজন উৎসাহী যুবক ভেবেছিল ওই চারজন এমনই নেশা করে আছে যে কোনো ওজোরই তাদের কানে ঢুকছে না। একে মেঘলা, বৃষ্টি, আবছা তার ওপরে শহরের এই এলাকাটায় বাড়িগুলো পুরনো দিনের হলেও বেশ উঁচু যদিও তলায় তাদের আলো ঝলমলে নতুন দোকান আছে। বিকেল গড়ালেই এখানে ছায়া ঘনিয়ে আসে। সে দিন ছায়া ছিল তার ঢের বেশি। বুদ্ধিমান নাগরিক, যারা খতিয়ে দেখে কিসের পেছনে কি তা আঁচ করতে পারে, তারা বলেছিল এটা একটা কেরামতি বা স্টান্ট। ওপরে যে লোকটার মৃতদেহ সে নাকি জ্যান্ত। এরাও এক একজন অভিনেতা। সবটাই এক ছক। হতে পারে কোনো নাটকের দলের বেয়াড়া বিজ্ঞাপন বা উটকো রসিকদের বোকা রগড়। পুলিশ, মানে প্রথমে যারা এসেছিল তারাও ভেবেছিল তেমনই একটা কিছু। অথচ দোলের সময় মড়া সাজিয়ে যে চ্যাংড়ারা মজা পায় এদের সেরকম আদল নয়। হেরোইন খেয়ে বুঁদ বা ওরকম কিছু হবে। সাধারণ লোক, সাধারণ পুলিশ এইসবই ভাবে। এদের ওপরে ভাবে অসাধারণ লোক, অসাধারণ পুলিশ। নতুন চাকরি পাওয়া যুবক আই পি এস অফিসারটিও তাই ভেবেছিল। গণ্ডগোল যে খুব একটা জমেছিল এমন নয়। পরপর কয়েকটা ট্রাম দাঁড়িয়ে গিয়েছিল। একটা ভিড়, একটা জটলা, নির্বাক, নিরুত্তর, চারজন শববাহক এবং কালো প্লাস্টিকের চাদরে জড়ানো ছিল চশমার একটা ফাটা কালো কাচ, ডাটি সূতোয় বাঁধা কালো চশমায় ফ্রেম, বিনামূল্যে ছানি অপারেশনের ক্যাম্পে যেরকম দেওয়া হয়, কয়েক টুকরো বলতে আর যখন আর লেখা যায় না সেরকম কয়েকটা চকখড়ির অবশেষ, কয়েকটা ছেঁড়া কাগজ যাতে যোগচিহ্ন, ফূটকি ও ‘৫’ লেখা ছিল বলে দাবী করা হয়েছে। কিন্তু এ হল কয়েকটি অস্পষ্ট ও আনাড়ি পেন্সিলের দাগ নিয়ে গবেষণার ফল এবং এবড়ো থেবড়োভাবে খাওয়া আধভেজা আধখানা থিন এরারুট বিস্কুট যা কে খেয়েছিল জানা যায়নি, অন্তত মৃত যে তো খায়ইনি কারণ ব্যবচ্ছেদের পর তেমন কিছু জানা যায় না। পরপর কয়েকটা ট্রাম দাঁড়িয়ে গেলে মাছির মতোই উড়ে আসা ন্যাংটো, গায় ঘা ভিকিরির বাচ্চারা ওঠানামার খেলা করে। যাও হোক, সেই তরুণ আই পি এস অফিসারটি ঠাণ্ডা মাথায় আদেশ করলেন যে ওই চারজন শববাহককে শবসহ গ্রেপ্তার করতে। সবুজ বা নীল চ্যানেলের মাধ্যমে এমনও ব্যবস্থা করলেন যাতে এর প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই মৃতদেহটিকে মৃতদেহ অবিকৃত রাখার কোনো শবাগারে পাঠিয়ে বরফ দিয়ে রাখা হয়। এবং মৃতদেহ ও বরফ ঘিরে বালির বস্তা। মৃতদেহটি বুবি ট্রাফ হতে পারে। ওই চারজন শববাহককে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। হাতকড়া পরিয়ে। পুলিশের প্রতিবেদনে জানা যায় যে শববাহী খাটের চারটি পায়া তারা যেমন কঠিনভাবে আঁকড়ে ধরেছিল তাতে হাতকড়া পরাবার সময় তাদের হাতে সেই বেপরোয়াভাব ছিল না। ওরা চারজনই সারাক্ষণ চোখ খুলে সামনের দিকে তাকিয়েছিল। ওদের নাকি চোখের পলক পড়েনি। জিজ্ঞাসাবাদের সময়েও না।

আই পি এস অফিসারটি ভুল করেননি। বোম্বাই বিস্ফোরণ, কলকাতা বিস্ফোরণ, দক্ষিণ ভারতে বিস্ফোরণ, পাক মদতে আতঙ্কবাদ—এই ভয়াবহসময়ে কি কেন্দ্র, কি রাজ্য, কেউই কোনো ঝুঁকি নিতে পারে না। লেনিন পড়ে তিনি জানেন যে অতিবাম ও অতি দক্ষিণ হাত মেলায়। এই হাভাতে, চোয়াড়ে, পোড়খাওয়া চেহারার চারটি মানুষ যে কি তা জানা দরকার। ‘কারলোস’ ধরা পড়েছে ঠিকই। তাতে কি? টাইগার মেমন কোথায়? বহুতল বাড়ির জানলা থেকে উড়ে বেড়ানো সে চিত্র তারকার রহস্য! নার্গিসের ছেলে! আর ডি এক্স। এ কে-৫৬। ড্রাগ। ইউরেনিয়াম ও প্লুটোনিয়াম পাচার। ভারতের পরমাণু বোমা আছে না নেই? থাকুক আর না থাকুক এ অবস্থায় কোনো অসংগতিই উপেক্ষা করা যায় না। হয়ওনি। বাস্তব জীবনটা তো আর ‘রোজা’ বা ‘১৯৪২—এক্টি প্রেমের গল্প ‘নয়।


দুই

জিজ্ঞাসাবাদ পর্বের আগে মৃতদেহটি নিয়ে পরীক্ষা চালিয়ে যা জানা গেল তা হল মৃতদেহটি এক শীর্ণ, বয়স্ক মানুষের যার মৃত হয়ে যাওয়া দেহটির মধ্যে দেহের মধ্যে যা থাকে সেগুলি ‘অপমানিত’ অবস্থায় থাকা ভিন্ন আর কিছুই ছিল না। দেহের কোনো অঙ্গ চোট পেলে বা ব্যাধিতে দুর্বল হলে ভালো দাক্তাররা বলেন ‘ইনসাল্ট’। যেমন ধরা যায় যার দুবার ন্যাবা হয়েছে তার লিভার ‘ইনসাল্ট’ সহ্য করে বলে ডাক্তাররা ভাল হলে বলে থাকেন। মৃত যে দেহটি খাটের ওপরে কালো প্লাস্টিকে জড়িয়ে দড়ি দিয়ে বাঁধা ছিল সেই মৃতদেহটির বিভিন্ন অঙ্গ যেমন যকৃত, বৃক্ক, মূত্রাশয়, পাকস্থলী, শিশ্ন, অক্ষি, অণ্ডকোষ সবই দেখা গেল ‘ইনসাল্ট’ সহ্য করেছে একাধিকবার। অধুনা এমন বিষয় নিয়ে মার্কিন দেশে গবেষণালব্ধ ফল পাওয়া গেছে যে ধর্ম, কাব্য, প্রেম, হিংসা, ন্যায়, চুরি, ক্ষুধা, যৌনতা, বউ-বোধ, সন্তান সংজ্ঞা, ধর্ষণের ইচ্ছা, মৌনতা, সংগীতলিপ্সা এসবই মস্তিষ্কের বা তার মধ্যে যে অর্থাৎ করোটির প্রকোষ্ঠে যে ঘিলু থাকে তার এক এক অংশের গুণাবলী। সেই জ্ঞান অনুযায়ী ওই শীর্ণ মৃতদেহটির মস্তিষ্ক নিয়ে যদিও এখনো পর্যাপ্ত ঘাটাঘাটি হয়নি কিন্তু আশার কথা এই যে অতীব শীতল হীমঘরে এখনো মৃত ওই দেহটিকে রাখা হয়েছে। রাষ্ট্রীর খরচে। অর্থাৎ মৃতদেহটি গবেষণার জন্য অপেক্ষমান।

চারজন শববাহকের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছিল বেশ ভদ্রভাবে। তুতিয়ে পাতিয়ে কথা আদায়ের জন্য। কথার মারপ্যাঁচে এইভাবে যাকে জেরা করা হয় সে ফাঁপরের পর ফাঁপরে পড়ে। সবাই, মানে জিজ্ঞাসাবাদ যারা করে থাকে তাদের সবাই কথার মারপ্যাঁচে রপ্ত নয়। বরং তারা মারধোর, ভয় দেখানো এবং কখনো কখনো এসপার ওসপার ঘটিয়ে ফেলে থাকে। কেউ বলে বুঝেশুনেই ঘটানো হয়। আবার কেউ বলে রোখের মাথায় ঘটে যায়। যাই হোক, এই দ্বিতীয় ধরনের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছিল সেই দুজনকে দিয়ে যাদের মুখে ট্রামের ধাক্কার চোট ছিল না। অর্থাৎ যে দুজন খাটের পিছনের দুটো পায়া ধরে কাঁধ দিয়েছিল। চড়চাপড়ে কাজ হল না। ঝুলিয়ে রেখে লাথি মারতেও নয়। এই সময় তরুণ আই পি এস হস্তক্ষেপ না করলে হয়তো কিছু একটা খতরনাক ঘটেই যেত। তিনি জিজ্ঞাসাবাদের দ্বিতীয় ধরনটি বন্ধ করলেন। অল্পবিস্তর চিকিৎসায় দুচারদিনেই ওই দুজনে আবার উঠে বসল, তারপর একসঙ্গে চারজনকে পাঠানো হল ডাক্তারদের কাছে।


তিন

চোখে আলো ফেলা বা পায়ের তলায় বা হাঁটুতে টুংটাং বাড়ি মারা জাতীয় মামুলি ব্যাপারের বর্ণনায় গিয়ে লাভ নেই। চারজনেরই মাথার খুলির মধ্যে একাধিক ইলেকট্রোড ঢোকানো হল। এখানে বলে নেওয়া দরকার যে পাঠক যেন এ ব্যাপারটি কোনোমতেই জিজ্ঞাসাবাদের তৃতীয় এক ধরন বলে না মনে করেন। বিজ্ঞান অত্যাচার নয় যদিও অত্যাচারে বিজ্ঞান ব্যবহৃত হয়। মনিটরিং মেশিনে নানা রকম আলোরেখা ইত্যাদি দেখে বিশিষ্ট চিকিৎসকরা একটি সভায় মিলিত হলেন। এরপর তাঁরা ইংরেজিতে লেখা বিশদ রিপোর্টটি পুলিশের বড় কর্তাকে দেন এবং তিনি যার একটি জেরক্স কপি নিজের কাছে রেখে মূল কপিটি উচ্চতর পদাধিকারীর কাছে দেওয়া হয় তার মধ্যে No evoked potential in auditory/ visual cortex on peripherial sensory stimulation’... অথবা ‘sensory aphasia’ ... বা sensorineural deficit ইত্যাদি খটোমটো অনেক কথা আছে যার সহজ সরল মানে হল ওই চারজন শববাহকই অন্ধ, কালা ও বোবা। কেউ অন্ধ এবং কালা হলে সে বোবা হতে বাধ্য। এবং কোনো লোকের যদি এরকম হয় তাহলে তার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব নয়। করা যায়ওনি। খেতে দিলে মানে হাতে বাটি বা থালা ধরিয়ে দিলে এরা কিন্তু খায়। গন্ধ পায় কিনা বোঝা যায়নি। কখনোই কোনো ভাবের পরিবর্তন নেই। চোখের পলক পড়ে না। শোনে না। দেখে না। কিছু বলে না। কখনো শুনবেও না। দেখবেও না। বলার তো প্রশ্নও ওঠে না। এদের সম্বন্ধে কখনোই কিছু জানার সম্ভাবনা নেই। এদের এক জায়গায় আটক করে রাখা হয়েছে। ওদিকে জেরক্স কপি রেখে মূলটি ওপরওয়ালার কাছে চলেছে। কিন্তু সেটাও তো একসময় রাষ্ট্রপতির কাছে গিয়ে থেমে যাবে। চারজন মূক, বধির ও অন্ধ শববাহকের সম্বন্ধে কিছু জানতে পারার সম্ভাবনা নেই।


চার

মৃতদেহটি অত্যাধুনিক এক হিমঘরে রাখা আছে। এর থেকে অধিকতর অত্যাধুনিক হিমঘরে কতিপয় মার্কিন বিলিয়নেয়ার তাঁদের মৃতদেহ অবিকৃত রেখেছেন। তাঁরা এই আশায় এটা করেছেন বিজ্ঞান অদূর ভবিষ্যতে এমন সীমান্ত অতিক্রম করবে যখন তাঁদের আবার বাঁচিয়ে তোলা যাবে। কয়েকশো বছর পরে বেঁচে উঠে অনেকগুলি প্রজন্ম টপকে তাঁরা আবার ব্যবসাপাতি করবেন, আমোদপ্রমোদ করবেন। তাঁদের এই ধরনের ভাবনাচিন্তা ও বাসনা আমাদের এখানে সংরক্ষিত মৃত ব্যক্তির থাকার কথা নয়। অবশ্য পরে তাকে বাঁচিয়ে তুলতে পারলে হয়তো রহস্যের সমাধান ঘটতে পারে। তরুণ আই পি এস অফিসারটি অবশ্য এই লাইনে কিছু ভাবেননি।

ওদিকে চারজন সম্বন্ধে তো আগেই বলা হয়েছে যে তাদের আটকে রাখা হয়েছে। লোহার মোটা শিক বসানো দরজা। তালাবদ্ধ। দিনে রাতে দফায় দফায় পাহারা। দেওয়ালের ওপরে জাল দিয়ে ঢাকা ছোট্ট একটা চৌখুপি। সেখান দিয়ে কখনো সূর্যের আলো, কখনো চাঁদের আঁভা তেরছা হয়ে ঘরের মধ্যে ঢোকে। তারপর সূর্য বা চাঁদ সরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই আলো মায়াবী বেড়ালের মতো একসময় পালিয়ে যায়। ওরা চুপ করে চারজন বসে থাকে। কখনো কখনো চৌখুপির জালে কোনো দলছুট চড়াই এসে ঠোকরায়। কখনো সামান্য হাওয়া ঢুকে ওদের দেখে থমকে যায়। ওদের চোখের পলক পড়ে না। ওরা চারজন মেঝের ওপরে চুপ করে বসে থাকে। এখানে পাহারা দেওয়ার কাজটি সান্ত্রীদের পছন্দ নয়। বিশেষত রাতে তো নয়ই। তখন নাকি ওদের কেউ কেউ ফিসফাস কথা শুনেছে বা হাসির শব্দ পেয়েছে বলে নিজেদের মধ্যে বলাবলি করেছে। সেই তরুণ আই পি এস অফিসার এখনো মাঝেমধ্যে আসেন। তবে আর বেশিদিন তাঁকে তরুণ বলা সঙ্গত হবে না কারণ সময় কেটে যাচ্ছে। শুধু ওই চারজন শববাহকের ঘরের ভেতরে মনে হয় সময় থমকে আছে।

ওই মৃতদেহটি কার? তার নাম কি? তার কেউ আছে? কিভাবে সে মারা গিয়েছিল? ওই চারজন শববাহকের পরিচয় কি? তারা সেদিন কোন শ্মশানে যাচ্ছিল? কিভাবে পৌঁছত তারা? এরকম একটা ঘটনা ঘটল কি করে?

কেউ যদি এ সম্বন্ধে কোনো কিছু জানেন তাহলে তাঁর প্রতি অনুরোধ যে দয়া করে এগিয়ে এসে কর্তৃপক্ষকে জানান। কর্তৃপক্ষ অপেক্ষা করে আছেন।



১৯৯৫

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন