শুক্রবার, ১০ অক্টোবর, ২০১৪

সাহিত্য নোবেল ২০১৪ : নস্টালজিয়ার কথাকার প্যাট্রিক মোদিয়ানো


অলাত এহ্সান

মিলান কুন্ডেরা, উমবার্তো একো, হারুকি মুরাকমি, নগুঁগি ওয়া থিয়োংগো, পিটার নাদাস, ফিলিপ রথ, এ্যাডোনিস প্রমুখ সব বাঘা বাঘা সাহিত্যিকরা ছিলেন ২০১৪-এর সম্ভাব্য নোবেল বিজয়ীর তালিকার একেবারে উপরের দিকে। এদের নিয়েই আলোচনায় মত্তছিলেন সাহিত্য মোদিরা। এমনকি সম্ভাব্য নোবেল বিজয়ীর নাম নিয়ে মিলিয়ন পাউন্ডের বৈধ জুয়ারি প্রতিষ্ঠান বা ‘বেটিং এজেন্সি’গুলোর তালিকায় ছিল না তার নাম। সবার জলপনা-কল্পনাকে অসার প্রমাণ করে, খানিটা চমকে দিয়েই এবার সাহিত্য পুরস্কার পেলেন ফ্রান্সের লেখক প্যাত্রিক মোদিয়ানো। কিন্তু কেন এই চমক প্রসঙ্গ?

এমন চমকের কথা তো আরো অনেক লেখকের বেলা ঘটে ছিল। নেয়াহেত ‘নিন্দুকের কথা’ সেসব উড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ২০০৯ মেক্সিকান লেখিকা হার্তা মুলার কিংবা ২০১২ সালে চিনা লেখক মো ইয়ানের নোবেল প্রাপ্তিতেও বলা হয়েছিল যে, বিশ্ব অনেক মহৎ লেখক থাকতে একজন স্বল্প পরিচিত বা অপরিচিত একজন লেখকে নোবেল পুরস্কার দেয়া হলো। ২০০৭ সালে ব্রিটিশ লেখিকা (ইরানি বংশভুত) ডোরিস লেসিং কিংবা গতবছর কানাডিয়ান ছোটগল্পকার এলিস মুনরো’র ভাগ্যে যখন নোবেল প্রাপ্তি ঘটলো, ততদিনে তারা লেখালেখি ছেড়েই দিয়েছেন। তখন বলা হলো, তিনি অনেক আগেই নোবেল পেতে পারতেন। বহুবার তালিকার শীর্ষে থেকেও সাহিত্যে নোবেল পাননি, এদের তালিকাও নেহায়েত কম নয়। আদ্দিকালের লিও তলস্তয়, ম্যাক্সিম গোর্কি কথা ছাড়, হালের হোর্হে লুই বোর্হেস কিংবা কার্লোস ফুয়েন্তেস প্রমুখের মতো সাহিত্যিক যেখানে নোবেল ছাড়াই ধরাধাম সাঙ্গ করেছেন, সেখানে চমকেরই বা কি থাকতে পারে? প্রতিবার নোবেল পুরস্কার ঘোষণার আগে হোর্হে লুই বোর্হেসকে নোবেল প্রাপ্তি নিয়ে সাংবাদিক প্রশ্নবাণে জর্জরিত হতে হতো। একবার তো তিনি নোবেল কমিটির পুরস্কার প্রদানের অসাড়তা নিয়ে কৌতুক করেই বসলেন। বললেন-নোবেল কমিটি কেন যেন ভেবেই বসেছে যে, ইতোমধ্যে তারা আমাকে নোবেল দিয়ে দিয়েছে।

সে যাই হোক, প্যাত্রিক মোদিয়ানোর ব্যাপারটা হার্তা মুলার বা মো ইয়ানের মতো হলেও, আরো বেশি গভীর। অর্থাৎ কারণটা হচ্ছে প্যাত্রিক মোদিয়ানো ফ্রান্সে পরিচিত নাম হলেও বাইরে ততটা নন। প্যারিসে বাস করেন বটে, কিন্তু গণমাধ্যম থেকে থাকেন যোজন যোজন দূরে তিনি। যে কারণে, কি দেশি কি আন্তর্জাতিক, পত্রপত্রিকাতে তার সাক্ষাৎকার নেই বললেই চলে। ছোটদের বই, চলচ্চিত্রের স্ক্রিপ্ট লেখেন। তবে তিনি মূলত ঔপন্যাসিক।

গত ৯ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার, সুইডেন সময় দুপুর ১টায় (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা) সাংবাদিকদের সামনে এ বছর সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী হিসেবে রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি ফ্রান্সের লেখক প্যাত্রিক মোদিয়ানো নাম ঘোষণা করে। সুইডিশ একাডেমির সচিব পিটার ইংল্যান্ড বলেন, প্যাত্রিক মোদিয়ানোকে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়েছে তার স্মৃতির শৈল্পিক গ্রন্থণার জন্য; যার মধ্য দিয়ে তিনি মনে করিয়ে দেন মানবভাগ্যের অবিচলিত ভবিতব্যের কথা, উন্মোচন করেন আগ্রাসনের বিশ্বে মানুষের নৈমিক্তিক জীবনে দখলি সত্ত¡ার নানা দিক। মানব-মনের স্মৃতি-বিস্মৃতির খেলা আর আত্মপরিচয়ের সংকট তার গদ্যের অন্যতম অনুষঙ্গ। তিনি আরো বলেন, তার একটি বিখ্যাত উপন্যাস মিসিং পারসন। এটি একজন গোয়েন্দার গল্প। এর নায়ক তার স্মৃতি হারিয়ে ফেলেন। ইতিহাসের সাহায্য নিয়ে তিনি অনুসন্ধান চালাতে থাকেন। অবশেষে খুঁজে পান আসলে তিনি কে।

প্রথা অনুযায়ী আগামী ১০ ডিসেম্বর নোবেল পুরস্কারের প্রবর্তক আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে সুইডেনের স্টকহোমে আনুষ্ঠানিকভাবে সাহিত্যে নোবেলজয়ী প্যাত্রিক মোদিয়ানোর হাতে পুরস্কারের ৮০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার (১১ লাখ ডলার) তুলে দেয়া হবে।

সাহিত্যে নোবেল প্রবর্তনের পর থেকে ফরাসিতে সাহিত্যের আধিপত্য লক্ষ্য করা যায়। সে বিচারে ফরাসি সাহিত্যে উত্তরাধিকারের ধারাবাহিকতার শেষ নন্দন পুত্র প্যাত্রিক মোদিয়ানো। ৬৯ বছর বয়সী এই লেখক সাহিত্যে ১১১তম নোবেল বিজয়ী। আর ফরাসি সাহিত্যিক বিচারে তিনি ১১তম, যিনি এই পুরস্কার পেলেন। ১৯০১ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার প্রবর্তনের পর সেই প্রথম পুরস্কার পান ফ্রান্সেরই কবি ও প্রাবন্ধিক সালি প্রæধোহম। আর মাত্র ছয় বছর আগে, ২০০৮ সালে, তার স্বদেশি জঁ মেরি গোস্তাব লে ক্লেদিও এই পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

১৯৪৫ সালের ৩০ জুলাই, সময় বিবেচনায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক শেষ হওয়ার দুই মাস পর, পশ্চিম প্যারিসের শহরতলি বোলং-বিলাংকোর্টে প্যাত্রিক মোদিয়ানোর জন্ম। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ফ্রান্সে তার মা-বাবা প্রথম পরিচয় হয় এবং প্রণয় সম্পর্কে আবদ্ধ হন। তবে তারা অনেকটা গুপ্তভাবেই সম্পর্ক বজায় রাখেন। ইতিলীয় বংশভূত ফরাসি বাবা ও বেলজিয় মা’র সন্তান তিনি। বাবা এলবার্ড মোদিয়ানো, গ্রিসের সোলানিকার বিখ্যাত সেফার্ডিক পরিবার ভূক্ত ইহুদি। পেশায় ব্যবসায়ি। ব্যবসার প্রয়োজনে অধিকাংশ সময় তিনি বাড়ির বাইরেই কাটাতেন। মা লুঁইসা কলপিন একজন অভিনেত্রী, যিনি লুঁইসা কলপিয়ান নামে পরিচিত, ছিলেন ভ্রমণ পিয়াসী মানুষ। ফলে মোদিয়ানোর শৈশব কেটেছে একটি অদ্ভুত পরিবেশে। মা-বাবার অনুপস্থিতিতে সরকারি সহায়তায় তার মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন হয়। এসময় তিনি বাবার অনেক হৃদয়বিদারক গল্প, আর মা’র অবারিত ভ্রমণের গল্প শুনেন। এ সব কিছু তাকে ভাই রুডি’র সান্নিধ্য নিয়ে যায়, যে মাত্র ১০ বছর বয়েসে মারা যায়। মোদিয়ানো ১৯৬৭-৮২ সময়ে রচিত সব সাহিত্য তার প্রয়াত ভাইকে উৎসর্গ করেছেন। প্রিয় মানুষদের অনুপস্থিতিজনিত দুঃখবোধ ও তাদের কাছে পাওয়ার আকুলতা নিয়ে তার শৈশব কাটে। এইসব বিষয় পরবর্তীতে তার সাহিত্যে বিভিন্নভাবে এসেছে।

প্যাত্রিক মোদিয়ানো ফ্রান্সের জঁয়-এন-জোসা (Jouy-en-Josas) অঞ্চলের ইকল দুঁ মনসেল বিদ্যালয়ে প্রাথমিক, হওতে-সাভয় অঞ্চলের কলেজ-সেন্ট-যোসেফ দ্য থনস্ (Collège Saint-Joseph de Thônes) এবং পরবর্তীতে প্যারিসের লাইচি হেনরি-ফোর (Lycée Henri-IV) হাইস্কুলে পড়ালেখা করেন। হেনরি-ফোর স্কুলে পড়ার সময় মোদিয়ানো তার মায়ের লেখক বন্ধু রেইমন্ড কঁন্যু’র পরামর্শে পড়ালেখার বিষয় হিসেবে জ্যামিতিকে বেছে নেন। পরবর্তীতে তিনি আন্তর্জাতিক এ্যানিমেশণ ফিল্ম সংস্থা এনিচি থেকে ব্যাচেলর ডিগ্রি নেন, কিন্তু উচ্চতর শিক্ষা সম্পন্ন করেননি।

রেইমন্ড কঁন্যু’র সঙ্গে মোদিয়ানো সাক্ষাৎ ছিল তার জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। কঁন্যু-ই মোদিয়ানোকে ফরাসি সাহিত্য পরিসরে পরিচিতি করেন। প্রকাশকদের আয়োজিত একটি পার্টিতে তিনি প্রকাশনা সংস্থা এডিশন গিলমার্ডের সঙ্গে পরিচিত হন। এই সংস্থাই ১৯৬৮ সালে তার প্রথম উপন্যাস লা প্লেস দ্য ইতোল (La Place de l’Étoile) প্রকাশ করেন। প্রথম উপন্যাসই তাকে লেখক খ্যাতি এনে দেয়। তারপর থেকে তিনি লেখা ছাড়া আর কিছুই করতেন না। অবাক করার বিষয় হলো, তার প্রথম উপন্যাস প্রকাশের ৪২ বছর পর, ২০১০ সালে, এর জার্মান সংস্করণ প্রকাশিত হয়। এ বছরই এই উপন্যাসের জন্য তিনি জার্মান প্রাইস দের এসডব্লিউআর-বেস্টেনলিস্ট পুরস্কার পান। আরো মজার বিষয় হলো এখন পর্যন্ত এই বইটির এখনো কোনো ইংরেজি সংস্করণ প্রকাশিত হয়নি।

সাহিত্য ছাড়াও প্যাত্রিক মোদিয়ানোর কিছু সিনেমা চিত্রনাট্য লেখেন। ১৯৭৩ সালে তার লেখা ‘ল্যামব্ লুসিয়েন’ সিনেমাটি লুইস মালে পরিচালনা করেন। যেখানে ফ্রান্সে বসবাসে অনাগ্রহী একটি যুবক ‘ফ্রেন্স গেস্টাপো’ আন্দোলনে জড়িয়ে পরে। সুবিচারের অভাবেই সিনেমার প্রধান চরিত্রের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়ার ঘটনা নিয়ে গড়ে উঠেছে এর চিত্রনাট্য। ২০০৩ সালে তিনি ‘বন ভয়েজ’ সিনেমার চিত্রনাট্য লেখেন। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন জেন-পল রাপ্পেনু্যঁ।

বর্তমানে দুই কন্যাসন্তানের জনক প্যাত্রিক মোদিয়ানো। ১৯৭০ সালের ১২ সেপ্টেম্বর দোমেনিক জেফাসের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তার জেষ্ঠ্য কন্যা জিনা মোদিয়ানোর জন্ম ১৯৭৪ সালে। ১৯৭৮ সালে জন্ম নেয়া তার কনিষ্ঠ মেয়ে ম্যারি মোয়িয়ানো একজন জনপ্রিয় গায়িকা।

নোবেল পুরস্কার ছাড়াও মোদিয়ানো বেশকিছু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এর মধ্যে অস্টিয়ান স্টেট প্রাইজ ফর ইউরোপিয়ান লিটারেচার ২০১২, ইন্সটিটিউ দ্য ফ্রেন্স থেকে প্রিস্ক মনডিয়াল চিনো ডেল দ্যুকা আমরণ সম্মাননা ২০১০। তাছাড়া তার রু দেস বউটিক অবসকার্স (১৯৭৮) উপন্যাসের জন্য প্রিস্ক গনকোর্ট পুরস্কার ১৯৭৮ এবং লেস বৌলিভার্ডস দ্য সেনচার (১৯৭২) উপন্যাসের জন্য ল’একাডেমি ফ্রেন্সেস থেকে গ্র্যান্ড পিক্স দ্য রোমান দে ১৯৭২ উল্লেখযোগ্য।

প্যাত্রিক মোদিয়ানো এ পর্যন্ত ৩০টি উপন্যাস লিখেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হচ্ছেÑ লা প্লেস দ্য ইতোল (১৯৬৮), লা রন্ডে দ্য নুত (১৯৬৯), লেস বৌলিভার্ডস দ্য সেনচার (১৯৭২), রু দেস বউটিক অবসকার্স (১৯৭৮), মেমোরি লেন (১৯৮১), কোয়ার্টিয়ার পেরদ (১৯৮৪), ক্যাথেরিন কারটেচিউট (১৯৮৮), ভয়েজ দ্য নস (১৯৯০), দু প্লাস লয়েন দ্য উব্লি (১৯৯৫), দোরা ব্রোডার (১৯৯৭), এ্যাকসিডেন্ট নকটার্ন (২০০৩), ল’ হরিজন (২০১০) এবং ল’হার্ভে দ্য নুত (২০১২) ইত্যাদি।

প্যাত্রিক মোদিয়ানো দুঁদে গোয়েন্দা কানিহী না লিখলেও তিনি গোয়েন্দা ঘরানার অনুসন্ধিষা তার লেখায় আছে। তিনি এ নিয়ে কাহিনী ফাঁদতেও পারেন ভালো। তবে লেখার থিম হিসেবে প্যাত্রিক মোদিয়ানো প্রধান অনুসঙ্গÑস্মৃতি, পরিচয় ও সময়। অর্থাৎ সময়ের ঘুর্ণিবায়ে জাতি তথা জাতির ক্ষুদ্র সংস্কণ ব্যক্তি মানুষের ভেতর ক্রমেই ঘণিভূত হয় পরিচয় সংকট। ইতিহাস ছায়াপথ ও সময়ের গলি-রন্ধ্র দিয়ে তিনি খুঁজে ফেরেন তার আপন পরিচয়। এই পরিচয় যতটা জাতিক তার চেয়ে অধিক ভাবেই মানবিক। আপাত দৃশ্যমান নস্টালজিয়ার সুঁতো টানতে টানতে তিনি সেই পরিচয়কে আবিষ্কার ও ধারণ করতে চান। কাহিনীর মিহি বুননে অনেক সময় মনে হয় তিনি নস্টানজিয়ার কথাকার।০





লেখক পরিচিতি
অলাত এহ্সান
জন্ম ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আরো ভেতরে, বারুয়াখালী গ্রামে। পদ্মার পাড় ঘেঁষে গ্রামের অবস্থান। গহীন গ্রাম। এখানে প্রধানত কলু, কাহার, জেলে, মুচি নিম্নবর্গের মানুষেরা বসত করে। প্রতিবছর পদ্মায় ভাঙে। অজস্র্র মানুষ স্বপ্নভাঙ্গা স্মৃতি নিয়ে শহরমুখী হয়। অধিকাংশ তরুণ জীবিকার প্রয়োজনে পাড়ি জমায় বিদেশে। এটাই যেন নিয়তি। এসবের ভেতরেও থাকে ঘটনা, নানা ঘটনা। এইসব জীবন বাস্তবতা দেখতে দেখতে বড় হয়ে ওঠা। গুলতির বোবা রেখা তাক করে জঙ্গলে জঙ্গলে কেটেছে শৈশব। পারিবারিক দরিদ্রতা ও নিম্নবিত্ত অচ্ছ্যুত শ্রেণীর মধ্যে বসত, জীবনকে দেখিয়েছে কাছ থেকে। ঢাকা কলেজ থেকে পড়াশুনা করেছেন। ছাত্র জীবন থেকেই বাম রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়া। কবিতা লেখা দিয়ে সাহিত্য চর্চা শুরু হলেও মূলত গল্পকার। ঢাকা থেকে প্রকাশিত একটি দৈনিকে কর্মরত।
alatehasan@yahoo.com, +88 01714 784 385



1 টি মন্তব্য: