শুক্রবার, ১০ অক্টোবর, ২০১৪

অথ শৈলরাণী স্কুল

প্রবীর বিকাশ সরকার

আমার শৈশব-কৈশোর-যৌবনের উত্থানকালে কুমিল্লা শহরটি ছিল ছিমছাম সুন্দর। ব্যাংক এবং ট্যাংএর জন্য ছিল বিখ্যাত সমগ্র উপমহাদেশে। একাধিক ব্যাংকের জন্ম যেমন এই শহরে আবার একাধিক দিঘিরও আবাস এই শহর। ধর্মসাগর দিঘি, রানীর দিঘি, নানুয়া দিঘি, উজির দিঘি উল্লেখযোগ্য। তাছাড়া বড় বড় পুকুর যেমন তালপুকুর, পাইকপুকুর, রেজ্জাক মিয়ার পুকুরসহ একাধিক পুকুর কুমিল্লার নাগরিক সৌন্দর্যকে একসময় স্বর্গীয় পরিবেশগত মাত্রা দিয়েছিল। এখন অনেক পুকুর ভরাট হয়ে গেছে, যাবেও। এগুলোর পাড়ে একাধিক পুরনো দালানবাড়ি ছিল রাজসিক সৌন্দর্যমণ্ডিত। এখনো কিছু আছে হয়ত আগামী এক দশকে সেগুলোও হারিয়ে যাবে।


ছবির এই বাড়িটি একটি বিখ্যাত স্কুল। শৈলরাণী দেবী পৌর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত। প্রথমদিকে প্রাথমিক বিদ্যালয় ছিল। ধীরে ধীরে ডালপালা ছড়িয়ে এখন উচ্চ বিদ্যালয়। স্কুলের চৌহদ্দির মধ্যে আরও দালানবাড়ি বৃদ্ধি পেয়েছে। ছবিটি দপ্তর ভবনের। সামনে প্রবেশপথ। এই স্থাপত্যটি নানুয়া দিঘির পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত। প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে নাম ও ছবি দেখলাম ইদ্রিছ হোসেইন নামে একজন ভদ্রলোকের। জানি না নওয়াব ফয়জুন্নেসা বংশের কেউ কিনা। দপ্তরের দেয়ালে ছবি টাঙানো আছে সেখানে শৈলরাণী দেবী, ধনাঢ্য মাড়য়ারি ব্যবসায়ী শ্যামলাল ক্ষেত্রী এবং আরও দু-একজনের ছবি আছে। স্কুলের প্রতিষ্ঠার সঙ্গে এরাও জড়িত ছিলেন। প্রকৃত ইতিহাস জানি না।

নানুয়া দিঘির সঙ্গে বহু বছরের সম্পর্ক আমার। বৃটিশ ও পাক আমলে দিঘির চার পাড়ের বসতি ছিল হিন্দুদের। বিভিন্ন পেশার ধনী হিন্দুরা ছিলেন। প্রায় সবাই ধীরে ধীরে ভারতে চলে গেছেন। আকবর হোসেন, কুমিল্লার মেয়র মনিরুল হক সাক্কু---আকবর হোসেনেরই আত্মীয় এরা এই নানুয়াি দিঘির পাড়েই থাকেন। উত্তর পাড়ে আকবর হোসেনের বাড়িটি ভেঙে নতুন বাড়ি করা হয়েছে সম্প্রতি। তার বাড়ির সারিতে আরও দু-তিনটি পুরনো বাড়ি আছে। একেবারে উত্তরপূর্ব কোণে ছিলেন স্বনামধন্য ডাক্তার নিত্যহরি সাহা, শৈশবে অামার অসুস্থ পায়ের চিকিৎসা করেছিলেন।

দক্ষিণ পাড়ে পুরনো বাড়ি ছিল ভেঙ্গে বিশাল ফ্লাট উঠেছে। এই পাড়ে বন্ধু মেজবাহর বাড়ি ছিল। সেইসূত্র ধরে অনেক আড্ডা দিয়েছি তাদের বাসার সামনে দিঘির পাড়ে সবুজ ঘাসে। পশ্চিম পাড়ে রয়েছে উপমহাদেশখ্যাত কুটির শিল্পের জাহানারা কটেজ। পূর্ব পাড়ে বড় দালান না থাকলেও টিনের বাসা বা একতলা দালান ছিল। এখন অনেকটাই পরিবর্তিত।

যখন আই এ পড়ি মাঝে মাঝে ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে সকালবেলা শৈলরাণী স্কুলের সামনে এসে দাঁড়াতাম কারণ এক বন্ধুর প্রেমিকা ছিল এই স্কুলের ছাত্রী। ভিক্টোরিয়া কলেজ আর শৈলরাণী স্কুল খুব একটা দূরে নয়।

মাঝে মাঝে সন্ধেবেলা বন্ধুরা মিলে দিঘির পাড়ে আড্ডা দিতাম, হৈচৈ করতাম। আমার গলাটা ভালোই ছিল রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইতে পারতাম, হেমন্ত-মান্নার গানও অনায়াসে এসে যেত। বয়স তখন মাত্র ১৭-১৮! কী দূরন্ত যৌবনের এই উত্থানকাল! আজ যেটা ভালো লাগছে কাল সেটা অপাঙতেয়। অস্থির বুনো মেঘ তখন আমরা। সেইসময় স্থানীয় মেয়েরা হাত ধরে দিঘির চারদিকে হাঁটাহাঁটি করত। হাসাহাসি করত, হাসতে হাসতে ঢলে পড়ত এর ওর গায়। হিন্দু বাড়ির মেয়েরাই অধিকাংশ। তারা বাঁধভাঙা এবং মুক্ত বিহঙ্গ যেন। মাঝে মাঝে বাদাম কিনে দিত আমাদেরকে কেউ কেউ, কেউবা চকোলেট। এভাবে কারো কারো সৌভাগ্যের সুবাদে সেই বাদাম এবং চকোলেট একদিন প্রেমপত্রে রূপান্তরিত হয়ে যেতেও দেথলাম। সাক্ষী রইলাম আমি। মেয়েদের ভালো লাগত কিন্তু প্রেমের কারাগারে বাঁধা পড়ার মন আমার ছিল না। আড়ালে আবডালে ওদেরকে বলতে শুনেছি, ‘ছেলেটির দেমাগ আছে!’ কেউ কেউ বলত, ‘থাকবেই তো, কবিতা লিখে, গান করে প্রতিভা আছে তাই অহংকার থাকবেই।’ মজার ব্যাপার হলো একজন বন্ধুর চিঠি আমি মাঝে মাঝে লিখেও দিয়েছি। গাঁজা খেয়ে মাতাল হয়ে পা জড়িয়ে ধরে বলেছে, ‘গুরু, তুমিই লিখে দাও অঞ্জলিকে এবার উত্তরটা! আমার কখার ব্যাংক আপাতত খালি।’

লিখে দিয়েছি একাধিক চিঠি রাত জেগে জেগে নানারকম চিন্তা করে। প্রেম করে দীপু আর চিঠি লিখি আমি! একবার অঞ্জলির কাছ থেকে উত্তর এসেছে, ‘দীপু (দীপক কুমার রায়) মাঝে মাঝে তুমি এত সুন্দর চিঠি কী করে লিখো বুঝতে পারি না! নাকের জলে চোখের জলে একাকার হয়ে যাই। রাতে ঘুমুতে পারি না। সারাক্ষণ তোমার কথাই ভাবি!’ মনে মনে আমি হাসি, ‘নে বাবা, ডুবেছে মেয়ে!’

অঞ্জলি এই স্কুলে তখন নবম শ্রেণীর ছাত্রী। অঞ্জলি ছিল ঈষৎ ট্যারা। চেহারাও ছিল অনেকটা সুচিত্রা সেনের মতো। তাই আমি বলতাম, ‘মিস সেন, তুমি একেবারে দ্বিতীয় সুচিত্রা সেন!’ শুনে সেকি হাসি তার! মুখে অাঁচল চেপে বলেছিল, ‘পটুদা (আমার ডাক নাম) তুমি এমনভাবে কথা বলো না মাথা গুলিয়ে যায়! চোখে জল আসে! এভাবে বলো না!’

মনে পড়ে দুর্গা পুজো, সরস্বতী পুজোর সময় কুমিল্লা শহরটা সম্পূর্ণ বদলে যেত। চারদিকে উৎসব উৎসব সাজ। সারাদিন, গভীর রাত পর্যন্ত মাইকে গান বাজছে পাড়ায় পাড়ায়। কীসব দুর্দান্ত গান! যেমন হিন্দি তেমনি বাংলা। হৃদয় ভীষণ রোমান্টিক হয়ে উঠত। মেজাজ হয়ে উঠত বোমার মতো বিস্ফোরন্মুখ---কিছু একটা ঘটানোর জন্য! পুজোর কয়েকটি দিন ঘরছাড়া বাউণ্ডুলে হয়ে যেতাম। আজ এর বাড়ি কার ওর বাড়ি পরের দিন আমাদের বাড়িতে পুজো-প্রসাদের আস্বাদন গ্রহণ। সন্ধের পর পুজো দেখার ছলে মেয়ে দেখার পালা। হাসিঠাট্টা। দুষ্টুমি করার এই এক মহাসুযোগ মন্দিরের পুজো মণ্ডপে। নতুন নতুন বন্ধু খুঁজে পাওয়া, নতুন প্রেমের শুভজন্মলগ্ন এই পুজোর উৎসব।

নানুয়া দিঘির পাড়ে একাধিক পুজো হত। নানা রঙের নিয়নের আলোয় দিঘির জল আলো হয়ে যেত। মাইকে বাজানো রক্তউষ্ণকরা হিন্দি গান আর ঢাকঢোলের শব্দে আমরা তখন পাগলপারা। মৃতসঞ্জিবনী পান করে মাতাল এবং নাচতে নাচতে বেহুঁশ। অঞ্জলি, বাসবী, ঋতু, শম্পার দল বাহারি শাড়ি পরে সেজেগুঁজে আসত পুজো মণ্ডপে। অন্যান্য পাড়া থেকে ওদের বান্ধবীরাও আসত। ওদের দেখে হাত ধরে টেনে এনে নাচিয়ে ছাড়তাম। সেকি হৈ হুল্লোড় হত আমাদের! আহা! কোথায় গেল সেইসব দিন!

কলেজ পাস করেছি বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবো। একদিন দীপুর বাবা মারা গেলেন। পুরনো হৃদরোগী। কাপড়ের ব্যবসা ছিল ছাতিপট্টিতে। দোকানের নামটি মনে নেই এখন। তিন ভাইবোনের মধ্যে দীপুই বড়। আর দুটো বোন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও যেতে পারল না দীপু ভিক্টোরিয়া ডিগ্রি কলেজে ভর্তি হল। আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিকেলবেলা থেকে দোকানে বসত সে। সকালবেলা বসতেন তার এক বুড়ো মামা, অবিবাহিত শক্তিমামা, আসলে তিনি ছিলেন থুবই দুর্বল দৈহিকভাবে, কেন যে শক্তি ছিল তাঁর নাম মাঝেমাঝে ভাবতাম! সন্ধের পর রানীর বাজারস্থ রাম ঠাকুরের আশ্রমে এসে কীর্তন করতেন আর ফেরার পথে দু-তিন ছিলিম বিশুদ্ধ গাঁজা টেনে বাসায় ফিরতেন অচল জেঠুদের সঙ্গে।

অঞ্জলি শৈলরাণী থেকে ভালোভাবেই এসএসসি পাশ করে মহিলা কলেজে ভর্তি হয়েছিল। ওদের বাসায় আমন্ত্রিত হয়ে মিষ্টি খেতে গিয়েছিলাম আমি ও দীপু এই প্রথমবার। এক স্কুলের শিক্ষিকা বেটেখাটো স্বল্পভাষী মাসিমা আমাদের জামাই আদরে আপ্যায়িত করলেন। আমার বাবা কী করেন জিজ্ঞেস করলে বললাম, ‘পুলিশ কোর্টের জিআরও পরেশচন্দ্র সরকার।’

সঙ্গে সঙ্গে অবাককণ্ঠে বলে উঠলেন ভদ্রমহিলা, ‘ওমা! তুমি পরেশদার ছেলে!’

অামিও আঁতকে উঠলাম, এই সেরেছেরে! নিশ্চয়ই মাসিমা বাবার সঙ্গে দেখা হলে বলবে আমার কথা! বাবাও জিজ্ঞেস করবে, আমি অঞ্জলিকে চিনি কেমন করে? শৈলরাণী স্কুলের সামনে তাহলে তুমি ফিল্ডিং মারতে গিয়েছিলে কলেজ ফেলে ? বাবা পুলিশের লোক সন্দেহের বাতিক যাদের!

এই ঘটনার মাস খানেক পরের কথা। ১৯৭৯ সাল। বর্ষাকাল। তুমুল বৃষ্টি। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিরেছি কুমিল্লায় দুপুরের পরে। দীপুর দোকানে গেলাম সন্ধেবেলা বৃষ্টি মাথায় করে হেঁটে হেঁটে ধর্মসাগর পশ্চিম পাড় থেকে। সঙ্গে বিশ্বখ্যাত চট্টগ্রামের ভুইল্যার প্যাকেট নিয়ে উপহার হিসেবে। সেবার পাড়ার বন্ধু স্বপন ও বিষ্ণু কেউ নেই তারা, স্বপন ঢাকায় আর বিষ্ণু কালিকচুয়া গেছে। নেশার দুই পার্টনারই নেই। অগত্যা দীপুর কাছেই গেলাম। ওদের পুরনো দিনের বাড়ির ছাদে চিলেকোঠায় বিছানা পাতা থাকে। আমরা আড্ডা দিতাম।

দোকানে গিয়ে দেখি দীপু নেই। কর্মচারী বললেন, ‘দাদার মন ভালো নেই তাই আসেনি।’ আমি ওর বাসার দিকে গেলাম। নানুয়া দিঘির পূর্বপাড়ে ঠিক শৈলরাণী স্কুলের অপর দিকে। কাউকে কিছু না বলেই সোজা চিলেকোঠায়। চিলেকোঠার টিনের চালে ঝমঝম বৃষ্টির শব্দ। প্রায় অন্ধকারে শুয়ে আছে দীপু। বাতাসে বাংলা মদের গন্ধ। চমকে উঠলাম, কী ব্যাপার! মামু বাংলা মদ একাই মেরে দিচ্ছে! ও তো বাংলা খায় না যতখানি জানি। কিছু একটা হয়েছে। টেরই পায়নি আমি যে এসেছি। জিন্সের শার্টপ্যান্টপরা চিৎ হয়ে ঘুমিয়ে আছে। ম্যাচকাঠি জ্বালিয়ে দেয়ালে ঝোলানো সুইচ টিপে আলো জ্বাললাম। অমনি চোখ মেলে তাকালো। উঠে বসল। ঘাড় পর্যন্ত চুল এলোমেলো, মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি। চোখ দুটো টকটকে লাল। আমাকে দেখে বলল, ‘কখন এলি? বোস।’

বসতে বসতে বললাম, ‘কেমন আছিস? রতন বলল তোর মন ভালো নেই। জানি কাকা মশায়কে ভুলতে পারছিস না। আফটার অল বাবা তো!’

দীপু মাথা নাড়ল এপাশ ওপাশ। আমি একটা স্টিক ধরিয়ে ওকে দিলাম। দেখলাম ওর চোখ সহসা জ্বলে উঠল। দীর্ঘ একটা টান দিয়ে ধোঁয়া না ছেড়ে ঝিম ধরে রইল। এবং ধোঁয়াটা মাথার মধ্যে জায়গা মতোই গেল। মাথা ঝাড়া দিল।

আরও একটি স্টিক জ্বালিয়ে এক টান দিয়ে বললাম, ‘ওর কী খবর? কেমন আছে?’
উত্তর এলো, ‘নেই।’

আমি ভ্রু কুঁচকে বললাম, ‘নেই! নেই মানে?’ কী হয়েছে?’

‘ওরা কলকাতায় চলে গেছে জ্যাঠামশায়ের কাছে। বাড়ি করেছিল আগেই। নানুয়া দিঘির বাড়িটি বিক্রি করে দিয়ে চলে গেছে।’ দীপুর মাঝাঘষা উত্তর।

কয়েক মিনিট আমি বোবার মতো বসে থাকলাম। নেশাটা চলে গেল নিমিষে। বাইরে বৃষ্টিটা হঠাৎ থেমে গিয়ে এবার আমার বুকের ভেতরে যেন ঝরতে শুরু করেছে! ভেসে যাচ্ছি আমি!

দীপু আবার বলল, ‘জানিয়েও যায়নি। একটি চিঠি পেয়েছিলাম দুসপ্তাহ পর কলকাতার বাগুইহাটি থেকে।’

আমি জাপান আসার আগেই একটা বৃত্তি পেয়ে দীপুর আমেরিকা চলে যাওয়ার সংবাদ পাই তার এক দূরসম্পর্কীয় দিদির কাছে তিনি শৈলরাণী স্কুলের বাংলার শিক্ষিকা ছিলেন, টাউন হলে একটি অনুষ্ঠানে দেখা হয়েছিল।

বাংলাদেশে কুমিল্লায় যখন ফিরি মাঝে মাঝে নানুয়া দিঘির পাড় ধরে হেঁটে হেঁটে আসি কান্দির পাড়ের দিকে স্বুলের সামনে দিয়ে। এখন আমরা নূরপুর হাউজিংএ থাকি। খুব একটা দূরত্ব নেই নানুয়া দিঘি পর্যন্ত। দিঘির ঘাটে সন্ধেবেলা বসি। ঝিরিঝিরি বাতাস ওঠে দিঘির বুক থেকে। আমাকে ছুঁয়ে বয়ে চলে যায়। আপনা থেকেই ঘাড় ঘুরে যায় স্কুলটির দিকে। বুকটা হু হু করে ওঠে।

কৈশোর, যৌবন, এখন শেষ জীবনে এসে বিলুপ্ত সম্পর্কের তল খুঁজতে চেষ্টা করি, মাটি খুঁজে পাই না। জলের নিচেও দীর্ঘশ্বাসের ছড়াছড়ি কেবল!

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন