শনিবার, ১০ জানুয়ারী, ২০১৫

নীহারুল ইসলাম : ২০১৫ সালে পড়া গল্পের সালতামামি

গল্পপাঠ : ১
 ২০১৫ সাল কত সংখ্যক গল্প পড়েছেন?

নীহারুল ইসলাম : ১
এবছর ঠিক কত গল্প পড়েছি, হিসেব রাখিনি। তবে খুব কম গল্প পড়া হয়েছে। 


গল্পপাঠ : ২
কোন কোন মাধ্যম থেকে গল্পগুলো পড়েছেন?

নীহারুল ইসলাম : ২
আমার গল্প পড়া মূলত সাময়িক পত্র, লিট্‌ল ম্যাগাজিন, ওয়েব ম্যাগাজিন থেকে। সেই সঙ্গে নিজের পছন্দের গল্পকারের গল্প খুঁজে পড়ার ব্যাপারটা থাকেই। পুরনো গল্পও পড়তে হয়। যেমন এবছর কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘লোকসখা’ পত্রিকার বিষয় ‘বাংলা সাহিত্যে ট্রাম’। এই সংখ্যায় ট্রামকে বিষয় করে গল্প লেখার আমন্ত্রণ এসেছিল। প্রথমে আমি জানিয়েছিলাম লিখতে পারব না। কিন্তু ওরা নাছোড়। অগত্যা জ্যোতিরিন্দ্র নন্দীতে আশ্রয়। ট্রাম নিয়ে তাঁর একটি বিখ্যাত গল্প পড়েছিলাম। সোনালি দিন। আবার সেই গল্পটি পড়লাম। তারপর লিখলাম ‘গন্তব্যের শেষ কোথায়’ নামে একটি গল্প। কিন্তু এই সুযোগে আমার আবার পড়া হয়ে গেল জ্যোতিরিন্দ্র নন্দীর সেইসব বিখ্যাত গল্পগুলি : ‘আম কাঁঠালের ছুটি’, ‘লেডিজ ঘড়ি’, ‘গোপন গন্ধ’ ...


গল্পপাঠ : ৩
কোন কোন গল্পকারের গল্প পড়েছেন?

নীহারুল ইসলাম : ৩
এবছর গল্পের চেয়ে প্রবন্ধ, উপন্যাস পড়েছি বেশী। সেটা আমার উপন্যাস লেখার কারণে। তবে কিছু গল্পকারের গল্পও পড়েছি। বিশেষ করে শারদীয় সাময়িক পত্র থেকে। যেমন, রমানাথ রায়-তানভীর মোকাম্মেল-আনসারউদ্দিন-স্বপ্নময় চক্রবর্তী-সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়ের গল্প। বলে রাখা ভাল তানভীর মোকাম্মেল বাদে বাকিরা সবাই আমার প্রিয় গল্পকার। এঁদের গল্প পেলেই আমি পড়ি। আর তানভীর মোকাম্মেলের গল্প এই প্রথম পড়লাম।



গল্পপাঠ : ৪
এর মধ্যে ভালো লাগা গল্পগুলোর কয়েকটি নাম করুন। গল্পগুলো ভালো হয়ে উঠেছে কী কী কারণে সেগুলো উল্লেখ করুন।

নীহারুল ইসলাম : ৪
 আমার ভাললাগা গল্পগুলির নাম উল্লেখ করতে পারি। যেমন, রমানাথ রায়ের ‘স্মার্টফোন’- তানভীর মোকাম্মেলের ‘শান্তি’- আনসারউদ্দীনের ‘টেলিফোন’- স্বপ্নময় চক্রবর্তীর ‘শ্বেতসন্ত্রাস’- সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘ছায়ার সঙ্গে ছাড়াছাড়ি’। কিন্তু এই গল্পগুলি কী কারণে ভাল হয়ে উঠেছে তা বলা এখানে আমার পক্ষে মুশকিল। প্রত্যেকটি গল্প নিয়ে বলতে গেলে এক একটি প্রবন্ধ হয়ে যাবে। এখানে সেটা সম্ভব নয়।



গল্পপাঠ : ৫
সেরা গল্প নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ বলুন।

নীহারুল ইসলাম : ৫
 ব্যক্তি বিশেষে সেরা গল্প ভিন্ন ভিন্ন হয়। পাঠক হিসেবে আমার প্রকৃতি, আমার অবস্থান, আমার সময় আমাকে যেভাবে একটি গল্পকে অনুভব করায় তার ভিত্তিতেই আমার পর্যবেক্ষণ গড়ে ওঠে। সেই পর্যবেক্ষণ আবার গল্পের বিষয়, ভাষা, আঙ্গিকের ওপর নির্ভর করে। একটা উদাহারণ দিয়ে বলি, আজও সেরা গল্প হিসাবে আমার কাছে হাসান আজিজুল হকের ‘শকুন’ গল্পটি। এই গল্প আমি প্রথম পড়েছিলাম আজ থেকে পঁচিশ বছর আগে। গল্পটি পড়ার পর আমি ভীষণ আন্দোলিত হয়েছিলাম। আমার মনে প্রশ্ন জেগেছিল, হাসান আজিজুল হক বরেন্দ্র ভূমির মানুষ হয়ে রাঢ় বাংলার পটভূমিতে এই গল্প কী করে লিখলেন? সেই প্রশ্ন নিয়ে আমি তাঁর সঙ্গে দেখা করতে ছুটেছিলাম রাজশাহী। তারপর জেনেছিলাম আদতে তিনি রাঢ় বাংলার মানুষ। শুধু তাই নয়, আমার শৈশবের চারণভূমি রাঢ়বাংলার সাগরদিঘীতে ছিল তাঁর দিদির বাড়ি। দিদির খুব কাছ লাগা ছিলেন তিনি। সেই কারণে দিদির বাড়িতে ছোটবেলায় তাঁর ঘনিষ্ট যাতায়াত ছিল। তাঁর সেই প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থেকেই ওই ‘শকুন’ গল্পের জন্ম। আর আমি নিজে তাঁর সেই গল্পের জন্মের ছ’বছর পর জন্মেও সেই ‘শকুন’ গল্পের এক চরিত্র হয়ে বিরাজ করছি।



গল্পপাঠ : ৬
আপনি কি মনে করেন- এই গল্পগুলো বাংলাদেশের চিরায়ত গল্পগুলোর সমতুল্য বা তাদেরকে অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে?

নীহারুল ইসলাম : ৬
 আজকের গল্প বাংলাদেশের চিরায়ত গল্পগুলির সমতুল্য কিংবা অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে কিনা আজকে দাঁড়িয়ে বলা সম্ভব নয়। চিরায়ত গল্পগুলি দীর্ঘ সময় পেরিয়ে এসে আজ চিরায়ত হয়েছে। আমার মনে হয় আজকের সেরা গল্পগুলিকেও চিরায়ত হবে কিনা তা দেখার জন্যে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। কেননা, সেকথা একমাত্র সময় বলতে পারে, আমি নই।



গল্পপাঠ : ৭
 বিদেশী গল্পের সঙ্গে এ গল্পগুলোর মানকে কীভাবে তুলনা করবেন?

নীহারুল ইসলাম : ৭
 প্রথমেই বলে নেওয়া ভাল আমি বিদেশী ভাষা জানি না। ইংরেজীও খুব ভাল জানি না। বেশীর ভাগ বিদেশী গল্পই আমার পড়া বাংলা অনুবাদে। তবু আমার প্রশ্ন, বিদেশী গল্পের সঙ্গে আমাদের বাংলা গল্পগুলির মান তুলনা করা যায় কি? আমার মনে হয় যায় না। দেশ হোক বিদেশ হোক প্রতিটি গল্পই নির্মাণ হয় লেখকের ভৌগলিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক অবস্থান থেকে। তার ওপর থাকে নিজস্ব কৃষ্টির ছাপ। তারও ওপর যেখানে প্রতি দশ কিলোমিটার অন্তর মানুষের ভাষা থেকে ভাবনা বদলে যায় সেখানে বিদেশী গল্পের সঙ্গে আমাদের বাংলা গল্পের মান তুলনা করব কীভাবে? নাকি তুলনা করা সম্ভব?

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন