বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫

দীপেন ভট্টাচার্য : কল্পনাকে সত্যি করে লেখেন

তিনি থাকেন ক্যালিফোর্নিয়া। আর আমি নিউ ইয়র্কে। তাঁর জন্ম টাঙ্গাইলে। আর আমার গোপালগঞ্জে। তিনি ঢাকায়--আর আমি ময়মনসিংহে। তিনি জ্যোতিষ্কমণ্ডলে। আর আমি পাতায় পাতায়--পান্তাডুবিতে। তিনি দীপেন ভট্টাচার্য। আর আমি কুলদা রায়। দীপেন ভট্টাচার্যকে নিয়ে কোনো সংশয় নেই। আর আজ পটুয়াখালির এক কবি আমাকে সলজ্জ হয়ে জিজ্ঞেস করছেন--ছেলে মানুষের মত একটা প্রশ্ন করি?


তাকে হেসে বলি--করেন।

--আপনার এই কুলদা রায় নামটি কি ছদ্ম নাম?



কঠিন প্রশ্ন। উত্তর নেই। থাকবে কি করে? যিনি উত্তরটি জানতেন--তিনি বিধু রায়।

--তিনি কোথায়?

--পাহিমারায়।

--পাহিমারা কোথায়?

--চিতলমারি থানায়। ডান দিকে চুনখোলা। বামদিকে শৈলদিয়া। নদী পারাইলে পাটগাতি।

--সেইটা তো পাখিমারা। পাখিমারা গ্রাম। পাহিমারা নয়।

এবার বলি, আমার ঠাকুরদা বিধু রায় যখন তরুণ ছিলেন, তখন আন্ধারমানিক গ্রামে গিয়েছিলেন কৃষ্ণপালা গাইতে। ফেরার সময় দেখেন বাঁশঝাড়ের আড়ালে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। চুলে বেণী করা। ঠাকুরদা তাঁর র‍্যালে সাইকেলটি থামিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, বাড়ি কোয়ানে?

মেয়েটি বাঁশঝাড়ের আড়াল নিয়ে বলল, পাহিমারা।



ফলে পাখিমারা সত্যি। পাহিমারাও সত্যি। যেমন কায়া আর ছায়া। কায়া থাকলে ছায়া হয়। কায়া না থাকলে ছায়া কোথায় পাই হে কবি! এটাই কল্প গল্প। সত্যির বাইরে আরেক সত্যি নিয়ে খেলা। কল্পনাকে সত্যি করে তোলা। ঠিক কোনটা যে সত্যি আর কোনটা যে কল্পনা--ধরা যায় না।




এই কাজটি খুব কঠিন। সহজে এর মন মেলেনা। অনেক বড় বাজিকর হলে পারা যায়। ক্যালিফোর্নিয়ার দাদা এই রকম গল্পের বাজিকর। তিনি বিজ্ঞানী বলেই গল্প নিয়ে এই রকম বাজি করতে পারেন। তিনি লেখেন বৈজ্ঞানিক কল্পগল্প।


তিনি দীপেন ভট্টাচার্য। এই বইমেলায় তাঁর একটি বই বেরিয়েছে। নাম-- নক্ষত্রের ঝড়। বাংলা একাডেমীর মেলা চত্বরে এসেছে।


আমার নানা বিস্ময়ের মধ্যে একটি হল--বাংলাদেশের লেখকদের কল্পনা শক্তি খুব কম। কল্পনার অভাবে বাস্তবও বাস্তবের মতো খাটি হয়ে ওঠে না তাদের হাতে। ফলে বানিয়ে বানিয়ে মার্কেজের কাছ থেকে ধার করে তাদের লিখতে হয়--বিক্ষোভের দিনগুলোতে প্রেম। অথচ মার্কেজ দিনের পর দিন কল্পনাকে কাদা মাটির মত করে নানা আকার দিতে পারতেন। কখন গোল। কখনো লম্বা। কখনো পুরু। কখনো পাতলা। কখনো পাখির মত। পাখিটি আবার একদিন ঝড়ের মধ্যে মার্কেজের বাড়ির সামনে ডানা ভেঙ্গে পড়ে থাকে। কাছে গেলে বোঝা যায় এটা ঠিক পাখি নয়--ডানাওয়ালা মানুষ।


এই রকম করে অসামান্য কল্পনার গল্পটি লেখেন দীপেন ভট্টাচার্য। গল্প লেখার বিদ্যেটি তাঁর জানা। তাঁর গল্পের ভেতরে থাকে বিজ্ঞান। কিন্তু আমরা বিজ্ঞানকে পড়ি না। গল্পকে পড়ি। কল্পনা তাঁর হতে মাটির ঢেলার মত। দীপেন ভট্টাচার্য জ্যোতির্বিজ্ঞানী বলেই নক্ষত্রের ঝড়কে বইয়ের পাতায় নামিয়ে আনতে পারেন। আমরা ভয় পাইনা। পাখিটিকেও দেখি--অপাখিটিকেও বুঝি। আনন্দপাঠের মধ্যে দিয়ে আমরা জ্ঞান আর কল্পনার জমজকে পাই।



--কুলদা রায়

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন