বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫

অনুবাদকের সাক্ষাৎকার: এমদাদ রহমান

‘আমাদের রাষ্ট্র সাহিত্য নিয়ে ভাবেনি। এই রাষ্ট্রের সাহিত্যের দরকার আছে বলে মনে হয় না।’

সাক্ষাৎকার গ্রহণ : অলাত এহ্সান


লেখক এমদাদ রহমান। প্রবাসে থাকেন। লেখার ও দেখার প্রতি অপ্রতিরোধ্য স্পৃহায় তাড়িত হয়ে অনুবাদ করেন। অনুবাদ তার কাছে ধ্যান। সাহিত্যে জীবন যেমন আবিষ্কার করেন, তেমনে সাহিত্যের জীবন, কবিতার আড়ালে কবির জীবন আবিষ্কারের মাধ্যমে পাঠ পূর্ণ করেন। অনুবাদ নিয়ে তার আকাঙ্ক্ষা ও যাত্রা সুদূর গহীন অভিসারে। তার অনুবাদে সাহিত্য সমৃদ্ধ হয়। অনুবাদকীয় বোধ-বুদ্ধি তার গভীর, বিস্তৃত, বহুগামী। সাহিত্যে আন্তরিকতা, একাগ্রতা সম্মোহনীয়। তার কথা-বার্তায় সেইসবের ঝংকার উচ্চকিত। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অলাত এহ্সান।



অলাত এহসান : একজন অনুবাদকের তৃপ্তি কোথায়, একটি অনুবাদ করায়, না একটি ভাষা-দেশ-সংস্কৃতি-লেখক সম্পর্কে গভীরভাবে জানায়?

এমদাদ রহমান : একজন অনুবাদক আসলে কোনও তৃপ্ত মানুষ নন। তিনি কীভাবে তৃপ্তি পাবেন? স্বস্তি পাবেন? আমার তো তা মনে হয় না। একজন অনুবাদক কি শুধুই একজন অনুবাদক? আমার তো মনে হয় তিনি একই সঙ্গে গল্পকার কিংবা কবি। কিংবা, সব্যসাচী। আমরা যদি বুদ্ধদেব বসুর কথা স্মরণ করি, দেখব, একজন কবি কী পরম মমতায় বোদলেয়ারকে বাংলায় আনছেন।

আমি ভালবাসি মেঘ...চলিষ্ণু মেঘ...
উঁচুতে... ঐ উঁচুতে...
আমি ভালবাসি আশ্চর্য মেঘদল।

এই যে আচ্ছন্ন করে দেয়া কথা, এই যে আশ্চর্য মেঘদল, বুদ্ধদেব বসুর মত একজন কবির পক্ষেই এমন অনুবাদ করা সম্ভব!

মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় আগে একজন লেখক, তারপর অনুবাদক। যিনি শব্দের মর্মার্থ জানেন। অথবা জানেন, তিনি যে ভাষার লেখাটি অনুবাদ করবেন, সেই ভাষাটি। আবার, মূল ভাষাটি যে জানতেই হবে, এমনও কোনও কথা নেই। আপনার প্রশ্নে আছে, অনুবাদকের তৃপ্তি কি অনুবাদে নাকি একটি ভাষা দেশ সংস্কৃতি সম্পর্কে গভীরভাবে জানায়? যদি বলি যে হ্যাঁ অনুবাদকেরও তৃপ্তি আছে, তবে সেই তৃপ্তির জায়গাটা আসলে সেই দেশের লেখকের সঙ্গেই সম্পর্কিত। পাঠকের কাছে আগে কোনটি আসে, ভাষা না দেশ? অনুবাদকের কাছে আগে কোনটি আসে, সাহিত্য না দেশ? সাহিত্যকে একেকটি দেশের আয়না যদি ধরি বা মনে করি, তাহলে, হ্যাঁ, অবশ্যই আমাকে সেই দেশের সাহিত্যের মেটাফরগুলিকে জানতে হবে। আজ যদি কেউ মার্কেসের ‘শত বছরের নিঃসঙ্গতা’ অনুবাদ করতে চান, তাহলে তাকে প্রথমে কী করতে হবে? ধ্যানী বুদ্ধের মত নামতে হবে। মার্কেসকে জানতে হবে। লেখককে জানতে গেলেই, তার দেশ, তার কাল, তার সাহিত্যের অন্তর্জগৎ সম্পর্কে অনুসন্ধান করতে হবে। কারণ, শত বছরের নিঃসঙ্গতা লাতিন আমেরিকার সমস্ত সবকিছুকেই ধারণ করতে চেয়েছে।


অলাত এহসান : অনুবাদ তো একটা পরিণত কাজ। আপনার কাছে অনুবাদক হয়ে ওঠার প্রস্তুতি কি রকম?

এমদাদ রহমান : হ্যাঁ, অনুবাদ অসম্ভব জটিল এক ধ্যান। আমি ব্যাপারটাকে কাজ মনে করি না। অনুবাদক হয়ে ওঠার সেই অর্থে আমার কোনও প্রস্তুতি নেই। অন্যদের কথা জানি না। আমি আসলে, প্রথমে পাঠক, তারপর পাঠক, তারপরও পাঠক, চতুর্থ পর্যায়ে অনুবাদক। আমি কথাসাহিত্যের সঙ্গে যুক্ত। আমাদের শ্রেষ্ঠ গল্পগুলি, উপন্যাসগুলি, নাটকগুলির কিছু কিছু পড়বার পর, কিংবা একই সঙ্গে অনুবাদে বিশ্বসাহিত্যের কিছু উল্লেখযোগ্য সাহিত্য পাঠের পর, আমার ভিতরে হয়ত এমন ভাবনা এসেছিল যে, কিছু লেখা দেখি না অনুবাদ করে। ভার্জিনিয়া উলফ’কে দিয়ে শুরু করলাম। সেই চেতনাপ্রবাহ রীতি। কিছু গল্প পড়লাম। উলফের গল্পগুলি যেন মন্ত্র। যেন শিরায় শিরায় ভায়োলিন বাজে। অদ্ভুত এক আচ্ছন্নতা তৈরি হয় তাঁর গল্পের প্রতিটি লাইনে। গল্পের একটি লাইন থেকে আরেকটি লাইন আলাদা হয়ে যায়। তিনটি লাইন মিলে এক ঘোরলাগা বিভ্রম তৈরি হয়। পনের থেকে ষোল লাইনের একটি গল্প অনুবাদ করবার সিদ্ধান্ত নিলাম। আমার মনে আছে, সিলেটের লামাবাজারের এক বন্ধুর বাসায়, সন্ধ্যা থেকে শুরু করে ভোর হয়ে গিয়েছিল, একটানা অনুবাদে। তারপরও শেষ হয়নি। গল্পটির নাম ‘সোম কিংবা মঙ্গলবার’। অনুবাদ করবার আগে, ভার্জিনিয়া উলফ যে একজন লেখক, তাই জানতাম। কোন দেশ, কোন ভাষা, কি সংস্কৃতি কিছুই জানতাম না। পরে জেনেছি। ‘বাতিঘরের দিকে’ উপন্যাসটি পড়বার পর।


এহসান : অনুবাদ তো শুধু ভাষার পরিবর্তন নয়, ভাবের অনুবাদের ক্ষেত্রে ভাবের অনুবাদ তো একটা মৌলিক সমস্যা। আপনি এই সমস্যা দূর করতে কি করেন?

এমদাদ রহমান : আপনার এই প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই তো সেদিন, ফেদেরিকো গার্সিয়া লোরকা’র পাপেট-নাটক ‘দন ক্রিস্তোবালের পুতুলনাচ’ অনুবাদ করতে গিয়ে এই ব্যাপারটা টের পেলাম। হ্যাঁ, অনুবাদে বা ভাষান্তরে শুধু যে ভাষার পরিবর্তন কিংবা রূপান্তর ঘটে, তা-ই নয়। অনেক কিছু, আরও অনেক কিছুই, আরও অনেক বিপন্ন বিস্ময় থেকে যায়। কবির অভিপ্রায়ের সঙ্গে, তার সময়, দেশকালের সঙ্গে, তার মানুষের সঙ্গে, অনুবাদক এক অদেখা আচেনা সম্পর্কসূত্রে জড়িয়ে পড়েন। অনুবাদের ক্ষেত্রে মূল লেখার প্রতিটি লাইনের প্রত্যেকটি শব্দকেই অনুবাদক গিটারের মত বাজাবেন, অর্থাৎ শব্দগুলি তাদের পূর্ণাঙ্গ অর্থকে প্রকাশ করবে। তারপর বাক্যের গতিমুখ, অভিপ্রায়... আর এখানেই কাজে লাগবে সেই লেখকের সমাজ, ইতিহাস, পুরাণ, পরম্পরা, কিংবদন্তি, দর্শন, লোকাল কালার আর সেই প্যানারমা। আমি এভাবেই যতটুকু পারা যায়, করতে থাকি।


এহসান : লেখার সঙ্গে, বিশেষত সাহিত্যের সঙ্গে দেশের ইতিহাস-সংস্কৃতি-মিথ ইত্যাদির গভীর ভাবে যুক্ত। সেক্ষেত্রে অনুবাদের জন্য লেখকের দেশ-সংস্কৃতি সম্পর্কে জানা খুবই জরুরি।

এমদাদ রহমান : আমি শুধু পড়বার জন্য যদি পড়ি, সেটা ভিন্ন কথা। কিন্তু, সেই আশ্চর্য পাঠক, সেই প্রাজ্ঞ পাঠক, সেই মনস্ক পাঠক, যিনি মার্কেজকে পড়বেন কিংবা পড়ছেন, তাঁর ‘শত বছরের নিঃসঙ্গতা’ পড়ছেন, তিনি একই সঙ্গে যেন লাতিন আমেরিকাকেও মাথায় নিয়ে এগোচ্ছেন। আমরা যখন আন্দ্রে জিদ পড়ছি, টমাস মান পড়ছি তখনও সেই একই ব্যাপার।


এহ্সান : অনুবাদের দক্ষতা অর্জনের জন্য কোনো একটা দেশ বা মহাদেশ এবং ভাষাকেই বেছে নেয়া উত্তম মনে করেন অনেকে। আপনি কি মনে করেন?

এমদাদ রহমান : দেখুন, এখানে এক ধরনের ক্লোজার বা বদ্ধতা তৈরি হতে পারে। মহাদেশের ভাষাকে বেছে নিতে হবে কেন? হিস্পানি কবির লেখা গদ্য যদি আমি ইংরেজিতে পড়ে অনুবাদ করি, তাহলে কি মুল কবির সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক তৈরি হবে না? বিশেষজ্ঞ পাঠক যিনি, তিনি তো হিস্পানি জানেন, কিন্তু নিজ ভাষা ছাড়া যে-পাঠক, অন্য ভাষা জানেন না, তার তৃষ্ণার জল কে দেবে?


এহ্সান : একজন লেখক তো লেখায় মেজাজ-মর্জি-ছন্দ-গতি দিয়ে লেখেন। অনুবাদেও সেই মেজাজ-ছন্দের জন্য সেই লেখকের ওপর প্রস্তুতি দরকার। এজন্য একজন লেখককে নির্বাচন করার কথা বলেন অনেক অনুবাদক।

এমদাদ রহমান : আমি এখন ধারাবাহিকভাবে, আলবেয়ার কামুর ‘নোটবুক’ অনুবাদ করছি। কিন্তু তার আগে আমি তো বাংলা অনুবাদে ‘প্লেগ’ পড়েছি, ‘আগন্তুক’ পড়েছি, ‘দ্য ফল’ পড়েছি, ‘সিসিফাসের মিথ’ খানিকটা পড়েছি। হ্যাঁ, এভাবেই তো কোনও একজন লেখক সম্পর্কে পূর্বধারণা তৈরি হয়। সেই লেখকের মনোভূমি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি হয়। দেখলাম, নোটবুকে কামু তাঁর উপন্যাসের ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। মানুষকে, জীবনকে, দেশকে, প্রকৃতিকে, আলজেরিয়ার কুকুরের ডাককে কীভাবে দেখছেন। অনর্থক­—জীবনকে কেন তাঁর কাছে অনর্থক মনে হচ্ছে, নোটবুকের প্রতিটি প্যারায় তিনি তা বলে যাচ্ছেন।


এহ্সান : প্রায়ই শোনা যায়, অনুবাদ কোনো সাহিত্য নয়। অনুবাদকে সাহিত্য হয়ে ওঠায় অন্তরায়টা কোথায়? অনুবাদ কি ভাবে সাহিত্য হয়ে ওঠতে পারে?

এমদাদ রহমান : বাংলা ভাষার ‘বনলতা সেন’কে অন্যভাষায় কীভাবে নেবেন অনুবাদক! এই যে বিপন্নতা, এর শেষ নেই। তবে, অনুবাদকে সাহিত্য না বলে উপায় নেই। এটা উন্নাসিকতা। অনুবাদকে সাহিত্য না বলে নিজেকে পাঠ-বঞ্চিত করাও ঠিক নয়। আবার শুধু অনুবাদে আটকে থাকাও ঠিক নয়। রবীন্দ্রনাথ ‘ফাউস্ট’ পড়তে চেয়েছিলেন জর্মনে। তাই বলে যারা বইটি ইংরেজিতে পড়েছেন, তারা কি প্রতারিত হয়েছেন? কিংবা, যারা ফরাসি অনুবাদে দন কিহোতে পড়েছেন, তারা কি সারভেন্তেসের মর্ম বুঝতে পারেননি? ব্রেইতেন ব্রেইতেনবাখ দক্ষিণ আফ্রিকার লেখক। এখন আমি কি তাকে ইংরেজিতেও পড়ব না?


এহ্সান : অনেক সময় দেখা যায়, কোনো লেখক বা দেশের কিছু গল্প অনুবাদ করেই তাকে ‘শ্রেষ্ঠগল্প’ বলে দিচ্ছে। বইয়ের ভূমিকায়ও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু থাকে না যে, এগুলো কেন শ্রেষ্ঠ গল্প। কিভাবে বাছাই করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে পাঠকরা কি প্রতারিত হচ্ছেন না?

এমদাদ রহমান : এটা অবশ্যই প্রতারণা। কিন্তু এমন ঘটনা যে সব সময় ঘটছে তা কিন্তু নয়। আমি আবার এত বেশি ইন্টারপ্রিটেশন কিংবা ব্যাখ্যায় আস্থাশীল নই। অনুবাদক যদি অধ্যাপকদের মত কী শ্রেষ্ঠ, কেন শ্রেষ্ঠ—এইসব বলতে থাকেন, তাহলে, পাঠকের পক্ষে আর ভাবনার অবকাশ থাকে না। পাঠক নতুন কিছু ভেবে বেরও করেন না। অনুবাদকের ভাবনার কাছেই আত্মসমর্পণ করেন।


এহ্সান : আমাদের দেশে সাধারণত যে অনুবাদগুলো হয় সেগুলো মূলভাষা থেকে নয়, দ্বিতীয় কোনো ভাষা, বিশেষত ইংরেজি থেকে। তাহলে আমরা ‘সূর্যের রশ্মি থেকে তাপ না নিয়ে বালি থেকে তাপ নিচ্ছি’ বলে মনে হয় না?

এমদাদ রহমান : মাঝে মাঝে মনে হয়। আবার মাঝে মাঝে মনে হয় না। হ্যাঁ, এজরা পাউন্ড যখন চিনের কবিতা অনুবাদ করছেন, কিংবা বুদ্ধদেব বসু যখন পাস্তেরনাকের কবিতা, তখন কী ঘটছে? আসলে, সাহিত্যের এই বড় ফিগারগুলি  যখন অনুবাদে লাগেন, তখন মূল ভাষা হোক কিংবা দ্বিতীয় ভাষা থেকেই হোক, সেটা মূল লেখার আবেদনকে খাটো করে না। আর এখন আপনার পক্ষে কয়টি ভাষা শেখা সম্ভব? হিস্পানি, ফ্রেন্স, ইতালিয়ান, জাপানি, চীনা, আরবি, জর্মন... সূর্যের রশ্মি থেকে না হোক, বালি থেকে তাপ তো নিচ্ছি! নিচ্ছি তো। মানুষ যেখানে পাগলের মত দৌড়চ্ছে, বই পড়াকে স্রেফ সময় নষ্ট বলে মনে করছে, সেখানে সাহিত্যে পাওয়া কিছু মানুষ ধ্যানে মগ্ন! নিষ্ঠুর পৃথিবীতে এর চেয়ে ভালবাসাময় কাজ আর কী হতে পারে?


এহ্সান : অধিকাংশ অনুবাদই বিশ্বের জনপ্রিয় বা বহুল আলোচিত, মানে ‘বেস্ট সেলার’ বইগুলো হয়ে থাকে। এই অনুবাদ দ্বারা একটি দেশের সাহিত্য কতটুকু উপকৃত হতে পারে?

এমদাদ রহমান : বেস্ট সেলার অনুবাদ হোক, তাতে তো সমস্যা দেখি না। এক্ষেত্রে কিন্তু অনুবাদ করছেন, মানে অনুবাদক যিনি তিনি নিজের ভালবাসা থেকে যে করছেন তা কিন্তু নয়। প্রকাশক করাচ্ছেন। ব্যবসা এখানে মুখ্য। কিন্তু একজন সৈয়দ শামসুল হক যখন অনুবাদ করছেন, কিংবা হায়াৎ মাহমুদ কিংবা অরুণ সোম যখন করছেন, তখন নিমগ্ন থেকেই, আত্মস্থ করেই কাজটা করছেন। একটি দেশের সাহিত্যের উপকার অনেকটাই পাঠকের উপর নির্ভর করে। পাঠক কতটুকু সত্যিকার পাঠক হয়ে উঠছে—তার উপর নির্ভর করছে।


এহ্সান : বিশ্বের অনেক বিখ্যাত গ্রন্থ আছে যে গুলো ভাল, কিন্তু বহুল আলোচিত নয়। যেখানে প্রকাশকরাও বিনিয়োগ করতে চায় না। সেক্ষেত্রে মানসম্মত সাহিত্য অনুবাদ কি করে পেতে পারি?

এমদাদ রহমান : এখানে আমি যে কথাটি বলতে চাই, মানে আমার অভিপ্রায় হল, আমি লেখক হিসাবে আমার প্রিয় লেখকের বইটি বা তাঁর যে কোনও লেখা নিজের ইচ্ছাতে যদি অনুবাদ করে ফেলি, তাহলে মানের একটা ব্যাপার চলে আসবে। এক্ষেত্রে অনুবাদকের আগ্রহ, মানে যে-পাঠক অনুবাদ করছেন, তার সক্রিয়তা জরুরি। শামসুর রাহমান রবার্ট ফ্রস্ট অনুবাদ করেছেন। কবিতা। আমি কবিগুলি তাঁর অনুবাদে পড়লাম, ইংরেজিতেও পড়লাম, হ্যাঁ, অসাধারণ অনুবাদ। আমার মনে হল, আচ্ছা, দেখি ফ্রস্টের আর কী কী অসামান্য রচনা আছে, যা ধ্যানী পাঠক পড়তে আগ্রহী হবে। আমি খুঁজে দেখলাম, ফ্রস্টের অনেকগুলি নোটবুক আছে, যেখানে তিনি তাঁর কবিতা ভাবনা লিখে রেখেছেন। বিশাল বই। কিনে পড়তে শুরু করলাম। ভাবলাম, শামসুর রাহমান কেন ফ্রস্টের এই নোটবুকগুলির অনুবাদ করলেন না? তিনি কি এই ব্যাপারটা জানতেন না? আমার আগ্রহের বিষয় কিন্তু উপন্যাস কিংবা গল্প কিংবা কবিতায় ততোটা নয়। কারণ, গল্প-উপন্যাস আমি ইচ্ছা করলেই পেতে পারি, পড়তে পারি। কিন্তু, কবির, লেখকের ডাইরি, নোটবুক, চিঠি, প্রবন্ধ এগুলি আমি সহজে পাব না। এগুলোই একজন লেখকের স্পন্দন। আমি গত পাঁচ বছর বাংলা বই থেকে দূরে, বহুদূরে। দেশের বাইরে থাকার কারণেই আমার এই অনুভূতিটুকু হয়েছে। আমার খুব তীব্র ইচ্ছা, নিজের মৌলিক লেখা অর্থাৎ গল্প লেখার পাশাপাশি বিশ্বের বড় বড় কবি লেখকদের চিঠি, নোটবুক, ডাইরি, গদ্য এইসব বাংলায় নিয়ে আসা। এই মুহূর্তে আমার হাতে আছে কবি ফেদেরিকো গার্সিয়া লোরকার গদ্যের বই—‘ইম্প্রেশন অ্যান্ড ল্যান্ডস্কেপ’। হিস্পানি থেকে ইংরেজি অনুবাদ; হাতে আছে—ওয়াল্ট হুইটম্যানের দুইটি ডাইরি। আছে কবি মাহমুদ দারবিশের জার্নাল। আছে কবি জর্জ সেফেরিসের ডাইরি। আমাদের দেশে এইসব বই সহজে পাওয়া যায় না। আমার মনে হয়, এখানেই আমাদের কাজ করবার সুযোগ আছে। অগ্রসর পাঠক এই ধরণের ভিন্নপাঠের মাধ্যমে নিজেদের আরও সমৃদ্ধ করেন।


এহ্সান : একটি দেশ উপনিবেশ মুক্ত হওয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো বিশ্বের সেরা সাহিত্য, জ্ঞানগর্ভ-মননশীল-চিন্তাশীল বইগুলো ব্যাপক ভাবে, রাষ্ট্রীয় উদ্যোগেই, দেশি ভাষায় অনুবাদ করা। আমাদের দেশে তা হয়নি। এটা কি আমাদের দেশের সাহিত্যের অগ্রগতিতে প্রভাব ফেলেছে মনে করেন?

এমদাদ রহমান : আমাদের রাষ্ট্র সাহিত্য নিয়ে ভাবেনি। এই রাষ্ট্রের সাহিত্যের দরকার আছে বলে মনে হয় না। আমাদের একটি হুঙ্কার ছাড়া আর কিছুই নয়। সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে—এই কথাটাই আমাদের দেশ সম্পর্কে চূড়ান্ত মত। এই দেশ তাঁর শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে, ছাত্রদের ধ্বংস করেছে, শিক্ষকদের নষ্ট করেছে। চিন্তাকে নষ্ট করেছে। সাহিত্য নিয়ে ভাববার সময় অন্তত আমাদের দেশের নেই। দেশ ভোট আর ভাতের জন্য কাঁদছে। জন্মের পর থেকেই এই কান্না শুনছি। এদেশে যা কিছু সাহিত্যিক অগ্রগতি হয়েছে, তা হয়েছে সেই সব শ্রদ্ধেয় আগ্রজদের নিমগ্ন আত্মত্যাগে। অল্পকিছু মানুষের হাত ধরেই আমাদের সাহিত্য এগিয়ে গেছে। মনন চর্চার, সৃজনশীলতার সবগুলি জায়গাকে রাষ্ট্র ধ্বংস করেছে। নীতিভ্রষ্ট রাজনীতির দেশে বিশ্বসাহিত্য প্রবেশ করতে ভয় পায়। মাটি অনুর্বর হয়ে পড়ে। সাহিত্যের ফসল-ফলা মাঠে পঙ্গপাল নেমে আসে। পেশিশক্তির পূজা হয়।


এহ্সান : অনেকেই পাঠের জন্য মূলগ্রন্থ পাঠকেই গুরুত্ব দেন। লেখক প্রস্তুতি হিসেবে অনুবাদ সাহিত্য পাঠকে আপনি কতটা গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন?

এমদাদ রহমান : বেশ আগে, সেবা প্রকাশনী থেকে অনূদিত হেমিংওয়ের ‘দ্য ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সী’ বইটি পড়েছিলাম। এই বই পড়বার যে আনন্দ, যে উদযাপন, অনুবাদের যে শক্তি টের পেয়েছিলাম, তা মূল বইটি পড়েও পাইনি। সম্ভবত রওশন জামিল অনুবাদ করেছিলেন। অসাধারণ। এখনও চোখ বন্ধ করলে কেশর ফোলা সিংহদের দেখতে পাই। দেখতে পাই সান্তিয়াগর সেই যুদ্ধ। তার ফিরে আসা। মানুষ ধ্বংস হয়ে যাবে কিন্তু হার মানবে না!

লেখক প্রস্তুতি হিসাবে অনুবাদ সাহিত্য পাঠকে দরকারি মনে করি, কিন্তু খুব বেশি দরকারি মনে করি না। আগে নিজের ভাষার রচনাগুলি পড়তে হবে। হ্যাঁ, আজকের দুনিয়ায় পাঠক দেশজ মানচিত্রে আটকে থাকার কথাটা ভাবতে পারেন না। আজকের পাঠক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ যেমন পড়বে, তেমনি মুখিয়ে থাকবে কার্লোস ফুয়েন্তেসকে পড়বার জন্য।


এহ্সান : প্রতিবছরই দেশে প্রচুর অনুবাদ হয়। তার সবই জনপ্রিয় ও বহুলালোচিত গ্রন্থ। অপরিচিত কিন্তু শক্তিশালী লেখক বা বই, অনুবাদকের তেমন কোনো আবিষ্কার নেই। এটা কি অনুবাদকের দূর্বলতা, না অন্যকিছু?

এমদাদ রহমান : কারণটা আসলেই বাণিজ্যিক। অপরিচিত লেখক, শক্তিশালী লেখক সব দেশে সব কালেই ছিলেন, আছেন, থাকবেন। আমাদের দেশেও কি সেই নিভৃতচারী কবি কিংবা লেখকটি নেই? আছেন। তারা কুঠরিতে বসে লিখছেন। আবিষ্কার না থাকার কারণ—সাহিত্যের দিক থেকে দিনে দিনে আমাদের মনোযোগ অন্যখানে সরে যাচ্ছে। মানুষকে তুচ্ছ বিষয় দিয়ে ভুলিয়ে রাখা হচ্ছে। বাংলাদেশের বই কেন্দ্রিক বাণিজ্য সৃজনশীল মানুষদের হাতে নেই। এটা আশা করাও ঠিক নয়। প্রায় বিশ কোটি মানুষের আড়তে একটি বই এক’শ কপিও বিক্রি হয় না! এরচেয়ে দুঃখের আর আশ্চর্যের কী হতে পারে! মানুষ এখন বই পড়তে চায় না। লেখকদের, কবিদের তারা বিচ্ছিন্ন মানুষ বলে মনে করে।


এহ্সান : এবার বই মেলায় আপনার ‌‘দন ক্রিস্তোবালের পুতুলনাচ’ নামক অনুবাদ গ্রন্থ বের হচ্ছে। সে সম্পর্কে বলুন।

এমদাদ রহমান : আমি গল্প লিখি। গত বছর আমার প্রথম গল্পসঙ্কলন বের হয়েছে। কথাসাহিত্য নিয়ে কাজ করলেও আমার তীব্র আগ্রহ কবিতার প্রতি। কবিদের প্রতি। আমার সব বন্ধু কবি। এ কারণেই বোধ হয় কবিতার একটা সূক্ষ্ম প্রবাহ আমার ভিতর দিয়েও বাহিত হয়। বিদেশে আসার পর, আমার কাছে পুরো দুনিয়া যেন তার সমস্ত দরজা জানালা খুলে দিয়েছে। ইংল্যান্ডে থেকে এমন কোনও বই নেই, যা আমি ইচ্ছা করলেই পাব না। বাংলা একাডেমির ‘উত্তরাধিকার’-এ ফেদেরিকো গার্সিয়া লোরকা’কে নিয়ে সাজ্জাদ শরীফের একটি লেখা প্রকাশিত হয়, ১৪১৯-এর ভাদ্র সংখ্যায়। ‘কবিতার শহীদঃ ফেদেরিকো গার্সিয়া লোরকা’। পড়ে, অনেকটাই আপ্লুত হই। নেট থেকে তাঁর কবিতা পড়ি। দেশে থাকতেও অনুবাদে এই কবির কবিতা পড়েছি। আমার হঠাৎ মনে হল, লোরকা’কে অনুবাদ করব। কবিতা নয়। কবিতার অনুবাদ কবির পক্ষেই সম্ভব। আমি গদ্য লিখি। আমি তাঁর গদ্যের সন্ধান করি। হ্যাম্পশায়ারের এন্ড ওভার লাইব্রেরিতে খোঁজ করলে পেয়ে যাই, লোরকার ‘নিউ ইয়র্কে কবি’ বইখানি। তারপর কিনে ফেলি ‘গভীর গান ও অন্যান্য প্রবন্ধ’, নির্বাচিত পত্র, আর বেশকিছু নাটক। পেয়ে যাই কবির বেশ কিছু বক্তৃতা। পড়তে পড়তে অনুবাদের কাজও এগিয়ে চলে।


এহ্সান : অনুবাদের জন্য এই কবির গদ্যকর্মকে বেছে নেয়ার কারণ কি?

এমদাদ রহমান : কারণ, আর কিছুই নয়। এক কবির প্রজ্ঞাবান হৃদয়ের স্পর্শ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা। আপনি লোরকা’র ‘নির্বাচিত চিঠি’ পড়তে শুরু করুন। মনে হবে, আপনার হারিয়ে যাওয়া ছেলেবেলা ফিরে আসছে। মনে হবে, কবির আত্মা বুঝি এইভাবে পৃথিবীর জন্য কাঁদে! মনে হবে, এই তো জীবন। আমার সবচেয়ে আশ্চর্য লেগেছে লোরকা’র পুতুলনাচ। ‘দন ক্রিস্তোবালের পুতুলনাচ’ নাটকের—আসলে পাপেট-থিয়েটার—একটি জায়গায়, যৌনতার ক্ষেত্রে সেলাই-মেশিনের অদ্ভুত ব্যবহারে। এখানে একটু বলেই ফেলি—

‘(মঞ্চে কবি এলেন এবং রোসিতাকে চুম্বন করতে লাগলেন।)


ক্রিস্তোবাল : কি হচ্ছে রোসিতা?

রোসিতা : এখানে আলোর বড় অভাব গো। তুমি কিছুই ভাল করে দেখতে পাচ্ছ না। দেখলে বুঝতে, এখানে এখন একটা সেলাই-মেশিন চলছে। শুনো...

(চুমু খাওয়ার শব্দ।)

ক্রিস্তোবাল : এখানে এত শব্দ হচ্ছে কেন?

রোসিতা : মেশিনটাকে এখনই সরিয়ে ফেলছি। তুমি কি আর একটু ঘুমিয়ে নেবে, জান?’


এখানে দোনা রোসিতা’র জন্য আমাদের মন কেমন করে। এখানে সেলাই-মেশিন যেন এক প্রতীক, জীবনকে যা জীবনের সঙ্গে সুতো দিয়ে গেঁথে দেয়!

বইটি এই মাসে বের হবার সম্ভাবনা কম। পরের মাসে বের হবে। আরও কিছু গদ্য অনুবাদ করে, একটি পরিপূর্ণ রূপ দিতে চাই। পাঠক যেন প্রতারিত না হন, সেই ভাবনাটিও অনুবাদের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।


এহ্সান : অনুবাদকের স্বাধীনতা, শব্দ তৈরি ইত্যাদি দিক অনেকে সামনে আনেন। এটাকে আপনি কি ভাবে দেখেন? তা ছাড়া অনুবাদকের আদৌ কোনো স্বাধীনতা আছে কি? অনুবাদ আমাদের সাহিত্যে কী অবদান রাখছে?

মদাদ রহমান : দেখুন, অনুবাদকে সাহিত্য ধরে নিয়েই বলছি, এখন অনুবাদক যখন তার প্রিয় লেখাটির অনুবাদে বসেছেন, ধরুন, তিনি কবি আনা আখমাতোবার ডাইরি কিংবা তাঁর বক্তৃতা অনুবাদ করছেন, তখন তার মাথায় শুধু আখমাতোবা থাকছেন না, মাথায় যেন পুরো রাশিয়া ভর করছে। তিনি যখন আইজাক বাশেভিস সিঙ্গার অনুবাদ করছেন, তখন, পোল্যান্ড আর ইহুদিরা তার মাথার ভিতর, তিনি যখন কার্লোস ফুয়েন্তেস অনুবাদ করছেন, তার মাথায় শুধু ফুয়েন্তেস নয় কিংবা শুধু মেক্সিকো নয়, মাথায় তার পুরো লাতিন আমেরিকা ভর করে। হ্যাঁ, অনুবাদক তার মত করেই কাজটি করবেন। তার স্বাভাবিক কাণ্ডজ্ঞান ব্যবহার করবেন। তিনি স্বাধীন। তবে, তিনি তার পরম্পরার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবেন। সাহিত্যে অনুবাদের গুরুত্ব অসীম। অনুবাদ ছাড়া সমকাল স্থবির হয়ে পড়ে। নিজেদের চেনা যায় না।

আমাদের দেশে অনুবাদের কাজ ভাল হচ্ছে। তরুণরা অনুবাদে আগ্রহী, সেটাও দেখা যাচ্ছে। এক্ষেত্রে, দরকার ধ্যান। দরকার, সেই চোখ, যে-চোখ দিয়ে মেঘমালাকে, পর্বতমালাকে প্যানারমার মত দেখে নেয়া যায়।

বুদ্ধদেব বসুর একটি মুল্যবান কথা দিয়ে শেষ করি—‘দেশ ও কালের দূরত্ব মোচনের কয়েকটি উপায় আমাদের জানা আছে। তার মধ্যে অনুবাদ একদিক থেকে সবচেয়ে কার্যকরী। লেখক ও তাঁর ভাষা যখন প্রাচীন, তখন তাঁকে সমকালীন জীবনের মধ্যে সংকলিত করার কাজটি অনুবাদকের বলে স্বীকার্য; পণ্ডিত বা পুরাবিদের নয়। অনুবাদই সেই ঘটক, অনুবাদ সেই প্রাচীনকে সজীব ও সমকালীন সাহিত্যের অংশ করে তোলে। আর সেই জন্যেই যুগে যুগে নতুন অনুবাদের প্রয়োজন হয়।’


এহ্সান : আপনাকে ধন্যবাদ।

এমদাদ রহমান : ধন্যবাদ আপনাকেও। আমাদের এই সংলাপ আরও দূর বিস্তারি হোক। আমরা যেন সেই সাহিত্যের কাছে পৌঁছাতে পারি, পৌঁছাতে পারি সেই জীবনের কাছে, যেখানে আমরা নিজেদের আয়নায় নিজেদের পুরোটাই দেখতে পারি। ‘আজব দেশে এলিস’ কিংবা সেই ‘কল অভ দ্য ওয়াইল্ড’-এর আশ্চর্য জগতে যেন আমরা পৌঁছে যেতে পারি; কিন্তু আমাদের ‘হাঁসুলি বাঁকের উপকথা’কে, ‘ঢোঁড়াই চরিতমানস’কে, ‘তিতাস একটি নদীর নাম’কে বাদ দিয়ে নয়!০





অনুবাদক পরিচিতি:
এহ্সান 

জন্ম ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আরো ভেতরে, বারুয়াখালী গ্রামে। কঠিন-কঠোর জীবন বাস্তবতা দেখতে দেখতে বড় হয়ে ওঠা। পারিবারিক দরিদ্রতা ও নিম্নবিত্ত অচ্ছ্যুত শ্রেণীর মধ্যে বসত, জীবনকে দেখিয়েছে কাছ থেকে। পড়াশুনা করেছেন সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ ও ঢাকা কলেজে। ছাত্র জীবন থেকেই বাম রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়া। কবিতা লেখা দিয়ে সাহিত্য চর্চা শুরু হলেও মূলত গল্পকার। প্রবন্ধ লিখেন। প্রকাশিতব্য গল্পগ্রন্থ ‘পুরো ব্যাপারটাই প্রায়শ্চিত্ব ছিল’। প্রবন্ধের বই প্রকাশের কাজ চলছে। 

1 টি মন্তব্য:

  1. আলাপচারিতা পাঠ সবসময়ই আমার আগ্রহের বিষয়। বিশেষ করে কথাসাহিত্য নিয়ে যারা কাজ করেন। এতে সাহিত্যিক চরিত্রটিকে অবিষ্কার করা যায় সহজেই। ফলে তার সৃষ্ট সাহিত্যে তার ভাবনা, বোধ প্রভৃতি নিজের ভেতরে শুষে নেওয়া যায়। এই আলাপচারিতাটি অনুবাদ সাহিত্য বিষয়ে আমার ধারণাকে আরও পরিষ্কার করেছে। আমরা শুধু সেরা সাহিত্যের অনুবাদগুলোই পড়তে চাই কেন? এ প্রশ্নটি যেমন এসেছে আবার আমাদের দেশের সাহিত্য পরিস্থিতি নিয়ে বাস্তব বোধও তৈরি হয়েছে। ধন্যবাদ দুজনকেই।

    উত্তরমুছুন