বুধবার, ১১ মার্চ, ২০১৫

পাঠ প্রতিক্রিয়া: শামিম আহমেদের নভেলেট: সাত জমিন

মাহমুদ হাসান পারভেজ

জর্মান মিঞা বীরভূমের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের তিন ভাইয়ের মধ্যে কনিষ্ঠতম। তার স্ত্রী কামরুন্নেসা, একসময়ের ইংরেজদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রামের আন্দোলন করেছিলেন। বিয়ের পর কামরুন্নেসা আর সে আন্দোলনের সাথে থাকেন নি। তবে সে সময় মুসলিম পরিবার থেকে কোন নারীর রাজনৈতিক আন্দোলনে জড়িয়ে পড়ার ব্যাপারটা অন্য যে কোন মুসলিম পরিবারের কাছে বাতিল হলেও জর্মান মিঞার মা মানে কামরুন্নেসার শ্বাশুড়ী বিষয়টাকে খুব স্বাভাবিকভাবেই মেনে নেন।
এদিকে ইংরেজ উপনিবেশ থেকে ভারত বা পাকিস্তানের স্বাধীনতা লাভের আগে সেটা খরা আর মন্বন্তরের সময়কার কথা (উপন্যাসে বর্ণিত সময় গণনায় সম্ভবত সেটা ১৯৪২ সাল)। এক ভোরবেলা আতুড়ঘরে বিবি কামরুন্নেসার যখন প্রসব বেদনা উঠেছে তখন জর্মান মিঞা বাড়ির বাইরে প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দিতে যান। সেখানে গিয়ে এক অদ্ভুত উল্টোদিকে কনুই উল্টোদিকে পা অলা মানুষকে দেখতে পান। উল্টোদিকে চলতে থাকা জিনিসটা দেখেই তিনি চেতন হারিয়ে ফেলেন। অনেক কিছু করেও এমন খোয়াব দেখা জর্মান মিঞার আরোগ্য হলনা। তারও বছর চারেক পর এমনই স্বপ্নের চক্করে পড়ে হঠাৎ কংগ্রেস সমর্থক জর্মান মিঞা হয়ে যান মুসলীম লীগের কট্টর সমর্থক। তখন বলাবলি চলছে যে পাকিস্তান রাষ্ট্র হলে মুর্শিদাবাদ জেলা পাকিস্তানের অংশে পড়বে। জর্মান মিঞা পাকিস্তানে বসবাসের আশায় পরিবারসহ বীরভূম থেকে চলে যান মুর্শিদাবাদ জেলার সালারে। সেখানে গিয়ে বাড়ীঘর, জমি জায়গাও কেনেন। ভারত ভেঙে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হলে প্রথমে মুর্শিদাবাদ্ও পাকিস্তানের অংশে পড়ল। তবে মাত্র চারদিনের জন্য সালারে পাকিস্তানের পতাকা উড়ল। কিন্তু র‌্যাডোক্লিফ মিশনের সুপারিশ মতো মুর্শিদাবাদ চারদিন পর আবার ভারতের অংশে ঢুকে পড়ল। জর্মান মিঞা তল্পিতল্পাসহ নিজ বাড়ী বীরভূমে ফিরে আসেন। বীরভূমে ফেরত আসলে বাড়ীর মূল কর্তা তার মেজ ভাই আনোয়ার মিঞা বা ভাবিজান প্রথমে বিষয়টি সহজভাবে মেনে নিলেন না। মেজ ভাইয়ের ধারণা ছিল যে তাদের বড় ভাই- পাকিস্তানের ঢাকায় আর ছোট ভাই পাকিস্তানের মুর্শিদাবাদ থেকে ফিরবেন না। কিন্তু জর্মান মিঞা ফিরে এসেছিলেন। জর্মান মিঞার আগমনে বীরভূমের বাড়িতে থাকা তাদের মা খুশি হলেন এবং তার মধ্যস্ততায় ভাইয়ে ভাইয়ে জমি-সম্পত্তি নিয়ে দুই শরিকের বিরোধটা মিটে গিয়েছিল। পাকিস্তানের ঢাকায় থাকা বড় ভাইয়ের সম্পত্তিও তারা দু’ভাইয়ে ভাগ করে নিয়েছেন। যদিও নিজের দখলে থাকা ইঞ্চি পরিমাণ জমিও কেউ ছাড়েন নি।

কামরুন্নেসা এখন ‘বুড়ী’ হয়েছেন। তার স্মৃতিতে তার নিজের জীবনের গল্পগুলোর চাইতেও বেশী গুরুত্বপূর্ণ সেসময়কার রাজনীতি, শাসন ব্যবস্থা, ভাঙ্গা গড়ার জীবন, জমিন এসব। রাজনীতি সচেতন ও ইসলামিক আধ্যাত্মবাদ দ্বারা প্রভাবিত কামরুন্নেসা আজ মুখোমুখি এখনকার জমানার তরুণী নাতনীর সাথে। মুখোমুখি গল্পের প্রধান আকর্ষণ জর্মান মিঞার স্বপ্ন।

অদ্ভুত স্বপ্ন জর্জরিত জর্মান মিঞার স্বপ্নে ঘুরেফিরে আসা একটি মৃতদেহের পরিচয় নিয়ে নাকাল জর্মান মিঞা। প্রথম মৃতদেহটি দেখেন যখন নিজ বাড়ী বীরভূম ছেড়ে সালারে যাচ্ছেন- তখন। সেটা দেখা বা না দেখা বা পড়ে থাকা কোন মৃতদেহ কিন্তু স্বপ্ন ব্যারামে ভুগতে থাকা জর্মান মিঞা সে মৃতদেহ দেখা থামাতে পারেন না। স্বপ্ন-জাদুর সে ‘মৃতদেহ’ এই নভেলেট এর সকল আখ্যানকে এক সুতোয় গেঁথে ফেলেছে।

বীরভূম এবং সালার এ দুটি স্থানের ঘটনাবলীই উপন্যাসের প্রধানতম উপজীব্য হলেও সাব কন্টিনেন্টের অন্যতম রাজনৈতিক চরিত্র হোসেন শহীদ সুহরাবর্দির রহস্যময় উথ্থান ও পতন অন্যতম। মাদার ইন্ডিয়ার খন্ড খন্ড হয়ে যাওয়া ও তৎপরবর্তী সময়ে চলতে থাকা রাজনৈতিক অস্থিরতার সংযোগ চিত্রটিও আমরা দেখি।

বুড়ি নানির গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয় এক নির্মম ইতিহাসের বেদনাদায়ক ধারাপাত। উনিশশ বিয়াল্লিশের টু নেশন থিওরি, ছেচল্লিশের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা (তৎকালীন মুসলিম লীগের ভাষায়- ডাইরেক্ট একশন ডে), সাতচল্লিশের দেশভাগ, আটচল্লিশে বাংলার জন্য রাষ্ট্র ভাষা আন্দোলন থেকে বায়ান্নর রক্তাত্ব একুশে ফেব্রুয়ারি- একটা ঘটনা যেন আরেকটা ঘটনার সূত্র তৈরি করে দেয়। এরপর উনিশশ বাষট্টিতে এসে সুহরাবর্দীর রহস্যজনক মৃত্যুর আগে তার পতন ও ক্ষমতাকে কেন্দ্র করে নানামুখী ষড়যন্ত্র যেন জানান দিয়ে যায় আমাদের দূর ভবিষ্যৎ পর্যন্ত। সে অনিশ্চয়তার ভবিষ্যতে যেন অবচেতনেই পাঠকের মনে ঢুকে পড়ে জর্মান মিঞার চোখে দেখা বা না দেখা বা স্বপ্নে হাজির হওয়া সেই ‘মৃতদেহ’ যে মৃতদেহটা কখনই তার পিছু ছাড়েনি। সেটা নিয়ে জর্মান মিঞার ধারণা ছিল এরকম:

‘‘জর্মান মিঞার মনে হয়, স্বাধীনতা লাভের ঠিক এক বছর আগে যখন তিনি বীরভূম ছেড়ে মুর্শিদাবাদে পাড়ি দেন এই আশায় যে মুর্শিদাবাদ পাকিস্তান হবে, হলও তাই, কিন্তু চার দিনের বেশি স্থায়ী হল না; তবে কি ওই মৃতদেহটি কোনও মানুষের নয়! ওটা কি মাদার ইণ্ডিয়া! যে স্বাধীনতা পাওয়ার আগেই মরে গিয়েছিল।’’

বায়ান্নর একুশে ফেব্রুয়ারি সালারের কাছের গ্রামের ছেলে আবাই (বরকত) ঢাকায় ভাষার জন্য প্রাণ দিলে জর্মান মিঞা তার মেজ ভাইকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘‘সেই মাদার ইণ্ডিয়া না কিসের যেন এক মৃতদেহ দেখেছিলাম ভাইজান, সেই দেহ তো ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। বাড়ছে কাশ্মীরে, এখন পুর্ব পাকিস্তানে। ওই লাশের কি কোনও দিন দাফন হবে না ভাইজান?’’


*****

বলা দরকার যে শামিম আহমেদের রচনাবলীর একটি অতি ক্ষুদ্রতম অংশ আমি পড়েছি। তা ও আবার সেটা গল্পপাঠে প্রকাশিত লেখাগুলোর ভেতর থেকে। আমার সে ক্ষুদ্র পাঠের অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি- ‘সাত জমিন’ একটি বহুমাত্রিক এবং বৈশ্বিক আবহের উপর দাড়িয়ে থাকা অসাধারণ নভেলেট এবং চিরদিনের ভারতবর্ষের মানচিত্রটি খন্ড খন্ড হয়ে যাওয়ার শুরুর প্রেক্ষাপটকে আশ্রয় করেছে।

অন্যদিকে নভেলেটটির কাহিনি বিন্যাস, ভেঙে দেওয়া টাইমফ্রেমের সাথে সহজাত সেটিং বা পটভূমি, অরৈখিক আখ্যান কিংবা ধর্মীয় মিথের সাথে চেতন বা অবচেতনের রেখায় সুররিয়ালিজমের সংযোগ, সুফীবাদ প্রভৃতির খাপে খাপ প্রয়োগে আধুনিক এই সাহিত্যরূপটি পাঠককে ভীষণভাবে মুগ্ধ করার মত। এখানে শামিম আহমেদের মুন্সিয়ানা দেখবার মত এই যে, তিনি নির্মোহ অবস্থানে থেকে ‘সাত জমিন’ কে বিস্তৃত করেছেন এমন এক ভিউ পয়েন্টে, যেখান থেকে যে কেউ তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গিতে এর বিষয়বস্তু উপলব্ধি করতে পারেন- যেমন- সাম্প্রদায়িক রায়ট, দেশভাগ, হায়দ্রাবাদ বা কাশ্মীর সমস্যা, ফলশ্রুতিতে ইন্দো-পাক যুদ্ধ, ইউনাইটেড বেঙ্গল বা বৃহৎ বাংলার স্বপ্ন, বাংলা ভাষা আন্দোলন ইত্যকার নানা ঐতিহাসিক অনুষঙ্গ- সাথে এর কুশীলবে থাকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক চরিত্র।

যে কোন পাঠকের জন্য সবচেয়ে বড় মুগ্ধতা বোধ করি অনায়াসে স্বপ্নময়তা আবিষ্কার করার অনুভুতি- যেটা আস্বাদন করতে করতে করতে পাঠক অতীত বা আগত ভবিষ্যতকে চোখের সামনে দেখতে পারেন তার নিজের মত করে।

যেমন সালার থেকে জর্মান মিয়া যখন তল্পীতল্পাসহ বীরভূমে মোষের গাড়িতে করে ফিরছেন তখন শুমাই গাড়োয়ান হয়ে যেতে পারেন তৎকালীন বা আজকের শাসকগোষ্ঠীর যে কেউ। বা ধরুন, জ্বিনের বাদশা জুল জেনাহেন যদি আপনার কল্পনায় হয়ে যান এমন গুরুত্বপূর্ণ কেউ যার নাম আপনি বা আমি কেউ মুখেও আনতে পারছি না!

তেমনি খোকা যেন ঘটনার আগে ভাগে জ্বিনের আছরে বলতে থাকে- ‘‘ রায়ট একটা হবেই – কেউ আটকাতে পারবে না।’’

স্বপ্নবাস্তবতার অসাধারণ প্রয়োগে জ্বীনের বাদশা জুল জেনাহেন, কামরুন্নেসার ভাই পো খোকা, গাড়োয়ান সুমাই এর মত চরিত্রগুলোও হয়ে ওঠে অসামান্য। ইতিহাসের নানাবিধ ঘটনার সাথে এদের চরিত্রায়নের যে যোগটি তা এক কথায় অভূতপূর্ব। ঔপন্যাসিকের নির্মোহ এবং সুক্ষ্ম বর্ণনার এই রূপটি যেন এদের ভিতর দিয়েই পাঠককে তার নিজস্ব ভাবনার দিকে বা ঘটনার বিচারের দিকে নিয়ে যায়।

শামিম আহমেদের আরেকটি নভেলেট বই ‘সাত আসমান ভ্রমণ’ এর সমান্তরালে ‘সাত জমিন’। সেখানের জর্মান হোসেন ই এখানের জর্মান মিঞা। পাঠক নিশ্চয়ই জানেন যে, ইতমধ্যে সে উপন্যাস বইটি ‘সেভেন হ্যাভেন’ নামে ইংরেজী ভাষায় অনূদিতও হয়েছে। সাত জমিনেও সাতটি পর্ব আছে। ঔপন্যাসিক এখানে সাতটি পর্বকে মীর্জা গালিবের বিখ্যাত সাতটি গজল (শায়ের) এর অংশ বিশেষ দিয়ে পৃথক করেছেন।

পূর্বেই বলেছিলাম, নভেলেটটি সাজানো হয়েছে অরৈখিক আখ্যানে। ফলে এখানে জর্মান মিঞা বা কামরুন্নেসার আখ্যান ভেদ করে কখনও মুখ্য হয়ে ওঠে ইতিহাসও। ইতিহাস কখনও আখ্যান হতে পারে কি? উত্তর না বা হ্যাঁ যেটাই হোক- ইতিহাস বিমূখ যে কোন পাঠকও বর্ণনার চমৎকারিত্বে আপ্লুত হবেন। ফলে এখানে ইতিহাসও আখ্যান বা আখ্যানের অংশ হয়ে উঠেছে। ফলে আমি সাহিত্যের বোদ্ধা না হয়েও তাই বলতে পারি, ঐতিহাসিক সাহিত্যতত্ত্বের বিচারে ১৯৪২ থেকে ১৯৬২ সালের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এই নভেলেট একটি অনবদ্য সৃষ্টি। এখানে ঐতিহাসিক চরিত্র ও রাজনৈতিক ঘটনাবলির এতটুকু পরিবর্তন বা বিকৃতি হয়নি। কিন্তু সাহিত্যিক চরিত্রগুলোর দেখার ভিতর দিয়েই সে সকল ঐতিহাসিক চরিত্র ও ঘটনা নিপুণভাবে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এই মৌলিক সৃষ্টি কর্মটি বাংলায় ঐতিহাসিক সাহিত্যকে তো এগিয়ে নেবেই সাথে বিশ্ব সাহিত্যেরও অংশ হয়ে উঠবে এই আশাবাদ থাকবে।

নভেলেটটি পড়তে গিয়ে আমার উপলব্ধি হয় যে, অখন্ড ভারতবর্ষের মানচিত্র, জমিন, মানুষ, ধর্ম, ভাষাকে স্বার্থান্বেষী মানুষেরা কেমন করে তাদের নিজেদের হিস্যা ভেবে সুবিধামত টুকরো টুকরো করে শেষ করে দিয়েছে বা এখনও দিচ্ছে। গোটা আখ্যানে ‘মাদার ইন্ডয়া’র খন্ড খন্ড হয়ে যাওয়ার সে ঐতিহাসিক সত্যটির দারুণ চিত্রায়ণ হয়েছে- ফলে বলা যায়- ‘সাত জমিন’ সিম্বলিক এ নামকরণটি যথার্থ। আমার কখনও মনে হয়েছে, কেন ভারত ভেঙ্গে গেল? এরকম তো হওয়ার কথা ছিলনা? কিন্তু তবু তো হয়েছে! আর এটাই সত্যি। আবার কখনও মনে হয়েছে ভেঙে যাওয়া ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশ আবার কি কখনো জোড়া লাগবে? সে কি সম্ভব?

নগন্য পাঠক হিসেবে নভেলেটটির পাঠ প্রতিক্রিয়ার শেষে কামরুন্নেসার ডায়েরি থেকে একটি অংশ এখানে তুলে ধরতে চাই-

‘‘ বাংলা ভাষার আদি কবিরা হইলেন লুইপাদ, কাহ্নপাদ, ভুসুকুপাদ, শবরপাদ। লুইপাদের কথা স্মরণে না রাখিলে বাংলা ভাষার কোনও আন্দোলন সম্ভব হইবে না। এই সব কবিরা সিদ্ধাচার্য। তাঁহাদের দুইটি পথ ছিল—একটি বজ্রের মতো কঠিন আর অন্যটি সহজ পন্থা। তাই তাঁহারা একই সঙ্গে বজ্রযানী ও সহজযানী। চৌরাশি সিদ্ধাকে এখন আর খুঁজিয়া পাওয়া যায় না। তবে প্রত্যেক যুগে উহারা জন্মিয়া থাকে। যেমন সালাম, রফিক, বরকত, জব্বার, সফিউর, ওহিউল্লা। ইহাদের সিদ্ধাচার্য বলিতে হয়। বাংলা ১৩৫৯ সালের ৮ ফাল্গুন বাংলা ভাষার নতুন ইতিহাস রচিত হইল। অদূর ভবিষ্যৎ কালে পুর্ব বাংলা নিশ্চয় পথ দেখাবে বাংলা ভাষার অন্য মানুষদের, যাঁরা অন্য এলাকায় থাকেন। এমনকি এমতো ঘটিলেও অবাক হইব না এই ৮ ফাল্গুন, ১৩৫৯ সন গোটা পৃথিবীর কাছে নিজেকে তুলিইয়া ধরিবে। সে দিন বাংলার জয়পতাকা উড়িবে, আর সেই বাংলার নাম হইবে বৃহৎ-বাংলা।’’

এই অংশটি আখ্যানের সাথে পৃথক দুরত্বে থেকেও পাঠক হিসেবে আমাকে অন্য কোন জগতে নিয়ে গেছে। সেখান থেকে আমি এখন প্রাচীন বাংলার একটি মানচিত্র খুঁজছি। সেটা হয়তো আমি আমার পড়ার টেবিলের পাশের দেয়ালে টানিয়ে রাখব বাকি জীবন। আর অপেক্ষা করব।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন